Published on Mar 29, 2023 Updated 0 Hours ago

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় এসেছে যা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত এবং ন্যায্য

মারবার্গ ভাইরাস রোগের (এমভিডি) প্রাদুর্ভাব: এটি কি হিমশৈলের চূড়া?

নিরক্ষীয় গিনিতে মারবার্গ ভাইরাস রোগের (এমভিডি) বর্তমান প্রাদুর্ভাব আবারও জনস্বাস্থ্য পদ্ধতির গুরুত্ব, যেমন ‘এক স্বাস্থ্য’ এবং সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে  ধরেছে। এমভিডি-র ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাপী মনোযোগের দাবি রাখে। প্রাদুর্ভাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আরঅ্যান্ডডি ব্লুপ্রিন্ট এমভিডি প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেছে। ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতিবেদিত এমভিডি-র কারণে বিক্ষিপ্তভাবে পুনরায় সংঘটিত মানুষের মৃত্যু সত্ত্বেও এমভিডি-র জন্য বর্তমানে কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা নেই (চিত্র ১)। উপরন্তু, সংক্রমিত মানুষ ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করে, যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় সহায়ক যত্নের প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত একটি গবেষণায় উপাদান এবং জনবলের ঘাটতি, চিকিত্সা কেন্দ্রের সাংগঠনিক কাঠামোর অভাব এবং নীতি সংক্রান্ত ত্রুটিবিন্দু প্রতিক্রিয়াগুলির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এমপক্স এবং এমভিডি-র মতো হুমকি থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় ভবিষ্যতের অতিমারিগুলির প্রেক্ষিতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হিসাবে একটি অতিমারি চুক্তি বা প্যান্ডেমিক ট্রিটি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

চিত্র ১: এমভিডি প্রাদুর্ভাবের সময়রেখা
সি: সংক্রমণের সংখ্যা; ডি: মৃত্যুর সংখ্যা; ডিআরসি: গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো

এমভিডি প্রাদুর্ভাব উদীয়মান এবং পুনরুত্থানকারী সংক্রামক রোগের হুমকির জন্য একটি সমন্বিত এবং সহযোগিতামূলক প্রতিক্রিয়ার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, চারটি উদীয়মান সংক্রামক রোগের হুমকির মধ্যে তিনটি হল জুনোজ। জুনোটিক (পশু থেকে মানুষে সংক্রমণক্ষম) রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রমাণ অবহিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রচার, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতা-সহ ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট (আইভিএম) মডেলের মতো পদক্ষেপগুলি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মারবার্গ ভাইরাস সংক্রমণের জন্য দায়ী একটি প্রাথমিক ভেক্টর হল রুসেটাস এজিপ্টিয়াকাস বাদুড়। এই বাদুড়গুলি ভাইরাসের জন্য একটি আধার এবং এটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আইভিএম মডেলটি ভেক্টর জনসংখ্যাকে লক্ষ্য করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন বাসস্থান বিচ্ছিন্নকরণ বা জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার জন্য জৈবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা। এই ধরনের ব্যবস্থা বাদুড় এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণ চক্র ভাঙতে সাহায্য করতে পারে। একই ভাবে, প্রাদুর্ভাব এবং পুনরুত্থানের ঝুঁকি দূর করার জন্য প্রমাণ সংশ্লেষণ ও গবেষণা সহযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন রয়েছে। মারবার্গ ভাইরাসের সংক্রমণ গতিবিদ্যা সম্পর্কে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য নজরদারি তথ্য একীভূত করে আমাদের আরও বিস্তারের ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্যযুক্ত পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম করবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, চারটি উদীয়মান সংক্রামক রোগের হুমকির মধ্যে তিনটি হল জুনোজ।

স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলি-সহ যাঁরা এই জাতীয় প্রাদুর্ভাবের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কণ্ঠস্বরকে সম্প্রদায়গত সম্পৃক্ততা এবং আন্তঃক্ষেত্রীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রসারিত করাও অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রক (এমওএইচ) ডব্লিউএইচও, ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহযোগিতা করেছে। এর পাশাপাশি নজরদারি, সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা, ঘটনার ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষাগার পরিষেবা, যোগাযোগের সন্ধান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, লজিস্টিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদে অন্তিম সংস্কার অনুশীলনে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে সাহায্য করেছে। আর একটি কার্যকর উপায় হল আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থায় বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্যের সমাধান করা। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার অসম লভ্যতা, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির অপ্রতুল অর্থায়ন এবং অপ্রতুল স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামো।

