Author : Oommen C. Kurian

Published on Feb 01, 2024 Updated 6 Hours ago

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত অভিযোজন এবং ঐতিহ্যগত অনুশীলনের একত্রীকরণের উপর খসড়া বিলের ফোকাস ভারতে ফার্মাসি অনুশীলনের গুণমানকে উন্নত করতে পারে

বিধির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা রূপান্তর: ভারতের ফার্মাসি বিলের সম্ভাব্য প্রভাব

খসড়া জাতীয় ফার্মাসি কমিশন বিল ২০২৩, যা ১৯৪৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী ফার্মাসি অ্যাক্টকে প্রতিস্থাপন করতে তৈরি করা হয়েছে, সেটি ফার্মাসি ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি লক্ষণীয় অগ্রগতি চিহ্নিত করে৷ এই বিলটি ফার্মাসি অনুশীলনের মধ্যে শিক্ষাগত ও পেশাদার মান আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে একাধিক সংস্কার প্রবর্তন করেছে, এবং তার পাশাপাশি পরিষেবাগুলিকে ঠিকভাবে প্রবাহিত করার জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলিকে গ্রহণ করেছে। আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন প্রণয়নের প্রয়াসে সরকারের তরফে অংশীদার ও জনসাধারণের কাছ থেকে ইনপুটের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগটি শুধু অংশগ্রহণমূলক নীতি প্রণয়নের প্রতি অঙ্গীকারই নয়, বরং একটি কার্যকর ফার্মাসি কাঠামো গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অন্তর্দৃষ্টিকেও স্বীকার করে। এই বিলের আইনীকরণ ভারতে স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার গুণমানকে এমনভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে যাতে ফার্মাসি ক্ষেত্র সমসাময়িক চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মান উভয়ের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

বিলের ফোকাস

খসড়া ন্যাশনাল ফার্মাসি কমিশন বিল ২০২৩ ভারতের ফার্মাসি ক্ষেত্রে হাল আমলের প্রবিধানের জরুরি প্রয়োজনকে স্বীকার করে ১৯৪৮ সালের ফার্মাসি অ্যাক্ট–এর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানান্তরকে চিহ্নিত করেছে। সংক্রামক ও অ–সংক্রামক রোগের দ্বৈত বোঝার সঙ্গে লড়াই করছে এমন একটি দেশে এই আইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে ফার্মাসি ক্ষেত্র স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়ামক কাঠামো বাড়ানোর উপর খসড়া বিলের জোর এই সত্যের স্বীকৃতি যে ভারতের অনেক অংশে অযোগ্য ফার্মাসিস্টরা কাজ করে চলেছেন, যা রোগীর নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবার গুণমানকে সরাসরি প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে অনেক ভারতীয় ফার্মাসিতে, বিশেষ করে গ্রাম ও আধা–শহরে, যোগ্য ফার্মাসিস্টের অভাব ওষুধ সম্পর্কে অপ্রতুল পরামর্শ এবং ওষুধ দেওয়ার ত্রুটির দিকে চালিত করে, যা
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)–এর মতো সমস্যাগুলিতে অবদান রাখে। ফার্মাসি অনুশীলন এবং তত্ত্বাবধানের জন্য আরও কঠোর মানদণ্ড স্থাপন করে বিলটির লক্ষ্য পরিচর্যার মান উন্নত করা, এবং সারা দেশে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা অনুশীলন নিশ্চিত করা।

যেখানে ফার্মাসিস্টরা প্রায়শই
প্রথম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসাবে কাজ করেন, বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে, সেখানে ফার্মাসি শিক্ষা ও অনুশীলনের মান উন্নত করার উপর খসড়া বিলের ফোকাস করা অপরিহার্য। কঠোর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ক্রমাগত পেশাদার বিকাশকে বাধ্যতামূলক করে বিলটি নিশ্চিত করতে চায় যে ফার্মাসিস্টরা রোগীদের কার্যকরভাবে গাইড করার উপযুক্ত হবেন, বিশেষ করে এ দেশে ব্যাপক স্ব–ওষুধ অনুশীলনের প্রেক্ষাপটে। যাই হোক, উচ্চ মানের জন্য এই ধাক্কাটিকে অবশ্যই ফার্মাসি শিক্ষার ন্যায়সঙ্গত সুযোগের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে। গবেষণা ইঙ্গিত করে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাধাগুলি প্রায়শই ভারতে মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগকে বাধা দেয়। তাই চ্যালেঞ্জ হল সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশের সম্ভাব্য ফার্মাসিস্টদের বাদ না–দিয়ে শিক্ষার মান বাড়ানো।



ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সম্ভাবনা


জাতীয় ফার্মাসি কমিশন বিল ২০২৩–এর খসড়াটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ফার্মাসির যোগ্যতার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে এসেছে।



ভারতের ডিজিটাল অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফার্মাসিস্টদের জন্য ডিজিটাল রেজিস্টারের উপর বিলের জোর স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের আধুনিকীকরণের দিকে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। এই ডিজিটাল পরিবর্তন ফার্মাসি পরিষেবাগুলির স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে পারে, যা হল ভারতের মতো একটি দেশে একটি অপরিহার্য দিক, কারণ দেশটি তার বিশাল ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্যের কারণে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ডিজিটালাইজেশন এই ফাঁকগুলি পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে মানসম্পন্ন ফার্মাসি পরিষেবাগুলিতে আরও ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্তিযোগ্যতা সরবরাহ করে। যাই হোক, দেশে
ডিজিটাল বিভাজন বিবেচনা করা এবং এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলি যাতে প্রত্যন্ত বা গ্রামীণ অঞ্চলসহ সকলের কাছে প্রাপ্তিযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় ফার্মাসি কমিশন বিল ২০২৩–এর খসড়াটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ফার্মাসির যোগ্যতার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে এসেছে। খসড়া বিলের ধারা ২৮ থেকে ৩২ বিশেষ করে ভারতের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলির ফার্মাসির শিক্ষামানগত যোগ্যতার স্বীকৃতির উপর দৃষ্টি রাখে, এবং দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক স্বীকৃতির সুবিধা দেয়। এই বৈশ্বিক সংহতি ভারতীয় ফার্মাসি ক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জ্ঞানের আদান–প্রদানকে উৎসাহিত করে, এবং ভারতে ফার্মাসিউটিক্যাল শিক্ষা ও অনুশীলনের মান উন্নত করে। অধিকন্তু, এটি ভারতীয় ফার্মাসি পেশাদারদের জন্য আন্তর্জাতিক সুযোগ সদ্ব্যবহার এবং মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি ও অনুশীলন নিয়ে আসার দরজা খুলে দেয়। এই পদক্ষেপটি আরও আন্তঃসংযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দিকে বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সারিবদ্ধ, এবং ভারতীয় ফার্মাসি পেশাদারদের দক্ষতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে ভারতের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ভূদৃশ্যকে উপকৃত করবে।

বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ: গুণমান ও প্রাপ্তিযোগ্যতার ভারসাম্য

 

বিশেষ করে ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় স্বাস্থ্যসেবা ভূচিত্র বিবেচনা করে বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগ হল বিলে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিলটি বিভিন্ন রাজ্য জুড়ে মান প্রয়োগের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামোর রূপরেখা দেয়, তবে আসল চ্যালেঞ্জটি হল এই মানগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা সংস্থান ও পরিকাঠামোর বৈষম্য বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত, এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বিলের বিধানগুলির সমভাবে ব্যবহার ও প্রয়োগ নিশ্চিত করে বাস্তবায়ন করার জন্য একটি উপযুক্ত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন স্পষ্ট। বিলের সাফল্য নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, এবং অনুবর্তিতা নিরীক্ষণ ও নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী প্রক্রিয়ার বিকাশের উপর।

