Published on Oct 19, 2021 Updated 0 Hours ago

বন্যা যখন প্রতিটি বর্ষায় আগের চেয়ে বেশি বিপর্যয় নিয়ে আসছে, তখন সময় এসেছে ভারতের কার্যকর বন্যা নিয়ন্ত্রণে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নেওয়ার।

বন্যা ও দক্ষিণ এশিয়া:‌ একটা প্রায় না–জানা কাহিনি

প্রথম যুগের আদি মানবেরা যখন ৫০ লক্ষ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকার রিফ্‌ট ভ্যালি ছেড়ে বেরিয়েছিল, তখন তাদের সামনে ছিল পরিবেশগত ভাবে নতুন জায়গা ও অবস্থা, নতুন হিংস্র পশু, এবং ক্রমবর্ধমান খামখেয়ালি জলবায়ু, কারণ আফ্রিকা তখন একবার–আর্দ্র একবার–শুষ্ক জলবায়ুর মধ্যে আন্দোলিত হত। তার পরেও যে তারা বেঁচে থাকল, আর বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল, তা থেকেই বোঝা যায় মানু্ষ ও তার পূর্বপুরুষেরা সম্ভবত সব প্রাণীর মধ্যে সবথেকে বেশি অভিযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। তারা সারাক্ষণ পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছিল তাদের উঁচু মানের সামাজিক মস্তিষ্ক ও সংস্কৃতির দৌলতে। এভাবে তারা জ্ঞানের ভান্ডার তৈরি করছিল, এবং বংশানুক্রমে তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলেযেখানে একটা নির্দিষ্ট বর্ষার মরসুম আছেসেখানে বহু শতক ধরে ঘড়ির মতো নিয়মিত ভাবে বন্যা হয়ে আসছে।

কাজেই জলবিদ্যাগত চরম ঘটনাগুলো কখনই এমন ছিল না যে সেগুলোকে অস্বাভাবিক ধরে নিয়ে তার মোকাবিলা করতে হবে। আর বন্যা তো নয়ই, যা কিনা এই গ্রহের আবহাওয়া–সম্পর্কিত সমস্ত প্রাকৃতিক বিপত্তির মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ও ব্যাপক ঘটনা। দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলে, যেখানে একটা নির্দিষ্ট বর্ষার মরসুম আছে, সেখানে বহু শতক ধরে ঘড়ির মতো নিয়মিত ভাবে বন্যা হয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে ঐতিহাসিক সুযোগ দিয়ে গেছেন, মনে হচ্ছে তা সেই একশো কোটি মানুষ হারিয়ে ফেলেছেন যাঁরা বিশাল সিন্ধু ও গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা অববাহিকায় বাস করেন, কারণ গত কয়েক দশক ধরে তাঁরা জীবন ও সম্পত্তির ক্রমবর্ধমান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তা হলে এর পেছনে কী কারণ আছে?‌ অবশ্যই কোনও কোনও বছরের ক্ষয়ক্ষতি বাকি বছরগুলোকে ছাপিয়ে যাওয়ার মূল দুটো কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও বেড়ে–চলা জনবসতির ঘনত্ব। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার এই বন্যার কাহিনির অন্য কোনও মাত্রা কি আছে যা অনেকটাই অকথিত?‌

অতীতের জ্ঞান

দক্ষিণ এশিয়ার অনেকটা অংশ জুড়ে আছে সিন্ধু–গঙ্গা (‌‌ইন্ডো–গ্যাঞ্জেটিক) অববাহিকা, ‌যা হিমালয়ের ছায়ায় অবস্থিত। হিমালয় কার্যকর ভাবে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বায়ু আটকে দেয়, এবং তার ফলে তা পাশের দিকে ছড়িয়ে যেতে থাকে। সিন্ধু–গঙ্গা সমতলভূমি সিঞ্চিত হয় প্রশস্ত, ধীরে বয়ে চলা ও বিরাট ভাবে পলি সঞ্চয়কারী নদীগুলির দ্বারা যাদের জন্ম হিমালয়ের বুকে। এই নদীগুলো মরসুমি টাটকা জলের ধারাকে প্রবাহিত করে তাদের বিভিন্ন খাতে। প্রায় প্রতি বছরই নদীখাত ভরে গিয়ে উপচে যাওয়া জল প্লাবিত করে বন্যাধৌত সমতলভূমিকে। এভাবেই ফিরে ফিরে আসে বন্যা আর মানুষের অধিকৃত ভূমি চলে যায় জলের তলায়।

অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ শেখে, আমাদের প্রারম্ভিক এই যুক্তির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঐতিহাসিক ভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজগুলো নদীব্যবস্থা–ধৌত বন্যা–সমতলে বাসস্থল ক্রমপ্রসারিত করার সময় বর্ষার ভয়ঙ্কর প্রভাবের সঙ্গে ভাল ভাবে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিল। তার কারণ এই নয় যে তাঁরা জানতেন এই ভূমির সমতল চরিত্রের জন্য বন্যা অবশ্যম্ভাবী, যা এখন আমরা জানি প্রযুক্তির সহায়তায়। বন্যার ভয়ে পীড়িত হওয়া বা বন্যার জলকে শত্রু ভাবার পরিবর্তে মানুষ তখন একে স্বাগত জানাত এর মৃত্তিকাকে সমৃদ্ধ ও উর্বর করার ক্ষমতার জন্য। কিছু দিন আগে পর্যন্ত বন্যাধৌত সমতলে বন্যার জল ঢুকে চারিদিকে ছড়িয়ে–থাকা জলাভূমিগুলিকে আবার জলে ভরে দিত। সারা বছর নিয়মিত জলের সরবরাহ, পলি, মাছ ও পুনরুজ্জীবিত মৃত্তিকা শুধু মূলত কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ভিত মজবুত করত না, কেন বন্যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি তার অকাট্য যুক্তিও সামনে নিয়ে আসত। অবশ্যই এই পরিষেবার অনেকগুলিকে আমরা সংযুক্ত নদীসমূহের বাস্তুতন্ত্রগত পরিষেবা বলেই জানি। বড় মাপের পরিবর্তন ঘটে যাওয়ার পরেও পর্যায়ক্রমিক প্লাবনের সঙ্গে সহাবস্থান সংক্রান্ত প্রাচীন জ্ঞানের কিছু অবশিষ্টাংশ এখনও দেখা যায়।

বন্যার ভয়ে পীড়িত হওয়া বা বন্যার জলকে শত্রু ভাবার পরিবর্তে মানুষ তখন একে স্বাগত জানাত এর মৃত্তিকাকে সমৃদ্ধ  উর্বর করার ক্ষমতার জন্য।

শিল্পবিপ্লব-পূর্ববর্তী দক্ষিণ এশিয়ার সমাজগুলো এই বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও ভাল ভাবে বেঁচে থাকার জন্য দুটো কৌশল ব্যবহার করত। ব্যাপক জলধারার থেকে নিজেদের বিযুক্ত করতে তারা উঁচু জায়গায় চলে যেত এবং তাদের কৃষিকাজের সময়ের চক্র তারা তৈরি করেছিল বাৎসরিক ‘‌অসুবিধার’‌ সময়টিকে এড়িয়ে। অন্য কৌশলটা ছিল স্থানীয় উপকরণ দিয়ে জলের প্রবাহের মোকাবিলা করার পন্থা উদ্ভাবন এবং তা ব্যবহার করে জল কমার জন্য অপেক্ষা করা। এই ধরনের কৌশলের মধ্যে ছিল বন্যাসহিষ্ণু ধান চাষ, বাঁশের খুঁটির উপর বাড়ি বানানো, এবং বন্যার জল ধরে রাখার জন্য কাঠামো তৈরি করা, ইত্যাদি।

