Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 25, 2022 Updated 6 Days ago

পশ্চিমী দেশগুলি এবং তালিবান পরস্পরের স্বার্থ সম্পর্কে উদাসীনতা দেখানোর ফলে মানবিক সঙ্কটের ছায়া ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে।

আফগানিস্তানের মানবিক সঙ্কট: ঘনিয়ে আসা বিপর্যয়ের রাজনীতি
আফগানিস্তানের মানবিক সঙ্কট: ঘনিয়ে আসা বিপর্যয়ের রাজনীতি

এক দিকে যখন আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন অন্য দিকে তালিবান এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। তালিবান এই মিথস্ক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক স্তরে বৈধতা এবং সাহায্য প্রাপ্তির কাজে ব্যবহার করলেও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলি এটিকে দায় বলে মনে করছে।

এর ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জ (ইউ এন) ৪৪০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্যের আয়োজন করেছে, যা কোনও একটি দেশের সাহায্যার্থে সর্বাধিক। এ ছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার এবং ই ইউ ৫৭ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কও আটকে রাখা ২৮ কোটি মার্কিন ডলার ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে এবং অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কান্ট্রিজ  গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল আফগানিস্তানের জন্য অর্থ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমানে এদের সকলের প্রধান লক্ষ্য হল বিদ্যমান মানবিক সঙ্কটকে প্রশমিত করা, একটি সমান্তরাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আফগানিস্তানকে সাহায্য করা এবং একই সঙ্গে তালিবানকে এই সম্পদ ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা।

যদিও এই মানবিক উদ্যোগগুলি দরাজ মনে করা হয়নি এবং এগুলির নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই। এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের প্রয়োজন আর্থিক সুরাহা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। কিন্তু তা এখনও অধরাই রয়ে গেছে যে হেতু সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছেই তার রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি।

সঙ্কটের পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার 

প্রাথমিক ভাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এক অসংশোধিত তালিবানের অধীনস্থ আফগানিস্তানের জন্য অর্থনৈতিক সুরাহা খুঁজে বার করার কাজে দ্বিধাগ্রস্ত। অনেকেই বিশ্বাস করেন, যে কোনও রকমের অর্থ সাহায্যই তালিবানের সম্পদ বাড়াবে, তাদের আরও বৈধতা দেবে এবং আফগানিস্তানে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি বাড়বে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের প্রতিবন্ধকতাগুলির পরিমাণও।

তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফে তালিবানের কাছে নারী ও মানবাধিকার রক্ষা, সমানাধিকার সুনিশ্চিত করা ও সব আফগানকে সুরক্ষা দেওয়া, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন, নাগরিকদের রাজরোষ থেকে রেহাই দেওয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধের পরিমাণ হ্রাস করা এবং আফগানিস্তানে যে কোনও ধরনের জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় না দেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছে।

যদিও এই সব দাবি পূরণে তালিবানকে উচ্চ রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে। সংগঠনটি এখনও মানবাধিকার, নারী শিক্ষা, জীবিকার সংস্থান এবং অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সংযোগ ও আদানপ্রদানের মতো বিষয়গুলিতে দ্বিধাবিভক্ত। অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা আদর্শগত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হোক, এমনটা তারা কখনও চাইবে না, বিশেষ করে আই এস কে পি যখন নতুন বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। একই সঙ্গে, সংগঠনটির বিদ্রোহী সেনার সংখ্যা বৃদ্ধির কৌশল যে কোনও ধরনের সংস্কারের পথকে জটিল করে তুলবে এবং খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। তবুও তালিবান আন্তর্জাতিক বৈধতা এবং সাহায্যের আশায় সংস্কারের শূন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছে।

একটি উদাসীন প্রতিক্রিয়া 

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী অধিকাংশ আঞ্চলিক শক্তিগুলির জন্যই এই মানবিক সঙ্কট এক দ্বিধার সৃষ্টি করেছে। উদ্বাস্তু সমস্যা, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার সম্ভাবনা এড়িয়ে যেতে এই দেশগুলি মানবিক সাহায্য প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। স্পষ্টতই ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়া, উজবেকিস্তান এবং চিনের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলি পশ্চিমি দেশগুলির কাছে আফগানিস্তানের আটক করা সম্পদের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং আরও বেশি করে মানবিক সাহায্য প্রদানের জন্য ক্রমাগত দাবি জানিয়েছে। কিন্তু এই দেশগুলির কেউই নিজেরা নতুন তালিবান প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখায়নি। তালিবানের প্রতি অবিশ্বাসের এক বাতাবরণ বিদ্যমান এবং এক অসংশোধিত শক্তিশালী তালিবান প্রতিবেশে ক্ষমতায় আসীন হলে তা সংশ্লিষ্ট সব দেশের জন্যই সন্ত্রাসবাদ, চোরাপাচার এবং চরমপন্থী প্রতিবন্ধকতাগুলির মাত্রা বৃদ্ধি করবে এমনটা অনেকেরই সংশয়। বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি এক উদাসীন মানবিক প্রতিক্রিয়ার পথে হাঁটাই এখন এই দেশগুলির জন্য শ্রেষ্ঠ বিকল্প।

