Author : Sushant Sareen

Published on Jul 10, 2024 Updated 0 Hours ago

সমস্ত সদিচ্ছা এবং লক্ষ্যমাত্রা সত্ত্বেও এই সরকার তত দিনই ক্ষমতায় থাকবে, যত দিন না সেটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধাচরণ করছে।

শাহবাজ শরিফের ‘হাইব্রিড প্রো-ম্যাক্স’ শাসনের সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল কী?

সাধারণত পাকিস্তানে কোনও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সরকারটির আয়ুষ্কাল নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার অনেক আগেই সে দেশে শাহবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন হাইব্রিড প্রো-ম্যাক্স প্রশাসনের মৃত্যুলেখর খসড়া প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। প্রায় কেউই এমনটা মনে করেন না যে নতুন সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে। অধিকাংশ পণ্ডিতরাই পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বারা বলপূর্বক ঘটানো এই অস্বাভাবিক জোটের ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ১৮ থেকে ২৪ মাসের বেশি ধার্য করতে রাজি হননি। ১৯৮৫ সাল থেকে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের ক্ষমতায় থাকার গড় মেয়াদকাল (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া) থেকেছে দু’বছর চার মাস! তাই আঠেরো থেকে চব্বিশ মাসের ভবিষ্যদ্বাণীটি প্রথাগত সময়সীমার মধ্যেই পড়ে। এর সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে নতুন সরকারের সামনে উপস্থিত পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা, সরকারের প্রতি জনমতের অভাব, জোট রাজনীতির টানাপড়েন ও চাপ এবং দেশের সেনাবাহিনীর উন্নাসিক মানসিকতা, যা নতুন ব্যবস্থাকে আকার দিচ্ছে এবং তার প্রধান ভিত্তিও বটে। এবং এই কারণেই এ কথা স্পষ্ট, কেন কেউই এমনটা মনে করছেন না যে, এই সরকার দীর্ঘমেয়াদি হবে। তবু স্বাভাবিক রাজনৈতিক দলাদলি, ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং আসন্ন পতনের গুজব সত্ত্বেও, যত দিন ক্ষমতায় থাকবে, শাহবাজ সরকার ভঙ্গুর বা অস্থিতিশীল হবে না।

 

অধিকাংশ পণ্ডিতরাই পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বারা বলপূর্বক ঘটানো এই অস্বাভাবিক জোটের ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ১৮ থেকে ২৪ মাসের বেশি ধার্য করতে রাজি হননি।

 

