Special ReportsPublished on Sep 13, 2022
ballistic missiles,Defense,Doctrine,North Korea,Nuclear,PLA,SLBM,Submarines

অমৃত মহোৎসব: স্থিতিশীল ভারত গড়ার দশটি নীতি

অমৃত মহোৎসব: স্থিতিশীল ভারত গড়ার দশটি নীতি

স্থিতিশীল ভারতের রূপদান

আজকের ভারত সাহসী এবং উচ্চাভিলাষী। গ্লোবাল নর্থের সঙ্গে চোখে চোখ রাখার সাহস তার আছে। এদেশের স্বপ্নগুলি বৃহৎ এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশটি কঠোর পরিশ্রম করতেও পিছপা নয়। এই সংকলনটি সেই ভারতকেই উৎসর্গ করে লেখা হয়েছে, যা গত ৭৫ বছরে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছে এবং আগামী দিনে আরও বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখে। একই সঙ্গে এটি এই সহস্রাব্দের ভারতের প্রতিও শ্রদ্ধার্ঘ্য যে ভারত আগামী ২৫ বছরের জন্য তার অগ্রাধিকারগুলি সম্পর্কে অবগত এবং আগামিদিনে প্রতিবন্ধকতাগুলির সম্মুখীন হতে ও তা অতিক্রম করতে প্রস্তুত।

‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষ উদযাপন এবং দেশের জনগণ, সংস্কৃতি এবং কৃতিত্বের গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একটি উদ্যোগ। এটি নিছক অতীত ভারতেরই নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং উচ্চাভিলাষী ভারতেরও উদযাপন। এই প্রেক্ষাপটে সংকলনটিতে ১০টি এমন নীতির আলোচনা করা হয়েছে যেগুলি ভবিষ্যতের স্থিতিশীল ভারতের আকার প্রদানে সাহায্য করবে। ২০২১ সালের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ২৫ বছরের প্রেক্ষিতে ভারতের উন্নয়নের পথকে চিহ্নিত করতে ‘অমৃত কাল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বলেন যে, ‘এই অমৃত সময়কালে আমাদের সংকল্পের পরিপূর্ণতা ভারতের শততম স্বাধীনতা উদযাপনের দিকে গর্বের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’[১] ‘অমৃত মহোৎসব: স্থিতিশীল ভারত গড়ার দশটি নীতি’ শীর্ষক সংকলনটির লক্ষ্য হল ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষ উদযাপন করা (অমৃত মহোৎসব) এবং একই সঙ্গে এটি সেই ভারতের  প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ্য যা স্থায়ী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশ ও তার জনগণের জন্য আরও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতির উপর ভর করে আগামী ২৫ বছর ধরে উন্নয়নের পথে পাড়ি দেবে।

গত কয়েক বছরে কিছু উল্লেখযোগ্য নীতিগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নমূলক শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এই হস্তক্ষেপগুলি মূলত স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলসের (এস ডি জি) অন্তর্ভুক্ত, যেগুলিকে বর্তমানে শুধু বৈশ্বিক উন্নয়নমূলক প্রশাসনের ভিত্তিই নয়, বরং সকল স্তরে প্রশাসনের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সংকলনের নিবন্ধগুলি এই প্রকল্পের ভিত্তিতেই লিখিত যে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অর্থনীতি হয়ে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি সুদৃঢ় মৌলিক বিষয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা প্রয়োজন। এই মৌলিক বিষয়গুলি দেশের মানবিক এবং ভৌত পুঁজিকে সশক্তিকরণ করে এমন নীতির মাধ্যমেই নির্মিত।

২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অর্থনীতি হয়ে ওঠার লক্ষ্যমাত্রাটি কোভিড-১৯ অতিমারির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তীব্র ধাক্কা খেলেও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়াটি জি ডি পি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (চিত্র ১ দ্রষ্টব্য)। যদিও ২০১৯ সালে ২.৬৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য জি ডি পি কমে ২০২০ সালে ২.৫১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও, ২০২১ সালে সেটি পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ২.৭৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় অর্থনীতির ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা এবং ২০৩৩-২০৩৪ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বহু প্রতীক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।[২]

চিত্র ১ : ভারতের জি ডি পি বৃদ্ধির হার (২০১০ থেকে ২০২১)

সূত্র : বিশ্ব ব্যাঙ্ক ডাটাবেস থেকে লেখক দ্বারা সংগৃহীত[৩]

