Published on Nov 27, 2021 Updated 0 Hours ago

পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ধীর গতি জোগান এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার মধ্যে সমতা বিধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে কয়লার ব্যবহারে বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে জলবায়ু সংক্রান্ত লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সুরক্ষার সুনিশ্চিতকরণ দেশগুলিকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

কয়লার ব্যবহারে শীর্ষে পৌঁছনোর সময়সীমা পিছিয়ে দিল চিন এবং ভারত

এই প্রতিবেদনটি ‘সর্বাঙ্গীন শক্তি পর্যবেক্ষণ: ভারত এবং বিশ্ব’ সিরিজের অন্তর্গত।


কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের নিরিখে ২০০৬ সালে চিন আমেরিকাকে টপকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। নির্গমনের মাত্রা কমানোর জন্য চিনের উপরে চাপ ক্রমশ বেড়ে চলার মাঝেই ২০১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিন সফরের সময়ে চিন মন্তব্য করে: ‘চিনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের শীর্ষে পৌঁছে তারপর তার মাত্রা কমিয়ে আনা। এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করার জন্য চিন সচেষ্ট থাকবে এবং একই সময় সীমার মধ্যে প্রাথমিক শক্তির উৎস হিসেবে অজীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির পরিমাণ প্রায় ২০%-এ নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করবে।’ ২০১৫ সালের জুন মাসে ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের একটি সভায় এ বিষয়ে বলতে গিয়ে চিনের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জাও জি অর্থনৈতিক শক্তির দিক থেকে সর্বোচ্চ এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের প্রেক্ষিতেও পৃথিবীতে প্রথম দুটি দেশ আমেরিকা এবং চিনের যৌথ বিবৃতির উপরে জোর দেন। মাথা পিছু উপার্জন ২০০০০-২৫০০০ মার্কিন ডলার হওয়ার আগেই চিনের কার্বন নির্গমনের মাত্রা শীর্ষে পৌঁছনোর লক্ষ্যের কথাও তিনি বলেন। নির্গমনের মাত্রা শীর্ষে পৌঁছনোর অর্থ হল স্পষ্টতই কয়লার ব্যবহারে শীর্ষে পৌঁছনো।

কয়লার চাহিদা শীর্ষে পৌঁছনো নিয়ে মতামত

২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আই ই এ) অনুমান করেছিল যে, চিন পৃথিবীর সর্বোচ্চ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ হয়ে উঠবে এবং পৃথিবীর মোট কয়লা ব্যবহারের ৫১% চিনে হবে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের মধ্যে আমেরিকাকে টপকে বিশ্বে কয়লা ব্যবহারের নিরিখে ভারত দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে এবং ভারতের কয়লা ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত পরিমাণের ১৩%। কিন্তু ঘোষিত সময়ের প্রায় এক দশক আগেই ২০১৫ সালে ভারত কয়লা ব্যবহারের নিরিখে আমেরিকাকে টপকে সারা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম-এর (বি পি) অনুমান অনুযায়ী যে পরিস্থিতির বাস্তব হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল, সেটি হল চিনে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধির হারের দ্রুত পতন। ২০০৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে চিনে কয়লার চাহিদা ছিল ১৩০ কোটি টন (বার্ষিক ৬.১% হারে), যা ২০২৫ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে মাত্র ১৯৫ লক্ষ টন (বার্ষিক ০.১% হারে) নেমে আসবে।

ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম অনুমান করেছিল, চিনে কয়লার চাহিদা শীর্ষে পৌঁছবে ২০৩০ সাল নাগাদ এবং তার পর প্রতি বছর ০.১% হারে তা কমতে থাকবে। আই ই এ এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম উভয়েই এর জন্য চিনের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন এবং নীতিগত ব্যবস্থাগুলির প্রশংসা করেছে, যেগুলির মধ্যে দেশে কয়লার চাহিদা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কমিয়ে আনতে চিনের একটি উৎপাদন ও শিল্পনির্ভর অর্থনীতি থেকে পরিষেবা নির্ভর এবং দেশীয় অভ্যন্তরীণ চাহিদাপূরণকারী অর্থনীতিতে রূপান্তরের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি ও জোরদার জলবায়ু সংরক্ষণ নীতি প্রণয়নের মতো পদক্ষেপগুলি উল্লেখযোগ্য। বার্নস্টাইনের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, চিন ২০১৫ সালের মধ্যে কয়লার আমদানি বন্ধ করে দেবে এবং চিনে কয়লার চাহিদা ২০১৬ সাল থেকে কমতে শুরু করবে। রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের প্রথম আট মাসে চিন ১৯৭.৬১ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করেছে। যদিও ভারতে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকবে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়েও, ভারতে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধির পরিমাণকে কোনও মতেই বিগত দুই দশকে চিনে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

