Published on May 26, 2023 Updated 0 Hours ago

তিনটি সদস্য দেশের জন্য সাম্প্রতিক সান দিয়েগো বৈঠকটি যৌথ এবং ব্যক্তিগত উভয় ধরনের সুযোগই উপস্থাপন করেছে।

অউকাস: একটি কৌশলগত পরিসর হিসাবে ‘আটলান্টিক প্যাসিফিক’-কে সুসংহত করা

মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারি অউকাস চুক্তি উন্মোচনে তিন দেশের নেতারা যথাক্রমে অ্যান্টনি আলবানিজ, ঋষি সুনাক এবং জো বাইডেন  সমবেত হন। তিনটি দেশ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম তাদের  নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের কথা ঘোষণা করে এবং তারপর থেকে এর খুঁটিনাটি নিয়ে একত্রে কাজ করছে। সম্প্রতি নেতারা অউকাস অংশীদারিত্ব বাস্তবায়নের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনটি সদস্য দেশের জন্য সান দিয়েগো সমাবেশটি একটি পর্যালোচনা সমাবেশের চেয়েও বেশি কিছু ছিল এবং এর ফলে যৌথ ও ব্যক্তিগত সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া: উভমুখী জয়ের পরিস্থিতি

২০২৩ সালের ১৩ মার্চ অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরে  ক্রমবর্ধমান চিনা আগ্রাসন মোকাবিলা করার জন্য ২০৩০-এর দশকের গোড়ার দিকে অস্ট্রেলিয়াকে ‘প্রচলিত অস্ত্রসজ্জিত, পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (এসএসএন)’ প্রদানের পরিকল্পনা করে। প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০-এর দশকের গোড়ার দিকে জেনারেল ডাইনামিক্স দ্বারা নির্মিত তিনটি মার্কিন ভার্জিনিয়া শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ অস্ট্রেলিয়াকে বিক্রি করতে চাইছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও দু’টি কেনার বিকল্প পথও খোলা থাকছে। বিবৃতিটিতে ডুবোজাহাজ ‘এসএসএন-অউকাস’-এর পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেটি একটি ‘অত্যাধুনিক মঞ্চ এবং যা তিনটি দেশের সেরা ডুবোজাহাজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হবে।’ একই সঙ্গে ২০২৭ সাল থেকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থের কাছে এইচএমএএস স্টার্লিং-এ একটি ইউকে অ্যাস্টিউট শ্রেণির ডুবোজাহাজ এবং চারটি ইউএস ভার্জিনিয়া শ্রেণির ডুবোজাহাজ পর্যায়ক্রমিক ভাবে উপস্থিত থাকবে।

প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০-এর দশকের গোড়ার দিকে জেনারেল ডাইনামিক্স দ্বারা নির্মিত তিনটি মার্কিন ভার্জিনিয়া শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ অস্ট্রেলিয়াকে বিক্রি করতে চাইছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও দু’টি কেনার বিকল্প পথও খোলা থাকছে।

অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত সম্প্রদায়ের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিপুল ব্যয় এবং বিনিয়োগ নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। মনে করা হচ্ছে যে, কর্মসূচিটিতে এখন থেকে ২০৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কাল পর্যন্ত ২৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে এবং প্রকল্পটির সম্পূর্ণ হওয়া আদতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সাহায্যের উপর নির্ভর করবে। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ মনে করেন যে, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে বৃহত্তম একক বিনিয়োগ এবং অস্ট্রেলিয়াও অঞ্চলটি জুড়ে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তার উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ”। আবার অস্ট্রেলিয়ান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পল কিটিং যেমন মনে করেন, ‘অউকাস পারমাণবিক-ডুবোজাহাজ চুক্তি এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার একটি আগ্রাসী প্রচেষ্টা এবং চিনা আগ্রাসন প্রতিহত করার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।’ অন্য দিকে, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ররি মেডকাফের মতো বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, চুক্তিটিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক  পরিস্থিতিকে বিবেচনা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ‘একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার অবনতি, চিনের সামরিক সক্ষমতার দ্রুত বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাস্তবতা হিসাবে যুদ্ধের প্রত্যাবর্তন, বিশ্বের সঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগসূত্রগুলির গভীর বিপন্নতা, দুর্বল গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বৃহৎ স্বৈরাচারীদের আগ্রাসন ও জবরদস্তির উদাহরণ এবং অন্যদের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগে চিনের প্রকাশ্য হুমকি।’ এই সব কিছুই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে এই ধরনের একটি চুক্তিকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় করে তোলে।

চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার সার্বভৌমত্বকে ব্যাহত করবে কি না, সে  বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই কর্মসূচি ও ডুবোজাহাজের ব্যবহার দেশটিকে সম্পূর্ণ রূপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল করে তুলবে কি না, প্রশ্ন সেখানেই। মার্কিন-চিন দ্বন্দ্বে অস্ট্রেলিয়া কোন পক্ষে রয়েছে, তা কি এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় না? কিন্তু বেক স্ট্রেটিং-এর মতো অস্ট্রেলীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ‘অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক স্বার্থগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে৷ মার্কিন জোটকে ধ্বংসের পথ হিসাবে বিবেচনা না করে অস্ট্রেলিয়াকে সুরক্ষিত করার উপায় হিসেবেই দেখা উচিত।’

ব্রিটেন: ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ পাশে থাকা

সান দিয়েগোতে প্রধানমন্ত্রী সুনাকের সফরের সময় অউকাস ঘোষণাগুলি উল্লেখযোগ্য ভাবে ব্রিটেনের ইন্টিগ্রেটেড রিভিউ রিফ্রেশ প্রকাশের সঙ্গে সমাপতিত হয়, যা ২০২১ সালে প্রকাশিত মূল ইন্টিগ্রেটেড রিভিউ স্ট্র্যাটেজির একটি হালনাগাদ সংস্করণ এবং যা ব্রিটেনের বিদেশনীতির দৃষ্টিভঙ্গিতে বিগত দু’বছরে সুবিশাল ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে।

ব্রিটেন জাপানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি, আসিয়ান-এর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য একজন নতুন মন্ত্রী এবং এই অঞ্চলে তার প্রভাব, প্রক্ষেপণ ও সক্রিয় উপস্থিতির অংশ হিসাবে নৌ্বাহিনী মোতায়েন-সহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আইআর২০২১-এর ভাবনার কেন্দ্রস্থলে ছিল ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রতি ঝোঁক এবং এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা যে, ব্রিটেন হবে ‘এই অঞ্চলে সবচেয়ে বিস্তৃত এবং সর্বাধিক সুসংহত উপস্থিতিসম্পন্ন ইউরোপীয় অংশীদার’। আইআর২০২৩ শুধুমাত্র এই ভাবনাকেই শক্তিশালী করে না, বরং ব্রিটিশ বিদেশনীতির একটি ‘স্থায়ী স্তম্ভ’ হিসাবে ইন্দো-প্যাসিফিকের উপর আরও গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। ব্রিটেন জাপানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি, আসিয়ান-এর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য এক জন নতুন মন্ত্রী এবং এই অঞ্চলে তার প্রভাব, প্রক্ষেপণ ও সক্রিয় উপস্থিতির অংশ হিসাবে নৌবাহিনী স্থাপন-সহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্রিটিশ ও আমেরিকান সহায়তা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ সরবরাহ করা আসলে এই সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রতিশ্রুতিগুলির সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিণতি। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার সময় অউকাস ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য  দেশটির দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, যার লক্ষ্য একটি স্থিতিশীল ও উন্মুক্ত অঞ্চল গড়ে তোলা এবং চিনের ‘যুগ সংজ্ঞায়িত করতে পারে’… এহেন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা। সুনাকের অউকাস-কে ‘এই প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব’ হিসাবে উল্লেখ করা আসলে ব্রিটেনের ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই চুক্তির কেন্দ্রীয়তাকেই তুলে ধরে। নতুন কৌশলগত নথিটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশের আরও অবনতির বিষয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি এ কথারও স্বীকৃতি দেয় যে, ‘ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার ইউক্রেনের সংঘাতের চেয়েও বড় বৈশ্বিক পরিণতি হতে পারে।’

নথিটি যদিও ব্রিটেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড হিসাবে ইউরো-আটলান্টিককে অগ্রাধিকার দেয়, এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ইন্দো-প্যাসিফিকের উন্নয়নের সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। এই প্রসঙ্গে ‘আটলান্টিক প্যাসিফিক’ অংশীদারিত্বের একটি শৃঙ্খলের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দুটি কৌশলগত মঞ্চ সমন্বিত হয়েছে। সমগ্র কৌশল জুড়ে আইআর২০২৩ অংশীদারিত্বের গুরুত্বের উপর জোর দেয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো ‘সমমনস্ক গণতন্ত্র’গুলি ব্রিটেনের শীর্ষ অংশীদারদের সঙ্গে সর্বোচ্চ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। ব্রিটেনের জন্য অউকাস এই যৌথ উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের জন্য আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা দেশটিকে বাকি বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধিতে বাধ্য করেছে।

ব্রিটেনের জন্য অউকাস এই যৌথ উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের জন্য আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা দেশটিকে বাকি বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধিতে বাধ্য করেছে।

