Author : Renita Dsouza

Published on May 15, 2022 Updated 0 Hours ago

সম্প্রতি প্রকাশিত আইপিসিসি রিপোর্ট জলবায়ু প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যে পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা দরকার এবং তা অর্জনের প্রচেষ্টায় যে বাধাগুলি সামনে আসবে তা তুলে ধরেছে।

২০২২ আইপিসিসি জলবায়ু প্রশমন রিপোর্ট: ১.৫ ডিগ্রিতে পৌঁছনোর শেষ সুযোগ

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি প্যানেলের (আইপিসিসি) ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সর্বশেষ কিস্তি, ‘‌ক্লাইমেট চেঞ্জ ২০২২: মিটিগেশন অফ ক্লাইমেট চেঞ্জ’‌, প্রকাশিত হয়েছে ৪ এপ্রিল ২০২২-এ। এই প্রতিবেদনটি ক্লাইমেট মিটিগেশন বা জলবায়ু প্রশমনের লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতির একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরেছে। সেই সঙ্গেই এটি জলবায়ু প্রশমন সংক্রান্ত উদ্যোগের কার্যকারিতা ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার বিষয়ে একটি সর্বাত্মক আলোচনা উপস্থাপন করেছে। এই নিবন্ধটি বৈশ্বিক গ্রিন হাউজ গ্যাস (জিএইচজি)‌ নিঃসরণের মূল প্রবণতা এবং এতে শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে এই আলোচনার মূল বিষয়গুলিকে সামনে এনেছে, এবং শিল্পের নিঃসরণ প্রশমিত করার জন্য স্পষ্ট সমাধানগুলি তুলে ধরেছে।[১]

ক্রমবর্ধমান সচেতনতা সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করার সুযোগের অবকাশ দ্রুত কমে আসছে। ২০১০-২০১৯ সালের সাম্প্রতিক দশকটিতে মানব ইতিহাসের সর্বোচ্চ জিএইচজি  নিঃসরণ  নিবন্ধিত   হয়েছে, যদিও বার্ষিক জিএইচজি নিঃসরণের গড় বৃদ্ধি (১.৩ শতাংশ) এই দশকে আগের তুলনায় কম ছিল (২.১ শতাংশ, ২০০০-২০০৯)। এর অর্থ হল এই দশকে সর্বোচ্চ জিএইচজি নিঃসরণের রেকর্ড এড়াতে গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার আরও কমাতে হত। এমনকি আপডেট করা জাতীয় স্তরের অবদান বা ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনও (এনডিসি’‌জ)[২] তাপমাত্রা ১.৫° সেলসিয়াসে কমিয়ে আনার জন্য যা প্রয়োজন তার থেকে অনেক কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আপডেট হওয়া এনডিসিগুলি কার্যকর করতে পারলে তা জিএইচজি নিঃসরণ হ্রাসের দিকে নিয়ে যাবে ঠিকই;‌ কিন্তু তার পরেও এই জাতীয় সমস্ত প্রয়াস সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নিঃসরণ ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার লক্ষ্য বড়সড় ভাবেই লঙ্ঘিত হবে।

১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৯–এ নিঃসরণ স্তরে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রদর্শিত হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি ও শিল্প থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ দিয়ে, যা প্রথম বর্ষের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ জিটিসিওটু–ইকিউ, অথবা ৬৭ শতাংশ। সব গ্রিন হাউজ গ্যাসের মধ্যে সামগ্রিক হিসেবে এটাই সর্বোচ্চ, এবং শতাংশের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

তা ছাড়া ২০১০-২০১৯–এর দশকে সমস্ত জিএইচজি গ্যাসের গড় বার্ষিক নিঃসরণের মাত্রাও সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে। ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৯–এ নিঃসরণ স্তরে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রদর্শিত হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি ও শিল্প থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ দিয়ে, যা প্রথম বর্ষের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ জিটিসিওটু–ইকিউ, অথবা ৬৭ শতাংশ। সব গ্রিন হাউজ গ্যাসের মধ্যে সামগ্রিক হিসেবে এটাই সর্বোচ্চ, এবং শতাংশের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০১০-২০১৯ সালে জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের মাধ্যমে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাথাপিছু জিডিপি ও জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান অপরাধী কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের কারণ হল জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর প্রয়োজন, যা কিছু ক্ষেত্রে একটি সচ্ছল জীবনযাত্রার মান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয়, এবং বাকি ক্ষেত্রে স্থায়ী–হবে–না এমন সমৃদ্ধির অন্বেষণের জন্য। অবশ্যই মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরণও যে দায়ী তা ভুলে গেলে চলবে না।

