Published on Oct 30, 2021 Updated 0 Hours ago

সব উন্নয়নশীল দেশই বিরাট ঋণের বোঝা বইছে, এবং অবস্থা আরও করুণ হয়েছে কোভিড–১৯–এর কারণে। ২০২০ সালে অনেক দেশ তাদের সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

অভিযোজনের অর্থসংস্থান, কম আয়ের দেশগুলি ও জি২০

সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে কম আয়ের দেশগুলি (‌এলআইসি)‌ তিন ধরনের দুর্দশার সম্মুখীন:‌ জলবায়ু সঙ্কট, দুর্বহ ঋণের বোঝা, ও কোভিড–১৯ অতিমারি। প্রথম বিপদটি সম্পর্কে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (‌আইপিসিসি)‌–এর ওয়ার্কিং গ্রুপ–১ যে ভয়াবহ সতর্কতা জারি করেছে তা হল জলবায়ু সঙ্কট লাগামছাড়া হতে চলেছে, এবং এক জরুরি সমস্যা মোকাবিলার মনোভাব নিয়ে সম্মিলিত ভাবে এর সম্মুখীন হতে হবে। সব উন্নয়নশীল দেশই বিরাট ঋণের বোঝা বইছে, এবং অবস্থা আরও করুণ হয়েছে কোভিড–১৯–এর কারণে। ২০২০ সালে অনেক দেশ তাদের সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। ইউএনডিপি ৭২টি দেশকে চিহ্নিত করেছে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে দুর্বল হিসেবে, আর তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি সঙ্কটজনক।

খাদ্য নিরাপত্তা একটা বড় উদ্বেগের ক্ষেত্র, কারণ তা দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১৫ শতাংশ অবদান রাখে এবং ১৩০ কোটি মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা দেয়। এই সব বিষয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মিল রয়েছে।

এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কপ২৬–এর ঠিক আগে জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক বসছে। সেখানে এই সব বিষয়ই আসার কথা। উপযুক্ত কারণেই জলবায়ুগত ক্ষতি প্রশমনের বিষয়টি সদস্যদের কাছে, যাদের মধ্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলি আছে, সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। ভারতের অবস্থান অবশ্য এই গোষ্ঠীতে অনন্য — সে মোট জাতীয় আয়ের নিরিখে বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বিশিষ্ট, কিন্তু তার মাথাপিছু আয় জি২০–র উন্নয়নশীল সদস্যদের মধ্যে সব থেকে কম। অন্যদিকে শক্তি উৎপাদনের জন্য ভারত কয়লার উপর নির্ভরশীল হলেও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সে বিশ্বের নেতা হয়ে উঠতে চলেছে, এবং তার পরেই রয়েছে চিন।

বাংলাদেশের মতোই ভারত খুবই দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, কারণ তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের বেশ কয়েক শতাংশ ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপন্ন হতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা একটা বড় উদ্বেগের ক্ষেত্র, কারণ তা দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১৫ শতাংশ অবদান রাখে এবং ১৩০ কোটি মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা দেয়। এই সব বিষয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মিল রয়েছে।

