Expert Speak India Matters
Published on Feb 19, 2022 Updated 28 Days ago

যে হেতু কেন্দ্রীয় বাজেট পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য উন্নয়নের পথ নির্দেশ করেছে, তাই উপভোগের চাহিদা কমে যাওয়া এখনও উদ্বেগের বিষয়।

ভারতের ‘‌অমৃত কাল’‌: স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য বাজেট ২০২২ এর দৃষ্টিভঙ্গি

Source Image: indicpeace — Flickr/CC BY-NC-ND 2.0

ভারতের ‘‌অমৃত কাল’‌: স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য বাজেট ২০২২ এর দৃষ্টিভঙ্গি

এই নিবন্ধটি ‘‌বাজেট ২০২২: পরিসংখ্যান ও তদুপরি’‌ সিরিজের অংশ।


২০২১-২২–এর ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের জন্য ৮-৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার অনুমান করেছে, যা ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড–এর ৯ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির হারের আশাবাদী ভবিষ্যদ্বাণীর তুলনায় যথেষ্ট কম৷ এর পরেও আবার সরকার বলেছে যে এই বৃদ্ধির হার কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ অনুমানের উপর নির্ভরশীল, যেমন আর কোনও উল্লেখযোগ্য অতিমারিজনিত অর্থনৈতিক ব্যাঘাত আসবে না, ভাল বর্ষা হবে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নগদের পরিমাণ কমানোর ব্যবস্থা করা হবে, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে, এবং বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সার্বিক পরিবর্তন ঘটবে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষের জন্য যা অনুমান করা হয়েছে, তা অবশ্য জাতীয় আয়ের (প্রকৃত জিডিপির পরিপ্রেক্ষিতে) প্রাক-অতিমারি স্তরে পৌঁছে যাওয়ার ইঙ্গিতবাহী। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২ ভারতীয় অর্থনীতির পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য উন্নয়নের পথনির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছে, আর এই সময়টিকে বর্ণনা করা হয়েছে ভারতের ‘‌অমৃত কাল’‌ হিসেবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শক্তির রূপান্তর ও জলবায়ু সক্রিয়তা, এবং ব্যক্তিগত ও সরকারি বিনিয়োগ, এই চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর স্থাপিত এই বছরের বাজেট সাসটেনেব্‌ল ডেভলপমেন্ট অ্যাজেন্ডা ২০৩০–এর প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে, যা প্রাথমিক ভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দ্বারা চালিত হবে৷

এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২ ভারতীয় অর্থনীতির পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য উন্নয়নের পথনির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছে, আর এই সময়টিকে বর্ণনা করা হয়েছে ভারতের ‘অমৃত কাল’‌ হিসেবে।

ভারত@‌১০০–র জন্য একটি সামগ্রিক কর্মসূচি

২০২২ সালের বাজেটের ভূমিকায় সরকারের কিছু বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে পিএম গতিশক্তির মতো বৃহত্তর পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি, লজিস্টিকস দক্ষতা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের কর্মসূচিগুলির উপর আরও জোর দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় জাতীয় মাস্টার প্ল্যানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পাইপলাইন–এর অধীনে বৃদ্ধির সাতটি চালিকাশক্তিকেই সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি ২০২২-২৩ সালের মধ্যে ব্লকচেন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত লেনদেনের খরচ কমাতে ও কার্যকারিতা বাড়াতে একটি ‘ডিজিটাল রুপি’ (‌সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি বা সিবিডিসি) প্রবর্তনের অভিপ্রায় ঘোষণা করেছে।

বাজেট নথিতে গ্রামীণ স্টার্টআপগুলির অর্থায়নের জন্য সহ-বিনিয়োগ মডেল ব্যবহার করে কৃষিক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কথাও রয়েছে। আর যে সব বিষয় আছে তা হল টিয়ার ২ ও ৩ শহরের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখে নগর উন্নয়ন, ঋণের সুবিধার প্রসার ও দক্ষতা বিকাশ নিশ্চিত করতে উদ্যম, ই-শ্রম ইত্যাদি প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলিকে সংযুক্ত করা এবং বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর দৃষ্টি রেখে ডিজিটাল অর্থনীতির সাহায্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সর্বজনীন করার কথা৷ সৌর পিভি মডিউল স্থাপনে উৎসাহদান, কার্বন–নিরপেক্ষ অর্থনীতিতে উত্তরণ ও চক্র–অর্থনীতিতে নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করার মধ্যে দিয়ে জলবায়ু সক্রিয়তা ও শক্তির রূপান্তরের প্রচেষ্টা নিশ্চিত করার জন্যও বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় জাতীয় মাস্টার প্ল্যানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পাইপলাইন–এর অধীনে বৃদ্ধির সাতটি চালিকাশক্তিকেই সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

যদিও এগুলি সবই স্বাগত পদক্ষেপ, সরকারকে কিন্তু অন্তর্নিহিত ট্রেড-অফ ও চ্যালেঞ্জগুলির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাবধানতার সঙ্গে চলতে হবে। এছাড়াও যে প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া প্রয়োজন তা হল, আমরা কি অতিমারির অর্থনৈতিক সংকট থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পেরেছি? যদি তা না হয়, নতুন পদক্ষেপগুলি কি এই ক্রমাগত সমস্যাগুলির মুখে পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচি কার্যকর ভাবে চালিয়ে যেতে পারবে? এমন কোনও মিসিং লিঙ্ক আছে যা আরও অগ্রসর হওয়ার পথে সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে?

