Author : Sushant Sareen

Published on Jan 11, 2024 Updated 0 Hours ago

দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার সঠিক পথনির্দেশিকার অভাবে ২০২৪ সালেও পাকিস্তান একগুচ্ছ বহুমুখী সঙ্কটের সঙ্গে যুঝতে থাকবে।

পাকিস্তান: অব্যাহত অস্থিতিশীলতা

এই প্রবন্ধটি "What to expect in 2024"‌–এর অংশ


ভূমিকা

১৯৪৭ সালে দেশটি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান এক পথ-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, এই বিলাপ অব্যাহত থেকেছে। প্রতিটি নতুন বছরই দেশটির উত্থান বা পতনের বার্তা বয়ে আনে। ২০২৪ সালটিও এর ব্যতিক্রম নয়, শুধু মাত্র এই বাস্তবতা ভিন্ন যে, দেশটির পতনের সম্ভাবনা বর্তমান সময়ে উত্থানের তুলনায় অনেক বেশি জোরদার হয়ে উঠেছে। যেটিকে পাকিস্তানের জন্য বহুমুখী সঙ্কট বলা হচ্ছে এবং যে সঙ্কটগুলির প্রত্যেকটিরই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রাতিষ্ঠানিক মাত্রা থাকার দরুন জর্জরিত পাকিস্তান স্পষ্টতই স্তিত্বগত সঙ্কটের সম্মুখীন।

২০২৪ সালে দাঁড়িয়ে এই বহুমুখী সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পাকিস্তানের কাছে কোনও স্পষ্ট পথনির্দেশিকা নেই। এর অর্থ হল এই যে, অতীতের মতো ২০২৪ সালে পাকিস্তানের নেতারা কাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সাময়িক সমাধানের চেষ্টা করবেন। অন্য কথায় বলতে গেলে, তাঁরা সমস্যা সমাধানের জন্য সহজ পথই বেছে নেবেন, যা বরাবরই সমস্যার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের চিরাচরিত সঙ্কটকেই দীর্ঘস্থায়ী করবে।

 

নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী অনিশ্চয়তা

২০২৪ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন নির্ধারিত তারিখেই হবে না কি স্থগিত করা হবে তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে যে স্বাভাবিক উত্তেজনা ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়, তা এ ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। এর নেপথ্যে সম্ভাব্য কারণ হল এই, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ইমরান খানকে নির্বাচনী পরিসরের বাইরে রাখা হচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও তাঁর কারাগারে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সামরিক বাহিনীর স্নেহধন্য এবং নির্বাচনে তিনি শীর্ষস্থানীয় হয়ে উঠতে পারেন বলে ঐকমত্য রয়েছে। কিন্তু তাঁর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা কম। ফলে দলটিকে জোট সরকার গঠনের পথে হাঁটতে হতে পারে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ইমরান খানের স্থলাভিষিক্ত হওয়া  সময়কালীন ১৩ দলীয় জোট থেকে তা খুব বেশি আলাদা নয়। জোটের অংশীদারদের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী এই সরকারের রাশ ধরে রাখবে। সকলেই সেনাবাহিনীর নজরে থাকবে। যত্ন করে বানানো এই রাজনৈতিক পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে যদি নওয়াজ শরিফ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সফল হন অথবা যদি ইমরান খানের দল সামরিক সংস্থা তার রাজনৈতিক মিত্র দ্বারা নির্মিত রাজনৈতিক বিন্যাসকে উলটে দিতে পারে।

 

স্পেশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ফেসিলিটেশন কাউন্সিল (এসআইএফসি) তৈরির মাধ্যমে সামরিক বাহিনী কার্যত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা আরও জোরদার করেছে।

 

নির্বাচনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেসামরিক-সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ফেসিলিটেশন কাউন্সিল (এসআইএফসি) তৈরির মাধ্যমে সামরিক বাহিনী কার্যত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা আরও জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতি বেসামরিক সরকারের রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিসরকে আরও সীমাবদ্ধ করে তুলেছে। এসআইএফসি যেমন ভাবে কাজ করতে আগ্রহী, তেমনটা সম্ভব হলে নির্বাচিত সরকার শুধু মাত্র শিলমোহরে পরিণত হবে। আবার অন্য দিকে এসআইএফসি নিতান্তই অর্থহীন হয়ে পড়লে বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক আরও বিষাক্ত হয়ে উঠবে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর আধিপত্যের প্রতি নওয়াজ শরিফের বরাবরই অনীহা রয়েছে এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা তাঁবিদেশনীতির উদ্যোগকে খর্ব করার ক্ষেত্রে তিনি সেনার বিরোধিতা করবেন। বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক বিপর্যস্ত হলে জোটের অংশীদাররা তাদের নিজস্ব ভাগ আদায় করার চেষ্টা চালাবে, যা সরকারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। ইমরান খান এবং তাঁর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) নির্বাচনী পরিসর ছেড়ে না দেওয়ায় সরকারের জনপ্রিয় প্রবিধান সব সময়ই প্রশ্নের মুখে পড়বে। পিটিআই স্বাভাবিক ভাবেই সরকারের সামনের পথ কঠিনতর করে তুলবে।

