Published on Aug 11, 2023 Updated 0 Hours ago

আইএমএফ প্রবর্তিত সাম্প্রতিক জলবায়ু স্থিতিস্থাপক ঋণের প্যাকেজগুলি অপ্রতুল

জলবায়ুর জরুরি প্রয়োজন সত্ত্বেও আইএমএফ–এর সীমিত প্রতিক্রিয়া

জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিমারি প্রস্তুতি এমন চ্যালেঞ্জ যা নিম্ন আয় ও দুর্বল মধ্যম আয়ের দেশগুলিকে মারাত্মকভাবে বিপদের মুখে ফেলে। ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (আইএমএফ) এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করার জন্য রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি ট্রাস্ট (আরএসটি) নামে একটি ঋণদান টুলকিট তৈরি  করেছে। প্রথম দফায় ঋণ পাঁচটি দেশকে দেওয়া হয়েছিল : কোস্টারিকা, বারবাডোজ, জামাইকা, বাংলাদেশ ও সেশেলস, যারা সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কাঠামোর শর্তাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এই বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলায় এই টুলকিটটি কার্যকর হাতিয়ার হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়।

কেন আরএসটি?
আরএসটি–র ভূমিকা হল বর্তমানে জেনারেল রিসোর্সেস অ্যাকাউন্ট (জিআরএ) উৎসের অধীনে সমস্ত দেশের এবং পভার্টি রিডাকশন অ্যান্ড গ্রোথ ট্রাস্ট (পিআরজিটি)–এর অধীনে নিম্ন আয়ের দেশগুলির প্রাপ্তিযোগ্য আইএমএফ ঋণের পরিপূরণ করা। এই বিদ্যমান উপকরণগুলি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন সদস্যদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। আরএসটি–র লক্ষ্য হল অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সাশ্রয়ী মূল্যের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে ঋণ সহায়তাকে প্রসারিত করা।

আরএসটি জলবায়ু–অরক্ষিত দেশগুলিকে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে উদ্ভূত সামষ্টিক–আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করার আশা রাখে৷ এটি ২০ বছর ও ১০.৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ড–সহ রেয়াতি ঋণ অর্থায়নের একটি ব্যবস্থা। তিন মাসের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) সুদের হারের উপরে ১০০ বেসিস পয়েন্ট (তিন স্তরে) পর্যন্ত মার্জিন রেখে আরএসটি তহবিলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

আরএসটি–র ভূমিকা হল বর্তমানে জেনারেল রিসোর্সেস অ্যাকাউন্ট (জিআরএ) উৎসের অধীনে সমস্ত দেশের এবং পভার্টি রিডাকশন অ্যান্ড গ্রোথ ট্রাস্ট (পিআরজিটি)–এর অধীনে নিম্ন আয়ের দেশগুলির প্রাপ্তিযোগ্য আইএমএফ ঋণের পরিপূরণ করা।

সে সব সদস্য এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য তাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্যতা হল কোটার ১৫০ শতাংশ বা এসডিআর ১ বিলিয়নের কম। প্রবেশাধিকার নির্ধারণের সূচনা বিন্দু হল কোটার ৭৫ শতাংশের একটি প্রবেশের নিয়ম, যা আইএমএফ তার সদস্য দেশগুলিকে সর্বাধিক পরিমাণ ঋণ হিসাবে দেয়।

কিছু উদাহরণ

সাম্প্রতিক আরএসটি লোনের দিকে নজর দিলে প্রোগ্রামটির ব্যবহারিক দিকগুলির একটি আভাস পাওয়া যায়। প্রথমত, দেশের নিরিখে ঋণের আকার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়, যেমন বারবাডোজের জন্য ১৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও বাংলাদেশের জন্য ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও, ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলিকেও নির্দিষ্ট করা আছে। যেমন, জামাইকার ঋণটির লক্ষ্য ছিল সংস্কার, এবং তার ক্ষেত্র ছিল পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সরে যাওয়া, শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি, সবুজ আর্থিক উপকরণ বিকাশ, এবং আর্থিক ক্ষেত্রে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রণোদনা দেওয়া। এই সংস্কারগুলি জলবায়ু সম্পর্কিত বিনিয়োগের জন্য বেসরকারি ও সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসাবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য আরএসটি ছিল অন্যান্য আইএমএফ ঋণের পরিপূরক, যেগুলির লক্ষ্য ছিল সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করা এবং শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশগতভাবে স্থিতিশীল বৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন। আরএসটি–র লক্ষ্য ছিল অন্যান্য উপলব্ধ ঋণের পরিপূরক হিসাবে আর্থিক পরিসর বিস্তৃত করে জলবায়ু সক্রিয়তার অগ্রাধিকারের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, আরও অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুঘটক হিসাবে কাজ করা, এবং অর্থনীতিকে জলবায়ু স্থিতিস্থাপক করে তোলা।