শীর্ষ আয়ের বন্ধনীভুক্ত পরিবারগুলি বিশ্বব্যাপী জিএইচজি নিঃসরণের ৩৬-৪৫ শতাংশের জন্য দায়ী৷ একটি স্থিতিশীল জীবনধারার দৃষ্টিকোণ থেকে উদীয়মান অর্থনীতিতে মধ্যম এবং দরিদ্রতম আয়–গোষ্ঠীর লোকদের উপভোগের ধরনের কারণে নিঃসরণ উচ্চ-আয়ের দেশগুলিতে একই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তদের তুলনায় ৫-১৫ গুণ কম।

বিভিন্ন আয়–গোষ্ঠীর মধ্যে কার্বন বাজেট বণ্টনে এই অসমতা চোখে পড়ার মতো এবং অন্যায্য। এভাবে চলতে থাকলে অবশিষ্ট কার্বন বাজেটের ব্যবহার মোটেই সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট বা স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিবেদনে একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে, আর সেখানে এই অবশিষ্ট কার্বন বাজেটের ব্যবহারের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে দরিদ্র ও প্রান্তিকদের উন্নয়নের উপর, আয়, লিঙ্গ ও অন্যান্য বৈষম্য কমিয়ে আনার উপর, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানের উন্নতিতে ব্যয় বাড়ানো, এবং সেই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করার উপর যা অন্যান্য এসডিজি–র অর্জন প্রভাবিত করে।

কার্বন বাজেটের বণ্টনে বৈষম্য বিশেষ করে উন্নত দেশগুলির দায়িত্বশীল উপভোগ ও উৎপাদনের এসডিজি–১২-র উপর মনোনিবেশ করার প্রয়োজনের উপর জোর দেয়৷ আইপিসিসি প্রতিবেদনে সেই সব এসডিজি অর্জনের উপায়গুলি চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলিকে চাহিদা-প্রশমন বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই জাতীয় কৌশলগুলির উদাহরণের মধ্যে রয়েছে বিমান ভ্রমণ এড়ানো, কম কার্বন গতিশীলতার বিকল্পগুলি গ্রহণ করা (‌যেমন হাঁটা, সাইকেল চালানো, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও গণ–পরিবহণ ব্যবহার),‌ উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার খাওয়া এবং বিল্ডিংয়ের প্রসঙ্গে কম শক্তি খরচ করে এমন দক্ষ এন্ড–ইউজ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি। এই ধরনের চাহিদা-ভিত্তিক কৌশলগুলি ২০৫০ সালের মধ্যে জিএইচজি নিঃসরণ ৪০-৭০ শতাংশ কমানোর ক্ষমতা রাখে।

কার্বন বাজেটের বণ্টনে বৈষম্য বিশেষ করে উন্নত দেশগুলির দায়িত্বশীল উপভোগ ও উৎপাদনের এসডিজি–১২-র উপর মনোনিবেশ করার প্রয়োজনের উপর জোর দেয়৷

