Author : Abhishek Mishra

Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 21, 2022 Updated 6 Days ago

ইউক্রেন থেকে রুশ সৈন্য প্রত্যাহারের দাবিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাবে মতদান করার ক্ষেত্রে আফ্রিকার দেশগুলির দ্ব্যর্থক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

উভয়সঙ্কট: রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে আফ্রিকার অবস্থান

Source Image: Can Pac Swire — Flickr/CC BY-NC 2.0

উভয়সঙ্কট: রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে আফ্রিকার অবস্থান

ইউক্রেনের উপরে রুশ আক্রমণের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন আফ্রিকার দেশগুলি অতিমারির প্রভাব থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য পথ হাতড়াচ্ছে। ভৌগোলিক ভাবে দূরে অবস্থিত এক অঞ্চলে যুদ্ধ চললেও তার একাধিক প্রভাব অনুভূত হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশেও। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়েই মহাদেশটির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার দরুন বর্তমান সঙ্কট আফ্রিকার অর্থনীতি এবং রাজনীতির উপরে অব্যবহিত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

আফ্রিকার নাগরিক, বিশেষত ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিক্যালের ছাত্রছাত্রীদের উপরে যুদ্ধের অব্যবহিত প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধকবলিত দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার চেষ্টা করার সময়ে তাঁদের সকলকে বর্ণবাদ এবং বৈষম্যের শিকার হতে হয়। ইউক্রেনে পড়তে আসা ৮০,০০০-এরও বেশি আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীর প্রায় এক চতুর্থাংশ (২০%) আসে আফ্রিকার দেশগুলি থেকে এবং এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসে মিশর, নাইজেরিয়া এবং মরক্কো থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গেছে যে, আফ্রিকার নাগরিকদের ভিড় থেকে পৃথক করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের ট্রেনে উঠতে বাধা দিচ্ছেন, যাতে ইউক্রেনের নাগরিকরা আগে জায়গা পেতে সমর্থ হন।

রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়েই আফ্রিকার দেশগুলিতে সয়াবিন, গম, যব এবং সানফ্লাওয়ার অয়েলের (সূর্যমুখীর তেল) প্রধান রফতানিকারীদের অন্যতম।

আফ্রিকার খাদ্য আমদানি এবং পর্যটন ক্ষেত্র দু’টিতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হবে। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়েই আফ্রিকার দেশগুলিতে সয়াবিন, গম, যব এবং সানফ্লাওয়ার অয়েলের (সূর্যমুখীর তেল) প্রধান রফতানিকারীদের অন্যতম। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির সময়েও আফ্রিকার দেশগুলি রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে ৬৯০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য আমদানি করে। এক প্রলম্বিত যুদ্ধ এই জোগানকে ব্যাহত করবে এবং তার ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে যা সমগ্র মহাদেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং দারিদ্র্যের বৃদ্ধি ঘটাবে

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক দিক থেকে আফ্রিকার দেশগুলি বর্তমানে উভয় সঙ্কটে পড়েছে। যখন এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, আফ্রিকার দেশগুলি দ্রুততা এবং স্পষ্টতার সঙ্গে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা করে এবং ইউক্রেনীয় মানুষজন ও তাঁদের স্বাধীনতার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে। রাষ্ট্রপুঞ্জে কেনিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মার্টিন কিমানির রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানোর অকুণ্ঠ বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার অব্যবহিত পরেই আফ্রিকান ইউনিয়ন (এ ইউ) এর নিন্দা করে এবং ইউ এন এস সি প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের তিন আফ্রিকান সদস্য (কেনিয়া, গ্যাবঁ এবং ঘানা) ভোট দেয়।

মোট ২৮টি আফ্রিকান দেশ রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাবের পক্ষে মতদান করে এবং নিঃশর্ত ভাবে রুশ সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এদের মধ্যে নাইজিরিয়া, ঘানা এবং মিশরের মতো বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা, মালি এবং জিম্বাবোয়ে-সহ ১৭টি আফ্রিকান দেশের একটি দল মতদানে বিরত থেকেছে। ইরিত্রেয়া মহাদেশের একমাত্র দেশ, যারা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভোট মহাদেশটিকে কার্যত দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে এবং একই সঙ্গে রাশিয়া ও পশ্চিমি শক্তিগুলির মধ্যে পক্ষ অবলম্বনকে কেন্দ্র করে দেশগুলির মধ্যে গভীর দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করেছে।

সূত্র: ডেভেলপমেন্ট রিইম্যাজিনড, মার্চ ৩, ২০২২

কীসের দ্বারা আফ্রিকার ভোটিং বিন্যাস ব্যাখ্যায়িত হয়?