নিজস্ব কোনও ক্ষমতা না থাকা

শাহবাজ সরকারকে দুর্বল বলা যেতে পারে শুধুমাত্র এই অর্থে যে, এর নিজস্ব ক্ষমতা প্রায় নেই বললেই চলে। জোট সরকারের নেপথ্যে থাকা সামরিক ব্যবস্থাই প্রায় সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। সকল গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রক… অর্থ, গৃহ, বিদেশ… হয় সেনা দ্বারা প্রস্তাবিত/ সমর্থিত মানুষ দ্বারা চালিত অথবা সেই পদপ্রার্থীদের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানের প্রকৃত সরকার হল স্পেশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ফেসিলিটেশন কাউন্সিল (এসআইএফসি)। এটি প্রাথমিক ভাবে বিনিয়োগ সহজতর করার জন্য গঠিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকারের ঊর্ধ্বে উঠে এটি দেশের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নীতি প্রণয়নের কার্যভার নিজ হাতে তুলে নিয়েছে। কিন্তু শাহবাজ সরকারকেই এসআইএফসি দ্বারা গৃহীত সকল কঠোর সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হতে হবে এবং এগুলির রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায়ভারও গ্রহণ করতে হবে। এই সরকারকে কেউ কেউ দুর্বল বলে মনে করতে পারেন। কারণ এটি এসআইএফসি-র আওতাভুক্ত। আবার অনেকে এটিকে এক শক্তিশালী সরকার বলেও মনে করতে পারে যেটি এক বৃহত্তর রাজনৈতিক মূল্যে গুরুতর সিদ্ধান্তগুলির বাস্তবায়ন করছে। কাগজে কলমে সংখ্যার লড়াইয়ের নিরিখে শাহবাজ অন্যদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। ৩৬৬ সদস্যের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে তিনি ২০০ জনেরও বেশি সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন। সংরক্ষিত আসনগুলির বণ্টনের ফলে – যা অন্যথায় ইমরান খানের দলের পক্ষে যেত – শাহবাজ দ্রুতই হাউসে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন। এই পরিস্থিতিকে ২০১৮ সালের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যখন ইমরান খান কষ্টসাধ্য ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সমর্থ হয়েছিলেন। এ কথা ঠিক যে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাকিস্তানে শুধু ধারণাগত ভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। কারও দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে না কি তিনি সামান্য ব্যবধানে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন না কি তিনি সংখ্যালঘু তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারটি সেনার সমর্থন পেয়ে চলেছে ততক্ষণ সেটি স্থিতিশীল থাকবে। এই সমর্থন হারালে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সদস্য সংখ্যা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। আসল কথা হল এই যে, বর্তমানে এবং অদূর ভবিষ্যতে শাহবাজ শরিফ সম্পূর্ণ সামরিক সমর্থন পাবেন। ফলে তিনি সুদৃঢ় ভাবে নিজেকে প্রাইম মিনিস্টারের কার্যালয়ে বহাল রাখতে সমর্থ হবেন যতক্ষণ না তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধাচরণ করছেন।

 

সংরক্ষিত আসনগুলির বণ্টনের ফলে – যা অন্যথায় ইমরান খানের দলের পক্ষে যেত – শাহবাজ দ্রুতই হাউসে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন।

 

পারস্পরিক নির্ভরতা

শাহবাজের পক্ষে যা ইতিবাচক তা হল, বর্তমান সেনানেতৃত্ব ততটাই তাঁকে ক্ষমতায় রাখতে আগ্রহী, যতটা শাহবাজ নিজে থাকতে চান। জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারী জেনারেলদের জোটের সামনে এ ছাড়া বিশেষ কোনও বিকল্প নেই, বিশেষ করে সকল বাধা সত্ত্বেও নির্বাচনী ফলাফলে ইমরান খানের বিজয়ী হিসেবে উত্থানের পর। নির্বাচনী ফলাফলে পরিবর্তন ঘটানো এবং জনমতের বিরুদ্ধাচরণ করা এই বাস্তবতাকে পালটে দিতে পারে না যে, দেশের সেনা অথবা বর্তমান রাজনৈতিক প্রশাসন কেউই জনগণের সমর্থনপ্রাপ্ত নন। আত্মরক্ষা এবং রাষ্ট্রের টিকে থাকার জন্য তাঁদের কারও কাছেই একে অপরের সঙ্গে জোট মিলিয়ে চলা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। বর্তমানে প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করা অথবা ক্ষমতাচ্যুত করার পথ সেনার সামনে খোলা নেই। কারণ যতক্ষণ না মুনির ইমরান খানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যাচ্ছেন – যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে – ততদিন সেনার সামনে কোনও বিকল্প নেই। জনসাধারণের মানসিকতার প্রেক্ষিতে – যা প্রশাসনের তরফে জনমতের বিরুদ্ধাচরণ করার দরুন আরও হিংসাত্মক হয়ে উঠবে – প্রশাসন বা সরকার এবং সরকারের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা কেবল বৃদ্ধিই পাবে। এবং এটি সরকারকে সেনার উপর আরও বেশি করে নির্ভরশীল করে তুলবে। কিন্তু এর অর্থ আবার এমনটা দাঁড়ায় যে, ‘নির্বাচিত’ প্রশাসন ও সেনার মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও দর কষাকষির পরিসর বিদ্যমান।

 

