Published on Jun 03, 2024 Updated 0 Hours ago

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করেছে। যাই হোক, ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয় স্বল্পমেয়াদি বৃদ্ধি বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ সৃষ্টি করে

ঝড়ের পিঠে সওয়ার: ইউক্রেন সংঘাতের সূচনা থেকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক চিত্র

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রথম সপ্তাহের পরে রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে  নিষেধাজ্ঞা আক্রান্ত অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। অর্থনৈতিক পতনের আশঙ্কা ছিল এবং অতিমারির পরে অর্থনীতি প্রাথমিকভাবে -৪.৫ শতাংশের জিডিপি বৃদ্ধির হারের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়া পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে একটি মাঝারি -১.২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিতে পৌঁছয়, এবং তারপর দৃঢ় বৃদ্ধির সঙ্গে ২০২৩ সালে প্রবেশ করে সর্বোচ্চ ৩.৬ শতাংশ হারে পৌঁছয়। উপরন্তু, জুলাই ২০২২-‌এর তুলনায় রাশিয়ায় প্রকৃত মজুরি ৯.৪ শতাংশ বেড়েছে। ঘটনাটি এই প্রশ্নটি উস্কে দেয়: ব্যাপক পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেন সংঘাতের আর্থিক চাপ সহ্য করেও রাশিয়া কীভাবে ২০২৩ জুড়ে ইতিবাচক বৃদ্ধি বজায় রেখেছে?


২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার অর্থনীতি: যুদ্ধ অর্থনীতি

শক্তি, ব্যাঙ্কিং, প্রতিরক্ষা ও পরিবহণ ক্ষেত্রে বেশিরভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাসহ  রাশিয়ার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত। জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা রপ্তানি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া যায়। অর্থনীতিতে নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাবের ফলে রাশিয়ায়
২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। রাশিয়ার ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় তার প্রবেশাধিকার বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এবং তার ফলে রাশিয়ার আমদানি প্রভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে আছে রাশিয়ার ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার


ইউক্রেনের যুদ্ধ সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা তৈরি করেছে, সামরিক কারখানায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, এবং ইউক্রেনের নতুন দখলকৃত অঞ্চলগুলির পুনর্গঠন করেছে।



নীতিনির্ধারকরা ২০১৪ সাল থেকে
অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে ক্ষেত্রগুলিকে রেন্ট-উৎপাদনকারী এবং রেন্ট-নির্ভর ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথমটির মধ্যে ছিল রাশিয়ার লাভজনক শক্তি, কৃষি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র, সেগুলি মূলধন জোগাত রেন্ট-‌নির্ভর ক্ষেত্রে, যেমন অটোমোবাইল, তেল ও গ্যাসের যন্ত্রাংশ, জাহাজ নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রের কর্মচারীরা। এই পুনর্বিন্যাস অর্থনীতিকে সঞ্চালিত করেছে এবং স্থিতিস্থাপকতার একটি কাঠামো তৈরি করেছে। ইউক্রেনের যুদ্ধ সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা তৈরি করেছে, সামরিক কারখানায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, এবং ইউক্রেনের নতুন দখলকৃত অঞ্চলগুলির পুনর্গঠন করেছে। নিঝনি নভগোরদ, সার্ভারদলভস্ক, তুলা, সামারা এবং নভোসিবিরস্কের মতো অঞ্চলে প্রতিরক্ষা কারখানার ঘনত্বের কারণে শ্রমের উচ্চ চাহিদা দেখা গিয়েছে। এই কারখানাগুলিতে মজুরি বেসামরিক ক্ষেত্রের তুলনায় বেশি, যা রাশিয়ায় একটি ডি-কমোডিফাইড শ্রমশক্তি তৈরি করে যারা আরও লাভজনক প্রতিরক্ষা শিল্পে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আকস্মিক সুযোগবৃদ্ধি এবং রাশিয়ানদের দেশত্যাগের ফলে বেসামরিক ক্ষেত্রে চাকরির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে; ২০২৩ সালে, রাশিয়ায় ৪.৮ মিলিয়ন শ্রমিকের ঘাটতি ছিল। এই সবই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে যা সামরিক ব্যয় বা সামরিক কেইনসবাদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়।


