Author : Debosmita Sarkar

Occasional PapersPublished on Feb 16, 2024
ballistic missiles,Defense,Doctrine,North Korea,Nuclear,PLA,SLBM,Submarines

জল-পরিসরে লিঙ্গ: ভারতের শ্রমবাজারে অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া

  • Debosmita Sarkar

    এই নিবন্ধটিতে পারিবারিক-স্তরের গার্হস্থ্য পরিষেবামূলক কার্যকলাপের জন্য শ্রমের লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে ভারতীয় রাজ্য জুড়ে এবং এই প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক লিঙ্গের বিভিন্ন মাত্রাব্যাপী জল ব্যবস্থাপনা একটি প্রাথমিক উপাদান হিসাবে রয়ে গিয়েছে। নারীরা চিরাচরিত ভাবে পারিবারিক পর্যায়ে জল ব্যবস্থাপনায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁদের দিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সংশ্লিষ্ট অবৈতনিক গার্হস্থ্য সেবা কার্যকলাপে অতিবাহিত হয়। এই ধরনের ব্যস্ততার ফলে প্রায়নারীরা সময় দারিদ্র্য’-র সম্মুখীন হন। যা আখেরে চালিত করে (ক) কম মহিলা শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার, (খ) শ্রমবাজারের লিঙ্গগত বিভাজন এবং (গ) একটি অবিরাম লিঙ্গ বেতনের ব্যবধানের দিকে। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে যে রাজ্যগুলিতে নারীরা জল ব্যবস্থাপনায় বেশি সময় ব্যয় করে এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যলাপে জর্জরিত থাকেন, সেখানে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারী বনাম পুরুষের অনুপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলক ভাবে বেশি মজুরি প্রদানের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার বিপরীতে ভারতের শ্রমবাজারে চাহিদা অনুযায়ী বিভাজন প্রায়শই পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে নারীদের বেশি করে ‘ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসংস্থান’-এর দিকে ঠেলে দেয়, যেখান থেকে নারীরা সাধারণত  অত্যন্ত কম উপার্জন করে থাকেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভারতীয় রাজ্যব্যাপী অতিরিক্ত আয়ের অনুমানের উপর ভিত্তি করে, এই নিবন্ধটিতে পারিবারিক-স্তরের জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

Attribution:

দেবস্মিতা সরকার, ‘জেন্ডার ইন দ্য ওয়াটারস্কেপ: ক্রিয়েটিং ইকোনমিক রিপলস ইন ইন্ডিয়া’জ লেবার মার্কেটস’, ওআরএফ অকেশনাল পেপার নং ৪২৩, ডিসেম্বর ২০২৩, অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

ভূমিকা

জল একটি মৌলিক প্রাকৃতিক সম্পদ, যা সমস্ত জীবের জীবিকা নির্বাহের জন্য অত্যাবশ্যক। ইতিহাস জুড়ে সম্পদের অধিকার নিয়ে অনেক দ্বন্দ্ব রয়েছে কারণ এর বণ্টন ও প্রাপ্যতা ভূগোল, জলবায়ু, আর্থ-সামাজিক অবস্থা রাজনীতির মতো বিভিন্ন কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সমাজগুলি জল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত অনন্য চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করছে, অনেকে নিজেদের প্রেক্ষাপট অনুসারে জল শাসনের জন্য স্বতন্ত্র পন্থা গ্রহণ করেছে। তৃণমূল প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে জল ব্যবস্থাপনা সামাজিক সম্পর্ক সম্প্রদায়ের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি জলসম্পদ সংগ্রহ বরাদ্দ করা থেকে শুরু করে জলের ব্যবহার তত্ত্বাবধান করে এমন নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর উন্নয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত ক্রিয়াকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, উন্নত ও উন্নয়নশীল অঞ্চলের মধ্যে জল ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভাবে পরিবর্তিত হয়; এমনকি উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যেও সেগুলি স্থানীয় অবস্থা এবং ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে যথেষ্ট ভিন্ন হতে পারে।(১) এর কেন্দ্রে থাকা জল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গভীর ভাবে অঞ্চলগুলির সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক পরিসরে সম্পৃক্ত। নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে জল ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ এবং/অথবা ব্যক্তিগত পণ্যে জলের পণ্যকরণ কার্যকর হলেও এই ধরনের উদ্যোগগুলি প্রায়ই পারিবারিক জীবন-সহ সংস্কৃতি, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান দৃষ্টান্ত দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়।(২)(৩) উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভারতে পঞ্চায়েতি রাজ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে কূপের মতো সাধারণ সম্পদের উপর কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ বিভিন্ন স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর একটি ভিন্ন প্রভাব ফেলেছে। সুনির্দিষ্ট কেস স্টাডিতে দেখা গিয়েছে যে, সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন (ডব্লিউএএসএইচ বা ওয়াশ) অবকাঠামো বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য থেকে অনাক্রম্য না-ও হতে পারে এবং দরিদ্রতম নিম্ন বর্ণের পরিবারের নারীরা বিশুদ্ধ জল পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হ(৪) বিশ্বব্যাঙ্ক জল ম্পদের ব্যবস্থাপনাকে একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও জল সম্পদের দেখভাল, পরিমাণ ও গুণমানকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, প্রণোদনা তথ্য ব্যবস্থা দ্বারা সমর্থিত।(৫) গুরুত্বপূর্ণ ভাবে সমাজগুলি কী ভাবে তাদের জল সম্পদকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা তাদের বাসিন্দাদের জীবিকাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। জল ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন স্তরে লক্ষ করা যায়: গ্রামীণ, শহুরে এবং আন্তঃসীমান্ত। গ্রামীণ এলাকাগুলি সাধারণত আদিবাসী জ্ঞানের মধ্যে নিহিত ঐতিহ্যবাহী, সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন জল ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের উপর নির্ভর করে। ইতিমধ্যেশহুরে অঞ্চলগুলি নিজেদের জলের চাহিদা মেটাতে জলাধার কলের মতো আরও উন্নত প্রযুক্তি অবকাঠামো ব্যবহার করে। জল ব্যবস্থাপনাও আন্তঃসীমান্ত অববাহিকা জুড়ে অভিন্ন সাধারণ সম্পদ হিসাবে উঠে আসে, যেখানে সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা জল কূটনীতি সম্প্রদায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গিক

যাই হোক, ক্ষেত্র নির্বিশেষে জল ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের মূলে একটি সাধারণ প্রায়শই উপেক্ষিত বাস্তবতা রয়েছে এবং তা হল এই যে, নারী ও অল্পবয়সী মেয়েরা পরিবারের মধ্যে জল সরবরাহ পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেতাঁরা স্থানীয় জলসম্পদ, নিজেদের অবস্থান তাদের গুণমান সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত। নারীরা পানীয়, স্নান, খাদ্য তৈরি এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা-সহ বিভিন্ন গার্হস্থ্য উদ্দেশ্যে জল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহার ও বণ্টনের মতো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সারা বিশ্ব জুড়ে নারীরা দৈনিক জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজে ২০০ মিলিয়ন শ্রমঘণ্টা ব্যয় করে থাকেন(৬)

জল ব্যবস্থাপনায় নিজেদের অপরিহার্য ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও নারীরা প্রায়শই জল প্রশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে(৭) এই বর্জন অকার্যকর জল প্রশাসনিক কৌশল এবং নীতির ফলাফল একই সময়ে শ্রম ও উৎপাদন সংস্থাগুলির আন্তঃ-গৃহস্থালি বিভাজনকে জল শাসনের জন্য দায়বদ্ধ সংস্থাগুলি ভুল আলোকে ব্যাখ্যা করে। এর ফলস্বরূপ, পরিকল্পনা নকশা সংক্রান্ত পর্যায়গুলিতে লিঙ্গ গতিশীলতা বিবেচনা করার ব্যর্থতা ভাল উদ্দেশ্যমূলক নীতিগুলির কার্যকারিতাকে হ্রাস করে। উদাহরণস্বরূপ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে লিঙ্গ-সংবেদনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভাব্য ভাবে শ্রমের লিঙ্গ বিভাজন মোকাবিলা করতে পারে এবং এই অঞ্চলে নারীদের সময়ের দারিদ্র্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশমিত করতে  পারে, যে সময় উত্পাদনশীল কাজের জন্য ব্যবহার করে দারিদ্র্যকে হ্রাস করা যেত।(৮)

পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, ১৯৯২ সালের রিও আর্থ শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ডাবলিন-রিও নীতিগুলি বিশ্বব্যাপী জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ-সংবেদনশীল হস্তক্ষেপকে উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিজল ব্যবস্থাপনায় নারীদের ব্যাপক সম্পৃক্ততার প্রভাব তুলে ধরার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ করেছে।(৯) প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে লিঙ্গ-সংবেদনশীল সমাধানগুলি সক্ষম করার জন্য পানীয় জল ব্যবহারকারী সমিতিগুলির মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়ার উদ্দেশ্যে জলের লভ্যতাকে উন্নত করতে তাদের ক্ষমতায়নের জন্য নারীদের জলের পাম্প পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত।

জল শাসনের একটি সর্বজনসম্মত সংজ্ঞার অভাব রয়েছেই সংজ্ঞায় মূলত কে জল ব্যবহার করতে পারে, কখন কার জলসম্পদের অধিকার রয়েছে সেই প্রশ্নগুলি সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, রাষ্ট্রপুঞ্জ, বিশ্বব্যাঙ্ক এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফেসিলিটির মতো সংস্থাগুলি বিশ্বব্যাপী জল প্রশাসনের প্রচেষ্টায় লিঙ্গ মূলধারাকে উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার, সুশীল সমাজ সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং শিক্ষাগত ক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।(১০) কার্যকর জল প্রশাসন নির্ভর করে শক্তিশালী লিঙ্গ-সংবেদনশীল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপর। ভারতে অপ্রতুল সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সেকেলে অবকাঠামো, অপ্রতুল মানব ক্ষমতা এবং অকার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা-সহ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ এই ধরনের কাঠামো প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়। তবে এই বিষয়গুলির কেন্দ্রে পারিবারিক স্তরে জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গের ভূমিকা বৃহত্তর অর্থনৈতিক ফলাফলের উপর ক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ, কর্মসংস্থানের হার, তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ও সামগ্রিক উন্নয়নমূলক ফলাফলে লিঙ্গ সমতার মতো বিষয়ে তেমন কোনও ধারণা নেই।

জলের চাপসম্পন্ন দেশ ভারত জল বণ্টনে উল্লেখযোগ্য বৈষম্যের সম্মুখীন এবং এ ক্ষেত্রে একটি সর্বাত্মক জল ব্যবস্থাপনা প্রশাসনিক কৌশলের প্রয়োজন(১১) বিদ্যমান জল ব্যবহারের ধরগুলির সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান হারের নিরিখে ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে জলের  চাহিদা এবং উপলব্ধ ব্যবহারযোগ্য জলের মধ্যে একটি ভয়ঙ্কর ৪০ শতাংশ ঘাটতি অনুভব করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।(১২) এর পাশাপাশি, ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি দ্বারা চালিত কৃষি উৎপাদনের অনুমিত বৃদ্ধি উপলব্ধ জল সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে গ্রাস করবে, যা সঙ্কট আরও বাড়িয়ে তুলবে।(১৩)