গ্রিনহাউস গ্যাসের চতুর্থ বৃহত্তম নিঃসরণকারী হিসেবে (‌চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পরেই)‌ ভারতের উপর প্রশমনের জন্য বড়সড় ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ খুবই বেশি। তা হলেও ভারত এখনও তার নতুন লক্ষ্য (‌এনডিসি)‌ ঘোষণা করেনি। কিন্তু ভারতের জন্য অভিযোজনের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বিশেষ করে অভিযোজনের জন্য অর্থসংস্থান নিয়ে কপ২৬–এ বেশ চড়া সুরে বিতর্ক হবে। আমরা উল্লেখ করতে পারি ওইসিডি রিপোর্ট (‌২০২০)‌–এর, যাতে বলা হয়েছিল ২০১৮ সালে পরিবেশের জন্য ৭৮৯ কোটি মার্কিন ডলার তোলা হয়েছিল, আর তার মধ্যে ৬২০ কোটি ডলার এসেছে গণ–উৎস থেকে। কিন্তু অক্সফ্যাম রিপোর্ট (‌২০২০)‌ জানাল অর্থের পরিমাণ যা দাবি করা হয়েছে তার চার ভাগের এক ভাগেরও কম, এবং নিট অর্থের পরিমাণ ১৯০–২২০ কোটি মার্কিন ডলার। যা বেশ অস্বস্তিকর তা হল এই অর্থের ৮০ শতাংশই আসে ঋণ হিসেবে। এমনকি কম উন্নত দেশগুলোর জন্যও ঋণের পরিমাণ মোট অর্থের ৬৬ শতাংশ। তা ছাড়া ওভারসিজ ডেভলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স(‌ওডিএ)‌–এর ক্রমবর্ধমান অংশ এখন আসছে জলবায়ু সহায়তা হিসেবে, আর নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (সাসটেনেব্‌ল ডেভলপমেন্ট গোল্‌স)‌ পূরণের জন্য প্রদত্ত মোট ওডিএ–র পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার বার্ষিক ওডিএ মোট জাতীয় আয়ের ০.‌৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.‌৫ শতাংশ করেছে। এ হল ওডিএ সরিয়ে নেওয়া, যা কিনা কম আয়ের দেশগুলির ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বঞ্চনা। কারণ তাদেরই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি মাসুল গুণতে হবে, এবং অভিযোজনের ক্ষমতাও তাদের সব থেকে কম।

গ্রিনহাউস গ্যাসের চতুর্থ বৃহত্তম নিঃসরণকারী হিসেবে (‌চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পরেই)‌ ভারতের উপর প্রশমনের জন্য বড়সড় ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ খুবই বেশি। তা হলেও ভারত এখনও তার নতুন লক্ষ্য (‌এনডিসি)‌ ঘোষণা করেনি।

আসলে অভিযোজনের জন্য অর্থের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। এখনও তা জলবায়ুর জন্য দেওয়া অর্থের ২০ শতাংশ, যদিও উন্নয়নের অংশীদার বা এজেন্সিগুলো বারবার বলেছিল প্রশমন ও অভিযোজনের জন্য দেওয়া টাকার মধ্যে ভারসাম্য রাখা হবে। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে অভিযোজন প্রথমে রাষ্ট্রপুঞ্জের ফ্রেমওয়র্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ–এ এসেছিল পশ্চাৎচিন্তন হিসেবে। কিন্তু এখন তা ১৯৯২–এর থেকে অনেক পথ অতিক্রম করে এসেছে। কোনও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রশমনের প্রয়াস নেই, এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম পরিবেশ বিপর্যয় আরও দ্রুত ঘটে চলেছে, এবং তার মধ্যে ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একাধিক দেশকে বিপন্ন করে এমন সব ঘটনা ও পরোক্ষ জলবায়ুজনিত ঝুঁকি। সেই অনুযায়ী প্যারিস চুক্তি অভিযোজনকে বিশ্বজনীন লক্ষ্য ও দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু অভিযোজনের জন্য অর্থসংস্থান অনুমিত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থেকে গেছে, যদিও পুরো ব্যবস্থাপনায় উন্নত দেশগুলির সহায়তা বাধ্যতামূলক ছিল। সম্প্রতি কানাডা ও জার্মানির মন্ত্রীদের নেতৃত্বে প্রকাশিত ডেলিভারি প্ল্যান আর একটা হতাশাজনক ঘটনা, যেখানে ২০২০ সালের মধ্যে বছরে প্রতিশ্রুত

১০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার যথেষ্ট অঙ্গীকারও করা হয়নি। এখন বলা হচ্ছে এই লক্ষ্য পূরণ হতে পারে ২০২৩–এ!‌ অন্যদিকে সেখানে বেসরকারি অর্থসংস্থানের কথা বারবার বলা হচ্ছে, যদিও উন্নয়নশীল দেশগুলির অভিযোজনে সহায়তার প্রশ্নে তাদের রেকর্ড খুবই খারাপ।