সংঘর্ষ বিন্দু

শাহবাজ শরি সেনাবাহিনীর একেবারেই অবাধ্য হতে চাইবেন না। পদে পদে নির্দেশ মেনে চলা এমন একজন মানুষের জন্য নওয়াজ শরিফের মাধ্যমে নিজস্ব কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, কিছু আদেশ এড়িয়ে যাওয়া এবং দল ও সরকারের জন্য ক্ষমতা অর্জনের লোভ সামলানো কঠিন হবে। অনেক দিক থেকেই তাঁর রাজনৈতিক গুরু নওয়াজ শরিফ এবং প্রশাসনিক গুরু জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী এবং সেতু নির্মাণের কাজটি করাই হবে শাহবাজ শরিফের বৃহত্তম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি যদি নওয়াজ ও মুনিরের মধ্যে টানাপড়েন সামলাতে সমর্থ হন এবং অন্য সব অপরিবর্তিত থাকে, তা হলে বর্তমান প্রশাসনটি অন্ততপক্ষে আগামী আঠেরো মাস অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাস পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। এই সময়ে জেনারেল মুনিরের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রশ্নটিও পুনরায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার এই বিষয়টি সেনা ও শরিফদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জন্ম দিতে পারে, যদি নওয়াজ এমনটা করতে রাজি না হন।

 

অনেক দিক থেকেই তাঁর রাজনৈতিক গুরু নওয়াজ শরিফ এবং প্রশাসনিক গুরু জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী এবং সেতু নির্মাণের কাজটি করাই হবে শাহবাজ শরিফের বৃহত্তম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

 

কিন্তু রাজনীতিতে অন্য সব কিছুই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তাই অনেক কিছুই নির্ভর করবে দেশের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হয় তার উপর এবং সে বিষয়ে দেশের জনগণ ও সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া কী হবে তার উপর। একটি নির্দিষ্ট সীমার পর হুন্তাসম মুনির তাঁর গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্ষোভ বিপজ্জনক রকমের বেশি। শোনা যাচ্ছে যে, সেনানেতৃত্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিকে পর্যবেক্ষণের আওতায় এনেছে এবং সেগুলির মাধ্যমে তারা সেই সকল আধিকারিক ও মানুষকে সাবধানবাণী শোনাচ্ছেন, যাঁদেরকে নীরবে ভিন্নমত পোষণকারী বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বর্ষীয়ান পাকিস্তান এয়ার ফোর্স আধিকারিকদের কোর্ট মার্শাল করার অসমর্থিত প্রতিবেদনও প্রকাশ্যে এসেছে। এই সব কিছুই ইঙ্গিত দেয় যে, আড়ালে বা অগোচরে ঘটনাপ্রবাহ গুরুতর হয়ে উঠছে। যদি পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়, তা হলে মুনিরের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার সকল প্রচেষ্টা মাঠে মারা যাবে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেই মুনিরকে সরানোর জন্য ব্যাপক চাপ রয়েছে এবং মুনির অপসারিত হলে তাঁর বানানো রাজনৈতিক তাসের ঘরও ভেঙে পড়বে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে শাহবাজ ও মুনির দু’জনেরই ভাগ্য একই সুতোয় বাঁধা।

 