লিঙ্গ সমতা জল ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য ২০৩০ অ্যাজেন্ডায় কেন্দ্রীভূত। প্রাথমিক ব্যবহারকারী, সরবরাহকারী পারিবারিক স্তরে জল ও স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থাপক হিসাবে নারী ও মেয়েরা প্রায়শই জল সংগ্রহ এবং চিকিত্সার ভার বহন করেন। এই বোঝা তাঁদের অসুস্থতা, হয়রানি এবং হিংসা-সহ একাধিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়, যার ফলে শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সুযোগগুলিতে তাঁদের সম্পূর্ণ ভাবে অংশগ্রহণ করার ক্ষমতা প্রভাবিত হয়। লিঙ্গ-সংবেদনশীল ওয়াশ নীতির প্রচার স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষ্যগুলি-সহ ২০৩০ অ্যাজেন্ডা জুড়ে বৃহত্তর পরিবর্তনের জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওয়াশ লিঙ্গ সমতার মধ্যে সমন্বয়কে কার্যকর করে তুলতে জল প্রশাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বড় আকারের অবকাঠামো বিনিয়োগ, জল বরাদ্দ জল ব্যবসার সিদ্ধান্তগুলি ঐতিহ্যগত ভাবে লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে একপেশে ছিল। পারিবারিক পর্যায়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হওয়া সত্ত্বেও জল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কম(১৪) জল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে লিঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গির সীমিত অন্তর্ভুক্তি স্থিতিশীল সম্পদ উন্নয়ন এবং ন্যায়সঙ্গত জল বণ্টনের অগ্রগতিকে বাধা দেয়।

চিরাচরিত জ্ঞানের ভাণ্ডার এবং জল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে নারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেওয়ার পাশাপাশি সক্রিয় ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত হতে পারেন। নারীরা জল সম্পদ সমান ভাবে বণ্টন করার একটি অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করেন, বিশেষ করে অভাবের সময়ে।(১৫) জল ব্যবহারকারী সমিতি, সরকারি জল ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং জল কমিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলাদের উপস্থিতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিগুলির নকশাকে পরিপূর্ণ করতে তুলতে পারে যা জাতীয় নীতি স্তরে পূর্বে উপেক্ষিত সমস্যাগুলি সমাধানে সাহায্য করবে।

২০১১ সালে উগান্ডা তার জল ক্ষেত্রের জন্য একটি পাঁচ-বছরের লিঙ্গ কৌশল প্রয়োগ করে, যেখানে কমিটিগুলিতে মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকায় রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগটি মাত্র দুবছরে উগান্ডার জলের নিরাপদ লভ্যতাকে ৫১ শতাংশ থেকে ৬১ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে।(১৬) ২০২১ সালে, ভারত উইমেন ওয়াটার চ্যাম্পিয়নস উদ্যোগ চালু করেছে যা জল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি জল প্রশাসনে তাঁদের নেতৃত্বের প্রচার করে। এই উদ্যোগটি তৃণমূল পর্যায়ে সেই ৪১ জন নারীর নিবেদিত প্রচেষ্টা প্রদর্শন করেছে, যাঁরা জলের সঙ্কট ও জল ব্যবস্থাপনার জটিলতাগুলির মোকাবিলা করেছেন।(১৭)

এই গবেষণাপত্রটিতে ভারতে লিঙ্গ, জল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের জটিল গতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করে, দেশের শ্রমবাজারে মহিলাদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের প্রভাবগুলি অন্বেষণ করেছে। পারিবারিক স্তরে জল ব্যবস্থাপনায় মহিলাদের ভূমিকা পরীক্ষা করে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে লিঙ্গ সমতাকে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ, ফলাফল এবং সম্ভাব্য কৌশলগুলির উপর আলোকপাত করা হয়েছে।

ভারতে জল ব্যবস্থাপনায় মহিলাদের ভূমিকা

জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গের ভূমিকা গভীর ভাবে শক্তি সমীকরণের প্রেক্ষাপটে এবং সমগ্র ভারত জুড়ে সম্পদের লভ্যতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক অর্থনীতির বিষয়গুলি সম্পদের বণ্টনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সামাজিক সম্পর্কের এই গঠন নির্ধারণ করে যে, কে, কখন এবং কতটা জল একজন ব্যক্তি বা একটি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব হিসাবে দাবি করতে পারে। এই জটিল পরিসরে লিঙ্গ সম্পর্ক একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, যা পরিসর জুড়ে কী ভাবে জলের সংস্থানগুলি পরিচালিত এবং বিবর্তিত হয়, সেই বিষয়টিকে আকার দেয়। জল ব্যবস্থাপনায় নারীর ভূমিকা বোঝার সময় তাঁদের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে এমন অনেক আর্থ-সামাজিক এবং ভৌগোলিক অবস্থার বিবেচনা প্রয়োজনীয় এবং এটি ভারতীয় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (ইউটি) বরাবর শ্রমবাজারে জল শাসনে লিঙ্গ ভূমিকা নারীর আপেক্ষিক সময়ের দারিদ্র্যের আন্তঃপ্রক্রিয়ার প্রভাবকেও তুলে ধরতে সাহায্য করে

ভারতের লিঙ্গ সম্পর্ক চিরাচরিত ভাবে নারীদের একটি সুবিধাজনক অবস্থান প্রদান করেছেচিরাচরিত ভূমিকা জল ব্যবস্থাপনায় নারীদের সম্পৃক্ততাকে গার্হস্থ্য পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে, যেখানে নারীরা গার্হস্থ্য জল সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে চিহ্নিত হন। তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে থাকে বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা রক্ষা গার্হস্থ্য উদ্দেশ্যে জল সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ। নারীরা এই ভাবে সংগৃহীত জল বিশুদ্ধ, দূষণহীন এবং সহজলভ্য কি না, সে কথা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে। জলবায়ু পরিস্থিতি, জলের উত্স থেকে দূরত্ব এবং সুবিধা-সহ নানাবিধ কারণ তাঁদের সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করে। যাই হোক, এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই অনুশীলনগুলি ভারত জুড়ে বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে অভিন্ন নয়।

উচ্চবর্ণের নারীরা প্রায়শই স্বাধীনভাবে জল ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নাএর বিপরীতে, নিম্নবর্ণের নারীদের অধিকতর গতিশীলতা ভূমিকা নিতে হয় এবং বহু দূর থেকে কখনও কখনও অবিশ্বাস্য উত্স থেকে জল আনার বোঝা বহন করতে হয়।(১৮) জল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত লিঙ্গ গতিশীলতা গঠনে বয়সও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স্ক মহিলারা জল সংগ্রহের শারীরিক কার্যকলাপে কম জড়িত থাকলেও প্রায়ই সিদ্ধান্ত  গ্রহণকারীর ভূমিকা গ্রহণ করে(১৯) কৃষিক্ষেত্রে নিম্নবর্ণের মহিলারা কর্মশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, যা গ্রামীণ এলাকায় চিরাচরিত ভূমি-মালিকানা বিন্যাস সামাজিক সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়।(২০) তবুও সেচের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার এবং সম্পৃক্ততা সীমিত রয়ে গিয়েছে। উচ্চ বর্ণের মহিলারা পরিবারের পুরুষ প্রধানদের অনুপস্থিতিতে কৃষি জমি পরিচালনা করতে এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

নারীদের জীবনে জলের অভাবের গভীর প্রভাব বুঝতে পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্রের গ্রাম ডেঙ্গামলের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।(২১) জলের পাইপলাইন সংযোগের অনুপস্থিতি বাসিন্দাদের জলের প্রয়োজনের জন্য ১২ণ্টার পথ অতিক্রম করে ভাতসা বাঁধের উপর নির্ভর করতে বাধ্য করে সময়সাপেক্ষ জল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কার্যকর ভাবে গৃহস্থালির কাজগুলি পরিচালনা করার জন্য নারীদের অপ্রতুল সময় প্রদান করে। এর সমাধান হিসাবে কিছু পরিবার পর্যাপ্ত জল সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে বহুবিবাহের আশ্রয় নিয়েছে। যে মহিলারা ‘ওয়াটার ওয়াইভস’ বা ‘জল স্ত্রী’-র ভূমিকা গ্রহণ করেন, তাঁরা প্রায়শই দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী হন এবং স্বামীদের উপর পরিবারের মধ্যে তাঁদের কোন প্রভাব রাখে না। এটি জল স্ত্রীদের কোন সামাজিক অধিকার প্রদান করে না এবং তাদের শুধুমাত্র প্রতিদিনের জল সংগ্রহের দায়িত্ব থাকে।

সামাজিক ফলাফলের পাশাপাশি, জল ব্যবস্থাপনায় নারীদের ব্যাপক ও অসম সম্পৃক্ততার প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। অবৈতনিক কাজে ব্যয় করা সময়, বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজের পরিপ্রেক্ষিতে, নিজের ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য জল জ্বালানি সংগ্রহের কাজে ব্যয় করতে হয় এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। একটি পরিবারের চূড়ান্ত ব্যবহারের জন্য জল সংগ্রহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ততার পাশাপাশি জল ব্যবস্থাপনায় মহিলাদের ভূমিকা অন্য নানাবিধ কার্যকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা একটি সম্পদ হিসাবে জলের  বরাদ্দ এবং ব্যবহার-দক্ষতার উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে প্রায়শই খাদ্য ও খাবারের ব্যবস্থাপনা এবং প্রস্তুতি, পারিবারিক বাসস্থান এবং পরিপার্শ্বের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ, কৃষিজমি বা গৃহপালিত পশুদের জন্য জল আনা, পোশাক ও জুতো পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য গৃহস্থালি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই কর্মকাণ্ডের বোঝা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে মহিলাদের উপর পড়ে, যা ব্যাপক ভাবে সময়-দারিদ্র্য সংক্রান্ত সমস্যাকে গভীরতর করে তোলে।