মতদানের বিন্যাসে এই ধরনের বিভাজন এবং বেশ কিছু আফ্রিকান দেশ দ্বারা রুশ আগ্রাসনের সরাসরি নিন্দা করার অনিচ্ছার নেপথ্যে দু’টি প্রধান কারণ বর্তমান। প্রথমত, আফ্রিকার দেশগুলি সাবধানী পদক্ষেপ করেছে এবং নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে, যে হেতু তারা কোনও নির্দিষ্ট পক্ষ অবলম্বন করতে অথবা যে কোনও ধরনের প্রক্সি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। তারা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভারসাম্য এবং মহাদেশ-বহির্ভূত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অংশীদারদের মধ্যে বৈচিত্র বজায় রাখতে চায়। এর পাশাপাশি, আফ্রিকার দেশগুলি প্রধানত নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিকতাকে সমর্থন করে।

রাশিয়ার উপর জারি করা পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা আফ্রিকার অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলবে যা আফ্রিকার দেশগুলির সুযোগ এবং প্রতিবন্ধকতা… উভয়ের দরজাই খুলে দেবে।

দ্বিতীয়ত গত কয়েক বছরে আফ্রিকার নেতাদের সঙ্গে রাশিয়ার সৌহার্দ্য নিঃশব্দে বেড়েছে। রাশিয়া অবিচলিত ভাবে লিবিয়া, সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (সি এ আর), মোজাম্বিক, বুর্কিনা ফাসো এবং মালির মতো আফ্রিকার দেশগুলিতে ব্যাপক ইন্টেলিজেন্স এবং সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে। বিশেষ করে ওয়াগনর গ্রুপের রুশ ভাড়াটে সেনারা সিএআর এবং মালির দ্বন্দ্বের সঙ্গেও জড়িত ছিল। আফ্রিকার দেশগুলির ক্ষেত্রে বিদ্রোহী এবং জিহাদিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ রকমের নিঃশর্ত সামরিক এবং বস্তুগত সহায়তা উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। ইতিমধ্যে, সি এ আর-এর প্রেসিডেন্ট, ফস্তিন-আরচাঞ্জ তোয়াদেরা দনেৎস এবং লুহানস্ক আক্রমণের জন্য রাশিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে

পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে আফ্রিকার সুযোগ এবং প্রতিবন্ধকতা

সংঘাত প্রলম্বিত হওয়ার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং তাদের পশ্চিমি সহযোগী দেশগুলি একাধিক অসহযোগিতা এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধের আশ্রয় নিয়েছে। এগুলির মধ্যে বিশ্বব্যাপী লেনদেনের কেন্দ্রে থাকা সুইফট পেমেন্ট্স সিস্টেম থেকে রুশ ব্যাঙ্কগুলিকে বহিষ্কার, রুশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, পর্যটনের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি, কম্পিউটার চিপ, কম্পিউটার ও অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির পণ্য ব্যবহারে রাশিয়াকে বাধা দেওয়ার মতো পদক্ষেপগুলি উল্লেখযোগ্য। রুশ মুদ্রা রুবলের মূল্য ৩০%-৪০% পর্যন্ত পড়ে গিয়েছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমি দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র সমতুল্য করে মনে করেছেন।

রাশিয়ার উপর জারি করা পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা আফ্রিকার অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলবে যা আফ্রিকার দেশগুলির সুযোগ এবং প্রতিবন্ধকতা… উভয়ের দরজাই খুলে দেবে। জারি করা নিষেধাজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার সর্বাধিক প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্যের বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে তেল এবং গমের ক্ষেত্রে। রাশিয়া এবং ইউক্রেন মিলিত ভাবে বিশ্বব্যাপী গম রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী, যা আফ্রিকার মানুষের প্রধান খাদ্য। এই গমের বেশির ভাগই মিশরে আমদানি করা হয় এবং সেখান থেকে বাকি মহাদেশ জুড়ে তা সরবরাহ করা হয়। গম এবং অন্যান্য পণ্য যেমন অপরিশোধিত তেল এবং সার কৃষ্ণ সাগরের একাধিক বন্দর থেকে আফ্রিকায় জাহাজের মাধ্যমে পাঠানো হয়, যা পণ্য চলাচলের জন্য একটি প্রধান পথ। এর ফলে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলি অবরোধ এবং অব্যবহিত ভাবে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা নিয়ে কৃষ্ণ সাগর থেকে গম আমদানির উপর নির্ভরশীল অঞ্চল, যেমন ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া এবং সুদানের মতো আফ্রিকার দেশগুলি স্বভাবতই উদ্বিগ্ন হয়েছে।

