Expert Speak Terra Nova
Published on Sep 08, 2022 Updated 10 Hours ago

বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহারে ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা অদূর ভবিষ্যতে সমগ্র বিশ্বকে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

চলার পথ কঠিন হলে শক্তিশালী দেশগুলিকেও কয়লার প্রতি ঝুঁকতে হয়
চলার পথ কঠিন হলে শক্তিশালী দেশগুলিকেও কয়লার প্রতি ঝুঁকতে হয়

ভারত এবং বাকি বিশ্বের জন্য বিভিন্ন ডিকার্বনাইজেশন পদ্ধতির বিশদ বিবরণ বর্তমান। এগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আই ই এ) ৪৫০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (আর ই) ব্যবস্থা অর্জনের আনুমানিক লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত। অধিকাংশ পূর্বাভাসেই কয়লার ব্যবহার বন্ধ করা অথবা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস ঘটানোর কথা বলা হয়েছে। অধিকাংশ অনুমানেই স্বল্পমেয়াদি ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস কয়লার ব্যবহারকে প্রতিস্থাপিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ভাণ্ডার কার্যকর হবে বলে মনে করা হয়েছে। ন্যায্য কারণেই প্রাকৃতিক গ্যাসের কম দাম এবং সঞ্চয়ের খরচ ও দৃঢ়তায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি শুধু মাত্র ঘণ্টাব্যাপীই নয়, দিন, মাস এবং ঋতুব্যাপীও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের বিরতির চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করবে। ২০২১ সালে এবং ২০২২ সালের প্রথমার্ধে শক্তির বাজারের ঘটনাবলি এই উভয় অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

২০২১ সালের শেষের দিকে অতিমারি-সম্পর্কিত লকডাউন শেষ হওয়ার পর শক্তির চাহিদা, বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫৭৭ টেরাওয়াট-ঘণ্টার (টি ডব্লিউ এইচ) রেকর্ড বৃদ্ধির সাক্ষী থেকেছে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ৬.২ শতাংশ বৃদ্ধিকেই সূচিত করে। ইউরোপীয় এবং এশীয় বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম অভূতপূর্ব ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২২ সালের গোড়ার দিকে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার দরুন জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে এলএনজির দাম আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে পশ্চিম ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার কঠিন বাজারেও, যেখানে পর্যায়ক্রমিক ভাবে কয়লার ব্যবহার কমানোর সুস্পষ্ট নীতি রয়েছে, কয়লাই প্রেরণযোগ্য এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুতের একমাত্র বিকল্প হিসেবে উঠে আসে।

ন্যায্য কারণেই প্রাকৃতিক গ্যাসের কম দাম এবং সঞ্চয়ের খরচ ও দৃঢ়তায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি শুধু মাত্র ঘণ্টাব্যাপীই নয়, দিন, মাস এবং ঋতুব্যাপীও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের বিরতির চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করবে।

২০২১ সালে বৈশ্বিক কয়লার ব্যবহারে বৃদ্ধির পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস বা তেলের তুলনায় ৬.৩ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২১ সালে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে কয়লার ব্যবহার হয়েছে ৫১ শতাংশ, যা সব জ্বালানির মধ্যে সর্বাধিক। কয়লা থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের পরিমাণ বৃদ্ধির নিরিখে চিন ৩.৭ এক্সাজুল (ই জে) এবং ভারত ২.৭ ই জে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। চিরাচরিত ভাবে কয়লা ব্যবহারকারী এই দুই দেশ যুগ্মভাবে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধির ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী। এমনটা করার মাধ্যমে তারা ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ১৫ শতাংশ হ্রাস করেছে, যা ৫.১ ই জে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতুল্য। ১০ বছর ধরে ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পরে ২০২১ সালে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ উভয় মহাদেশেই কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও একই বছরে বাণিজ্যিক থার্মাল কয়লার দাম ছিল টন প্রতি ১২১ মার্কিন ডলার, যা ২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ে সর্বাধিক। কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধির ঘটনা সাময়িক হলেও এটি শক্তির রূপান্তরের বৃহত্তর কর্মসূচিকে ভবিষ্যতে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

