Expert Speak Terra Nova
Published on Apr 20, 2022 Updated 16 Days ago

কম উন্নত দেশ ও ছোট উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্রগুলির নেট-জিরো প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে সহায়তা করে ভারত জলবায়ু নেতার ভূমিকায় উঠে আসতে পারে।

নেট-জিরো: ভারতের টেক্কা ‌দেওয়ার সুযোগ
নেট-জিরো: ভারতের টেক্কা ‌দেওয়ার সুযোগ

ইউএনইপি-র এমিশন গ্যাপ রিপোর্ট ২০২১ অনুসারে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার পথে যাত্রা শুরু করতে পৃথিবী এখনও পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। যদিও উন্নত দেশগুলির আর্থিক সংস্থান এবং প্রযুক্তি পাওয়ার উপায় আছে, কম উন্নত দেশগুলি (এলডিসি) ও ছোট উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্রগুলি (এসআইডি) প্যারিস চুক্তির ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছে৷ যে হেতু এই দুর্বল দেশগুলিকে উন্নত দেশগুলি যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার অনুসারী পর্যাপ্ত পদক্ষেপ করা হয়নি, তাই ভারত এই প্রয়োজনের সময় নীতিগত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেকে জলবায়ু নেতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে। ভারত ইতিমধ্যেই প্যারিস চুক্তির প্রতিশ্রুতি ‘বাহ্যিক ও আত্মিক’ভাবে পূরণ করেছে। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে তার অর্থনীতিতে কার্বনের তীব্রতা ৪৫ শতাংশের বেশি হ্রাস করার এবং ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য অর্জনের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার প্রতি দায়বদ্ধ। জলবায়ু সমতার ক্ষেত্রে তার এই ঘোষণাগুলি বিশ্বব্যাপী উত্তর ও দক্ষিণের দেশগুলিতে ভাল ভাবে অনুরণিত হয়েছে৷ ভারত এখন বৈশ্বিক ব্যবস্থায় তার ন্যায্য মর্যাদা অর্জনের জন্য তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে তার কোমল শক্তি ব্যবহার করতে পারে। অধরা ‘গ্লোবাল নেট-জিরো’ উপলব্ধ করতে ফলাফল-ভিত্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এলডিসি ও এসআইডি–গুলিকে সহায়তা দিয়ে এই কাজটি শুরু করা যেতে পারে।

দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে তার অর্থনীতিতে কার্বনের তীব্রতা ৪৫ শতাংশের বেশি হ্রাস করার এবং ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য অর্জনের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার প্রতি দায়বদ্ধ।

জাতীয় কৌশল ঘোষণায় স্বচ্ছতা

নিজস্ব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে ভারত জলবায়ু সক্রিয়তার বিষয়ে এলডিসি ও এসআইডি–গুলির প্রয়োজন মাথায় রেখে লক্ষ্যভিত্তিক সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। বিভিন্ন দেশের অগ্রাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেও সেটি তার জন-কেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক মডেল, দেশীয় প্রযুক্তি, কর্মসূচি পরিচালনার দক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিগুলি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ভাগ করে নিতে পারে। এই ধরনের কাজগুলি এলডিসি ও এসআইডি–গুলিকে আর্থিক পারস্পরিকতার দায় থেকে মুক্তি দিতে পারে। শুরুতে প্যারিস চুক্তি (জিএসটি) ২০২৩-এর বিশ্বব্যাপী লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে কে কতদূর এগোল সেই হিসাব–নিকাশের সময় ভারত তাদের সহায়তা দিতে পারে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। এই ধরনের সমর্থন বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে। এটি মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এই জিএসটি-র ফলাফল ২০২৩-পরবর্তী পর্বের জন্য নতুন এনডিসি-র খসড়া তৈরিতে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপগুলিকে আরও প্রাসঙ্গিক, প্রভাবশালী ও টেকসই করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

এই মান-শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে ক্ষেত্রভিত্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার উপায়গুলিকে জোরালো করা গেলে তা সমস্ত অংশীদারের জন্য যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক ক্রিয়াকলাপ খুবই বড় ধরনের অনুকূল ফলাফল আনতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তি, বৈদ্যুতিক গতিশীলতা, টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা ও আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়ার উপর নতুন করে জোর দেওয়া হলে দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই লাভ পাওয়া হতে পারে। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রের একটি অনন্য কাঠামো ও স্বতন্ত্র বৃদ্ধি-গতিশীলতা আছে, জলবায়ু সক্রিয়তার প্রসঙ্গে বহুপাক্ষিক সংস্থা, স্থানীয়/রাজ্য/কেন্দ্রীয় সরকার, বেসরকারি ক্ষেত্র, নাগরিক সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে একটি সামগ্রিক মূল্য-শৃঙ্খল পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারলে তা রূপান্তরমূলক হয়ে উঠতে পারে। এই মান-শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে ক্ষেত্রভিত্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার উপায়গুলিকে জোরালো করা গেলে তা সমস্ত অংশীদারের জন্য যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, সেন্টার ফর ডিজাস্টার রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সেন্টার ফর স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজুকেশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিএসএসটিই-এপি), স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সামিট ইত্যাদির মতো ভারতের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ এই ধরনের উদ্যোগের উপযোগিতা শক্তিশালী করেছে।

