Published on Dec 13, 2023 Updated 0 Hours ago

অতীতের বোঝার ভারে ন্যুব্জ না হয়ে কপ২৮-কে অবশ্যই গ্লোবাল সাউথের উপর মনোনিবেশকারী কর্মসূচি-সহ একটি লক্ষ্যযুক্ত ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ হিসাবে কাজ করতে হবে।

গ্লোবাল সাউথের ক্ষমতায়ন: কপ২৮-কে সক্রিয় করে তোলার আহ্বান

 ২০২৩ সালে ক্যালেন্ডার বর্ষের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যেই গড় আন্তর্জাতিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প স্তরের অন্তত ১.৫ ডিগ্রি ছাপিয়ে গিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। মানব-প্ররোচিত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলি বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিধ্বংসী বন্যা এবং বিশ্বব্যাপী প্রচণ্ড তাপ ও শৈত্যপ্রবাহের সাক্ষী হিসাবে মানব অস্তিত্বের জন্য প্রধান হুমকির মধ্যে বিদ্যমান। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর (আইপিসিসি) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে প্যারিস চুক্তিতে সম্মত মাত্রায় আন্তর্জাতিক উষ্ণতাকে সীমিত করার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। বর্তমান নীতিগুলি সংস্কারকৃত ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন বা জাতীয় স্তরে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) স্বরূপ ২.৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির দিকেই নির্দেশ করে, যেহেতু কপ২৬ শুধুমাত্র ২০৩০ সালের নিঃসরণের পূর্বাভাসের নিরিখে একটি নগণ্য পার্থক্য দেখিয়েছে

আন্তর্জাতিক বিশ্ব দুবাইতে ২৮তম কনফারেন্স অফ পার্টিজ-এর (কপ২৮) আয়োজন করার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যমান জলবায়ু প্রশাসনিক কাঠামোর উদ্দেশ্যগুলিকে বাস্তব, প্রভাবশালী কর্মে রূপায়িত করার ক্ষমতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসছে। তবে এ কথাও সুস্পষ্ট যে, পুনর্নবীকরণ বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ছাড়া কার্যকর জলবায়ু ব্যবস্থা এক প্রকার অসম্ভব হবে।

কপ২৮ অবশ্যই একটি মঞ্চ হিসাবে কাজ করবে, যাতে সহযোগিতার জন্য নতুন পথ চিহ্নিত করা যায় এবং যা বিশ্বকে প্যারিস লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে  পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন, থিঙ্ক২০ ইন্ডিয়া, থিঙ্ক২৮ এবং এমিরেটস পলিসি সেন্টার দ্বারা আয়োজিত একটি সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে কপ২৮-এর প্রেসিডেন্ট ডঃ সুলতান আল-জাবের উল্লেখ করেছেন যে, ‘২০৩০ সালের মধ্যে ২২ গিগাটন কার্বন নিঃসরণ দূর করার পথ চিহ্নিত করাই (বিশ্ব উষ্ণায়নকে ১.৫ ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ করা জরুরি) হল কপ২৮-এর প্রাথমিক লক্ষ্য। একে অপরকে দোষারোপ করার পরিবর্তে আমাদের এখন বিভিন্ন অংশীদারদের নানাবিধ প্রচেষ্টাকে সমন্বিত ও একত্রিত করে ২২ গিগাটন নিঃসরণের বিরুদ্ধে লড়াই করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।

কপ২৮ কার্যকর হওয়ার জন্য জলবায়ু কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে একটি নতুন আখ্যান নির্মাণের উপর মনোনিবেশ করতে হবে, যেখানে গ্লোবাল সাউথকে অবশ্যই ভাবনাচিন্তার কেন্দ্রে রাখা জরুরিএটি দুটি প্রধান কারণের দরুন অপরিহার্য। প্রথমত, গ্লোবাল সাউথ ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব বহন করছে ও বিদ্যমান বৈষম্যকে বহু গুণে বৃদ্ধি করছে। নানাবিধ অনুমানে বলা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনবিহীন বিশ্বের তুলনায় বিশ্বের ধনী এবং দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক উৎপাদনের ব্যবধান ২৫ শতাংশের মতো হতে পারে। এসডিজি অর্জন করা বর্তমানে এই সকল অর্থনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের স্থিতিস্থাপকতা তৈরির ক্ষমতার উপর গুরুত্বপূর্ণ ভাবে নির্ভরশীল

