Author : Renita Dsouza

Expert Speak India Matters
Published on Feb 22, 2022 Updated 11 Hours ago

২০২২ সালের বাজেটে অর্থনীতির সামনে উপস্থিত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় অর্থ বরাদ্দ করা হলেও বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নই তার সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২-২৩: শুধুই ফাঁকা প্রতিশ্রুতি না কি সারবত্তাও আছে?

Source Image: Sudipto Sarkar — Flickr/CC BY-NC-ND 2.0

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২-২৩: শুধুই ফাঁকা প্রতিশ্রুতি না কি সারবত্তাও আছে?

এই প্রতিবেদনটি বাজেট ২০২২: পরিসংখ্যান এবং তদুপরি সিরিজের অন্তর্গত।


বৃদ্ধির বিকাশকে সূচিত করে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট দালাল স্ট্রিটে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে এবং বাজেট ঘোষণা হওয়ার পর স্টক মার্কেট দিনের শেষে একটি উচ্চ অঙ্কে ব্যবসা শেষ করেছে। মূলধনী ব্যয় ৩৫% বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ছিল বাজেটের নির্ণায়ক বৈশিষ্ট্য। অতিমারির কবল থেকে পুনরুদ্ধারের পন্থা বৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দাবি করেছিল এবং এই বাজেট সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা যায়। বাজেটের আর একটি মুখ্য বৈশিষ্ট্য হল ডিজিটাইজেশন এবং ব্যবসার পদ্ধতি সহজতর করে তোলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া। এই নিবন্ধটির উদ্দেশ্য হল বাজেটের জটিলতার গভীরে প্রবেশ করা যাতে কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, কী ভাবে প্রতিশ্রুতিগুলি রক্ষা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলি ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান চাহিদাগুলি পূরণ করে কি না, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা।

বর্ধিত মূলধনী ব্যয়ের মাধ্যমে ভারতে পরিকাঠামোগত রূপান্তরের ধীরগতির সমস্যাটির সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্তরে পরিকাঠামো গঠনে অংশগ্রহণকে আরও বেশি উৎসাহিত করে একটি মধ্য উপার্জনের ফাঁদে পড়ার স্পষ্ট ঝুঁকির মোকাবিলা করার কথা ভাবা হচ্ছে।

বাজেট দ্বারা নির্বাচিত বৃদ্ধির পথটি হল মূলধনী ব্যয় বাড়ানো হলেও রাজস্ব ব্যয় খুব বেশি না বাড়ানো। এই বর্ধিত মূলধনী ব্যয়ের মাধ্যমে ভারতে পরিকাঠামোগত রূপান্তরের ধীরগতির সমস্যাটির সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্তরে পরিকাঠামো গঠনে অংশগ্রহণকে আরও বেশি উৎসাহিত করে একটি মধ্য উপার্জনের ফাঁদে পড়ার স্পষ্ট ঝুঁকির মোকাবিলা করার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী ক্যাপেক্সে ৩৫% বৃদ্ধি সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, তবে খতিয়ে দেখলে এর অন্ধকার দিকটি স্পষ্ট হবে। প্রথমত ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের বাজেট হিসেব (বি ই)-এর তুলনায় ক্যাপেক্সে ৩৫.৪% বৃদ্ধির কথা উঠে এসেছে। তবে যদি ২০২১-২২ অর্থবর্ষের সংশোধিত হিসেব (আর ই) এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের বি ই-র মধ্যে তুলনা করা হয়, তা হলে ক্যাপেক্সে বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪.৫%। দ্বিতীয়ত, যদি বাজেটের মাধ্যমে মোট খরচ এবং সরকারি উদ্যোগগুলির মোট সম্পদ-সহ সমগ্র ক্যাপেক্সের কথা বিবেচনা করা হয়, তা হলে দেখা যাবে বাজেটের মাধ্যমে ব্যয়ের পরিমাণ ২৪.৫% বাড়লেও সরকারি সংস্থাগুলির সম্পদের পরিমাণ কমেছে ৬.৬%। ফলে সমগ্র ক্যাপেক্সে বাস্তবিক বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০.৪ শতাংশ।

