Published on Jan 04, 2024 Updated 0 Hours ago

খসড়া এনপিওএস ভারতে এখন পর্যন্ত যেভাবে ডেটা দেখা হয়েছে সেই ধরনটির পরিবর্তনকে চিহ্নিত করেছে

এনপিওএস কি ভারতের পরিসংখ্যানগত পুনর্জাগরণের সূচনা?

পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (এমওএসপিআই) সকলের মতামতের জন্য সরকারি পরিসংখ্যান সংক্রান্ত খসড়া সংশোধিত জাতীয় নীতি  (রিভাইজড ন্যাশনাল পলিসি অন অফিশিয়াল স্ট্যাটিসটিকস বা এনপিওএস) প্রকাশ্য পরিসরে রেখেছে। এই খসড়াটি কেবল একটি নীতিগত দলিল নয়, বরং তথ্য–অবহিত ভবিষ্যতের জন্য ভারতের কৌশলগত নীলনকশা। নিঃসন্দেহে এটি একটি সুগভীর রূপান্তর, এবং তা ভারতে এখনও পর্যন্ত ডেটা–কে যেভাবে দেখা হয়েছে সেই ধরনটির একটি দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন চিহ্নিত করে৷ এটি এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্দেশ করে যেখানে ডেটা তার সমস্ত আকারে — তা সে পরিসংখ্যানগত সমীক্ষাই হোক, বা প্রকল্প ডেটা অথবা সুবিধাভোগী নিবন্ধনের বিশদ সংক্রান্ত — মসৃণভাবে শাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বুনটের মধ্যে সংযুক্ত হবে। এই উচ্চাভিলাষী দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষ্য হল ভারতের পরিসংখ্যান কাঠামোকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করা, যা এর স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও ক্রমবর্ধমান আর্থ–সামাজিক ভূচিত্রের প্রতি সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করবে।

এনপিওএস ডেটার জন্য একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে দাঁড়ায়, যার মাধ্যমে দেশের নাড়ির স্পন্দনের বহুমাত্রিক অনুধাবন যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনই গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রয়োজন মেটানো যায়৷



এনপিওএস সংখ্যার সংকলনে বা দূষণমুক্ত পরিসংখ্যান ঘিরে নিছক পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি কিছু; এটি একটি সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রকে কল্পনা করে যা এক বিলিয়ন প্লাস মানুষের একটি দেশের বহুমুখী আখ্যানকে ধারণ করে। এই আখ্যানগুলি বিভিন্ন উৎস থেকে রচিত, যা শুধুমাত্র ঐতিহ্যগত পরিসংখ্যানগত সমীক্ষার গুরুত্বই নয়, প্রশাসনিক ও নিবন্ধন নথির বিশাল ভাণ্ডারকেও তুলে ধরে। এই ধরনের একটি ব্যাপক পদ্ধতি নিশ্চিত করে যে ডেটা ভারতের দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্থ–সামাজিক ভূ–চিত্রের গতিশীলতা ও বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করবে। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল সংস্থাগুলির দ্বারা সমন্বিত সমৃদ্ধ (‌গ্র‌্যানিউলার)‌ ডেটা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলির ব্যবস্থাপিত বিস্তৃত ডেটাসেট পর্যন্ত, এনপিওএস অবশ্যই ডেটার জন্য একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে দাঁড়ায়, যার মাধ্যমে দেশের নাড়ির স্পন্দনের বহুমাত্রিক অনুধাবন যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনই গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রয়োজন মেটানো যায়৷


শাসনের চ্যালেঞ্জগুলি


ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় একটি দেশে সমন্বিত প্রয়াস কোনও বিলাসিতা নয়; একটি প্রয়োজনীয়তা। এই অনুধাবন–প্রসূত এনপিওএস একটি সমন্বিত, আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্ক কল্পনা করে যা কেন্দ্রীয় মন্ত্রক/বিভাগ থেকে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং যার ভিত্তি
এমওএসপিআই। এটি একটি নিছক প্রশাসনিক সারিবদ্ধকরণ নয়; এটি একটি কৌশলগত সমন্বয়সাধন, যা ডিজাইন করা হয়েছে এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য যে ডেটা — তা সে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের স্থানীয় জরিপ থেকে নেওয়া হোক বা ব্যস্ত রাজধানীতে একটি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান উদ্যোগ থেকে — সামঞ্জস্যপূর্ণ, ব্যাপক এবং প্রসঙ্গগতভাবে প্রাসঙ্গিক। নিয়মিতভাবে ডেটাসেট প্রকাশ এবং আপডেট করার প্রতিশ্রুতি–সহ এই সারিবদ্ধকরণ নিশ্চিত করে যে ভারতের ডেটা আখ্যানটি শুধু সাম্প্রতিকতমই হবে না, সেইসঙ্গেই হবে ভবিষ্যৎমুখী, যার উদ্দেশ্য উদীয়মান প্রবণতা ও চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করা।
 