‘‌বাণিজ্যিক কূটনীতি’‌র আহ্বান

ভারতীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি, যেমন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই), ফিকি, অ্যাসোচ্যাম, ন্যাসকম বিশ্বব্যাপী ‘‌বৃত্তাকার অর্থনীতি’ সংক্রান্ত‌ আলোচনায় যথেষ্ট অবদান রাখতে পারে। তারা জলবায়ু সক্রিয়তা নিয়ে ভারতের বাণিজ্যিক কূটনীতি প্রচারের ক্ষেত্রে প্রধান রাষ্ট্রদূত হতে পারে। সেই সঙ্গেই তারা এলডিসি ও এসআইডি-তে একই কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে জলবায়ু-সপ্রতিভ অনুশীলন সংক্রান্ত বিনিময় সহজতর করতে পারে। বাজারের বুদ্ধিমত্তা আকৃষ্ট করার জন্য দেশ-নির্দিষ্ট ব্যবস্থা তৈরি করা, উদ্ভাবনমূলক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের বৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করা, এবং সিএসআর তহবিলের মাধ্যমে দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হল এমন কিছু পদক্ষেপ যা ‘‌স্থানীয় পরিবেশবান্ধব চাকরি’‌ তৈরি করতে পারে। এই পদক্ষেপগুলি এই জাতীয় দেশগুলির সমষ্টিগত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে উন্নত করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের একীকরণ সহজতর করবে। সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই ক্ষেত্রে কর্পোরেটদের পদক্ষেপের পরিপূরক হওয়া উচিত।

সবুজ রাজধানী: সহযোগিতার উপায়

সরবরাহের দৃষ্টিকোণ থেকে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য উন্নত দেশগুলির দেওয়া প্রতিশ্রুতি তাদের সিএইচজি নির্গমনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকৃতপক্ষে তারা যে টাকা দিয়েছে তা তাদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম। তার উপর তারা আবার জলবায়ু সক্রিয়তার জন্য তাদের আর্থিক সহায়তার হিসেবের মধ্যে বাজারের হারে দেওয়া বেসরকারি অর্থায়নও যোগ করে নেয়। এই ভাবে কম মাথাপিছু আয়, অস্থির অর্থনীতি, আর্থিক সংস্থানের অভাব, এবং কম সঞ্চয় হারের মতো সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন বেশিরভাগ এলডিসি ও এসআইডি–গুলির কাছে সবুজ উদ্যোগের জন্য কেন্দ্রীভূত ও ধারাবাহিক পুঁজি সংগ্রহ একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দেশগুলি বিশ্বব্যাপী চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করতে উচ্চাভিলাষী কার্বন হ্রাসের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। বিশ্ব মঞ্চে এক নীতিনির্ধারক খেলোয়াড় হিসেবে ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফোরামে এই ধরনের অসঙ্গতিগুলি তুলে ধরতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে আরও অর্থের প্রতিশ্রুতি এবং ‘‌বাস্তবিক’‌ জলবায়ু অর্থায়ন আসতে পারে, বিশেষ করে ২০২৩-পরবর্তী পর্বের জন্য।

গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)–এর মতো আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থার সুফল ‌পেতে কম উন্নত দেশ ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলির অক্ষমতা উদ্বেগজনক।

গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)–এর মতো আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থার সুফল ‌পেতে কম উন্নত দেশ ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলির অক্ষমতা উদ্বেগজনক। তার উপর বেসরকারি পুঁজি প্রদানকারীরা ব্যাঙ্ক–সংযুক্ত প্রকল্পের বা ‘‌সবুজ ক্ষেত্রের’‌ অনুকূল বাস্তুতন্ত্রের অভাবের কারণে এই ধরনের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক। এই ধরনের ফাঁক পূরণ করা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের দেশগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারত আর্থিক ক্ষেত্রে তার উদ্ভাবন ও দক্ষতা ব্যবহার করতে পারে। এই ভাবে সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, আর্থিক শাসনের সর্বোত্তম অনুশীলন, এবং অর্থনৈতিক নীতিতে জলবায়ু সক্রিয়তার সংমিশ্রণ ঘটাতে ভারত তাদের সহায়তা করতে পারে। প্রকল্পের নকশা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণে কম উন্নত দেশ ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলিকে ভারতের সমর্থন বৃহৎ আকারের ‘গ্রিন-প্রোগ্রাম’-এর ব্যাঙ্ক–সংযুক্তি উন্নত করতে পারে, এবং তা ঘটলে অর্থের প্রবাহের জন্য দরজা খুলে যাবে।

তারা আমাদের নীল মার্বেল পৃষ্ঠের উপর খোদাই করা পান্না। তার কাজ ও আচরণের মাধ্যমে ভারত বিশ্বকে উচ্চতর লক্ষ্যের পথে নিয়ে যেতে পারে: আমাদের সাধারণ ভবিষ্যতকে রূপ দেওয়ার জন্য বহুপাক্ষিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, এবং তার জন্য দেশ-নির্দিষ্ট স্বার্থের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠতে হবে এবং উপলব্ধি করতে হবে যে আমরা প্রত্যেকে আমাদের স্বার্থকে আরও ভাল ভাবে তুলে ধরতে পারব একত্রে কাজ করার মাধ্যমে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Labanya Prakash Jena

Labanya Prakash Jena

Labanya Prakash Jena is a Senior Manager and Head Centre for Sustainable Finance Climate Policy Initiative (CPI). Previously he was the Regional Climate Finance Adviser ...

Read More +
Prasad Ashok Thakur

Prasad Ashok Thakur

Prasad Ashok Thakur is a CIMO scholar and has authored a book and several articles published with The World Bank Asian Development Bank Institute United ...

Read More +