Author : Mannat Jaspal

Expert Speak India Matters
Published on Feb 11, 2022 Updated 15 Days ago

নিয়োগ, প্রবর্তন ও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে জলবায়ু-সম্পর্কিত বিষয়গুলিকে সংযুক্ত করা আবশ্যক।

কর্পোরেট শাসনে জলবায়ু
কর্পোরেট শাসনে জলবায়ু

এই লেখাটি একটি সিরিজের অংশ যার নাম ‘গভর্ন্যান্স প্রপোজিশনস অফ ২০২২’।


এখন বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির জন্য সম্ভাব্যতা ও প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিশ্বব্যাপী ঝুঁকির মধ্যে আছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রশমন ও তার সঙ্গে অভিযোজনের প্রশ্নে ব্যর্থতা, আবহাওয়াজনিত চরম ঘটনা, ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়গুলি। এই মতামত ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরাম গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট ২০১৯–এর। এই বিষয়ে ক্রমশ বেশি করে ঐকমত্য গড়ে উঠছে যে ব্যবসার নিত্যনৈমিত্তিক কাজের সঙ্গে জড়িত জলবায়ু-সম্পর্কিত ঝুঁকির নাটকীয় ভাবে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়ানোর এবং আর্থিক ব্যবস্থাকে দ্রুত ভেঙেচুরে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান জটিলতার কথা বিবেচনা করতে শুরু করেছে, এবং জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে প্রবল ঝুঁকির পাশাপাশি সুযোগের কথাও মাথায় রাখছে।

টিসিএফডি–র সুপারিশের ভিত্তিতে ওয়র্ল্ড ফেডারেশন অফ এক্সচেঞ্জেস তার পরিবেশগত, সামাজিক ও শাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) নির্দেশিকা ও মাপকাঠি সংশোধন করবে।

বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি যাতে জলবায়ু-সম্পর্কিত আর্থিক ঝুঁকি ও সুযোগগুলিকে আরও ভাল ভাবে সামলাতে পারে তার জন্য মান নির্ধারক সংগঠনগুলি নির্দেশিকা নীতি তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি বোর্ড প্রতিষ্ঠিত টাস্ক ফোর্স অন ক্লাইমেট-রিলেটেড ফিনান্সিয়াল ডিসক্লোজার্স (টিসিএফডি)–এর সুপারিশ। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিও স্থায়ী ভাবে টিকে থাকার উপযোগী কার্যপদ্ধতি গ্রহণ ও অভিযোজনের জন্য চাপ দিচ্ছে। টিসিএফডি–র সুপারিশের ভিত্তিতে ওয়র্ল্ড ফেডারেশন অফ এক্সচেঞ্জেস তার পরিবেশগত, সামাজিক ও শাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) নির্দেশিকা ও মাপকাঠি সংশোধন করবে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) আর্থিক বছর ২০২২ থেকে শীর্ষ ১,০০০ তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির (‌মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন অনুযায়ী)‌ বিশ্বব্যাপী কাঠামোর ভিত্তিতে বিজনেস রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং (বিআরএসবি)‌ বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে (বর্তমানে এটি একটি স্বেচ্ছাধীন অনুশীলন)।

যাই হোক, নীতিকে কাজে পরিণত করতে সংস্থাগুলোরই দায়িত্ব পরিচালন প্রক্রিয়ার মধ্যে কার্যকর জলবায়ু শাসনের কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে ঠিকঠাক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, জলবায়ু সম্পর্কিত স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ও সুযোগের মূল্যায়ন করা যায়, এবং তার পাশাপাশি জলবায়ু সূচক ও পরিমাপকগুলির সন্ধান, নিরীক্ষণ ও অগ্রগতি নথিভুক্ত করে রাখা যায়।

সংস্থাগুলির উচিত বোর্ড অফ ডিরেক্টরস–এর সদস্যদের ও ম্যানেজমেন্ট কর্মীদের জন্য জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া ও ইএসজি-প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।

শীর্ষ স্তরে সুর বেঁধে দিতে এবং শক্তসমর্থ ও স্থিতিশীল ব্যবস্থাপনার অনুশীলন নিচের তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বোর্ড অফ ডিরেক্টরস নির্দেশিত পথে কর্পোরেট পরিচালন।

ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংক্রান্ত প্রচার ও পরিবেশগত অংশীদারদের সক্রিয়তার আলোকে বলা যায়, বোর্ডগুলির ঠিক সময়ে ঠিক কাজ করার ব্যর্থতা অনেকেরই সর্বনাশ ডেকে আনে। একটি ধ্রুপদী উদাহরণ দেওয়া যাক। সান ফ্রান্সিসকোর একটি তহবিল ইঞ্জিন নং ওয়ান–এর এক্সনমোবিল সংস্থার মালিকানার মাত্র ০.০২ শতাংশের শেয়ার ছিল। এই ইঞ্জিন নং ওয়ান পরিচ্ছন্ন শক্তির বিষয়ে এক্সনমোবিল–এর বোর্ডের সম্মিলিত অভিজ্ঞতার সমালোচনা করে। পরবর্তীতে তারা সফল হয়েছে এক্সনমোবিলের বোর্ডে তিনজন পরিচালক নিয়োগ করতে, যাতে ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সংস্থাটিকে দূরে সরিয়ে আনা যায়। ঘরের কাছাকাছি, ভারতে শেয়ারহোল্ডারদের সক্রিয়তাও শক্তি অর্জন করছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্বারা চালিত হচ্ছে, যেমন মিউচুয়াল ফান্ড, পেনশন ফান্ড, বিমা সংস্থা এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী।

