Published on Jan 09, 2022 Updated 0 Hours ago

একটি গ্যাসভিত্তিক ভবিষ্যৎ ভারতের জন্য সম্ভাবনাময় মনে হলেও ভারত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

গ্যাসের জন্য ভারতের উদ্যম: স্প্রিন্ট নয়, ম্যারাথন

এই প্রতিবেদনটি কম্প্রিহেনসিভ এনার্জি মনিটর বা সর্বাত্মক শক্তি পর্যবেক্ষণ: ভারত এবং বিশ্ব সিরিজের অন্তর্গত।


পটভূমিকা

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আই ই এ) একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যার শীর্ষক ছিল ‘আমরা কি প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবর্ণ যুগে প্রবেশ করছি?’ যদিও প্রশ্ন চিহ্ন ব্যবহার করার মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, তবুও আই ই এ-এর প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের সুবর্ণ যুগের প্রত্যাশার পিছনে কয়েকটি ধারণা ছিল:

১) চিনে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি, ২) পরিবহণ কার্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের আরও বেশি ব্যবহার, ৩) পরমাণু শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বৃদ্ধির কম হার এবং সর্বোপরি ৪) অপ্রচলিত উৎস থেকে কম খরচে গ্যাসের জোগানের বিষয়ে আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি। সেই বছরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ৬১৭৪০ কোটি কিউবিক মিটার (বি সি এম) রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণকে (৬১৬.৮ বি সি এম) ছাপিয়ে যায়। এর আগে পর্যন্ত রাশিয়াই বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ ছিল। বিশ্ব ব্যাপী শক্তি ভাণ্ডারে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পাশাপাশি স্থানীয় দূষণের হ্রাস ও শক্তি সরবরাহকে বহুমুখী করে তোলার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুরক্ষিত উৎস বিশিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে) মাধ্যমে শক্তি সুরক্ষা বৃদ্ধি করা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে সহায়ক ক্ষমতা নির্মাণের আশা করা হয়েছিল। এগুলি ছাড়াও ক্রমাগত নগরায়ণ হতে থাকা চিন এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে সার্বিক ভাবে শক্তি সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যাবে বলেও মনে করা হয়েছিল।

ব্যবহারের ধারা: বিশ্বব্যাপী

যদিও পরিবেশবিদরা প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবর্ণ যুগের ধারণাকে স্বাগত জানাননি, তবুও ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানিগুলিকে বাদ দিলে গ্যাস অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় ভাল ফল করেছে (২০২০ শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অস্বাভাবিক বছর ছিল)। যদি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানিগুলিকে পৃথক ভাবে বিবেচনা করা হয় — যে হেতু সেগুলি এমন আর্থিক এবং নীতিগত সাহায্য পায় যা অন্যান্য জ্বালানি পায় না — তা হলে ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সালের সময়সীমার মধ্যে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে এগিয়ে আছে এবং উক্ত পর্যায়ে এটির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ২০%। একই সময়সীমার মধ্যে প্রাথমিক শক্তির ব্যবহার বেড়েছে ১২%, জলবিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে ১৫%-এরও বেশি, তেলের ব্যবহার বেড়েছে ১০%-এরও বেশি এবং কয়লার ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে ০.৫৪ শতাংশ। আই ই এ রিপোর্ট জানাচ্ছে যে, বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক শক্তি ভাণ্ডারে প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ ২০৩৫ সালের মধ্যে ২২% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫%-এরও বেশি হয়ে দাঁড়াবে। ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক শক্তি ভাণ্ডারে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪.৭ শতাংশ।

চিনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তি ছিল কয়লার পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের কড়া নির্দেশ এবং পাইপলাইনের মতো পরিকাঠামোগত খাতে আর্থিক বিনিয়োগ।

২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সেই সব দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে যারা বাস্তবে প্রাকৃতিক গ্যাসের রফতানিকারী, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (২৮.৯%), ইরান (৪৬.১%) এবং কানাডা (১৬.৪৮%)। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটির ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের মুখ্য আমদানিকারক হওয়া সত্ত্বেও সে দেশে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩৮%। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক শক্তি ভাণ্ডারে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ ২৫% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩২% হয়েছে এবং চিনে সেটি ৪.৮% থেকে বেড়ে হয়েছে ৭.৮%। চিনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তি ছিল কয়লার পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের কড়া নির্দেশ এবং পাইপলাইনের মতো পরিকাঠামোগত খাতে আর্থিক বিনিয়োগ।