ভারতের জন্য করা ২০১৯ সালের টাইম ইউজ সার্ভে (টিইউএস)(২২) এই ধরনের অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবার কাজের পরিমাণ ভারতে লিঙ্গ সমতার উপর তার প্রভাব সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে যেমন টিইউএস-এর অ্যাক্টিভিটি গ্রুপ ২৪২ ও ৩২৫ জল সঞ্চয় সম্পর্কিত কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ ভাবে সংযুক্ত সমীক্ষা করা ব্যক্তিদের দ্বারা অতিবাহিত সময় নথিভুক্ত  করে।(ক) এটি দর্শায় যে, সমগ্র দেশব্যাপী একাধিক অঞ্চলে এটি এখনও এক মুখ্য কার্যকরী তকমা। এই প্রবন্ধে ভারতীয় মহিলাদের উপর অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যক্রমের জল ব্যবস্থাপনা-প্ররোচিত বোঝা অন্বেষণ করার জন্য এক সর্বাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছেটিইউএস কার্যকলাপ শ্রেণিবিভাগের প্রধান বিভাগের অধীনে সংজ্ঞায়িত সমস্ত কার্যকলাপে ব্যয় করা সম্মিলিত সময়কে বিবেচনা করে(২৩)— ‘নিজের চূড়ান্ত ব্যবহারের জন্য পণ্যের উত্পাদন (প্রধান বিভাগ ২) এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা (প্রধান বিভাগ ২) — এই প্রবন্ধের লেখক জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা’র জন্য একটি প্রক্সি ভেরিয়েবল সংজ্ঞায়িত করেছেন (দ্রষ্টব্য সারণি )। এখানে বিবেচিত টিইউএস শ্রেণিবিভাগগুলি এমন কিছু অন্যান্য কার্যকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা দৃশ্যত পরিবারের জল ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের উপর বিশেষ ভাবে প্রতিফলিত হয় না। এর পাশাপাশি এটি অনুমান করা হয় যে, এই ধরনের কার্যকলাপে ব্যয় করা সময় এই প্রসঙ্গে অন্য প্রাসঙ্গিক সূচকগুলিতে শ্রম বিভাজনের বিস্তৃত প্রবণতাকে অনুকরণ করে এবং তাই অধ্যয়নের  অন্তর্দৃষ্টিতে কোন পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দেয় না।

 

সারণি ১: জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গৃহস্থালি সেবামূলক কা

কাজ

ধরন

জল সংগ্রহ

গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য উৎস থেকে জল সংগ্রহ

জল সঞ্চয়

নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন আধারে সংগৃহীত জলের সঞ্চয়

জল পরিশ্রুতকরণ

ব্যবহারের নিরিখে নিরাপদ করে তোলার জন্য জলের পরিশ্রুতকরণ অথবা বিশুদ্ধিকরণ

জল বণ্টন

গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য জল বরাদ্দ করা

জল ব্যবহার

খাদ্য, পরিষ্কারের কাজ, জামাকাপড় কাচা, পোষ্যের পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজে

জল সংরক্ষণ

জল অপচয় হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ

জল ব্যবস্থাপকের দেখভাল

গৃহস্থালির জল ব্যবস্থাগুলি যথার্থ কাজ করছে কি না, তা সুনিশ্চিত করা

জলের গুণমান পর্যবেক্ষণ

ব্যবহারের জন্য জল সুরক্ষিত কি না, সে কথা নিশ্চিত করতে জলের গুণমান পরীক্ষা

আর্থিক ব্যবস্থাপনা

বিল ও মেরামত-সহ জল সম্পর্কিত অন্যান্য খরচের জন্য বাজেটের নির্ধারণ

স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃপ্রণালি

জলবাহিত রোগ প্রতিরোধ করার জন্য স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা

সূত্র: লেখকের নিজস্ব

 

প্রতিবেদনটি অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবার কাজের লিঙ্গগত প্রকৃতির একটি প্রখর চিত্রই তুলে ধরেছে এবং এখান থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, ভারতে মহিলারা এই ধরনের কার্যকলাপে যথেষ্ট সময় ব্যয় করেন, যা সম্পূর্ণ হতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা করে লাগে।(২৪) এর বিপরীতে আবার পুরুষরা এই ধরনের কাজগুলিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যয় করে থাকেন। গ্রামীণ এলাকায় মহিলারা প্রতিদিন গড়ে ৩০১ মিনিট অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবার কাজে ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষরা মাত্র ৯৮ মিনিট ব্যয় করেন। শহুরে অঞ্চলে মহিলারা অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবার কাজে ২৯৩ মিনিট ব্যয় করেন এবং পুরুষরা কেবল ব্যয় করেন ৯৪ মিনিট চিত্র স্পষ্টতই এই লিঙ্গ বৈষম্যের কথা তুলে  ধরেছে যে, গার্হস্থ্য পরিষেবার কাজে কার অংশগ্রহণের হার কেমন। আবার অন্য দিকে চিত্র ২-তে পরিবার জুড়ে অংশগ্রহণকারী পুরুষ এবং মহিলারা প্রতিদিন গড়ে এই ধরনের কাজে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করেন সেই অসামঞ্জস্যকে তুলে ধরেছে।

চিত্র ১: জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে অংশগ্রহণকারী পরিবারের সদস্যদের শতাংশ

উত্স: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য(২৫)

 

চিত্র ২: জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিনের গড় হিসেব মিনিটে

উত্স: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য(২৬)

 

জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ ভূমিকার জটিলতাগুলি গ্রামীণ এবং শহুরে ভারত জুড়ে উল্লেখযোগ্য রকম আলাদা। জাতীয় স্তরে নানাবিধ অনুমান দর্শিয়েছে যে, সমস্ত পরিবারের বাড়ির চত্বরে জলের সুবিধা না থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ৬৬.৬ মিলিয়ন ঘণ্টা জল সংগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপে ব্যয় করা হয় এবং গ্রামীণ পরিবারগুলি মোট সময়ের ৮৪ শতাংশ ব্যয় করে।(২৭) তাই ভারত জুড়ে তুলনামূলক ভাবে বড় গ্রামীণ জনসংখ্যা, সীমিত জলের সংস্থান এবং জল খাতে অনুন্নত পরিকাঠামো-সহ অঞ্চলের মহিলারা জল ব্যবস্থাপনার ভূমিকার উল্লেখযোগ্য রকমের উচ্চতর বোঝার সম্মুখীন হতে পারে। এমনকি শহুরে এলাকায়, যেখানে প্রায় ২০ শতাংশ পরিবারের বাড়ির প্রাঙ্গণে পানীয় জলের সুবিধা উপলব্ধ নয়, সেখানে মহিলারা পরিবারের জল ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক দায়িত্ব বহন করে থাকেন

এর আবার গভীর অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। টিইউএস রিপোর্ট দর্শিয়েছে যে, জল সরবরাহ এবং ব্যবস্থাপনায় মহিলাদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পৃক্ততার ফলে মহিলাদের জন্য সময় দারিদ্র্য’ ঘটে থাকে। কারণ তাঁদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন, অবসর বা উপার্জন করার জন্য উৎপাদনমূলক কার্যকলাপের জন্য সময় কম পড়ে। এটি অর্থপ্রদান করে  এমন কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বা শিক্ষাগত সুযোগগুলি অনুসরণ করার ক্ষমতার সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ভাবে সম্পর্কিত। জলের প্রাপ্যতার সময়সূচির অসঙ্গতি মহিলাদের কাজের চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা প্রায়শই ভারী বোঝা বহন করে এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে অতিক্রম করেন, যখন অন্য  দিকে সম্প্রদায়ের পুরুষরা জল সংগ্রহের জন্য বাইক বা সাইকেল ব্যবহার করতে পারে। মহিলাদের উপর এই অযাচিত বোঝা তাঁদের শিক্ষাগত তালিকাভুক্তি উপস্থিতির উপর প্রভাব ফেলে এবং অন্যান্য অর্থপ্রদানকারী অর্থনৈতিক প্রচেষ্টায় নারীদের অংশগ্রহণকে সীমিত করে দেয়জল পাওয়ার অধিকার, তার ব্যবস্থাপনা এবং লিঙ্গের মধ্যকার সম্পর্ক কোনও ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং তাই কর্মসংস্থানের এই পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে ভারত তার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে। চিত্র ৩-এ ১৫-৫৯ বছর বয়সি পরিবারের সদস্যদের জন্য জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যকলাপগুলিতে গড়ে জনপ্রতি দিনে ব্যয় করা মিনিট ব্যবহার করে ভারতের রাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে পুরুষ মহিলাদের মধ্যে তুলনামূলক হিসেব প্রদান করা হয়েছে

 

চিত্র ৩: ভারত জুড়ে জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক অভ্যন্তরীণ পরিষেবাগুলিতে ব্যয় করা সময়ের গড়

উত্স: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য(২৮)

 

জল ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম-সহ অবৈতনিক গৃহস্থালির কাজ মহিলাদের উপর একটি উল্লেখযোগ্য বোঝা চাপিয়ে দেয়। গার্হস্থ্য দায়িত্ব বরাদ্দের এই বৈষম্য শিক্ষার সুযোগকে প্রভাবিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানের জন্য নারীর সম্ভাবনাকে সীমিত করে দেয়। এই দ্বিগুণ বোঝা মেয়েদের জন্য স্কুলে উপস্থিতি হ্রাস করে এবং লাভজনক কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে মহিলাদের বঞ্চিত করে।(২৯) কর্মক্ষেত্রের মহিলারা অবৈতনিক গৃহকর্মে অতিরিক্ত সময় উৎসর্গ করেন এবং তা এমন একটি চাপের চক্র তৈরি করে, যা তাঁদের সুস্থতাকে মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত করে।

ভারতীয় শ্রম বাজার এবং পরিবারের আয়ের উপর প্রভাব

মহিলাদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতীয় শ্রমবাজার এবং সংশ্লিষ্ট মূল্যের জন্য মহিলাদের সময় দারিদ্র্যের প্রভাব রয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের ক্রমহ্রাসমান নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার  উল্লেখযোগ্য মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।(৩০) এই প্রবণতার জন্য একাধিক কারণ দর্শানো যেতে পারে, যার মধ্যে ক্রমবর্ধমান পারিবারিক আয় (আয় প্রভাব) এবং মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ (চাহিদা বিভাজন) অন্যতম। যাই হোক, নীতি বৃত্তে একটি সমালোচনামূলক অথচ প্রায়শই উপেক্ষিত দিক হল অবৈতনিক গৃহস্থালি পরিষেবা কার্যক্রমের বোঝাযেমন জল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কাজ, মহিলাদের উপর এবং মহিলা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার গঠনে তার ভূমিকা যত্ন প্রদানের কাজ এবং পরিচর্যা পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তি, ব্যবসা, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারক-সহ অংশীদারদের কাছ থেকে মনোযোগ আকর্ষণ করলেও গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যক্রম শ্রমবাজার বা ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে জড়িত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কথোপকথনের একটি সংযোজনমূলক উপাদান হিসাবে রয়ে গিয়েছে। এবং গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলির বিশ্লেষণের জন্য জ্বালানি, খাদ্য, জল ও পয়ঃপ্রণালি এবং জীবিকা হিসাবে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের দিকে আরও আলোকপাত করা করুরি।(৩১)

গার্হস্থ্য পরিচর্যার কাজ এবং গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যকলাপের মধ্যে স্বীকৃতি পার্থক্য ছাড়াও এ কথা তুলে ধরা জরুরি যে, প্রতিটি বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপগুলিতে ব্যয় করা সময়ের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্যগুলিও উল্লেখযোগ্য রকমের আলাদা। নীচের চিত্র দর্শিয়েছে যে, এক জন ভারতীয় পুরুষ এবং এক জন মহিলার অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিচর্যা সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপের নিরিখে একটি গোটা দিনে ব্যয় করা সময়ের আপেক্ষিক ইক্যুইটি অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্য রকমের বেশি। এটি গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যক্রমের উপর মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্বকেই দর্শায়। এই নিবন্ধটিতে প্রধানত জলের ক্ষেত্র এবং গৃহস্থালিউপর এর প্রভাবের দিকে আলোকপাত করা হয়েছে।