দ্বিতীয়ত, উন্নত বিশ্ব চিরাচরিত জ্বালানি সম্পর্কিত নিঃসরণে প্রধান অবদানকারী হলেও ভবিষ্যতে নিঃসরণ ব্যবস্থা উন্নয়নশীল বিশ্বেই কেন্দ্রীভূত হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০৪০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদার ৯০ শতাংশ উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকেই আসবে। জ্বালানির অভাব দূর করতে এবং এসডিজির অর্জন সুনিশ্চিত করতে এই বৃদ্ধি অপরিহার্য। সৌভাগ্যবশত, এই দেশগুলিতে জ্বালানির অনেক অবকাঠামোই এখনও নির্মিত হয়নি। মূলত, একটি সফল গ্লোবাল এনার্জি ট্রানজিশন বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি রূপান্তর কম কার্বন জ্বালানির অবকাঠামো তৈরি করার জন্য সঠিক সংস্থান প্রদান করার মাধ্যমে এই দেশগুলির উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে জ্বালানির রূপান্তরকে সংযুক্ত করার উপর নির্ভর করবে, যা আখেরে জ্বালানির লভ্যতা এবং ক্রয়ক্ষমতাকেও উন্নত করবে

চিরাচরিত ভাবে ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর (ইউএনএফসিসিসি) সমঝোতা গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে জলবায়ু কর্মসূচির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। উন্নত বিশ্ব বারংবার নিঃসরণ হ্রাস লক্ষ্যমাত্রা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা থেকে সরে এসেছে, যা প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত কমন বাট ডিফারেনশিয়েটেড রেসপনসিবিলিটিজ’ বা অভিন্ন সাধারণ অথচ পৃথগীকৃত দায়িত্বশীলনীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করেএর ফলস্বরূপ, গ্লোবাল সাউথের কার্যকর জ্বালানি রূপান্তরের জন্য সক্ষম পরিবেশ তৈরিতে মনোনিবেশ করার পরিবর্তে, উপলব্ধ কার্বন পরিসরের সুষম বণ্টন নিয়ে আলোচনা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় বিতর্কিত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি, গ্লোবাল সাউথকে জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি প্রদানে ব্যর্থতার কারণে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে আস্থা আরও হ্রাস পেয়েছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল ২০২০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল বিশ্বকে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা।

তাই কপ২৮-কে অবশ্যই একটি নতুন আখ্যান তৈরি করে বহুপাক্ষিক জলবায়ু সহযোগিতাকে পুনরুজ্জীবিত করার এমন একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে, যা গ্লোবাল নর্থ ও সাউথের মধ্যেকার বিশ্বাস পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারে। সৌভাগ্যবশত, এই বছরের সিওপি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে জলবায়ু উদ্যোগে গতির সঞ্চার ঘটেছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, নয়াদিল্লি লিডারসডিক্লেয়ারেশনে দূষণহীন উন্নয়ন চুক্তি বা গ্রিন ডেভেলপমেন্ট প্যাক্টের অন্তর্ভুক্তি গ্লোবাল সাউথের স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে জলবায়ু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত আখ্যান তুলে ধরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ বিষয়ে জি২০-র ঐকমত্য কপ২৮ এবং ইউএনএফসিসিসি-র জন্য অতীতের পক্ষপাত দূর করতে এবং ন্যায়সঙ্গত ও উচ্চাভিলাষী জলবায়ু পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলিকে চিহ্নিত করা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি চমৎকার সূচনাবিন্দু।

এই প্রসঙ্গে থিঙ্ক২০ ইন্ডিয়া, অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং থিঙ্ক২৮ কপ২৮-এর নেতৃত্বে আবু ধাবিতে জি২০ টু কপ২৮: এনার্জি, ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রোথশীর্ষক একটি আলাপ-আলোচনার আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানটিতে ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের পরিকাঠামোর মধ্যে গ্লোবাল সাউথের উপর জোর দেওয়া এবং কপ২৮ কর্মসূচিকে সেটিতে সমন্বিত করার জন্য ৬৩টি দেশের ১০০ জনেরও বেশি নেতাকে সহযোগিতামূলকভাবে কার্যকরী কৌশলগুলি বোঝার জন্য আহ্বান করা হয়েছিলপরবর্তী বিভাগে এই আলোচনা থেকে উদ্ভূত কর্মসূচির প্রতি আহ্বান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হল।

আন্তর্জাতিক বিশ্ব দুবাইতে ২৮তম কনফারেন্স অফ পার্টিজ-এর (কপ২৮) আয়োজন করার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যমান জলবায়ু প্রশাসনিক কাঠামোর উদ্দেশ্যগুলিকে বাস্তব, প্রভাবশালী কর্মে রূপায়িত করার ক্ষমতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসছে। তবে এ কথাও সুস্পষ্ট যে, পুনর্নবীকরণ বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ছাড়া কার্যকর জলবায়ু ব্যবস্থা এক প্রকার অসম্ভব হবে।

