Author : Prithvi Gupta

Published on Dec 02, 2023 Updated 0 Hours ago

রাশিয়ায় চিনা বিনিয়োগ বেড়েছে, তবে এটি সার্বভৌমত্বের সম্ভাব্য ক্ষতি এবং অর্থনীতির মূল ক্ষেত্রগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে

ইউক্রেন সংঘাতের পর থেকে চিন ক্রমাগত রাশিয়ায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে

চিন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি দীর্ঘ, বহুমুখী ও জটিল সম্পর্ক রয়েছে যা আমাদের ১৭ শতকে পিছিয়ে নিয়ে যায়, যখন চিনের মিং রাজবংশ সুদূর পূর্ব রাশিয়ার বর্তমান অঞ্চলগুলিকে চৈনিক সাম্রাজ্যে সংযুক্ত করেছিল  (১৮৫৮৬০)দুই দেশ বছরের পর বছর ধরে মিত্র ও শত্রু দুটোই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলিতে তারা ঘনিষ্ঠ হয়েছে, একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গঠন করেছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের অর্থনীতির পরিপূরকতা, অনুরূপ রাজনৈতিক উপকরণ, ভৌগোলিক নৈকট্য, সমধর্মী কৌশলগত লক্ষ্য দুটি প্রাচীন সভ্যতাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, বেজিংএ শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী দিনে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন একটি ‘‌সীমাহীন’‌ অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেন যা ‘‌একটি জোটকে অতিক্রম করে যায়’‌। তারপরে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যে, এই দ্বিপাক্ষিকতা ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জোটের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক, এবং অংশীদারদের উদ্দেশ্য বর্তমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন উদারনৈতিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। ঠিক বিশ দিন পরে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে একটি ‘‌বিশেষ সামরিক অভিযান’‌ শুরু করে এই নতুন শক্তিশালী অংশীদারিত্বের পরীক্ষা করে।

তারপরে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যে, এই দ্বিপাক্ষিকতা ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জোটের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক, এবং অংশীদারদের উদ্দেশ্য বর্তমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন উদারনৈতিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া।



এই অভিযানের প্রভাব ছিল তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর অব্যবহিত পরে চিন রাশিয়ায় বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ প্রকল্প স্থগিত বা বিলম্বিত করে। তবে এক বছরেরও বেশি সময় পরে চিন ফের কিছু বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। এই নিবন্ধটি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ায় চিনা বিনিয়োগ পরীক্ষা করে এবং এর ভূকৌশলগত ও ভূঅর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে।

নর্ড স্ট্রিম থেকে সাইবেরিয়ার শক্তি

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর মস্কোর জ্বালানি অংশীদার হিসেবে চিনের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। রাশিয়া পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার পর এবং পশ্চিমী তেল কোম্পানিগুলি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পর ক্রেমলিন তার প্রাচ্যের দিকে ভরকেন্দ্র’‌ নীতি প্রসারিত করেছে।

এর আগে, রাশিয়া ইউরোপের তেলের বাজারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। রাশিয়া যুদ্ধপূর্ব সময়ে ইউরোপে প্রতি বছর ১৫৫ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রপ্তানি করত। পশ্চিম রাশিয়া থেকে আসা সমুদ্রের নিচের নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনগুলি জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করছিল, যেখান থেকে এটি ইউরোপের বাকি অংশে বণ্টন করা হত। এই পাইপলাইনগুলো ইউক্রেনকে বাইপাস করে গিয়েছে। যদিও এটি ইউরোপের বাকি অংশগুলিকে উপকৃত করেছিল, তা হলেও এটি ইউক্রেনের জন্য ভাল ছিল না, কারণ দেশটি বার্ষিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ট্রানজিট রয়্যালটি এবং রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত করার ক্ষমতা হারিয়েছিল, যা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য উল্লেখযোগ্য বাধা হতে পারত। যাই হোক, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, রাশিয়া ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় সমর্থন রোধ করতে এই পাইপলাইনগুলি দিয়ে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়

