Published on Jul 11, 2023 Updated 0 Hours ago

ভারতে ২০২১ এবং ২০২২ সালে তাপপ্রবাহ কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা বাড়িয়েছে। এই প্রবণতা ২০২৩ সালেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি: পিক কোলে পৌঁছনোর দিন কি ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে?

এই নিবন্ধটি ‘কম্প্রিহেনসিভ এনার্জি মনিটর: ইন্ডিয়া অ্যান্ড দি ওয়ার্ল্ড’ সিরিজের অংশ।


পিক কোল বা কয়লার শীর্ষ চাহিদা

অতিমারির তিন বছর ধরে ভারত, চিন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে কয়লার  চাহিদার ধীর গতির বৃদ্ধি পিক কোলের (কয়লার শীর্ষ চাহিদা) আখ্যানকে শক্তিশালী করেছে। এই সময় বিদ্যুতের চাহিদা প্রত্যাশিত বৃদ্ধির চেয়ে কম ছিল। তার সঙ্গে রাষ্ট্রের নীতি-সমর্থিত রিনিউয়েবল এনার্জি বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (আরই), বিশেষত সৌর শক্তি, যা গ্রিড ব্যবহারের অগ্রাধিকার পায় (‘মাস্ট রান স্টেটাস’ বা ‘নিরবচ্ছিন্ন তকমা’), তার থেকে আগ্রাসী প্রতিযোগিতার ফলে ভারতে কয়লা এবং জ্বালানি মূল্য শৃঙ্খলে অতিরিক্ত ক্ষমতার সৃষ্টি  হয়েছে। ২০২০ সালে ভারতে ১০০ জিডব্লিউ (গিগাওয়াট) অনুমোদিত কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পগুলি শুরু করার কথা থাকলেও অধিকাংশ অনুমানই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে, এগুলি নির্মাণ করা হবে না। কারণ আরই বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পূরণ করতে সক্ষম হবে। ২০১০ সালে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের তুলনায় ২০১৯ সালে ভারতীয় বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বার্ষিক বিনিয়োগের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে আসে। বিশ্বব্যাপী কয়লার ভবিষ্যৎ এর তুলনায় অনেকটাই হতাশাব্যঞ্জক।

২০২০ সালে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) স্পষ্টই বলে যে, বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা ২০১৪ সালে শীর্ষে পৌঁছেছে এবং ২০৩০ সালের আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার শীর্ষে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। চিনে কয়লা ব্যবহার – যা বিশ্বব্যাপী কয়লা ব্যবহারের ৫০ শতাংশ – ২০২৫ সাল নাগাদ শীর্ষে পৌঁছবে। বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা তার প্রাক-কোভিড-১৯ পর্যায়ে  ফিরে আসবে বলে আশা করা হয়নি এবং শিল্প বিপ্লবের পর প্রথম বারের মতো বিশ্বব্যাপী শক্তির মিশ্রণে কয়লার পরিমাণ ২০ শতাংশের নীচে নেমে আসবে বলে আশা করা হয়েছিল। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে এবং বিশ্ব জুড়ে কয়লা উৎপাদনের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা হ্রাসের কারণে বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। পর্যায়ক্রমে পরিকল্পিত নীতি, সস্তা প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে আরই-এর সহায়ক নীতিগুলিও পশ্চিমী অর্থনীতিতে কয়লার পতনে অবদান রেখেছে।

বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা তার প্রাক-কোভিড-১৯ পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হয়নি এবং শিল্প বিপ্লবের পর প্রথম বারের মতো বিশ্বব্যাপী শক্তির মিশ্রণে কয়লার পরিমাণ ২০ শতাংশের নীচে নেমে আসবে বলে আশা করা হয়েছিল।