একই সময়ে ‘অর্থনৈতিক কার্যকলাপ পরিমাপের নিরিখে জি ডি পি সবচেয়ে খারাপ পরিমাপক কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে তা নয়। … কারণ অন্যান্য সব কিছুই তাদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা এবং গুরুতর আপেক্ষিকতা দ্বারা প্রভাবিত।’[৪] ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার এই বিবৃতি আংশিক ভাবে সত্যি হলেও আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিতর্কসাপেক্ষ। এ কথা সত্যি যে, জি ডি পি অর্থনৈতিক কার্যকলাপের একটি বস্তুনিষ্ঠ পরিমাপক। কিন্তু জি ডি পিকে বিশেষ করে আর্থিক সমৃদ্ধির নিরিখে সর্বশক্তিমান পরিমাপক হিসেবে বিবেচনা করা সম্ভবত সবচেয়ে বড় ত্রুটি। এই ‘বৃদ্ধির খেলায়’ যেটি প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, তা হল ‘বৃদ্ধির মূল্য’।

ভারতীয় বৃদ্ধির ইতিহাস এবং উন্নয়ন ক্ষেত্রে আপাতবিরোধিতা

ভারত ঐতিহাসিক ভাবে নিজেকে এক উন্নয়নমূলক আপাতবিরোধিতার সম্মুখে ফেলেছে – ‘সম্পদের প্রাচুর্য, পর্যাপ্ত দারিদ্র’, যেটিকে অনেকেই তথাকথিত ‘সম্পদ অভিশাপ’-এর বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন।[৫] সম্পদের অভিশাপ প্রকল্পটিকে

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ‘উন্নয়ন ঘাটতি’ প্রদর্শনকারী অর্থনীতিগুলির একটি বৈশিষ্ট্য রূপে মনে করা হয়। অর্থাৎ এটি স্বল্প আয়, নিম্ন অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, দুর্বল গণতন্ত্র এবং কম প্রাকৃতিক সম্পদসম্পন্ন অর্থনীতির তুলনায় উন্নয়নমূলক সূচকগুলির খারাপ ফলাফলকেই তুলে ধরে। কিন্তু ভারতের অবস্থা এহেন রৈখিক তাত্ত্বিক কাঠামো দ্বারা ব্যাখ্যা করার তুলনায় অনেক বেশি জটিল। ভারতের ইতিহাস লক্ষ করলে দেখা যাবে, একাধিক অঞ্চল অনুন্নয়ন এবং রৈখিক ও সন্নিহিত বৃদ্ধির[৬] সঙ্গে জড়িত।

একই সঙ্গে এ কথাও বোঝা দরকার যে, বণ্টনমূলক ন্যায়বিচার বা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা ও ন্যায্যতা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলিকে বিবেচনা না করেই অর্থনৈতিক বৃদ্ধির লাগামহীন এবং অন্ধ সাধনা ‘বৃদ্ধির মূল্য’ চোকাতে একটি যান্ত্রিক ফলাফল প্রদান করে। এগুলি সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ক্ষেত্রে স্পষ্ট না হলেও দীর্ঘমেয়াদে দৃশ্যমান হয়। এগুলি জীবিকার ক্ষতি এবং ভৌত পরিকাঠামো তৈরির নিরিখে পুনর্বাসনের সমস্যা বা মানব বাসস্থানকে প্রভাবিত করে বাস্তুতন্ত্র পরিষেবাগুলির ক্ষতির আকারে প্রকাশ পায়।[৭]

স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয় উন্নয়ন এবং বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরবর্তী সময়টি এই শ্রেণির অন্তর্গত। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বৃহৎ  মূলধনী ব্যয়ের মাধ্যমে নতুন পুঁজির জন্ম দেয়। অনেক ক্ষেত্রে জীবিকা

