Published on Jun 21, 2023 Updated 0 Hours ago
উত্তর-দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ উন্নয়ন সহযোগিতার সর্বোত্তম সমন্বয়: প্রয়োজন ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব

কোভিড-১৯ অতিমারি বেশিরভাগ অর্থনীতিকেই মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে বৈষম্যও বাড়িয়েছে বহুগুণ। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলিকে প্রশমিত করার জন্য আরও বেশি সংহতি, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে এই নিবন্ধটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে উন্নয়নমূলক সহযোগিতার একটি সাধনী হিসাবে ত্রিভুজাকার সহযোগিতার কথাই উপস্থাপন করে। ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের সুবিধার রূপরেখা প্রদানের পাশাপাশি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিবন্ধকতাগুলি নিরীক্ষণ এবং ভারতের নানা ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এই নিবন্ধটি ভৌত পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যা চিরাচরিত উচ্চ বিনিয়োগ এবং প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা দিয়েই চিহ্নিত, এবং নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ত্রিভুজাকার ব্যবস্থার উপযোগিতার দিকটিও মূল্যায়ন করে।


আরোপণ: মালঞ্চ চক্রবর্তী এবং স্বাতী প্রভু, ‘কম্বাইনিং দ্য বেস্ট অব নর্থ-সাউথ অ্যান্ড সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: দ্য কেস ফর ট্রায়াঙ্গুলার পার্টনারশিপস’, ওআরএফ অকেশনাল পেপার নং ৩৯৬, মার্চ ২০২৩, অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন।


ভূমিকা

কোভিড-১৯ অতিমারির অর্থনৈতিক প্রভাবের তাৎক্ষণিক ধাক্কা আপৎকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে আংশিকভাবে এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এই সঙ্কটটি অর্থনীতিকে যত মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে বৈষম্য তীব্র হারে বেড়েছে, ততই উচ্চ সরকারি ও ব্যক্তিগত ঋণের মতো নতুন নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অনুমান অনুসারে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী ঋণ ২৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ২০২০ সালে জিডিপির ২৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং এই বাড়তি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি সরকারি ঋণ।(১) ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও খারাপ করে তুলেছে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতপক্ষে, ওয়ার্ল্ড ইকনমিক আউটলুক ২০২২ বৈশ্বিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা ২০২২ সালে ৩.২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ২.৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে— যা কিনা ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় যথাক্রমে ০.৪ শতাংশ এবং ০.৭ শতাংশ কম৷(২) আইএমএফ-ও সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সমগ্র বিশ্ব আর একটি মন্দার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।(৩) বর্তমান বিশ্বজোড়া চ্যালেঞ্জের আয়তন বিচার করলে, বিশ্বের আরও বেশি সংহতি, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক সহযোগিতার প্রয়োজন।

একটি উন্নয়নমূলক পদ্ধতি হিসাবে ত্রিভুজাকার সহযোগিতা নানা সুবিধা প্রদান করে। ‘ত্রিভুজাকার সহযোগিতা’ শব্দবন্ধটি মোটের উপর এমন প্রকল্প এবং উদ্যোগকেই বোঝায়, যা চিরাচরিত দাতা এবং দক্ষিণের দেশগুলির তুলনামূলক সুবিধাগুলিকে সমন্বিত করে, যাতে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া যায় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে উন্নয়ন সংক্রান্ত উদ্বেগগুলির মোকাবিলা করা যায়।(৪) ‘ত্রিভুজাকার’ এবং ‘ত্রিপাক্ষিক’ শব্দবন্ধ দু’টি প্রায়শই এই ধরনের উন্নয়ন সহযোগিতার সঙ্গে সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হলেও রি (Rhee) (২০১১) তাদের মধ্যে একটি পার্থক্য দর্শিয়েছেন। ‘ত্রিভুজাকার উন্নয়ন সহযোগিতা’ বলতে ‘চিরাচরিত’ অংশীদারদের দ্বারা প্রায়শই রাষ্ট্রপুঞ্জের (ইউএন) পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘস্থায়ী এবং অব্যাহত দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য উত্তর ও বহুপাক্ষিক সমর্থনকেই বোঝায়। আর ত্রিপাক্ষিক উন্নয়নমূলক সহযোগিতা অন্য দিকে একটি আনুষ্ঠানিক উত্তর-দক্ষিণ-দক্ষিণ উন্নয়নমূলক সম্পর্ককে বোঝায়।(৫) এই পার্থক্যটি বিশ্লেষণাত্মক ভাবে উপযোগী হলেও বাস্তবে প্রায়শই একটিকে অপরটির পরিবর্ত হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমনটা এই নিবন্ধেও করা হয়েছে।

অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) ত্রিভুজাকার উন্নয়ন অংশীদারিত্বে তিন শক্তির নামকরণ করেছে:

  1. সুবিধাভোগী অংশীদার / গ্রহীতা দেশ: এমন একটি উন্নয়নশীল দেশ, যে একটি নির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক সমস্যা সমাধানের জন্য সহায়তা প্রত্যাশা করে।
  2. প্রধান অংশীদার: এমন একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেটি সংশ্লিষ্ট পরিসরে প্রমাণিত অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের জন্য তার জ্ঞান, দক্ষতা এবং সম্পদ ভাগ করে নেয়।
  3. সুবিধা প্রদানকারী অংশীদার: এমন একটি উন্নত দেশ, যে সুবিধাভোগী এবং প্রধান অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতার জন্য প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।(৬)

নিশ্চিত ভাবে এ কথা বলা যায় যে, ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব কোনও নতুন পদ্ধতি নয় এবং এটির প্রথম উল্লেখ করা হয়েছিল ১৯৭৮ সালের বুয়েনস আইরেস প্ল্যান অফ অ্যাকশনে।(ক)(৭) যদিও এখনও পর্যন্ত ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে খুব সামান্য ভূমিকাই পালন করেছে। বর্তমানে ওইসিডি অনুসারে সারা বিশ্বে ৯২১টি ত্রিভুজাকার প্রকল্প চলছে।(৮)

ফোর্ডলোন (২০০৯), অ্যাশঅফ (২০১০) এবং পাওলোর (২০১৮) মতো গবেষকরা ত্রিভুজাকার সহযোগিতায় ভারতের সম্পৃক্ততা নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। বিশেষ করে পরিকাঠামো খাতে এই অংশীদারিত্বে ভূ-রাজনীতি কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সে বিষয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। এই নিবন্ধটি সেই শূন্যস্থানই পূরণ করার চেষ্টা করে এবং ত্রিভুজাকার সহযোগিতার, বিশেষ করে পরিকাঠামো খাতে সুযোগগুলির উপর নিরীক্ষা চালায়। প্রথম অনুচ্ছেদে ত্রিভুজাকার সহযোগিতাকে প্রভাবিত করে, এমন বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে এই ধরনের অংশীদারিত্বের সঙ্গে জড়িত প্রতিবন্ধকতার কথা খতিয়ে দেখা হয়েছে; তৃতীয় অনুচ্ছেদে ভারতের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে; চতুর্থ অনুচ্ছেদে উদাহরণ দর্শিয়ে নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভৌত পরিকাঠামো খাতের উপযুক্ততা অন্বেষণ করা হয়েছে; এবং পঞ্চম অনুচ্ছেদে ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য মূল নীতি সুপারিশগুলির রূপরেখা প্রদান করা হয়েছে৷ এই নিবন্ধটি পরোক্ষ সূত্রের উপর নির্ভর করে এবং ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আলোচিত চিন্তাভাবনাকেই তুলে ধরে। (রাউন্ড টেবিলের বিশদ বিবরণের জন্য পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য।)

1. কেন ত্রিভুজাকার সহযোগিতা?

হাইডেন (২০০৮) উল্লেখ করেছেন যে, উন্নয়ন সহযোগিতা শুধু নীতিই নয়, রাজনীতিও বটে।(৯) ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার জন্য একটি উন্নয়নমূলক পদ্ধতি হিসাবে ত্রিভুজাকার সহযোগিতার উত্থান লক্ষ করা যায়। প্রথমত, ওইসিডি-র ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স কমিটির (ডিএসি)(খ) অধীনে পশ্চিমী সাহায্যের সমালোচনা এবং ত্রাণকে আরও কার্যকর করে তোলার জন্য সমান্তরাল আহ্বান। দ্বিতীয়ত, চিন, ব্রাজিল এবং ভারতের মতো উদীয়মান দেশগুলির অর্থনৈতিক উত্থান, যা সেই সময় তাদের নিজ নিজ উন্নয়নমূলক সহযোগিতা কর্মসূচি প্রসারিত করতে শুরু করেছিল।

ডিএসি দাতারা ক্রমবর্ধমান সমালোচনার সম্মুখীন হয় কারণ তাদের ত্রাণ দারিদ্র্য বিমোচন বা গ্রহীতা দেশগুলিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সূচিত করে না।(১০) ২০০৫ সালে প্যারিস ডিক্লারেশন অন এড ইফেক্টিভনেস(গ) আন্তর্জাতিক উন্নয়নের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে চেয়েছিল এবং ত্রাণকে আরও কার্যকর করে তোলার জন্য পাঁচটি নীতি নির্ধারণ করেছিল:

  1. মালিকানা: উন্নয়নশীল দেশগুলির উচিত তাদের নিজস্ব উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নির্ধারণ করা, তাদের প্রতিষ্ঠানের উন্নতি সাধন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা।
  2. সমন্বয়: দাতা দেশ এবং সংস্থাগুলিকে অবশ্যই এই কৌশলগুলির সঙ্গে তাদের সমর্থনকে সাযুজ্যপূর্ণ করতে হবে এবং স্থানীয় ব্যবস্থাগুলিকে কাজে লাগাতে হবে৷
  3. সংহতিকরণ: দাতা দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির উচিত তাদের কাজগুলির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা, পদ্ধতিগুলিকে সরল করা এবং পুনরাবৃত্তি এড়াতে তথ্য ভাগ করা নেওয়া৷
  4. ফলাফলের জন্য ব্যবস্থাপনা: উন্নয়নশীল দেশ এবং দাতারা সরেজমিনে ফলাফল পরিমাপের জন্য মনোযোগী হওয়া।
  5. পারস্পরিক দায়বদ্ধতা: দাতা দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশ উভয়কেই অংশীদারিত্ব প্রকল্পের উন্নয়ন ফলাফলের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হবে।(১১)

কয়েক বছর পরে ২০০৮ সালে অ্যাক্রা এজেন্ডা ফর অ্যাকশন(ঘ) বিভিন্ন উন্নয়নমূলক শক্তির মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয় এবং বৃহত্তর ত্রাণ কার্যকারিতার জন্য ত্রিভুজাকার সহযোগিতা বিকাশের আহ্বান জানায়।(১২) বোগোতা স্টেটমেন্ট(ঙ) এবং ২০১০ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের সেক্রেটারি জেনারেলের রিপোর্টের মতো নীতি নথিতেও ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামস (ইউএনডিপি) স্পেশ্যাল ইউনিট এবং ইউএনইসিওএসওসি-এর ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফোরাম ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের প্রচার চালায়। বিএপিএ+৪০(চ) ফলাফলের নথির ২৮তম অনুচ্ছেদে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে যে, ত্রিভুজাকার সহযোগিতা সমস্ত অংশীদারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং প্রাপক দেশগুলির সুবিধার জন্য নানা ক্ষমতাকে একত্র করে।(১৩)