সুরক্ষার বিভ্রম

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা আসার পর মানুষ ও তার প্রাকৃতিক পরিবেশের ঐতিহ্যগত ও পারস্পরিক লাভজনক বন্ধন ভেঙে পড়ল। তারা যে শিল্পবিপ্লব নিয়ে এল তা প্রাকৃতিক ভূমির চেহারা এমন ভাবে বদলে দিল যার ফলে অভূতপূর্ব তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক লাভ হল। জমি থেকে রাজস্ব বাড়ানোর ঔপনিবেশিক চাহিদা এবং আরও বেশি জমিকে চাষের আওতায় আনা, এই দুইয়ের তাগিদে বন্যা নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশলের মূল বিষয়টি হয়ে গেল বাঁধ দিয়ে বন্যা আটকানো। খাল, রাস্তা ও রেল নেটওয়ার্কের মতো পরিকাঠামোর প্রসার, যা অনেক সময় বাঁধের উপর তৈরি হত, তার জন্য নিকাশির যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে নদীর চারপাশটা নাটকীয় ভাবে বদলে গেল, এবং নদীর সঙ্গে বন্যাধৌত সমতলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। নদীগুলোকে ‘‌প্রশিক্ষিত’‌ করা হল একটি নির্দিষ্ট পথ ধরে চলতে, তাদের পার্শ্বীয় প্রসারণ রুদ্ধ করা হল বাঁধ দিয়ে, আর বন্যাধৌত সমতলকে অর্থনৈতিক লাভের জন্য বদলে নেওয়া হল। বিশেষজ্ঞরা অনেক সময়েই এই ধরনের বিভিন্ন জলবিদ্যাগত হস্তক্ষেপকে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক ও নদীজনিত পরিপার্শ্বকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করে, ‘কলোনিয়াল হাইড্রোলজি’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মধ্য–বিংশ শতাব্দীতে ঔপনিবেশিক শাসন শেষ হওয়ার পর এই অঞ্চলটি ভেঙে তৈরি হয়েছে একাধিক স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং অনেক নদীই হয়ে গিয়েছে একাধিক দেশের মধ্যে বিভক্ত। যদিও বর্তমানে এই অঞ্চলের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে বন্যার ঝুঁকি কমানোর বিষয়টির লক্ষ্য ঔপনিবেশিক লাভের অঙ্ক সর্বাধিক করার পরিবর্তে হয়ে গিয়েছে মানুষের সর্বাধিক কল্যাণ, সেই দিকে এগনোর পথটি কিন্তু থেকে গেছে ধার–করা ঔপনিবেশিক কারিগরি সংক্রান্ত সরলীকৃত দৃষ্টান্তের অনুসারী। বন্যা রুখতে কাঠামোগত ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীলতা ‘‌বন্যার সঙ্গে বেঁচে থাকা’র স্থানীয় জ্ঞানতত্ত্বকেই শুধু খর্ব করেনি, সেই সঙ্গেই নিয়ে এসেছে আরও বেশি বাঁধ, উঁচু জলাধার, জলপ্রবাহ অন্য খাতে বইয়ে দেওয়ার প্রয়াস, এবং বহুমুখী নদী উপত্যকা প্রকল্প। আর যে হেতু বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় জুড়ে রাষ্ট্র এই পথটিকেই বন্যা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় বলে ধরে নিয়েছিল, তাই এই ধরনের হস্তক্ষেপ আরও বেড়ে গিয়েছিল।

খালরাস্তা  রেল নেটওয়ার্কের মতো পরিকাঠামোর প্রসারযা অনেক সময় বাঁধের উপর তৈরি হততার জন্য নিকাশির যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে নদীর চারপাশটা নাটকীয় ভাবে বদলে গেলএবং নদীর সঙ্গে বন্যাধৌত সমতলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

একই সঙ্গে, কাঠামোগত হস্তক্ষেপের ফলে যে সুরক্ষার বিভ্রম তৈরি হল তার ফলে বন্যাধৌত সমতলে আরও বেশি করে অনিয়ন্ত্রিত কাজকর্ম শুরু হয়ে গেল। তার পাশাপাশি শহরগুলো বড় হতে থাকায় ও সেখানে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো আরও বেশি বন্যার প্রকোপের সম্মুখীন হল। কিছু দশক পরে এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বন্যাপ্রবণ এলাকা বেড়ে চলেছে;‌ আর কাঠামোগত হস্তক্ষেপের ফলে বাস্তুতন্ত্র পরিষেবার যে কত ক্ষতি হল তার পরিমাপ করা যায়নি। তার উপর ২০০৮ সালে কোশি নদীর তাণ্ডব ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি আটকাতে বাঁধগুলোর সঙ্কটজনক ব্যর্থতা আমাদের সামনে আয়না তুলে ধরছে যাতে করে আমরা এই অঞ্চলের বন্যা প্রশাসনের মূলবিন্দুগুলো নতুন করে ভেবে দেখি। কল্যাণকামী রাষ্ট্রের প্রত্যাশার পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হল, গরিবরাই সব থেকে বেশি করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ অধিকাংশ বন্যাপীড়িত জায়গাই হল বসবাসের জন্য সাশ্রয়কর।