নড়বড়ে উপভোগ চাহিদা: প্রাকৃতিক প্রাণশক্তি জাগিয়ে তোলা

বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সঙ্কোচন থেকে ভারতীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। কিন্তু শুধু কোভিড–১৯ অতিমারিকে এই মন্দার জন্য দায়ী করা অনুচিত হবে। ভারতের প্রাক-অতিমারি বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৭ শতাংশ, যা ২০১৬-১৭–র ৮.২ শতাংশ হারের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কম। অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, দেশে ব্যক্তিগত চূড়ান্ত উপভোগ–চাহিদা বৃদ্ধির হারের ক্রমশ হ্রাস অর্থনৈতিক মন্দার পিছনের মূল চালিকা শক্তি। আরবিআই–এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, ব্যক্তিগত চূড়ান্ত উপভোগজনিত ব্যয় (পিএফসিই)‌ ২০২১–২২ সালে ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর তার মূল কারণ হল বাজারের বকেয়া চাহিদা পূরণ। তবে তা এখনও প্রাক-অতিমারি পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি। বাজারের অপ্রতুল চাহিদা আবার ব্যবসায়িক আয় ও জনসাধারণের কর্মসংস্থানকে সরাসরি প্রভাবিত করে। ফলে নিম্ন-আয়ের স্তর ও বাজারের চাহিদার আরও হ্রাসের মাধ্যমে তা সংকট আরও বাড়িয়ে তোলে।

আগের বাজেট এই চাহিদা–সঙ্কট প্রশমনের জন্য সরাসরি আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারত। পরিবর্তে, তা পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবধান পূরণ করার দিকে মনোনিবেশ করেছিল, এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রের গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ বিশ্বজুড়ে সরকারগুলি ঐতিহাসিক ভাবে মন্দা ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার লক্ষ্যে এই দুটি ক্ষেত্রকেই বেছে নিয়েছে। ২০২১–এর কেন্দ্রীয় বাজেট ছিল মূলত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উন্নতির জন্য উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি , যাতে অধিক শ্রম-নিবিড় কৃষিক্ষেত্রের পরিবর্তে শিল্পক্ষেত্রের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছিল। আজ ভারতীয় অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, কারণ অর্থনীতিকে এক সঙ্গে আপেক্ষিক অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

আরবিআই–এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, ব্যক্তিগত চূড়ান্ত উপভোগজনিত ব্যয় (পিএফসিই)‌ ২০২১–২২ সালে ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর তার মূল কারণ হল বাজারের বকেয়া চাহিদা পূরণ। তবে তা এখনও প্রাক-অতিমারি পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি।

কৃষি ও পরিকাঠামোর মতো কর্মসংস্থান-নিবিড় ক্ষেত্রে ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগের দ্বারা চালিত হয়ে ২০২২-২৩ সালে ব্যক্তিগত উপভোগের চাহিদা বৃদ্ধির হার ৭.২ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এছাড়াও, খরচযোগ্য আয়ের স্তর বাড়াতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২২ কেন্দ্রীয় বাজেট বেসরকারি বিনিয়োগে বাণিজ্যিক সংস্থা ও সমবায়কে উৎসাহিত করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রত্যক্ষ কর ছাড় দিয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পিতামাতার জন্য নির্দিষ্ট কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। সমবায়ের জন্য কর কমানোর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে: সমবায় সমিতির বিকল্প ন্যূনতম করের হার ১৮.‌৫ শতাংশের থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী ‘‌আত্মনির্ভর ভারত’‌ রূপকল্পের বাস্তবায়নে প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভস (পিএলআই) প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বীকার করে প্রকল্পটির সাফল্যের প্রশংসা করেছেন, এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লক্ষ নতুন কাজের ব্যবস্থা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্পে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করার জন্য ২০০০ সালে এমএসএমই মন্ত্রক ও সিডবি দ্বারা যৌথ ভাবে প্রতিষ্ঠিত ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড ট্রাস্ট ফর মাইক্রো অ্যান্ড স্মল এন্টারপ্রাইজেস (সিজিটিএমএসই), এখন ঢেলে সাজা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘‌অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ভারতীয় মুদ্রায় অতিরিক্ত ২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণদানের ব্যবস্থা করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসারিত করার’‌ জন্য তহবিলের কলেবর বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