সীমিত বিকল্প-সহ জোট অংশীদার

যত দূর জোটের কথা বলা যায়, এটির কোনও ভবিষ্যৎ নেই বললেই চলে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) কিছু বিরোধিতা করলেও তারা সরকারকে সমর্থন জুগিয়ে যাবে। প্রত্যেকটি বিরোধিতাই ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে কিছু হাতিয়ে নেওয়ার এক ফাঁদ মাত্র। এবং এমনটা করার মাধ্যমে দলটি নিজের ভোটব্যাঙ্কের সমর্থন বজায় রাখা সুনিশ্চিত করতে পারবে। কিন্তু এগুলি ছাড়া পিপিপি-র ইতিহাস দর্শায় যে, শাহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনী উভয়ের প্রতি তাঁবেদার থেকেছে। আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় বহাল থাকতে চলা প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি এত দিন পর্যন্ত বিরোধিতার এমন এক দেখনদারি রপ্ত করেছেন, যেখানে তিনি প্রাথমিক ভাবে বিরোধিতার ভান করলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর ভান ধরা পড়ে গেলে নিজেকে গুটিয়ে নেন। বাস্তবে পঞ্জাবের সিন্ধ প্রদেশের বাইরে পিপিপি-র কোনও অস্তিত্ব নেই এবং নিজের ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর ব্যাপক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পিপিপি-র ২০১৮ সালের অবস্থানে বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি। বেলুচিস্তানে দলটি নির্লজ্জ ভাবে কারচুপি করার দরুনই জয়লাভ করেছে। পিপিপি এ বিষয়ে অবগত যে, নতুন করে নির্বাচন ঘোষণা করা হলে তার আসনের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অনেকটাই কমে যাবে। এ ছাড়াও দলটিকে ক্ষমতায় ইমরানের (অথবা তাঁর কোনও সহচর) সঙ্গে লড়াই করতে হতে পারে, যা মোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নয়। জোটের অন্য বড় অংশীদার, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-এরও (এমকিউএম) কাজে লাগানোর মতো কোন প্রকৃত রাজনৈতিক পুঁজি নেই। কার্যত তাপ্রাপ্ত সব ক’টি আসনই দলটি ‘ডিপ স্টেট’-এর তরফে উপহার স্বরূপ পেয়েছে। সেনাবাহিনী যা করতে বলবে, তারা তাই করবে।

 

আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় বহাল থাকতে চলা প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি এত দিন পর্যন্ত বিরোধিতার এমন এক দেখনদারি রপ্ত করেছেন, যেখানে তিনি প্রাথমিক ভাবে বিরোধিতার ভান করলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর ভান ধরা পড়ে গেলে নিজেকে গুটিয়ে নেন।

 

পিটিআই সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা

রাজনৈতিক স্তরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কী ভাবে পুনরুত্থিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-কে (পিটিআই) সামলানো যায়, যেটি ৯৩টি আসন জিতেছে। পিটিআই-এর সংরক্ষিত আসনগুলি কেড়ে নিলেও (অন্যান্য আসন যেখানে তার বিজয়ী প্রার্থীদের পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল, সেগুলির উল্লেখ না করলেও) দলটির শক্তি হ্রাস পাবে না। ২০১৮ সালে পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পিপিপি-র নেতৃত্বে তৎকালীন বিরোধী দল বিপুল সংখ্যক সমর্থন পেলেও তারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেনি। কারণ যাতে তারা সমস্যা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী তাদের সতর্ক করেছিল। পিটিআই একই রকমের বাধ্য বা অনুগত হবে বলে মনে হচ্ছে না। তারা রাস্তায় বিক্ষোভ জাগিয়ে তুলতে পারে এবং সামাজিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচার চালাবে। এর পাশাপাশি সেই সকল ক্ষমতাসীনের বিরুদ্ধে আখ্যান গড়ে তুলতে পারে, যারা বৈধতার অভাব ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা সংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান ক্রোধের কারণে চিরতরে পিছিয়ে থাকবে।

আগামী কয়েক মাসে রাজনৈতিক বক্তব্য, জল্পনা-কল্পনায় প্রচুর রোষ ও ক্ষোভ থাকলেও এই সরকার নিকট ভবিষ্যতে অব্যাহতই থাকবে। এটি নিজে কী ভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে এবং কতটা সামরিক সংগঠন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তা নির্ভর করবে দলটির দর কষাকষি করার ক্ষমতার উপর। এবং একই সঙ্গে দলটির জন্য বরাদ্দ অর্থ ও রাজনৈতিক পরিসরের উপরেও তা নির্ভর করবে। তবে অন্তত পক্ষে এক বছর, এমনকি দু’বছরের জন্যও এই সরকারের পতনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তার পর কোনও হিসেবই কাজ করবে না।

 


সুশান্ত সারিন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.