পৃথিবীর জলবায়ু সংরক্ষণ বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলি চিনে কয়লার ব্যবহার শীর্ষে পৌঁছনোর বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী ছিল। ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার-এর (সি এ টি) ২০১৫ সালের মার্চ মাসের রিপোর্টে আমেরিকায় ‘কোল ক্র্যাশ’ বা কয়লার চাহিদা খুব কমে যাওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এবং জোর দিয়ে বলা হয় অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর (ও ই সি ডি) অন্তর্গত দেশগুলির কয়লার চাহিদায় ঘাটতি ভারত এবং চিন পূরণ করবে না। এই রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, সমুদ্রপথে রফতানিকৃত তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কয়লার দাম কমেছে এবং রফতানিকৃত কয়লার একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে (প্রধানত ভারত এবং চিনের দ্বারা) খরচ পোষাবে না। ভবিষ্যতেও কয়লার দাম না বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। কয়লার বর্তমান বাণিজ্যিক মূল্য (২০২১ সালের অক্টোবর মাসে) ২৬০ মার্কিন ডলার/ টন। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসের তুলনায় যা বেড়েছে ৩৭৫%। সি এ টি-র বিশ্লেষণে এটাও বলা হয়েছে যে, ১৪ বছরে প্রথম বারের জন্য ২০১৪ সালে চিনে কয়লা ব্যবহারের পরিমাণ কমেছে ২.৯%। এর পাশাপাশি অনুমান করা হয়, চিনে কয়লার ব্যবহার শীর্ষে পৌঁছতে চলেছে ২০২০ সালের আগেই।

২০১৫ সালের মার্চ মাসের সংখ্যায় ‘দি ইকোনমিস্ট’ জানিয়েছে, চিনের অর্থনীতি ৭.৩% বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ২০১৪ সালে চিনে কয়লার ব্যবহার কমেছে ১.৬%। যদিও কয়লাক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলি কয়লা ব্যবসার ওঠা-পড়া সামলাতে সমর্থ, ২০১৪ সালে কয়লার চাহিদায় মন্দা আসা এক প্রকার পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত করে। তার প্রধান কারণগুলি হল-

১. কয়লার ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে চিনের পাশ্চাত্যের দেশগুলিকে অনুসরণ করা

২. ভারতের নিজের কয়লার চাহিদা পূরণ করতে ক্রমশ আরও বেশি পরিমাণে কয়লা উৎপাদন শুরু করা এবং

৩. অন্য কয়লা ব্যবহারকারী দেশগুলিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কয়লার পরিবর্তে গ্যাসের ব্যবহার চালু করা।

বর্তমান পরিস্থিতি

অর্থনৈতিক দিক থেকে পৃথিবীর প্রধান শক্তিশালী দেশগুলির মধ্যে ২০২০ সালে একমাত্র চিনেই কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে চিনে কয়লার চাহিদা যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তা অতিক্রম করে ২০২০ সালে চিন ২৮২৯ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করে নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। এই পরিসংখ্যান ‘চিনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি আর কয়লা নির্ভর নয়’— বিশেষজ্ঞদের এ রকম ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করেছে। ২০২১ সালে এক দিকে চিনের অর্থনীতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনই অতিমারি পরবর্তী সময়ে ইস্পাত, সিমেন্ট এবং অন্যান্য কয়লানির্ভর বাণিজ্যিক দ্রব্যের উৎপাদনেও জোয়ার এসেছে। আই ই এ অনুমান করছে যে, ২০২১ সালে চিনে কয়লার চাহিদা ৪%-এর বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ২০১৪ সালের শীর্ষ চাহিদার চেয়ে অনেকটাই বেশি এবং চিনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিশ্বব্যাপী কয়লা খরচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চিনে কয়লার সাহায্যে বিদ্যুৎ (তাপ-শক্তি বা সি এইচ পি কেন্দ্র) উৎপাদনে খরচ হয়। ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২১ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত চিনে কয়লার ব্যবহার ২০২০ সালের সর্বনিম্ন পরিমাণ থেকে উপরে উঠে এসেছে অনেকটাই। শীতের শুখা মরসুমে পর্যাপ্ত জলবিদ্যুতের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার সম্মুখীন হয়ে কয়লার চাহিদা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে চিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে, যার পরিমাণ ২০২১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৬৪%-এরও বেশি। ২০২১ সালের প্রথম চার মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৬৬.৫%, যা ২০১৯ এবং ২০২০ সালের একই পর্যায়ের তুলনায় বেশি। ২০৬০ সালের মধ্যে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনা বা নেট জিরো এমিশন নিয়ে চিনের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে, স্বল্প থেকে মাঝারি সময়সীমার জন্য হলেও এবং বিদ্যুতের চাহিদা তীব্র ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য কয়লার এই মরসুমি ব্যবহারের দিকে চিনের ফিরে যাওয়ার বাস্তব প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আগামিদিনে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনাই চিনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

২০১৯ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কোভিড অতিমারির প্রবাহ রুখতে জারি করা লকডাউনের ফলে যে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়, তারই রেশ ধরে ভারতে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে কয়লা ব্যবহারের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় সর্বনিম্ন হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন শুরু হলে কয়লার ব্যবহারে ক্রমাগত বৃদ্ধি লক্ষ করা যায় এবং ২০২০ সালের চতুর্থ বা অন্তিম ত্রৈমাসিকে কয়লার ব্যবহার ৬% বৃদ্ধি পায়। ২০১৯ সালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি হলেও ২০২০ সালে এর পরিমাণ কমেছে অনেকটাই, যা কয়লার চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলেছে। কয়লার ব্যবহারের বৃদ্ধি ২০২১ সালে অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ফলে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৯%, যা ২০১৯ সালের চাহিদার তুলনায় ১.৪% বেশি।

