Author : Kabir Taneja

Published on Aug 01, 2023 Updated 0 Hours ago

আইএসআইএস কি তার পূর্ব-প্রতাপের ছায়া মাত্র, না এখনও এক উল্লেখযোগ্য শক্তি?

কী ভাবে উত্তর সিরিয়া ইসলামিক স্টেটের মূল ভরকেন্দ্রের জন্য একটি খাঁচায় পরিণত হয়েছে

দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান দাবি করেছিলেন যে, দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (মিলি ইস্তিহবারাত তেশিকিলাতি বা এমআইটি) উত্তর সিরিয়ায় একটি অভিযানে ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস, আইএসআইএল বা আরবিতে দায়েশ নামেও পরিচিত) সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী প্রধানকে হত্যা করেছে। তবে এরদোগানের এই দাবিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

আইএসআইএস-এর খলিফা আবু হুসেন আল-কুরেশি তাঁর পূর্বসূরি আবু হাসান আল-হাশিমি আল-কুরেশির জায়গায় ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে অভিষিক্ত হন। হাশিমি আল-কুরেশি উত্তর সিরিয়ায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে নিহত হন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে প্রাক-ভোরে হওয়া একটি অভিযানে হাশিমি আল-কুরেশির মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছিলেন। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎকালীন রাষ্ট্রপতিত্বের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইএসআইএসের প্রতিষ্ঠাতা খলিফা এবং এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকে নির্মূল করে। বাগদাদির অধীনে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী এক পর্যায়ে সিরিয়া এবং ইরাকের মধ্যবর্তী ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করত, যার আয়তন ছিল ব্রিটেনের স্থলভাগের চেয়েও বড়। নিহত বা জীবিত ধরা পড়ার আগেই তিন খলিফাই বিস্ফোরক ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন।

সিরিয়ায় আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক অতীতে অবিশ্বাস্য রকমের সাফল্যের মুখ দেখেছে। গোষ্ঠীটির স্ব-ঘোষিত ‘খিলাফত’-এর পতন - যা তার নিয়োগ এবং উগ্রপন্থার সবচেয়ে বড় উৎস ছিল - তার নেতৃত্বকে ইদলিব প্রদেশের মতো এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। এই অঞ্চলটি বিভিন্ন সরকারবিরোধী এবং পূর্বে আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস উভয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির নেতৃত্বে হায়াত তাহরির আল-শাম-এর (এইচটিএস) মতো ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর আধা-নিয়ন্ত্রণের অধীনে রয়েছে। আল-জোলানি পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন এবং সিরিয়ার এই  অংশগুলিতে একটি আধা-রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়েছে এবং আল-জোলানিকে ধরার জন্য ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছে। যে তিন খলিফা নিজেদের নাম প্রকাশ না করার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টায় সিরিয়া এবং তুরস্কের সীমান্তের মধ্যে চলাচল করছিলেন, তাঁরা সকলেই একে অপরের ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অভিযানে নিহত হন।

(চিত্র ১: ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের মধ্যে উত্তর সিরিয়ায় আইএসআইএস-এর তিন খলিফাকে হত্যাকারী অভিযানের সম্ভাব্য অবস্থান)

আইএসআইএস-এর মূল শ্রেণিবিন্যাসের উপর আরোপিত এই ভৌগোলিক সঙ্কোচনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুনর্কেন্দ্রিক এবং পুনর্নবীকৃত প্রচেষ্টার সম্মুখীন হয়েছে, যেটির মূল লক্ষ্য হল আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল পরিচালনা করা। ওয়াশিংটন মূলত শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করার কৌশলই বেছে নিতে শুরু করে, যেটির প্রধান লক্ষ্য ছিল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব এবং মতাদর্শীদের অপসারণ করে শ্রেণিবিন্যাসের কাঠামো ভেঙে ফেলার পাশাপাশি বৃহত্তর কৌশলগত ক্ষমতাকে ছোট পরিসরে স্থানান্তরিত করা এবং যোদ্ধা ও ক্যাডারদের মধ্যে একই ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। এগুলিকে ইরাকি সামরিক বাহিনী বা সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস-এর (এসডিএফ) মতো কুর্দি-নেতৃত্বাধীন অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলির মতো অংশীদারদের দ্বারা সরেজমিনে স্থানীয় ভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে পরিচালনা করা যেতে পারে।

আইএসআইএস-এর মূল শ্রেণিবিন্যাসের উপর আরোপিত এই ভৌগোলিক সঙ্কোচনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুনর্কেন্দ্রিক এবং পুনর্নবীকৃত প্রচেষ্টার সম্মুখীন হয়েছে, যেটির মূল লক্ষ্য হল আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল পরিচালনা করা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সন্ত্রাসবিরোধী চিন্তাভাবনার মূল ভিত্তি হিসাবে ড্রোন হামলার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে সরে এসেছে। বাগদাদি এবং হাশিমি আল-কুরেশিকে হত্যা করার জন্য উভয় অভিযানের নেতৃত্বে বিশেষ অপারেশন সৈন্যরা কম্পাউন্ডে নেমে একটি প্রচলিত অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানগুলির বাইরে অন্য অভিযানগুলিও কয়েক মাস ধরে পূর্ব সিরিয়ায় প্রসারিত হয়েছে, যেখানে ড্রোন ব্যবহার করে হত্যা করার পরিবর্তে আইএসআইএস অপারেটরদের অপহরণ করা হয়। এই পদ্ধতিটি স্থলভাগে আমেরিকান সৈন্যদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়, বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা হ্রাস করে। এটি এমন একটি সমস্যা যা সিরিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলিকে গত দুই দশক ধরে বারবার জর্জরিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