 

চিত্র ৪: ভারত জুড়ে অবৈতনিক যত্ন এবং গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে ব্যয় করা সময়ের মধ্যে আপেক্ষিক ইক্যুইটি

উত্স: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য(৩২)

সময় দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ: তাত্ত্বিক পটভূমি এবং কিছু অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ

সময় দারিদ্র্যের সম্মুখীন মহিলারা প্রায়শই বেতন পাবেন এমন কাজে সময় দিতে অসমর্থ হন এবং ফলস্বরূপ তাঁদের কাজের সুযোগ বা অর্থনৈতিক লাভ-সহ জীবিকা বেছে নেওয়ার মতো সুযোগ থাকে না। চিত্র ৫-এ ভারতীয় চাকরির বাজারে মহিলা শ্রম অংশগ্রহণের হার সম্পর্কিত মহিলাদের সময়-দারিদ্র্য-চালিত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অর্থনৈতিক যুক্তি দর্শানো হয়েছে।

 

চিত্র ৫: পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য শ্রম সরবরাহের বক্ররেখা

সূত্র: লেখকের নিজস্ব

 

যে কোন সামাজিক পক্ষপাতের জন্য সারসংক্ষেপ হিসেবে, ভারতীয় পুরুষ ও মহিলাদের যুক্তিবাদী সত্তা হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যাঁরা অর্থনৈতিক  ক্রিয়াকলাপ যেমন লেবার বা শ্রম (এল) এবং অন্যান্য কার্যকলাপের মধ্যে  একটি গোটা দিনে তাঁদের অবশিষ্ট সময়কে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে চান  (তাঁদের নিজ নিজ অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবার দায়িত্বগুলি পূরণ করার পরে), যা এখানে লেজার বা অবকাশ (এক্স) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।(৩৩) এই প্রেক্ষাপটে শ্রম এবং অবকাশ উভয়ই স্বাভাবিক পণ্য হিসাবে বিবেচিত হয়, যদিও শ্রম আয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুস্থতায় অবদান রাখে এবং অবকাশ ব্যক্তির সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখে।(৩৪) যেহেতু পুরুষ এবং মহিলারা  শ্রম অবসরে সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমে নিজেদের সামগ্রিক সুস্থতাকে সর্বোচ্চ করে তুলতে চান, তাই তাঁরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের সময়কে এমন ভাবে বরাদ্দ করে নেন, যাতে তাঁরা প্রত্যেক দিন নিজেদের কাছে মোট উপলব্ধ সময়ের সবটুকু ভাল ভাবে কাজে লাগাতে পারেন।(৩৫) ব্যক্তিরা তাই তাঁদের নিজ নিজ অবশিষ্ট সময়ের বাজেটে নিজস্ব সামগ্রিক সুস্থতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন (চিত্র ৫-এ পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য মজুরির হার উল্লেখ করা হয়েছে)।  মহিলাদের জন্য অবশিষ্ট সময় বাজেট পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। এর কারণ হল, ভারতীয় মহিলাদের একটি অসম পরিমাণে বৃহত্তর শতাংশ অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যকলাপে নিজেদের সময়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করে এবং তাই তাঁরা সময়-দরিদ্র হয়ে পড়েন। এখানে মহিলাদের সময় দারিদ্র্যকে উপযোগী ভাবে ব্যয়ের জন্য কম বাজেট-সহ দরিদ্র পরিবারগুলিতে আপেক্ষিক আয়ের দারিদ্র্যের সমার্থক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সেই অনুসারে এই প্রেক্ষাপটে, ইউটিলিটি কার্ভ (মহিলাদের জন্য ইউএফ এবং পুরুষদের জন্য ইউএম) দ্বারা চিহ্নিত অভিন্ন পছন্দ থাকা সত্ত্বেও, মহিলারা প্রায়শই শ্রম অবসরের জন্য কম সময় বরাদ্দ করেন (পুরুষদের তুলনায়) এবং তাই এগুলি থেকে নিম্ন স্তরের সুস্থতা লাভ করে

এ ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ ভাবে অর্থনৈতিক শর্তে অবসর কার্যকলাপে ব্যয় করা সময়ের সুযোগ ব্যয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। শ্রমবাজারে মজুরির হার কমে যাওয়ায়, ব্যক্তিদের জন্য তাঁদের সামগ্রিক সুস্থতা সর্বাধিক করে তোলার ক্ষেত্রে শ্রমের জন্য অবসরের বিকল্প সর্বোত্তম। তাই, কম মজুরি হারে অবশিষ্ট সময়ের বাজেটগুলি চিত্র ৫-এ পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে মজুরির হার কমে যাওয়ায় নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য শ্রম সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এটি ইনপুট মার্কেটে শ্রম সরবরাহের চিরাচরিত তত্ত্বের সঙ্গেও সাযুজ্যপূর্ণ।(৩৬) এখানে আবার মহিলাদের জন্য অবশিষ্ট সময়ের বাজেট পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য রকমের কম থাকে এবং মহিলারা প্রায়শই শ্রম অবসর কার্যলাপের জন্য কম সময় বরাদ্দ করে। চিত্র ৫-এর দ্বিতীয় রেখচিত্রটি আসলে বিভিন্ন মজুরি হারে ইনপুট বাজারে শ্রম সরবরাহের প্রতিনিধিত্ব করে। যে কোন মজুরি হারে, নারী শ্রম সরবরাহ করে, যা আখেরে বোঝায় যে, তার পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় কম

ফলস্বরূপ, নারীরা নিজেদের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা কার্যক্রমে সময় ব্যয় করার ফলে শ্রমবাজারে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার হ্রাস পায় এবং পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রম সরবরাহ কম হয়। নিচের চিত্র ৬ দর্শিয়েছে যে, ১৫-৫৯ বছর বয়সি মহিলাদের দ্বারা জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে ব্যয় করা দৈনিক মিনিট এবং ভারতের রাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ২০১৯ সালে মহিলা পুরুষ শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হারের অনুপাত

 

চিত্র ৬: ভারতে জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা এবং শ্রমশক্তির অংশগ্রহণে মহিলাদের ব্যয় করা সময় (২০১৯)

সূত্র: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য(৩৭)

প্রস্তাবনা: যে সব অঞ্চলে মহিলারা এই কাজগুলিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি সময় ব্যয় করেন, সেখানে মহিলা পুরুষ শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হারের অনুপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এটি ভারতের ক্ষেত্রে সত্য। চিত্র নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের (মহিলাদের বয়স ১৫-৫৯ বছর) জন্য জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে জনপ্রতি গড়ে এক দিনে ব্যয় করা মিনিট এবং ভারতের রাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ২০১৯ সালে পুরুষদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার (১৫-৫৯ বছর) মহিলাদের অনুপাতের মধ্যে একটি সরল পারস্পরিক সম্পর্কের ফলাফল প্রদর্শন করেছে। একটি মাঝারি নেতিবাচক সম্পর্ক-সহ ভারত জুড়ে জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে মহিলাদের সম্পৃক্ততার তারতম্য শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের অনুপাতের ১৭ শতাংশের মতো পরিবর্তনে অবদান রাখে ( শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পরিসংখ্যানগত ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ)।

 

চিত্র ৭: জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা এবং ভারতে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের অনুপাতের ক্ষেত্রে মহিলাদের সময় ব্যয়ের মধ্যে সম্পর্ক

উত্স: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে এসটিএটিএ ১৪-এ গণনা করা হয়েছে(৩৮)

ফলাফল ১: কর্মসংস্থানের হারে লিঙ্গ সমতাকে সুনিশ্চিত এবং পুরুষদের তুলনায় কম মহিলা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ সত্ত্বেও মহিলাদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে উন্নত করতে, পুরুষদের তুলনায় উচ্চ মজুরি হার-সহ শ্রমবাজারে মহিলাদের প্রবেশকে উৎসাহ জোগানো প্রয়োজন।

 

এমনকি ভারতীয় শ্রমবাজারে কোন লিঙ্গ পক্ষপাত ছাড়াই সমজাতীয় চাহিদার শর্ত বিবেচনার মধ্যেও, এটি কর্মসংস্থানের হারে লিঙ্গ বৈষম্যে রূপান্তরিত হবে, যেখানে দেখা গিয়েছে বিদ্যমান বাজারের মজুরিতে বেতনভুক্ত কর্মসংস্থান বা জীবিকার সুযোগ গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মহিলা উপলব্ধ নন (চিত্র ৮-এ শ্রমের চাহিদাকে চিহ্নিত করা হয়েছে)। শুধু মাত্র তুলনামূলক ভাবে উচ্চ  মজুরি হারে মহিলাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর আয়ের প্রভাব তাঁদের শ্রমশক্তিতে প্রবেশকে প্ররোচিত করতে পারে, যদিও এখানে অবসর (এক্স) হিসাবে চিহ্নিত অন্যান্য কার্যকলাপের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের মূল্য হিসেবে দর্শানো হয়েছে। জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে অসম সম্পৃক্ততার কারণে সময়ের দারিদ্র্য ভারতে পুরুষদের তুলনায় উচ্চতর মহিলা বেকারত্বের হারের নেপথ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে, যদিও দেশে মহিলা কর্মসংস্থানের হার পুরুষদের তুলনায় ধারাবাহিক ভাবে বেশি থেকেছে(৩৯)

 

চিত্র ৮: ভারতীয় শ্রমবাজারে প্রতিনিধিত্বমূলক কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি (কোন চাহিদা বিভাজন ছাড়াই)

সূত্র: লেখকের নিজস্ব

 