 

অর্থনৈতিক দুর্দশা

সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে সামান্য উত্থান দেখা গেলেও ২০২৪ সালে আর্থিক সঙ্কট অব্যাহত থাকবে। দেশটির জনসংখ্যা আনুমানিক ২.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও জিডিপি বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশের আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে। মুদ্রাস্ফীতির হার ২০ শতাংশের বেশি থাকবে এবং ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানি রুপির মূল্য ডলার থেকে ৩৫০- পর্যবসিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের বাহ্যিক অর্থপ্রদানের দায়বদ্ধতার কারণে অর্থপ্রদানের ভারসাম্যমূলক পরিস্থিতি চাপের মধ্যে থাকবে। সরকার পরিচালনার জন্য যে গতিতে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তাতে পাকিস্তানের ঋণ সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা আরও দুরূহ হয়ে উঠবে। ফেডারেল সরকারের রাজস্ব ঋণ শোধের জন্য যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হবে না। পাকিস্তান খুব স্বাভাবিক ভাবেই কিছু ঋণ পুনর্বিন্যাস ও পুনর্নির্ধারণ এবং ত্রাণের চেষ্টা চালাবেআন্তর্জাতিক শক্তিগুলি থেকে কৌশলী ঋণ আদায়ে পাকিস্তানকে সমর্থ করবে, এ হেন কোনও উল্লেখযোগ্য ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন না ঘটলে পাকিস্তানের ভাগ্যে ত্রাণ সহায়তা জোটার আশা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই পাকিস্তান রাষ্ট্রচালিত বেশ কিছু উদ্যোগকে বিক্রি করার তীব্র প্রচেষ্টা চালাবে, যাতে দেশটি তার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করতে পারে এবং সেগুলি থেকে লাভ তুলতে পারে। কিন্তু এমনটা হলে তা নিতান্তই তাৎক্ষণিক সমাধান হবে।

 

সরকার পরিচালনার জন্য যে গতিতে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তাতে পাকিস্তানের ঋণ সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা আরও দুরূহ হয়ে উঠবে। ফেডারেল সরকারের রাজস্ব ঋণ শোধের জন্য যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হবে না।

 

পাকিস্তানের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও কার্যকর করার জন্য গভীর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এই ধরনের সংস্কারের জন্য যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মূল্য চোকাতে হবে, তা দিতে কেউ প্রস্তুত নয়। নতুন সরকারকে পাকিস্তানের ২৪তম আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্মসূচির সঙ্গে দর কষাকষি করতে হবে। আইএমএফ বেশ কিছু কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় শর্ত আরোপ করবে, যা দেশের বিদ্যমান উচ্চ অর্থনৈতিক দুর্দশার মাত্রা বৃদ্ধি করবে। কিন্তু কোন প্রকার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আশা ত্যাগ করাই শ্রেয়।  খুব বেশি হলে সাময়িক ও অপরিপক্ব সংস্কার হতে পারে অর্থাৎ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে আইএমএফের দাবিগুলিকে ভারসাম্যে আনার জন্য বেশ কিছু বাহ্যিক সংস্কার করা হবে মাত্র। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)  এবং কাতার থেকে কিছু বিনিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেগুলি আদৌ ফলপ্রসূ হবে কি না এবং হলে তা কোন আকারে ও কী শর্তে হবে, তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যায়। যা-ই হোক না কেন, সেই বিনিয়োগ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য কোনও প্রতিষেধক হয়ে উঠতে পারে না। পরবর্তী সরকারে অর্থনীতির সংস্কারের দায়িত্বে কে থাকবে, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে যে, নওয়াজ শরিফের আত্মীয় এবং নিজেকে ভুডু অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করা ইসহাক দার প্রত্যক্ষ অথবা নেপথ্যে থেকে যদি অর্থনীতি পরিচালনা করার চেষ্টা করেন, তা হলে দেশটির অর্থনীতি রসাতলে যাবে। তার উপর যদি কোনও বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি হয়, তা হলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সব সম্ভাবনাই সমূলে বিনষ্ট হবে।

 