এছাড়া ওইসিডি-র উন্নয়নমূলক সহযোগিতা অধিদপ্তরের পরিচালক জর্জ মোরেরা দা সিলভা জোর দিয়েছিলেন যে, ‘উত্তর এবং দক্ষিণের নেতাদের অবশ্যই তাদের নিজ নিজ মডেলের মধ্যে সমন্বয় এবং পরিপূরকতা তৈরির কথা ভাবতে হবে। এর বৈশিষ্ট্য অনুসারে, ত্রিভুজাকার সহযোগিতা এমন একটি রূপান্তরমূলক পদ্ধতি, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতার উদ্ভাবনী এবং নমনীয় সমাধান প্রদান করে। যেমন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে, যেটিতে বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, জনহিতৈষী, শিক্ষাগত এবং উপ-জাতীয় শক্তি-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’(১৪)

নতুন দাতাদের উত্থান

গবেষকরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ভারত, ব্রাজিল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে চিনের মতো ডিএসি বহির্ভূত দাতাদের উত্থান – যাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘উদীয়মান দাতা’, ‘নতুন দাতা’ বা ‘দক্ষিণ দাতা’ হিসাবে উল্লেখ করা হয় – আন্তর্জাতিক ত্রাণ ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে ওইসিডি দেশগুলি আর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পরিসরে একমাত্র দাতা ছিল না, যা চিনের মতো ডিএসি বহির্ভূত দাতাদের আবির্ভাবের ফলে ২০০০-এর দশক থেকে শুরু করে নাটকীয় ভাবে তার উন্নয়নমূলক সহযোগিতা কার্যক্রমকে প্রসারিত করেছিল।(১৫)

মডস্লের (২০১৫) মতে, দক্ষিণ হল ‘শৃঙ্খলা বিষয়ক’ এবং উত্তর হল ‘হিতকর প্রদানকারী’… এই ধারণাটি দক্ষিণের দাতাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।(১৬) প্রাথমিক ভাবে, পশ্চিমী গবেষক এবং ভাষ্যকাররা ডিএসি বহির্ভূত উন্নয়নমূলক শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য তাদের পদ্ধতির সমালোচনা করেছিলেন। অবশেষে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ওইসিডি দেশগুলি উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সমান বাকস্বাধীনতা প্রদান না করে কিছুতেই এগোতে সক্ষম হবে না।(১৭) কিছু গবেষক এই দাবিও করেন যে, ডিএসি বহির্ভূত দাতাদের বছরের পর বছর অবদান থাকা সত্ত্বেও ডিএসি দাতারা তাদের প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করেছে। চিনের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির দ্রুত সম্প্রসারণ ডিএসি দাতাদের অশান্ত করে তুলেছিল। কারণ তারা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে একই সুবিধা প্রদান বন্ধ করে দেয় যেখানে বর্তমানে চিনা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।(১৮)(১৯) মডস্লে আরও যুক্তি দেন যে, ডিএসি দাতারা প্রাথমিক ভাবে আশা করেছিলেন যে, দক্ষিণের দাতারা পশ্চিমী নিয়ম এবং অনুশীলনের সঙ্গে মানিয়ে নেবে। যদিও ত্রাণ কার্যকারিতা সংক্রান্ত ২০১১ সালের উচ্চ পর্যায়ের ফোরামে ওইসিডি-ডিএসি দাতাদের ব্রাজিল, ভারত এবং চিনকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য কাঠখড় পোড়াতে হয় এবং একটি বৈশ্বিক চুক্তির জন্য তারা এর বিনিময়ে ছাড় দিতে ইচ্ছুক ছিল।(২০)

দক্ষিণের দাতারা তাদের অভিন্ন লক্ষ্য এবং বাধ্যবাধকতার মধ্যে আবদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে ব্যাপক ভাবে প্রতিরোধ করেছে এবং বেশির ভাগ প্রাপক দেশ দক্ষিণের দেশগুলির উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়েছে। অনেক পশ্চিমী দাতার সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিপরীতে, ভারত, ব্রাজিল এবং চিনের মতো দেশগুলির সঙ্গে যারা ঔপনিবেশিক ভার বহন করে চলে না, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিশ্বায়নের একটি কার্যকর বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে পশ্চিম থেকে দাতব্য প্রাপকদের পরিবর্তে সমান অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই দেশগুলি প্রথাগত দাতাদের দ্বারা সমর্থিত নির্দেশমূলক দাতা-গ্রহীতা মডেলকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের পাশাপাশি পারস্পরিক সুবিধা এবং ‘নো-স্ট্রিংস’ বা ‘পিছুটানহীন’ চাহিদা-চালিত উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় উন্নয়ন অংশীদারদের থেকে প্রতিযোগিতা প্রাথমিক ভাবে এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করলেও নীতির সংগতি এবং অভিন্নতার জন্য স্বতন্ত্র পরিসর তৈরি করে নেয়।(২১)

মডস্লে (২০১৫) বলেছেন যে, অনেক ডিএসি দেশ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দক্ষিণী শক্তিগুলির সঙ্গে সহযোগিতা, সহ-শিক্ষা এবং অংশীদারিত্বের চেষ্টা চালাচ্ছে।(২২) এক কথায়, দক্ষিণের দাতাদের উপর ডিএসি-র অবস্থান সন্দেহ থেকে মুক্তমনা হয়েছে এবং অংশীদারিত্বের ইচ্ছায় পরিণত হয়েছে। সুতরাং, উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে একটি ‘চাহিদা-চালিত’ অংশীদারিত্বের ধারণাকে সশক্ত করে, ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব আরও বেশি সংহতি, পারস্পরিকতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, যা পশ্চিমের নেতৃত্বে উন্নয়নমূলক সহায়তার চিরাচরিত মডেলে অনুপস্থিত ছিল।

চিনের প্রসঙ্গ

বর্তমান দক্ষিণের দাতাদের মধ্যে চিন একটি বিশেষ অবস্থানে রয়েছে। কারণ অন্য কোনও দেশই তার আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবে না এবং তাই ডিএসি দাতাদের সাহায্যের শীর্ষ উত্স হিসাবে তাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় না। আন্তর্জাতিক পরিকাঠামো বাজারে চিনের আধিপত্য পশ্চিমা দেশগুলিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। কারণ এর পরিকাঠামো ঋণদান কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী কৌশলগত শক্তিকে তার পক্ষে নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গত দুই দশকে চিনের অর্থায়নে এবং ফ্ল্যাগশিপ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর (বিআরআই) অধীনে পরিকল্পিত পরিকাঠামোর শৃংখলও নজিরবিহীন। এই প্রকল্পগুলি এমন এক সময়ে গড়ে উঠছে, যখন পশ্চিম বিশ্বব্যাপী পরিকাঠামোগত পটভূমি থেকে মূলত অনুপস্থিত। বাতাইনে, বেনন এবং ফুকুইয়ামা (২০১৮) বলেছেন যে, পশ্চিমী প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের ঝুঁকি-বিমুখতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়ার কারণে পরিকাঠামো খাতে নেতৃত্ব চিনের হাতে তুলে দিয়েছে, যা পরিকাঠামোর জন্য ঋণ প্রদানকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। অন্য দিকে চিন সাধারণত অতিরিক্ত মূল্যায়নে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প থেকে সুবিধা এবং ঝুঁকির পরিপন্থী নয়।(২৩)

বিশেষ করে আফ্রিকা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান চিনা উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পশ্চিম ও ভারতের মধ্যে ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে উচ্চতর আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল আলোচনার(ছ) এক জন বিশেষজ্ঞের মতে, ‘আমাদের ত্রিপাক্ষিকতা দরকার। কারণ আমাদের চিন এবং তার মূল্য ব্যবস্থার মোকাবিলা করতে হবে। কোনও দেশের পক্ষেই এমনটা একা করা সম্ভব নয়। তাই এমনটা সম্ভব করতে আমাদের একত্র হতে হবে।’(২৪) আফ্রিকা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক… এই দু’টি অঞ্চল যেখানে চিন পরিকাঠামো খাতে আধিপত্য চালায়, সেখানে চিনা প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য ত্রিপাক্ষিকতাই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

কয়েক জন গবেষক পশ্চিম ও ভারতের মধ্যে বৃহত্তর অংশীদারিত্বের পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মডস্লে (২০১৫) স্বল্প ঋণ, বসতির উন্নয়ন এবং স্বল্প মূল্যের ওষুধের ব্যাপক প্রবিধানের মতো ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদানের কারণে আন্তর্জাতিক উন্নয়নে ভারত যে ভূমিকা পালন করতে পারে, তা উপেক্ষা করার জন্য ডিএসি দাতাদের সমালোচনা করেছেন।(২৫) একই ভাবে, ওয়েশবাখ (২০২২) মনে করেন যে, আফ্রিকা এবং ভারতের সঙ্গে ইউরোপের ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব ইউরোপকে একটি বহুকেন্দ্রিক বিশ্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উভয়ের জনসংখ্যাগত শক্তি থেকে উপকৃত হতে সাহায্য করবে, যেখানে চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি দ্বিমুখী বিশ্ব ইতিমধ্যেই বিদ্যমান।

ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের প্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থানে (চতুর্থ অনুচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে) সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একটি রূপান্তর ঘটেছে এবং ভারত এখন আফ্রিকা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতে কিছু ডিএসি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপনে ইচ্ছুক। পাওলো (২০১৮) অনুরূপ ভাবনারই অনুরণন ঘটান। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, চিনের বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে ভারতের নেতিবাচক ধারণা ধীরে ধীরে চিরাচরিত দাতাদের দেশটির অতীত সমালোচনাকে প্রতিস্থাপন করছে।(২৬) একই সময়ে একাধিক চিরাচরিত দাতা দেশ বর্তমানে চিনের সঙ্গে ভারসাম্য আনতে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

2. ত্রিভুজাকার সহযোগিতার গুণাবলি

উত্তর-দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সেরা বৈশিষ্ট্যগুলিকে সমন্বিত করা

ত্রিভুজাকার সহযোগিতা ত্রাণ প্রদানের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। কারণ এটি চিরাচরিত ডিএসি দাতা এবং দক্ষিণ দাতা উভয়েরই তুলনামূলক সুবিধার সমন্বয় ঘটায়। প্রধান এবং সুবিধাভোগী দেশগুলির মধ্যে উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে নানাবিধ মিলের কারণে প্রধান দেশগুলি দক্ষতার অবদান রাখতে সক্ষম যা সুবিধাভোগী দেশগুলির প্রয়োজনের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। প্রধান দেশগুলির বিশেষজ্ঞ, পরিষেবা এবং প্রযুক্তির মূল্য উন্নত দেশগুলির তুলনায় কম এবং ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বও এ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে পারে৷ এর পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করা উন্নয়নমূলক সহযোগিতাকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জের সমাধানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে।

স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে অবদান

ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব অন্তত তত্ত্বগতভাবে সমমনস্কদের মধ্যে সহযোগিতার একটি পথ তৈরির চেষ্টা করে, যা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয়, দারিদ্র্য এবং জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক পরিকাঠামোর অভাবে ঘটা সবচেয়ে বিপজ্জনক সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান প্রদানের চেষ্টা চালায়। এর পরিবর্তে এই পরিসরে ইতিবাচক ফলাফলগুলি স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে — যেটির জন্য বিশ্বব্যাপী অন্বেষণ কোভিড-১৯ অতিমারি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৯ সালে বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বিতীয় উচ্চ স্তরের সম্মেলনে (বিএপিএ+৪০) অংশগ্রহণকারীরা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ত্রিভুজাকার সহযোগিতা স্থিতিশীল উন্নয়ন কর্মসূচিতে অবদান রাখে। এসডিজি-র বহুমাত্রিক এবং পারস্পরিক প্রকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিভুজাকার সহযোগিতার বহুমুখী মডেল তাদের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যথার্থ ভাবে সাড়া দেয়।(২৭) এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বার্ষিক আর্থিক ব্যবধানের সঙ্গে(২৮) ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব তহবিল উৎস সম্প্রসারণ এবং এসডিজি-তে অগ্রগতির মাধ্যমে একাধিক সঙ্কটের সমাধান খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।(২৯)

