Published on Jan 03, 2024 Updated 0 Hours ago

ভারতের বৈদেশিক কর্মসূ্চির উন্নয়ন প্রভাব পরিমাপ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বাস্তবের মাটিতে বিতরণ করার ক্ষমতা উন্নত করতে এবং অর্থের মূল্য সর্বাধিক করতে সহায়তা করতে পারে

বিদেশে ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রভাব

ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব কর্মসূচি তার স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ইতিহাসের মতোই পুরনো। ভারত সরকার স্বাধীনতার পরপরই ১৯৪৯ সালে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলির ছাত্রদের জন্য ৭০টি বৃত্তি ঘোষণা করেছিল এবং ১৯৬৪ সালে এর ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকনমিক কোঅপারেশন (আইটিইসি) প্রোগ্রাম চালু হয়েছিল। দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়নে প্রচলিত কথোপকথনকে চ্যালেঞ্জ করার একটি দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যও রয়েছে। দারিদ্র্য ও অনুন্নয়নের উচ্চ হার সহ একটি সদ্যস্বাধীন দেশ হিসাবে ভারত উপনিবেশবাদের জোয়াল থেকে বেরিয়ে আসা অন্য এশীয় ও আফ্রিকান দেশগুলির সামনের চ্যালেঞ্জগুলি বুঝতে পেরেছিল, এবং ঔপনিবেশিকতার বিরোধ ও তৃতীয় বিশ্বের সংহতির চেতনায় অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গে তার নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ভাগ করার চেষ্টা করেছিল। প্রারম্ভিক বছরগুলিতে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার আদর্শগত নীতিগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ আন্তর্জাতিক সাহায্যের স্থাপত্যে পশ্চিমের আধিপত্য ছিল, এবং পশ্চিমী সাহায্য প্রায়শই উন্নয়নশীল দেশগুলিকে পশ্চিমের উপর নির্ভরশীল করে তুলত। তাৎপর্য থাকা সত্ত্বেও, ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী কম মনোযোগ আকর্ষণ করে কারণ ভারত নিজেই ১৯৯০–এর দশকের শুরু পর্যন্ত একটি বড় সাহায্য গ্রহীতা ছিল।


প্রারম্ভিক বছরগুলিতে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার আদর্শগত নীতিগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ আন্তর্জাতিক সাহায্যের স্থাপত্যে পশ্চিমের আধিপত্য ছিল, এবং পশ্চিমী সাহায্য প্রায়শই উন্নয়নশীল দেশগুলিকে পশ্চিমের উপর নির্ভরশীল করে তুলত।



তারপর থেকে বিষয়গুলি মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং বিশ্বনেতা হিসেবে উঠে আসার ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষায় সওয়ার হয়ে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি ২০০০–এর দশক থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন চিত্রে দেখানো হয়েছে,
ভারতের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাজেট ২০০৬–৭ সালের ১৫.১ বিলিয়ন ভারতীয় রুপি থেকে ২০২১–২২ সালে ৫৪.৭ বিলিয়ন ভারতীয় রুপি হয়েছে, অর্থাৎ ৯ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে রাস্তা ও রেলপথের মতো উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করার জন্য ভারত ২০০৩ সালে ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (পরে নাম পরিবর্তন করে ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইকনমিক অ্যাসিসট্যান্স স্কিম) চালু করে। এখনও অবধি ভারত এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ৩৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের US$ 34.4 billion   পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি সমর্থন করার রেয়াতি ঋণ দিয়েছে। রানি মুলেনের মতো পণ্ডিতদের মতে, ক্রয় ক্ষমতার নিরিখে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা বাজেট কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মতো বেশ কয়েকটি ওইসিডি দেশের চেয়ে বেশি। অন্য কথায়, ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি এখন বেশ কয়েকটি উচ্চ আয়ের দেশের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে তুলনীয়।

চিত্র ১: ২০০৬–০৭ থেকে ২০২১–২২–এ ভারতের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বাজেট (২০১১ স্থির মূল্যে বিলিয়ন ভারতীয় রুপিতে)

সূত্র:
চক্রবর্তী (২০২২)

দ্রষ্টব্য: বাজেট হিসাবকে স্থির ২০১১–১২ মূল্যে রূপান্তর করতে পাইকারি মূল্য নির্দেশক ডিফ্লেটার ব্যবহার করা হয়েছে। [/ক্যাপশন]

ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির দুটি বৈশিষ্ট উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। প্রথমত, পারস্পরিক সুবিধা এবং চাহিদাচালিত উন্নয়নের নীতি। ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি ওইসিডি–র দাতা–প্রাপক মডেলের মতো নয়। ওইসিডি– ডিএসি দেশগুলির বিপরীতে ভারত নিজেকে ‘‌উন্নয়ন অংশীদার’‌ বলে থাকে, এবং এর লক্ষ্য পারস্পরিক সুবিধা। ভারত দাতানির্ধারিত কর্মসূচির পরিবর্তে চাহিদাচালিত উন্নয়নের উপর জোর দেয়, কারণ দেশটি তার অংশীদারদের অগ্রাধিকারের সঙ্গে নিজের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচিকে সারিবদ্ধ করতে চায়। দ্বিতীয়ত, উন্নয়নশীল বিশ্বে কম খরচে উন্নয়ন সমাধান প্রদান করার ক্ষমতা। কনসালটেন্সি ফি ও প্রশাসনিক খরচ (কখনও কখনও ১০ শতাংশ পর্যন্ত) পশ্চিমী সাহায্যের একটি উচ্চ অনুপাত তৈরি করে।
কিশোর মাহবুবানীর মতো বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ যুক্তি দেন যে, পশ্চিমী সাহায্যের একটি বড় অংশ পশ্চিমী দেশগুলিতে পুনর্ব্যবহৃত হয়। যাই হোক, পশ্চিমী প্রতিপক্ষের বিপরীতে ভারতের প্রশাসনিক ব্যয় অনেক কম, এবং দেশটি প্রকল্পগুলির জন্য ব্যয়বহুল পরামর্শদাতা নিয়োগ করে না। তাই এটি উন্নত দেশগুলির ব্যয়ের একটি ভগ্নাংশে তার প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।

সম্প্রতি, ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডক্টর এস জয়শঙ্কর বলেছেন যে গ্লোবাল সাউথ ভারতকে এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকর উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে দেখে যে বাস্তবের মাটিতে শক্তিশালী সরবরাহ দিয়ে থাকে। যদিও ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি, প্রকৃতপক্ষে, গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর উন্নয়ন অংশীদারিত্ব কর্মসূচির বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য এটিকে আলাদা করে তুলেছে, বিদেশে ভারতের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রভাব নিয়ে খুব কম গবেষণা রয়েছে। পারস্পরিক সুবিধা ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির একটি বিবৃত উদ্দেশ্য, কিন্তু আমাদের কাছে কিছু প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই;‌ যেমন: ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কি অংশীদার দেশগুলিকে উপকৃত করেছে? কী পরিমাণে করছে? অংশীদার দেশগুলিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, দক্ষতা এবং মানব উন্নয়নে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার প্রকৃত প্রভাব কী?


ভারত দাতানির্ধারিত কর্মসূচির পরিবর্তে চাহিদাচালিত উন্নয়নের উপর জোর দেয়, কারণ দেশটি তার অংশীদারদের অগ্রাধিকারের সঙ্গে নিজের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচিকে সারিবদ্ধ করতে চায়। দ্বিতীয়ত, উন্নয়নশীল বিশ্বে কম খরচে উন্নয়ন সমাধান প্রদান করার ক্ষমতা। 



ভারত সরকার বিদেশে ভারতের উন্নয়ন ব্যয়ের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রচেষ্টা করেনি। ভারত উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে পশ্চিমী কথোপকথনকে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে। এখন এটি নিশ্চিত করতে হবে যে বিদেশে এর উন্নয়ন প্রকল্পগুলি যেন মানুষের জীবনে প্রকৃত প্রভাব ফেলে। বিদেশে ভারতীয় উন্নয়ন উদ্যোগের প্রভাব সম্পর্কে সরকারি রিপোর্টের অভাব রয়েছে, এবং পদ্ধতিগত অধ্যয়নের জন্য খুব কম তথ্য পাওয়া যায়। আইটিইসি–র মতো ভারতীয় সক্ষমতা–নির্মাণ উদ্যোগের প্রভাব সম্পর্কে, যা প্রায় ৬০ বছর ধরে চালু রয়েছে, প্রকাশ্য পরিসরে কোনও পদ্ধতিগত অধ্যয়ন নেই। একইভাবে, ভারত যখন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৩৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রেয়াতি অর্থ দিয়েছে, সেখানে ঋণ–কর্মসূচিগুলির উন্নয়ন প্রভাবগুলির উপর গবেষণা সীমিত৷ ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার উপর গবেষণা ভারতে একটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, কারণ শুধুমাত্র কিছু পণ্ডিত ও প্রতিষ্ঠান ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন। দেশটিকে অন্যান্য দেশে তার ক্রিয়াকলাপের প্রভাব পরিমাপের জন্য সংস্থান বিনিয়োগ করতে হবে। এর বৈদেশিক কর্মসূ্চিগুলির উন্নয়ন প্রভাব পরিমাপ করা হলে তা বাস্তবের মাটিতে সরবরাহ করার ক্ষমতা উন্নত করবে, এর উদ্যোগের শক্তি এবং দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করবে এবং অর্থের মূল্য সর্বাধিক করবে। উন্নয়ন কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার নিজস্ব ক্ষমতা বিকাশ না–করায় ভারত শুধু পশ্চিমী পণ্ডিত ও প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা বিচার করার ঝুঁকির মধ্যে থাকে, যাঁরা বিদেশে ভারতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির উপর ক্রমবর্ধমান সমীক্ষাভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করছেন।



মালঞ্চ চক্রবর্তী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং ডেপুটি ডিরেক্টর (গবেষণা)

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.