Published on Jan 29, 2023 Updated 0 Hours ago

নতুন জীববৈচিত্র্য কাঠামোর টার্গেট ৩ উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি বহন করে, কারণ এর জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হবে

জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং নতুন বৈশ্বিক জীববৈচিত্র‌্য কাঠামো

কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি (সিবিডি)–র ১৫ তম কনফারেন্স অফ পার্টিস (কপ১৫)–এ সদস্য দেশগুলি ‘‌কুনমিং–মন্ট্রিল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র‌্য কাঠামো’‌ (গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক বা জিবিএফ) গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করার জন্য চারটি ‘‌গোল’‌ ও ২৩টি ‘‌টার্গেট’‌ অন্তর্ভুক্ত ছিল। চুক্তিটি  আইনত বাধ্যতামূলক না–হলেও বলা হয়েছিল সব দেশকে জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে এই কাঠামোর লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে।

২৩টি লক্ষ্যের মধ্যে টার্গেট ৩, যা কথোপকথনে ‘‌৩০×৩০’‌ নামে পরিচিত, তার জন্য প্রয়োজন ‘‌অন্তত ৩০ শতাংশ স্থলজ, অন্তর্দেশীয় জল এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলকে, বিশেষ করে যে অঞ্চলগুলি জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের কার্যাবলি ও পরিষেবাগুলির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলিকে কার্যকরভাবে সংরক্ষিত ও ব্যবস্থাপিত করতে হবে পরিবেশগতভাবে প্রতিনিধিত্বশীল, সুসংযুক্ত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সুরক্ষিত এলাকার শাসন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কার্যকর এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে…’‌।

স্থানভিত্তিক সংরক্ষণ সাধারণত ‘‌সুরক্ষিত এলাকা’‌র রূপ নিয়েছে, যার অর্থ সেখানে মানুষের বসবাস বা অন্তত সম্পদের শোষণ সীমিত। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন)–এর সুরক্ষিত এলাকার শ্রেণিকরণ নির্দেশিকাতে প্রদত্ত সংজ্ঞাটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কাঠামোজুড়ে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষিত এলাকা রয়েছে, যেগুলির সুরক্ষার স্তর ভিন্ন হয় প্রতিটি দেশের সক্রিয় আইন বা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রবিধান অনুসারে।

বর্তমানে প্রায় ১৭ শতাংশ স্থলজ এবং ৮ শতাংশ সামুদ্রিক অঞ্চল নথিভুক্ত সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এই সব এলাকার মান প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম; ৮ শতাংশেরও কম জমি একইসঙ্গে সুরক্ষিত ও সংযুক্ত। এই ধরনের ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে ৩০×৩০–র লক্ষ্য একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার উপস্থাপন করে।

যদিও দেশগুলির পৃথকভাবে ৩০×৩০ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রয়োজন নেই, তবে কীভাবে জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে দেশগুলি অবদান রাখবে এবং এই কাঠামোর লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি প্রদর্শন করবে, তা অস্পষ্ট।

যদিও দেশগুলির পৃথকভাবে ৩০×৩০ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রয়োজন নেই, তবে কীভাবে জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে দেশগুলি অবদান রাখবে এবং এই কাঠামোর লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি প্রদর্শন করবে, বিশেষ করে বিশ্বের জনসংখ্যাগতভাবে বৃহত্তর, ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলি (সারণি ১ দেখুন) এবং খুব উচ্চ ঘনত্বের ছোট ও শহর–রাষ্ট্রগুলি (সারণি ২ দেখুন), তা অস্পষ্ট, তবে একটি পরিষ্কার চিত্র দ্রুত স্পষ্ট হওয়া জরুরি। আগের আইচি টার্গেট কিন্তু অপূর্ণ থেকে গেছে।

সারণি ১: কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ এবং প্রতি বর্গ কিমি–এ জনসংখ্যার ঘনত্ব ৪০০ জনের বেশি

সারণি ২: খুব উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্বের ছোট ও শহর–রাষ্ট্র

বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ

যেহেতু এমনকি অনেক সুরক্ষিত এলাকার মধ্যেও জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে, তাই প্রধান চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি হল বিদ্যমান ও নতুন উভয় ক্ষেত্রের গুণগত মান উন্নত করা। সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত অঞ্চলগুলিকে প্রজাতিগুলির চলাচলের জন্য, এবং পরিবেশগত প্রক্রিয়াগুলি কার্যকর করার জন্য, আরও ভালভাবে সংযুক্ত করতে হবে।

সারণি ১ এবং ২ থেকে স্পষ্ট যে জনসংখ্যাগতভাবে বড়, উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্বের দেশ এবং খুব উচ্চ ঘনত্বের ছোট ও শহর–রাষ্ট্রগুলি তাৎপর্যপূর্ণভাবে অতিরিক্ত স্থলজ বা অভ্যন্তরীণ জল এবং উপকূলীয় বা সামুদ্রিক অঞ্চলগুলিকে সুরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনার অধীনে আনতে সক্ষম হবে না।