যদিও আফ্রিকার দেশগুলির জন্য বেশ কিছু সুযোগ থাকছে। ইউরোপীয় তেল ও গ্যাসের বাজারে রাশিয়ার প্রবেশাধিকারের উপর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা তেল উৎপাদনকারী আফ্রিকার দেশগুলির জন্য একটি আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে, যদি তারা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। ইউরোপীয় দেশগুলি বর্তমানে যখন তাদের আমদানিক্ষেত্রকে বৈচিত্র্যময় করতে এবং রুশ আমদানির উপর তাদের নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তখন আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং মোজাম্বিকের মতো দেশগুলি বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে। আফ্রিকার দেশগুলি যদি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের চাহিদা পূরণ করতে চায়, তা হলে তাদের স্থানীয় ভাবে তেল উৎপাদন করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং পর্যাপ্ত শোধনাগার না থাকার সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। অন্য দিকে রাশিয়া যদি চিনকে তার তেল বিক্রি করতে সমর্থ হয় — যারা এখনও পর্যন্ত তেল আমদানির জন্য আফ্রিকার উপর নির্ভরশীল — তা হলে তা আফ্রিকার সরবরাহকারীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমালিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বা মালি থেকে ফ্রান্সের সেনা প্রত্যাহার একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষাগত শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে যা রাশিয়া এবং তার সেনাবাহিনীকে আরও বেশি করে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের পথ খুলে দেবে।

আফ্রিকায় রুশ প্রভাবের বিস্তার

২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিকার এবং পরবর্তী কালে বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায় দ্বারা পৃথকীকরণের পর থেকেই রাশিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আরও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সন্ধান করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই তার নজর পড়েছে আফ্রিকার উপরে, যে মহাদেশে চিরাচরিত পাশ্চাত্যের প্রভাব ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে, এবং চিন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক, জাপান এবং ব্রাজিলের মতো নতুন শক্তিগুলি তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রথম রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনে পুতিন স্পষ্টতই জানান যে, আফ্রিকা রাশিয়ার অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে। দু’বছর পরে মস্কোর ফরেন পলিসি সার্কল ২০২২-কে ‘আফ্রিকার বছর’ হিসেবে অভিহিত করেছে যা সেন্ট পিটার্সবার্গে অক্টোবরে নির্ধারিত দ্বিতীয় রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্কটে এই শীর্ষ সম্মেলন আদৌ অনুষ্ঠিত হয় কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু এর থেকে বিদ্যমান নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো এবং মহাদেশ জুড়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করার রাশিয়ার মনোবাঞ্ছা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

লোহিত সাগরে অবস্থিত পোর্ট সুদান শহরে একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপন থেকে শুরু করে মালি, সি এ আর এবং বুরকিনা ফাসোর মতো আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে একাধিক সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে আফ্রিকায় বৃহত্তর প্রভাব বিস্তারে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রকাশ পাচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে রাশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে ২০০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি রাশিয়া বেশ কিছু আফ্রিকার দেশকে ইতিমধ্যেই ইন্টেলিজেন্স, প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপত্তা সমর্থন জুগিয়েছে। ওয়াগনর গোষ্ঠীর গুপ্ত প্রকৃতি — যার ব্যক্তিগত সামরিক ঠিকাদাররা একাধিক আফ্রিকার দেশে জড়িত বলে জানা গিয়েছে — আফ্রিকায় রাশিয়ার স্বার্থের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবনকে আরও জটিল করে তোলে।

বিদ্যমান সংঘাতের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আফ্রিকার দেশগুলির রাশিয়ার নিন্দা না করার নেপথ্যে বিশেষ ঐতিহাসিক এবং সমসাময়িক কারণ বর্তমান। নিজের দিক থেকে রাশিয়া কখনই আফ্রিকাকে বিভাজনকারী ১৮৮৪ সালের বার্লিন কনফারেন্সে অংশ নেয়নি যা আফ্রিকাকে বিভাজিত, বিভক্ত এবং ইউরোপীয় দেশগুলি দ্বারা উপনিবেশ তৈরির কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। একই সঙ্গে রাশিয়া আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করা বা আফ্রিকার সম্পদ হরণের চেষ্টা করেনি। বর্তমান সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমালিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বা মালি থেকে ফ্রান্সের সেনা প্রত্যাহার একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষাগত শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে যা রাশিয়া এবং তার সেনাবাহিনীকে আরও বেশি করে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের পথ খুলে দেবে। এই ধরনের অনুমান তর্কসাপেক্ষ হলেও তা বিশ্বব্যবস্থাকে বিঘ্নিতকারী রাশিয়ার অবাধ, অপ্ররোচিত এবং একতরফা আগ্রাসনকে বৈধতা দেয় না।

ইউক্রেনে সংঘর্ষ প্রলম্বিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে মহাদেশ-বহির্ভূত একাধিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ও তা পরিচালনা করার ব্যাপারে আফ্রিকার দেশগুলিকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Abhishek Mishra

Abhishek Mishra

Abhishek Mishra is an Associate Fellow with the Manohar Parrikar Institute for Defence Studies and Analysis (MP-IDSA). His research focuses on India and China’s engagement ...

Read More +