বুমেরাং-এর নাম জিহাদ

২০২৪ সালেও সন্ত্রাসবাদী হুমকি অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের জিহাদি কৌশলগত শক্তিগুলি তীব্র আকার ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৪ সালে সন্ত্রাসবাদী হামলার মাত্রা এবং তীব্রতার লক্ষণগুলি বেশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেযার জন্য ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে অত্যন্ত বড় মূল্য চোকাতে হচ্ছে, সেই জিহাদি হামলার নতুন প্রবাহকে কী ভাবে মোকাবেলা করা যায়, সে বিষয়ে পাকিস্তানের সামনে উপস্থিত বিকল্পগুলি অত্যন্ত কঠিন। আফগান তালিবানরা  পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে চেষ্টা করলেও তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তার সহ-সংগঠনগুলিকে বন্ধ করার পাকিস্তানের দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। পাকিস্তান টিটিপি-র বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের রেশ আফগানিস্তানে নিয়ে যেতে চাইছে। তেমনটা হলে তালিবান প্রতিশোধ নিতে ছাড়বে না। পরিস্থিতি যে দিকেই এগোক না কেন, পাকিস্তান জিহাদিদের সঙ্গে ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। এ এমন এক যুদ্ধ, যা গুরুতর অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেবে অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙে পড়বে, কোষাগার প্রায় শূন্য হয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পাকিস্তানি স্বপ্নও শেষ হয়ে যাবে।

 

ভারতের সঙ্গে অব্যাহত অচলাবস্থা?

এমনটা আশা করা যায় যে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেই নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সঙ্গে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য প্রচেষ্টায় নবজোয়ার আসতে পারে। পাকিস্তানকে অবশ্যই তার এই অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে যে, ভারত জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (জেঅ্যান্ডকে) সাংবিধানিক সংস্কার না করা পর্যন্ত কোনও সম্পৃক্ততা হতে পারে না। কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব জেঅ্যান্ডকে-কে আলাদা রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার নির্দেশ দিয়েছে যাতে পাকিস্তানের কিছুটা হলেও মুখরক্ষা হতে পারে। তবে তা পুরোটাই নির্ভর করবে পাকিস্তানের মনোভাবের উপর। সম্পৃক্ততার বিষয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ ভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপন করতে  হবে। উভয় দেশেরই একে অপরের সঙ্গে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার নিজ নিজ কারণ রয়েছে: পাকিস্তান যখন তার পশ্চিম অংশে যুদ্ধে জর্জরিত, তখন ভারতের সঙ্গেও দেশটি সক্রিয় সীমান্তযুদ্ধে লিপ্ত হতে পারে না; ভারত তার পশ্চিম সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে আগ্রহী। কারণ দেশটি তার উত্তর পূর্ব সীমান্তে প্রতিনিয়ত যুদ্ধরত চিনের সম্মুখীন হয়ে চলেছে। পুনরায় সম্পৃক্ততা শুরু হলে আশা করা যায় যে, দু দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও ফের চালু হবে। ভারত পাকিস্তানি পণ্যের উপর আরোপিত বাধা নিষিদ্ধ শুল্ক অপসারণ করবে এবং পাকিস্তানকে অবশ্যই ভারতকে তার মোস্ট ফেভারড নেশন-এর (এমএফএন) মর্যাদা দিতে হবে। প্রকাশ্যে এবং নেপথ্যে… দু’তরফেই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পথ উন্মোচিত হতে পারে। কিন্তু পাকিস্তান যদি জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যাকেই বেশি জোর দেয়, তা হলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহতই থাকবে।

 

উভয় দেশেরই একে অপরের সঙ্গে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার নিজ নিজ কারণ রয়েছে: পাকিস্তান যখন তার পশ্চিম অংশে যুদ্ধে জর্জরিত, তখন ভারতের সঙ্গেও দেশটি সক্রিয় সীমান্তযুদ্ধে লিপ্ত হতে পারে না; ভারত তার পশ্চিম সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে আগ্রহী। কারণ দেশটি তার উত্তর পূর্ব সীমান্তে প্রতিনিয়ত যুদ্ধরত চিনের সম্মুখীন হয়ে চলেছে।

 

উপসংহার

২০২৪ সালের দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে, পাকিস্তানের জন্য তেমন কোনও আশার আলো নেই। এটি বরং একটি কঠিন বছর হতে চলেছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে উত্থান বা পতন সুনিশ্চিত করতে পারে এই বছর। পাকিস্তান চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কে কিছুটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করলেও চিন-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে তা ততটা সহজ হবে না। চিন পাকিস্তানের সঙ্গে তার কৌশলগত এবং রাজনৈতিক সম্পর্ককে গভীরতর করার প্রয়াস চালালেও চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর পাকিস্তানের দেউলিয়া অবস্থা কাটাতে সক্ষম হবে না এবং পাকিস্তানও চিনের বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বজায় থাকলেও তা হবে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক। পাকিস্তান আশা করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আরবদের বিনিয়োগের ফলে দেশের কিছুটা আর্থিক মন্দা কাটবেকিন্তু লক্ষ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা আকাশকুসুম। সহজ কথায় বললে, ২০২৪ সালটি পাকিস্তানের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হবে না।

 


সুশান্ত সারিন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.