আরও দক্ষ এবং কার্যকর উন্নয়নমূলক পরিষেবা

ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিলে অংশগ্রহণকারীরা একমত হয়েছেন যে, ত্রিভুজাকার সহযোগিতা একটি বহু-অংশীদারিত্ব পদ্ধতি যা সম্পদের সঞ্চয়, সহ-সৃষ্টি এবং ত্রাণ কার্যকারিতার মতো সুবিধা প্রদান করে। এ ধরনের অংশীদারিত্বগুলি কম খরচে উন্নয়নমূলক সমাধানেরও সুযোগ করে দেয়, যা আরও ভাল এবং আরও দক্ষ উন্নয়নমূলক পরিষেবা প্রদানে অবদান রাখে।(৩০)

উন্নয়নমূলক সহযোগিতা প্রদানকারী হিসাবে উন্নয়নশীল দেশগুলির সক্ষমতা তৈরি করা

ভারতের মতো কিছু উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নমূলক সহযোগিতায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থাকলেও তাদের উন্নয়নমূলক বাজেটের আকার এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাত্রা শুধুমাত্র সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসি দাতাদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলি তাদের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করার সময় কিছু সর্বোত্তম অনুশীলন শিখতে পারে, যার ফলে তাদের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা কর্মসূচির বিতরণকে উন্নত করা সম্ভব হবে। প্রথাগত দাতাদের সঙ্গে কাজ করা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতায় অবদান রাখতে পারে। কারণ আরও বেশি সংখ্যক উন্নয়নশীল দেশ উন্নয়নমূলক সহযোগিতা প্রদানকারীর ভূমিকা পালন করে।

ডিএসি দাতা এবং দক্ষিণ উন্নয়ন শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সশক্তিকরণ

ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব ডিএসি দাতা, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা প্রদানকারী এবং প্রাপক দেশগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করা আখেরে আঞ্চলিক সমন্বিতকরণেরও উন্নতি সাধন করতে পারে।

3. ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের প্রতিবন্ধকতা চাহিদার ত্রিপাক্ষিক সমাপতন’-এর প্রয়োজনীয়তা

ত্রিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব তখনই সফল হতে পারে, যখন তিনটি অংশীদার দেশ একটি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করতে সম্মত হয়। তবে তা অর্জন করা প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ দেশগুলির আরও একাধিক অগ্রাধিকার এবং ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে তারা সম্পৃক্ত হতে ইচ্ছুক।

বাস্তবায়নে বিলম্ব

ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই এ বিষয়ে একমত যে, ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন এবং তিনটি অংশীদার দেশের আমলাতান্ত্রিক পরিকাঠামোগত পার্থক্যের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পগুলি প্রায়শই বিলম্বিত হয়।(৩১) নানা গবেষণা দর্শিয়েছে যে, অংশীদার দেশগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব একটি ত্রিভুজাকার বিন্যাসে উন্নয়ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে বাধা দেয়।(৩২)(৩৩)

সংগ্রহের নিয়ম, আর্থিক পরিকাঠামো এবং আইনি পরিকাঠামোর বিষয়ে স্পষ্টতা/চুক্তির অভাব

ওআরএফ-এর আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা এই ধারণাটি ভাগ করে নিয়েছেন যে, ক্রয়ের নিয়ম, আর্থিক পরিকাঠামো এবং আইনি পরিকাঠামোর বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব বা মতানৈক্য ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বকে বাধা প্রদান করে। নিবন্ধটিতে এই বিষয়েই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফোর্ডলোন (২০০৯) বলেছেন যে, বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের নানা রকম পদ্ধতি প্রায়শই অংশীদারদের জন্য সাধারণ গুণমান এবং পদ্ধতিতে সহমত পোষণকে আরও কঠিন করে তোলে।(৩৪)

এ ক্ষেত্রে ভারতের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে ভারত অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সুবিধার নীতির উপর জোর দেয়। ভারতের ক্রেডিট প্রোগ্রামের লাইন(জ) দেশের উন্নয়ন সহযোগিতার একটি স্তম্ভ ছাড়াও ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য একটি প্রবেশের হাতিয়ার এবং বাজার বৈচিত্র্যের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ভারতীয় লাইন অফ ক্রেডিট প্রোগ্রামের অধীনে ৭৫ শতাংশ ইনপুট ভারত থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং ভারতীয় সংস্থাগুলি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। ত্রিভুজাকার প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ ভারতীয় ব্যবস্থার সঙ্গে মতানৈক্য খুঁজে পায় এবং তাদের নিজস্ব সংস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল বৈঠকে কয়েক জন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, ভারতীয় এমএসএমই-কে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব থাকলেও বড় ভারতীয় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।(৩৫)

গ্রহীতা দেশগুলির মধ্যে দ্বিধা

ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেন যে, প্রাপক দেশগুলি প্রায়শই ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে সম্পৃক্ত হতে অনিচ্ছুক। ফোর্ডলোনের মতো বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কলম ধরেছেন।(৩৬)(৩৭) উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আফ্রিকা মহাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি উন্নত দেশের অংশীদারদের আরোপিত সমস্ত নিয়ম এবং গুণমান মেনে চলা কষ্টসাধ্য বলে মনে করে(৩৮) এবং ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে অংশ নিতে আরও বেশি অনিচ্ছুক যা দু’টি অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রাপক দেশগুলি সংস্থা এবং দুই অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করার সাপেক্ষে তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয় পায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং মহাদেশের নির্দিষ্ট দেশগুলি ইইউ-এর ত্রিপাক্ষিক পদ্ধতির প্রস্তাব গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সামান্য আগ্রহই দর্শিয়েছে।(৩৯)

বেশ কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে পার্থক্যের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে করা হয়, তখন তারা উত্তর-দক্ষিণ শ্রেণিবিন্যাসের পুনর্বিন্যাস করতে পারে।(৪০) অনেক বছর আগেই যদিও ম্যাকইওয়ান এবং মডস্লে (২০১২) লিখেছিলেন যে, তিনটি শক্তিশালী দেশের মধ্যে অসম ক্ষমতার সম্পর্ক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি করে, যা সমাধান করা কঠিন।(৪১) যদিও ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের প্রবক্তারা প্রায়শই দাবি করেন যে, একটি দক্ষিণ অংশীদারের উপস্থিতি প্রাপক দেশের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়ায়… সে কথা প্রমাণ করার জন্য খুব কম উদাহরণই রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, গবেষণাগুলি এই ইঙ্গিতই দেয় যে, প্রাপক দেশগুলির স্বার্থ প্রায়শই দাতাদের অগ্রাধিকার এবং পরিকাঠামোর অধীনস্থ হয়। অ্যাশঅফ যুক্তি দিয়েছেন, প্রথাগত দাতা দেশ এবং প্রধান দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা প্রায়শই কেন্দ্রবিন্দুতে এসে পৌঁছয় যখন প্রাপক দেশগুলির উদ্বেগ চরমে ওঠে।(৪২) এটির প্রাথমিক কারণ হল চিরাচরিত দাতারা প্রধানত উদীয়মান দাতাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত হতে আগ্রহী। একই ভাবে প্রধান দেশটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে চিরাচরিত দাতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। এ ছাড়াও ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব যে প্রাপক দেশগুলির জন্য ভাল তা প্রমাণ করার মতো খুব কম অভিজ্ঞতামূলক উদাহরণ রয়েছে।(৪৩)

উচ্চ প্রশাসনিক এবং লেনদেন ব্যয়

ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে একাধিক অংশীদারের উপস্থিতি সামঞ্জস্যকে বাধাগ্রস্ত করে এবং প্রশাসনিক ও লেনদেনের ব্যয় বৃদ্ধি করে।(৪৪)(৪৫) এ কথা প্রকল্পটির প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য বিশেষ ভাবে সত্যি যেখানে উন্নয়ন অংশীদারগুলি তাদের সম্পৃক্ততার কার্যকলাপ ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চালায়। দীর্ঘ ও জটিলতর আলাপ-আলোচনা ও দর কষাকষি খরচ বৃদ্ধি করে। স্বল্প মানব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা-সহ প্রাপক সরকারের জন্য ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলি পরিচালনা করা বিশেষ ভাবে কঠিন হতে পরে। কম ব্যয়বহুল পরিষেবা এবং প্রযুক্তির ফলে সংরক্ষিত খরচের তুলনায় উচ্চতর প্রশাসনিক এবং লেনদেনের ব্যয়গুলিও বিচার করা দরকার। এর ফল স্বরূপ, একটি ত্রিভুজাকার প্রকল্পে খরচ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট  উপসংহার টানা কঠিন।

সীমিত পরিসর এবং সুযোগ

নানা প্রমাণ দর্শিয়েছে যে, ত্রিভুজাকার সহযোগিতা উদ্যোগের পরিসর এবং সুযোগ বেশ সীমিত। তা সত্ত্বেও এই উদ্যোগগুলির বেশির ভাগই একটি প্রকল্প-ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করে, যা নিয়ে প্যারিস ঘোষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, এতে সুবিধাভোগী দেশগুলির বৃহত্তর উন্নয়ন লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। ফোর্ডলোন (২০০৯) আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, একাধিক ত্রিভুজাকার প্রকল্প পুনরাবৃত্ত প্রচেষ্টা, ছড়িয়ে যাওয়া সম্পদ এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি করতে পারে।(৪৬)

4. ত্রিভুজাকার সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা

চতুর্বেদী এবং পিয়েফার-সয়লার (২০২১) উল্লেখ করেছেন যে, ভারত স্বাধীনতার পর প্রথম দিকে বেশ কয়েকটি ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে যুক্ত ছিল।(৪৭) ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে ভারতের অংশগ্রহণের প্রথম উদাহরণগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল নেপাল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৯৫০-এর দশকে একটি পরিকাঠামো প্রকল্পে।(৪৮) যদিও প্রাথমিক বছরগুলির পরে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের উপর বেশি মনোযোগ দেওয়ায় ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলিতে ভারতের অংশগ্রহণ হ্রাস পায়। প্রথাগত  দাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব তৈরির পরিবর্তে ভারত ‘তৃতীয় বিশ্বের’ সংহতির শৃঙ্খলে তার নিজস্ব উন্নয়ন সহযোগিতা মডেল গঠনে মনোনিবেশ করেছে, যেখানে কোনও শর্ত নেই এবং অ-নির্দেশমূলক অংশীদারিত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়েছে। ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার এই নীতিগুলি তাকে ওইসিডি-ডিএসি দাতাদের থেকে আলাদা করে। যদিও ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ভারত ধীরে ধীরে ত্রিভুজাকার সহযোগিতার বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করে। অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পরিচালিত বহুপাক্ষিক উদ্যোগেও তার সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০০৩ সালে ভারত আফগান শিশুদের উদ্দেশ্যে পুষ্টিকর বিস্কিট সরবরাহ করার জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়।(৪৯)

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ত্রিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে প্রবেশ করার বিষয়ে আরও অবাধ হয়ে উঠেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে ভারতের সংযুক্তি বাড়তে শুরু করেছে। প্রধানত রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরের মাধ্যমে শুরু হওয়া ওইসিডি-ডিএসি সদস্য দেশগুলির সঙ্গে দেশটির বর্ধিত সম্পৃক্ততার ফল এটি।(৫০) ২০১৪ সালে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য ত্রিভুজাকার সহযোগিতার নীতিমালার বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে।(৫১) ভারতের বিদেশমন্ত্রক এবং পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ (বর্তমানে ফরেন, কমনওয়েলথ এবং ডেভেলপমেন্ট অফিস), ইউকে ‘তৃতীয় দেশে সহযোগিতার জন্য অংশীদারিত্বের অভিপ্রায়ের বিবৃতিতে’ স্বাক্ষর করেছে, যা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অন্যান্য দেশকে যৌথ ভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে।(৫২)