সক্রিয়তার জন্য আহ্বান

প্রাক-কপ আলাপ-আলোচনার সমাপ্তি ঘটে এমন একটি লক্ষ্যে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কর্মসূচির জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টাকে টিকিয়ে রাখতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সকলের জন্য জ্বালানি সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা; সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে জলবায়ু কার্যকলাপকে সংযুক্ত করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা এবং এ কথা সুনিশ্চিত করা যে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং লিঙ্গ সমতার অগ্রগতিগুলি জলবায়ুগত বাধাগুলির জন্য স্থিতিস্থাপক আমাদের পরিবেশগত আকাঙ্ক্ষাগুলি উপলব্ধি করতে একই সঙ্গে জলবায়ু এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে এবং গ্লোবাল ক্লাইমেট ফিন্যান্স পুনর্গঠন এবং পুনর্বিন্যাস করার প্রয়োজন রয়েছে

লক্ষ্য ১: সকলের জন্য জ্বালানির সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে পারে এমন একটি ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি স্থানান্তর পথকে কেন্দ্র করে ঐকমত্য গড়ে তোলা

Ø উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য তার উন্নয়নমূলক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত কার্বন পরিসর শূন্য করার লক্ষ্যে গ্লোবাল নর্থে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দূরে স্থানান্তরকে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজন রয়েছে বিশেষ করে সমস্ত ইউএনএফসিসিসি পক্ষগুলিকে ২০৩০ সালের মধ্যে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ক্ষমতা তিনগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবেএটি  এমন একটি লক্ষ্য, যা সর্বসম্মত ভাবে নয়াদিল্লি লিডারসডিক্লেয়ারেশনে জি২০ নেতাদের দ্বারা সমর্থিত হয়েছে।

Ø প্রথম গ্লোবাল স্টকটেক-কে (জিএসটি) জলবায়ু কর্মসূচিতে বিদ্যমান ফাঁকগুলি চিহ্নিত করার সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করা উচিত, যা দেশগুলির কর্মক্ষমতা এবং তাদের চিরাচরিত নিঃসরণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করে। জলবায়ু কর্মসূচিতে পিছিয়ে থাকা দেশগুলিকে তাদের ভবিষ্যৎ প্রশমনের প্রচেষ্টা বাড়াতে বাধ্য করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি, জিএসটি-কে অবশ্যই সম্ভাব্য নিঃসরণের পথ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে, যা গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নমূলক প্রয়োজনীয়তাগুলিকে যথাযথ ভাবে বিবেচনা করে।

Ø এই ধরনের একটি রূপান্তরকে সক্ষম করার জন্য একটি ন্যায্য রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সংজ্ঞার পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি এমন একটি নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন, যেটি শুধুমাত্র কয়লা ক্ষেত্রের বাইরে প্রসারিত একটি বৃহত্তর অর্থনীতি-বিস্তৃত কৌশলকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা উন্নত বিশ্বকে জ্বালানি রূপান্তরের অর্থনৈতিক সুবিধা সর্বাধিক করে তোলার সুযোগ করে দেয়।

লক্ষ্য ২: জলবায়ু-স্বাস্থ্য-লিঙ্গ সম্পর্ককে মূলধারার জলবায়ু প্রশাসনে সমন্বিত করা

Ø এসডিজি কর্মসূচি ও জলবায়ু কর্মসূচির সমন্বয় সাধন জলবায়ু পরিবর্তনের ত্বরান্বিত প্রভাবগুলির জন্য গ্লোবাল সাউথের স্থিতিস্থাপকতা তৈরির উপর নির্ভর করবে। জলবায়ু-স্বাস্থ্য-লিঙ্গ সম্পর্ককে সমন্বিত ভাবে মোকাবিলা করাই এই কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে। জলবায়ু, স্বাস্থ্য এবং লিঙ্গের ভূমিকাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। ইউএনএফসিসিসি-র সমস্ত পক্ষকে অবশ্যই এমন একটি ঘোষণা অনুমোদন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, যা কাঠামোর প্রতিষ্ঠা করে এবং জলবায়ু ও স্বাস্থ্যকে আন্তঃসংযুক্ত চ্যালেঞ্জ হিসাবে মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

Ø জি২০ ডেটা গ্যাপ ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে করা অগ্রগতিগুলিকে, বিশেষত জলবায়ু, স্বাস্থ্য এবং লিঙ্গ পরিসরে সংযোগমূলক তথ্যের ব্যবধান পূরণ করার ক্ষেত্রে কপ২৮-এর প্রচেষ্টাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এই পদ্ধতির লক্ষ্য হল নীতি উন্নয়ন, জলবায়ু নীতি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রভাব মূল্যায়নকে সূক্ষ্মতর করা এবং সময় মতো হস্তক্ষেপের জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পরিচালনা করা।