কিন্তু এখানে একটি সমস্যা আছে। একই ভেরিয়েবল–এর ডেটাতে বিভিন্ন এজেন্সি থেকে আসা যে কোনও বিভিন্নতা কীভাবে সঙ্গতিপূর্ণ করে তোলা হবে, সে সম্পর্কে কোনও ইঙ্গিত নেই। খসড়াটিতে অবশ্য জোর দিয়ে বলা আছে যে, সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশিকাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত পরিসংখ্যান সংক্রান্ত বিষয়গুলি এমওএসপিআই ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রক/বিভাগের মধ্যে পরিসংখ্যান সংক্রান্ত উপদেষ্টাদের মাধ্যমে সমন্বিত হবে। তবে, অতীত থেকে প্রমাণ রয়েছে যেখানে
বিভিন্ন এজেন্সির ডেটা একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এই সমস্যাটিকে নীতিসংক্রান্ত উদ্বেগ বলে মনে না করলেও, অবশ্যই এটি একটি কার্যপরিচালনগত (‌অপারেশনাল)‌ উদ্বেগ। নীতি শুধু এই পরামর্শ দিতে পারে এই সঙ্গতিসাধনের দায়িত্ব কোন এজেন্সির হাতে থাকবে। বিভিন্ন নমুনা কাঠামোর কারণেই প্রায়শ ভিন্নতা দেখা দেয়। যাই হোক, যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল এইভাবে নির্বাচিত নমুনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং নমুনা কাঠামোটি যাতে জনসংখ্যা কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করে তা নিশ্চিত করা।

খসড়া এনপিওএস আন্তর্জাতিক মানের প্রতি ভারতের অটল দায়বদ্ধতাকে স্পষ্ট করে, এবং পরিসংখ্যানগত পাওয়ার হাউস হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপর জোর দেয়।



আজ, যখন দেশগুলি বৈশ্বিক মঞ্চে একটি অবস্থানের জন্য লড়াই করছে, সেই সময় ডেটা হয়ে উঠেছে বিশ্বাসযোগ্যতার মুদ্রা। খসড়া এনপিওএস আন্তর্জাতিক মানের প্রতি ভারতের অটল দায়বদ্ধতাকে স্পষ্ট করে, এবং পরিসংখ্যানগত পাওয়ার হাউস হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপর জোর দেয়। ২০১৬ সালে গৃহীত ইউনাইটেড নেশনস ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপলস অফ অফিশিয়াল স্ট্যাটিস্টিকস বা ইউএনএফপিওএস এবং
আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের স্পেশাল ডেটা ডিসেমিনেশন স্ট্যান্ডার্ড (এসডিডিএস) –এর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলির দ্বারা নির্ধারিত প্রোটোকলগুলি মেনে চলা একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়: ভারত শুধু বিশ্বব্যাপী ডেটা সংলাপে অংশগ্রহণই করছে না, সে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম অনুশীলনের প্রতি এই দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে যে, বিভিন্ন উৎস দ্বারা অবহিত এবং শাসনের একাধিক স্তর জুড়ে সমন্বিত ভারতের ডেটা আখ্যানটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে অনুরণিত হবে।

অবশ্য আবারও, ইউএনএফপিওএস–এর নীতি ১০–এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে, সঙ্গতিপূর্ণতার চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে। এই নীতিটি বলে যে: ‘‌‘‌...পরিসংখ্যানে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সমস্ত দেশে সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থার উন্নতিতে অবদান রাখে।’‌’‌ এটি একটি সত্য যে ভারত সমস্ত বড় আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় সেগুলিতে অংশগ্রহণ করে। যাই হোক, প্রায়শই ডেটা বিভিন্ন সময়–প্রাসঙ্গিকতার কারণে পরিবর্তিত হয় (যেমন, বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংস্থার বার্ষিক বছর, আর ভারতের আর্থিক বছর)।

 