আর্থিক সংস্কার

বাহ্যিক ধাক্কার বিরুদ্ধে রুবলকে স্থিতিশীল করতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাঙ্ক অফ রাশিয়ার গভর্নর এলভিরা নাবিউলিনাকে এর আগে ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কার অফ দ্য ইয়ার হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল বাহ্যিক ধাক্কাগুলির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা, রাশিয়ায় মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করা, এবং ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র সংস্কার করার জন্য। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক পুঁজি নিয়ন্ত্রণ আইন আরোপ করে। ব্যাঙ্ক অফ রাশিয়া
সুদের হার ৯.৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা মূলধনের পলায়নকে বন্ধ করেছে এবং রুবলকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছে। অধিকন্তু, রুশ সংস্থাগুলিকে বিদেশে বিদেশী অর্থ স্থানান্তর করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, এবং রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলি থেকে প্রত্যাহার করা অর্থের উপর ছয় মাসের ক্যাপ আরোপিত হয়েছিল। বিদেশী মুদ্রায় অর্থ গ্রহণকারী রুশ সংস্থাগুলিকে সেই উপার্জনের ৮০ শতাংশ (পরে বিলুপ্ত) রুবলে রূপান্তর করতে হয়েছিল, যে কারণে আমরা লক্ষ্য করি যে আক্রমণের প্রথম বছরে রাশিয়ার অর্থনীতি ধাক্কাগুলি শোষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। যাই হোক, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রুবলের অবমূল্যায়ন শুরু হয়, মূলত রাশিয়ার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত সঙ্কুচিত হওয়ার ফলে আমদানি বৃদ্ধির কারণে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রুবলের অবমূল্যায়ন এবং আক্রমণাত্মক মূল্যস্ফীতিকে আটকাতে সুদের হার বাড়িয়েছে। এলভিরা নাবিউলিনা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সতর্ক করেন যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলি তীব্র হতে পারে কারণ অর্থনীতি অতিরিক্ত উত্তাপের ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকন্তু, আইনি ন্যূনতম মজুরি ২১২.৬০ মার্কিন ডলারে (২০,০০০ রুবল) উন্নীত করা হয়েছিল, এবং ইউক্রেন সংঘাতের এক মাস আগে পেনশন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল


বিদেশী মুদ্রায় অর্থ গ্রহণকারী রুশ সংস্থাগুলিকে সেই উপার্জনের ৮০ শতাংশ (পরে বিলুপ্ত) রুবলে রূপান্তর করতে হয়েছিল, যে কারণে আমরা লক্ষ্য করি যে আক্রমণের প্রথম বছরে রাশিয়ার অর্থনীতি ধাক্কাগুলি শোষণ করতে সক্ষম হয়েছিল।


আমদানি প্রতিস্থাপন নীতি

২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ায় দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের মাথায় রয়েছে। আমদানি প্রতিস্থাপনের জন্য সরকারি কমিশন
২০১৫ সালে গঠিত হয়েছিল,   ২০টি শাখা জুড়ে ২,০০০ প্রকল্প, ১.৫ ট্রিলিয়ন রুবলের বেশি বাজেট এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি রোডম্যাপ নিয়ে। ২০১৪ সাল থেকে ফার্মা, আইটি ও অসামরিক বিমান পরিবহণের (২০২২–এর আগে) মতো নিষেধাজ্ঞার আওতায় না–আসা শিল্পগুলির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এয়ারবাস এবং বোয়িং-‌এর বিমান রাশিয়ার উপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে রাশিয়ান বিমান সংস্থাগুলি অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি এমসি-‌২১ এবং সুখোই সুপারজেট-১০০-এর জন্য অর্ডার দিয়েছে। মস্কোর হায়ার স্কুল অফ ইকোনমিক্সের ন্যাশনাস রিসার্চ ইউনিভার্সিটির মতে, রাশিয়ার শিল্প কমপ্লেক্স বর্তমানে  ৪০ শতাংশেরও কম আমদানির উপর নির্ভর করে। আমদানির উপর নির্ভরতার হার ক্ষেত্র থেকে ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়। যন্ত্রপাতি, ওষুধ, সার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা যন্ত্রের আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি রয়েছে। যেহেতু কাজ চলছে, তাই রাশিয়া অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে — যেমন খনি এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে — অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। আমদানি প্রতিস্থাপন নীতি কর্মসংস্থান এবং কিছু রুশ অঞ্চলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সৃষ্টি করেছে।


নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানো

২০১৪ সালে ক্রিমিয়ার অবৈধ দখলের প্রতিক্রিয়ায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলির বিপরীতে ২০২২ সালে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি ছিল সর্বাত্মক, যেমনটা কাগজে-‌কলমে ইরানের উপর আরোপিত ছিল। যাই হোক, বাস্তবতা কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পিছনের উদ্দেশ্যের বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল ইউরোপের বাজারের সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত। এমনকি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে রুশ শক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস জায়ান্ট
গ্যাজপ্রম বা রোসনেফ্ট (রাশিয়ার বৃহত্তম তেল কোম্পানি)–এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে শক্তি ক্রয় অব্যাহত রেখেছে, কারণ বেশ কয়েকটি মধ্য ইউরোপীয়, বাল্টিক ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার শক্তি-‌মূল্যশৃঙ্খলের কার্যকারিতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। উদাহরণস্বরূপ, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় কোম্পানির মধ্যে রয়েছে হাঙ্গেরির এমওএল গ্রুপ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ইউনিপেট্রোল, যারা রাশিয়ার তেল পরিশোধন করে এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পায়। রাশিয়ার এনার্জি জায়ান্টদের ইউরোপজুড়ে এমন বিভিন্ন কোম্পানির অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা মধ্যপ্রবাহ এবং নিম্নধারার প্রক্রিয়াগুলির সাথে জড়িত। এই ধরনের নির্ভরতার কারণে দেশগুলির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে শক্তি-‌সম্পর্ক ছিন্ন করা খুব কঠিন। তাছাড়া, বছরের পর বছর রাশিয়ার রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে রাশিয়ান রপ্তানি ৫৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে শক্তি ক্রয় অব্যাহত রেখেছে, কারণ বেশ কয়েকটি মধ্য ইউরোপীয়, বাল্টিক ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার শক্তি-‌মূল্যশৃঙ্খলের কার্যকারিতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।



রাশিয়ার অর্থনীতির বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হল
লন্ড্রোম্যাট দেশগুলি, যারা রাশিয়ার তেল ক্রয় করে এবং ইউরোপীয় দেশগুলিতে অপ্রক্রিয়াজাত/প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিক্রি করে। ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই), তুর্কিয়ে, চিন এবং সিঙ্গাপুর এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেয় এবং জি৭ দ্বারা নির্ধারিত মূল্যসীমায় তেল ক্রয় করে না। এর অর্থ রাশিয়ার ওপর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার উপর হানিকারক প্রভাব ফেলেনি।


সমান্তরাল আমদানি ব্যবস্থা

শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক সমান্তরাল আমদানির জন্য পণ্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রেল পরিবহণের জন্য নিবেদিত যন্ত্রাংশ, বিমানের খুচরো যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, প্রসাধনী এবং এমনকি বিলাসবহুল পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সমান্তরাল আমদানি বলতে প্রস্তুতকারকের সম্মতি ছাড়া বাজারে  আমদানি করা পণ্যকে বোঝায়। কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া ও বেলারুশ থেকে অনেক অননুমোদিত আমদানি রাশিয়ায় প্রবেশ করে। মে ২০২২ থেকে নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত রাশিয়ায় সমান্তরাল আমদানি
১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে, মস্কো ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপ আমদানি করেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের ড্রোনগুলিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত দ্বৈত-ব্যবহারের পণ্যগুলিও রাশিয়ায় তাদের প্রবেশের পথ খুঁজে পেয়েছে।


উপসংহার

ইউক্রেনের যুদ্ধের পর থেকে, রাশিয়ান অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অভিযোজিত স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করেছে। টেকনোক্র্যাটরা রুবলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করেছিলেন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে অবমূল্যায়নের সূচনা হওয়া সত্ত্বেও, নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে পারায় রাশিয়ানদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক হয়েছে; কেউ এটা বলতে পারেন যে নাভালনির মৃত্যুর পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক আরোপিত ৫০০ নিষেধাজ্ঞার সাম্প্রতিক তালিকাটিও রাশিয়ার অর্থনীতিতে উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে পারবে না। এই বৈশিষ্টগুলি বিবেচনা করে বলা যায়, রাশিয়া যুক্তিসঙ্গতভাবে ভাল করেছে এবং মার্চে প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য সম্ভাব্য পঞ্চম মেয়াদের পথ প্রশস্ত করেছে। যাই হোক, ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয়, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করছে, সেটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের বিষয়, কারণ
সামরিক ব্যয়ের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে অর্থনৈতিক স্থবিরতা সৃষ্টি করতে পারে



রাজোলি সিদ্ধার্থ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের একজন ইন্টার্ন

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Rajoli Siddharth Jayaprakash

Rajoli Siddharth Jayaprakash

Rajoli Siddharth Jayaprakash is a Research Assistant with the ORF Strategic Studies programme, focusing on Russia's domestic politics and economy, Russia's grand strategy, and India-Russia ...

Read More +