এবং বাস্তুতন্ত্র পরিষেবাগুলির ক্ষতির কারণে সমাজকে যে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য চোকাতে হয়, তা অর্থনৈতিক সুবিধার তুলনায় অনেক বেশি গভীর— যে টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং তা থেকে প্রাপ্ত সুবিধের মধ্যেকার ঋণাত্মক ফারাক সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি সর্বাঙ্গীন বিশ্লেষণ এ হেন বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।[৮] এ ভাবে যেখানে রৈখিক পরিকাঠামো কৃষি, শিল্প এবং শহুরে বসতিগুলির জন্য বড় আকারে ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক প্রবাহের উপর কাঠামোগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিবর্তনগুলিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত করা হয়েছিল, সেগুলি পুনর্বাসনের সামাজিক ব্যয়ের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে। আবার পুনর্বাসনের অভাব সংঘাতের দিকেই পরিচালিত করে। তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য ভৌত পুঁজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই, যদিও ভৌত পরিকাঠামো যে সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিবেশ এবং ম্যাক্রো-স্কেলে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ রয়েছে।[৯] সেই অর্থে ভারতীয় আর্থ-সামাজিকতাকে এই অবশ্যম্ভাবী নেতিবাচক দিকটির সঙ্গে যুঝতে হয়েছিল, বিশেষত স্বাধীনতা-পরবর্তী উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিবর্তনশীল দৃষ্টিভঙ্গি

উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির একমাত্র পরিমাপক হিসেবে বৃদ্ধির পরিমাপের সূচকটি কয়েক দশক ধরে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। যুদ্ধোত্তর দশকে ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও যেটিকে সেই সময়ে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলে অভিহিত করা হত তাকে উপনিবেশমুক্ত করার প্রেক্ষিতে যে উন্নয়নমূলক চিন্তাভাবনা প্রচলিত ছিল, এবং যা পুঁজি গঠনের মাধ্যমে বৃদ্ধির উপর কেন্দ্রীভূত ছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং উন্নয়নের দৃষ্টান্তে মানবিক মুখ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।[১০] সময়ের সঙ্গে সঙ্গে  ক্লাব অফ রোমের ডুমসডে তত্ত্ব ম্যালথুসিয়ান ধারণার পুনর্বিবেচনা করে এবং লক্ষ করা হয় যে মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয় ভবিষ্যতের জন্য মানুষের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে না।[১১]

এ ছাড়াও একাধিক সমাবেশ, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক ঘোষণা দেখা গিয়েছে যেগুলির প্রধান লক্ষ্য হল উন্নয়নের নিরিখে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার করা। এগুলির মধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস অন্তর্ভুক্ত হলেও তা ২০১৫ সালে এস ডি জিগুলি দ্বারা সৃষ্ট ব্যাপকতর কর্মসূচি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক প্রশাসনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি, এস ডি জিগুলি অর্থনীতিবিদ মোহন মুনাসিংহের ‘স্থিতিশীলবিদ্যা’য় একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি খুঁজে পায়, যার আকার দান করেছে ট্রান্সডিসিপ্লিনারি নলেজ বেস। এই গঠনটি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রাগুলিকে একত্র করে, যার ফলে সমতা, দক্ষতা এবং স্থিতিশীলতার তিনটি আদর্শগত লক্ষ্য অর্জনে নজর দেওয়া সম্ভব হয়।[১২] অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যগুলি পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ভারতের উন্নয়নের গতিপথ ঐতিহ্যগত ভাবে এই চিন্তাধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।  তবে এই চিন্তাধারায় বদল আসছে। অতিমারি-প্ররোচিত লকডাউনের সময় সরকারের তরফে অরক্ষিত জনগোষ্ঠীগুলিকে সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সরকারের সর্বোত্তম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সমাজের একটি বিরাট অংশের মানুষের কাছে এই সুবিধা  পৌঁছয়নি। এই ব্যর্থতার নেপথ্যে রয়েছে অনিবন্ধিত অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্র সম্পর্কিত বৃহৎ জনগোষ্ঠী এবং সরকারি নথিতে অচিহ্নিত এক বৃহৎ পরিযায়ী শ্রমিকদলের আকার থেকে উদ্ভূত বণ্টনের প্রশ্নের মতো বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা। এ কথা স্পষ্ট যে, বাজারশক্তিই এখনও পর্যন্ত দরিদ্র ও অরক্ষিত মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করেছে। লকডাউনের ফলে সংগঠিত বাজার শ্রমশক্তির কাজ করার ক্ষমতা প্রতিহত হওয়ায় দরুন অসংগঠিত শ্রমশক্তিগুলি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। সুতরাং এস ডি জিগুলি ভারতীয় উন্নয়ন নীতি ব্যবস্থার সামনে একটি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে।