প্রযুক্তি ও রূপান্তর


ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করার জন্য অন্তর্দৃষ্টির চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন; প্রয়োজন সক্রিয়তা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর এনপিওএস–এর গুরুত্ব আরোপ ভারতের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ। ডেটার ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বলে স্বীকার করে  নিয়ে নীতিটি বৃহত্তর
‘‌ডিজিটাল ইন্ডিয়া’‌ উদ্যোগের. সঙ্গে সামঞ্জস্যকৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সমীক্ষার উত্তরণের উপর জোর দেয়। কিন্তু এটা নিছক ডিজিটাইজেশনকে ছাড়িয়ে আরও আগে চলে যায়। ডেটা প্রচারের জন্য ব্যবহারকারী–বান্ধব অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির উপর জোর দিয়ে, এবং আধুনিক, ডিজিটাল–প্রথম পদ্ধতিগুলির পক্ষে কথা বলে, এনপিওএস বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ডেটা বিপ্লবের অগ্রভাগে ভারতকে নিয়ে এসেছে।


তবুও, প্রতিটি উচ্চাভিলাষী অন্তর্দৃষ্টি তার উপলব্ধির পথে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এনপিওএস, এর বিস্তৃত সুযোগ ও রূপান্তরমূলক দৃষ্টিভঙ্গি–সহ, কোনও ব্যতিক্রম নয়। ভারতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত এর শাসন কাঠামোর বিশালতা, উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। এই বিশাল ভূ–চিত্র জুড়ে ডেটার নির্বিঘ্ন একীকরণ নিশ্চিত করা এবং ডেটার বিশুদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা একটি কঠিন কাজ। যাই হোক এনপিওএস, এর ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি, বৈশ্বিক সারিবদ্ধকরণ এবং ভবিষ্যৎ–অগ্রমুখী দৃষ্টিভঙ্গি–সহ, সামনে এগিয়ে চলার একটি উজ্জ্বল পথ দেখায়।

ভারতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত এর শাসন কাঠামোর বিশালতা, উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে।



এনপিওএস–এর রূপান্তরমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রযুক্তির সঙ্গে ডেটার অবিরত মিলন। প্রযুক্তি যেহেতু তার অবিরত অগ্রযাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি দিককে নতুন আকার দিচ্ছে, তাই এটি ডেটা সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তার প্রচারের জন্য যে অপার সম্ভাবনা নিয়ে আসে তা অতুলনীয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি রিয়েল–টাইম ডেটা ব্যবহারের সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেয়,  মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমগুলি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, এবং ক্লাউড স্ট্রাকচারগুলি প্রসারযোগ্যতা ও উপলব্ধতা নিশ্চিত করে৷ যাই হোক, এই ডেটা–টেক সঙ্গমেরও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আছে। ডেটা গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তার বিপদ এবং নির্দিষ্ট জনসংখ্যার প্রযুক্তিগত সীমার বাইরে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ অবশ্যই দীর্ঘ ছায়া ফেলে।

তার উপর, যেহেতু প্রযুক্তির বিবর্তন ঘটছে বিপজ্জনক গতিতে, তাই আমাদের নিয়ামক ও নীতিগত কাঠামোর পিছিয়ে পড়ার একটি স্পষ্ট ঝুঁকি রয়েছে, যার ফলে সম্ভাব্য ভুল পদক্ষেপ করা হতে পারে। সামনের পথ হল উদ্ভাবন ও সতর্কতার একটি যুক্তিপূর্ণ মিশ্রণ। যদিও এনপিওএস সঠিক ভাবেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমাধানগুলি গ্রহণের উপর জোর দেয়, একইসঙ্গে এমন শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করাও অপরিহার্য যা ডেটা বিশুদ্ধতা রক্ষা করে, অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে এবং নাগরিকদের গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেয়। সংক্ষেপে, ডেটা–টেক যাত্রা এমন হওয়া উচিত যা কেবল ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দ্বারা নয়, অতীতের পাঠ দ্বারাও চালিত হয়।


ডেটা ক্ল্যাসিফায়েড করে রাখা


এনপিওএস অবশ্য ডেটা ক্ল্যাসিফায়েড (‌গোপনীয়)‌ করে রাখার বিষয়ে নীরব রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে একটি ছিল যে, প্রায়শই ডেটা ঘোষিত হয় ক্ল্যাসিফায়েড হিসাবে, এবং সর্বজনীন পরিসরে প্রাপ্য হয় না। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, কিছু আন্তঃসীমান্ত নদীর কিছু সাম্প্রতিক জলবিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য ক্ল্যাসিফায়েড ঘোষণা করা হয়েছে। আরও বিষয়গতভাবে, এটি বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণকে বাধা দেয় এবং প্রায়শই নীতি প্রণয়নে ভুল অনুমানের দিকে নিয়ে যায়। যাই হোক, এটি সত্য যে নিরাপত্তা উদ্বেগ অন্য উদ্বেগগুলিকে অগ্রাহ্য করে;‌ তবে এই জাতীয় বিষয়ে আরও সচেতন নীতি থাকা দরকার। ক্ল্যাসিফায়েড ডেটার উদ্বেগকে স্বীকার না–করা অবশ্যই এই খসড়ার অন্যতম ত্রুটি। এটি সেই মৌলিক নীতির পরিপন্থী যার উপর খসড়াটি দাঁড়িয়ে আছে, অর্থাৎ ডেটাকে জনসাধারণের কল্যাণের বিষয় হিসাবে বিবেচনা করা, এবং নন–এক্সক্লুডেবিলিটি (‌কারও বাদ না–পড়া)‌ ও নন–রাইভালরি (রেষারেষিমুক্ত)‌–র স্তম্ভ হিসাবে ব্যবহার করা।