২০১৭ সালে ভারত ও জার্মানির মধ্যে অনুষ্ঠিত চতুর্থ আন্তঃসরকারি আলোচনায় দুই দেশই অন্যান্য দেশকে সহায়তা করা এবং তাদের ব্যবসাগুলিকে আফ্রিকায় সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অন্বেষণে উৎসাহিত করতে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়।(৫৩) ২০১৭ সালে ভারত এবং জাপান যৌথ ভাবে আফ্রিকার উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য এশিয়া আফ্রিকা গ্রোথ করিডোর প্রোগ্রাম (বর্তমানে প্রজেক্ট ফর ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক) চালু করেছে। এ ভাবে ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে জড়িত হওয়ার জন্য উচ্চ স্তরের রাজনৈতিক ইচ্ছা ভারতীয় পক্ষ থেকে বেশ সুস্পষ্ট। চতুর্বেদী এবং সয়লার (২০২১) পর্যবেক্ষণ করেন যে দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গিগুলি ধীরে ধীরে আরও জটিল অনুভূমিক অংশীদারিত্ব দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, যা দৃষ্টিভঙ্গির পরিপূরকতা, পারস্পরিক শিক্ষা এবং সকলের জন্য সুবিধার উপর নির্ভর করে।(৫৪) ভারতীয় কর্মকর্তারাও উন্নয়নমূলক সহায়তার দুটি ভিন্ন ব্যবস্থাকে একত্র করার অসুবিধা স্বীকার করে নিলেও তারা বর্তমানে দক্ষিণের সুবিধার বৃহত্তর লক্ষ্যের জন্য প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম করতে ইচ্ছুক।(৫৫)

পাওলো (২০১৮) জোর দিয়ে বলেছেন যে, উন্নয়ন সহযোগিতার একটি প্রধান প্রদানকারী হয়ে ওঠা ভারতকে চিরাচরিত দাতাদের সাথে আরও সমান পদে আসীন করেছে এবং ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে সাহায্য করেছে।(৫৬) যদিও সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত ভারতের জন্য ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে জড়িত হওয়ার জন্য কোনও স্পষ্ট প্রণোদনা ছিল না। মডস্লে (২০১৫) এ-ও দাবি করেছেন যে, ডিএসি বহির্ভূত দাতারা ডিএসি দাতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং যোগাযোগের মাধ্যমে লাভবান হতে পারলেও(৫৭) ডিএসি দাতাদের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য তাদের খুব সামান্য প্রণোদনাই রয়েছে।(৫৮) ইন্দো-প্যাসিফিক, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সীমান্ত অচলাবস্থার আলোকে, ওইসিডি দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বে ভারতের নতুন করে আগ্রহের নেপথ্যে অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা।(৫৯)

যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের অনন্য বৈশিষ্ট্য হল এর কৌশলগত অভিযোজন, উচ্চ স্তরের রাজনৈতিক চুক্তি দ্বারা সমর্থিত ত্রিভুজাকার বিন্যাসে তার অভিজ্ঞতা মিশ্রিত হয়েছে। ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল বৈঠকে এক জন অংশগ্রহণকারী উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলির সাফল্য আনুষঙ্গিক প্রকৃতির।(৬০) সেই প্রকল্পগুলি বিন্যাসের ভিত্তিতে ত্রিভুজাকার ছিল না।(৬১) এমন উদাহরণও রয়েছে, যেখানে ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলি আদৌ বাস্তবায়িত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, আদ্দিস আবাবায় একটি আইসিটি সেন্টার ফর এক্সিলেন্সের জন্য ভারত-ইউএই-ইথিওপিয়া অংশীদারিত্ব। প্রকল্পের বিন্যাসের অধীনে ইথিওপিয়ান সরকার জমি প্রদান করলেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সেই স্থাপত্যের নির্মাণের জন্য দায়বদ্ধ ছিল এবং ভারতের ভাগে পড়েছিল হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের দায়িত্ব। ইথিওপিয়ান সরকার প্রকল্পের জন্য জমি প্রদান করতে না পারায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যায়নি।(৬২)

অন্য দিকে বেশিরভাগ সফল ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলি অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। পাওলো (২০১৮) এবং চতুর্বেদী ও সয়লার (২০২১) জোর দিয়েছিলেন যে, ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে ভারতের বর্তমান মডেলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হল ভারতের অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি যেমন নাগরিক সমাজ সংস্থাগুলি।(৬৩)(৬৪) অনেক ভারতীয় এনজিও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং তাদের উদ্ভাবন অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে সহজেই অনুসরণ করা সম্ভব। এর ফলস্বরূপ, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ আফ্রিকা এবং এশিয়ায় ভারতীয় এনজিওগুলিকে সমর্থন করেছে৷ কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল, জয়পুর ফুট (ভগবান মহাবীর বিকলাঙ্গ সহায়তা সমিতি), বেয়ারফুট কলেজ এবং দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (টিইআরআই)।(ঝ) কারণ ভারত ব্রিটেনের উন্নয়ন সহযোগিতার পদ্ধতির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।(৬৫) এই শূন্যতা হয়তো নাগরিক সমাজই পূরণ করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সংযোগ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এশিয়া-আফ্রিকা গ্রোথ করিডোর কৌশলগত এবং পরিকাঠামোগত মনোযোগ ও প্রকল্পের মাত্রার দরুন একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে। যদিও প্রকল্পের এখনও পর্যন্ত সীমিত অগ্রগতিই হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০২০ সালে গৃহীত ইইউ-ভারত সংযোগ অংশীদারিত্বে স্থিতিশীল সংযোগের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক, আর্থিক, জলবায়ু এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের বিষয়গুলি বিবেচনা করে। ২০২২ সালে ভারত এবং ব্রিটেন তৃতীয় দেশে তাদের উদ্ভাবনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে(৬৬) ভারতীয় উদ্ভাবকদের সমর্থন করার জন্য গ্লোবাল ইনোভেশন পার্টনারশিপ চালু করে এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং অন্যান্য ভৌগোলিক অঞ্চলে বৃহৎ অঙ্কের বিনিয়োগ প্রকল্পে বেসরকারি ক্ষেত্রের উদ্যোগকে সহায়তা জোগানোর জন্য ত্রিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতা (টিডিসি) তহবিলের সূচনা করে। ভারত টিডিসি তহবিলের মাধ্যমে ভারত-ইউকে গ্লোবাল ইনোভেশন পার্টনারশিপে ১৯.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।(৬৭) তবে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্রিটেন এই বছরের শুরুতে একটি নতুন উন্নয়নমূলক কৌশল হিসাবে ব্রিটিশ বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব (বিআইপি) গ্রহণ করেছে। এটি বেসরকারি খাতের সঙ্গে বছরে ৮ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত সংগ্রহ করার লক্ষ্য স্থির করেছে।(৬৮) একাধিক বিশ্লেষক এই নতুন উন্নয়ন কৌশলটিকে উন্নয়নমূলক পরিসরে তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্রিটেনের প্রচেষ্টা হিসাবে ব্যাখ্যা করেন।(৬৯)

5. পরিকাঠামোয় ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব

পরিকাঠামো খাতকে এর উচ্চ হারের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্পের দীর্ঘ সময়কাল এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তার কারণে প্রায়শই ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের জন্য বিশেষ ভাবে উপযোগী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়াও পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে যা আসলে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নেরই প্রধান ইনপুট। রোজেনবার্গ এবং ফে-র (২০১৯) বক্তব্য অনুসারে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিকে (এলএমআইসি) তাদের সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ তাদের পরিকাঠামো খাতে ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।(৭০)জি২০-র গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার হাব রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোম্পানির গবেষণা এই বিশাল অর্থায়নের ব্যবধানকেই প্রমাণ করে।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, পরিকাঠামো বিনিয়োগে বছরে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘাটতি রয়েছে — অর্থাৎ বৈশ্বিক জিডিপি-র প্রায় ১.৪ শতাংশ।(৭১) এটি অনুমান করে নেয় যে, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে পরিকাঠামো সম্পর্কিত এসডিজি অর্জন করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে তাদের জিডিপি-র প্রায় ৪.৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হবে ।(৭২) ২০২০ সালে প্রকাশিত ওইসিডি অনুমান অনুসারে, বার্ষিক বিনিয়োগে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে দূষণহীন পরিকাঠামো অর্জন করা যেতে পারে — অর্থাৎ সেই বিনিয়োগের পরিমাণ হল ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৬.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।(৭৩) অবশ্য এ ক্ষেত্রে অপরিহার্য হল স্থিতিশীল পরিকাঠামোয় সময়োপযোগী বিনিয়োগ। আর্থিক চাহিদার পরিমাপের পরিপ্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য তাদের পরিকাঠামোগত চাহিদা পূরণ করা কঠিন। একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা যেখানে দেশগুলি তাদের আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং মানবসম্পদ একত্র করে, তা আরও কার্যকর হতে পারে৷

আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে, চিন বর্তমানে বৈশ্বিক পরিকাঠামোর পরিসরে আধিপত্য বিস্তার করছে। ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব অন্য দেশগুলির জন্য বৈশ্বিক পরিকাঠামো খাতে তাদের উপস্থিতি প্রসারিত করা এবং চিনা পরিকাঠামো মডেলের মোকাবিলা করার সুযোগ করে দেয়। চিনের আগ্রাসী কৌশলগত অভিপ্রায় এবং তার বিআরআই প্রকল্প ইতিমধ্যেই অনেক দেশকে পরিকাঠামো খাতে ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের সুযোগ অন্বেষণে পরিচালিত করেছে। ২০১৯ সালে ইউএস-অস্ট্রেলিয়া-জাপান ত্রিপাক্ষিক ‘উচ্চ মানের, বিশ্বস্ত বৈশ্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের মানকে ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজকে একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকাঠামোয় একত্র করার জন্য ব্লু ডট নেটওয়ার্ক চালু করেছে।’(৭৪) ২০২২ সালের জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জি৭ দেশগুলির সঙ্গে পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট (পিজিআইআই) চালু করেছেন ‘পরিস্থিতি বদলকারী পরিবর্তনমূলক প্রকল্পগুলি সরবরাহ করতে, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ২০২৭ সালের মধ্যে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে পরিকাঠামোগত ব্যবধান কমানো যায়।’(৭৫) চতুর্পাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপের (কোয়াড) অধীনে, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী পাঁচ বছরে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিকাঠামো বিনিয়োগকে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সম্মিলিত ভাবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বৃদ্ধি করতে চাইছে।(৭৬) ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে ভারত, ইজরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ‘পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, শিল্পের জন্য কম কার্বন উন্নয়নের পথ, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি এবং জটিল উদীয়মান উন্নয়নে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাতের পুঁজি এবং দক্ষতা একত্র করার জন্য আইটুইউটু গঠন করেছে।’(৭৭)

ত্রিভুজাকার উন্নয়ন বিন্যাসের জন্য পরিকাঠামো খাতের উপযুক্ততা সত্ত্বেও ভৌত পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি সাধারণত বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক ছাড়পত্রে পরিপূর্ণ। এ ছাড়াও ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলির সাধারণত একটি ছোট পরিমাপ থাকে (ফোর্ডলোন ২০০৯)।(৭৮)