পশ্চিম রাশিয়া থেকে আসা সমুদ্রের নিচের নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনগুলি জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করছিল, যেখান থেকে এটি ইউরোপের বাকি অংশে বণ্টন করা হত।



ইউরোপীয় বাজার থেকে এই বিচ্ছিন্নতা বেজিংকে রাশিয়ার সঙ্গে, বিশেষ করে রাশিয়ার সুদূর পূর্বের সঙ্গে, তার সম্পৃক্ততা প্রসারিত করার একটি সুযোগ দিয়েছে।

রাশিয়ার সুদূর পূর্ব: চিনা বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র


দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সুদূর পূর্বের খবরোভস্ক ক্রাই প্রদেশ বেজিংয়ের আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে। এই প্রদেশটি অনাবিষ্কৃত শক্তি ও খনিজ মজুদ এবং চিনে একটি স্থলভিত্তিক শক্তি সরবরাহের পথ সরবরাহ করে। এই অঞ্চলের সঙ্গে চিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯ শতকে চিন পশ্চিমী ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে একের পর এক চুক্তি স্বাক্ষর করে, এবং এমন একটি চুক্তির তিয়েনসিন চুক্তি, ১৮৬০  দৌলতে জারের রাশিয়া আমুর ও বর্তমান রাশিয়ার সুদূর পূর্বের অঞ্চলগুলি দখল করেছিল। সুদূর পূর্ব অঞ্চলের সঙ্গে চিনের ইতিহাসের কারণে রাশিয়া এই অঞ্চলের মূল সম্পদে চিনাদের প্রবেশাধিকারে বাধা দিয়ে এসেছে। ২০১৪ সালে, যখন রাশিয়া আর্কটিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান চালু করেছিল, তখন এটি এই অঞ্চলের উন্নয়নে চিনাদের অংশগ্রহণ, বা এমনকি চিনের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার, কোনও উল্লেখ করেনি।

যাই হোক, এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিশীলতা পরিবর্তিত হয়েছে। গ্লোবাল নর্থ মূলত রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গেসঙ্গে মস্কো তার সবচেয়ে অচঞ্চল সমসাময়িক অংশীদার চিনের দিকে ফিরেছে। রাশিয়া এখন চিনের তেল ও গ্যাসের মজুদ বাড়িয়ে এবং আমুর, সাইবেরিয়ান ও উত্তরে চিনের অর্থায়নে উন্নয়ন ও শক্তি অনুসন্ধানের পথ প্রশস্ত করে তার অর্থনীতিকে এগিয়ে  নিয়ে যেতে চাইছে।

সুদূর পূর্ব অঞ্চলের সঙ্গে চিনের ইতিহাসের কারণে রাশিয়া এই অঞ্চলের মূল সম্পদে চিনাদের প্রবেশাধিকারে বাধা দিয়ে এসেছে।



এর একটি প্রমাণ পাওয়ার অফ সাইবেরিয়া পাইপলাইন দিয়ে চিনে ২৪ বিসিএম/বছর গ্যাস রপ্তানি করা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চিন এই পাইপলাইনে আরও দুটি শাখা যোগ করতে সম্মত হয়েছে: পাওয়ার অফ সাইবেরিয়া ২ এবং ৩ যথাক্রমে ২০২৫ ও ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার পরে চিনে ২৮ এবং ৩৪ বিসিএম/বছর গ্যাস বহন করবে।

যাই হোক, ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ায় চিনা বিনিয়োগ শুধু শক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং খনি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

২০২৩ সালের মে মাসে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ইউরি ট্রুটনেভ বলেছিলেন যে, দূর পূর্বে ৯০ শতাংশেরও বেশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৬টি পরিকাঠামো প্রকল্প চিনা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলির দ্বারা অর্থায়িত হচ্ছে। এটি আঞ্চলিক চিনা বিনিয়োগে বছরে ১৫০ শতাংশ (বছর থেকে বছরে)‌ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। জানুয়ারিআগস্ট ২০২২এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধির (১৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর চিন এই অঞ্চলের বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদারওচিনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে দূর পূর্ব রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

