Author : Harsh V. Pant

Published on Jun 16, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, অত্যাবশ্যক প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান ভাবে একমত হচ্ছে, যদিও উভয় পক্ষই গভীরতর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সহযোগিতার সঙ্গে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে।

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের এক নতুন অভিধান

ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থাঅত্যাবশ্যক প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তার বিষয়ে ক্রমশ একমত হচ্ছেযদিও উভয় পক্ষই গভীরতর অর্থনৈতিক ভূ-রাজনৈতিক সহযোগিতার সাথে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভারসাম্য বজায় রাখছে।

সম্প্রতি মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসেবে মার্কো রুবিওর প্রথম ভারত সফর কখনওই চাঞ্চল্যকর শিরোনাম বা যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করার জন্য ছিল না। এমন এক সময়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুনর্নবীকৃত ‘আমেরিকা ফার্স্ট নীতির কারণে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে টানাপড়েনের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছিলতখন ভারতে রুবিওর উপস্থিতি ছিল কৌশলগত আশ্বাসের একটি প্রয়াস।

কলকাতাআগ্রাজয়পুর এবং নয়াদিল্লিতে সফরগুলি শুধুমাত্র কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই নয়বরং এমন একটি সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিলযে সম্পর্ককে উভয় পক্ষই তাদের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে ক্রমশ স্বীকার করে নিচ্ছে।

ভারতের কৌশলগত মহল দীর্ঘদিন ধরেই জানে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার উপর নির্ভর করে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ফেরার পর থেকেওয়াশিংটনের শুল্ক-নির্ভর অর্থনৈতিক নীতিবাণিজ্য আলোচনায় নতুন করে ফিরে আসা লেনদেনমূলক মনোভাব এবং পাকিস্তান  চিন উভয়ের প্রতিই সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাবের লক্ষণ নিয়ে ভারত অস্বস্তিতে পড়েছিল এই ঘটনাপ্রবাহ আমেরিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে পরিচিত উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

ভারতের কৌশলগত মহল দীর্ঘদিন ধরেই জানে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখলেওঅভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার উপর নির্ভর করে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই রুবিওর সফরের উদ্দেশ্যই ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা করার চেয়ে কৌশলগত বিচ্যুতি রোধ করা।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত কাঠামো

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত কাঠামোতে স্বাক্ষর করা। যদিও দেখতে এটি প্রযুক্তিগত হলেও এই চুক্তির গভীর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। অনেক দিক থেকেই এটি সমসাময়িক ভারত-মার্কিন সম্পর্কের মূল যুক্তিকে ধারণ করেঅর্থাৎ চিনের আধিপত্যের বাইরে স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলের সন্ধান।

রেয়ার আর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলি আজ সেই একই কৌশলগত স্থান দখল করে আছে, যে পরিসরটি ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় তেল দখল করেছিল। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে চিনের প্রায়-একচেটিয়া আধিপত্য পশ্চিমি বিশ্ব এবং তার অংশীদারদের জন্য একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বস্ত কৌশলগত পক্ষগুলির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভাবে ফ্রেন্ড-শোরিং বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের ব্যবস্থা খুঁজছে এবং এই কাঠামোতে ভারত এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে। নয়াদিল্লির রয়েছে বিপুল খনিজ সম্ভাবনাএকটি ক্রমবর্ধমান শিল্প ভিত্তি এবং বেজিংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভাবে জোটবদ্ধ না হয়েও সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্যায়নে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সুযোগ

ভারতের জন্য এই চুক্তিটি প্রযুক্তিবিনিয়োগ এবং উদীয়মান কৌশলগত শিল্পে একীভূত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। রুবিওর সফরকালে বাণিজ্য জ্বালানি সহযোগিতার উপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিলতা এই পারস্পরিক স্বীকৃতিকেও প্রতিফলিত করে যেঅর্থনৈতিক উত্তেজনাকে বৃহত্তর কৌশলগত সমন্বয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেওয়া যাবে না।

একটি বৃহত্তর বাণিজ্য ব্যবস্থার দিকে অগ্রগতির বিষয়ে ভারতীয় নেতাদের আশ্বস্ত করার রুবিওর প্রচেষ্টা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিলযদিও এর বাস্তব ফলাফল এখনও সীমিত। আলোচনায় জ্বালানি আর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হিসেবে উঠে আসে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অত্যন্ত অস্থিতিশীল রয়েছে।

জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনায় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আদর্শগত সখ্যের চাইতে বাস্তবসম্মত হিসেব-নিকেশ দ্বারাই ক্রমশ চালিত হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে শুধু একটি প্রধান জ্বালানি ভোক্তা হিসেবেই দেখে নাবরং মার্কিন এলএনজি তেল রফতানির জন্য একটি কৌশলগত বাজার হিসেবেও দেখে। অন্য দিকেনয়াদিল্লি তার সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এক দিকে বৈচিত্র্যময় আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্য দিকে অতিরিক্ত ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে চলা। জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনায় এটি স্পষ্ট হয়েছে যেভারত-মার্কিন সম্পর্ক আদর্শগত সখ্যের চাইতে বাস্তবসম্মত হিসেব-নিকেশ দ্বারাই ক্রমশ চালিত  হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা কৌশলগত সহযোগিতা এই সফরের আলোচ্যসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সামুদ্রিক নিরাপত্তাকৌশলগত প্রযুক্তি এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান পরিধিকে তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হোয়াইট হাউস সফরের জন্য রুবিওর দেওয়া আমন্ত্রণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক গতি বজায় রাখার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয়।

তবুও আজকের এই সম্পর্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলএটি প্রচলিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিগত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। ভারত এই সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেযা একটি রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল বিষয়।

অন্য অনেক কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো নয়ভারত-মার্কিন সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক মাত্রা রয়েছেযা প্রায়শই রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে প্রশমিত করে। জনগণের মধ্যে সম্পর্কের প্রতি রুবিওর স্বীকৃতি ওয়াশিংটনের এই উপলব্ধিকেই প্রতিফলিত করে যেঅভিবাসন নিয়ন্ত্রণ যদি সঠিক ভাবে পরিচালিত না হয়তবে তা অপ্রয়োজনীয় সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রুবিওর অংশগ্রহণ এই সফরে একটি বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক মাত্রা যোগ করেছেযা সাম্প্রতিক মাসগুলিতে নিষ্প্রভ বলে মনে হওয়া এই জোটটিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে সাহায্য করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবন্দর পরিকাঠামোসমুদ্রের তলদেশের কেব্ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক ঘোষণাগুলো বাস্তব সহযোগিতার একটি মঞ্চে এর ক্রমান্বয়িক রূপান্তরকে তুলে ধরেছে।

উদাহরণস্বরূপফিজিতে প্রস্তাবিত যৌথ বন্দর প্রকল্পটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে অবকাঠামো কূটনীতির ওপর কোয়াডের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে এটি এমন একটি অঞ্চলযেখানে গত দশকে চিনের প্রভাব ক্রমাগত প্রসারিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে কোয়াড আনুষ্ঠানিক জোট গঠনের ভাষা এড়িয়ে চলেছে।

এই নমনীয়তাই জোটটিকে স্থায়িত্ব দেয়। বিশেষ করে ভারত চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে গভীরভাবে অস্বস্তিতে রয়েছেযা তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। এর পরিবর্তেকোয়াড সমমনস্ক গণতন্ত্রগুলির মধ্যে বিষয়ভিত্তিক সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করেযা সামরিক সংঘাত উস্কে না দিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক ভারসাম্যকে রূপ দিতে চায়।

কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ইনিশিয়েটিভের অগ্রগতি ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে দৃশ্যমান কৌশলগত যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলগুলো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার উপকরণে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তিঅবকাঠামো এবং কৌশলগত সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ এখন রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

আজকের ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব কোনও আবেগতাড়িত বিষয় দ্বারা নয়, বরং অভিন্ন কাঠামোগত স্বার্থ দ্বারা চালিত। উভয় দেশই চিনের উত্থানের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করে নিয়ে, উভয়ই স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং একটি স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক সামুদ্রিক ব্যবস্থা চায়।

রুবিওর সফরের বৃহত্তর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনশীল স্বরূপ উন্মোচনের মধ্যে। আজকের ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব কোনও আবেগতাড়িত বিষয় দ্বারা নয়বরং অভিন্ন কাঠামোগত স্বার্থ দ্বারা চালিত। উভয় দেশই চিনের উত্থানের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করে নিয়েউভয়ই স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খলপ্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং একটি স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক সামুদ্রিক ব্যবস্থা চায়। তবুও উভয় দেশই অতিরিক্ত দায়বদ্ধতার বিষয়ে সতর্ক।

ভারতের জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনই পররাষ্ট্রনীতির চিন্তাভাবনাকে সংজ্ঞায়িত করে চলেছে। নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে মূল্য দেয় কিন্তু কোনও প্রকাশ্য চুক্তিভিত্তিক সম্পৃক্ততার অংশ হতে সে অনিচ্ছুক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভারত অপরিহার্যকিন্তু একই সঙ্গে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গিতে হতাশাজনক ভাবে ভারত স্বাধীন মত পোষণ করে চলেছে। এই চাপানউতোর দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

রুবিওর সফর হয়তো রাতারাতি কৌশলগত প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করেনিকিন্তু এটি একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের অন্তর্নিহিত গতিপথকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেস-এ।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Harsh V. Pant

Harsh V. Pant

Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...

Read More +