তালিবানের প্রতি অবিশ্বাসের এক বাতাবরণ বিদ্যমান এবং এক অসংশোধিত শক্তিশালী তালিবান প্রতিবেশে ক্ষমতায় আসীন হলে তা সংশ্লিষ্ট সব দেশের জন্যই সন্ত্রাসবাদ, চোরাপাচার এবং চরমপন্থী প্রতিবন্ধকতাগুলির মাত্রা বৃদ্ধি করবে এমনটা অনেকেরই সংশয়।

এর ফলে আফগানিস্তানের সবচেয়ে ধনী প্রতিবেশী চিন যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার দাবি জানিয়েছে এবং আফগানিস্তানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবু মানবিক সাহায্য খাতে মাত্র ৩ কোটি ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। একই ভাবে ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়া এবং তাজিকিস্তানের মতো দেশগুলি তাদের দুমুখো অবস্থান বজায় রেখেছে এবং অন্য অ-তালিবান শক্তিগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। এই দেশগুলি আশাবাদী যে, এ ভাবে তালিবানকে চাপে রাখতে পারলে তারা তাদের আশঙ্কা প্রশমিত করতে, তালিবানের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করতে এবং তালিবানকে সংস্কারের পথে চলতে বাধ্য করতে পারবে।

পশ্চিমী বিশ্বব্যবস্থার জন্য প্রতিবন্ধকতা 

একই রকম ভাবে তালিবান শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়া বা তার সশক্তিকরণের প্রক্রিয়াটি পশ্চিমী দেশগুলির মূল্যবোধভিত্তিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় রকমের ধাক্কা। কারণ পশ্চিমী বিশ্ব বর্তমানে আফগানিস্তান থেকে বিশৃঙ্খল ভাবে সেনা প্রত্যাহার, চিনের আগ্রাসন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক কার্যকলাপের ভারে জেরবার হয়ে আছে। পাশাপাশি আফগানিস্তানে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পশ্চিমী দেশগুলির মধ্যে আগ্রহের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আফগানিস্তানের ব্যাপারে পুনরায় আগ্রহ দেখালে তা পশ্চিমী দেশগুলিকে নিজেদের সমাজ এবং নির্বাচকমণ্ডলীর সমালোচনার মুখে ফেলবে, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। পশ্চিমী দেশগুলি তাই আফগানিস্তানের প্রেক্ষিতে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িয়ে না পড়ার পন্থা অবলম্বন করেছে, যা অ-তালিবান শক্তিগুলির সঙ্গে তাদের সীমিত মিথস্ক্রিয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে। 

অন্য দিকে মানবিক বিপর্যয়ের দিকটিতে নজর না দিলে তা আফগানিস্তানের পতন ডেকে আনবে। এবং এমনটা হলে তা পশ্চিমী দেশগুলির জন্য উদ্বাস্তু, চোরাপাচার এবং সন্ত্রাসবাদের মতো সমস্যাগুলিকে তীব্রতর করে তুলবে। এর পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণে সম্পদ থাকা, উন্নয়নে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের কাজে আগে অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও হতভাগ্য আফগানদের সাহায্য করতে ব্যর্থ হলে বন্ধু দেশ এবং অংশীদারদের প্রতি পশ্চিমী দেশগুলির দায়বদ্ধতা এবং মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

যথেষ্ট পরিমাণে সম্পদ থাকা, উন্নয়নে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের কাজে আগে অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও হতভাগ্য আফগানদের সাহায্য করতে ব্যর্থ হলে বন্ধু দেশ এবং অংশীদারদের প্রতি পশ্চিমী দেশগুলির দায়বদ্ধতা এবং মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

পশ্চিমী দেশগুলি তাই বর্তমান তালিবান প্রশাসনকে শক্তিশালী করতে না চাওয়া এবং একই সঙ্গে আফগানিস্তানের ভেঙে পড়া রুখতে চাওয়ার মাঝে দ্বিধাবিভক্ত এবং দু’টির কোনও একটি ঘটলেই তাদের ব্যর্থতা প্রমাণিত হবে। বর্তমানে পাশ্চাত্যের সামনে একমাত্র পথটি হল আরও বেশি করে মানবিক সহায়তা প্রদান করা এবং তালিবানকে সংস্কারের কাজে বাধ্য করা।

অচলাবস্থা 

দ্বিধান্বিত অবস্থান এবং রাজনৈতিক মূল্য দেওয়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট সব দেশকে এ ভাবেই আফগানিস্তানে এক স্থিতিশীল সমাধান অর্জন করা থেকে বিরত রেখেছে। সংস্কারের বিষয়ে তালিবানরা উৎসাহ দেখায়নি এবং তারা মিথ্যা আশা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বৈধতা এবং সাহায্য চাওয়ার জন্য সঙ্কটকে কাজে লাগাচ্ছে। অন্য দিকে প্রতিবেশী দেশ এবং পশ্চিমী শক্তিগুলি এক সংশোধিত তালিবানের আশায় রয়েছে যদিও কী ভাবে তারা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে (অথবা তুলবে না), সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। মানবিক সহায়তা প্রদানের ঊর্ধ্বে উঠে একটি স্থিতিশীল সমাধানের সম্ভাবনা তাই কঠিন হতে পারে যদি না আফগানিস্তানের নিরাপত্তার অঙ্কে পরিবর্তন আসে অথবা তালিবান নিজে থেকে এক অথবা একাধিক দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে সীমিত সংস্কারের সূচনা করে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy is an Associate Fellow with ORFs Strategic Studies Programme. He focuses on broader strategic and security related-developments throughout the South Asian region ...

Read More +