আইপিসিসি রিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হল তাপমাত্রা কার্ভকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিয়ে আসা খুব কঠিন হলেও সম্ভব। তার জন্য অবশ্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর অর্থ হল যদি বিশ্বকে ২০২৫ সালের আগে শীর্ষবিন্দু ছুঁতে হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে জিএইচজি নিঃসরণ প্রায় অর্ধেক করতে হয়, এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য কার্বন নিঃসরণে পৌঁছতে হয়, তবে ভারতসহ সব দেশকে তাদের এনডিসি ও নেট-জিরো লক্ষ্যগুলি নিয়ে আবার ভেবে দেখতে হবে। বিষয়টি খুবই চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে ভারতের মতো একটি দেশের জন্য, যার মাথাপিছু জিডিপি বাড়াতেই হবে এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত যার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যে দুটো ঘটনাই কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বাড়ায়। এই চ্যালেঞ্জের একটি দিক হল জলবায়ু অর্থের প্রাপ্যতা এবং সেই অর্থ কার্যকর ভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা। পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় গতির সঙ্গে যুক্ত আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হল ন্যায্যতার সঙ্গে এই ধরনের দ্রুত পরিবর্তন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে বিনিয়োগগুলি জলবায়ুবান্ধব হলেও সেগুলিকে স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে হবে। সুতরাং, বিনিয়োগগুলিকে একই সঙ্গে পরিবেশগত ও সামাজিক লক্ষ্যসমূহ অনুসরণ করতে হবে, যা এই জাতীয় অর্থ জোগাড় করা আরও কঠিন করে তোলে। ভারতকে এই সমস্ত উদ্বেগের সমাধান করতে হবে এমন একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে যা প্যারিস চুক্তি ও ২০৩০ এজেন্ডা উভয়কেই সামগ্রিক ভাবে পূরণ করে।

কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের জন্য মাথাপিছু জিডিপি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুধু দায়ীই নয়, তারা যথাক্রমে ২.৩ শতাংশ এবং ১.২ শতাংশ নিঃসরণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী৷ এই বৃদ্ধি জিডিপির শক্তি–ঘনত্বের নিবন্ধিত পতনের (‌বার্ষিক -২ শতাংশ)‌ এবং শক্তির কার্বন ঘনত্বের নিবন্ধিত পতনের (‌যা প্রতি বছর -০.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল)‌ চেয়ে বেশি। সম্পদ ও শক্তিক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা, কম কার্বনাইজেশন এবং ডিকার্বনাইজেশন বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক চাহিদার শক্তির সামনে পিছু হঠছে, যার ফলে জিএইচজি নিঃসরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবুও, এই প্রচেষ্টাগুলি শক্তি সরবরাহ থেকে জিএইচজি নিঃসরণের গড় বার্ষিক বৃদ্ধি ২০০০-২০০৯ সালের ২.৩ শতাংশ থেকে ২০১০-২০১৯ সালে ১ শতাংশে কমিয়ে এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অধিকন্তু, এই বৃদ্ধির হারও শিল্পের জন্য ২০০০-২০০৯ সালের ৩.৪ শতাংশ থেকে ২০১০-২০১৯ সালে ১.৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কোন ক্ষেত্রগুলি জিএইচজি নিঃসরণের এই বৃদ্ধিকে ইন্ধন দিচ্ছে তা চিহ্নিত করা৷ শক্তি, কৃষি, জঙ্গল ও অন্যান্য ভূমি ব্যবহার, পরিবহণ, শিল্প ও ভবন, এই সব ক্ষেত্রেই জিএইচজি নিঃসরণ বেড়েছে। তবে জ্বালানি ক্ষেত্রটি ৩৪ শতাংশ জিএইচজি নিঃসরণের জন্য দায়ী, যা সর্বোচ্চ, এবং তারপরে শিল্প ২৪ শতাংশের জন্য, কৃষি, বনজ ও ভূমি ব্যবহার ২২ শতাংশের, পরিবহণ ১৫ শতাংশের এবং ভবন ৫.৬ শতাংশের জন্য দায়ী। এই শতাংশের সঙ্গে শক্তির ব্যবহার থেকে পরোক্ষ নিঃসরণ যোগ করলে শিল্পের অংশ প্রায় ৩৪ শতাংশে, এবং ভবনগুলির অংশ প্রায় ১৭ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। অধিকন্তু, এই বৃদ্ধির গতি সবচেয়ে দ্রুত পরিবহণ (প্রতি বছর ২ শতাংশ) ও শিল্পে (প্রতি বছর ১.৪ শতাংশ)।