ব্যবহারের ধারা: ভারত

ভারতকে ‘এক গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতি’ বানানোর চেষ্টা প্রথম শুরু হয় ২০১৬ সালে, যখন গ্যাস ব্যবহারের স্বর্ণ যুগের স্বপ্ন সতেজ এবং আশাপ্রদ ছিল। এই উদ্যোগের পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ভারতের প্রাথমিক শক্তিভাণ্ডারে গ্যাসের পরিমাণ ২০১৬ সালের ৬% থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। আই ই এ রিপোর্টে প্রাকৃতিক গ্যাসের স্বর্ণ যুগের মূল আশার ভিত্তি ছিল ভারত এবং চিনে গ্যাস ব্যবহারের হার বৃদ্ধি। কিন্তু ভারত এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল করেনি। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে ১% এবং ভারতের প্রাথমিক শক্তি ভাণ্ডারে গ্যাসের পরিমাণ ২০১০ সালের সর্বোচ্চ ৯.৪% থেকে কমে ২০১৯ সালে ৬.২৯%-এ পৌঁছেছে (এই পরিমাণ মোট শক্তি ব্যবহারে বায়োমাসের অংশ ব্যতীত)। ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৯-২০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ২%-এর চেয়ে সামান্য বেশি পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে এবং সার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ১%-এর সামান্য কিছু বেশি। ২০১৯-২০ সালে এই দুই ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ছিল মোট ব্যবহৃত পরিমাণের ৪২%। এই দুই ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া বা ব্যবহারের ঋণাত্মক বৃদ্ধি দেশে গ্যাস ব্যবহার বৃদ্ধির মন্থর গতিকে ব্যাখ্যা করে। যদিও একই সময়সীমার মধ্যে অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। সি এন জি-এর (কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) ব্যবহার (পরিবহণ ক্ষেত্র-সহ) ১৭০০%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, শিল্প ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬০%, পরিশোধনে বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৬%, পেট্রো-রাসায়নিকে বৃদ্ধি ঘটেছে ৪০% এবং স্পঞ্জ আয়রনে বৃদ্ধি ঘটেছে ৩১০%। অন্য দেশগুলিতে যেখানে গ্যাসের ব্যবহার মূলত বিদ্যুতের উৎপাদন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সেখানে ভারত গৃহস্থালি এবং পরিবহণ উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির জন্য ভীষণ রকম ভাবে সি এন জি-র উপরে নির্ভরশীল। শক্তি এবং সার ক্ষেত্রের গ্যাস ব্যবহারকারীরা (যানবাহন এবং গৃহস্থালি) বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে থাকার ফলে বিনিময়ের খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে সামগ্রিক ভাবে গ্যাস ব্যবহারের বৃদ্ধির হার মন্থর হয়ে পড়ে।

সূত্র: পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, এম এম এস সি এম: মেট্রিক মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটারস

ভারতের প্রতিবন্ধকতা

বিশ্বব্যাপী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এল এন জি) দাম হ্রাস পাওয়ার ফলে সামগ্রিক ভাবে শক্তির ব্যবহার কম হলেও ভারতের শক্তি ভাণ্ডারে ২০২০ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬.৭%। যদিও বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে গ্যাসের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির কথা মাথায় রাখলে এই প্রবণতা যে ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত থাকবে না, তা অনুমেয়। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শক্তি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র চালিত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারের বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছিল ভারতের পূর্ব উপকূলে কম খরচে সহজলভ্য দেশীয় গ্যাস উৎসগুলির উপস্থিতির ফলে। যখন এই সব অঞ্চলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস পায়, তার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের ব্যবহারও কমতে থাকে। এটি ভারতে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধির পথে দুটি মুখ্য অন্তরায়কে তুলে ধরে — উচ্চ মূল্য এবং সি এন জি-র মতো বর্ধনশীল ক্ষেত্রে উচ্চ বিনিময় মূল্য। জৈব পদার্থ বা বায়ো মাসকে রান্নার কাজে ব্যবহারের পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার ব্ল্যাক কার্বন (ঝু্ল) এবং কার্বন মোনোক্সাইড নিঃসরণের মাত্রা হ্রাস করে। পরিবহণ ক্ষেত্রে তরল পেট্রোলিয়ামের বদলে জ্বালানি রূপে গ্যাসের ব্যবহার এক্সহস্ট এমিশন বা নিষ্কাশিত নিঃসরণের পরিমাণ হ্রাস করে যা উত্তর ভারতে কুয়াশা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। এবং শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যখন কয়লার পরিবর্তে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তখন কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে যায়। যেমনটা একাধিক শিল্প বিশেষজ্ঞরা দর্শিয়েছেন যে গ্যাসের জন্য ভারতীয় উদ্যমের গতি বৃদ্ধি করতে প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে অংশত হলেও নীতিগত এবং আর্থিক সহায়তা উপলব্ধ করতে হবে যেমনটা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিক্ষেত্রগুলি পেয়ে থাকে। কারণ প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার সকল ক্ষেত্রেই কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ হ্রাস করে। এর পাশাপাশি, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিরতির মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে বাধ্য করে না যেমনটা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘটতে দেখা যায়। শেষোক্ত ক্ষেত্রে খরচ সাপেক্ষ স্ট্যান্ড বাই পাওয়ার বা সহায়ক শক্তির ব্যবস্থা রাখারও প্রয়োজন হয়।

সূত্র: বি পি স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ অফ ওয়ার্ল্ড এনার্জি, ২০২১
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar, Assistant Manager, Energy and Climate Change Content Development of the Energy News Monitor Energy and Climate Change. Member of the Energy News Monitor production ...

Read More +
Lydia Powell

Lydia Powell

Ms Powell has been with the ORF Centre for Resources Management for over eight years working on policy issues in Energy and Climate Change. Her ...

Read More +
Akhilesh Sati

Akhilesh Sati

Akhilesh Sati is a Programme Manager working under ORFs Energy Initiative for more than fifteen years. With Statistics as academic background his core area of ...

Read More +