Expert Speak Terra Nova
Published on Oct 08, 2022 Updated 6 Days ago

জ্বালানি ভর্তুকির সংস্কার করা এক কঠিন কাজ। কারণ তা ব্যবহার করেই সরকারি নেতারা ভোট সুরক্ষিত করে থাকেন। এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমিক ভর্তুকি প্রত্যাহারের কাজটি চলছে ভাল ভাবেই।

ভারতে পেট্রোলিয়াম ভর্তুকি কি হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে?
ভারতে পেট্রোলিয়াম ভর্তুকি কি হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে?

পটভূমি

‘জ্বালানি ভর্তুকি’র সর্বজনগ্রাহ্য কোনও সংজ্ঞা নেই এবং ভর্তুকি নির্ধারণে ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলি নিয়ে কোনও ঐকমত্যও নেই। বেসরকারি সংস্থা আই আই এস ডি (ইনস্টিটিউট অব সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট) ২০১৭-২০১৯ সালের মধ্যে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানি ভর্তুকি (কয়লা, তেল এবং গ্যাসের জন্য উত্পাদক ও ভোক্তার ভর্তুকি) ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমান করেছে৷ একই সময়ে আই ই এ (ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি) এবং ও ই সি ডি-র (অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মতে, এই পরিমাণ প্রায় ১০-১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আই এম এফ (ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড) এবং ডব্লিউ টি এ-এর (ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন) মতো অন্যান্য সংস্থা তাদের মূল নীতি অনুসারে জ্বালানি ভর্তুকি সংজ্ঞায়িত করার জন্য ভিন্ন অঙ্ক অনুমান করেছে। ব্যবহৃত পদ্ধতি নির্বিশেষে ভারত সর্বদা বিশ্বের শীর্ষ জীবাশ্ম জ্বালানি ভর্তুকিদাতাদের মধ্যে অন্যতম। জ্বালানি ভর্তুকিগুলিকে সংস্কার কষ্টসাধ্য বলে অনুমান করা হয়। কারণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষিত করার কাজে এই ভর্তুকির অর্থ ব্যবহার করা হয়। গুরুতর রাজনৈতিক পরিণতি ছাড়াই ভারত অবশ্য গত দশ বছরে পেট্রোলিয়াম ভর্তুকির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে এল পি জি এবং কেরোসিনের মূল্যের উপরে ছাড়ের সম পরিমাণ টাকা সরাসরি ভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রত্যক্ষ ভাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভর্তুকি

আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের মূল্যের নিরিখে দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের খুচরো মূল্য নির্ধারণ সম্পূর্ণ অনুমোদিত নয় বলে রাজস্ব ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত ‘আন্ডার রিকভারিজ’ বা ‘পুনরুদ্ধারের অধীন’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছে। এটিকে এক প্রকারের ভর্তুকি বলে মনে করা যেতে পারে। এল পি জি (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এবং কেরোসিনের মতো নির্দিষ্ট পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলির মূল্যে ছাড় দেওয়া এক ধরনের প্রত্যক্ষ ভর্তুকি যা দরিদ্র পরিবারগুলিকে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়। পরবর্তী সময়ে এল পি জি এবং কেরোসিনের মূল্যের উপরে ছাড়ের সম পরিমাণ টাকা সরাসরি ভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রত্যক্ষ ভাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কর-পরবর্তী ভর্তুকি পরিমাণে ২০১২-১৩ সালের ৩.২ ট্রিলিয়ন ভারতীয় টাকা থেকে ৯৮ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়ে ২০২০-২১ সালে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ভারতীয় টাকায় পরিণত হয়েছে। জি ডি পি-র (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) শতাংশের নিরিখে পেট্রোলিয়াম ভর্তুকি ২০১০-১১ সালে জি ডি পি-র ১.৭ শতাংশ থেকে ৯৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়ে ২০২০-২১ সালে প্রায় ০.০৬ শতাংশ হয়েছে।

কর

পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে প্রাপ্ত কর-রাজস্ব ভারত সরকারের মোট রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ২০১৪-১৫ সাল থেকে কেন্দ্র এবং রাজ্যের কর ভারতে পেট্রোল এবং ডিজেলের খুচরো মূল্যের অর্ধেকেরও বেশি জুড়ে থেকেছে। ২০২০-২১ সালে ভারতের পরোক্ষ রাজস্বের ৪৫ শতাংশের বেশি পেট্রোলিয়ামের উপর ধার্য করা আবগারি শুল্ক থেকে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মোট রাজস্ব প্রাপ্তির অংশ হিসেবে পেট্রোলিয়াম রাজস্বের পরিমাণ ২০১০-১১ সালের ১৫ শতাংশ থেকে ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০-২১ সালে ২৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ভারত যেহেতু কিছু পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি পেট্রোলিয়ামের ব্যবহারে ভারী কর আরোপ করে, তাই ভর্তুকির সংকীর্ণ সংজ্ঞা ব্যবহার করা ভারতের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে। জীবাশ্ম জ্বালানি ‘ভর্তুকি’ সংক্রান্ত নানা গবেষণা শুধুমাত্র সেই নীতিগুলির দিকেই নজর দেয়, যা জ্বালানি পরিষেবার সম্পূর্ণ খরচের আওতায় দাম নির্ধারণের একটি কঠোর সংজ্ঞাকেই তুলে ধরে। ২০২০-২১ সালে পেট্রোলিয়াম পণ্যের উপর প্রাপ্ত করের পরিমাণ পেট্রোলিয়াম সংক্রান্ত প্রদত্ত ভর্তুকির ১০০ গুণেরও বেশি ছিল। তাই এ কথা বলা ভুল হবে না যে, পেট্রোলিয়াম পণ্যের গ্রাহকরাই মূলত সরকারি বাজেটে ‘ভর্তুকি’ দেন।