কিছু ত্রুটি

আইএমএফ–এর নিজস্ব অনুমান অনুসারে এককালীন ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ  দেশটির বার্ষিক জলবায়ু সম্পর্কিত ১২ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের তুলনায় অত্যন্ত কম। এছাড়াও বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতি তৈরি করতে সক্ষম নয়, কারণ আরএসটি ঋণের কঠোর শর্ত পূর্ববর্তী ঋণ প্যাকেজগুলির থেকে আলাদা নয়। যেমন, শর্ত চাপানো হয়েছে দেশের সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হবে, জ্বালানি মূল্য বাজার চালিত হতে হবে, গার্হস্থ্য বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের উদারীকরণ করতে হবে, এবং সরকারি ব্যয় কমাতে হবে। এগুলি সবই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, যার সঙ্গে জলবায়ু সক্রিয়তার সম্পর্ক সামান্যই।

ঋণ সুবিধার কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, আরএসটি ছোট ও দুর্বল দেশগুলিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না, কারণ ঋণের কোটা তাদের এসডিআর কোটার সঙ্গে সংযুক্ত, যা আবার জিডিপি–র আকারের উপর নির্ভরশীল। ক্ষুদ্র ঋণগুলি ছোট দেশগুলির অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করতে সামান্যই কিছু করতে পারে, কারণ তাদের অর্থনীতি ক্ষুদ্র, কিন্তু জলবায়ু অর্থায়নের প্রয়োজন বিশাল।

দুই, কঠোর শর্ত ও যোগ্যতার মানদণ্ড ঋণ পাওয়ার সুযোগ সীমাবদ্ধ করে। সুবিধাটি নির্ভর করে দেশগুলির অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষমতার উপর, যা দুর্বল দেশগুলির জন্য যোগ্যতা অর্জন করা কঠিন করে তুলতে পারে। এমনকি যদি কেউ যোগ্যতা অর্জন করে তাহলেও ইতিমধ্যেই উচ্চ ঋণের বোঝায় চাপা পড়ে থাকা দেশগুলিকে আরও ঋণ প্রদান করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠতে পারে। অত্যধিক ঋণ জলবায়ু প্রশমন ও অভিযোজন বিনিয়োগের জন্য আর্থিক পরিসর হ্রাস করতে পারে।

তিন, সুদের হার আইএমএফ মধ্যম আয়ের দেশগুলি (এমআইসি’‌স)–কে যা চার্জ করে তার থেকে খুব একটা আলাদা নয়। ছোট দেশগুলি একে রেয়াতি ঋণ হিসাবে দেখে না, এবং সেই সঙ্গে ৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত সারভিস চার্জ রয়েছে।

আরএসটি ছোট ও দুর্বল দেশগুলিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না, কারণ ঋণের কোটা তাদের এসডিআর কোটার সঙ্গে সংযুক্ত, যা আবার জিডিপি–র আকারের উপর নির্ভরশীল।

চার, দেশগুলো এই সুবিধা গ্রহণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য বার্ষিক জলবায়ু অভিযোজন ব্যয় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪০–৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ২৮০–৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে বলে অনুমান করা হয়েছে৷ এই প্রয়োজনের অঙ্কটির ধারেকাছেও নেই আইএমএফ–এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরের প্রস্তাবিত ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷

পাঁচ, উন্নয়নশীল দেশগুলি সবুজ পরিবর্তনকে ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে, তাতে এই প্রক্রিয়াটি সহায়ক হয় না। যা ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের নীতির সঙ্গে ভালভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলপূর্বক এমন একটি সবুজ রূপান্তর একটি সর্বরোগহর ওষধির পরিবর্তে একটি শাস্তিতে পরিণত হবে।

কার্যকর প্রতিকার

আরএসটি–র আকার ও ভূমিকা বর্তমানে অনিশ্চিত, এবং তাদের এসডিআর প্রবাহিত করার বিষয়টি দেশগুলির আগ্রহের উপর নির্ভর করবে। তাই আরএসটি–র জন্য এটা দেখানো গুরুত্বপূর্ণ যে এটি আইএমএফ–এর বিদ্যমান ঋণ সংস্থানগুলির অতিরিক্ত একটি সুবিধা দান করে এবং সেগুলিকে স্থানচ্যুত করে না।

আরএসটি–কে সত্যিকার অর্থে অনুঘটক ও সত্যিকারের রেয়াতি ঋণ করার জন্য তহবিলের আকার ও কোটা প্রতি বছর বাড়ানো উচিত, এবং পুনরায় পূরণ করা উচিত। সেইসঙ্গে পভার্টি রিডাকশন অ্যান্ড গ্রোথ ট্রাস্টের মতো এই ঋণটিও শূন্য–সুদে দেওয়া উচিত।

উপরন্তু, জলবায়ু অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য আরএসটি–র উচিত বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একত্রে কাজ করা। এই সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু অর্থায়নের প্রাথমিক উৎস। অতএব, জলবায়ু পরিবর্তনকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি সমন্বিত কৌশল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


লাবণ্য প্রকাশ জেনা কমনওয়েলথ সচিবালয়ে ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক জলবায়ু অর্থ উপদেষ্টা।

মীরা শিবা একজন ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টর এবং বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি গ্লোবাল ইক্যুইটি ফান্ড পরিচালনা করেন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Labanya Prakash Jena

Labanya Prakash Jena

Labanya Prakash Jena is the Head, Centre for Sustainable Finance, Climate Policy Initiative India. Before this, he was working as the Regional Climate Finance Adviser ...

Read More +