6. ভারতের ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের জন্য পরামর্শ

ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি ২০০০-এর দশক থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর বর্তমান উন্নয়ন সহযোগিতা প্রতিশ্রুতি অনেক উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনীয়। মুলেন প্রমুখ (২০১৪) অনুসারে, ২০১৩ সালে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা বাজেট ২৩ ওইসিডি-ডিএসি দাতাদের মধ্যে ছ’টির বৈদেশিক সহায়তা বাজেটের চেয়ে বেশি ছিল। ক্রয় ক্ষমতার সমতা শর্ত অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা বরাদ্দ কানাডার মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলির তুলনায় বেশি ছিল।(৮০) পরিকাঠামো হল ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এবং দেশটি তার ক্রেডিট প্রোগ্রামের লাইনের অধীনে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকায় বেশ কয়েকটি পরিকাঠামো প্রকল্প তৈরি করছে। যদিও ভারত তার উন্নয়ন প্রকল্পের বিতরণের সঙ্গে বেশ যুঝছে এবং তার ক্রেডিট প্রোগ্রামের লাইনের ব্যবহারের হারও কম।(৮১) অবশ্য ভারতের বিদেশমন্ত্রক তার ক্রেডিট প্রোগ্রামের কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা করেছে। তাই দেশটিকে আরও সংস্থান বিনিয়োগ করতে হবে এবং বিতরণ ও ফলাফলের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

ভারত একটি বড় ব্যবধানের উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে তার ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্য প্রায় ছ’দশক অতিবাহিত করেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে তার উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ বিস্তৃত করেছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পটভূমিতে একটি বৃহত্তর ভূমিকা পালন করার জন্য দেশটির বর্তমানে উচিত তার উন্নয়নমূলক সহযোগিতার পরিষেবা উন্নত করার দিকে মনোনিবেশ করা। পাসসির (২০২১) মতো গবেষকরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা বর্তমানে চাহিদা-চালিত, ‘নো-স্ট্রিং’ বা পিছুটানহীন সহায়তা থেকে আরও কৌশলগত উন্নয়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত যা তার ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃহত্তর উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণ করতে আগ্রহী হবে।(৮৩) পাসসি আরও পরামর্শ দেন যে, ভারত তার দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের সঙ্গে একটি প্রদানকারী হিসেবে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, তার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, অর্থ এবং দক্ষতার ক্ষেত্রে সমমনস্ক দেশগুলির সঙ্গে ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব ভারতীয় পরিকাঠামো সংস্থাগুলিকে তাদের প্রতিযোগিতার উন্নতি করতে এবং দেশটিকে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রদানকারী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে৷ আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের প্রতি ভারতের চিরাচরিত দ্বিধা কাটিয়ে উঠলেও পরিকাঠামো খাতে সহযোগিতা সীমিত। দেশটির পরিকাঠামো খাতে আরও কার্যকর ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের জন্য প্রচেষ্টা করা উচিত যা প্রাপক দেশগুলির জন্য উপকারী হবে।

নিম্নলিখিত অনুচ্ছেদগুলি সফল ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের জন্য নির্দিষ্ট সুপারিশগুলির রূপরেখা প্রদান করে:

  • অংশীদার দেশগুলির মধ্যে আরও আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন

ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই লক্ষ করেছেন যে তিনটি অংশীদার দেশে আইনি, নিয়ন্ত্রক এবং আমলাতান্ত্রিক পরিকাঠামোর পার্থক্য প্রায়ই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব এবং বিলম্বের দিকে পরিচালিত করে।(৮৪) ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব সফল হওয়ার জন্য অংশীদার দেশগুলিকে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মসৃণ বাস্তবায়নের সুবিধার্থে প্রকল্পের ধারণা থেকে সরাসরি কার্যকর আলাপ-আলোচনায় জড়িত হওয়া উচিত। বিভিন্ন দফার আলোচনা সময়সাপেক্ষ হলেও অংশীদারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে এবং সহ-সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে তা সাহায্য করতে পারে।

  • নমনীয়তার প্রয়োজন

একটি ত্রিভুজাকার প্রকল্পের অংশীদারদের সকলের জন্য একই মডেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। বেশির ভাগ ত্রিভুজাকার প্রকল্পে সংগ্রহ, বাস্তবায়ন, ঝুঁকি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে সাধারণ ভিত্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বেশির ভাগ প্রাপক দেশ, বিশেষ করে আফ্রিকায়, স্থিতিশীলতা ইউরোপীয় ধারণা এবং তাদের প্রয়োজনীয় নিয়ম ও গুণমান মেনে চলা কষ্টকর বলে মনে করে।(৮৫) এটি একটি প্রধান কারণ কেন চিনা প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করা হয়। সর্বোপরি কিছু উন্নত দেশ আফ্রিকার শুধুমাত্র বিনিয়োগক্ষম দেশগুলির সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করে, বরং ভারী ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলির (এইচআইপিসি)(ঞ) সঙ্গে নয়; যদিও আফ্রিকার সব দেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশগুলির তাদের পদ্ধতিতে নমনীয় হওয়ার চেষ্টা করা উচিত এবং প্রাপক দেশগুলির জন্য বাস্তবায়ন সহজতর করা উচিত।

  • ব্যাঙ্কের উপর নির্ভরযোগ্য প্রকল্পগুলির একটি তালিকা তৈরি করা

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক জন একটি তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন, যা প্রতি বছর প্রতিটি যোগ্য ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০টি ব্যাঙ্কের উপর নির্ভরযোগ্য প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করতে সহায়তা করবে। এটি আফ্রিকা মহাদেশের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ব্যাঙ্কের উপর নির্ভরযোগ্য প্রকল্পের অভাব রয়েছে।

  • আর্থিক পরিকাঠামো

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক জন ত্রিভুজাকার সহযোগিতার জন্য একটি হাইব্রিড আর্থিক মডেলের পরামর্শ দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ রূপে ঋণের উপর নির্ভর করে। কারণ উন্নয়নশীল বিশ্বের বেশির ভাগই ইতিমধ্যেই বিপুল ঋণের দায়ে ভুগছে।(৮৬)  একটি হাইব্রিড আর্থিক মডেল ত্রিভুজাকার সহযোগিতার জন্য আরও উপযুক্ত বলে বিবেচিত হতে পারে। ওআরএফ-এর এক জন অংশগ্রহণকারী পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, এক বার তিনটি অংশীদার একটি প্রকল্পে একমত হলে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ উদ্দেশ্য বাহন(ট) (এসপিভি) গঠন করা উচিত।(৮৭) এসপিভিকে পেশাদার ভাবে পরিচালনা হওয়া উচিত এবং ভারত বা উন্নত দেশের অংশীদারের সংগ্রহের নিয়মের পরিবর্তে এসপিভি-র সংগ্রহের নিয়মগুলি প্রয়োগ করা উচিত। এ ছাড়াও প্রকল্পের উপযুক্ততার উপর নির্ভর করে(৮৮) জিজিজি, জিজিবি, বিবিজি বা বিবিবি-র(ঠ) বিভিন্ন ধরনের অংশীদারিত্ব গড়ে উঠতে পারে। একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে গ্লোবাল ইনোভেশন ফান্ড।

  • প্রাপক দেশের চাহিদার উপর মনোনিবেশ করা

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশিরভাগ প্রাপক দেশ ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের পক্ষে নয়। অন্য দিকে, সফল ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের জন্য প্রাপক দেশগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় মালিকানাও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং প্রাপক দেশগুলিকে বোঝানো এবং তাদের আস্থা অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা করা উচিত। প্রাপক দেশগুলি ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব থেকে লাভবান হতে পারে যদি তারা এই ধরনের পরিকাঠামোয় কর্মসূচি নির্ণয়ের ভূমিকা নেয়। উন্নয়নশীল দেশগুলিও যদি এক দাতাকে অন্য দাতার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে না দিয়ে উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে পরিপূরকতা এবং সমন্বয়ের দিকে মনোনিবেশ করে, তবে তারা আরও বেশি লাভবান হবে।

প্রাপক দেশগুলিকে অবশ্যই ত্রিভুজাকার বিন্যাসে তাদের উন্নয়ন কর্মসূচি নির্ণয় করার কাজে উৎসাহ জোগাতে হবে। তাদের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের উপর মনোনিবেশ করা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল উপায়গুলির অন্যতম। প্রতিটি প্রাপক দেশের নিজস্ব চাহিদা এবং উন্নয়ন চাহিদা রয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, অংশীদার দেশগুলি বিভিন্ন প্রাপক দেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্পের নকশা তৈরি করে এবং প্রকল্পগুলি চাহিদা-চালিত হওয়া উচিত। অংশীদার দেশগুলিকে আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) কানেক্টিভিটি ২০২৫(ড), আফ্রিকান ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম(ঢ) এবং এজেন্ডা ২০৬৩(ত) আসিয়ান অঞ্চল এবং আফ্রিকাতে উপযুক্ত প্রকল্পগুলির জন্য মাস্টার প্ল্যানে তালিকাভুক্ত অগ্রাধিকারগুলি উল্লেখ করা উচিত।(৮৯) স্থানীয় আইন ও ব্যবস্থাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া চলাকালীন সুবিধাভোগী দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।(৯০)

এটি এমন একটি অঞ্চল যেখানে চিনের বিআরআই প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। একটি সঠিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অনুপস্থিতিতে বিআরআই প্রাপক অর্থনীতির পরিবর্তে চিনা অর্থনীতিতে একটি প্রেরণা প্রদানের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।(৯১) সমমনস্ক দেশগুলির সাথে ভারতের ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বে চিনা মডেল এড়িয়ে চলা উচিত এবং উন্নয়নের ঘাটতি মোকাবিলা করা এবং তৃতীয় দেশে সক্ষমতা তৈরি করার চেষ্টা চালানো উচিত।

  • বৃহত্তর এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে নামার আগে ছোট আকারের প্রকল্পগুলিতে সফল ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব প্রদর্শন করা

ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল বৈঠকের এক জন বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে, দেশগুলির মৌলিক মান বজায় রাখা এবং গুণমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যূনতম উচ্চাকাঙ্ক্ষা-সহ একটি ত্রিভুজাকার বিন্যাসে ছোট আকারের পাইলট প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত। একটি পাইলট প্রকল্প তৈরি করার সময় অংশীদার দেশগুলিকে অবশ্যই প্রাপকের চাহিদাগুলির মূল্যায়ন করতে হবে। এটি পরিমিত হলেও ফলাফলের সময় লেনদেনের খরচ কম রাখতে সাহায্য করবে। ছোট প্রকল্পের সাফল্য অংশীদারদের মধ্যে আস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যার ফলে প্রাপক দেশগুলির ত্রিভুজাকার সহযোগিতার ক্ষেত্রে মানসিক প্রতিরোধ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

  • ওইসিডি-ডিএসি গুণমানগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কোনও দায়বদ্ধতা নেই

ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা একটি কার্যকর পরীক্ষার ক্ষেত্র, যাতে উদীয়মান এবং চিরাচরিত দাতারা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে উপকৃত করতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। যদিও তাদের ওইসিডি মান এবং অনুশীলনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার দায়বদ্ধতা সম্ভবত বিতর্কের উত্স হতে পারে কারণ কিছু উদীয়মান দাতা তাদের নিরপেক্ষতাকে দুর্বল করে এমন পরিকাঠামোকে প্রতিহত করতে সক্ষম। অ্যাশঅফ-এর (২০১০) মতে, উদীয়মান দাতাদের উচ্চ মানের উন্নয়ন সহায়তা প্রদানের অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতা না থাকলে ত্রিভুজাকার সহযোগিতায় গুণমান হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গুণমান এবং সম্মতি বিতর্কের ক্ষেত্রে একটি বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