এস ডি জি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদের মধ্যে সমন্বয়

এস ডি জি কর্মসূচি মূলত মূলধনের চারটি শক্তির উপর নির্ভরশীল– মানব মূলধন (এস ডি জি ১-৫), ভৌত মূলধন (এস ডি জি ৮ এবং ৯), প্রাকৃতিক মূলধন (এস ডি জি ১৪ এবং ১৫) এবং সামাজিক মূলধন (এস ডি জি ১০ এবং ১৬)। ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের রিপোর্ট ‘ইনক্লুসিভ ওয়েলথ’-এ ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক, মানবিক এবং উৎপাদিত অথবা ভৌত মূলধনের মতো তিনটি মূলধন সম্পদের সামাজিক মূল্যের পরিবর্তনগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই রিপোর্ট অনুসারে, ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ভারতের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ’ মানব ও ভৌত মূলধনের বৃদ্ধি দ্বারা চালিত হয়ে বার্ষিক ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও মাথাপিছু অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদের পরিমাণ ১৯৯০ সালের ৩৬৮ মার্কিন ডলার থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৪ সালে ৩৫৯ মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে (উভয় পরিসংখ্যানই ২০০৫ সালের মূল্যের নিরিখে)। যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদকে উন্নয়নের মাপকাঠি বা মৌলিক ভিত্তি হিসেবে মনে করা হয়, তা হলে এই ধরনের হ্রাস উন্নয়ন প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতার উপর গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়। যদিও ২০১৪ সালের পরে ভারতের উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক মানবিক এবং ভৌত মূলধন ক্ষেত্রগুলিতে উল্লেখযোগ্য রকমের নীতিগত হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এই নীতিগুলিই এই সংকলনে উপস্থাপিত হল।

একই সময়ে পাশ্চাত্যের শিক্ষাবিদরা এবং গ্লোবাল সাউথে তাঁদের সমর্থকরা প্রায়শই বিশ্বের দুর্দশার সমাধান হিসেবে ‘ডিগ্রোথ’ বা ‘বৃদ্ধিহীনতা’র পক্ষে সওয়াল করেছেন। ডিগ্রোথ তত্ত্ব নেতিবাচক বৃদ্ধি এবং বর্তমান জীবনযাত্রার ধরন থেকে পশ্চাদপসরণকেই উৎসাহিত করে। এটি গ্লোবাল নর্থে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের হ্রাস ঘটানো এবং বৃদ্ধির লালসার প্রভাবশালী হ্রাসবাদী দৃষ্টান্ত থেকে মুক্তির উপর জোর দিয়েছে।

বৃদ্ধির ফলে এখনও পর্যন্ত বাস্তুতন্ত্রের যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, সে বিষয়ে আলোচনার নিরিখে ডিগ্রোথ মানবকল্যাণ এবং মাথাপিছু জি ডি পি-র বিষয় দু’টিকে পৃথকীকরণের উপরে জোর দেয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী  অর্থনীতির তুলনায় মাথাপিছু কম উপার্জনকারী স্পেনের মতো দেশে বণ্টন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা অনেকটাই ভাল। ফিনল্যান্ড তাদের বর্তমান জি ডি পি-র মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করে এবং কেবলমাত্র উন্নততর সমতা নীতি ও পুনর্বণ্টনের অনুশীলন বহাল রেখে বর্তমান জীবনধারণের মান বজায় রাখতে পেরেছে।[১৩] উন্নয়নকে ‘বৃদ্ধি বিরোধী’ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ফলে গ্লোবাল উত্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংকোচনের প্রক্রিয়াটি গ্লোবাল সাউথের স্ব-সংজ্ঞায়িত পথে সামাজিক সংগঠনের জন্য আরও বৃহত্তর পরিসর তৈরি করবে।

