Author : Samir Saran

Published on Jul 28, 2023 Updated 0 Hours ago
থিঙ্ক২০ ইন্ডিয়া: মৌলিকত্বের ব্যবধান পূরণ

বিশ্বব্যাপী টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত জি২০ সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছিল। অতিমারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অনিশ্চিত এবং অসম ছিল; ইউক্রেন সঙ্কটের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল অচল হয়ে পড়ে ও তার ফলস্বরূপ বিশ্বব্যাপী স্ট্যাগফ্লেশন বা স্থবিরতা দেখা দেয়; এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাবাহিক ধ্বংসাত্মক আক্রমণ প্রতিবন্ধকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল৷

জি২০-র প্রতীক এবং ভাবনার উন্মোচন করার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশকে বিশ্বের জন্য একটি দূরদর্শী ও ফলাফলভিত্তিক কর্মসূচির প্রণেতা এবং জি২০-কে পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধির জন্য এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্লোবাল সাউথের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি মঞ্চ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। ভারতের প্রাচীন নীতির ভিত্তিতে রূপায়িত প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি বসুধৈব কুটুম্বকম দৃঢ় ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ভারতের জি২০ সভাপতিত্বেরও মূল সুর।

চারটি ‘ডি’ অক্ষরে চিহ্নিত একটি কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক অব ফোর ডি-জ জি২০-র সভাপতি হিসাবে ভারতের নিম্নলিখিত অগ্রাধিকারগুলিকে প্রদর্শন করে — ডিকার্বনাইজেশন, ডিজিটালাইজেশন, ইক্যুইটেবল ডেভেলপমেন্ট বা ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন এবং ডিএস্কেলেশন অব কনফ্লিক্ট বা সংঘাত নিরসনের প্রচার। এই দৃষ্টিভঙ্গি থিঙ্ক২০ (টি২০) ইন্ডিয়ার ভাবনাগত পরিসর জুড়েই প্রতিফলিত হয়েছে — যা থিঙ্ক ট্যাঙ্কের জন্য জি২০-র আনুষ্ঠানিক এনগেজমেন্ট গ্রুপ — এবং এটিকে প্রায়শই জি২০-র ‘আইডিয়া ব্যাঙ্ক’ বা ‘ভাবনার ভাণ্ডার’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। টি২০-র ফলে উচ্চ স্তরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান , বিশেষজ্ঞ,  এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির আদান-প্রদান সহজতর হয়েছে, যা জি২০-র আলোচনার বিশ্লেষণাত্মক গভীরতা এবং কঠোরতাকে ক্ষুরধার করে তুলেছে। এ ভাবে টি২০, টমাস হোমার-ডিক্সন যাকে ‘ইনজেনুইটি’ বা ‘প্রোডাকশন অব আইডিয়াজ’ বলে অভিহিত করেছেন সেটিরও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করে এবং ইনজেনুইটি গ্যাপ বা ‘মৌলিকত্বের ব্যবধান’ পূরণ করতে সহায়তা করে। মৌলিকত্বের ব্যবধান হল জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যক্ষম উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার চাহিদা এবং সেই ধারণাগুলির বাস্তব উৎপাদনশীলতার মাঝের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান।

স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে ফোর ডি-জ ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পৃক্ত৷ যেমন, এই কাঠামোগত ধারণা বা নীতিগুলি টি২০-এর সাতটি টাস্ক ফোর্স জুড়ে প্রতিফলিত, যা ‘সমষ্টিগত অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং জীবিকা’; ‘আমাদের অভিন্ন সাধারণ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ’; ‘লাইফ, স্থিতিস্থাপকতা এবং সুস্থতার জন্য মূল্যবোধ’; ‘দূষণহীন শক্তি এবং সবুজ রূপান্তর’; ‘আন্তর্জাতিক ও আর্থিক ক্রমের পুনর্মূল্যায়ন’; ‘স্থিতিশীল লক্ষ্যমাত্রাগুলিকে ত্বরান্বিত করা’; এবং ‘সংস্কারকৃত বহুপাক্ষিকতাবাদ’।

থিঙ্ক২০ টাস্ক ফোর্স গঠন

টি২০ মধ্যবার্ষিকী সম্মেলন ২০২৩ সালের ১০-১২ মে মুম্বইতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জি২০ দেশগুলি ব্যাপী তিনশো অংশগ্রহণকারী এবং টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা সাতটি নির্বাচিত ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এখনও পর্যন্ত টি২০-এর সাফল্য এবং আগামী দিনের পথের উপরে আলোকপাত করেছেন। টি২০ ভারতের গবেষণা এবং ব্যস্ততার দু’টি বিশেষ উপাদান দ্বারা সম্পৃক্ত – এটি লিঙ্গকে মূলধারায় আনা এবং লিঙ্গ সমতাকে উন্নীত করার উপর মনোযোগ দেয় এবং আফ্রিকা মহাদেশ যাতে সমস্ত আলাপ-আলোচনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা চালায়। ভারত জি২০-তে সভাপতিত্ব প্রদানকারী পরপর চারটি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে দ্বিতীয় হওয়ায় (ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা… ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জি২০ সভাপতিত্বকারী চার দেশ) এটি শুধু মাত্র গ্লোবাল সাউথের এক বিশেষ কণ্ঠস্বরই হয়নি, বরং আফ্রিকান ভূখণ্ডের অনন্য উন্নয়নমূলক প্রয়োজনীয়তাগুলিকে সামনে তুলে ধরেছে।

মধ্যবার্ষিকী সম্মেলনের প্রধান কাজ ছিল টাস্ক ফোর্সের বিবৃতিগুলি চূড়ান্ত করা, যা আসলে টাস্ক ফোর্সের সম্পৃক্ততার পরিসর সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে।

টি২০ কমিউনিক – যা জি২০ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশের সারসংক্ষেপ – এই বিবৃতির ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এবং ২০২৩ সালের অগস্ট মাসে মহীশূরে থিঙ্ক২০ ইন্ডিয়া সামিট-এর সূচনা করা হবে। তা ছাড়া ভারতীয় টি২০ তার সময়সীমার মধ্যবিন্দু অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে ইতিমধ্যেই সারা দেশে এবং দেশের বাইরে ৫০টিরও বেশি সমাবেশের আয়োজন করেছে, ১২৫টিরও বেশি পলিসি ব্রিফ বা নীতি সংক্ষেপ (পিবি) প্রকাশ করেছে এবং আগামী বেশ কিছু প্রকাশিতব্য। এই নীতি সংক্ষেপগুলি মূল ধারণার প্রক্রিয়াকরণ এবং সেগুলিকে কার্যকর সুপারিশ রূপে তুলে ধরার ফলাফল স্বরূপ।

‘জন ভাগীদারি’ (বা প্রশাসনে বৃহৎ মাত্রার নাগরিক অংশীদারিত্ব) নীতিগুলি জি২০ এবং তার ধারণাগুলিকে যুব, নারী, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের মতো সাংবিধানিক পরিসরে প্রসারিত করার জন্য ভারতীয় সভাপতিত্বের প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করেছে। যুব ও নারীদের উন্নয়ন ও বৃদ্ধির অপরিহার্য অংশীদার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মুম্বই সম্মেলন এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সক্রিয় ভাবে সম্পৃক্ত ছিল এবং মুম্বই ও পুনে জুড়ে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জনেরও বেশি ছাত্র এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় জি২০ ইন্ডিয়া নিউজলেটার-এ।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.