  • সমন্বিত ও সহযোগিতামূলক পদ্ধতির অগ্রাধিকার দেওয়া

ভূমিকা এবং দায়িত্ব সংক্রান্ত বিভ্রান্তির কারণে ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলি বিলম্বিত হয়। অংশীদারদের তাদের তুলনামূলক সুবিধা অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। ওআরএফ-এর রাউন্ড টেবিল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক জন বলেছেন যে, ত্রিভুজাকার সহযোগিতার দুটি মডেল বা পন্থা রয়েছে – যথা, সমন্বিত এবং সহযোগিতামূলক পদ্ধতি। একটি সমন্বিত মডেলের ক্ষেত্রে অংশীদাররা একটি প্রকল্প চিহ্নিত করে এবং নিজেদের মধ্যে কাজগুলি ভাগ করে নেয়; একটি সহযোগিতামূলক মডেলে সমস্ত অংশীদাররা প্রকল্পের সূচনা পর্যায় থেকে একসঙ্গে কাজ করে। প্রাথমিক বছরগুলিতে সমন্বিত পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ সমস্ত পদক্ষেপে একসঙ্গে কাজ করা প্রাথমিক বছরগুলিতে বিভ্রান্তি এবং বিলম্বের জন্ম দিতে পারে। সমন্বিত মডেলের অধীনে কয়েকটি ত্রিভুজাকার প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পরে দেশ এবং সংস্থাগুলি একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে শিখবে এবং তখন সহযোগী মডেলটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

  • নাগরিক সামাজিক সংস্থা, স্টার্ট আপ এবং বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা

ওআরএফ-এর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক জন ভারতের নাগরিক সামাজিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় প্রযুক্তি স্টার্ট-আপগুলির ভূমিকার উপর জোর দিয়েছিলেন। সম্প্রদায়, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ত্রিভুজ অংশীদারিত্বগুলি সরকার থেকে সরকারের (জি২জি) ভূমিকার বাইরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। চতুর্বেদী এবং পাইফার-সয়লার (২০২১) এবং সুরি ও রেড্ডির (২০২১) মতো বেশ কয়েক জন বিশেষজ্ঞও বিশ্বের সামনে উপস্থিত একই ধরনের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সিএসও-এর উদ্ভাবন চিহ্নিত করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।(৯২)(৯৩)

  • ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রশমনই হল চাবিকাঠি

সফল ত্রিভুজাকার সহযোগিতার প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে উচ্চ লেনদেন ব্যয়। যেহেতু ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের কোনও সাধারণ ভাবে সম্মত আর্থিক পরিকাঠামো নেই, তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ যে অংশীদারদের একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পে সম্পর্কিত ঝুঁকির মাত্রা এবং পরিমাণ মূল্যায়ন করা। একটি সঠিক ঝুঁকি মূল্যায়নও ঝুঁকি বণ্টনে সাহায্য করবে যেগুলি বিবাদের ফলে সৃষ্ট। রাউন্ড টেবিল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক জন এই পরামর্শ দিয়েছেন যে, ঝুঁকি কমানোর জন্য তৃতীয় দেশে প্রমাণিত ও পরীক্ষিত উদ্ভাবনই প্রয়োগ করা উচিত।(৯৪)

উপসংহার

বর্তমান বৈশ্বিক আবশ্যকতা হল কার্যকর উন্নয়নমূলক সহযোগিতা। ত্রিভুজাকার সহযোগিতা একটি অংশীদারিত্বের পদ্ধতি হিসাবে অনেক কিছু প্রদান করে। এটি উন্নয়ন সহযোগিতার পরিসরে জটিলতাগুলিকে আরও ভাল ভাবে প্রতিফলিত করে যাকে আর ‘উত্তর’ এবং ‘দক্ষিণ’-এ বিভক্ত করা যায় না। আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পটভূমি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং উত্তর আর বিশ্বের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত নেতা নয়। ভারতের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ অভ্যন্তরীণ ভাবে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সময় কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অত্যাধুনিক পর্যায়ে রয়েছে। ভারত এবং অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলিও ক্রমবর্ধমান ভাবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর ভূমিকা পালন করতে চায়৷

যেহেতু বেশি সংখ্যক দেশ উন্নয়ন সহযোগিতা প্রদান এবং তাদের কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার দ্বৈত ভূমিকা গ্রহণ করে, ত্রিভুজাকার সহযোগিতা সমমনস্ক দেশগুলির মধ্যে পছন্দের উন্নয়ন পদ্ধতি হিসাবে উঠে আসতে পারে। সফল ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উন্নয়নমূলক সহযোগিতা মডেলের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলিকে একত্র করে এবং উন্নয়ন ফলাফলের আরও ভাল সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে পারে, যার ফলে এসডিজি অর্জনে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব চিনের উন্নয়ন অর্থায়নের বিকল্প প্রদান করে একটি বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের অভিমুখে কাজ করার একটি গঠনমূলক উপায় হতে পারে। পরিকাঠামো খাতটিও ত্রিভুজাকার বিন্যাসের জন্য বিশেষ ভাবে উপযোগী। ত্রিভুজাকার বিন্যাসের অধীনে নতুন আর্থিক মডেলগুলি তাদের উপরে ঋণের বোঝা যোগ না করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পরিকাঠামো সঙ্কট মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। যদিও ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্বের সফল বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ প্রাপক দেশগুলি মূলত এই ধরনের পরিকাঠামোয় প্রবেশ করতে অনিচ্ছুক। এর পাশাপাশি, ক্রয় বিধি, আর্থিক পরিকাঠামো এবং আইনি পরিকাঠামোর বিষয়ে চুক্তির অভাবের কারণে বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের ক্ষেত্রে ত্রিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে দেরিতে প্রবেশ করার দরুন ফলাফল এখনও পর্যন্ত উত্সাহব্যঞ্জক হয়নি। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলির অংশগ্রহণের ফলে কিছু সাফল্যের আখ্যান থাকলেও বেশিরভাগ ত্রিভুজাকার প্রকল্পগুলি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। ত্রিভুজাকার সহযোগিতার সুবিধাগুলি চিরাচরিত এবং ডিএসি বহির্ভূত দক্ষিণ দাতাদের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলিকে একত্র করার উপর নির্ভরশীল। যদি অংশীদাররা সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়, অনুশীলনে ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব শুধু মাত্র উভয়ের সবচেয়ে খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলিকেই একত্র করতে পারে। এটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পটভূমিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেবে। কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে, ত্রিভুজাকার অংশীদারিত্ব দেশগুলির মধ্যে স্তরবিন্যাসকে স্থায়ী করতে পারে।

এই গবেষণাপত্রটি ভারতের জন্য উন্নয়ন সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধনী হিসেবে ত্রিভুজাকার সহযোগিতাকে দর্শায়। পাশাপাশি এই পরামর্শও দেয় যে, পদ্ধতিটিকে কার্যকর করে তুলতে প্রাপক দেশগুলির স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করা, নতুন আর্থিক মডেলগুলি খুঁজে বের করা এবং অংশীদারদের আরও বেশি আলাপ-আলোচনায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।


মালঞ্চ চক্রবর্তী ওআরএফ-এর সিনিয়র ফেলো।

স্বাতী প্রভু ওআরএফ-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

 


পরিশিষ্ট:

ওআরএফ রাউন্ড টেবিল আলোচনা  

‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

১৩ অক্টোবর ২০২২ / অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন, নয়াদিল্লি

অংশগ্রহণকারী

১. মধুসূদন শ্রীধরন, জয়েন্ট সেক্রেটারি, ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, মিনিস্ট্রি অফ এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স, গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া

২. অশ্বিনী কুমার, আন্ডার সেক্রেটারি, ইউরোপ (ওয়েস্ট), মিনিস্ট্রি অফ এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স, গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া

৩. ড. গীতাঞ্জলি নটরাজ, ডিরেক্টর (রিসার্চ), সার্ভিসেস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (এসপিইসি), নিউ দিল্লি

৪. নন্দিতা বড়ুয়া, কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইন্ডিয়া, দি এশিয়া ফাউন্ডেশন

৫. লরেন্ট লে দানোইস, টিম লিডার, ইউরোপিয়ান ডেলিগেশন টু ইন্ডিয়া অ্যান্ড ভুটান

৬. উচান চ্যাং, ডিরেক্টর, কেওআইসিএ, ইন্ডিয়া

৭. অ্যাম্বাস্যাডর গুরজিৎ সিং, ফর্মার ইন্ডিয়ান অ্যাম্বাস্যাডর টু জার্মানি এবং চেয়ারপার্সন, কনফেডারশন অফ ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই) টাস্ক ফোর্স অন ট্রাইল্যাটেরাল কোঅপারেশন ইন আফ্রিকা

৮. শাওন রায়, অধ্যাপক, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশনস (আইসিআরআইইআর), নিউদিল্লি

৯. কিয়োকো হোকুগো, মিনিস্টার (ইকনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), এম্বাসি অব জাপান

১০. অ্যাম্বাস্যাডর নবদীপ সুরি, ডিস্টিংগুইশড ফেলো, ওআরএফ

১১. ড. নীলাঞ্জন ঘোষ, ডিরেক্টর, সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোমেসি এবং ওআরএফ কলকাতা

১২. ড. মালঞ্চ চক্রবর্তী, সিনিয়র ফেলো এবং ডেপুটি ডিরেক্টর (রিসার্চ), ওআরএফ

১৩. ড. স্বাতী প্রভু, অ্যাসোসিয়েট ফেলো, ওআরএফ

১৪. বেন মেলর, ডিরেক্টর ফর ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ওশানস, এফসিডিও

১৫. শান্তনু মিত্র, (হেড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড আর্বান), এফসিডিও

১৬. ইভলিন অ্যাশটন গ্রিফিথস, পলিটিক্যাল অ্যান্ড সিকিউরিটি টিম, এফসিডিও

১৭. ডেভিড হোয়াইট, পলিটিক্যাল অ্যান্ড সিকিউরিটি টিম, এফসিডিও

১৮. মোহিত সিপ্পি, ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওনাল টিম, এফসিডিও


পাদটীকা

[ক] ১৩৮টি দেশের প্রতিনিধি দল আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে ১৯৭৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার (টিসিডিসি) প্রচার ও বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মসূচি পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

[খ] ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স কমিটি হল বিশ্বের বৃহত্তম দাতাদের একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। বর্তমানে এর ৩১ জন সদস্য রয়েছে।

[গ] ২০০৫ সালে প্যারিসে বর্ধিত সহায়তা কার্যকারিতার লক্ষ্যে যৌথ অগ্রগতির উপর দ্বিতীয় উচ্চ স্তরের মঞ্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফলাফল ছিল প্যারিস ঘোষণা, যার লক্ষ্য ছিল ত্রাণকে আরও কার্যকর করার মৌলিক নীতিগুলি নির্ধারণ করা।

[ঘ] থার্ড হাই লেভেল ফোরাম অন এড ইফেক্টিভনেস (এইচএলএফ-৩) ২০০৮ সালে ঘানার আক্রায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি প্যারিস নীতির উপর ভিত্তি করে বিস্তৃত সাহায্য অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করেছে।

[ঙ] ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত, বোগোতা বিবৃতিটি কলম্বিয়ার বোগোতায় দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন সম্পর্কিত উচ্চ স্তরের সমাবেশে গৃহীত হয়েছিল।

[চ] বিএপিএ+৪০ হল দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার উপর দ্বিতীয় উচ্চ স্তরের সম্মেলন, যা আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে ২০১৯ সালের ২০-২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

[ছ] ওআরএফ রাউন্ড টেবিলটি চ্যাথাম হাউসের নিয়মের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেই কারণে এই বিশেষজ্ঞ এবং এই নিবন্ধে উদ্ধৃত অন্যদের নাম উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