তবে ভারতের উন্নয়ন বৃদ্ধি-বিরোধী পথে হাঁটতে পারে না। ‘ডিগ্রোথ বা বৃদ্ধির অবক্ষয়’-এর আহ্বান এমন একটি বিশ্ব থেকে উদ্ভূত হচ্ছে, যেখানে ইতিমধ্যে শুধু মাত্র বৃদ্ধিই ঘটেছে এমনটা নয়, সেখানে অর্থনৈতিক দিক থেকে (আয় বা সম্পদের সমতার মাপকাঠিতে) আরও সমতা অর্জিত হয়েছে ও বণ্টনমূলক ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে তা আরও ন্যায়সঙ্গত হয়ে উঠেছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা সেখানে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হয়ে ওঠার বিবর্তনে সাহায্য করেছে। ভারত এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি। সমতা এবং বণ্টনের উদ্বেগ এখনও ভারতের মতো ১.৩ বিলিয়ন অধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট দেশের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেও, একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ দর্শিয়েছে যে কী ভাবে ক্রমবর্ধমান আয় এবং সম্পদের বৈষম্য ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বাধা দিতে পারে, বিশেষ করে যখন ব্যবহারিক চাহিদাই বৃদ্ধির প্রধান চালক।[১৪] শ্রীলঙ্কার আকস্মিক ভাবে জৈব কৃষিপদ্ধতিতে রূপান্তর এবং তার ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার উপর ক্ষতিকর প্রভাবগুলির সাম্প্রতিক উদাহরণ এটাই দর্শায় যে, বৃদ্ধিহীনতার আদর্শগুলি চাপিয়ে দেওয়া যায় না এবং একটি অর্থনীতিকে এমন এক পরিসরে জোর করে প্রবেশ করানো যায় না যার জন্য সেটি প্রস্তুত নয়।

এই সংকলন সম্পর্কে: ভারতের অগ্রাধিকার

বিগত আট বছর যাবৎ উন্নয়ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে দেশের ভৌত ও মানব পুঁজির উন্নয়নের নিরিখে উল্লেখযোগ্য রকমের নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। অতিমারি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলিতে একটি বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে এবং এস ডি জি অর্জনের পথকে প্রভাবিত করেছে। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, বৃদ্ধির নিরিখে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভারতীয় স্বপ্ন এস ডি জি-গুলিতে অন্তর্নিহিত শক্তিশালী মৌলিক ধারাগুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দরকার।

এই সংকলনটি্তে একটি স্থিতিশীল ভারতকে রূপদানের জন্য ১০টি নির্বাচিত নীতিগত হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হল। এগুলি হল:

পোষ অভিযান, যার মূল লক্ষ্য খর্বতা, অপুষ্টি, রক্তাল্পতা এবং কম ওজনের শিশুর জন্মের হার কমিয়ে আনার চেষ্টা করা। এই অধ্যায়ে শোভা সুরি প্রকল্পটির গুরুত্ব, এখনও পর্যন্ত এটির অগ্রগতি ও আর্থ সামাজিক কারণ, অতিমারির প্রভাবের ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে একটি স্থানভিত্তিক সময়োচিত এবং সুগঠিত পটভূমির গুরুত্বের কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, যা বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য নিশ্চয়তা প্রকল্প এবং যার লক্ষ্য দরিদ্র ও অরক্ষিত পরিবারের জন্য প্রতি বছর প্রতি পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্যবিমা প্রদান করা৷ উমেন সি কুরিয়ান এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর উপকারী প্রভাব সম্পর্কে একটি ছোট পর্যালোচনা তুলে ধরে দেখিয়েছেন যে কী ভাবে এই জাতীয় প্রকল্প বিশ্বের অন্যান্য অংশের কাছে অনুকরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।

জল জীবন মিশন, যার লক্ষ্য ২০২৪ সালের মধ্যে সমস্ত পরিবারের জন্য নিরাপদ এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের জোগান দেওয়া। সায়নাংশু মোদক এই মিশনের সংযোগ এবং কার্যকারণ সম্পর্ককে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা সম্পর্কিত ফলাফলের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন এবং কী ভাবে এটি জাতির সামগ্রিক অগ্রগতির উপর প্রভাব ফেলবে, তার উপরে আলোকপাত করেছেন।

সমগ্র শিক্ষা অভিযান, যা স্কুল শিক্ষার জন্য সমান সুযোগ এবং ন্যায়সঙ্গত শিক্ষার ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে পরিমাপিত স্কুল কার্যকারিতা উন্নত করার বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়ে স্কুল শিক্ষা ক্ষেত্রের নিরিখে একটি ব্যাপক এবং সর্বাঙ্গীন কর্মসূচির উপস্থাপন করে।[১৫] মালঞ্চ চক্রবর্তী প্রকল্পটির বৃহত্তর পরিসরের কথা বলতে গিয়ে যুক্তি দেন, কী ভাবে এটি মানব পুঁজি সম্পর্কিত এস ডি জি অর্জনকে সহজতর করে তুলতে সাহায্য করে৷ তিনি ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের চিন্তাধারার সঙ্গে প্রকল্পটির মূল সুরের অনুরণনকেই তুলে ধরেছেন।

ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশন বা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন মিশন, যা ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় ‘দক্ষতার ঘাটতি’ পূরণের উদ্দেশ্য দ্বারা চালিত হয়। সুনয়না কুমার ভারতীয় অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং কৃতিত্বের মধ্যে ব্যবধান মেটাতে দক্ষ মানব পুঁজির চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে বিস্তৃত ব্যবধানটি দর্শানোর সময় প্রকল্পটির তাৎপর্য তুলে ধরেন। একটি স্থিতিশীল ভারত নির্মাণের জন্য তিনি এই কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির উল্লেখ করেছেন।

মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি, যার লক্ষ্য হল প্রতিটি পরিবারের, যার প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা স্বেচ্ছায় কায়িক পরিশ্রম করতে আগ্রহী, সেই পরিবারগুলির অন্তত পক্ষে এক জন সদস্যকে একটি অর্থবর্ষে অন্তত পক্ষে ১০০ দিনের মজুরি উপার্জনের সমতুল্য কাজ দেওয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় কর্ম সংস্থানের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। সৌম্য ভৌমিক দেখিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ কী ভাবে অতিমারি-সহ অন্যান্য সংকটের সময় অরক্ষিত সম্প্রদায়গুলিকে একটি নিরাপত্তার বলয় প্রদান করতে পারে, তিনি এ-ও বলেছেন যে, কী ভাবে এটি দারিদ্র দূরীকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত এস ডি জি অর্জনে সহায়তা করে।

ন্যাশনাল স্মার্ট সিটি মিশন, যা একটি শহুরে পুনর্নবীকরণ এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠার কর্মসূচি এবং যার উদ্দেশ্য দেশব্যাপী স্মার্ট শহর গড়ে তোলা, সেগুলিকে নাগরিক বান্ধব এবং স্থিতিশীল করে তোলা। অপর্ণা রায় মূল্যায়ন করেছেন, কী ভাবে মিশনটি শহুরে কেন্দ্রগুলিকে ভবিষ্যতের আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং একই সঙ্গে কী ভাবে সেগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি মিশন অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে গতিশীলতাকে রূপান্তরিত করার জন্য একটি বৈপ্লবিক পন্থা গ্রহণ করে। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে চালু হওয়া এই মিশনের লক্ষ্য হল বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে মাল্টিমোডাল সংযোগ পরিকাঠামো প্রদান করা। দেবস্মিতা সরকার বর্ণনা করেছেন যে, কী ভাবে মিশনটি দেশব্যাপী সংযোগ সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে এবং সংযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বৈপ্লবিক পরিবর্তনকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারে।

স্বচ্ছ ভারত অভিযান একটি উল্লেখযোগ্য পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যার লক্ষ্য খোলা জায়গায় মলত্যাগ বন্ধ করা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। মোনা বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্যানিটেশন প্রচার নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেটির সাফল্যগুলির উপর আলোকপাত করেছেন।

আধার, বিশ্বের বৃহত্তম বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাটি আর একটি সাফল্যের গল্প বলে। প্রায় প্রতিটি ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আধার কার্ডের ধারক এবং অনন্য ও সুরক্ষিত পরিচয়ের বাহক হওয়ায়, আন্দোলনটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তিকে জাতীয় স্তরে উন্নীত করেছে। অনির্বাণ শর্মা এবং বসু চন্দোলা তাঁদের অধ্যায়ে এই বিষয়টির উপরেই জোর দিয়েছেন। লেখকদ্বয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচনার নিরিখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকার কেস স্টাডি হিসেবে আধারকে ব্যবহার করেছেন। তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন অংশের জন্য এর অনুকরণযোগ্যতার উপরে জোর দিয়েছেন যখন পৃথিবীব্যাপী সরকারগুলি সমতা এবং বণ্টনমূলক ন্যায়বিচারের উদ্বেগগুলি সমাধান করার জন্য তীব্র প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এই ১০টি নির্বাচিত নীতি অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ যেমন মানব ও প্রাকৃতিক পুঁজির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলি নিয়েই আলোচনা করে৷ বৈষম্য অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে খর্ব করতে সক্ষম[১৬] হওয়ার ফলে এস ডি জি দ্বারা চালিত ন্যায়সঙ্গত এবং স্থিতিশীল বিশ্ব দ্বারা ভবিষ্যতের বৃদ্ধির পথটি প্রভাবিত হবে। সুতরাং ভারতের অগ্রগতি দু’টি মূল উপাদানের উপর নির্ভরশীল: প্রাকৃতিক পুঁজির স্থিতিশীলতার সঙ্গে আপস না করে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা প্ররোচিত মানব ও ভৌত পুঁজির একযোগে বৃদ্ধি; এবং একই সঙ্গে বৈষম্য হ্রাস করার মাধ্যমে বণ্টনমূলক ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে সমতাময় ভারতের নির্মাণ।