এর পাশাপাশি, নিবন্ধটি নিযুক্ত মহিলাদের জন্য গড় মজুরির হার পুরুষদের তুলনায় যে বেশি হওয়া উচিত, তা নিয়ে সওয়াল করেছে। যদিও বাস্তবতা এ ক্ষেত্রে একেবারেই ভিন্ন। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশনের তথ্য অনু্যায়ী, ভারতে মহিলারা প্রায়ই অবৈতনিক স্ব-কর্মসংস্থান এবং নিত্যনৈমিত্তিক কাজের অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন এবং প্রায়শই তাঁদের পুরুষ সহযোগীদের তুলনায় কম মজুরি পান ও আরও অনিশ্চিত পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন।(৪০) আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা অরক্ষিত কর্মসংস্থান হিসাবে এই ধরনের অবস্থার উল্লেখ করে এবং সামাজিক সুরক্ষা অর্থনৈতিক মন্দার জন্য উচ্চতর সংবেদনশীলতা  ছাড়াই অনিশ্চিত কাজের প্রতি নির্দেশ করে।(৪১) অবৈতনিক পারিবারিক কাজও এই গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা মহিলাদের জন্য অর্থনৈতিক  দুর্বলতার একটি চক্রকে স্থায়ী করে। প্রান্তিক কর্ম’-এ নারীদের অতি-প্রতিনিধিত্ব বিভিন্ন ধরনের মজুরি ও অবৈতনিক শ্রমের সঙ্গে গভীর ভাবে সম্পৃক্ত, যা বর্ধিত কর্মঘণ্টা, নমনীয় শ্রমের অবস্থা দ্বারা চিহ্নিত করা হয় এবং যার ফলে ভারতীয় শ্রম বাজারে লিঙ্গ-প্ররোচিত মজুরি বৈষম্যের পক্ষে একটি তির্যক ধরনের মূল্য বণ্টপরিলক্ষিত হয়।(৪২) অতএব, নারীদের কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলি তাঁদের পুরুষ সমকক্ষদের থেকে পরিমাণগত এবং গুণগত ভাবে আলাদা। সময়ের দারিদ্র্য থেকে কম মহিলা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ কম কর্মসংস্থানের হারে সংক্রমণের শৃঙ্খলগুলি আরও স্পষ্টতই দৃশ্যমান হলেও ভারতে কর্মরত মহিলা কর্মীবাহিনীকে কম বেতনের চাকরিতে সীমাবদ্ধ রাখার মাধ্যমে প্রান্তিকীকরণ আসলে এই কথা দর্শায় যে, ভারতীয় বাজারে শ্রম চাহিদাতে উল্লেখযোগ্য লিঙ্গ-প্ররোচিত বিভাজনও রয়েছে। নিচের চিত্র ৯-এ ১৫-৫৯ বছর বয়সি মহিলাদের দ্বারা জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে ব্যয় করা দৈনিক মিনিট এবং ভারতের রাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ২০১৯ সালে মহিলা পুরুষের মজুরির হারের অনুপাত দর্শানো হয়েছে।

চিত্র ৯: ভারতে জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা এবং মজুরি অনুপাতের ক্ষেত্রে মহিলাদের সময় ব্যয় (২০১৯)

উত্স: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য(৪৩)

 

যে অঞ্চলগুলিতে মহিলারা এই কাজগুলিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি সময় ব্যয় করেন, সেখানেও গড় মহিলা-পুরুষ মজুরির অনুপাত কম, যেমনটা ভারতীয় ক্ষেত্রে দেখা যায়। নিচের চিত্র ১০ জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে (মহিলাদের বয়স ১৫-৫৯ বছর) এবং মহিলা পুরুষের গড় মজুরি/বেতনের অনুপাতের মধ্যে গড়ে একজন ব্যক্তি প্রতি দিন ব্যয় করা সময়ের মধ্যে একটি সহজ পারস্পরিক সম্পর্কের ফলাফল দর্শিয়েছে। ভারতের রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ২০১৯ সালে নিয়মিত মজুরি/বেতনপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রাপ্ত উপার্জনও দর্শানো হয়েছে। একটি মাঝারি নেতিবাচক সম্পর্ক-সহ ভারত জুড়ে জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে মহিলাদের নিযুক্তির তারতম্যগুলি মহিলা পুরুষ মজুরি অনুপাতের ২৩ শতাংশের মতো পরিবর্তনে অবদান রাখে ( শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পরিসংখ্যানগত ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ)।

 

চিত্র ১০: ভারতে জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবা এবং মজুরি অনুপাতের জন্য মহিলাদের সময় ব্যয়ের মধ্যে সম্পর্ক

উত্স: লেখকের নিজস্ব, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে এসটিএটিএ ১৪-এ গণনা করা হয়েছে(৪৪)

ফলাফল ২: শ্রমবাজারের লিঙ্গ-প্ররোচিত চাহিদা বিভাজন সরবরাহ-পার্শ্বের বিভাজন (যেখানে যুক্তিবাদী সত্তা হিসাবে মহিলাদের তুলনামূলক ভাবে বেশি সক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা রয়েছে) মহিলাদের মজুরি হ্রাস করে এবং মহিলাদের কর্মসংস্থানের হার কমিয়ে দেয়।

চিত্র ১১ দর্শিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে যেখানে সামগ্রিক মহিলা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার পুরুষদের তুলনায় কম, লিঙ্গ প্রসঙ্গ বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে একটি সমতুল্য চাহিদা বিভাজন (পুরুষ শ্রমিকদের চাহিদা দ্বারা চিহ্নিত করা হয় এবং মহিলা শ্রমিকদের চাহিদা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়) কোন লিঙ্গ বেতনের দিকে চালিত করে না যাই হোক, যখন চাহিদা বিভাজন শ্রম সরবরাহের বৈষম্যের তুলনায় বেশি প্রকট হয় (যেমন মহিলা শ্রমিকদের জন্য এখনও নিম্ন চাহিদা দ্বারা অবনমিত), তা ভারতে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বেতনের ব্যবধান এবং সামগ্রিক ভাবে মহিলা জনসংখ্যার জন্য নিম্ন স্তরের আয়ের কারণও হয়ে ওঠে।

 

চিত্র ১১: ভারতীয় শ্রমবাজারে প্রতিনিধিত্বমূলক কর্মসংস্থানের দৃশ্য (চাহিদা বিভাজন-সহ)

সূত্র: লেখকের নিজস্ব

 

নমনীয় বা খণ্ড খণ্ড কাজের সময় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের বর্ধিত নৈমিত্তিককরণের মতো কৌশলগুলি মহিলাদের চাকরির বাজারে থাকতে প্ররোচিত করলেও সেগুলি বৈষম্যমূলক মজুরি এবং লিঙ্গ বেতনের ব্যবধানকেও শক্তিশালী করে তোলে, যা অর্থনৈতিক এবং উভয় ক্ষেত্রেই নারীদের সামাজিক সুস্থতাকে আরও খারাপ পর্যায়ে ঠেলে দেয়।(৪৫)(৪৬) নারীশ্রমের অবমূল্যায়ন এবং অমানবিক কর্মপরিস্থিতি বিভিন্ন সময় আয় দারিদ্র্য-সংযুক্ত পথের মাধ্যমে স্থিতিশীল উন্নয়ন কাঠামোর অধীনে নিহিত অন্য লক্ষ্যগুলির সঙ্গে অগ্রগতিতে অব্যাহত লিঙ্গ বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।(৪৭)(৪৮) স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বিশেষ করে এসডিজি-১ (দারিদ্র্যহীনতা), এসডিজি-২ (ক্ষুধাহীনতা), এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা), এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা), এসডিজি-৫ (লিঙ্গ সমতা অর্জন), এসডিজি-৮ (শালীন কাজ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) এবং এসডিজি-১০-এ (বৈষম্য হ্রাস) এই লক্ষ্য রাখা হয়েছে

 

মহিলাদের সময় দারিদ্র্যের জন্য সুযোগের খরচের অনুমান

মহিলাদের উপর পারিবারিক স্তরে জল ব্যবস্থাপনার অতিরিক্ত বোঝা প্রশমিত করা এবং ফলস্বরূপ সময়ের দারিদ্র্য হ্রাস কর্মসংস্থান আয়ে লিঙ্গ বৈষম্যের কারণগুলির জটিল বিন্যাসকে মোকাবিলা করার কাজ ত্বরান্বিত করতে পারে। নিম্নলিখিত অনুশীলনটি মহিলাদের সময় দারিদ্র্য মোকাবিলায় বিভিন্ন মাত্রার  দক্ষতা-সহ ভারতীয় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে জনপ্রতি তৈরি হয়ে উঠতে পারে এমন অতিরিক্ত বার্ষিক আয় অনুমান করার চেষ্টা করে, যা তাঁদের বেতনের কাজে অংশগ্রহণে সহায়তা করতে পারে। জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবার বোঝার কারণে হৃত আয়ের পরিপ্রেক্ষিতে মহিলারা যে সুযোগ ব্যয় বহন করেন, তার একটি সূচক মূল্যায়ন প্রদানের জন্য এই নিবন্ধটিতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যক্তি প্রতি বার্ষিক অতিরিক্ত আয় অনুমান করা হয়েছে - অর্থাৎ ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশঅদক্ষ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি হার ব্যবহার করে এই কাজগুলিতে ব্যয় করা মহিলাদের দৈনিক ঘণ্টা ৩০ শতাংশ, ৪০ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। সারণি ২-তে আনুমানিক অতিরিক্ত আয়ের পরিসীমা প্রদান করা হয়েছে যা ভারতীয় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে জলের ক্ষেত্রে পারিবারিক-স্তরের লিঙ্গ বৈষম্য প্রশমনের মাধ্যমে তৈরি করতে পারে (প্রতিটি দৃশ্যের অধীনে অনুমানের জন্য পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য)।

 

সারণি ২: নারীর সময় দারিদ্র্যের ১০-৫০ শতাংশ হ্রাস-সহ ব্যক্তি প্রতি আনুমানিক বার্ষিক অতিরিক্ত আয়

রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল

জল ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত অবৈতনিক গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে ব্যয় করা দৈনিক ঘণ্টা (মহিলা, ১৫-৫৯ বছর)

অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরির হার (টাকা, প্রতি ঘণ্টা)

মহিলাদের সময়ের দারিদ্র্যের ১০% - ৫০%

হ্রাস সহ ব্যক্তি প্রতি আনুমানিক বার্ষিক

অতিরিক্ত আয় (টাকায়)