মূলধনী ব্যয় ধীর গতিতে একটি গুণক প্রভাবের সৃষ্টি করলেও রাজস্ব ব্যয় ভোগকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ চাহিদার জন্ম দেয়। যে হেতু ভারত একটি ভোগনির্ভর অর্থনীতি, রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লে তা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়৷ তা সত্ত্বেও চলতি বাজেটে রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধির হার ০.৯ শতাংশের মতোই নগণ্য। আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং ঋণের স্থায়িত্বের উদ্বেগ, যা আগামিদিনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান নেবে, এ হেন পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে। তবুও পদক্ষেপটি তখনই যুক্তিযুক্ত হয়ে উঠতে পারে, যদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিয়মিত মূলধন প্রবাহের আকারে এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত থেকে হওয়া লাভ সরাসরি চাহিদা থেকে উদ্ভূত বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতির পরিমাণকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং ঋণের স্থায়িত্বের উদ্বেগ, যা আগামিদিনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান নেবে, এ হেন পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে।

বাজেটে প্রত্যক্ষ কর ছাড় দেওয়ার কোনও বিধান দেওয়া হয়নি, যা ভোগ বৃদ্ধি করবে। ভারতীয় অর্থনীতিতে স্থবিরতার প্রবণতার পরিপ্রেক্ষিতে, বাজেট মধ্যবিত্তকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ধনীদের উপর কর আরোপ করতে পারত। কিন্তু বাজেটে তা করা হয়নি। ডিজিটাল সম্পদের উপরে কর আরোপ করার মাধ্যমে ধনীদের থেকে কিছু পরিমাণ আদায় করা হলেও, তা নিতান্তই সীমিত পদক্ষেপ। এই বাজেটে খুব সহজেই সম্পদ কর ফিরিয়ে আনা যেতে পারত অথবা অতি ধনীদের উপরে সারচার্জে পরিবর্তন ঘটিয়ে রাজস্বের ঘাটতি পূরণ করা যেত যা মধ্যবিত্তদের কর ছাড় দেওয়ার ফলে তৈরি হত। কেবল মাত্র অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে থাকাকালীনই এই সম্পদ কর বাজেটের একটি বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

সরকার লজিস্টিক উন্নতি, ডিজিটাইজেশন বাড়ানো এবং ব্যবসা করার সহজতর উপায় বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা উৎপাদনে ভৌত এবং মানব পুঁজির উৎপাদনশীল দক্ষতার উন্নতির মাধ্যমে কাঠামোগত রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করবে। এই ব্যবস্থাগুলি বাজেটে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মাফিক মূলধনী ব্যয়ের পরিপূরক হবে। তবুও বিদ্যুৎ খাতে প্রদত্ত বৃদ্ধি এবং মানব পুঁজি সঞ্চয়ের উপর অতিমারির নেতিবাচক প্রভাবের জন্য ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে হতাশা দেখা দিয়েছে। যদিও অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, দূষণহীন শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা হবে, কিন্তু স্মার্ট গ্রিড পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পরিকাঠামোর একটি সর্বাঙ্গীন পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয়গুলি এই বাজেটে রাখা হয়নি। অতিমারির ফলে হওয়া আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যাঘাত সমাজের দুর্বল অংশের শিশুদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে প্রভাবিত করেছে। এই কারণকেই ছাত্রছাত্রীদের স্থায়ী ভাবে স্কুল ড্রপ আউটের জন্য দায়ী করা যেতে পারে। এর ফলে সুযোগের বৈষম্য, বিশেষ করে লিঙ্গ বৈষম্য জোরদার হয়ে উঠেছে। এই ধরনের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের সমাধানগুলি মূলত প্রযুক্তিকেন্দ্রিক হলেও বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা এবং গুণমান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে অসম ভাবে প্রভাবিত মানুষদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন জোরদার হয়েছে।

গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জি এস টি) ছাড়াও কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক এবং পরিষেবা করের উপর আমাদের দেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে নির্ভরশীল।

ভারত ‘এক বাজার এক কর’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে — বাজেটে এমন দাবি করা হলেও তা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জি এস টি) ছাড়াও কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক এবং পরিষেবা করের উপর আমাদের দেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে নির্ভরশীল। বর্তমান বাজেটে জি এস টি পরোক্ষ করের ৫৯ শতাংশ জুড়ে থাকলেও, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক এবং পরিষেবা করের পরিমাণ ২৫%।