 এই ভূমিকাসূচক আলোচনাটি ও আর এফ-এর সিরিজ ‘ইন্ডিয়া@৭৫: অ্যাসপিরেশনস, অ্যাম্বিশনস অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস’-এর অংশ হিসেবে লিখিত ’টুওয়ার্ডস আ টেন ট্রিলিয়ন ডলার ইন্ডিয়ান ইকনমি বেসড অন দ্য এস ডি জি অ্যাজেন্ডা’র পরিবর্ধিত এবং পরিমার্জিত রূপ।


[১] প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার, শ্রী নরেন্দ্র মোদী অ্যাড্রেসড দ্য নেশন ফ্রম দ্য র‍্যামপার্টস অব দ্য রেড ফোর্ট অন দ্য সেভেন্টি ফিফথ ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে’, আগস্ট ১৫, ২০২১

[২] ‘ইন্ডিয়া উড বিকাম ফাইভ ট্রিলিয়ন ডলার ইকনমি বাই ২০২৬-২৭ : সি ই এ ভি অনন্ত নাগেশ্বরন’, ইকনমিক টাইমস, জুন ১৪, ২০২২

[৩] বিশ্ব ব্যাঙ্ক, ‘জি ডি পি গ্রোথ (অ্যানুয়াল %) – ইন্ডিয়া’, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক গ্রুপ

[৪] ‘ইন্ডিয়া উড বিকাম ফাইভ ট্রিলিয়ন ডলার ইকনমি বাই ২০২৬-২৭’

[৫] বেহেরা ভগীরথ এবং পুলক মিশ্র, ‘ন্যাচরাল রিসোর্স অ্যাবান্ডান্স ইন দ্য ইন্ডিয়ান স্টেটস : কার্স অর বুন?’ রিভিউ অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড চেঞ্জ, ১৭ (১) (২০১৯): ৫৩-৭৩। ডি ও আই : ১০.১১৭৭/০৯৭২২৬৬১২০১২০১০৪

[৬] জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নীলাঞ্জন ঘোষ, ‘হোলিস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড হাইড্রো-ডিপ্লোমেসি ইন দ্য গ্যাঞ্জেস-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বেসিন’, ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি, ৪৪ (৪৫) (২০০৯): ৫০-৬০।

[৭] রডনি ভ্যান দের রি, ড্যানিয়েল জে স্মিথ এবং ক্লারা গ্রিলো, ‘দ্য ইকলজিক্যাল এফেক্টস অব লিনিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ট্রাফিক: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপারচুনিটিস অব র‍্যাপিড গ্লোবাল গ্রোথ’, হ্যান্ডবুক অব রোড ইকলজি, সম্পাদনা রডনি ভ্যান দের রি, ড্যানিয়েল জে স্মিথ এবং ক্লারা গ্রিলো (নিউ জার্সি: ওয়াইলি- ব্ল্যাকওয়েল, ২০১৫)

[৮] নীলাঞ্জন ঘোষ, ‘প্রোমোটিং আ জি ডি পি অব দ্য পুওর’: দ্য ইমপ্যারেটিভ অফ ইন্টিগ্রেটিং ইকোসিস্টেমস ভ্যালুয়েশন ইন ডেভেলপমেন্ট পলিসি’, অকেশনাল পেপার নম্বর ২৩৯, মার্চ ২০২০, অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন

[৯] টি পালেই, ‘অ্যাসেসিং দি ইমপ্যাক্ট অফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার অন ইকনমিক গ্রোথ অ্যান্ড গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস’, প্রোসেদিয়া ইকনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্স (২০১৪): ১-৮

[১০] নীলাঞ্জন ঘোষ, ‘(২০১৭): ইকলজিক্যাল ইকনমিকস: সাসটেনেবিলিটি, মার্কেটস অ্যান্ড গ্লোবাল চেঞ্জ’, মুখোপাধ্যায়, পি (প্রমুখ) সম্পাদিত, গ্লোবাল চেঞ্জ, ইকোসিস্টেমস, সাসটেনেবিলিটি, (নয়াদিল্লি: সেজ)