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

৪.৪

৬৭.২৫

৯১৬২ - ৪৫৮১১

অন্ধ্র প্রদেশ

৪.২

৫৯.৩৫

৭৭৪৬ - ৩৮৭২৯

অরুণাচল প্রদেশ

৬.৩

৩১.৭৩

৬২০৪ – ৩১০২০

অসম

৬.৩

৪৪.৪৫

৮৬৬৮ - ৪৩৩৪১

বিহার

৬.৩

৪৮.৫০

৯৪৮৩ – ৪৭৪১৪

চণ্ডীগড়

৩.৮

৬০.৬৯

৭১০০ - ৩৫৫০২

ছত্তিশগড়

৫.০

৫০.৩৮

,৮৮৬ - ৩৯,৪৩১

দাদরা ও নগর হাভেলি

৫.৭

৪৪.৪১

৭৮৫২ – ৩৯২৬১

দমন ও দিউ

৫.৭

৪৪.৪১

৭৮৫২ – ৩৯২৬১

দিল্লি

৪.৯

৮২.৮৬

১২৫৮১ - ৬২৯০৪

গোয়া

৪.১

৫১.৮৮

৬৮২৫ - ৩৪১২৩

গুজরাত

৫.২

৫৬.৫০

৯২২৫ – ৪৬১২৭

হরিয়ানা

৫.০

৫০.৬৪

৭৮৭৩ – ৩৯৩৬৬

হিমাচল প্রদেশ

৫.৯

৫৪.০৯

৯৯৫৬ – ৪৯৭৮১

জম্মু ও কাশ্মীর

৫.৪

৩৮.৮৮

৬৫৭০ – ৩২৮৪৯

ঝাড়খণ্ড

৬.২

৪৩.২৫

৮২৯৯ – ৪১৪৯৬

কর্নাটক

৫.১

৬৯.৩৫

১১০৭১ - ৫৫৩৫৫

কেরল

৪.৬

৫৭.৭৭

৮২৯১ – ৪১৪৫৫

লাক্ষাদ্বীপ

৪.৮

৫০.১৩

৭৪৮১ – ৩৭৪০৩

মধ্যপ্রদেশ

৫.৫

৪৬.৩৯

৭৮৮৯ – ৩৯৪৪৪

মহারাষ্ট্র

৪.৯

৬১.০৫

৯২৭০ – ৪৬৩৫১

মণিপুর

৪.৮

৩২.৪৫

৪৮০৯ – ২৪০৪৭

মেঘালয়

৪.৭

৪৭.৬৩

৭০৩৩ – ৩৫১৬৬

মিজোরাম

৪.৪

৫২.৫০

৭২৩৫ – ৩৬১৭৩

নাগাল্যান্ড

৫.৩

২৫.৩৮

৪১৮৪ – ২০৯২২

ওড়িশা

৫.৮

৪৩.১৩

৭৮২৬ – ৩৯১৩২

পুদুচেরি

৪.২

৩৩.৪১

৪৩৬১ – ২১৮০৬

পঞ্জাব

৫.৬

৪৯.৭৮

৮৬২০ – ৪৩০৯৮

রাজস্থান

৫.৬

৩২.৩৮

৫৬৭৩ – ২৮৩৬৭

সিকিম

৪.৭

৬২.৫০

৯১৩৩ – ৪৫৬৬৩

তামিলনাড়ু

৪.০

৪৯.৮৭

৬২৭৫ – ৩১৩৭৫

তেলেঙ্গানা

৩.৭

৫৯.৪৬

৬৮০২ -৩৪০১২

ত্রিপুরা

৫.৯

৩৪.৯৯

৬৩৮৬ – ৩১৯২৮

উত্তরপ্রদেশ

৫.৬

৪৮.৫০

৮৪২৪ – ৪২১২২

উত্তরাখণ্ড

৬.১

৪৭.৫৫

৯০৭৫ – ৪৫৩৭৫

পশ্চিমবঙ্গ

৫.৬

৪৭.০৪

৮১৯৪ - ৪০৯৭১

উত্স: লেখকের গণনা, ইন্ডিয়া টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯ এবং সিমপ্লায়ান্স থেকে সংগৃহীত তথ্য(৪৯)(৫০)

 

সারণি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে অতিরিক্ত আয় উৎপাদনের সম্ভাবনার রক্ষণশীল অনুমান প্রদান করে। উচ্চ দক্ষতার স্তরে ন্যূনতম মজুরি হার অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রচলিত বাজার মজুরি উচ্চ মূল্যায়নের দিকে চালিত করতে পারে। এই সমস্ত কার্যকলাপে নারীদের অংশগ্রহণের যুক্তিসঙ্গত হ্রাসে দক্ষতার মাত্র নিম্ন পাঁচটি ডিসাইল বিবেচনা করা হয়, যে সমস্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য গার্হস্থ্য পরিষেবাগুলিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যূনতম নিযুক্তি প্রয়োজন। যাই হোক, বিশ্লেষণটিকে আরও উন্নতির জন্য সহজেই প্রসারিত করা যেতে পারে। গৃহস্থালি পর্যায়ে অতিরিক্ত আয়ের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে (স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদে)(৫১) এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা প্রায়ই পরিবারের নারীদের দ্বারা অগ্রাধিকার পায়(৫২)(৫৩) এটি সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে অবদান রাখতে পারে।(৫৪)

পারিবারিক-স্তরের জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলা করার জন্য তাই প্রথমেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলির একটি সামগ্রিক ধারণার প্রয়োজন, যা এই ধরনের কার্যকলাপে মহিলাদের ব্যাপক সম্পৃক্ততাকে স্থায়ী করে এবং এটি তাঁদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের উপর প্রভাব ফেলে। নীতি অবকাঠামোগুলিকে অবশ্যই পারিবারিক জল খাতে মহিলাদের অবৈতনিক কাজের বহুমুখী প্রভাবকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এই বিবেচনাগুলিকে সামগ্রিক কাঠামো লিঙ্গ মূলধারাকরণের জন্য কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একটি খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণ আসলে জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ মূলধারার সঙ্গে সম্পর্কিত বিনিয়োগ এবং পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক ব্যয়ের তুলনা করে এবং বিভিন্ন মাত্রার দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যমান লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলার বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধাগুলি সরকার-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অংশীদারদের সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি সুশীল সমাজ সংস্থা, বেসরকারি খাত, সম্প্রদায় এবং ব্যক্তি স্তরে নীতি, কর্মসূচি অনুশীলনের আরও কার্যকর নকশা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন-সহ জল ক্ষেত্রে থেকে উদ্ভূত লিঙ্গ বৈষম্য প্রশমিত করার সুযোগ তৈরি করে।

 

জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তির প্রচার

বাধাগুলি অতিক্রম করতে এবং জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ অন্তর্ভুক্তি প্রচারের কার্যকর কৌশলগুলিতে একটি বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক, সম্প্রদায়ভিত্তিক নীতির স্তরগুলিকে সম্বোধন করে ন্যায়সঙ্গত স্থিতিশীল জল প্রশাসন সুনিশ্চিত করা যায়

 

একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে জল প্রশাসনে মহিলাদের অংশগ্রহণের প্রচার: ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের জল নীতিগুলি মূলত লিঙ্গ-বৈষম্যের শিকার ছিল তাই লিঙ্গ-সংবেদনশীল জল সম্পদ ব্যবস্থাপনা অর্জনের একটি মৌলিক কৌশল হল প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে লিঙ্গ মূলধারাকে সক্ষম করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলিতে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রচার করা। এর মধ্যে রয়েছে জল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বোর্ডে নারীদের যোগদানের সুযোগ তৈরি করা, জল নীতি ও প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে নারীদের কণ্ঠস্বর সুনিশ্চিত করা এবং জল খাতে জনস্বার্থের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জেন্ডার বাজেটিংয়ের জন্য নারীদের একটি স্থান তৈরি করা।(৫৫)

 

• তৃণমূল স্তরের জল ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসাবে মহিলাদের ক্ষমতায়ন: লিঙ্গ অন্তর্ভুক্তি যাতে আলোচনার বাইরে প্রসারিত হয় তা সুনিশ্চিত করার জন্য তৃণমূল স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসাবে মহিলাদের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য স্থানীয় জল ব্যবস্থাপনা উদ্যোগে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে মহিলাদের উত্সাহিত করা তাঁদের সংযোগকে উন্নত করে এবং আলোচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সমাধান নিয়ে আসে।(৫৬)

 

সক্ষমতা বৃদ্ধি, সচেতনতা, এবং নীতি সহায়তা: মহিলাদের জন্য তৈরি করা সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচিগুলি জল ব্যবস্থাপনায় তাঁদের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই কর্মসূচিগুলি জল-ব্যবহারের দক্ষতার প্রশিক্ষণ প্রদান করে, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং উপলব্ধ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার সক্ষম করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা জ্ঞান প্রদান করে। ন্যূনতম সময় বা সুযোগ খরচ-সহ দক্ষ জল ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে নারীদের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দক্ষতা উন্নয়নের উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই কর্মসূচিগুলিতে মহিলাদের জল-সম্পর্কিত কাজগুলি সর্বোত্তম করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয়  সরঞ্জাম জ্ঞান প্রদান করা উচিত এবং শেষ পর্যন্ত তা-ই তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। একই সঙ্গে, জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সম্প্রদায় নীতির বৃত্তে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণকারণ এটি এই পরিসরে লিঙ্গ গতিশীলতার একটি বিস্তৃত বোঝাপড়াকে উত্সাহ জোগাবে। সহায়ক নীতিগুলি এই লিঙ্গ বৈষম্যকে স্বীকার করে নেয় এবং এই প্রচেষ্টাগুলিকে আরও শক্ত করার জন্য লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়টিকে তুলে ধরে।

 

একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জল ব্যবস্থাপনার অনুশীলনগুলি পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন করা: অগ্রগতির দিকে নজর রাখতে এবং লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীলতা সুনিশ্চিত করতে, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। লিঙ্গ দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়মিত মূল্যায়ন জল ব্যবস্থাপনা অনুশীলনে উন্নতির জন্য ফাঁক এবং সুযোগগুলি চিহ্নিত করতে পারে। লিঙ্গবিচ্ছিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পারিবারিক এবং সম্প্রদায় স্তরে জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বোঝার জন্যও জরুরি।(৫৭) এই ধরনের তথ্য নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং বৈষম্য নাক্ত করতে সাহায্য করে এবং লক্ষ্যযুক্ত হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করে

 

লিঙ্গ-ভারসাম্যপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য অনুদান এবং ভর্তুকি: জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ ভারসাম্যকে অগ্রাধিকার দেয় এমন সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন সংস্থাগুলিকে অনুদান ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহ জোগানো উচিত। এই আর্থিক ব্যবস্থাগুলি মহিলাদের উপর বোঝা হ্রাস করে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত অংশগ্রহণ সক্ষম করে সময় দারিদ্র্যের পরিমাণ কমায়।

 

• জনখাতে বিনিয়োগ এবং প্রগতিশীল কর কাঠামো: গৃহস্থালি পর্যায়ে নিয়মিত জলের লভ্যতা উন্নত করার লক্ষ্যে জনখাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রগতিশীল কর কাঠামোর সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে এটি স্থিতিশীল জলের ব্যবহারকে উত্সাহিত করে। এর পাশাপাশি এই ব্যবস্থাগুলি জল সংগ্রহ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায়শই মহিলাদের উপর অর্পিত অসম দায়বদ্ধতাকে হ্রাস করে। শহুরে বাসিন্দাদের নিরাপদ অবিচ্ছিন্ন পানীয় জল সরবরাহ করার জন্য ২০২০ সালে ওড়িশা সরকার দ্বারা চালু করা ড্রিঙ্ক ফ্রম ট্যাপ মিশন (২৪x৭ মিটার্ড ওয়াটার সাপ্লাই) হল সেই উদাহরণ যে, কী ভাবে সর্বনিম্ন কার্যকর সরকারি স্তরে সরকারি বিনিয়োগগুলি উপাদানগুলির নিম্নমুখী দায়বদ্ধতার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে।(৫৮)

 

জল খাতে মহিলাদের কর্মসংস্থানের প্রচার: জল খাতে মহিলাদের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা তাঁদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করে এবং সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ মূলধারাকে উৎসাহিত করে। এই পন্থা সুনিশ্চিত করে যে, জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নারীদের অবৈতনিক নিযুক্তি কার্যকর কর্মসংস্থান বা জীবিকার সুযোগে রূপান্তরিত হয়, তাঁদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন স্থিতিশীল উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে। এসটিইএম ক্ষেত্রে বিদ্যমান লিঙ্গ ব্যবধানের কারণে জল খাতে নারী পেশাজীবীদের অভাব রয়েছে। এই ব্যবধানটি নির্মূল করলে নারীদের এই ক্ষেত্রে প্রবেশ সহজতর হবে, যা তাঁদের জল উদ্যোক্তাদের মতো ভূমিকা নিতে সক্ষম করবে

