Published on Nov 28, 2021 Updated 0 Hours ago

অতিমারির সময় অনেকগুলি খাদ্য কর্মসূচি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিলে খাদ্যসঙ্কট আরও খারাপ দিকে মোড় নিয়েছে।

ব্রাজিলে ক্ষুধার প্রত্যাবর্তন

একবিংশ শতাব্দীতে ব্রাজিল পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল একটা বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে। তা ছিল অসাম্যের সবচেয়ে খারাপ বহিঃপ্রকাশ যা দিয়ে ঘটে, সেই ক্ষুধা সংক্রান্ত। কিন্তু এই বছরের কোভিড–১৯ অতিমারির সময় ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি আবার ব্রাজিলের সর্বজনীন বিতর্কের মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যেও সেই কথাটাই উঠে এসেছে যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের তরফে দাবি করা হচ্ছিল:‌ ক্ষুধা আবার দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবারকে তাড়া করছে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বলতে বোঝায় যথেষ্ট পরিমাণে উপযুক্ত গুণমানের খাদ্য নিয়মিত এবং স্থায়ী ভাবে পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। বার্লিনের ফ্রেই ইউনিভারসিটির রিসার্চ গ্রুপ ফুড ফর জাস্টিস:‌ পাওয়ার, পলিটিক্স অ্যান্ড ফুড ইনইকোয়ালিটিজ ইন আ বায়োইকনমি একটি সমীক্ষা করেছিল ইউনিভারসিডেড ফেডারেল ডি মিনাস গেরাইস (‌ইউএফএমজি)‌ ও ইউনিভারসিডেড ডি ব্রাসিলিয়া (‌ইউএনবি)‌–র গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে, এবং তাতে দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ব্রাজিলের ৫৯.‌৪ শতাংশ পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ পরিবার ক্ষুধার প্রকোপ সহ্য করছিল। অতিমারির কয়েক বছর আগে থেকেই কী ভাবে খাদ্য নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছিল তা ফুড ফর জাস্টিস–এর তথ্য তুলে ধরেছিল। ব্রাজিলের ভূগোল ও পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান (‌ইনস্তিতিউতো ব্রাসিলেইরো দ্য জোগ্র‌্যাফিয়া এ এসতাতিসতিকা)‌ ২০১৭–১৮ সালে যে পারিবারিক বাজেট সমীক্ষা (‌পেসকুইসা দ্য অরক্যামেন্তো ফেমিলিয়ার;‌ পিওএফ)‌ করেছিল, তার তথ্যে বলা হয়েছিল দেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ২০১৩ সালের ২২.‌৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৭–১৮য় ৩৬.‌৪ শতাংশ হয়ে গিয়েছিল।

তবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সব সামাজিক গোষ্ঠীকে একই ভাবে প্রভাবিত করে না। শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের কর্তৃত্বাধীন শহুরে পরিবারগুলি, যাদের মাসিক মাথাপিছু আয় ১,০০০ রেআইসের বেশি এবং যারা দেশের মধ্য–পশ্চিম, দক্ষিণ বা দক্ষিণ–পূর্বের অধিবাসী, তাদের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্য দিকে যে সব পরিবার বাদামি (‌পারদো)‌ বা কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার কর্তৃত্বাধীন, যাদের মাসিক মাথাপিছু আয় ১,০০০ রেআইসের কম এবং গ্রামাঞ্চল বা দেশের উত্তর বা উত্তর–পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী, তাদের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ হল ক্ষুধার মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত ব্রাজিলের অসাম্যের ছবি।

ব্রাজিলের ১৫ শতাংশ পরিবার ক্ষুধার প্রকোপ সহ্য করছিল। অতিমারির কয়েক বছর আগে থেকেই কী ভাবে খাদ্য নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছিল তা ফুড ফর জাস্টিসএর তথ্য তুলে ধরেছিল।