বিলে ফার্মাসি শিক্ষা ও অনুশীলনের মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। যাই হোক, প্রাপ্তিযোগ্যতার সঙ্গে এই উন্নত মানগুলির ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য, বিশেষ করে ভারতের মতো একটি দেশে যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সুযোগে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিলটিকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যে উচ্চ মানের জন্য ধাক্কা যেন কম সুবিধাপ্রাপ্ত অংশের মানুষের ফার্মাসিস্ট হওয়ার উচ্চাশার পথে বাধা না–হয়, বা ফার্মাসি পরিষেবাগুলিকে নির্দিষ্ট জনসংখ্যার অংশের কাছে অপ্রাপ্য করে না–দেয়। এই ভারসাম্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় সমতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নিশ্চিত করে যে ফার্মাসি অনুশীলনের অগ্রগতি বিদ্যমান বৈষম্যকে প্রশস্ত না–করে স্বাস্থ্যসেবার মানের সামগ্রিক উন্নতিতে অবদান রাখবে।


ঐতিহ্যগত এবং আধুনিক অনুশীলনকে একীভূত করার চ্যালেঞ্জ


ভারতে ঐতিহ্যগত ওষুধের একটি সমৃদ্ধ ভান্ডার রয়েছে, এবং খসড়া বিলটির লক্ষ্য এই অনুশীলনগুলিকে আধুনিক ফার্মাসির সঙ্গে একীভূত করার জন্য একটি কাঠামোগত পরিসর তৈরি করা।



ভারতে
ঐতিহ্যগত ওষুধের একটি সমৃদ্ধ ভান্ডার রয়েছে, এবং খসড়া বিলটির লক্ষ্য এই অনুশীলনগুলিকে আধুনিক ফার্মাসির সঙ্গে একীভূত করার জন্য একটি কাঠামোগত পরিসর তৈরি করা। এই উদ্যোগটি এমন একটি দেশে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে যেখানে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্বাস্থ্যসেবার জন্য ঐতিহ্যগত ওষুধের উপর নির্ভর করে। ফার্মাসি পাঠ্যক্রমের মধ্যে এই প্রাচীন অনুশীলনগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা আরও সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি গ্রহণ করার সুযোগ দেয়। এই ধরনের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কৌশল সম্ভাব্যভাবে ঐতিহ্যগত এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে বর্তমান বিভাজনের সেতুবন্ধন করতে পারে, এবং সামগ্রিক সুযোগ ও ফার্মাসি পরিষেবার গুণমানকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই একীকরণ সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে ঐতিহাসিক জ্ঞানের সমন্বয়ে ভারতীয় জনগণের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।


যাই হোক, এই একীকরণ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আসে, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ঐতিহ্যবাহী ওষুধের সঙ্গে
সম্পর্কিত ঝুঁকির প্রেক্ষিতে। যদিও ঐতিহ্যগত প্রতিকারগুলি উপকারী হতে পারে, তবে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং সংহত না হলে সেগুলি স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ভুলভাবে ব্যবহার করা হলে কিছু ভেষজ যৌগের সম্ভাব্য বিষাক্ত প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে। সেইসঙ্গে ভেষজ ও প্রচলিত ওষুধের মধ্যে মিথস্ক্রিয়াও প্রতিকূল প্রভাবের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই সমস্যাগুলি আধুনিক ফার্মাসি অনুশীলনে ঐতিহ্যগত ওষুধের অন্তর্ভুক্তির সময় কঠোর পরীক্ষা, মানককরণ এবং মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই অত্যাবশ্যক ব্যবস্থাগুলি না–থাকলে তা রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার কার্যকারিতার সঙ্গে আপস করা হয়ে যেতে পারে, যা এই সংহত পদ্ধতির উদ্দেশ্যগুলিকে ক্ষুণ্ণ করে। এইভাবে, বিলটি ভারতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য নতুন পথ প্রশস্ত করার সময় আধুনিক চিকিৎসা অনুশীলনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ওষুধের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী নিয়ামক কাঠামো প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।


প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং ফার্মাসি কর্মীবাহিনীকে শক্তিশালী করা

 

স্বাস্থ্যসেবায় দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিলটি ভবিষ্যতের উদ্ভাবনগুলিকে গ্রহণ করার জন্য একটি নমনীয় কাঠামো প্রদান করে। এই অভিযোজনযোগ্যতা এমন একটি দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেখানে ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগগুলি বাড়ছে৷ ডিজিটালাইজেশনের বিধান, যেমন ডিজিটাল ফার্মাসি রেজিস্টার বজায় রাখা এবং টেলিফার্মাসির মতো উদীয়মান প্রবণতাগুলির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া, বিলের অগ্রমুখী চিন্তাপদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলির ফার্মাসি পরিষেবাগুলিতে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও অনুন্নত এলাকায়, এবং ভারতে ফার্মাসি পরিষেবাগুলির সামগ্রিক দক্ষতা ও প্রাপ্যতার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে৷