শিল্প ক্ষেত্রের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, কারণ এটি শক্তি ক্ষেত্রের মতোই জিএইচজি নিঃসরণের জন্য দায়ী, অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ (যখন পরোক্ষ নির্গমন যোগ করা হয়), এবং এই নিঃসরণ তুলনামূলক ভাবে দ্রুত হারে বৃদ্ধির দ্বারা চিহ্নিত। বৈশ্বিক সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির একটি অনিবার্য ফলাফল হল শিল্পায়ন। এই ধরনের চাহিদা পূরণের প্রয়োজনীয়তা শিল্পের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে। মৌলিক উপকরণ এবং উৎপাদিত পণ্যের চাহিদার তীব্র বৃদ্ধি শিল্পের জিএইচজি নিঃসরণের জন্য দায়ী।

বিনিয়োগগুলিকে একই সঙ্গে পরিবেশগত ও সামাজিক লক্ষ্যসমূহ অনুসরণ করতে হবে, যা এই জাতীয় অর্থ জোগাড় করা আরও কঠিন করে তোলে। ভারতকে এই সমস্ত উদ্বেগের সমাধান করতে হবে এমন একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে যা প্যারিস চুক্তি ও ২০৩০ এজেন্ডা উভয়কেই সামগ্রিক ভাবে পূরণ করে।

যদিও শিল্প ক্ষেত্রের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি দক্ষতার উন্নতি হয়েছে, কার্বনের ঘনত্ব একটি সমস্যা হিসেবে থেকে গেছে। শিল্প ক্ষেত্রের নিঃসরণ ২০০০ সাল থেকে অন্য যে কোনও ক্ষেত্র থেকে নিঃসরণের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্পের জিএইচজি নিঃসরণের উৎসগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বালানি দহন, প্রক্রিয়া নিঃসরণ, পণ্য ব্যবহার ও বর্জ্য, এবং বিদ্যুৎ থেকে পরোক্ষ নিঃসরণ ও তাপ উৎপাদন। ২০০০ সাল থেকে ব্যবহারযোগ্য মাথাপিছু উৎপাদিত মূলধনের বৃদ্ধি মাথাপিছু জিডিপি–র বৃদ্ধির চেয়ে বেশি

ইস্পাত, সিমেন্ট, প্লাস্টিক, পাল্প ও কাগজ এবং রাসায়নিক পদার্থের প্রাথমিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটালে তা শিল্পের নিঃসরণ হ্রাস করতে পারে। এমন উৎপাদনের পথে যেতে হবে যেগুলিতে কম থেকে শূন্য জিএইচজি নিঃসরণ হয়ে থাকে। প্রাথমিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের অর্থ বিদ্যুৎ, হাইড্রোজেন, জৈব জ্বালানি ইত্যাদির ব্যবহার করা। বিদ্যুতের প্রত্যক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে, অথবা পরোক্ষ ভাবে হাইড্রোজেন ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুদয়ন জিএইচজি নিঃসরণ হ্রাস করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠছে। প্রাথমিক উৎপাদনের প্রয়োজন হ্রাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পণ্যটির চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন দক্ষতা ও বৃত্তাকার অর্থনীতির হস্তক্ষেপ।

নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্রে উল্লিখিত কৌশলগুলি অবলম্বনের পথে কিছু বাধাও চিহ্নিত হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক শক্তির বাহক ও ফিডস্টকগুলি জৈববস্তু বা বিদ্যুৎ-ভিত্তিক বিকল্পগুলির তুলনায় কম ব্যয়বহুল। প্রতিবেদনে এ কথা স্বীকার করা হয়েছে যে সার্বিক ভাবে শিল্প ক্ষেত্রে কম থেকে শূন্য নিঃসরণে নিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি বিদ্যমান থাকলেও তার খরচ কমানোর ব্যবস্থা করার জন্য ‌‘‌৫–১৫ বছরের নিবিড় উদ্ভাবন, বাণিজ্যিকীকরণ ও নীতি’‌ প্রয়োজন। এটি প্রাথমিক উৎপাদনের নিঃসরণের ঘনত্ব এবং প্রাথমিক উৎপাদনের প্রয়োজন কমাতে যতটা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, তার মাত্রা বাড়াতে পারে। তবে এটি ইস্পাত, সিমেন্ট, প্লাস্টিক, পাল্প এবং কাগজ ও রাসায়নিকের মতো মৌলিক উপকরণগুলির উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে  দেবে।