ভারত

ভারতে কয়লার চাহিদা অপ্রত্যাশিত ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সরকারকে এমন নির্দেশিকা জারি করতে হয়েছে, যা তার আগেকার নীতির লক্ষ্যমাত্রাগুলিকে খণ্ডন করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের তরফে কয়লা ব্যবহারকারী প্ল্যান্টগুলিকে আমদানিকৃত কয়লার বদলে দেশীয় কয়লা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এহেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ২০২৩ সালের মধ্যে থার্মাল কয়লার আমদানি বন্ধ করা ও আত্মনির্ভরতা অর্জনের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রাকে কারণ রূপে দর্শানো হয়। দেশীয় কয়লার উৎপাদন বর্ধিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারার কথা স্পষ্ট হওয়ার পরে সরকার ২০২২ সালের মে মাসে একটি নির্দেশ জারি করে যে, তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি (যেগুলি দেশীয় কয়লা ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলি-সহ) তাদের চাহিদার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পরিপূরণ করতে কয়লা আমদানি করতে পারবে। একই সঙ্গে নির্দেশিকায় এ কথাও বলা হয় যে, ২০২২ সালের জুনের মাঝামাঝির মধ্যে কয়লা আমদানিতে ব্যর্থ হওয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে দেশীয় কয়লা সরবরাহ করার পরিমাণ হ্রাস করা হবে। আমদানিকৃত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকরী মূলধনের অর্থায়ন না-করার জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আর বি আই) নির্দেশিকার বিরুদ্ধে গিয়ে সরকার পি এফ সি (পাওয়ার ফাইন্যান্স কর্পোরেশন) এবং আর ই সি-কে (রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন কর্পোরেশন) এই উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে স্বল্পমেয়াদি কার্যকরী মূলধন তহবিল জোগানোর নির্দেশ দিয়েছে, যদি তারা দেউলিয়া মামলা বা ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (এন সি এল টি) অধীনে থাকে তা হলেও। আমদানি করা কয়লার দাম দেশীয় কয়লার চেয়ে তিন গুণ বেশি হওয়ার কারণে সরকার কয়লার বাড়তি খরচের ভার ভোক্তার কাঁধে চালান করার অনুমতি দিয়েছে। ভারত কয়লার সরবরাহ বাড়াতে পরিবেশগত বিধিও শিথিল করেছে। ২০২০ সালে (ক্যালেন্ডার বছর [সি এ]) ভারতে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭২ শতাংশ কয়লা থেকে হয়েছে এবং ২০২১ সালে (সি এ) কয়লা থেকে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ৭৪ শতাংশ। কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য গৃহীত স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপগুলি দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট না হলেও এই পন্থা নিশ্চিত ভাবেই ভারতের শক্তি নিরাপত্তা এবং ডিকার্বনাইজেশন পদ্ধতিগুলির উপরে ছাপ রেখে যাবে।

আমদানি করা কয়লার দাম দেশীয় কয়লার চেয়ে তিন গুণ বেশি হওয়ার কারণে সরকার কয়লার বাড়তি খরচের ভার ভোক্তার কাঁধে চালান করার অনুমতি দিয়েছে।

চিন

২০২১ সালে চিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দেশ জুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়। একই সময়ে ভারতও তীব্র কয়লা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এই সময়ে দীর্ঘদিন ব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলতে থাকে। শিল্পক্ষেত্র ও গৃহস্থালিকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর জন্য অনুরোধ করা হয় এবং চিন থেকে সরবরাহ ঘাটতির দরুন বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিমারি-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লার আমদানি হ্রাস, চিনের কয়লা উৎপাদনকারী অঞ্চলে অতিমারির স্থায়িত্ব এবং চিনের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে নিষেধাজ্ঞা এই সঙ্কটের নেপথ্যের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অথচ ২০২১ সালে চিনে কাঁচা কয়লা (থার্মাল এবং কোকিং কয়লা) উৎপাদন ৪ বি টি-র (বিলিয়ন টন) সীমা ছাড়িয়ে যায়। ২০২১ সালে চিনের থার্মাল কয়লা ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৮৬.১৯ ই জে (শুধু মাত্র ২.৯ বি টি-র সামান্য বেশি), যা ২০১৩ সালে কয়লার সর্বোচ্চ ব্যবহার ৮২.৪৩ ই জে-র (২.৮ বি টি) চেয়েও বেশি। সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহারের পরিমাণ ২০২০ সালে ৬৩ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৬২.৫ শতাংশে নেমে আসে। এটিও দেখা গিয়েছে যে, শক্তি সঙ্কট উচ্চ দক্ষতার কম কার্বন কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে একটি নমনীয় স্বল্প কার্বন শক্তি ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে শক্তি সুরক্ষার জন্য চিনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। আগামী দিনে চিন আরও বেশি সংখ্যক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করতে চলেছে যার সংখ্যা বিশ্বব্যাপী নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির অর্ধেকেরও বেশি। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ১৫৮ জি ডব্লিউ (গিগা ওয়াট) নতুন পূর্ব-অনুমোদিত কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে যা বৈশ্বিক পাইপলাইনের ৫৭ শতাংশ জুড়ে আছে।