 

• লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল প্রকল্পগুলির জন্য বেসরকারি-সরকারি অংশীদারিত্ব: লিঙ্গ-সংবেদনশীল জল ব্যবস্থাপনা প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেসরকারি-সরকারি অংশীদারিত্বের ব্যবহার সহায়ক হতে পারে। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাতের সংস্থা বা নাগরিক সমাজ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা উদ্ভাবনী সমাধান, বর্ধিত বিনিয়োগ, প্রকল্পের নকশা বাস্তবায়নে স্থানীয়করণ এবং প্রকল্পের স্থায়িত্ব উন্নত করতে পারে।(৫৯)

এখানে বর্ণিত কৌশলগুলি বাধা অতিক্রম করা এবং জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ অন্তর্ভুক্তির প্রচারের জন্য একটি সর্বাত্মক পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে। এই পদক্ষেপগুলির বাস্তবায়ন করা ভারতের জল ব্যবস্থাপনা অনুশীলনে ইক্যুইটি, স্থায়িত্ব এবং স্থিতিস্থাপকতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং এ কথা সুনিশ্চিত করে যে, দেশের মহিলারা আর দ্বিগুণ বোঝা বহন করবেন না এবং তাঁদের বিস্তৃত জল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য সুযোগ ব্যয় বহন করবেন।

উপসংহার

জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ ভূমিকা এবং ভারতে বিস্তৃত অর্থনৈতিক পরিসরের মধ্যে জটিল সম্পর্ক অনস্বীকার্য। জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা ভারতীয় শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলে। গৃহস্থালির দায়িত্ব ও কর্মসংস্থানের ভারে দরিদ্র নারীরা প্রায়ই সীমিত ক্ষমতায় শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ করে। এর ফলে পুরুষদের তুলনায় নারীদের শ্রম সরবরাহ কম হয়, এমনকি একই মজুরি হারেও নারীর কর্মসংস্থানের হার দ্ব্যর্থহীন ভাবে কম এর পাশাপাশি, ভারতীয় শ্রমবাজারে লিঙ্গ বেতনের ব্যবধান নারীদের সময় দারিদ্র্যের অর্থনৈতিক পরিণতিকে আরও প্রকট করে তোলে। কথা নির্দেশ করে যে, পূর্ণ-সময়ের কর্মসংস্থানের জন্য মহিলাদের সীমিত প্রাপ্যতা চাহিদা বিভাজনের দিকে চালিত করে, নিয়োগকর্তারা মহিলাদের কম মজুরি প্রদান করে। এই বেতনের ব্যবধান ভারতীয় পরিসরে লিঙ্গ-ভিত্তিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সংক্ষেপে বলা যায়, জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলা সামাজিক ন্যায্যতার বিষয় এবং একটি অর্থনৈতিক বাধ্যবাধ্যকতাও। এই অত্যাবশ্যক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন জল প্রকল্পের দক্ষতা বাড়াতে পারে, শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে এবং সময়ের দারিদ্র্য হ্রাস করতে পারে, যা শ্রমবাজারে লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতকে ন্যায়সঙ্গত এবং অর্থনৈতিক ভাবে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য এই সমস্যাগুলিকে তাদের মূলে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সমাধান করা অপরিহার্য।

এর পাশাপাশি, জল ব্যবস্থাপনায় পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ এবং লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা অব্যাহত থাকায় নারীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ উপলব্ধিকে বাধা দেয়, নারী জল পেশাদারদের অভাব এবং এই ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচ্চ স্তরে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব যা সাংস্কৃতিক পক্ষপাত, সীমিত শিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক নীতি দ্বারা চালিত - নীতি কাঠামোতে লিঙ্গ মূলধারাকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জল প্রশাসনে নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র সামাজিক বা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের বিষয় নয়; বরং এটি জল প্রকল্পের দক্ষতা কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। নারীদের গভীর-প্রোথিত জ্ঞান এবং পরিবারের জল ব্যবস্থাপনায় মুখ্য ভূমিকা নারীদের সম্প্রদায়-ভিত্তিক উদ্যোগে এবং জল প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অপরিহার্য অংশীদার করে তোলে। অটল ভূজল যোজনা এবং উত্তরাখণ্ড রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রজেক্টের মতো কর্মসূচির সাফল্য জল ব্যবস্থাপনায় মহিলাদের সম্পৃক্ততার রূপান্তরমূলক প্রভাবকে নির্দেশ করে এবং ভারতের জল ক্ষেত্রে লিঙ্গ মূলধারা লিঙ্গ প্রতিনিধিত্বের পক্ষে একটি শক্তিশালী সওয়াল তোলে।(৬০)

 

পরিশিষ্ট: মহিলাদের সময় দারিদ্র্য হ্রাসের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যক্তি প্রতি আনুমানিক বার্ষিক অতিরিক্ত আয়

রাজ্য/ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল

সময় দারিদ্র্যের ১০% হ্রাস-সহ ব্যক্তি প্রতি অতিরিক্ত বার্ষিক আয় (টাকায়)

সময় দারিদ্র্যের ২০% হ্রাস-সহ ব্যক্তি প্রতি অতিরিক্ত বার্ষিক আয় (টাকায়)

সময় দারিদ্র্যের ৩০% হ্রাস-সহ ব্যক্তি প্রতি অতিরিক্ত বার্ষিক আয় (টাকায়)

সময় দারিদ্র্যের ৪০% হ্রাস-সহ ব্যক্তি প্রতি অতিরিক্ত বার্ষিক আয় (টাকায়)

সময় দারিদ্র্যের ৫০% হ্রাস-সহ ব্যক্তি প্রতি অতিরিক্ত বার্ষিক আয় (টাকায়)

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

৯১৬২

১৮৩২৪

২৭৪৮৬

৩৬৬৪৯

৪৫৮১১

অন্ধ্র প্রদেশ

৭৭৪৬

১৫৪৯২

২৩২৩৮

৩০৯৮৩

৩৮৭২৯

অরুণাচল প্রদেশ

৬২০৪

১২৪০৮

১৮৬১২

২৪৮১৬

৩১০২০

অসম

৮৬৬৮

১৭৩৩৬

২৬০০৫

৩৪৬৭৩

৪৩৩৪১

বিহার

৯৪৮৩

১৮৯৬৫

২৮৪৪৮

৩৭৯৩১

৪৭৪৪১

চণ্ডীগড়

৭১০০

১৪২০১

২১৩০১

২৮৪০২

৩৫৫০২

ছত্তিশগড়

৭৮৮৬

১৫৭৭২

২৩৬৫৯

৩১৫৪৫

৩৯৪৩১

দাদরা ও নগর হাভেলি

৭৮৫২

১৫৭০৪

২৩৫৫৬

৩১৪০৯

৩৯২৬১

দমন ও দিউ

৭৮৫২

১৫৭০৪

২৩৫৫৬

৩১৪০৯

৩৯২৬১

দিল্লি

১২৫৮১

২৪১৬২

৩৭৭৪২

৫০৩২৩

৬২৯০৪

গোয়া

৬৮২৫

১৩৬৪৯

২০৪৭৪

২৭২৯৯

৩৪১২৩

গুজরাত

৯২২৫

১৮৪৫১

২৭৬৭৬

৩৬৯০১

৪৬১২৭

হরিয়ানা

৭৮৭৩

১৫৭৪৭

২৩৬২০

৩১৪৯৩

৩৯৩৬৬

হিমাচল প্রদেশ

৯৯৫৬

১৯৯১৩

২৯৮৬৯

৩৯৮২৫

৪৯৭৮১

জম্মু ও কাশ্মীর

৬৫৭০

১৩১৪০

১৯৭১০

২৬২৮০

৩২৮৪৯

ঝাড়খণ্ড

৮২৯৯

১৬৫৯৮

২৪৮৯৭

৩৩১৯৬

৪১৪৯৬

কর্নাটক

১১০৭১

২২১৪২

৩৩২১৩

৪৪২৮৪

৫৫৩৫৫

কেরল

৮২৯১

১৬৫৮২

২৪৮৭৩

৩৩১৬৪

৪১৪৫৫

লাক্ষাদ্বীপ

৭৪৮১

১৪৯৬১

২২৪৪২

২৯৯২৩

৩৭৪০৩

মধ্যপ্রদেশ

৭৮৮৯

১৫৭৭৮

২৩৬৬৭

৩১৫৫৬

৩৯৪৪৪

মহারাষ্ট্র

৯২৭০

১৮৫৪১

২৭৮১১

৩৭০৮১

৪৬৩৫১

মণিপুর

৪৮০৯

৯৬৯১

১৪৪২৮

১৯২৩৮

২৪০৪৭

মেঘালয়

৭০৩৩

১৪০৬৭

২১১০০

২৮১৩৩

৩৫১৬৬

মিজোরাম

৭২৩৫

১৪৪৬৯

২১৭০৪

২৮৯৩৮

৩৬১৭৩

নাগাল্যান্ড

৪১৮৪

৮৩৬৯

১২৫৫৩

১৬৩৭৮

২০৯২২

ওড়িশা

৭৮২৬

১৫৬৫৩

২৩৪৭৯

৩১৩০৫

৩৯১৩২

পুদুচেরি

৪৩৬১

৮৭২২

১৩০৮৩

১৭৪৪৫

২১৮০৬

পঞ্জাব

৮৬২০

১৭২৩৯

২৫৮৫৯

৩৪৪৭৮

৪৩০৯৮

রাজস্থান

৫৬৭৩

১১৩৪৭

১৭০২০

২২৬৯৪

২৮৩৬৭

সিকিম

৯১৩৩

১৮২৬৫

২৭৩৯৮

৩৬৫৩০

৪৫৬৬৩

তামিলনাড়ু

৬২৭৫

১২৫৫০

১৮৮২৫

২৫১০০

৩১৩৭৫

তেলেঙ্গানা

৬৮০২

১৩৬০৫

২০৪০৭

২৭২১০

৩৪০১২

ত্রিপুরা

৬৩৮৬

১২৭৭১

১৯১৫৭

২৫৫৪২

৩১৯২৮

উত্তরপ্রদেশ

৮৪২৪

১৬৮৪৯

২৫২৭৩

৩৩৬৯৭

৪২১২২

উত্তরাখণ্ড

৯০৭৫

১৮১৫০

২৭২২৫

৩৬৩০০

৪৫৩৭৫

পশ্চিমবঙ্গ

৮১৯৪

১৬৩৮৮

২৪৫৮২

৩২৭৭৬

৪০৯৭১

সূত্র: লেখকের গণনা

পাদটীকা

[ক] টিইউএস জরিপের প্রধান বিভাগগুলির অধীনে কার্যকলাপের গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ অনুসারে, গ্রুপ ২৪২ বলতে বোঝায় ‘নিজের চূড়ান্ত ব্যবহারের জন্য প্রাকৃতিক অন্যান্য উত্স থেকে জল আনা এবং গ্রুপ ৩২৫ বলতে বোঝায় ‘জল সরবরাহ ও উত্তপ্ত করার জন্য চুল্লি, বয়লার, আগুনের ব্যবহার।’

১) এ কে বিশ্বাস এবং সি তর্তাজাদা, ‘চেঞ্জিং গ্লোবাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ল্যান্ডস্কেপ’, ইন ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইন ২০২০ অ্যান্ড বিয়ন্ড, ওয়াটার রিসোর্সেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, সম্পাদনা এ কে বিশ্বাস, সি তর্তাজাদা এবং আর ইজকুইয়ের্দো, বার্লিন, হাইডেলবার্গ- স্প্রিঙ্গার, ২০০৯, https://doi.org/10.1007/978-3-540-89346-2_1.