খাদ্য উপভোগের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে অতিমারির আগে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতিতে থাকা পরিবারগুলোও স্বাস্থ্যকর খাবার খেত, যেমন মাংস (‌৭২.‌৬ শতাংশ)‌, শাকসবজি (৬৭.‌২ শতাংশ)‌, ও ফল (‌৬৬.‌৫ শতাংশ), তবে অনিয়মিত ভাবে (‌সপ্তাহে পাঁচ বারের কম)‌। এই পরিস্থিতিটা অতিমারির পর আরও খারাপ হয়ে গেল। তখন প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমতে থাকল, যেমন মাংসজাতীয় খাদ্য। যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল তাঁদের ৪৪.‌৪ শতাংশের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছিল। এই শতাংশ আরও বেশি ছিল খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতিতে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে। তাঁদের ক্ষেত্রে এই স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপভোগ হ্রাসের মাত্রা ছিল ৮৫ শতাংশের বেশি।

যে দেশ ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের ক্ষুধার মানচিত্র থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, কী করে সেখানে ২০২০ সালে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি এত খারাপ হয়ে গেল?‌ এর অনেকগুলো কারণ আছে। প্রথমত, খাদ্য জোগাড়ের ক্ষেত্রে বাধা বা সীমাবদ্ধতা আয় হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর সেটাই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখ্য নির্ণায়ক। গত পাঁচ বছরে ব্রাজিল অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, যার ফলে বেকারি বেড়েছে, ন্যূনতম মজুরির অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে। এর সবগুলোই খাদ্যের মূল্যের উপর প্রভাব ফেলে। কোভিড–১৯ শুধু ওই পরিস্থিতিটার আরও অবনতি ঘটিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, তার আগের দশকে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও ২০১৬ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রাধান্য পায় চূড়ান্ত ব্যয়সঙ্কোচ। একথার উল্লেখ জরুরি যে চরম দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়তে ব্রাজিলের ক্যাশ ট্রান্সফার প্রোগ্রাম (‌বোলসা ফ্যামিলিয়া)‌ আন্তর্জাতিক প্রশংসা পেয়েছিল। এ ছিল এক কাঠামোগত পরিবর্তন যার ফলে জনসংখ্যার তাৎপর্যপূর্ণ অংশ লাভবান হয়েছিল ঠিকমতো কাজের সুযোগ ও আয় বেড়ে যাওয়ার ফলে। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের ইমপিচমেন্টের পর এই কাজ ব্যাহত হল। তবে তাঁর সরকারের সময়েই অর্থনৈতিক সঙ্কট এসে পড়েছিল এবং ব্যয়সঙ্কোচ শুরু হয়েছিল। ন্যূনতম মজুরির প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধির যে নীতি অনুসৃত হচ্ছিল (‌অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতির মাত্রার চেয়েও ক্রমাগত আয় বেশি করে বাড়ছিল এবং প্রসারিত হচ্ছিল সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, যেগুলোর লাভ ন্যূনতম মজুরির মূল্যমানের সঙ্গে সম্পর্কিত)‌ তার পরিবর্তে সরকারি নীতি হল শ্রমিকের অধিকার শিথিল করা, সামাজিক নীতিসমূহের জন্য সরকারি খরচ কমানো, এবং ন্যূনতম মজুরির ক্রয়ক্ষমতা কমানো। ২০১৬–র ডিসেম্বরে একটা নতুন সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে পরের ২০ বছরের জন্য একটা নতুন আর্থিক জমানা তৈরি করা হল। এতে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত সরকারি খরচ ও বিনিয়োগের, বিশেষ করে যেগুলো চরিত্রগত ভাবে সামাজিক, তার সীমা বেঁধে দেওয়া হল।

গত পাঁচ বছরে ব্রাজিল অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেযার ফলে বেকারি বেড়েছেন্যূনতম মজুরির অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছেযার সবগুলোই খাদ্যের মূল্যের উপর প্রভাব ফেলে। কোভিড১৯ শুধু ওই পরিস্থিতিটার আরও অবনতি ঘটিয়েছে।