বিলটির সফল বাস্তবায়ন সুপ্রশিক্ষিত ফার্মাসি কর্মীর প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করবে। এর মধ্যে ফার্মাসিস্ট, শিক্ষাবিদ, নিয়ামক এবং প্রশাসনিক কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। বিলটি ফার্মাসি ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে, এবং দেশে ও বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের ঘাটতি বিবেচনায় রেখেছে। একটি দক্ষ ও পর্যাপ্ত ফার্মাসি কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা বিলের বিধান কার্যকর করার জন্য, এবং সারা দেশে ফার্মাসি শিক্ষা ও অনুশীলনের উন্নত মান পূরণ করা নিশ্চিত করার জন্য, গুরুত্বপূর্ণ হবে।


সামনের পথ: জনসচেতনতা এবং ব্যস্ততা


ভারতে, যেখানে ফার্মাসিস্টরা প্রায়শই স্বাস্থ্যসেবার প্রথম যোগাযোগের বিন্দু হিসাবে কাজ করেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, ফার্মাসি নিয়ন্ত্রণ এবং অনুশীলনের পরিবর্তন সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা এবং শিক্ষিত করা অপরিহার্য।



বিলটি জনসচেতনতা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের জড়িত থাকার উপর গুরুত্ব দেয়। ভারতে, যেখানে ফার্মাসিস্টরা প্রায়শই স্বাস্থ্যসেবার যোগাযোগের প্রথম বিন্দু হিসাবে কাজ করেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, ফার্মাসি নিয়ন্ত্রণ এবং অনুশীলনের পরিবর্তন সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা ও শিক্ষিত করা অপরিহার্য। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সারা দেশে বিভিন্ন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছনোর জন্য উপযোগী যোগাযোগ কৌশল প্রয়োজন। কার্যকরী জনসম্পৃক্ততা হল সেই চাবিকাঠি যা নিশ্চিত করবে ফার্মাসি ক্ষেত্রের পরিবর্তনগুলি সাধারণ জনগণের দ্বারা অনুধাবিত ও গৃহীত হয়েছে।

 

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পদ্ধতির জন্য বিলের উদ্দেশ্যগুলিকে ভারতে চলতি অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের সঙ্গে সারিবদ্ধ হতে হবে। এই সারিবদ্ধতা নিশ্চিত করে যে ফার্মাসি ক্ষেত্রের রূপান্তর দেশে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মান বাড়ানোর জন্য একটি বিস্তৃত, সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ। যেমন বিলে তুলে ধরা হয়েছে, সেইভাবে যত্নের গুণমান ও ন্যায্যতার উপর দৃ্ষ্টিকে ভারতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বৃহত্তর লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে, যাতে ফার্মাসি ক্ষেত্রের অগ্রগতিগুলি ভারতের সব অংশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও গুণমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবদান রাখে।

খসড়া ন্যাশনাল ফার্মাসি কমিশন বিল ২০২৩ ভারতে ফার্মাসি ক্ষেত্রের রূপান্তরের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো উপস্থাপন করে। যাই হোক, এর সাফল্য মূলত নির্ভর করবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, প্রাপ্তিযোগ্যতার সঙ্গে গুণমানের ভারসাম্য, এবং ভারতের অনন্য স্বাস্থ্যসেবা ভূচিত্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপর। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত অভিযোজনযোগ্যতা, এবং আধুনিক ফার্মাসির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী অনুশীলনের একত্রীকরণের উপর খসড়া বিলের ফোকাস ভারতে ফার্মাসি অনুশীলনের উৎকর্ষ ও মান উন্নত করার জন্য একটি প্রগতিশীল পদ্ধতির প্রস্তাব করেছে।



ওমেন সি কুরিয়ান একজন সিনিয়র ফেলো এবং অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভ–এর প্রধান।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.