ভারতকে চিনের ক্রমবর্ধমান শক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে মূলধনী ব্যয়ের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।
ভারতের উত্তাল এবং অস্থির কৌশলগত পরিবেশে তীব্রতা হ্রাসের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। নয়াদিল্লি তার দুই প্রধান শত্রুদেশ পিপলস রিপাবলিক অব চায়না (পিআরসি) এবং পাকিস্তানের তরফে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে চলেছে। সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানের তরফে সমঝোতামূলক মনোভাব দেখানো হলেও সেটি দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্বলতাগুলিকে আড়াল করার প্রয়াস মাত্র।
অন্য দিকে পিআরসি পূর্ব লাদাখে ভারতের দাবিকৃত এলাকা দখলের মাধ্যমে এক অব্যবহিত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে এবং এর পাশাপাশি প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত চিন-ভারত সীমান্ত বরাবর সেনা স্থানান্তর ও উন্নততর পরিকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জকে গভীরতর করে তুলেছে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (আইওআর) চিনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিও নয়াদিল্লির সমস্যাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। তৃতীয় বিমানবাহী জাহাজ (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) নির্মাণের কথা ঘোষণার মাধ্যমে চিনের ক্ষমতা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ সুস্পষ্ট। চিনা সামরিক শক্তির বিকাশ এবং প্রয়োগের মোকাবিলায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশও তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
এই দেশগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল জাপান, যে ফুমিয়ো কিশিদার নেতৃত্বে পূর্বপ্রতিশ্রুত একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের (এনএসএস) কথা ঘোষণা করার পর পিআরসি দ্বারা উত্থাপিত সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করার কাজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। জাপান এতদিন পর্যন্ত তার প্রতিরক্ষা ব্যয়কে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিকতম এনএসএস প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, যেটিতে পিআরসিকে ‘কঠোরতম কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ জিডিপি-র ২ শতাংশে পৌঁছতে চলেছে, যা উল্লেখযোগ্য ভাবে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে। টোকিয়োর মতো সুতীব্র ভাবে না হলেও উত্তর কোরিয়ার ভয়ঙ্কর হুমকি এবং দেশে চিনবিরোধী জনমত ক্রমশ প্রবল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিআরসি-র আগ্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুঝতে দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আগামী বাজেটের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে সুনির্দিষ্ট পথে চালিত করতে ভারত সরকার এবং তিনটি সশস্ত্রবাহিনীর পরিষেবাকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।
ফিলিপিনসও ২০২৩ সালে তার প্রতিরক্ষা ব্যয় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ব্যয়ের এই সম্মিলিত বৃদ্ধি চিনা সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এক প্রত্যক্ষ ফলাফল যা জাপান ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্য দেশগুলির মধ্যে পরিপূরক সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে উস্কে দিয়েছে। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশ ইতিমধ্যেই সামরিক সংঘর্ষে লিপ্ত থাকার পাশাপাশি সামুদ্রিক ক্ষেত্রে আইওআর-এ পিআরসি-র নৌ-অভিযান ভারতের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে চিনের সাঁড়াশি আক্রমণকে সুস্পষ্ট করেছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বাজেটের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে সুনির্দিষ্ট পথে চালিত করতে ভারত সরকার এবং তিনটি সশস্ত্রবাহিনীর পরিষেবাকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে পরিষেবাগুলিতে সর্বাধিক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। চিনা সামরিক বাহিনী দ্বারা ইতিমধ্যে মোতায়েন করা এবং অদূর ভবিষ্যতে মোতায়েন সক্ষম উন্নত সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ভারতকে তার বরাদ্দ মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মীদের খরচ বিগত বছরগুলিতে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্বারা আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ করা বাজেট সম্পূর্ণ রূপে ব্যয় করতে পারার অপারগতাও একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নিরিখে দেশটির ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির প্রতি আস্থা জাগায় না।
যৌথবাহিনী অর্জন করার জন্য পরিষেবাগুলিকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়েও সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যা শুধুমাত্র সফল সামরিক অভিযানের নিরিখে নয়, লজিস্টিকস বা আকাশ প্রতিরক্ষা খরচ কমানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলিকে একজোট হয়ে কাজ করতে বাধ্য করতে হবে এবং ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিনটি পরিষেবা শাখার মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী ফলাফলগুলির জন্য বাজেট বরাদ্দ করা আবশ্যক। সর্বোপরি, প্রতিরক্ষা বাজেটের অধীনে মূলধনী ব্যয়কে সশস্ত্রবাহিনীর কার্যকরী প্রস্তুতির সঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলিকে একজোট হয়ে কাজ করতে বাধ্য করতে হবে এবং ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিনটি পরিষেবা শাখার মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী ফলাফলগুলির জন্য বাজেট বরাদ্দ করা আবশ্যক।
দেশীয়ভাবে প্রস্তুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তব ফলাফল পেতে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। অন্য দিকে মেক ইন ইন্ডিয়ার মতো উদ্যোগগুলি সর্বোত্তম এবং সন্তোষজনক ভাবে বাহিনীর কার্যকরী প্রয়োজনীয়তা পরিপূরণে সমর্থ হওয়ার আগে কোনও সতর্কতা ছাড়াই ন্যূনতম সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তাই চিন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পরিস্থিতি্র মোকাবিলা করার জন্য সশস্ত্র পরিষেবাগুলির মূলত কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, তা সরকারকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। ভারতের সম্মুখে উপস্থিত বাস্তব সামরিক চ্যালেঞ্জগুলির ভয়ঙ্কর এবং জটিল পারস্পরিকতার নিরিখে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম এবং তা নষ্ট করা সমীচীন নয়। পিআরসি-র সামরিক শক্তির মোকাবিলা করা প্রতিরক্ষাবাহিনীর জন্য বাজেট বরাদ্দকরণের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সরকার নির্ধারিত আসন্ন বাজেটে সংশ্লিষ্ট খাতে মূলধনী ব্যয় আদৌ বৃদ্ধি পায় কি না, সে দিকেই প্রধানত নজর থাকবে জনসাধারণের।
এই ভাষ্যটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...
Read More +
Kartik is a Senior Fellow with the Strategic Studies Programme. He is currently working on issues related to land warfare and armies, especially the India ...
Read More +