২০২১ সালের প্রথম দিকে ভারতে কয়লার সাহায্যে উৎপাদিত তাপবিদ্যুতের পরিমাণ মাসে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৭৯%-এ পৌঁছয়, যা ২০১৯ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। যে হেতু জলবিদ্যুৎ এবং বায়ুশক্তির পরিমাণ ওই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সমর্থ হয়নি, তাই বিদ্যুতের চাহিদার বৃদ্ধি মেটাতে কয়লার ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। ২০১৯ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে ১০%। কোভিড-১৯ অতিমারিজনিত বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার আগে ২০২০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ২০২১ সালে একই সময়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে ৫%।

চিন এবং ভারতেই শুধু মাত্র কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনটা নয়। কয়লার ব্যবহারে বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার আমেরিকা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিকারী ইউরোপেও। এই দুই মহাদেশে, যারা শক্তির আমদানি-রফতানিতে দক্ষ, প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাকে পুনরায় কয়লার ব্যবহারে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। যার ফলে আবার কয়লার দাম বেড়েছে অনেকটাই। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে ইউরোপে আর্থ-সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়া সত্ত্বেও কয়লার ব্যবহারে তার প্রভাব তেমন ভাবে পড়েনি। কারণ প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে অভূতপূর্ব বৃদ্ধির ফলে কয়লা এখনও অপেক্ষাকৃত ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক সুলভ বিকল্প।

আই ই এ-র অনুমান মতো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ ২০২১ সালের বর্ধিত চাহিদার প্রায় ৪৫% এবং ২০২২ সালের অতিরিক্ত চাহিদার প্রায় ৪০% জোগান দেবে। কয়লার সাহায্যে উৎপাদিত তাপবিদ্যুতের পরিমাণ ২০২০ সালে ৪.৬% হ্রাস পেলেও ২০২১ সালে এই পরিমাণ ৫% বৃদ্ধি পেয়ে অতিমারি পূর্ববর্তী পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে যাবে। এবং ২০২২ সালে আনুমানিক আরও ৩% বৃদ্ধি পেয়ে এই উৎপাদনের পরিমাণ এক সর্বকালীন নজির সৃষ্টি করতে চলেছে। এর ফলে বর্তমান বাজারে কয়লার চাহিদার বাস্তব চিত্র এবং জলবায়ু সংরক্ষণে নির্ধারিত মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের মাঝে এক চরম অসঙ্গতি চোখে পড়ছে।

সমস্যা

শক্তি সুরক্ষা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা গ্লোবাল এনার্জি মার্কেট বা বিদ্যুতের আমদানি-রফতানির সঙ্গে জড়িত দেশগুলিকে অবজ্ঞেয় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকার দ্বারা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত বাজার (যেমন ভারত এবং চিনের বাজার) এবং স্বল্প নিয়ন্ত্রিত কিন্তু সম্পূর্ণ রূপে অধীনস্থ নয় এমন বাজার (ইউরোপ এবং আমেরিকা) উভয়ের পক্ষেই যে কোনও সময় উপলব্ধ জীবাশ্ম জ্বালানির সাহায্য ছাড়া বিদ্যুতের চাহিদার অকস্মাৎ বৃদ্ধি এবং জোগানের ঘাটতির (পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির) সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি অস্থায়ী হলেও তা ভারতের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে হেতু ভারত ইতিমধ্যেই কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণের রাশ আলগা করতে শুরু করেছে। চাহিদা শীর্ষে থাকাকালীন প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখা ভারতের শক্তি ক্ষেত্রে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি করেছে। অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা এক দিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধি করবে, তেমনই যথেষ্ট ক্ষমতা না থাকলে ব্ল্যাক আউটের সম্ভাবনা তৈরি হবে। শক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ করা টাকা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ভারতের সমস্যাটি অনন্য। বিদ্যুতের বর্তমান বাজারমূল্য বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচ তোলার পক্ষেই যথেষ্ট নয়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে লগ্নি করা অর্থের পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব। উন্নত দেশগুলির বিদ্যুৎ আমদানি-রফতানির বাজার ভারতের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার পথ নির্দেশক হতে পারে।

Source: BP statistical review of world energy
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar, Assistant Manager, Energy and Climate Change Content Development of the Energy News Monitor Energy and Climate Change. Member of the Energy News Monitor production ...

Read More +
Lydia Powell

Lydia Powell

Ms Powell has been with the ORF Centre for Resources Management for over eight years working on policy issues in Energy and Climate Change. Her ...

Read More +
Akhilesh Sati

Akhilesh Sati

Akhilesh Sati is a Programme Manager working under ORFs Energy Initiative for more than fifteen years. With Statistics as academic background his core area of ...

Read More +