একটি গোষ্ঠী হিসাবে আইএসআইএস বর্তমানে বহুখণ্ডিত হলেও, হুমকির ঝুঁকি কিন্তু আজও অব্যাহত। পন্থাগত এবং কৌশলগত ভাবে আইএসআইএস তার পূর্ব-প্রতাপের এক ছায়া মাত্র হলেও আদর্শগত ভাবে এটি এখনও এক উল্লেখযোগ্য শক্তি।

একটি গোষ্ঠী হিসাবে আইএসআইএস বর্তমানে বহুখণ্ডিত হলেও, হুমকির ঝুঁকি কিন্তু আজও অব্যাহত। জনসম্মুখে আবু হুসেন আল-কুরেশি সম্পর্কে খুব বেশি সম্যক ধারণা ছিল না এবং তাঁর উত্তরসূরি - যখনই গোষ্ঠীটি নতুন কারও নাম ঘোষণা করবে - একজন মধ্য-স্তরের কর্মী হিসেবেই থাকবেন, যাঁকে গোষ্ঠীর আদর্শগত শাসনভার গ্রহণ করতে বাধ্য করা হতে পারে। খলিফা নির্বাচনের জন্য একটি দীর্ঘ চেকলিস্ট (প্রয়োজনীয় গুণাবলিসম্পন্ন তালিকা) রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে যে, ক্রমবিন্যাসে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা এমনটা করতে পারেন, যেমনটা বাগদাদি ২০১৪ সালের ইরাকের মসুলের আল-নুরি মসজিদ থেকে খিলাফত ঘোষণার বছরগুলিতে করেছিলেন। পন্থাগত এবং কৌশলগত ভাবে আইএসআইএস তার পূর্ব-প্রতাপের এক ছায়া মাত্র হলেও আদর্শগত ভাবে এটি এখনও এক উল্লেখযোগ্য শক্তি। আইএসআইএসপন্থী প্রোপাগান্ডার অনলাইনে ব্যাপক প্রচলন রয়েছে এবং অন্যান্য কিছু গোষ্ঠী আফ্রিকার কিছু অংশ এবং আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি) তাদের ব্র্যান্ড ইক্যুইটির জন্য আইএসআইএস-কে ব্যবহার করে মনোযোগ, নিয়োগ এবং অর্থায়ন সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় অভ্যুত্থান এবং সন্ত্রাসবাদী বাস্তুতন্ত্র অব্যাহত রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি, ভূ-রাজনৈতিক বিচ্যুতিগুলিও আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে, যা তার শ্রেণিবিন্যাসকে আক্রমণ করার লক্ষ্যমাত্রার ঊর্ধ্বে উঠেও কাজ করছে। এক দিকে সিরিয়ায় সীমিত সামরিক উপস্থিতির দরুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্থলভাগে সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য এসডিএফ-এর উপর নির্ভর করে, অন্য দিকে তুর্কিয়ে কুর্দপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে তার নিজস্ব নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলির জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে করে এবং যারা এসডিএফ-কে উত্তর সিরিয়া থেকে প্রত্যর্পণ করা অন্যথায় সামরিক পদক্ষেপের সম্মুখীন হওয়ার হুমকি দিয়েছে। সিরিয়া এবং ইরাক উভয় দেশ জুড়েই বন্দী কেন্দ্রে ৩০,০০০-এরও বেশি আইএসআইএস নেতা এবং যোদ্ধা রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই বিদেশি। সিরিয়ায় অধিকাংশকেই সীমিত সংস্থানসম্পন্ন এসডিএফ দ্বারা পরিচালিত অস্থায়ী কারাগারে রাখা হয়েছে। অন্য দিকে সিরিয়া-ইরাক সীমান্তের কাছে আল-হোলের মতো শিবিরগুলিতে হাজার হাজার নারী ও শিশু রয়েছেন, যাঁরা এক সময়ে খেলাফতের অংশ ছিলেন। বিদেশি শক্তিগুলি এই মানুষদের দেশে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ধীর পদক্ষেপ নিয়েছে বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা তাঁদের রাষ্ট্রহীন করে তুলেছে।

২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আইএসআইএস যোদ্ধারা তাদের কমরেডদের মুক্ত করার জন্য উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার হাসাকাহ শহরের একটি কারাগারে আক্রমণ চালায়। এর ফলে শতাধিক মানুষ পালিয়ে গিয়েছেন বলে জানা যায় এবং ৫০০ জনেরও বেশি নিহত হন, যার মধ্যে এসডিএফ বাহিনীও রয়েছে, যাঁরা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। এসডিএফ আরও এক বার তার সামান্য সংস্থানের বিপদশঙ্কা ঘোষণা করেছে, যেগুলি হাজার হাজার আইএসআইএস-পন্থী বন্দীকে আটক করে রেখেছিল। তারা জানিয়েছে, সম্পদ সংক্রান্ত স্থায়ী সমাধান না পাওয়া গেলে অনেক বন্দিকেই ছেড়ে দিতে হবে। এই সমস্যা গোষ্ঠীটির নেতাদের হত্যাকারী শিরোনাম আকর্ষণীয় কার্যকলাপের তুলনায় সীমিত সমাধান-সহ নানাবিধ বৃহত্তর সঙ্কটের উপরেই আলোকপাত করেছে।


কবীর তানেজা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.