জীবাশ্ম জ্বালানি ‘ভর্তুকি’ সংক্রান্ত নানা গবেষণা শুধুমাত্র সেই নীতিগুলির দিকেই নজর দেয়, যা জ্বালানি পরিষেবার সম্পূর্ণ খরচের আওতায় দাম নির্ধারণের একটি কঠোর সংজ্ঞাকেই তুলে ধরে।

ভর্তুকি সংস্কার

প্রখ্যাত জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ডেভিড ভিক্টর যুক্তি দিয়েছেন যে, জ্বালানি ভর্তুকি সংস্কার, বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানি ভর্তুকি সংস্কারকে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি লাভজনক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হলেও (রাজস্ব ঘাটতি এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ঘাটতি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের দিকে চালিত করে) তা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কারণ ভর্তুকির বিষয়টি রাজনৈতিক যুক্তিতে গভীর ভাবে প্রোথিত যা পরিবর্তন করা কঠিন। সরকারি নেতারা ক্ষমতায় বহাল থাকতে চান এই অনুমানের ভিত্তিতে ভিক্টর লক্ষ করেন যে, সরকারি নেতারা তাঁদের রাজনৈতিক প্রচার এবং ভোট বা অনুদান প্রদানকারী নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগুলির কাছে এই পুঁজি চালান করেন। ভারতীয় ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম পণ্য ভর্তুকি চিরাচরিত ভাবে ভোটদানকারী জনসাধারণ, প্রাথমিক ভাবে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কথা ভেবেই প্রদান করা হয়। ২০১৪-১৫ সাল থেকে এই জনকল্যাণমূলক প্রবিধানগুলির একটি স্পষ্ট রূপান্তর ঘটেছে (সর্বজনীন মূল্য ছাড়, ভোক্তাদের কাছে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর)। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি এবং শেষের দিকে অপরিশোধিত তেলের দামের পতন (অতিমারি দ্বারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্থরতা) প্রাথমিক ভাবে পর্যায়ক্রমিক ভর্তুকি প্রত্যাহারের সূচনা করে। যদিও ২০২০ সালের প্রথম দিক থেকে অপরিশোধিত তেলের স্বল্প মূল্যের পর্যায়টি বন্ধ হয়ে গেলেও পর্যায়ক্রমিক ভাবে ভর্তুকি হ্রাসের বিষয়টি বজায় থেকেছে। এমনটা হওয়ার ফলে এমন একটি ‘জ্বালানির বাজার’-এর সূচনা হয়েছে, যা সেই সব কর্পোরেট দাতা গোষ্ঠীকে উপকৃত করে, যারা সরকারের ক্ষমতায় বহাল থাকার লক্ষ্যকে সমর্থন জোগায়। সরকার এবং কর্পোরেট দাতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম সংস্থাগুলির দক্ষিণপন্থী রাজনীতি   অনুসরণ প্রভাবশালী এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে একটি শূন্য-সমষ্টির প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছে, যা জ্বালানি এবং অন্যান্য বিষয় থেকে মনোযোগ সরাতে সাহায্য করেছে৷ জ্বালানি ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া, যার মধ্যে গুরুতর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিণতি ছাড়া পেট্রোলিয়াম ভর্তুকি থাকলেও তা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আসলে এটিই প্রমাণ করে যে, সরকার বাজারে তার হস্তক্ষেপের বিষয়ে যতটা সক্রিয়, ততটাই সক্রিয় তা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও।

সূত্র: পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং এবং অ্যানালিসিস সেলের রিপোর্ট

মতামত লেখকের নিজস্ব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar, Assistant Manager, Energy and Climate Change Content Development of the Energy News Monitor Energy and Climate Change. Member of the Energy News Monitor production ...

Read More +
Lydia Powell

Lydia Powell

Ms Powell has been with the ORF Centre for Resources Management for over eight years working on policy issues in Energy and Climate Change. Her ...

Read More +
Akhilesh Sati

Akhilesh Sati

Akhilesh Sati is a Programme Manager working under ORFs Energy Initiative for more than fifteen years. With Statistics as academic background his core area of ...

Read More +