ভবিষ্যতের জন্য এমনটা অনুমান করা হচ্ছে যে, ভারতে কয়লার চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী চাহিদার ১৪ শতাংশ জুড়ে থাকলেও কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পূর্বের প্রত্যাশিত মাত্রার তুলনায় যথেষ্ট কম হবে। আইইএ আশা করেছিল যে, ভারতে কয়লার চাহিদা (বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য) ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক মাত্র ২.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার চাহিদা ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ছিল এবং সরকার কর্তৃক আরই-এর জন্য নির্ধারিত উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে কয়লার ব্যবহার কোভিড-১৯-এর আগের পর্যায়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ভারতে কোভিড-পরবর্তী সময়ে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতা থেকে বোঝা যায় যে, এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতার চেয়ে আশাকেই প্রতিফলিত করে।

কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি

২০১৪ সালে, যে বছর আইইএ অনুসারে ‘পিক-কয়লা’র প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল, বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা ছিল ৫.৬৮০ বিলিয়ন টন (বিটি) যার মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত তাপীয় কয়লার পরিমাণ ছিল ৪.৩৪৭ বিটি বা ৭৬ শতাংশের বেশি। ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা ছিল ৭.৯৪৭ বিটি, যার মধ্যে তাপীয় কয়লার চাহিদা ছিল ৫.৩৫০ বিটি। কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি ২০১৪ সালে পিক কোলের অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে। ২০২১ সালে কয়লার  চাহিদা সর্বকালের সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছয়, যা বিশ্বব্যাপী শক্তি-সম্পর্কিত কার্বন ডাই অক্সাইড (সিওটু) নিঃসরণে সর্বকালের বৃহত্তম বার্ষিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। আইইএ-এর মতে, বর্ধিত লকডাউন সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪.২৩০ এমটি-তে পৌঁছনো সত্ত্বেও ২০২১ সালে চিনে কয়লার চাহিদা ৪.৬ শতাংশ বা ১৮৫ এমটি (মিলিয়ন টন) বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের কয়লা ব্যবহার ২০২১ সালে ১ বিটি-র সীমা অতিক্রম করেছে। সেই বছর মোট ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ১.০৫৩ বিটি, যা একটি নতুন সর্বকালীন সর্বোচ্চ এবং যা চিন ছাড়া অন্য যে কোনও দেশ দ্বারা এক বছরে ব্যবহৃত কয়লার পরিমাণকেই বোঝায়। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ভারতীয় কয়লার ব্যবহার ১২ শতাংশ বা ১১৭ এমটি বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ভারত সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০২১-২২ সালে ১.০২৭ বিটি ব্যবহার কয়লার সর্বোচ্চ চাহিদা ১ বিটি মাত্রাকে অতিক্রম করেছে৷ ২০২২-২৩ সালে কয়লার চাহিদা ২০২৩ সালের জানুয়ারির মধ্যে ১.০৭৮ বিটি অতিক্রম করেছে।

অভ্যন্তরীণ কয়লা উৎপাদন

২০১৪ সালে ভারত সরকার ২০১৯-২০২০ সালের মধ্যে কয়লা উৎপাদনকে ১.৫ বিটি-তে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল এবং যার মধ্যে ১ বিটি কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (সিআইএল) এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলি থেকে উৎপন্ন হয়৷ ২০১৯ সালে কয়লা উৎপাদন ১.৫ বিটি-তে বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ২০২৩-২৪ সালে সংশোধন করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কয়লা মন্ত্রক (এমওসি) ২০২০-২৪ সালে সিআইএল দ্বারা ১ বিটি কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। এমওসি অনুসারে, কয়লার চাহিদা ২০১৯-২০ সালে ৯৫৫.২৬ মিলিয়ন টন (এমটি) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩-২৪ সালে ১.২৭ বিটি-তে পরিবর্তিত হওয়ার কথা এবং ভারতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। ২০২২-২৩ সালে কয়লার চাহিদা ছিল ১.০২৯ বিটি