২০২২ কেন্দ্রীয় বাজেট খরচযোগ্য আয়ের স্তর বাড়াতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগে বাণিজ্যিক সংস্থা ও সমবায়কে উৎসাহিত করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রত্যক্ষ কর ছাড় দিয়েছে।

অন্যদিকে, মনরেগা-র জন্য বাজেট বরাদ্দ আগের বছরের ৯৮,০০০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৭৩,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও, ২০২১-২২ অর্থবর্ষের জন্য আয়কর স্তরগুলিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। একমাত্র স্বস্তি হল যে করদাতারা আয় ঘোষণার পর দু’‌বছরের মধ্যে তাঁদের আপডেট করা আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) ফাইল করতে পারবেন। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে যেখানে পৌঁছেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের বৃদ্ধি ব্যাপক ভাবে প্রত্যাশিত থাকলেও তা করা হয়নি।

এই ব্যবস্থাগুলি কি যথেষ্ট?

বাজেটে মূলধনী ব্যয়ের সম্ভাব্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধু তা দিয়ে চাহিদাকে উদ্দীপিত করা যাবে না। পিএলআই প্রকল্প ও পরিমার্জিত সিজিটিএমএসই সরবরাহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট হস্তক্ষেপ। তবে ঘোষণাগুলি স্বাগত হলেও এগুলি কী ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে নিয়ে যাবে সে সম্পর্কে এখনও কোনও স্পষ্টতা বা নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য এমএসএমই-র আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথ প্রশস্ত করা প্রয়োজন, এবং সেই কারণে সমবায় সোসাইটির জন্য করছাড় সঠিক লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ।

তবে বাজারের চাহিদা বাড়ানোর জন্য এই ব্যবস্থাগুলির পাশাপাশি আরও প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। অতিমারির কারণে যে হেতু বড় ধরনের চাকরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তাই সবচেয়ে অরক্ষিত মানুষ বর্তমানে পণ্য এবং পরিষেবাগুলি পাওয়ার জন্য তার সীমিত সঞ্চয় নিঃশেষ করছে। ফলে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও উপভোগ চাহিদা ধীরগতিতে বাড়ছে। এই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরির কর্মসূচি তার বড় গুণক প্রভাবের কারণে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে। এমজিএনরেগা–র বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শহরাঞ্চলে এর সম্প্রসারণ নিশ্চিত ভাবেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারত।

দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য এমএসএমই-র আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথ প্রশস্ত করা প্রয়োজন, এবং সেই কারণে সমবায় সোসাইটির জন্য করছাড় সঠিক লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ।

এছাড়াও, মধ্য ও নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠীর জন্য কর কমালে তাদের খরচযোগ্য আয়ের প্রত্যক্ষ বৃদ্ধি হতে পারত। সবচেয়ে ধনীদের তুলনায় এই গোষ্ঠীগুলিই স্বেচ্ছায় আয়ের অনেক বড় অংশ উপভোগের জন্য ব্যয় করে। ব্যবসায়িক মনোভাব চাঙ্গা করার জন্য, বিশেষ করে এমএসএমই ক্ষেত্রে, সরকারের প্রচেষ্টায় সাফল্য পেতে হলে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমএসএমই ক্ষেত্রের পণ্যগুলির জন্য বাজারের চাহিদা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় এই গোষ্ঠীগুলির আয় বৃদ্ধি করা।

সুতরাং, পূর্বে আলোচিত চারটি স্তম্ভের কথা বিবেচনা করে বলা যায়, সুফল কেবল দীর্ঘমেয়াদেই পাওয়া যাবে। কিন্তু বর্তমান স্থবিরতা–মূল্যবৃদ্ধি (‌স্ট্যাগফ্লেশন)‌ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে, এবং নতুন বা নবপর্যায়ে উন্নীত প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে, ব্যক্তিগত চূড়ান্ত উপভোগ পর্যাপ্ত ভাবে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, এবং তার জন্য প্রয়োজন জোরদার স্বল্প-থেকে-মাঝারি মেয়াদের ব্যবস্থা গ্রহণ। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল এমজিএনরেগার মতো সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রকল্পের মাধ্যমে বা মধ্যবিত্তদের জন্য আয়কর ছাড় দিয়ে জনগণের হাতে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।


নিবন্ধকারেরা এনএলএসআইইউ–এর ডেবোরা সরেস–কে এই নিবন্ধে তাঁর গবেষণা ইনপুটের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Soumya Bhowmick

Soumya Bhowmick

Soumya Bhowmick is an Associate Fellow at the Centre for New Economic Diplomacy at the Observer Research Foundation. His research focuses on sustainable development and ...

Read More +
Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar is a Junior Fellow with the Sustainable Development and Inclusive Growth Programme, Centre for New Economic Diplomacy at Observer Research Foundation. Her research ...

Read More +