Published on Jun 19, 2024 Updated 0 Hours ago

রাশিয়ায় জনশক্তির ঘাটতি, ‌এবং উচ্চ মজুরি ও নাগরিকত্বের প্রলোভন দক্ষিণ এশিয়া থেকে অভিবাসীদের আকর্ষণের কারণ হিসাবে কাজ করে চলেছে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দক্ষিণ এশিয়ার যোদ্ধারা কেন যোগ দিচ্ছেন

Source Image: Anatolii Stepanov/AFP

২০২৪ সালের মার্চ মাসে এটি প্রকাশিত হয়েছিল যে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বেশ কিছু নাগরিক রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছে, এবং ইউক্রেনের সঙ্গে ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করছে। এক সপ্তাহেরও কম প্রশিক্ষণে এই সৈন্যদের খরচের খাতায় ফেলে ব্যবহার করা হচ্ছে। মিডিয়া রিপোর্ট বলছে যে, ইউক্রেনের সামনের সারিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ নেপালি, পাঁচ শ্রীলঙ্কান এবং দুই ভারতীয় নিহত হয়েছেন। রাশিয়ায় বিদেশী শ্রমের চাহিদা, অর্থনৈতিক প্রণোদনা, এবং দক্ষিণ এশীয় সমাজের সামরিকীকরণ এই বিদেশী যোদ্ধাদের যোগদানের ঘটনাকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। যাই হোক, কঠোর অবস্থার সাপেক্ষে, দক্ষিণ এশীয়রা এখন তাদের নিজ নিজ সরকারকে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুরোধ করছে, এবং দেশগুলি রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে তাদের উদ্বেগ উত্থাপন করেছে। রাশিয়ার সঙ্গে এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


রাশিয়ায় বিদেশী শ্রমের চাহিদা, অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং দক্ষিণ এশীয় সমাজের সামরিকীকরণ এই বিদেশী যোদ্ধাদের যোগদানের ঘটনাকে ইন্ধন জোগাচ্ছে।


পুশ-পুল ফ্যাক্টর

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সূত্রপাত রাশিয়ায় বিদেশী শ্রমের চাহিদা বৃদ্ধির কারণ হয়েছে। ২০২৩ সালে
৪.৮ মিলিয়ন শ্রমিকের ঘাটতি  রিপোর্ট করা হয়েছিল। ইউক্রেনের নতুন দখলকৃত অঞ্চলগুলিতে সামরিক ব্যয় এবং পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বৃদ্ধির কারণে সম্ভবত চাহিদার এই বৃদ্ধি। যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত লোকের সংখ্যা ২০২২ সালে ৭.২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ২০২১ সালের ১,৯০২,৭৫৮ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ২,০৩৯,৭৫৮ এবং ২০২৩ সালে ২,২০৯,১৩০ হয়েছে। এই বছর সেনা সংগ্রহের আরেকটি রাউন্ডের সম্ভাবনা আছে। শ্রমের ঘাটতি মেটাতে রাশিয়া অভিবাসী কর্মীদের উচ্চ বেতন এবং নাগরিকত্ব প্রদান করে, যারা শ্রমিক বা সামরিক সাহায্যকারী এবং ফ্রন্ট লাইনে যোদ্ধা হিসাবে যোগদান করে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উচ্চ মজুরি এবং উন্নত জীবনযাত্রার জন্য বহির্মুখী অভিবাসন বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের
অর্থনৈতিক সঙ্কট, নেপালে অর্থনৈতিক মন্দা, এবং উভয় দেশে বেকারত্ব একটি  বহির্গমন প্রক্রিয়ার সূত্রপাত করেছে। ভারতের জন্য, যার অর্থনীতি কোভিড-‌১৯ অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সত্ত্বেও স্থিতিস্থাপক ছিল, রাশিয়ায় প্রদত্ত উচ্চ মজুরি তার কিছু মানুষকে অভিবাসনের জন্য আকৃষ্ট করে চলেছে। এই দক্ষিণ এশীয় কর্মীরা রাশিয়ায় অন্তত মাসে ৫৫০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫,০০০ রুপির সমতুল্য) উপার্জন করতে পারেন৷ নতুন দখলকৃত অঞ্চলে সাহায্যকারী বা পোর্টার হিসাবে কাজ করার জন্য অর্থপ্রদান প্রতি মাসে ২,০০০ ডলারের বেশি (১৬০,০০০ ভারতীয় রুপির সমতুল্য), যা বেশ কিছু দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীকে রাশিয়ায় যেতে উৎসাহিত করে।


শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কট, নেপালে অর্থনৈতিক মন্দা এবং উভয় দেশে বেকারত্ব একটি বহির্গমন প্রক্রিয়ার সূত্রপাত করেছে।