যদিও সংস্থাগুলির বোর্ড অফ ডিরেক্টরস একমত হতে শুরু করেছে যে কৌশলগত সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতিকে বাধা দিচ্ছে জলবায়ু জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং ডিরেক্টরদের মধ্যে আর্থিক দক্ষতার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের অপর্যাপ্ত অনুধাবন। এই ক্ষেত্রে যা আবশ্যক তা হল নিয়োগ, প্রবর্তন ও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে জলবায়ু-সম্পর্কিত বিষয়গুলিকে সংযুক্ত করা। সংস্থাগুলির উচিত বোর্ড অফ ডিরেক্টরস–এর সদস্যদের ও ম্যানেজমেন্ট কর্মীদের জন্য জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া ও ইএসজি-প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা। এক্সিকিউটিভ ও নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, উভয়ের জন্যই এখনকার ইনসেনটিভ কাঠামোর মধ্যে স্থায়িত্ব-সম্পর্কিত লক্ষ্যগুলিকে (সাসটেনেবিলিটি–রিলেটেড টার্গেটস)‌ সংযুক্ত করে নিলে তা লাভজনক হতে পারে।

এই কমিটির দায়িত্ব হবে একটি কর্পোরেট সাসটেনেবিলিটি কৌশল তৈরি করা, স্থায়িত্ব-সম্পর্কিত ঝুঁকি ও সুযোগগুলি চিহ্নিত করা, সেগুলির মূল্যায়ন করা ও সেই সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া, কম–কার্বন নির্গমনের পথে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা, বিজ্ঞানভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা, এবং ইএসজি মেট্রিক্স–এ কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট করা।

বোর্ড অফ ডিরেক্টরস–এর আরেকটি সমস্যা হল জলবায়ু-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য সময়ের অভাব, যা সাধারণত বোর্ডের এজেন্ডায় বিষয়ের আধিক্যের কারণে শুধু সামান্য উল্লেখ পায়। তাই সমস্যাটির পর্যাপ্ত তদারকি নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র সাসটেনিবিলিটি কমিটি তৈরি করা আইনগত ভাবে বাধ্যতামূলক করা উচিত। এখন ২০১৩-র কোম্পানি আইনের ১৩৫ ধারার অধীনে একটি নির্দিষ্ট সীমার উপরে চলে–যাওয়া সংস্থাগুলির জন্য একটি কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক৷ সম্ভবত এখন সময় এসেছে এই বিষয়টিকে আরও প্রসারিত করে একটি ব্যাপক ক্ষমতাসম্পন্ন সাসটেনেবিলিটি কমিটির মধ্যে সিএসআর-কে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার। এই কমিটির দায়িত্ব হবে একটি কর্পোরেট সাসটেনেবিলিটি কৌশল তৈরি করা, স্থায়িত্ব-সম্পর্কিত ঝুঁকি ও সুযোগগুলি চিহ্নিত করা, সেগুলির মূল্যায়ন করা ও সেই সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া, কম–কার্বন নির্গমনের পথে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা, বিজ্ঞানভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং ইএসজি মেট্রিক্স–এ কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট করা। কমিটিতে থাকা প্রয়োজন জলবায়ু সম্পর্কে অবহিত একজিকিউটিভ ও নন–একজিকিউটিভ সদস্যদের, যাঁরা অডিটরদের ও ম্যানেজমেন্টের কাছে কঠিন ও তীক্ষ্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারবেন। কমিটির সদস্যদের নিয়মিত ভাবে বোর্ডের কাছে রিপোর্ট করতে হবে এবং তাঁদের লক্ষ্যগুলির জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠবে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা। নতুন আর্থিক ও অ্যাকাউন্টিং মডেলের পাশাপাশি অংশীদারদের সক্রিয়তা সংস্থাগুলির স্থায়িত্ব–মান উন্নত করবে। সামগ্রিক কর্পোরেট গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে জলবায়ু শাসন যুক্ত করা হলে তা সংস্থাগুলির জন্য ভবিষ্যতে কর্মদক্ষতা ধরে রাখা ও সুনাম অর্জনের চাবিকাঠি হয়ে উঠবে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Mannat Jaspal

Mannat Jaspal

Mannat Jaspal is an Associate Fellow with the Geoeconomics Studies Programme at ORF. Mannat is deeply interested in exploring matters on sustainability and development – ...

Read More +