Author : Niranjan Sahoo

Expert Speak India Matters
Published on Feb 19, 2022 Updated 3 Days ago

সিএসএস–এর বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে এর পুনর্গঠন প্রয়োজন।

বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোর জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প কেন জরুরি ভিত্তিতে ঢেলে সাজানো দরকার?
বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোর জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প কেন জরুরি ভিত্তিতে ঢেলে সাজানো দরকার?

ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে এন ভি রামানা ভারতের দুর্বল বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য ধর্মযুদ্ধে নেমেছেন। বিচারপতি রামানা নিম্ন বিচারবিভাগীয় (জেলা আদালত) পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। তাঁর প্রধান যুক্তি হল, কেন্দ্রের আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি সত্ত্বেও জেলা ও অধস্তন বিচারবিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সেন্ট্রালি স্পনসরড স্কিম (সিএসএস) প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে এটাই বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে যে কেন বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তৈরি একটি সরল ও প্রধান প্রকল্প সুফল দিতে ব্যর্থ হল।

প্রকল্পের যৌক্তিকতা

জেলা ও অধস্তন বিচার বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সেন্ট্রালি স্পনসরড স্কিম (সিএসএস) কাজ করছে ১৯৯৩–৯৪ সাল থেকে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি ১৯৯১ সালে ভারতের অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। আইন ও বিচার মন্ত্রক পরিকল্পিত ও পরিচালিত এই প্রকল্পটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে আদালত কক্ষ নির্মাণ এবং জেলা ও অধস্তন আদালতের বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তা ও বিচারকদের বাসস্থান তৈরির জন্য কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে পদ্ধতিটি অনুসৃত হচ্ছে তা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ৬০:৪০ অনুপাতে বিভক্ত। উত্তর-পূর্ব ও হিমালয়ের রাজ্যগুলির জন্য অর্থায়নের কাঠামোটি ৯০:১০ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রই ১০০ শতাংশ দেয়।

আইন ও বিচার মন্ত্রক পরিকল্পিত ও পরিচালিত এই প্রকল্পটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে আদালত কক্ষ নির্মাণ এবং জেলা ও অধস্তন আদালতের বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তা ও বিচারকদের বাসস্থান তৈরির জন্য কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে।

১৯৯৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে কেন্দ্র ৭,৪৬০ কোটি টাকা দিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৫,৩৫৭ কোটি টাকার আর্থিক দায়ভার সহ প্রকল্পটিকে আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তহবিলের উল্লেখযোগ্য প্রাপ্যতা সত্ত্বেও জেলা পর্যায়ে পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি এখনও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। প্রধান বিচারপতি রামানা সম্প্রতি এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন যে বেশিরভাগ জেলা আদালত এখনও আদালত–কক্ষের ঘাটতির সমস্যায় ভুগছে। বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের অনুমোদিত শক্তি বর্তমানে ২৪,৯৯১, কিন্তু উপলব্ধ আদালত কক্ষের সংখ্যা এখন ২০,১১৫। আইনজীবীদের সভাকক্ষ, মহিলাদের টয়লেট ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততই ভাল।

অনিয়মিত অর্থায়ন

যদিও গত কয়েক বছর ধরে টাকার বরাদ্দ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি কিন্তু অনিয়মিত অর্থায়নের জালে জড়িয়ে গেছে। ১৯৯৩-৯৪ থেকে ১৯৯৬-৯৭ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ছিল সামান্য, ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ১৮০ কোটি (অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অধীনে)। যদিও পরবর্তী সময়ে তা কিছুটা বেড়েছিল, তবুও ২০১১ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য মাত্র ১,২৪৫ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ করা হয়েছিল। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বার্ষিক তহবিল ছিল গড়ে ৬৯.১৮ কোটি টাকা। এর ফলে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন–পর্বটি ছিল ধীরগতিসম্পন্ন৷ তহবিলের প্রবাহের ধারা লক্ষ্য করে দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি রিপোর্টে বলা হয়: ‘‌‘‌এখনও পর্যন্ত বিচারবিভাগের প্রয়োজনের তুলনায় সিএসএস-এর আওতায় বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল এবং অ–সমানুপাতিক। বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য বলা যায়, একাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময় মাত্র ৭০১.০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গড়ে দাঁড়ায় ৩৫টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রত্যেকটির জন্য পাঁচ বছরে ২০ কোটি টাকার মতো। অধস্তন আদালতের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর একটি নতুন মূল্যায়ন থেকে জানা গিয়েছে যে ৭,৩৪৬ কোটি টাকার তহবিলের প্রয়োজন ছিল।’‌’‌

২০১১-১২ সালে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) সরকারের সময় এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দের যথেষ্ট বৃদ্ধি ঘটে। তহবিল বাড়িয়ে ৫৯৫.৭৪ কোটি টাকা করা হয়। ২০১১ থেকে শুরু হওয়া দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোর জন্য বাজেট বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে এই প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া টাকা দাঁড়িয়েছে বছরে গড়ে প্রায় ৬৯৩ কোটি৷ বিজেপি–র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) সরকারের সম্প্রতি ৯,০০০ কোটি টাকা (রাজ্যগুলির ৪০ শতাংশ অবদান সহ) ঢালার ঘটনা প্রয়োজনীয় তহবিল তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে, যা বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এই বিষয়টি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে কেন্দ্রীয় তহবিল এখন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলেও রাজ্যগুলি তার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে না। বিভিন্ন কারণে বেশিরভাগ রাজ্যই কেন্দ্রীয় প্রকল্পটির বাস্তবায়নের জন্য তাদের ৪০ শতাংশ অবদান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিজেপি–র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) সরকারের সাম্প্রতিক ৯,০০০ কোটি টাকা (রাজ্যগুলির ৪০ শতাংশ অবদান সহ) ঢালার ঘটনা প্রয়োজনীয় তহবিল তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে, যা বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য অপরিহার্য।