উপরন্তু, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা উভয়ই সামরিকীকৃত সমাজ। এই দেশগুলিতে বেকারত্ব কমানোর জন্য সামরিক নিয়োগ প্রায়শই একটি নীতিগত ব্যবস্থা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রতি মাসে ২,০০০ ডলার উপার্জনের সম্ভাবনা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে কাজ করার জন্য একটি প্রণোদনা হিসাবে কাজ করে। বেশ কিছু নেপালি ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টে কাজ করতে আসতেন, কিন্তু অগ্নিবীর প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে নিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় তেমন কিছু মানুষ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং উচ্চ উপার্জনের সম্ভাবনা বেশ কিছু অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মী এবং বর্তমান সৈন্যদের রাশিয়ার হয়ে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করছে।

নিয়োগের কৌশল

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে দক্ষিণ এশীয়দের নিয়োগ স্বেচ্ছাকৃত এবং অনিচ্ছাকৃত উভয়ই। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পি কে দাহাল
প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২০০ জনেরও বেশি নেপালি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। অন্য অনুমানগুলি ইঙ্গিত দেয় যে এই সংখ্যা ৭০০-‌র কাছাকাছি। মিডিয়া সূত্রগুলি বলেছে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে শত শত শ্রীলঙ্কান রয়েছেন, এবং রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ১০০ জনেরও বেশি ভারতীয় কাজ করছেন বলে জানানো হয়েছে ।

বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য পর্যটক ভিসায় ভ্রমণ করেছেন। মজার ব্যাপার হল, যুদ্ধ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এসব দেশ থেকে পর্যটক ভিসার সংখ্যা বেড়েছে। ২০২১ সালে ৭,১৩২ জনেরও বেশি ভারতীয় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও ২০২২ সালে
  সংখ্যাটি ৮,২৭৫-এ পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা প্রবর্তনের পর পর্যটনের জন্য ভারত থেকে রাশিয়ায় ভ্রমণ ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। নেপালেও অভিবাসীরা সম্ভবত রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য পর্যটক ভিসা ব্যবহার করেছেন। ২০২১-‌২০২২-‌এর মধ্যে শুধুমাত্র একটি নিবন্ধিত প্রাইভেট এজেন্সি নেপালি শ্রমিকদের রাশিয়ায় অভিবাসনের সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু, বিপরীতে, ২০২৩ সালে ১,০৩৯ জনেরও বেশি নেপালি পর্যটক ভিসা নিয়ে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। শ্রীলঙ্কা থেকে সরাসরি রাশিয়ায় অভিবাসন খুব কম। ২০২২ সালে আনুমানিক ৩৮৯ জন শ্রীলঙ্কান রাশিয়ায় বাস করতেন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যাই হোক, একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হল যে মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কানরা — একটি জনপ্রিয় গন্তব্য যা দেশের অভিবাসনের ৮৮ শতাংশ — যুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন

 


বাবা ভ্লগের মালিক ফয়জল খানকে এই কর্মীদের রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগদানের টোপ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো গ্রেপ্তার করেছিল।



কিছু ক্ষেত্রে মাধ্যম ব্যক্তির মধ্যে একটি জটিল আন্তঃসম্পর্ক কাজ করে। বেশ কিছু ভারতীয়, নেপালি এবং শ্রীলঙ্কানকে ভালো চাকরি ও নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারিত করা হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে, অনেক ভারতীয়কে ভ্লগ এবং ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, বাবা ভ্লগের মালিক ফয়জল খানকে এই কর্মীদের রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগদানের টোপ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো
গ্রেপ্তার করেছিল। ঘটনাটি শ্রীলঙ্কাতেও অনুরূপ, যেখানে ১৭ জন কর্মীকে ঝাড়ুদার, হেল্পার বা নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করার নাম করে প্রতারিত করা হয়েছিল, কারণ তাদের পরে ফ্রন্টলাইনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কার সিআইডি এবং নেপালের পুলিশ তাদের নাগরিকদের প্রতারণার দায়ে মধ্যস্বত্বভোগী এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ কিছু ক্ষেত্রে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ভারতীয় ভ্রমণকারীকে সেনাবাহিনীতে চাকরি করা বা দশ বছরের জন্য কারাবাসের বিকল্প দেওয়া হয়েছিল যখন তাদের ভিসা ছাড়াই রাশিয়া থেকে বেলারুশ ভ্রমণের জন্য আটক করা হয়েছিল।


রাষ্ট্র ক্ষমতা

পরিস্থিতি থেকে রাশিয়ার উপকৃত হওয়ার ক্ষমতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের ক্ষমতা রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ-পরবর্তী দক্ষিণ এশিয়া নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রাধান্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে তার উপস্থিতি প্রসারিত করতে আগ্রহী। ইউক্রেনে আগ্রাসন এবং পশ্চিমীদের থেকে কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পর এই আগ্রহ আরও বেড়েছে। ভারত এই অঞ্চলে তার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ভোটে ভারত বিরত ছিল, এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২১-২২ অর্থবছরে
১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৩ সালে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এটি সস্তা অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে হয়েছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়ার অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করে এবং সারা বিশ্বে রাশিয়ান তেল পরিশোধন এবং রপ্তানি করে ভারত বিশ্বের একটি লন্ড্রোম্যাট দেশ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।



ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ভোটে ভারত বিরত ছিল, এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৩ সালে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।



নতুন বাজারের জন্য রাশিয়ার অনুসন্ধান শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষতার সঙ্গে মিলে যায়, এবং এইভাবে রাশিয়ার সক্রিয় ভূমিকায় অবদান রাখে। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রাশিয়ার পর্যটকেরা শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নয়, রাশিয়া সস্তা তেলও
রপ্তানি করেছে এবং হাম্বানটোটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালানোর জন্য ভারতের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সাহায্য করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এটিও একটি কারণ যার জন্য শ্রীলঙ্কা স্বল্প নোটিসে রাশিয়ান নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা শেষ করতে দ্বিধা করেছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নেপালে তার জোটনিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে এবং মস্কো থেকে কিছু সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে নেপালের ভোট রাশিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে চলছে। উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবিদ্যুৎ, পরিকাঠামো, লাইট মেট্রো, রেলপথ নির্মাণ এবং সরাসরি ফ্লাইট স্থাপনে দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রেও খুব কম অগ্রগতি রয়েছে।


দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রকৃতি এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির দর কষাকষির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয়দের তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাশিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বেশ কয়েকজন ভারতীয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্য ঘটনাগুলি নিয়ে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা চলছে। ভারতীয়দের একটি বৃহৎ অংশকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে কাজ করার জন্য প্রতারিত করা হয়েছিল বলে চূড়ান্ত প্রমাণ তাড়াতাড়ি মুক্তি পেতে সাহায্য করেছিল।



নেপালি বিদেশ মন্ত্রক রাশিয়ার কাছে দুটি নোট পাঠিয়েছে সে দেশের যারা যুদ্ধে লড়েছে তাদের প্রত্যর্পণ এবং সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত নেপালিদের নাম ও অবস্থা সম্পর্কে বিশদ বিবরণের অনুরোধ করে, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।



অন্যদিকে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ভারতের মতো সফল হতে পারেনি। জানুয়ারি থেকে নেপালি বিদেশ মন্ত্রক রাশিয়ার কাছে দুটি নোট পাঠিয়েছে সে দেশের যারা যুদ্ধে লড়েছে তাদের প্রত্যর্পণ এবং সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত নেপালিদের নাম ও অবস্থা সম্পর্কে বিশদ বিবরণের অনুরোধ করে, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে লড়াইরত নেপালি নাগরিকেরাও তাঁদের সাহায্য করার জন্য ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের কাছে আবেদন করেছেন। জানুয়ারিতে নেপাল রাশিয়া এবং ইউক্রেনে কাজ করার পারমিট দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং বেসরকা্রি উদ্দেশ্যে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করে। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শ্রীলঙ্কার সৈন্যদের যুদ্ধে যোগদানে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং সামরিক কর্মীদের যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। তবে, রাশিয়ায় যুদ্ধরত শ্রীলঙ্কার বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে  খুব কমই মন্তব্য করা হয়েছে। পরোক্ষ এবং কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ অভিবাসন, দুর্বল রাষ্ট্র ক্ষমতা, এবং রাশিয়ার উপর তাদের চাপ তৈরির কম ক্ষমতা মস্কোর এই দুর্বল প্রতিক্রিয়াতে অবদান রাখে।


উপসংহার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলতে থাকায় দক্ষিণ এশীয়দের সামনের সারিতে লড়াই করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যেহেতু রাশিয়ার প্রয়োজনীয় জনবল নেই, তাই এটি অভিবাসী শ্রমিকদের চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার উপর নির্ভর করবে। উচ্চ মজুরি ও নাগরিকত্বের সম্ভাবনা সবসময়ই দক্ষিণ এশিয়ায় অভিবাসীদের জন্য একটি আকর্ষণের কারণ। যাই হোক, মূলত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসিত করার ক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করবে।



আদিত্য গৌদারা শিবমূর্তি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একজন অ্যাসোসিয়েট ফেলো

রাজোলি সিদ্ধার্থ জয়প্রকাশ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একজন গবেষণা সহকারী

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy is an Associate Fellow with ORFs Strategic Studies Programme. He focuses on broader strategic and security related-developments throughout the South Asian region ...

Read More +
Rajoli Siddharth Jayaprakash

Rajoli Siddharth Jayaprakash

Rajoli Siddharth Jayaprakash is a Research Assistant with the ORF Strategic Studies programme, focusing on Russia's domestic politics and economy, Russia's grand strategy, and India-Russia ...

Read More +