ইউরোপ

২০২০ সালের জুলাই মাসে ইউরোপে কয়লার দাম ছিল টন প্রতি ৫০ মার্কিন ডলার যা কয়লা শিল্প দ্বারা যুক্তিসঙ্গত বলে বিবেচিত হয়েছিল। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, ই ইউ-এর (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) টন প্রতি ২৬ ইউরো কার্বনের দাম এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদিকে কয়লার দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে মূল কারণ রূপে মনে করা হয়েছে। ২০২২ সালের জুন মাসের শেষে ইউরোপে সমুদ্রবাহিত কয়লার দাম ঐতিহাসিক ভাবে সর্বোচ্চ টন প্রতি ৪২৫ মার্কিন ডলার হওয়ার পরে ২০২২ সালের জুলাই মাসে তা টন প্রতি ৩৬৫ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।  মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও কয়লা প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় সস্তা ছিল এবং উল্লেখযোগ্য ভাবে তা ছিল সহজলভ্য। ২০২১ সালে সমগ্র ইউরোপে ২০১১-২০১২ সালের মধ্যে বার্ষিক ৪.৬ শতাংশ হারে ব্যবহার হ্রাস পাওয়ার তুলনায় কয়লার ব্যবহারে ঐতিহাসিক ৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ করা গিয়েছিল। ২০২১ সালে জার্মানি এবং ফ্রান্সে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পায় যথাক্রমে ১৭.৫ শতাংশ এবং ২০.৫ শতাংশ। ২০২২ সালের অক্টোবরের মধ্যে জার্মানি তার ১০ গিগাওয়াট কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর অর্থ হল যে, জার্মানির কয়লা আমদানি ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে যা চিনের দৈনিক কয়লা উৎপাদনের চেয়েও কম। ২০২০ সালে অতিমারির বছরে ই ইউ এই সত্যটিই তুলে ধরে যে, প্রথম বারের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ভাগ (৩৮ শতাংশ) জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাকে (৩৭ শতাংশ) ছাড়িয়ে যায়। ২০২১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ভাগ জীবাশ্ম জ্বালানির ভাগের সমান অর্থাৎ ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণ ভাবে ই ইউ এবং জার্মানি দ্বারা কয়লার ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়া— বিশেষ করে যেটিকে রবার্ট ব্রাইস ‘বিদ্যুতের লৌহ আইন’ বলে চিহ্নিত করেছেন— তার নেপথ্যে এই যুক্তিই দর্শানো হয়েছে যে, অধিকাংশ দেশেরই যে কোনও মূল্যে শক্তির প্রয়োজন, এমনকি তা ডিকার্বনাইজেশনের মূল্যের বিনিময়ে হলেও।

শিল্পক্ষেত্র ও গৃহস্থালিকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর জন্য অনুরোধ করা হয় এবং চিন থেকে সরবরাহ ঘাটতির দরুন বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

২০০৭ সাল থেকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ শীর্ষে পৌঁছনোর পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার ব্যবহার তলানিতে এসে ঠেকে। ২০০৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৬১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু ২০২১ সালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছয় যা ২০২০ সালের ২০ শতাংশের তুলনায় বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ই ইউ-তে কয়লার ব্যবহারে এই পরিবর্তনের নেপথ্যে প্রধান কারণ ছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ ২০২০ সালের ৪০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৩৮ শতাংশে কমে আসে। যদিও অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া ক্ষণস্থায়ী। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সর্বশেষ রায়— যা যুক্তরাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করার উপরে বিধিনিষেধ জারি করে— কয়লার ব্যবহারে কিছুটা হলেও গতিশীলতা প্রদান করতে পারে।

প্রতিবন্ধকতা

চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ভারতের শক্তি বাজার ২০২১ সালে প্রাথমিক শক্তি খরচের ৬১ শতাংশেরও বেশি ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে ২০২১-২২ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যা কয়লার ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করেছে। এগুলি হল পূর্ণবর্ধিত শক্তি বাজার, যেখানে শক্তি খরচের বৃদ্ধি শীর্ষে পৌঁছেছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানিগুলির (প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লা) মধ্যে প্রতিযোগিতা মূলত বাজার শক্তি দ্বারা চালিত হয়েছে। ভারত ও চিন শক্তিকেন্দ্রিক বাজারের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং মূলত দেশীয় কয়লা এবং বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলার নীতির দ্বারা চালিত হয়ে কয়লার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা এবং তাদের শক্তি বাজার পরিচালনায় পার্থক্য নির্বিশেষে কয়লার প্রতি আগ্রহ দর্শায় যে, সব দেশের জন্যই জ্বালানির নিরাপত্তা এবং ক্রয়ক্ষমতার লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ। কয়লা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত তিক্ত কিন্তু প্রয়োজনীয়— জার্মানির গ্রিন পার্টির প্রতিনিধিদের দেওয়া এই বিবৃতি পরিস্থিতির মূল সুরকেই প্রতিফলিত করেছে। ডিকার্বনাইজেশনের পথ জীবাশ্ম জ্বালানির সেই তিক্ত অথচ প্রয়োজনীয় মাপকাঠি মেনে চলবে বলেই আশা করা যায়। এই মনোভাবের বর্জন ডিকার্বনাইজেশনের জন্য আরও যুক্তিসঙ্গত পথ খুলে দেবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: বি পি, ২০২২-এর প্রথম ত্রৈমাসিক

মতামত লেখকের নিজস্ব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar, Assistant Manager, Energy and Climate Change Content Development of the Energy News Monitor Energy and Climate Change. Member of the Energy News Monitor production ...

Read More +
Lydia Powell

Lydia Powell

Ms Powell has been with the ORF Centre for Resources Management for over eight years working on policy issues in Energy and Climate Change. Her ...

Read More +
Akhilesh Sati

Akhilesh Sati

Akhilesh Sati is a Programme Manager working under ORFs Energy Initiative for more than fifteen years. With Statistics as academic background his core area of ...

Read More +