ব্রিটেন তার প্রতিরক্ষা বাজেট পূর্ববর্তী ২ শতাংশ থেকে জিডিপির ২.২৫ শতাংশে বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা দু’বছরের মেয়াদে আরও ৫ বিলিয়ন পাউন্ড মঞ্জুর করেছে, যা থেকে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড পারমাণবিক ক্ষমতা, বিশেষ করে অউকাস-কে শক্তিশালী করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সুনাক ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে ইউক্রেনের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন জোগানোর ফলে দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ব্রিটেন যুগপৎ দু’টি অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রদানকারী হওয়ার ক্ষমতা রাখে কি না, তা-ও প্রশ্নাতীত নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: প্রভাব বজায় রাখা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সান দিয়েগোর সমাবেশটি কেবল অগ্রগতি পর্যালোচনা করার সুযোগই দেয়নি, বরং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে অউকাস-এ একটি অত্যন্ত জটিল চুক্তির পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোরও সুযোগ করে  দিয়েছে। বৈঠকের সময় বাইডেন বলেছিলেন যে অংশীদারিত্বটি তাদের একসঙ্গে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে, যে বিষয়ে অন্যরা সহজেই সম্মত হন। অউকাস চুক্তিতে গতি আনা তিনটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অউকাস-এর চুক্তি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, সমালোচকদের এ হেন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ তিনটি চায় এই কাজ যেন তাড়াতাড়ি শেষ হয়। তিন পক্ষের মধ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর জড়িত থাকার কারণে সম্ভাব্য বিলম্বের পাশাপাশি অউকাস চুক্তির গতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও বাহ্যিকভাবে প্ররোচিত হয়েছে চিনের দেশজ প্রযুক্তিতে নৌ সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে, যা গত এক দশকে প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে। এইভাবে এগোলে চিন শুধুমাত্র সংখ্যার নিরিখেই বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী র আসনে আসীন করবে।

অউকাস চুক্তিতে গতি প্রদান করা তিনটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অউকাস-এর চুক্তি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, নিন্দুকদের এ হেন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ তিনটি চায় এই কাজ যেন তাড়াতাড়ি শেষ হয়।

একটি কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে অউকাস একাধিক কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক। প্রথমত, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, যা এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, এটি এই অঞ্চলে মার্কিন প্রবেশাধিকার এবং উপস্থিতি বাড়ায়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি প্রসারিত করতে চেয়েছে। তৃতীয়ত, এটি অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনে অস্ত্র বিক্রি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে উত্সাহিত করে। পরিশেষে, এটি চিনকে একটি স্পষ্ট সংকেত পাঠায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার মিত্র এবং স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তা করার জন্য উন্নত সামরিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতেও ইচ্ছুক।

নেতৃত্বের স্তরে তিন নেতার বৈঠক একটি সর্বসম্মত পথনির্দেশিকার ইঙ্গিত দেয়। চুক্তিটি ঘোষণার পর থেকে তিনটি অউকাস দেশের মধ্যে দু’টির ক্ষেত্রে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে, ব্রিটেনে ধারাবাহিক পরিবর্তন এবং অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্টনি আলবানিজ সরকার স্কট মরিসন প্রশাসনকে প্রতিস্থাপন করেছে। প্রতীকীভাবে সান দিয়েগোতে বৈঠকটিও চিত্রিত করে যে, মার্কিন নেতৃত্ব সম্ভবত দুই অংশীদারের সঙ্গে অউকাস চুক্তি পরিচালনা করবে।

সর্বোপরি অউকাস-এর সঙ্গে বাইডেন প্রশাসন প্যাসিফিক মঞ্চে তার ক্ষয়প্রাপ্ত প্রভাবকে সংহত করতে চায়। একটি দ্রুত আগ্রাসী চিন ইতিমধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপগুলিকে তার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এই অঞ্চলে একটি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতা তৈরি করেছে। চিনের আক্রমণাত্মক কৌশলগুলির সঙ্গে সম্মিলিত হয়েছে এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নেতৃত্ব সংক্রান্ত সমস্যা যা তার ন্যাটো-বহির্ভূত জোটের শৃংখলকে দুর্বল করা এবং এই অঞ্চলে ক্ষয়ের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে। বাইডেন প্রশাসন এই অঞ্চলে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে ফাটল মেরামত এবং জোটকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে কাজ করেছে। এগুলি অউকাস-এর মতো কৌশলগত জোটের সঙ্গে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় মঞ্চে পুনঃস্থাপন করতে পারে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Vivek Mishra

Vivek Mishra

Vivek Mishra is a Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. His research interests include America in the Indian Ocean and Indo-Pacific and Asia-Pacific regions, particularly ...

Read More +
Premesha Saha

Premesha Saha

Premesha Saha is a Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. Her research focuses on Southeast Asia, East Asia, Oceania and the emerging dynamics of the ...

Read More +