বাজেট বক্তৃতায় শুধু মেগাসিটিগুলিকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তাই নয়, টিয়ার টু এবং থ্রি শহরের উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। এটি আরও উল্লেখ করেছে যে, নগর পরিকল্পনা সহায়তা রাজ্যগুলিতেও প্রসারিত করা হবে। নগর উন্নয়নের উপর উল্লেখযোগ্য জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হলেও বাজেটে প্রকৃত বরাদ্দের পরিমাণ এই প্রতিশ্রুতিকে সমর্থন জোগায় না। ২০২১-২২-এর আর ই-র সঙ্গে ২০২২-২৩-এর বি ই-র তুলনা করলে দেখা যাবে, নগর উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের বৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ৩%। তার উপরে নগর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার নেপথ্যে থাকা নাগরিক পৌর প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক সশক্তিকরণে কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। রাজ্যগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিক পৌর প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকরী এবং আর্থিক স্বশাসন বৃদ্ধিতেও কোনও চেষ্টা করা হয়নি, যা ভাল নগর শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাজেটে বিরল জনসংখ্যা, সীমিত সংযোগ এবং পরিকাঠামো-সহ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই গ্রামগুলির জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা একটি স্বাগত পদক্ষেপ কারণ এটি আঞ্চলিক অনগ্রসরতার সমস্যা সমাধান করে এবং নগরায়নের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলিকে একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত তহবিল থেকে এই উদ্যোগগুলির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেওয়া হবে। ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সালের বি ই তুলনা করলে দেখা যায় যে, বরাদ্দের পরিমাণ ৬% বেড়েছে। অন্য দিকে ২০২১-২২-এর আর ই এবং ২০২২-২৩-এর বি ই-র পারস্পরিক তুলনায় দেখা যাচ্ছে বরাদ্দের পরিমাণ খুব সামান্য হলেও হ্রাস পেয়েছে, যার পরিমাণ ০.৩%। সর্বোপরি বিদ্যমান প্রকল্পগুলির সংযুক্তিকরণ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে শুধু মাত্র যদি তার লক্ষ্য হয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার সুনিশ্চিত করা। অন্যথায় এই ধরনের সংযুক্তিকরণ থেকে কোনও ক্রমবর্ধমান ফল পাওয়া যাবে না।

এই গ্রামগুলির জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা একটি স্বাগত পদক্ষেপ কারণ এটি আঞ্চলিক অনগ্রসরতার সমস্যা সমাধান করে এবং নগরায়নের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে।

কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নের প্রস্তাবগুলি স্থিতিশীল কৃষি ব্যবস্থা এবং পদ্ধতির উপর জোর দেওয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক হয়েছে। স্থিতিশীল কৃষি ব্যবস্থা এবং পদ্ধতিগুলি সাধারণত খরচ সাশ্রয়ী প্রাকৃতিক সমাধান এবং বৃত্তাকার অর্থনীতির মূল নীতিগুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং তা প্রযুক্তির উপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল নয়। এই স্থিতিশীল কৃষি ব্যবস্থা এবং পদ্ধতিগুলি অন্য বাধাগুলির মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করার জন্য পরিচিত। ভারতের কৃষক সম্প্রদায়ের ৮৭% মানুষই ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক চাষি হওয়ায়, স্থিতিশীল কৃষি ব্যবস্থা এবং পদ্ধতির পরিবর্তে কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করা প্রায় অর্থহীন। এই ধরনের পদ্ধতিতে বিনিয়োগের প্রয়োজন কম এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বাধাগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ নয়।

পরিশেষে বলা যায়, বাজেটে অর্থনীতির সামনে উপস্থিত মুখ্য প্রতিবন্ধকতাগুলির সমাধানের ধারণা তৈরি করা হলেও বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ এবং এই সমস্যাগুলি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তাবিত সমাধানগুলির প্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সর্বোপরি, এই বাজেটের সাফল্য লুকিয়ে আছে বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং তা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের মধ্যে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.