Published on Apr 21, 2023 Updated 0 Hours ago

কিয়েভকে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করা সমীচীন না কি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ করার জন্য সময় নেওয়া… মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চালিত ইউক্রেনের সমর্থকরা এই দ্বন্দ্বের সম্মুখীন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এক ক্ষয়িষ্ণু পর্যায়ে প্রবেশ করেছে

১৪ মার্চ কৃষ্ণ সাগরের উপর রুশ সামরিক বিমান দ্বারা একটি মার্কিন ড্রোনকে ভূপাতিত করার ঘটনা অবিলম্বে ইউক্রেনের সংঘাতকে ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরিণত করার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

এ ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকলেও সম্ভবত এই পর্যায়ে সকল পক্ষই পরিস্থিতিকে শান্ত করার চেষ্টা চালাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চালিত পশ্চিমী শক্তি বা রাশিয়া কেউই বর্তমানে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত বা ইচ্ছুক নয়।

তবুও ঘটনাটি ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং তার গতিপথ সম্পর্কে কিছু সমালোচনামূলক প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বর্তমানের পরিস্থিতি মনে হচ্ছে পূর্ব ইউক্রেনে তার অবস্থানের উন্নতি ঘটাতে যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও রাশিয়া তা পুনরুদ্ধার করেছে। গত বছর ইউক্রেনীয় বাহিনী পূর্ব এবং দক্ষিণ ইউক্রেনের কিছু হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করলেও তাদের অগ্রগতি বিগত পাঁচ মাস যাবৎ স্তব্ধ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগগুলি এখনও পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য রুশ অগ্রগতির দিকে চালিত করেনি। কয়েক জন সামরিক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে, যুদ্ধটি একটি অচলাবস্থার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং অন্যদের মতে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে, যদি রুশরা আগামী বসন্তে আক্রমণ চালায় এবং যার প্রস্তুতিও তারা নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যেভাবেই দেখা হোক না কেন, যুদ্ধটি এক ক্ষয়িষ্ণু পর্যায়ে প্রবেশ করেছে যেখানে রাশিয়া ধীরে ধীরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাকে পিষে দিচ্ছে।

গত বছর ইউক্রেনীয় বাহিনী পূর্ব এবং দক্ষিণ ইউক্রেনের কিছু হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করলেও তাদের অগ্রগতি বিগত পাঁচ মাস যাবৎ স্তব্ধ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ধীর গতিতে হওয়ার পাশাপাশি পাশ্চাত্যে যুদ্ধ সম্পর্কে জনসাধারণের ধারণাও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। অনেকেই এই ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধকে শুধুমাত্র ইউক্রেনীয় জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধির কারণ রূপে মনে করছেন এবং তাই তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, দুই যুযুধান পক্ষকে অবিলম্বে আলাপ-আলোচনায় বাধ্য করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো জরুরি। কিন্তু নজরদারি শক্তিগুলি এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য ট্যাঙ্ক, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য উন্নত মঞ্চ প্রদানের মাধ্যমে ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী সমর্থন জোগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই মনোভাবের পিছনে যথেষ্ট সহানুভূতি এবং সমর্থন থাকার ফলে যদি শেষপর্যন্ত এই পথেই এগোনো হয় তা হলে ইউক্রেন সংঘাত ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘর্ষের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

এ ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত যুদ্ধাস্ত্রের ধরন এবং পরিমাণই কেবল নয়, সেগুলির কার্যকারিতা অধিক বিপজ্জনক। পাশ্চাত্য শক্তিগুলি ইউক্রেনকে আধুনিক ট্যাঙ্ক এবং যুদ্ধবিমান দিয়ে সমর্থন জোগালেও এই প্রক্রিয়াটি কার্যকর হতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। ইউক্রেনীয় সেনাদের এই যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে কমপক্ষে উক্ত সময়কালের প্রয়োজন হবে।

কিন্তু বাস্তব সামরিক পরিস্থিতি ইউক্রেনের সমর্থকদের কাছ থেকে শান্তি বা যুদ্ধ… যার জন্যই হোক না কেন, আরও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করে। তাই কিছু পূর্ব ইউরোপীয় দেশ সম্ভাব্য রুশ অগ্রগতির জোয়ার রোধ করার আশায় দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করার পরামর্শ দিচ্ছে।

রুশ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, কয়েক ডজন ট্যাঙ্ক বা যুদ্ধবিমান যুদ্ধের অনুকূল ধারাকে পরিবর্তন করবে, এমন সম্ভাবনা নেই, বরং তা আরও কঠিন করে তুলবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্যটি হল, অবিলম্বে জোগান দেওয়া হলেও এই যুদ্ধাস্ত্রগুলিকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রাক্তন ওয়ারশ চুক্তির সদস্যদের ভান্ডারে এখনও কয়েকটি পুরনো সোভিয়েত যুদ্ধবিমান রয়েছে এবং এগুলিকে দ্রুত ইউক্রেনে স্থানান্তর করা যেতে পারে। ইউক্রেনীয় পাইলটরা আগে প্রশিক্ষিত হওয়ায় অথবা এ ধরনের কাজ আগে করায় এই বিমান পরিচালনা, এমনকি সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও তাদের কোনও সমস্যা হবে না।

কিন্তু এই বিমানগুলিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য, যে বিমানক্ষেত্র থেকে তারা উড়ান নেবে, সেগুলির জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ইউক্রেনীয় বিমানঘাঁটির পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য নির্ধারিত রুশ প্রচেষ্টাকে থামাতে ইউক্রেনের কাছে পুরনো সোভিয়েত প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে নির্মিত কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও তা পরিমাণগত বা গুণগত কোনও দিক থেকেই যথেষ্ট নয়।

এই সমস্যার সমাধানগুলি হল – অত্যাধুনিক পশ্চিমী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন বা প্রতিবেশী দেশগুলির বিমানঘাঁটি থেকে সেগুলি পরিচালনা করা। উভয় বিকল্পেরই একাধিক পরিণাম হতে পারে।

পশ্চিমী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ‘দ্রুত’ প্রবর্তনের জন্য যা প্রয়োজন, তা অ-ইউক্রেনীয়দের দ্বারা পরিচালিত হবে। এমনকি এই সকল মানুষ ‘শিপ-ডিপড’ – অর্থাৎ যে সামরিক কর্মীদের একটি অননুমোদিত ট্যুর অব ডিউটির সময়কালের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে ছুটি দেওয়া হয় – হলেও রুশরা তাদের নিরপেক্ষ ভাড়াটে সেনা রূপে দেখবে বলে মনে হয় না।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশগুলির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করার ফলে রাশিয়া বৈধভাবেই সেই ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করবে। এই সম্ভাবনা দেশগুলির সরকার বা জনগণ মেনে নেবে বলে মনে হয় না।

ইউক্রেনকে দ্রুত অস্ত্র জোগান দেওয়া এবং রাশিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নেওয়া অথবা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পশ্চিমী সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার নিরিখে সময় নেওয়া এবং অব্যবহিত সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রোধ করতে ক্ষয়িষ্ণু ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর অক্ষমতার ঝুঁকি নেওয়া  — এ ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চালিত ইউক্রেনের সমর্থকরা একটি সংশয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।

সাধারণ বুদ্ধি এই পরামর্শ দেবে যে, আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধটি সকল প্রচলিত প্রজ্ঞাকেই অস্বীকার করে এসেছে।


প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ডেকান হেরাল্ড-এ।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.