এর পাশাপাশি, এমভিডি প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য হুমকি মোকাবিলার জন্য একটি অতিমারি চুক্তির জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরে। অতিমারি চুক্তিটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার লক্ষ্য দেশগুলির মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং সমন্বয় প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য হুমকির মোকাবিলা করা। ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর ভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য সমস্ত দেশে যে প্রয়োজনীয় সংস্থান, সরঞ্জাম এবং দক্ষতা রয়েছে, তা নিশ্চিত করা এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় এক অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠবে। এই চুক্তি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়ার জন্য একটি পরিকাঠামো তৈরি করবে, সচেতনার ও তথ্য প্রচার চালাবে এবং টিকা ও অন্য চিকিৎসা সংস্থানগুলির সুষম বণ্টনের জন্য ব্যবস্থার সূচনা করবে। অতিমারি চুক্তি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেও সাহায্য করতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চুক্তিটি সুনিশ্চিত করতে পারে যে প্রতিক্রিয়া প্রচেষ্টাটি লক্ষ্যযুক্ত, কার্যকরী এবং ন্যায়সঙ্গত।

স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলি-সহ যাঁরা এই জাতীয় প্রাদুর্ভাবের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কণ্ঠস্বরকে সম্প্রদায়গত সম্পৃক্ততা এবং আন্তঃক্ষেত্রীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রসারিত করাও অপরিহার্য। 

কোভিড-১৯ অতিমারি প্রাক-কোভিড স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলিকে প্রকাশ্যে এনে হিমশৈলের চূড়া মাত্র দর্শিয়েছে। অতিমারি চুক্তি স্বীকার করে নিয়েছে যে, অতিমারিগুলি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হয় এবং সেখানেই শেষ হয়; এবং সকলে নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়। অতিমারি চুক্তির খসড়াটি প্রশাসনের সমস্ত স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হিসাবে দ্রুত প্রতিবেদন এবং স্বচ্ছতা-সহ সম্পদের লভ্যতার ক্ষেত্রে বিচারগুলিকে আরও সমন্বিত ও ন্যায়সঙ্গত হওয়ার নির্দেশ দিলেও চুক্তিটিকে আরও উপযুক্তভাবে পরিচালনা করার নির্দেশাবলি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলক বিচার এবং গবেষণার অপচয় এড়ানো জরুরি। সংক্রামক রোগের ক্রমাগত উত্থান এবং পুনরুত্থানের ফলে আমরা এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য যে, এটিই সংক্রামক রোগের প্রথম বা শেষ প্রাদুর্ভাব নয়, আমরা যার সম্মুখীন হতে পারি। সুতরাং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা স্থাপনের সময় এসেছে যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত এবং ন্যায্যও। তবে প্রশ্ন রয়ে যায় যে, অতিমারি চুক্তি কি পর্যাপ্ত ভাবে বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যাগুলি সমাধান করে একটি স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যতের জন্য দেশগুলিকে প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে?

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Lada Leyens

Lada Leyens

Dr Lada Leyens has a background in human genetics health economics and personalized medicine. She has worked at Health Authorities for over 8 years mainly ...

Read More +
Sanjay M Pattanshetty

Sanjay M Pattanshetty

Dr. Sanjay M Pattanshetty is Head of theDepartment of Global Health Governance Prasanna School of Public Health Manipal Academy of Higher Education (MAHE) Manipal Karnataka ...

Read More +
Viola Savy Dsouza

Viola Savy Dsouza

Miss. Viola Savy Dsouza is a PhD Scholar at Department of Health Policy Prasanna School of Public Health. She holds a Master of Science degree ...

Read More +
Jestina Rachel Kurian

Jestina Rachel Kurian

Mrs. Jestina Rachel Kurian is a research scholar at Prasanna School of Public Health pursuing her Ph.D. in data science related to biomedicine. She has ...

Read More +