১.৫ বিটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য কয়লার অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বার্ষিক প্রায় ৭ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি করতে হবে। এটি একটি অসম্ভব লক্ষ্যমাত্রা নয়। ২০০৮-২০১০ সালের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কয়লা উৎপাদনের বার্ষিক গড় প্রায় ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০১-০২ থেকে ২০০৯-১০ পর্যন্ত দশকটিতে কয়লা উৎপাদন গড়ে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ২০১০-১১ থেকে ২০১৯-২০-র দশকে উত্পাদন বৃদ্ধির হার গড়ে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে আসে। ২০১০-১৯ সালের মধ্যে কয়লা সরবরাহে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও এমনটা ঘটে। অর্থনীতির মন্থরতা ছিল মূল কারণগুলির অন্যতম। ২০১৯-২০ সালে ভারতে কাঁচা কয়লা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭২৯.১ এমটি যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ০.০৫ শতাংশের ন্যূনতম বৃদ্ধিকেই দর্শায়। ২০২০ সালের এপ্রিল-অক্টোবর মাসের মধ্যে কয়লা উৎপাদন প্রতি বছরে ৩.৩ শতাংশ কমে ৩৩৭.৫২ এমটি-তে পরিণত হয়েছে। কয়লা আমদানি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ সালে কয়লার মোট আমদানি ২০১৮-১৯ সালের ২৩৫.৩৫ এমটি-র তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪৮.৫৪ এমটি হয়েছে। নন-কোকিং কয়লার আমদানি ২০১৮-১৯ সালে ১৮৩.৫১০ এমটি-র তুলনায় ২০১৯-২০ সালে ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৬.৭০৪ এমটি হয়েছে। ২০১৯-২০ এবং ২০২২-২৩ সালের মধ্যে কয়লার চাহিদা বার্ষিক গড় ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২২-২৩ থেকে ২০২৯-৩০-র মধ্যে বার্ষিক গড় ৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৪৪৮ বিটি পর্যন্ত পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমদানি-সহ কয়লা সরবরাহ ২০২২-২৩ থেকে ২০২৯-৩০-এর মধ্যে ১.৫১১ বিটি পর্যন্ত বার্ষিক গড় ৭.৮ শতাংশ হারে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার আশাবাদী যে, কয়লার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী অঞ্চলে’ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করবে।

সিআইএল-এর রিপোর্ট ‘কয়লা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পথনির্দেশিকা’ কয়লা উৎপাদন বৃদ্ধির নিরিখে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে। প্রতিবেদনটিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের উপায় হিসাবে রেললাইনে বিনিয়োগ, খনির কাজে যান্ত্রিকীকরণ, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ, দ্রুত পরিবেশগত ছাড়পত্র ও রাজ্য-স্তরের অনুমোদন-সহ বৃহৎ আকারের খনন কার্যের চুক্তির তালিকা করা হয়েছে।

সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বৃহত্তর। নীতি আয়োগের ভাইস-চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সরকার দ্বারা নিযুক্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির মতে – যাকে কয়লা খাতের উদারীকরণের আদেশ দেওয়া হয়েছিল – কয়লাকে রাজস্বের উত্স হিসাবে দেখা হবে না, বরং যে সমস্ত ক্ষেত্রে কয়লা ব্যবহার হয়, সেগুলিকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি ইনপুট হিসাবে বিবেচনা করা হবে। এই নতুন দৃষ্টান্তের অধীনে এই কমিটি সুপারিশ করেছে যে, সরকারের উচিত কয়লার প্রারম্ভিক এবং সর্বাধিক  উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করা এবং বাজারে কয়লার ব্যাপক লব্ধতার লক্ষ্যে কাজ করা। সরকার আশাবাদী যে, কয়লার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী অঞ্চলে’ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করবে। এমওসি বলেছে যে, অভ্যন্তরীণ কয়লা উৎপাদন বৃদ্ধি শুধু মাত্র আমদানির পরিমাণ হ্রাস করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়েই অবদান রাখবে না, বরং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ভাবে সমস্যাসঙ্কুল কয়লাসমৃদ্ধ রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সরকারের মতে, সম্পদ (কয়লা) সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিতে বিনিয়োগের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য, সরকার কয়লা সম্পদ বাণিজ্যিক খননের ছাড়পত্র দিয়েছে এবং আশা করে যে, কয়লার বাণিজ্যিক উৎপাদন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, সার ও সিমেন্টের উত্পাদন এবং প্রক্রিয়াকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকার রফতানি ও কয়লা-বহির্ভূত ব্যবসা বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কয়লার বাজারের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। সরকার ভারতের বৃহৎ কয়লা স্তর থেকে কোল বেড মিথেন (সিবিএম) শোষণের অধিকার বেসরকারি খাতে প্রসারিত করেছে। উপরন্তু এটি ভূপৃষ্ঠের কোল গ্যাসিফিকেশনের (কয়লা পোড়ানোর তুলনায় একটি অপেক্ষাকৃত কম দূষণযুক্ত বিকল্প) মাধ্যমে সিন্থেটিক গ্যাস (সিনগাস) তৈরিতে উৎসাহ দিচ্ছে, যা মিথানল এবং ইথানল, ইউরিয়া (সার) এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড, মিথাইল অ্যাসিটেট, অ্যাসিটিক অ্যানহাইড্রাইড, ডাই-মিথাইল ইথার, ইথিলিন, প্রোপিলিন, অক্সো রাসায়নিক এবং পলি অলিফিনের মতো অন্যান্য রাসায়নিক দ্বারা শক্তি জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করা যেতে পারে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ এমটি কোল গ্যাসিফিকেশন প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দু’টি গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প – যার মধ্যে একটি উচ্চ ছাই কয়লার সঙ্গে পেট কোকমিশ্রিত (তালচের ফার্টিলাইজার প্ল্যান্ট) এবং অন্যটি কম ছাইসম্পন্ন কয়লা (ডানকুনি মিথানল প্ল্যান্ট) – পাইলট ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সরকার রফতানি ও কয়লা-বহির্ভূত ব্যবসা বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কয়লার বাজারের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।

পিক কয়লা: অনড় লক্ষ্যমাত্রা

বিশ্বব্যাপী কয়লা ব্যবহার ২০২২ সালে প্রথম বারের মতো ৮ বিটি অতিক্রম করবে, যা আইইএ অনুসারে ২০১৩ সালে নির্ধারিত আগের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সঙ্কটের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক গ্যাসের উচ্চ দাম বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এমনকি কঠোর কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ চাহিদা কিছুটা কমালেও বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ভোক্তা দেশ চিনে একটি তাপপ্রবাহ এবং খরা গ্রীষ্মকালে কয়লা বিদ্যুৎ উত্পাদনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। ভারতে ২০২১ এবং ২০২২ সালে তাপপ্রবাহ শীতলকরণ এবং সেচের জন্য কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। এল-নিনোর কারণে রেকর্ড তাপপ্রবাহ প্রত্যাশিত হওয়ায় ভারত এবং অন্যত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা ২০২৩ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে। পিক কোলের কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা এবং তাপপ্রবাহের দরুন এই প্রচেষ্টা বিলম্বিত হওয়া… উভয়ই আশ্চর্যজনক ভাবে জলবায়ু পরিবর্তন দ্বারা চালিত।

সূত্র: মিনিস্ট্রি অব কোল, গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া


লিডিয়া পাওয়েল অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ সংক্রান্ত নীতি বিষয়ে গত আট বছর ধরে গবেষণা করছেন।

অখিলেশ সতী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এনার্জি ইনিশিয়েটিভে পনেরো বছরে ধরে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত।

বিনোদ কুমার তোমর এনার্জি নিউজ মনিটর এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar, Assistant Manager, Energy and Climate Change Content Development of the Energy News Monitor Energy and Climate Change. Member of the Energy News Monitor production ...

Read More +
Lydia Powell

Lydia Powell

Ms Powell has been with the ORF Centre for Resources Management for over eight years working on policy issues in Energy and Climate Change. Her ...

Read More +
Akhilesh Sati

Akhilesh Sati

Akhilesh Sati is a Programme Manager working under ORFs Energy Initiative for more than fifteen years. With Statistics as academic background his core area of ...

Read More +