উভয় দেশ পশ্চিমী শক্তি সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য পাওয়ার অফ সাইবেরিয়া পাইপলাইন ব্যবহার করেছে। ২০২১ সালে সৌদি আরব ও  ইরানের পরে তার তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী থেকে রাশিয়া এখন ২০২৩ সালে চিনের শীর্ষ শক্তি সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। চিন ভাল ছাড়ের কারণে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলও কিনছে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের মূল্য  গড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩.৫৩ মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক তেল বাজারের গড় ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৩ মার্কিন ডলারের থেকে ১৩.৭ শতাংশ কম২০২২ সালে ৮৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রাশিয়ার তেল আমদানি করে বেজিং শক্তি আমদানিতে প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় করেছে।

তার উপর উভয় দেশ এই বাণিজ্যের জন্য দ্বিপাক্ষিক মুদ্রা ব্যবহার করেছে, যার ফলে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞাগুলি থেকে অর্থপ্রদানগুলিকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক মুদ্রায় বাণিজ্য করতে ব্যবহৃত হচ্ছে চিনের হারবিন ব্যাঙ্ক, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাঙ্ক ও চিনের কৃষি ব্যাঙ্ক, যা সুইফট ও মার্কিন ডলারপ্রধান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে কম সংযুক্ত

একটি বিপরীত প্রবণতাও রয়েছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার ভয়ে চিনের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা, যেমন হুয়াওয়ে ও ডিজেআই, মস্কোর প্রবল ক্ষোভ সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে পাততাড়ি গুটিয়েছে।



রাশিয়ার দূর পূর্বের জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি চিনা সংস্থাগুলি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে ১০০০টি পশ্চিমী বহুজাতিক সংস্থার প্রস্থানের ফলে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করেছে। চেরি, গ্রেটওয়াল ও গিলির মতো এগারোটি চিনা অটোমোবাইল কোম্পানি ২০২১ সালের ৬ শতাংশের তুলনায় রাশিয়ার বাজারের ৪০ শতাংশ দখল করবে বলে মনে করা হচ্ছে২০২২ সালে চিন থেকে গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি রপ্তানিও আগের বছরটির তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্মার্টফোন সেক্টরে সবচেয়ে দ্রুত বাজার ধরা হয়েছে ২০২২ সালে বাজারের ৭০ শতাংশ  যেখানে শাওমি ও রিয়েলমির মতো চিনা সংস্থাগুলি কৃতিত্বের অধিকারী।

তবে একটি বিপরীত প্রবণতাও রয়েছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার ভয়ে চিনের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা, যেমন হুয়াওয়ে ও ডিজেআই, মস্কোর প্রবল ক্ষোভ সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে পাততাড়ি গুটিয়েছেএমনকি আইসিবিসি ও চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মতো চিনা রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কগুলিও কাজ কমিয়ে দিয়েছে।


উপসংহার

জ্বালানি, পরিকাঠামো, পরিবহণ–সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাশিয়ায় চিনা বিনিয়োগ  বেড়েছে। চিনা পুঁজির এই প্রবাহ রাশিয়াকে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব প্রশমিত করতে সাহায্য করেছে, এবং এর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছে। যাই হোক, চিনের উপর এই নির্ভরতা তার নিজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকিও নিয়ে আসে। চিনের উপর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি অনিশ্চিত। যদিও রাশিয়ায় চিনা বিনিয়োগ বেড়েছে,  তবে এটি সার্বভৌমত্বের সম্ভাব্য ক্ষতি এবং অর্থনীতির মূল ক্ষেত্রগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো নিয়ে উদ্বেগও উত্থাপন করেছে। চিনের উপর অপরিবর্তনীয় ভূঅর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতা এড়াতে রাশিয়াকে তার শক্তি রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে।



পৃথ্বী গুপ্ত অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের একজন গবেষণা সহকারী


The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Prithvi Gupta

Prithvi Gupta

Prithvi works as a Junior Fellow in the Strategic Studies Programme. His research primarily focuses on analysing the geoeconomic and strategic trends in international relations. ...

Read More +