[জ] আ লাইন অব ক্রেডিট হল এমন একটি অর্থায়ন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভারতের এক্সিম ব্যাঙ্ক ভারত থেকে প্রকল্প, সরঞ্জাম, পণ্য এবং পরিষেবা রফতানির জন্য সহায়তা প্রদান করে। এক্সিম ব্যাঙ্ক নিজে থেকে এবং ভারত সরকারের সহায়তায় ঋণের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

[ঝ] ভগবান মহাবীর বিকলাঙ্গ সহায়তা সমিতি (বিএমভিএসএস) হল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের জন্য নিবেদিত বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি ২০ লক্ষেরও বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির পুনর্বাসন করেছে এবং ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য ২৭টি দেশে কর্মরত। বেয়ারফুট কলেজ হল একটি ভারতীয় তৃণমূল স্তরের সংস্থা, যা গ্রামীণ সম্প্রদায়কে স্থিতিশীল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি ৯৬টি দেশে সৌরশক্তি, জল, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে কর্মরত। টিইআরআই হল একটি ভারতীয় সংস্থা, যা শক্তি, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্থিতিশীল পরিসরে কাজ করে। এটি লাইটিং আ বিলিয়ন লাইভস (এলএবিএল) উদ্যোগের অধীনে ১৩টি দেশের ৪৫ লক্ষ মানুষকে ১,৭০,০০০ সৌর লণ্ঠন এবং ৬০,০০০ রান্নার পরিচ্ছন্ন কুকস্টোভ প্রদান করেছে।

[ঞ] এইচআইপিসি হল উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি গোষ্ঠী যাদের উচ্চ মাত্রার দারিদ্র্য এবং ঋণ রয়েছে এবং যেগুলি আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির থেকে বিশেষ সহায়তা পাওয়ার যোগ্য৷

[ট] একটি বিশেষ উদ্দেশ্যের বাহন হল এমন একটি আইনি সত্তা যা একটি বৃহত্তর কর্পোরেশন বা সরকারি সংস্থা থেকে একটি সম্পদ, সহায়ক সংস্থা বা আর্থিক লেনদেন পৃথক করার জন্য প্রতিষ্ঠিত।

[ঠ] জিজিজি বলতে সরকার-সরকার-সরকারি অংশীদারিত্ব বোঝায়। জিজিবি বলতে সরকার-সরকার-ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বোঝায়। বিবিজি ব্যবসা-বাণিজ্য-সরকারি অংশীদারিত্বকে বোঝায়। বিবিবি বলতে ব্যবসা-বাণিজ্য-ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে বোঝায়।

[ড] আসিয়ান কানেক্টিভিটির মাস্টার প্ল্যান (এমপিএসি) ২০২৫ আসলে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভিয়েনতিয়েনে, লাও পিডিআর-এ ২৮/২৯ তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে আসিয়ান নেতাদের দ্বারা গৃহীত হয় এবং যার লক্ষ্য ছিল একটি সংযুক্ত এবং সমন্বিত আসিয়ান অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অন্তর্ভুক্তি, এবং সম্প্রদায়ের একটি বৃহত্তর অনুভূতির প্রচার চালনো। এটি স্থিতিশীল পরিকাঠামো, ডিজিটাল উদ্ভাবন, নির্বিঘ্ন লজিস্টিকস, নিয়ন্ত্রক শ্রেষ্ঠত্ব এবং জনগণের গতিশীলতার পাঁচটি কৌশলগত ক্ষেত্রে ১৫টি উদ্যোগ নিয়ে গঠিত।

[ঢ] আফ্রিকা ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম হল আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক দ্বারা সমর্থিত একটি বহু অংশীদার, বহু শৃঙ্খলী মঞ্চ, যার লক্ষ্য হল মহাদেশের বিনিয়োগ ব্যবধান কমিয়ে আনা। এটি প্রকল্পগুলিকে ব্যাঙ্কের আওতাযোগ্য পর্যায়ে অগ্রসর করার জন্য মূলধন বাড়াতে এবং লেনদেনের ফিনান্সিয়াল ক্লোজার ত্বরান্বিত করার জন্য নিবেদিত।

[ণ] এজেন্ডা ২০৬৩ হল আফ্রিকা মহাদেশকে একটি বৈশ্বিক শক্তিশালায় রূপান্তরিত করার মাস্টার প্ল্যান। এর লক্ষ্য হল দেশটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া এবং প্যান-আফ্রিকানবাদ ও আফ্রিকার নবজাগরণের অধীনে একতা, আত্ম-সংকল্প, স্বাধীনতা, অগ্রগতি এবং সম্মিলিত সমৃদ্ধির জন্য প্যান-আফ্রিকান উদ্যোগের একটি সুনির্দিষ্ট প্রকাশ।

১) ভিটর গাসপার, পাওলো মেডাস এবং রোবের্তো পেররেল্লি, ‘গ্লোবাল ডেট রিচেস আ রেকর্ড ২২৬ ট্রিলিয়ন ডলার’, আইএমএফ ব্লগ, ডিসেম্বর ১৫, ২০২১

২) পিয়ের-অলিভিয়ের গওরিঙ্কাস, ‘গ্লোবাল ইকোনমিক গ্রোথ স্লোজ অ্যান্ড গ্লুমি অ্যান্ড মোর আনসার্টেন আউটলুক’, আইএমএফ ব্লগ, জুলাই ২৬, ২০২২

৩) ‘গ্লোবাল ইকনমি: আউটলুক ওরসেনস অ্যাজ গ্লোবাল রিসেশন লুমস – আইএমএফ’, ইউনাইটেড নেশনস, জুলাই ২৬, ২০২২

৪) সেবাস্তিয়ান পাওলো, ‘ইন্ডিয়া অ্যাপ আ পার্টনার ইন ট্রায়াঙ্গুলার ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: প্রসপেক্টস ফর দি ইন্ডিয়া-ইউকে পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’, ওআরএফ ওয়ার্কিং পেপার, মার্চ ২০১৮

৫) হুয়ুনজু রি, ‘প্রোমোটিং সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন থ্রু নলেজ এক্সচেঞ্জ’ ইন ক্যাটালাইজিং ডেভেলপমেন্ট: আ নিউ ভিশন ফর এড, এইচ খরস, কে মাকিনো এবং ডব্লিউ জং (ওয়াশিংটন ডিসি: ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট, ২০১১), ২৬০-৮০

৬) অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন’

৭) অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন টাইমলাইন’

৮) অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন রিপোজিটরি অফ প্রোজেক্টস’

৯) গোরান হাইডেন, ‘আফটার দ্য প্যারিস ডিক্লেয়ারেশন: টেকিং অন দ্য ইস্যু অব পাওয়ার’, ডেভেলপমেন্ট পলিসি রিভিউ ২৬ (২০০৮): ২৫৯

১০) অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ‘দ্য প্যারিস ডিক্লেয়ারেশন অন এড এফেক্টিভনেস: ফাইভ প্রিন্সিপলস ফর স্মার্ট এড’

১১) অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ‘দ্য প্যারিস ডিক্লেয়ারেশন অন এড এফেক্টিভনেস: ফাইভ প্রিন্সিপলস ফর স্মার্ট এড’

১২) ‘আক্রা এজেন্ডা ফর অ্যাকশন’ (থার্ড হাই লেভেল ফোরাম অন এড এফেক্টিভনেস, আক্রা, ঘানা, সেপ্টেম্বর ২-৪, ২০০৮)

১৩) ‘বুয়েনস আইরেস আউটকাম ডকুমেন্ট অব দ্য সেকেন্ড হাই-লেভেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন’ (আউটকাম ডকুমেন্ট অব সেভেন্টি থার্ড সেশন অফ ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলি, এপ্রিল ৩০, ২০১৯)

১৪) সচিন চতুর্বেদি এবং নাদিন পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’, ওইসিডি ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ওয়ার্কিং পেপার ৮৯, জানুয়ারি ২০২১

১৫) হাইডেন, ‘আফটার দ্য প্যারিস ডিক্লেয়ারেশন: টেকিং অন দি ইস্যু অব পাওয়ার’

১৬) এম্মা মডস্লে, ‘ডেভেলপমেন্ট জিওগ্রাফি ১: কোঅপারেশন, কম্পিটিশন অ্যান্ড কনভার্জেন্স বিটুইন ‘নর্থ’ অ্যান্ড ‘সাউথ’’, প্রোগ্রেস ইন হিউম্যান জিওগ্রাফি ৪১ (২০১৫): ১

১৭) বার্ন্ট বার্জার এবং উয়ে ওয়াসেনবাখ, ‘ইইউ-চায়না-আফ্রিকা ট্রাইল্যাটেরাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: কমন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড নিউ ডিরেকশনস’, ডিসকাশন পেপার নম্বর ২১/২০০৭, ডাশ ইনস্টিটুট ফর এন্টউইক্লাংসপলিটিক (ডিইআই), বন, ২০০৭

১৮) মডস্লে, ‘ডেভেলপমেন্ট জিওগ্রাফি ১: কোঅপারেশন, কম্পিটিশন অ্যান্ড কনভার্জেন্স বিটুইন ‘নর্থ’ অ্যান্ড ‘সাউথ’’

১৯) বার্জার এবং ওয়াসেনবাখ, ‘ইইউ-চায়না-আফ্রিকা ট্রাইল্যাটেরাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: কমন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড নিউ ডিরেকশনস’

২০) মডস্লে, ‘ডেভেলপমেন্ট জিওগ্রাফি ১: কোঅপারেশন, কম্পিটিশন অ্যান্ড কনভার্জেন্স বিটুইন ‘নর্থ’ অ্যান্ড ‘সাউথ’’

২১) লরা ট্রাজবের ওয়াইসবিখ, ‘ইট টেকস টু টু ট্যাঙ্গো’: সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন মেজারমেন্ট পলিটিক্স ইন আ মাল্টিপ্লেক্স ওয়ার্ল্ড’, গ্লোবাল পলিসি ১৩ (২০২২): ৩৩৪

২২) মডস্লে, ‘ডেভেলপমেন্ট জিওগ্রাফি ১: কোঅপারেশন, কম্পিটিশন অ্যান্ড কনভার্জেন্স বিটুইন ‘নর্থ’ অ্যান্ড ‘সাউথ’’

২৩) বুশরা বাতাইনে, মাইকেল বেনন এবং ফ্রানিস ফুকুয়ামা, ‘বেজিং’স বিল্ডিং রুম হাউ দি ওয়েস্ট সারেন্ডারড গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট টু চায়না’, ফরেন অ্যাফেয়ার্স, মে ২১, ২০১৮

২৪) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’, অক্টোবর ১৩, ২০২২

২৫) মডস্লে, ‘ডেভেলপমেন্ট জিওগ্রাফি ১: কোঅপারেশন, কম্পিটিশন অ্যান্ড কনভার্জেন্স বিটুইন ‘নর্থ’ অ্যান্ড ‘সাউথ’’

২৬) পাওলো, ‘ইন্ডিয়া অ্যাজ আ পার্টনার ইন ট্রায়াঙ্গুলার ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: প্রস্পেক্টস ফর দি ইন্ডিয়া-ইউকে পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’

২৭) ওইসিডি, ‘এনেবলিং এফেক্টিভ ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন’, ওইসিডি ডেভেলপমেন্ট পলিসি পেপার নম্বর ২৩, ডিসেম্বর ২০১৯

২৮) ‘ট্রিলিয়নস নিডেড টু ক্লোজ ফিন্যান্স গ্যাপ অন সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস, সেজ ইউএন এক্সপার্ট’, ইউনাইটেড নেশনস, অক্টোবর ২১, ২০২২

২৯) ‘আলিসিয়া বার্সেনা আর্জেস ফর স্ট্রেনদেনিং ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য রিজিয়ন অ্যান্ড ফস্টারিং ইটস রোল অ্যাজ আ ক্যাটালিস্ট অব দ্য পোস্ট-প্যান্ডেমিক রিকভারি’, ইউনাইটেড নেশনস ইকনমিক কমিশন ফর লাতিন আমেরিকান অ্যান্ড দ্য ক্যারিবিয়ান, অক্টোবর ৭, ২০২০

৩০) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৩১) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৩২) গুইদো অ্যাশঅফ, ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন অপারচুনিটিজ, রিস্কস অ্যান্ড কন্ডিশনস ফর এফেক্টিভনেস, স্পেশ্যাল রিপোর্ট, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট, ২০১০

৩৩) তালিতা ইয়ামাশিরো ফোর্ডলোন, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন অ্যান্ড এড এফেক্টিভনেস: ক্যান ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন মেক এড মোর এফেক্টিভ?’ (পেপার প্রেজেন্টেড অ্যাট দ্য পলিসি ডায়লগ অন ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন, মেক্সিকো সিটি, ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯)

৩৪) ফোর্ডলোন, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন অ্যান্ড এড এফেক্টিভনেস: ক্যান ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন মেক এড মোর এফেক্টিভ?’