মালিকানার অভাব

তবে বিচারবিভাগীয় পরিকাঠামো নির্মাণে শম্বুকগতির জন্য অর্থই একমাত্র বাধা নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত এক দশকে পরের পর সরকারের কাছ থেকে ভাল পরিমাণে টাকা পাওয়া গেছে। আসল চ্যালেঞ্জ হল রাজ্যগুলির সার্বিক উৎসাহের অভাব, যা বিচারবিভাগীয় প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের শ্লথ ব্যবহারে ব্যাপক অবদান রেখেছে। প্রথমত, রাজ্যগুলি নিয়মিত ভাবে তাদের অংশের টাকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দকৃত তহবিল হয় খরচ হয় না, অথবা তামাদি হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, রাজ্যগুলিকে বিচারবিভাগীয় প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দ টাকা তাদের অগ্রাধিকারের অন্য ক্ষেত্রগুলিতে সরিয়ে নিতে দেখা যায়৷ তৃতীয়ত, রাজ্যগুলির দিক থেকে আসা সবচেয়ে বড় বাধা হল একাধিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। বিধি রিপোর্টে জেলা আদালতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অর্থ, আইন, স্বরাষ্ট্র, জেলা কালেক্টর ও পূর্ত বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে দুর্বল সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্ষেপে, প্রায় তিন দশকের অস্তিত্ব সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি তার বিবৃত উদ্দেশ্যগুলি পূরণ করার ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছে, কারণ সংশ্লিষ্ট রাজ্যসমূহ এই কাজগুলিকে তেমন অগ্রাধিকার দিচ্ছে না৷

স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অভাব

প্রকল্পটির ক্ষেত্রে যা একেবারেই সহায়ক হচ্ছে না তা হল স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার উপর এই প্রকল্পে গুরুত্বের অভাব। প্রকল্পটি ১৯৯৩ সাল থেকে চললেও এর অধীনে অর্থের ব্যবহার নিরীক্ষণ করার জন্য প্রকাশ্য ক্ষেত্রে খুব কমই তথ্য পাওয়া যায়। বিধি-র একটি পর্যালোচনা অনুসারে, এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে কতগুলি আদালত কক্ষ তৈরি করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনও তথ্য নেই। অবশ্যই এই প্রকল্পের মধ্যেই নজর রাখা ও ভারসাম্যের একটি ব্যবস্থা নিহিত রয়েছে, আর তা হল জেলা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে মনিটরিং কমিটি। কিন্তু এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার জন্য প্রকাশ্য পর্যায়ে তেমন কোনও তথ্যই দেওয়া হয়নি। কয়েক দশক পরে বিচার বিভাগ একটি এজেন্সিকে প্রকল্পটির মূল্যায়ন করার জন্য নিযুক্ত করলেও তা মূলত তার নিজের ত্রুটিগুলি দেখার চেয়ে রাজ্যগুলিকে দোষারোপ করে চলে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিভিন্ন রাজ্যকে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, কারণ কতগুলি রাজ্য কেন অন্যদের চেয়ে বেশি টাকা পায় তার কোনও ব্যাখ্যা নেই।

এই প্রকল্পের মধ্যেই নজর রাখা ও ভারসাম্যের একটি ব্যবস্থা নিহিত রয়েছে, আর তা হল জেলা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে মনিটরিং কমিটি। কিন্তু এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার জন্য প্রকাশ্য পর্যায়ে তেমন কোনও তথ্যই দেওয়া হয়নি।

উপসংহার

সেই ১৯৯৩ সালে কেন্দ্রের শুধু বিচারবিভাগের পরিকাঠামোগত প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য একটি প্রধান প্রকল্প তৈরির ঘটনাটি ছিল একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ। ভারতের অর্থনীতি প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ন্যায়বিচার ব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপের মোকাবিলা করাই ছিল এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। কিন্তু এই বিচারবিভাগীয় প্রকল্পটিরও পরিণতি হয়েছে বেশিরভাগ সিএসএস–এর মতোই, আর তার কারণ মূলত পরিকল্পনার ত্রুটি, তহবিলের অনিয়মিত প্রবাহ, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাব, রাজ্য পর্যায়ে দায়িত্বভার না–নেওয়া, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অভাব, এবং ফলাফলের দিকে অপর্যাপ্ত মনোযোগ। এই বিষয়টি আবার বলা প্রয়োজন যে নিম্ন আদালতে জমে থাকা মামলার ক্রমবর্ধমান বোঝা কমাতে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ নাগরিকের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের ন্যায়বিচার পরিস্থিতির উন্নতিতে এর প্রাসঙ্গিকতা সঠিক ভাবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি রামানা কাঠামোগত ত্রুটিগুলি দূর করার দিকে ক্রমাগত দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। এর জন্য একটি বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক বাহক হিসেবে তিনি ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কর্পোরেশন (এনজেআইসি)–এর কথাও বলেছেন। এই বিষয়টি অবশ্য বিতর্কিত, কারণ এতে রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার খর্ব হবে। তবে বিচার বিভাগ যা করতে পারে তা হল জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পের নকশাটি পুনর্বিবেচনা করা (রাজ্যের উপর আর্থিক বোঝা হ্রাস সহ), এবং দৈনন্দিন ভিত্তিতে এর প্রয়োগের ব্যবস্থা করা। শুধু আরও টাকা ঢাললে তাতে খুব কিছু অগ্রগতি হবে না।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Niranjan Sahoo

Niranjan Sahoo

Niranjan Sahoo, PhD, is a Senior Fellow with ORF’s Governance and Politics Initiative. With years of expertise in governance and public policy, he now anchors ...

Read More +