Ø দক্ষতা-নির্মাণের উদ্যোগগুলি বাস্তবায়ন করা জরুরি, যা জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতায় নারীদের চিরাচরিত জ্ঞানকে কাজে লাগায়, নেতৃত্বের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলিতে তাঁদের অংশগ্রহণের উপর জোর দেয়।

লক্ষ্য ৩: গ্লোবাল নর্থ এবং গ্লোবাল সাউথের মধ্যে জলবায়ু প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করা

Ø গ্লোবাল নর্থ থেকে গ্লোবাল সাউথে বিদ্যমান স্থিতিশীল প্রযুক্তির প্রবাহকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্লোবাল সাউথে এই ধরনের প্রযুক্তির লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণের হার-সহ সহজলভ্যতার জন্য জলবায়ু প্রযুক্তি অংশীদারিত্বগ্রহণ করা দরকার।

Ø গ্লোবাল সাউথের অভ্যন্তরীণ জলবায়ু প্রযুক্তি বাস্তুতন্ত্রে বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনকে উত্সাহিত করতে ইনোভেট ফর ক্লাইমেট টেক কোয়ালিশন’-এর মধ্যে একটি দক্ষ ও ন্যায্য অর্থায়ন মডেল পরিকল্পনা ও সক্রিয় করা দরকার।

Ø বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে তাদের বিস্তার সুনিশ্চিত করার জন্য দূষণহীন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ইতিবাচক বাহ্যিকতাগুলির নিরিখে একটি ব্যাপক প্রণোদনামূলক কাঠামো তৈরি করা জরুরি

লক্ষ্য ৪: জলবায়ু অর্থ সংলাপ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়নে স্থানান্তর করা

Ø জি২০ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মাল্টিল্যাটেরাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বা বহুপাক্ষিক উন্নয়নমূলক ব্যাঙ্কগুলির সংস্কারের পদ্ধতিতে গতি আনা দরকার। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য জলবায়ু পদক্ষেপকে একটি সুস্পষ্ট প্রবিধান হয়ে উঠতে হবে। এমডিবি-র ঋণ দেওয়ার ধরনগুলিকেও গ্লোবাল সাউথের ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের উপর মনোনিবেশ করার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হতে হবে এবং এর প্রধান লক্ষ্য হবে উচ্চ সম্ভাবনাময় দূষণহীন জ্বালানি ক্ষেত্রগুলিতে ব্যক্তিগত পুঁজি প্রবাহ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নের ব্যবধানগুলির মাঝে সেতু রচনা করা।

Ø ২০২৪ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে একটি নতুন কোয়ান্টিফায়েড গোল বা পরিমাপকৃত লক্ষ্য গ্রহণের পথ প্রশস্ত করা দরকার। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, আলোচনাটিকে বর্তমানে প্রাথমিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিশ্রুতির ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলির জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের জন্য বছরে ২-৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। নতুন লক্ষ্যমাত্রায় এটি অন্তর্ভুক্ত হবে এবং বিলিয়ন মাত্রার লেনদেন থেকে ট্রিলিয়নের সুবিশাল মাত্রাকে মোকাবিলার করার নিরিখে আলোচনায় একটি দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে

Ø ২০২৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলিকে সমর্থন করার লক্ষ্যে উন্নত দেশগুলি থেকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক অবদানের নিরিখে ক্ষয় ও ক্ষতির তহবিল বা লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড ব্যবস্থা চালু করা দরকার।

উপসংহার

এই নিবন্ধে উল্লিখিত কৌশলগুলি নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিগুলি বড় আকার ধারণ করেছে এবং তা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে। ভারতীয় জি২০ সভাপতিত্ব দেখিয়েছে যে, অস্থির সময়েও ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব। এটিও অপরিহার্য যে, কপ২৮ একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ হিসাবে কাজ করে এবং অতীতের বোঝা দ্বারা ন্যুব্জ না হয়ে পড়ে। এটি গ্লোবাল সাউথের উপর মনোনিবেশকারী কর্মসূচি-সহ একটি লক্ষ্যবিশিষ্ট ঐকমত্য তৈরির জন্য ভাল সূচনাবিন্দু প্রদান করে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু প্রশাসন ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একটি সক্রিয় কপ২৮-এর বাস্তবায়ন বর্তমানে অপরিহার্য।

 


প্রমিত মুখার্জি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

দেবস্মিতা সরকার অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির জুনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Promit Mookherjee

Promit Mookherjee

Promit Mookherjee is an Associate Fellow at the Centre for Economy and Growth in Delhi. His primary research interests include sustainable mobility, techno-economics of low ...

Read More +
Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar is a Junior Fellow with the Sustainable Development and Inclusive Growth Programme, Centre for New Economic Diplomacy at Observer Research Foundation. Her research ...

Read More +