এই অবস্থায় সরকার এই প্রযুক্তি ও হস্তক্ষেপগুলির উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণকে সমর্থন করার জন্য করছাড় দিয়ে এবং উৎপাদনে ইনসেন্টিভ দিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে পারে, এবং সেই সঙ্গেই অন্যান্য অনুকূল নীতি প্রণয়ন করতে পারে যা এই প্রযুক্তি এবং হস্তক্ষেপগুলির উৎপাদক এবং গ্রহীতাদের বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সহায়তা করবে।

প্রতিবেদনে এ কথা স্বীকার করা হয়েছে যে সার্বিক ভাবে শিল্প ক্ষেত্রে কম থেকে শূন্য নিঃসরণে নিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি বিদ্যমান থাকলেও তার খরচ কমানোর ব্যবস্থা করার জন্য ‌‘‌৫–১৫ বছরের নিবিড় উদ্ভাবন, বাণিজ্যিকীকরণ ও নীতি’‌ প্রয়োজন।

শক্তি দক্ষতার জন্য প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপে জড়িত থাকার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই ধরনের হস্তক্ষেপের চরিত্রটি ভাল ভাবে বোঝা গিয়েছে, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক দৃশ্যকল্পের মডেলে তা পর্যাপ্ত ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কিন্তু বস্তুগত দক্ষতা, বৃত্তাকার অর্থনীতি ও জীবাশ্ম-মুক্ত প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলিতে হস্তক্ষেপের বিভিন্ন ধরন ও সেগুলির জটিল প্রকৃতি, এবং তাদের খরচ অনুমান করার অসুবিধার কারণে, এই হস্তক্ষেপগুলিকে জলবায়ু পরিবর্তনের মডেলগুলিতে পর্যাপ্ত ভাবে উপস্থাপন করা হয় না। এর ফলে জলবায়ু প্রশমন ব্যয় ও বিকল্প হস্তক্ষেপের প্রয়োজন সংক্রান্ত অনুমানগুলি ভুল হয়ে যেতে পারে। এই ভাবে প্রয়োজনের চেয়ে কম উপস্থাপনা সত্ত্বেও দৃশ্যকল্পের মডেলিং থেকে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে এনার্জি এফিশিয়েন্সি বা শক্তির দক্ষতা থেকে এখন মনোযোগ সরানো প্রয়োজন বস্তুগত দক্ষতা, জীবাশ্ম মুক্ত শক্তি ও ফিডস্টকের উপর নির্ভরতা, এবং বৃত্তাকার অর্থনীতির কৌশলগুলির মাধ্যমে রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের প্রয়াসের দিকে।

এই রূপান্তরমূলক পরিবর্তনগুলিকে আরও ভাল ভাবে কাজে লাগাতে হলে সেগুলিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করা এবং সেগুলির ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। এই রূপান্তরমূলক হস্তক্ষেপগুলিকে আরও ভাল ভাবে বোঝার জন্য, এবং তাদের ব্যয়ের হিসেব আরও যথাযথ ভাবে অনুমান করার জন্য, সেগুলি নিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজন আছে।

পরিশেষে, এই নিবন্ধটিতে আইপিসিসি প্রতিবেদনের শিল্পের নিঃসরণের দিকে বেশি করে নজর দেওয়ার প্রয়োজন নিয়ে যে সব যুক্তি আছে, তার সংক্ষিপ্তসার দেওয়া হয়েছে। যদিও জিএইচজি নিঃসরণের ক্ষেত্রে সাধারণ শক্তি ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হয়েছে, নেট-শূন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজন স্পটলাইট কিছুটা শিল্পের নিঃসরণের উপর সরানো। আইপিসিসি প্রতিবেদনটি শিল্পের নিঃসরণ প্রশমিত করার সঙ্গে জড়িত চ্যালেঞ্জগুলির উপর আলোকপাত করেছে, এবং তা করার মাধ্যমে কী ভাবে এগোতে হবে তার সঙ্কেত দিয়েছে। এই নিবন্ধে এই চ্যালেঞ্জগুলির সমাধানের জন্য যা বলা হয়েছে তা আরও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


[১] এই নিবন্ধটি প্রতিবেদনের প্রযুক্তিগত সারাংশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে
[২] ১১ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত ঘোষিত

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.