কম আয়ের দেশগুলি উন্নয়ন ও অভিযোজনের প্রশ্নে অর্থাভাবে ভুগছে। এর ফলে কিছু উন্নত দেশ দু’‌ধরনের অর্থসংস্থানের মধ্যে পার্থক্য অস্পষ্ট করে সব গুলিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওডিএ যদিও স্বেচ্ছানির্ভর, জলবায়ুর জন্য অর্থসংস্থান কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। এমনকি দ্বিপাক্ষিক সহায়তা, যা জলবায়ুর জন্য অর্থসংস্থানের প্রধান উৎস, তা উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বেশি করে বিনিয়োগ করা হচ্ছে প্রশমন প্রকল্পগুলোয়, অভিযোজনে নয়। প্রশমন কিন্তু কম আয়ের দেশগুলির অগ্রাধিকার নয়। তবে প্রয়োগগত ক্ষেত্রে উন্নয়নের সঙ্গে অভিযোজনকে যুক্ত করাটা অর্থবহ। উন্নয়ন নথিতে অবশ্য এখন অভিযোজন ও উন্নয়নের সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুঝতে পারে এমন উন্নয়নের কথা বেশি করে বলা হচ্ছে। কাউল (‌২০১৭)‌ হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন যে ভাবে এখন উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে জলবায়ুর জন্য অর্থসংস্থানের বিষয়টিকে ওডিএ থেকে বার করে আনার ক্ষেত্রে কে প্রথম হবে তা নিয়ে ‘‌‌সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা’‌ চলছে, সেই বিষয়টি উদ্বেগজনক।

অভিযোজনের জন্য অর্থসংস্থানের অভাবের কারণ হল বাজারের প্রকল্পগুলো বা বেসরকারি সংস্থা অভিযোজনের দিকে নজর দিতে আগ্রহী নয় (‌ব্যতিক্রম শুধু লাভজনক বিমা), কারণ অভিযোজনের চরিত্র মূলত জনকল্যাণ।

প্রকৃতপক্ষে জলবায়ুর জন্য অর্থসংস্থানের বিষয়টির মধ্যে কিছু তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি আছে। অভিযোজনের জন্য অর্থসংস্থানের অভাবের কারণ হল বাজারের প্রকল্পগুলো বা বেসরকারি সংস্থা অভিযোজনের দিকে নজর দিতে আগ্রহী নয় (‌ব্যতিক্রম শুধু লাভজনক বিমা), কারণ অভিযোজনের চরিত্র মূলত জনকল্যাণ। প্রশমনের ক্ষেত্রে যা ঘটে, অভিযোজনে তেমন পরিমাপযোগ্য সূচক বা অফসেট বেনিফিট নেই। কাজেই অভিযোজনের জন্য অর্থসংস্থান কম হওয়ার পেছনের কারণটা হল এর লাভগুলোকে সংকীর্ণ নব্যধ্রুপদী অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা, যেখানে শুধু ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বা জাতীয় স্তরে জনকল্যাণ পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই ভাবা হয়। প্রশমন যেখানে বিশ্বজনীন গণপরিষেবা (জিপিজি)‌ যা থেকে সব নাগরিক ও সব দেশ লাভবান হয়, অভিযোজন তা নয়!‌ একথা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে না যে প্রশমনের কাজ গত দশকগুলোতে ঠিকমতো হয়নি বলেই অভিযোজনের প্রয়োজন হচ্ছে।

ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলো, কম উন্নত দেশ ও অন্যরা, যেমন জিম্বাবোয়ে, বলিভিয়া, ফিলিপিনস, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান ও ভারতের মতো ১০০–র বেশি অতি–দুর্বল দেশের অর্থনীতি যদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ডুবে যায়, তার ফলে বিশ্বের বাণিজ্য ব্যবস্থা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর তার পরিণতিতে জাতীয় ও বিশ্ব নিরাপত্তা বিপন্ন হবে। একটি কম আয়ের দেশ হিসেবে শুধু ভারতেই পৃথিবীর ১৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন। অর্থনীতি ও অভিযোজন ক্ষমতা শক্তিশালী হলে এই সব দেশ যেমন লাভবান হবে, তেমনই লাভবান হবে অন্য দেশগুলোও। গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডপটেশন তাদের অতি–গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট ‘অ্যাডাপ্ট নাউ’‌তে (২০১৯) হিসেব কষে বলেছিল যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুঝতে পারে এমন কাজের জন্য খরচ করা প্রতি মার্কিন ডলার থেকে নিট অর্থনৈতিক লাভের পরিমাণ হতে পারে ২ থেকে ১০ মার্কিন ডলার। একটি নির্দিষ্ট দেশে এমন বিনিয়োগের সুফল কিন্তু ছড়িয়ে যাবে সেই দেশের সীমান্ত পার করেও।