সামনে কী আছে?‌

ইওরোপের সাম্প্রতিক বন্যা দেখিয়ে দিল, যথেষ্ট পূর্বাভাস সত্ত্বেও বিশ্বের উষ্ণায়ন ঝড়বৃষ্টিকে ব্যাপক ভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারে, এবং এখনও ক্ষয়ক্ষতি ও জীবনহানি নিয়ে আসতে পারে। ডাচরা, যারা একসময় জল-কারিগরির পথপ্রদর্শক ছিল আর এখন প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের প্রচারক, তারা যেমন বলে থাকে ঠিক সে ভাবেই এই ঘটনা বন্যাসংক্রান্ত ঝুঁকি কমানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর নীতি সামনে নিয়ে এসেছে। নেদারল্যান্ডসে ‘‌নদীকে জায়গা করে দেওয়ার’‌ জন্য কয়েক দশকের প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করেছে। দক্ষিণ এশিয়ারও বন্যার সঙ্গে কার্যকর অভিযোজনের বহু শতাব্দীর অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষা আছে, কিন্তু তারা এখন অন্য পথ বেছে নিয়েছে। এখন যখন বন্যা প্রশাসনের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি নিয়ে আবার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে, তখন সম্ভবত এই অঞ্চলটির হারানো সম্ভাবনা ফের আবিষ্কার করারও সময় হয়েছে। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে ভারতের গবেষণায় টাকা ঢালার যথেষ্ট ক্ষমতা আছে, এবং বন্যার স্থানীয় ও অঞ্চলভিত্তিক সমাধানের পথ খোঁজায় ভারতেরই অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া উচিত।

শহরে হোক বা গ্রামেসব বাধা সরিয়ে ফেলে এবং বৃষ্টির জলের দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার উৎকৃষ্ট ব্যবস্থা করে দিয়ে প্রাকৃতিক নিকাশি পথগুলোকে পুনঃস্থাপিত করতে হবে।

মোটের ওপর এটা করা যায় দু’‌ভাবে। শহরাঞ্চলে এর জন্য প্রয়োজন জল বেরনোর পথরোধকারী পৃষ্ঠভূমি কমানো, এবং বৃষ্টির জল শুষে নিতে পারে এমন ‘‌স্পঞ্জ সিটি’‌ তৈরি করা। মুম্বইয়ের মতো মোহনা বা ব–দ্বীপে অবস্থিত উপকূলবর্তী শহরগুলোতে কার্যকর উপায় ‘‌নিকাশ’‌–এর পরিবর্তে হওয়া উচিত ‘‌শুষে’‌ নেওয়া, এবং তার উপরেই নীতিগত গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। গ্রামীণ পশ্চাদভূমিতে, যেখানে ‘‌সক্রিয় বন্যাধৌত সমতলে’‌ জমির ব্যবহার আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেখানে একই সঙ্গে বন্যাধৌত সমতলের এলাকা চিহ্নিত বা ‘‌জোনিং’‌ করা ও পর্যায়ক্রমে বাঁধগুলোকে ভেঙে ফেলা দরকার। শহরে হোক বা গ্রামে, সব বাধা সরিয়ে ফেলে এবং বৃষ্টির জলের দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার উৎকৃষ্ট ব্যবস্থা করে দিয়ে প্রাকৃতিক নিকাশি পথগুলোকে পুনঃস্থাপিত করতে হবে।

একথা বলা বাহুল্য যে এর জন্য যারা বাস্তুচ্যুত হবেন তাঁদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা ছাড়া অনেক প্রয়াসের প্রয়োজন এখনকার শাসন সংক্রান্ত মূলবিন্দুগুলোর থেকে মু্ক্তি পেতে, যেগুলোর সহজাত ‌বৈশিষ্ট হল ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্নতা, সরলীকরণ এবং রাজনীতিক, ইঞ্জিনিয়র ও কনট্র‌্যাক্টরদের অশুভ আঁতাত। তা ছাড়াও এর জন্য এই আপাত ‘‌র‌্যাডিকাল’‌ প্রয়াসগুলো কার্যকর করার উপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা তৈরি ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। তবে বন্যা সমস্যার টেকসই ও দীর্ঘকালীন সমাধানের জন্য প্রয়োজন নতুন চিন্তাভাবনা ও প্রতিক্রিয়া। তা ছাড়া ভারতের যখন বন্যার অভিযোজন–নির্ভর পরিচালনে বিশ্বগুরু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে, সেই সময় এর পক্ষে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক যুক্তিও আছে। এটা ঠিক সেই রকম যা ডাচরা বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম বদ্বীপে অর্জন করেছে বদ্বীপ পরিচালনে সর্বাধুনিক কৌশলের ব্যবহার করে। ভারতের, এবং সেই সঙ্গে প্রায় পুরো দক্ষিণ এশিয়ার, এই প্রয়াসে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের ভান্ডার, যা বন্যার সঙ্গে সহাবস্থানের প্রয়াসে ব্যবহার করা সম্ভব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.