তৃতীয়ত, খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে ২০১৬ থেকে একগুচ্ছ ক্রমিক পরিবর্তন আনা হল, যার মাধ্যমে প্রোমোশন ফ্যামিলি ফার্মিং সংক্রান্ত সরকারি নীতিসমূহ প্রত্যাহৃত হল, তুলে দেওয়া হল কৃষি উন্নয়ন মন্ত্রক (‌২০১৬)‌ ও খাদ্য ক্রয় কর্মসূচির (‌প্রোগ্রামা নাশিওনাল দ্য আকুইসিসাও দে আলিমেন্তোস;‌ পি এ এ)‌ মতো অত্যাবশ্যক নীতিসমূহ। তা ছাড়া অতিমারির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় স্কুল খাদ্য কর্মসূচির (প্রোগ্রামা নাশিওনাল দে আলিমেন্তাসাও এসকোলার, পি এন এ এই)‌ মতো পর্যাপ্ত খাদ্যের অধিকারের নিশ্চয়তাদানকারী কর্মসূচির জন্য অর্থও আংশিক ভাবে কমানো হয়েছে। এর ফলে জনসেবায় সর্বজনীনতার নীতিটি গভীর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে জাতীয় সরকার সংগঠিত নাগরিক সমাজের সঙ্গে কথা বলার অনেকগুলো প্রকরণ বন্ধ করে দিল, এবং অনেক দশক ধরে খাদ্যের অধিকারের অগ্রগতি থেকে সংগৃহীত শিক্ষা অবজ্ঞা করার পথ বেছে নিল। ভেঙে দেওয়া হল জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা পর্ষদ (‌কনসেলহো নাশিওনাল দে সেগিউরানসা আলিমেন্তার ই নিউত্রিশিওনাল;‌ কনসিয়া), যা ছিল খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে আলাপ–আলোচনার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একত্রিত সামাজিক অংশগ্রহণের জায়গা। ‌

যে সব পদক্ষেপ করা প্রয়োজন

দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সূচকগুলোকে আগের জায়গায় নিয়ে আসার জন্য আবার আয় পুনর্বণ্টনের নীতিগুলোকে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন, এবং তার পাশাপাশি ফেরানো প্রয়োজন সামাজিক সুরক্ষা নীতি, পরিবার ও কৃষকদের সমর্থনের বিশেষ কর্মসূচি, এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিগুলোকে। অতীতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে সফল ভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছিল, এবং সেই সময় যা যা করা হয়েছিল আবারও সমস্যার মোকাবিলায় সেই পথই অনুসরণ করতে হবে। তবে ইতিমধ্যে এই সমস্যা মোকাবিলায় যে সব নতুন পথ তৈরি হয়েছে ও উদ্ভাবন ঘটেছে, সেগুলোও নতুন পরিপ্রেক্ষিতে কাজে লাগাতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন সংগঠিত নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা। অতীতে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য সরকারি নীতি প্রণয়নে এই আলাপ–আলোচনাই মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল। অতিমারির পরিপ্রেক্ষিতে সংহতিমূলক সক্রিয়তা ও ক্ষুধার সমস্যা মোকাবিলায় সেই ধরনের আলাপ–আলোচনা অত্যন্ত আবশ্যক।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Eryka Galindo

Eryka Galindo

Eryka Galindo is a PhD Researcher of the Junior Research Group Food for Justice: Power Politics and Food Inequalities in a Bioeconomy (LAI FU Berlin) ...

Read More +
Marco Antonio Teixeira

Marco Antonio Teixeira

Marco Antonio Teixeira is a Postdoctoral Researcher at the Institute for Latin American Studies (LAI) at the Freie Universitt Berlin (FU Berlin) and scientific coordinator ...

Read More +
Renata Motta

Renata Motta

Renata Motta is a Junior Professor of Sociology at the LAI at the FU Berlin Germany and project leader of the Junior Research Group Food ...

Read More +