ডেটা গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তার বিপদ এবং নির্দিষ্ট জনসংখ্যার প্রযুক্তিগত সীমার বাইরে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ কিন্তু দীর্ঘ ছায়া ফেলে।



সামনের পথ


২০২৪–২০২৭ মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিসংখ্যান কমিশনে (ইউএনএসসি) ভারতের
সাম্প্রতিক নির্বাচন শুধুমাত্র একটি স্বীকৃতি নয়, বরং পরিসংখ্যানগত উৎকর্ষের প্রতি দেশটির দায়বদ্ধতার একটি প্রমাণ, যেমনটি সরকারি পরিসংখ্যান সংক্রান্ত খসড়া সংশোধিত জাতীয় নীতিতে (এনপিওএস) তুলে ধরা হয়েছে। এই সম্মানিত অবস্থান ভারতের সরকারি পরিসংখ্যানবিদদের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বব্যাপী সারিবদ্ধতা, ইউএনএফপিওএস–এর অনুসারী হওয়া, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির দ্বারা নির্ধারিত মানগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের উপর জোর দিয়ে এনপিওএস বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অঙ্গনে ভারতের যাত্রার জন্য একটি পথনির্দেশক আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করে।


ইউএনএসসি–র অংশ হওয়া ভারতকে শুধু অন্যান্য দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার সুযোগই দেয় না, বরং এর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্দৃষ্টিতে অবদান রাখারও সুযোগ দেয়, এবং বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যানগত কথোপকথনে ভারতের অনন্য আর্থ–সামাজিক ভূচিত্র ও ডেটা–চালিত আখ্যান থেকে উপকৃত হওয়া নিশ্চিত করে। অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ভারতকে সারা বিশ্ব থেকে সর্বোত্তম অনুশীলন গ্রহণের পথ প্রশস্ত করে, এর পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে পরিমার্জিত করে, এবং বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যানগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এর অগ্রভাগে থাকা নিশ্চিত করে। ভারত এই মর্যাদাপূর্ণ যাত্রা শুরু করার সময় এনপিওএস দ্বারা স্থাপিত মজবুত ভিত্তির সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে বৈশ্বিক পরিসংখ্যান ক্ষেত্র গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।


বিশ্বব্যাপী সারিবদ্ধতা, ইউএনএফপিওএস–এর অনুসারী হওয়া, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির দ্বারা নির্ধারিত মানগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের উপর জোর দিয়ে এনপিওএস বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অঙ্গনে ভারতের যাত্রার জন্য একটি পথনির্দেশক আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করে।


খসড়া সংশোধিত এনপিওএস শুধুমাত্র একটি নীতি নথি নয়; এটি ডেটা–কেন্দ্রিক বৈশ্বিক ভূচিত্রে ভারতের আকাঙ্ক্ষার ঘোষণা। এটি একটি পরিসংখ্যানগত পুনর্জাগরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশের সম্মিলিত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করে। এনপিওএস–এর বলে বলীয়ান হয়ে ভারত যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব শ্বাসরোধ করে তাকিয়ে দেখছে এবং অনুমান করছে এমন এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে যেখানে ডেটা শুধু সিদ্ধান্তই জানায় না, বরং ভাগ্যকে রূপ দেয়।



ওমেন সি কুরিয়ান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের  সিনিয়র ফেলো এবং হেলথ ইনিশিয়েটিভ–এর প্রধান।

নীলাঞ্জন ঘোষ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোম্যাসি–র পরিচালক।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Oommen C. Kurian

Oommen C. Kurian

Oommen C. Kurian is Senior Fellow and Head of Health Initiative at ORF. He studies Indias health sector reforms within the broad context of the ...

Read More +
Nilanjan Ghosh

Nilanjan Ghosh

Dr Nilanjan Ghosh is a Director at the Observer Research Foundation (ORF) in India, where he leads the Centre for New Economic Diplomacy (CNED) and ...

Read More +