৩৫) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৩৬) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৩৭) ফোর্ডলোন, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন অ্যান্ড এড এফেক্টিভনেস: ক্যান ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন মেক এড মোর এফেক্টিভ?’

৩৮) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৩৯) বার্জার এবং ওয়াসেনবাখ, ‘ইইউ-চায়না-আফ্রিকা ট্রাইল্যাটেরাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: কমন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড নিউ ডিরেকশনস’

৪০) চেরিল ম্যাকইওয়ান এবং এম্মা মডস্লে, ‘ট্রাইল্যাটেরাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্স ইন ইমার্জিং এড রিলেশনশিপস’, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড চেঞ্জ ৪৩ (২০১২)

৪১) ম্যাকইওয়ান এবং মডস্লে, ‘ট্রাইল্যাটেরাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্স ইন ইমার্জিং এড রিলেশনশিপস’

৪২) অ্যাশঅফ, ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন অপারচুনিটিজ, রিস্কস অ্যান্ড কন্ডিশনস ফর এফেক্টিভনেস

৪৩) লিডিয়া ক্যাব্রাল এবং যে ওয়াইনস্টক, ‘ব্রাজিল: অ্যান ইমার্জিং এড প্লেয়ার’, ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউশন (ওডিআই) ব্রিফিং পেপার ৬৪, লন্ডন: ওডিআই, ২০১০

৪৪) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৪৫) ফোর্ডলোন, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন অ্যান্ড এড এফেক্টিভনেস: ক্যান ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন মেক এড মোর এফেক্টিভ?’

৪৬) ফোর্ডলোন, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন অ্যান্ড এড এফেক্টিভনেস: ক্যান ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন মেক এড মোর এফেক্টিভ?’

৪৭) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৪৮) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৪৯) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৫০) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৫১) ‘ইন্ডিয়া, ইউএন রিনিউ এগ্রিমেন্ট ফর ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ইন আফ্রিকান, এশিয়ান কান্ট্রিজ’, হিন্দুস্থান টাইমস, জুলাই ৩৯, ২০২২

৫২) ‘জয়েন্ট স্টেটমেন্ট অন দ্য ইউকে-ইন্ডিয়া সামিট ২০১৫’, প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো, প্রাইম মিনিস্টারস অফিস, গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া, নভেম্বর ১২, ২০১৫

৫৩) গুরজিত সিং এবং জাহ্নবী ত্রিপাঠী, ইন্ডিয়া ইন আফ্রিকা: ডেভেলপিং ট্রাইল্যাটেরাল পার্টনারশিপ, নিউ দিল্লি, কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ, ২০১৯

৫৪) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৫৫) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৫৬) পাওলো, ‘ইন্ডিয়া অ্যাজ আ পার্টনার ইন ট্রায়াঙ্গুলার ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: প্রস্পেক্টস ফর দি ইন্ডিয়া-ইউকে পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’

৫৭) পাওলো, ‘ইন্ডিয়া অ্যাজ আ পার্টনার ইন ট্রায়াঙ্গুলার ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: প্রস্পেক্টস ফর দি ইন্ডিয়া-ইউকে পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’

৫৮) মডস্লে, ‘ডেভেলপমেন্ট জিওগ্রাফি ১: কোঅপারেশন, কম্পিটিশন অ্যান্ড কনভার্জেন্স বিটুইন ‘নর্থ’ অ্যান্ড ‘সাউথ’’

৫৯) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৬০) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৬১) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৬২) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৬৩) পাওলো, ‘ইন্ডিয়া অ্যাজ আ পার্টনার ইন ট্রায়াঙ্গুলার ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: প্রস্পেক্টস ফর দি ইন্ডিয়া-ইউকে পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’

৬৪) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৬৫) পাওলো, ‘ইন্ডিয়া অ্যাজ আ পার্টনার ইন ট্রায়াঙ্গুলার ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন: প্রস্পেক্টস ফর দি ইন্ডিয়া-ইউকে পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’

৬৬) ‘ক্যাবিনেট গিভস এক্স-পোস্ট ফ্যাক্টো অ্যাপ্রুভাল টু মউ বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইউকে অন গ্লোবাল ইনোভেশন পার্টনারশিপ’, প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো, মে ৫, ২০২১

৬৭) মাধবী গৌড়, ‘এসবিআই সাবসিডিয়ারি অ্যান্ড এমইএ সাইন এগ্রিমেন্ট রিগার্ডিং ট্রাইল্যাটেরাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড’, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, জুলাই ১২, ২০২২

৬৮) ‘দি ইউকে গভর্নমেন্ট’স স্ট্র্যাটেজি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’, প্রেজেন্টেড টু পার্লামেন্ট বাই দ্য সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বাই কমান্ড অব হার ম্যাজেস্টি, মে ২০২২

৬৯) থিও বেল এবং ডেভিড লরেন্স, ‘ডাজ দি ইউকে’জ নিউ ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি সাপোর্ট ইটস ফরেন পলিসি অবজেক্টিভস?’, এক্সপার্ট কমেন্ট, চ্যাথাম হাউস, মে ৩১, ২০২২

৭০) জুলি রোজেনবার্গ এবং ফে মারিঅ্যান, বিয়ন্ড দ্য গ্যাপ: হাউ কান্ট্রিজ ক্যান অ্যাফোর্ড দি ইনফ্রাস্ট্রাকচার দে নিড হোয়াইল প্রোটেক্টিং দ্য প্ল্যানেট, ওয়াশিংটন ডিসি, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক গ্রুপ, ২০১৯

৭১) ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেফিসিট, ফিউচার এজেন্ডা

৭২) জেসন ঝেনগ্রঙ্গ লু, ‘আ সিম্পল ওয়ে টু ক্লোজ দ্য মাল্টি-ট্রিলিয়ন-ডলার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিন্যান্সিং গ্যাপ’, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক ব্লগস, এপ্রিল ১৫, ২০২০

৭৩) অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন দ্য ডেকেড ফর ডেলিভারি: অ্যাসেসিং ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টমেন্ট, প্যারিস, ওইসিডি, ২০২০

৭৪) ইউএস ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স কোঅপারেশন, ‘দ্য লঞ্চ অব মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ব্লু ডট নেটওয়ার্ক’, নভেম্বর ৪, ২০১৯

৭৫) ‘ফ্যাক্ট শিট: প্রেসিডেন্ট বাইডেন অ্যান্ড জি৭ লিডারস ফর্মালি লঞ্চেস দ্য পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’, দি হোয়াইট হাউস, জুন ২৬, ২০২২

৭৬) ‘ফ্যাক্ট শিট: প্রেসিডেন্ট বাইডেন অ্যান্ড জি৭ লিডারস ফর্মালি লঞ্চেস দ্য পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’

৭৭) মিনিস্ট্রি অফ এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স, ‘ফার্স্ট আইটুইউটু (ইন্ডিয়া-ইজরায়েল-ইউএই-ইউএসএ) লিডারস’ ভার্চুয়াল সামিট’, জুলাই ১২, ২০২২

৭৮) ফোর্ডলোন, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন অ্যান্ড এড এফেক্টিভনেস: ক্যান ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন মেক এড মোর এফেক্টিভ?’

৭৯) রানি ডি মুলেন, আইডিসিআর রিপোর্ট: দ্য স্টেট অফ ইন্ডিয়ান ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন, নিউ দিল্লি, সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ, স্প্রিং ২০১৪

৮০) রানি ডি মুলেন, ‘ইন্ডিয়ান ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন রিগেনস মোমেন্টাম: ৭ মেন টেক-অ্যাওয়েজ ফ্রম ইন্ডিয়া’জ ২০১৯-২০ ইউনিয়ন বাজেট’, সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ, পলিসি ব্রিফ, জুলাই ২০১৯

৮১) দেবীরূপা মিত্র, ‘ইন্ডিয়া’জ এড ডিপ্লোমেসি ইজ ওয়রথ ২৪ বিলিয়ন ডলার। বাট হাউ ওয়েল ইজ দ্য মানি বিয়িং স্পেন্ট?’ দ্য ওয়্যার, জুন ১৬, ২০১৭

৮২) মালঞ্চ চক্রবর্তী, ‘ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন টুওয়ার্ডস দ্য এসডিজিজ: দি ইন্ডিয়া মডেল’, ওআরএফ অকেশনাল পেপার নম্বর ৩৬৯, সেপ্টেম্বর ২০২২, অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন

৮৩) ঋতিকা পাসসি, ‘ইন্ডিয়া’জ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিপ্লোমেসি ইন আ কম্পিটিটিভ ইন্দো-প্যাসিফিক’, পার্থ ইউএস এশিয়া সেন্টার, ২০২১

৮৪) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৮৫) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৮৬) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৮৭) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৮৮) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৮৯) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

৯০) ফোর্ডলোন, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন অ্যান্ড এড এফেক্টিভনেস: ক্যান ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন মেক এড মোর এফেক্টিভ?’

৯১) ‘চায়না’জ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ হ্যাজ নেগেটিভ ইমপ্যাক্টস অন পার্টনার কান্ট্রিজ: রিপোর্ট’, দ্য প্রিন্ট, জানুয়ারি ২৭, ২০২৩

৯২) চতুর্বেদি এবং পিয়েফার-সয়লার, ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন উইথ ইন্ডিয়া: ওয়ার্কিং উইথ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস’

৯৩) নবদীপ সুরি এবং অনুরাগ রেড্ডি, ‘বিয়ন্ড গভর্নমেন্ট: রোল অব নিউ অ্যাক্টরস ইন ইন্ডিয়া’জ ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন’ ইন আ ২০৩০ ভিশন ফর ইন্ডিয়া’জ ইকনমিক ডিপ্লোমেসি, মালঞ্চ চক্রবর্তী এবং নবদীপ সুরি সম্পাদিত (নিউ দিল্লি: ওআরএফ অ্যান্ড গ্লোবাল পলিসি জার্নাল, ২০২১), ২২২-২৭

৯৪) ওআরএফ রাউন্ডটেবিল: ‘ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ইন দ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর – অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Swati Prabhu

Swati Prabhu

Dr Swati Prabhu is Associate Fellow with theCentre for New Economic Diplomacy (CNED). Her research explores the interlinkages between Indias development partnerships and the Sustainable ...

Read More +
Malancha Chakrabarty

Malancha Chakrabarty

Dr Malancha Chakrabarty is Senior Fellow and Deputy Director (Research) at the Observer Research Foundation where she coordinates the research centre Centre for New Economic ...

Read More +