জনকল্যাণ পরিষেবাগুলো আসলে জাতীয় বা বিশ্বের প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নীতিগত ভাবে বেছে নেওয়া পরিবর্তনীয় সামাজিক নির্মাণ।

স্মরণযোগ্য যে মহামন্দার কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নিউ ডিল–এর কেন্দ্রীয় লক্ষ্য ছিল পরস্পর–নির্ভরশীল পৃথিবীতে বিশ্বজনীন ন্যায়। ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উড্‌স সম্মেলনের উদ্বোধনের সময় রুজভেল্ট বলেছিলেন এই লক্ষ্য অর্জন করার জন্য বহুপাক্ষিক সাড়া মেলা প্রয়োজন: “অর্থনৈতিক অসুখগুলো ভীষণ ছোঁয়াচে, আর সেইজন্যই প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য তার কাছের ও দূরের সব প্রতিবেশীর জন্যই যথার্থ চিন্তার বিষয়” (রুজভেল্ট ১৯৪৪)। জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড–১৯–এর কারণে সব দেশই যে অর্থনৈতিক দুর্দশায় পীড়িত হল, তা এই ছোঁয়াচে অসুখের উদাহরণ। জনকল্যাণ পরিষেবাগুলো আসলে জাতীয় বা বিশ্বের প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নীতিগত ভাবে বেছে নেওয়া পরিবর্তনীয় সামাজিক নির্মাণ। এর থেকে পাওয়া লাভ হয়তো সব দেশ বা সব নাগরিক সমান ভাবে পাবেন না, যেমন করের টাকার এনপিজি–গুলোর লাভ সব নাগরিক সমান ভাবে পান না, অথবা অনেকে হয়তো একেবারেই পান না। কাজেই আমাদের যুক্তি হল অভিযোজনকে জিপিজি হিসেবে বিবেচনা করাই ধারণাগত ও রাজনৈতিক ভাবে যুক্তিসঙ্গত, এবং তা করা হলে তার ফলে অভিযোজনের জন্য অর্থসংস্থান বৃদ্ধি পেতে পারে (‌খান ও মুনিরা, ২০২১)‌।

সামনের পথ

একথা স্মরণযোগ্য যে প্যারিস চুক্তিতে সব পক্ষ একমত হয়েছিল ‘‌অর্থের প্রবাহকে কম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জলবায়ু–সহনীয় উন্নয়নের পথে চলার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে তুলতে’‌ (‌অনুচ্ছেদ ২.‌১সি)।‌ কিন্তু যে পরিমাণ অর্থ জলবায়ুর জন্য দেওয়া হবে বলা হয়েছিল, আর যা সত্যিই দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আকাশ–পাতাল পার্থক্য। শেষতম আইপিসিসি রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশা করতে পারি প্যারিস চুক্তির সপ্তম অনুচ্ছেদের আওতায় অভিযোজনকে পুরো বিশ্বের লক্ষ্য ও বিশ্বজনীন দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি কপ২৬–এ আরও উচ্চস্বরে অনুরণিত হবে। সবশেষে আমাদের প্রত্যাশা তো এই যে সুস্থ চিন্তাই জয়ী হবে, এবং এই বোধগুলো তৈরি হবে যে জলবায়ু পরিবর্তন ‘‌সত্যিকারের বিপদ’‌ এবং দুর্বল অংশের প্রতি মনোযোগী মানবিক নিরাপত্তা এমন উন্নততর শান্তি ও বিশ্বব্যাপী সুস্থিতি নিয়ে আসতে পারে যা ‘অনুমিত’‌ বিপদের জন্য বছরে সামরিক খাতে ২ লক্ষ কোটির বেশি মার্কিন ডলার খরচ করে আনা যায় না।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.