তার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে প্রজাতির পরিসরের পরিবর্তনকে বিবেচনায় রাখতে হবে। একদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় চাপের সম্মুখীন হওয়া সুরক্ষিত অঞ্চলগুলি, এবং অন্যদিকে জনবহুল মানব বসতিগুলি, যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে সেগুলিরও মোকাবিলা করতে হবে।

গ্লোবাল নর্থ–এর ট্র্যাক রেকর্ড, এখনও পর্যন্ত, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য উদ্যোগের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে দুর্বল।

এই সমস্ত ব্যবস্থা নিতে হলে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও জনসম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার জন্য উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে সেইসব এলাকায় যেখানে বড় জীবজন্তু বাস করে। গ্লোবাল নর্থ–এর ট্র্যাক রেকর্ড, এখনও পর্যন্ত, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য উদ্যোগের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে দুর্বল।

সামনের পথ

আরও ভাল সংযোগ

সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত এলাকাগুলির মধ্যে প্রজাতিগুলির চলাচলের জন্য—বিশেষ করে যেখানে বড় জীবজন্তু চলাচল করে—আরও ভাল সংযোগের ব্যবস্থা করতে উদ্ভাবনী এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করতে হবে। সংলগ্ন এবং/‌অথবা সংযুক্ত সুরক্ষিত অঞ্চলগুলি, যেগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণের জন্য হাতে নেওয়া হয় না, সেগুলির সুরক্ষার কথাও বিবেচনা করতে হবে:‌ যেমন কৃষি জমি।

ফসলের ক্ষয়ক্ষতি প্রায়শই বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষের দিকে চালিত করে;‌ তবে সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসাবে রাষ্ট্রকর্তৃক বন্যপ্রাণীর কারণে ক্ষতির বিরুদ্ধে চিহ্নিত সংলগ্ন এলাকার ফসল বাধ্যতামূলকভাবে বিমা করা হলে তা আর ঘটবে না। যদি ফসলের ক্ষতির জন্য অর্থ প্রদান করা হয়, তবে স্থানীয় জনসম্প্রদায়গুলি বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। উন্নয়নশীল দেশগুলির এই বিমা ও যাচাইকরণের পরে ক্ষতির কারণে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত ব্যয় পূরণ করা যেতে পারে উন্নত দেশগুলি থেকে আসা আর্থিক প্রবাহ থেকে, যার পরিমাণ ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে বলে প্রত্যাশিত। এই উদ্দেশ্যে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটির অধীনে একটি ট্রাস্ট ফান্ড ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

সংরক্ষণ উন্নয়ন প্রক্রিয়া

ক্লাইমেট কনভেনশন–এর অধীনে ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম ইউএনএফসিসিসি–র অনুরূপ একটি কার্বন অফসেট স্কিম তৈরি করা যেতে পারে, যা একটি দেশকে অন্যান্য দেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনহ্রাস প্রকল্পে অর্থায়ন করা এবং এইভাবে হ্রাসপ্রাপ্ত নির্গমনকে তাদের আন্তর্জাতিক নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য নিজস্ব প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে দাবি করার সুযোগ দেবে। সারণি ১ ও ২–উল্লিখিত, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলি, সারণি ৩–এর দেশগুলিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারে।

সারণি ৩: সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র

সারণি ৩–এর বেশিরভাগ দেশই অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। এগুলি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রবাহে তাদের অবদান হিসাবে তাদের নিজস্ব বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি সারণি ১ ও ২–এর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলির জন্য অর্থ প্রদান করতে পারে।

গতিশীল সুরক্ষিত এলাকা

একদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় চাপের সম্মুখীন হওয়া সুরক্ষিত এলাকার জন্য উদ্ভাবনী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হবে, এবং অন্যদিকে ঘন মানব বসতিগুলির জন্য। বেশি উচ্চতার এলাকায় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সুরক্ষিত এলাকাগুলিকে ভৌগোলিক স্থানাঙ্কের একটি সেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ স্থির না–করে চলমান হিসাবে কল্পনা করতে হবে। যেমন, ম্যানগ্রোভ ও আলপাইন বাস্তুতন্ত্রগুলিকে যথাক্রমে স্থলের দিকে ও ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগমনের সুযোগ দিতে হবে। যে স্থানগুলি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অংশ হিসাবে বিবেচিত হয় না, সেগুলিকে সংরক্ষণের পরিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির স্থায়িত্ব এবং তাদের আবাসস্থলগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, তবে পরিসরের পরিবর্তনগুলির হিসাব করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী যে স্থানগুলি এখন সুরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনার মধ্যে নেই সেগুলিকে আগে থেকে সুরক্ষিত করতে হবে। সংরক্ষণ প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে এই ধরনের স্থানগুলির উপর পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা করে সেগুলির সমাধান করতে হবে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.