[১১] ডেনিস মিডোজ, দনেল্লা মিডোজ, জোরগ্যান র‍্যানডারস এবং উইলিয়াম বেহরেনস থ্রি, ‘আ রিপোর্ট ফর দ্য ক্লাব অব রোমস প্রজেক্ট অন দ্য প্রেডিকামেন্ট অব ম্যানকাইন্ড’, নিউ ইয়র্ক: ইউনিভার্স বুকস, ১৯৭২

[১২] মোহন মুনাসিংঘে, ‘অ্যাড্রেসিং সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ টুগেদার ইউজিং সাসটেইনোমিকস’, ওয়ারস ক্লাইমেট চেঞ্জ ২ (১) (২০১০): ৭-১৮

[১৩] জেসন হিকল, ‘লেস ইজ মোর: হাউ ডিগ্রোথ উইল সেভ দ্য ওয়ার্ল্ড’ (নিউইয়র্ক: পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস, ২০২০)

[১৪] নীলাঞ্জন ঘোষ, ‘ইজ ইনক্রিজিং ওয়েলথ ইনিকোয়ালিটি কামিং ইন দ্য ওয়ে অফ ইকনমিক গ্রোথ ইন ইন্ডিয়া?’

[১৫] ডিপার্টমেন্ট অব স্কুল এডুকেশন অ্যান্ড লিটারেসি, মিনিস্ট্রি অফ এডুকেশন, গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া, ‘অ্যাবাউট সমগ্র শিক্ষা’

[১৬] নীলাঞ্জন ঘোষ, ‘ইজ ইনক্রিজিং ওয়েলথ ইনিকোয়ালিটি কামিং ইন দ্য ওয়ে অফ ইকনমিক গ্রোথ ইন ইন্ডিয়া?’

মতামত লেখকের নিজস্ব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Mona

Mona

Mona is a Junior Fellow with the Health Initiative at Observer Research Foundation’s Delhi office. Her research expertise and interests lie broadly at the intersection ...

Read More +
Oommen C. Kurian

Oommen C. Kurian

Oommen C. Kurian is Senior Fellow and Head of Health Initiative at ORF. He studies Indias health sector reforms within the broad context of the ...

Read More +
Nilanjan Ghosh

Nilanjan Ghosh

Dr. Nilanjan Ghosh is a Director at the Observer Research Foundation (ORF), India. In that capacity, he heads two centres at the Foundation, namely, the ...

Read More +
Soumya Bhowmick

Soumya Bhowmick

Soumya Bhowmick is an Associate Fellow at the Centre for New Economic Diplomacy at the Observer Research Foundation. His research focuses on sustainable development and ...

Read More +
Shoba Suri

Shoba Suri

Dr. Shoba Suri is a Senior Fellow with ORFs Health Initiative. Shoba is a nutritionist with experience in community and clinical research. She has worked on nutrition, ...

Read More +
Malancha Chakrabarty

Malancha Chakrabarty

Dr Malancha Chakrabarty is Senior Fellow and Deputy Director (Research) at the Observer Research Foundation where she coordinates the research centre Centre for New Economic ...

Read More +
Sunaina Kumar

Sunaina Kumar

Sunaina Kumar is a Senior Fellow at ORF and Executive Director at Think20 India Secretariat. At ORF, she works with the Centre for New Economic ...

Read More +
Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar is a Junior Fellow with the Sustainable Development and Inclusive Growth Programme, Centre for New Economic Diplomacy at Observer Research Foundation. Her research ...

Read More +
Basu Chandola

Basu Chandola

Basu Chandola is an Associate Fellow. His areas of research include competition law, interface of intellectual property rights and competition law, and tech policy. Basu has ...

Read More +
Anirban Sarma

Anirban Sarma

Anirban Sarma is Deputy Director of ORF Kolkata and a Senior Fellow at ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. He is also Chair of the ...

Read More +
Aparna Roy

Aparna Roy

Aparna Roy is a Fellow and Lead Climate Change and Energy at the Centre for New Economic Diplomacy (CNED). Aparna's primary research focus is on ...

Read More +
Sayanangshu Modak

Sayanangshu Modak

Sayanangshu Modak was a Junior Fellow at ORFs Kolkata centre. He works on the broad themes of transboundary water governance hydro-diplomacy and flood-risk management.

Read More +