২) সীমা কুলকার্নি, ‘উইমেন অ্যান্ড ডিসেন্ট্রালাইজড ওয়াটার গভর্ন্যান্স- ইস্যুজ, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড দি ওয়ে ফরওয়ার্ড’, ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি, ৪৬ (১৮): ৬৪-৭২, এপ্রিল ২০১১, https://genderandsecurity.org/projects-resources/research/women-and-decentralized-water-governance-issues-challenges-and-way.

৩) মৈত্রেয়ী কৃষ্ণরাজ, ‘উইমেন অ্যান্ড ওয়াটার- ইস্যুজ অব জেন্ডার, কাস্ট, ক্লাস অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনস’, ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি, ৪৬ (১৮): ৬৪-৭২, এপ্রিল ২০১১, https://www.indiawaterportal.org/articles/women-and-water-collection-papers-economic-and-political-weekly-volume-xlvi-number-18-0.

৪) মৈত্রেয়ী কৃষ্ণরাজ, ‘উইমেন অ্যান্ড ওয়াটার- ইস্যুজ অব জেন্ডার, কাস্ট, ক্লাস অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনস’

৫) ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ‘ওয়াটার রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট’, https://www.worldbank.org/en/topic/waterresourcesmanagement#2.

৭) ন্যাশনাল ওয়াটার মিশন, ‘উইমেন ওয়াটার কম্পেনডিয়াম’, জুলাই ২০২১, https://nwm.gov.in/sites/default/files/Women%20Water%20Compendium_July%2021.pdf.

৭) বর্ষা খন্দকার, বসন্ত পি গান্ধী এবং নিকি জনসন, ‘জেন্ডার পার্সপেক্টিভ ইন ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট- দি ইনভলমেন্ট অফ উইমেন ইন পার্টিসিপেটরি ওয়াটার ইনস্টিটিউশনস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’, ওয়াটার ১২, নম্বর ১ (২০২০): ১৯৬, https://doi.org/10.3390/w12010196.

৮) এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ফাইলস, ব্যালান্সিং দ্য বার্ডেন? ডেস্ক রিভিউ অব উইমেন’স টাইম পভার্টি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক, ডিসেম্বর ২০১৫, https://www.adb.org/publications/balancing-burden-womens-time-poverty-and-infrastructure.

৯) ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন অব দি ইউনাইটেড নেশনস, ‘চ্যাপ্টার ৬- জেন্ডার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি- এগ্রিকালচার’, https://www.fao.org/3/x0171e/x0171e06.htm#P424_56349.

১০) শ্যারন বি মেদগল, সুসানা এদেন এবং এলন শামির, ‘ওয়াটার গভর্ন্যান্স, স্টেকহোল্ড এনগেজমেন্ট, অ্যান্ড সাস্টেনেবল ওয়াটার রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট’, ওয়াটার ২০১৭, নম্বর ৩ (২০১৭), https://doi.org/10.3390/w9030190.

১১) মালিন ফালকেনমার্ক, ‘দ্য ম্যাসিভ ওয়াটার স্কারসিটি নাও থ্রেটনিং আফ্রিকা- হোয়াই ইজন’ট ইট বিয়িং অ্যাড্রেসড,’ অ্যাম্বিও ১৮। নম্বর ২ (১৯৮৯): ১১২-১১৮, https://www.jstor.org/stable/4313541.

১২) রাইটওয়াটার, ‘ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইন রুরাল ইন্ডিয়া- স্কোপ, চ্যালেঞ্জেস, সলিউশনস’, https://www.ritewater.in/water-management-in-rural-india-scope-challenges-solutions/.

১৩) রাইটওয়াটার, ‘ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইন রুরাল ইন্ডিয়া- স্কোপ, চ্যালেঞ্জেস, সলিউশনস’

১৪) ইউএন উইমেন, ‘ইস্যু ব্রিফ- জেন্ডার-রেসপন্সিভ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন সিস্টেমস’, https://www.unwomen.org/en/digital-library/publications/2018/6/issue-brief-gender-responsive-water-and-sanitation-systems.

১৫) এলস লেক্যোটের, বেড দে’ক্সেল, জোর্ন ভ্যান ক্যাম্পেনহুট, ‘শেয়ারিং কমন রিসোর্সেস ইন পেট্রিয়ার্কাল অ্যান্ড স্টেটাস-বেসড সোসাইটিজ- এভিডেন্স ফ্রম তানজানিয়া’ ফেমিনিস্ট ইকোনমিকস, নম্বর ৩ (২০১৫), https://doi.org/10.1080/13545701.2015.1024274

১৬) ওয়াটার রিসোর্স ইনস্টিটিউট, ‘উইমেন আর সিক্রেট উইপন ফর বেটার ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’, https://www.wri.org/insights/women-are-secret-weapon-better-water-management.

১৭) ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, ‘উইমেন ওয়াটার চ্যাম্পিয়নস’, https://www.undp.org/india/publications/women-water-champions.

১৮) নন্দিতা সিং, ‘দ্য চেঞ্জিং রোল অফ উইমেন ইন ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট- মিথস অ্যান্ড রিয়্যালিটিস’, ওয়াগাড়ু- আ জার্নাল অব ট্রান্সন্যাশনাল উইমেন্স অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, নম্বর ৩ (২০০৬), https://sh.diva-portal.org/smash/record.jsf?pid=diva2%3A1628434&dswid=-7684

১৯) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’, ২০১৯, https://www.mospi.gov.in/sites/default/files/publication_reports/Report_TUS_2019_0.pdf?download=1.

২০) ইতিশ্রী পট্টনায়ক এবং কুন্তলা লাহিড়ি-দত্ত, ‘হোয়াট ডিটারমাইন্স উইমেন’স এগ্রিকালচারাল পার্টিসিপেশন? আ কম্প্যারেটিভ স্টাডি অব ল্যান্ডহোল্ডিং হাউসহোল্ডস ইন রুরাল ইন্ডিয়া’, জার্নাল অব রুরাল স্টাডিজ, নম্বর ৭৬ (২০২০), https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0743016718305631

২১) শ্বেতা সেনগার, ‘ওয়াটার ওয়াইভস- হাউ ল্যাক অফ ওয়াটার ইন দিস মহারাষ্ট্র ভিলেজ লেড টু পলিগ্যামি’, ইন্ডিয়া টাইমস, এপ্রিল ২৭, ২০২২, https://www.indiatimes.com/news/india/water-wives-how-lack-of-water-in-this-maharashtra-village-led-to-polygamy-568090.html.

২২) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

২৩) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

২৪) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

২৫) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

২৬) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

২৭) পূজা দাস, ‘ইউনিভার্সাল ট্যাপ ওয়াটার কভারেজ কুড সেভ ৪০০,০০০ লাইভস, ১০১ বিলিয়ন ইউএস ডলার ইন কস্টস ফর ইন্ডিয়া- হু’, লাইভমিন্ট, জুন ১০, ২০২৩, https://www.livemint.com/news/india/universal-tap-water-coverage-could-save-400-000-lives-101-bn-in-costs-for-india-who-11686378183020.html.

২৮) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

২৯) ল্যান মেরকাদো, মোহাম্মদ নাসিরি এবং যামিনী মিশ্র, ‘উইমেন’স আনপেড অ্যান্ড আন্ডারপেড ওয়ার্ক ইন টাইমস অফ কোভিড-১৯’, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জুন ০১, ২০২০, https://www.amnesty.org/en/latest/campaigns/2020/06/womens-unpaid-and-underpaid-work-in-times-of-covid19/.

৩০) স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায় এবং শুভনীল চৌধুরী, ‘ফিমেল লেবার ফোর্স পার্টিসিপেশন ইন ইন্ডিয়া- অ্যান এম্পিরিক্যাল স্টাডি’, দি ইন্ডিয়ান জার্নাল অব লেবার ইকোনমিকস, ভলিউম ৬৫, পৃষ্ঠা ৫৯-৮৩ (২০২২), https://doi.org/10.1007/s41027-022-00362-0.

৩১) পুষ্পেন্দ্র সিং এবং ফাল্গুনী পট্টনায়ক, ‘আনফোল্ডিং আনপেড ডোমেস্টিক ওয়ার্ক ইন ইন্ডিয়া- উইমেন’স কনস্ট্রেন্টস, চয়েসেজ, অ্যান্ড কেরিয়ার’, প্যালগ্রেভ কমিউনিকেশনস, ভলিউম ৬, আর্টিকল নম্বর- ১১ (২০২০), https://doi.org/10.1057/s41599-020-0488-2.

৩২) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

৩৩) গ্যারি এস বেকার, ‘আ থিয়োরি অব দি অ্যালোকেশন অব টাইম’, দি ইকোনমিক জার্নাল, ৭৫, নম্বর ২৯৯ (১৯৬৫): ৪৯৩-৫১৭, https://doi.org/10.2307/2228949.

৩৪) ড্যান কুই, জিয়াং উই, দিয়ান্তিং উ, নানা কুই এবং পিটার নিক্যাম্প, ‘লিজার টাইম অ্যান্ড লেবার প্রোডাক্টিভিটি- আ নিউ ইকোনমিক ভিউ রুটেড ফ্রম সোশিওলজিক্যাল পার্সপেক্টিভ’, ইকোনমিকস- দি ওপেন-অ্যাক্সেস, ওপেন-অ্যাসেসমেন্ট ই-জার্নাল, ১৩ (২০১৯-৩৬): ১–২৪, http://dx.doi.org/10.5018/economics-ejournal.ja.2019-36.

৩৫) গ্যারি এস বেকার, ‘আ থিয়োরি অব দি অ্যালোকেশন অব টাইম’

৩৬) গ্যারি এস বেকার, ‘আ থিয়োরি অব দি অ্যালোকেশন অব টাইম’

৩৭) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

৩৮) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

৩৯)’ইন্ডিয়ান উইমেন আর মোর এমপ্লয়েবল দ্যান মেন; গেস হাউ মেনি আর ইন দি ওয়ার্কফোর্স’, ইকোনমিক টাইমস, ডিসেম্বর ২৯, ২০২২, https://economictimes.indiatimes.com/jobs/indian-women-are-more-employable-than-men-guess-how-many-are-in-the-workforce/articleshow/96596276.cms.

৪০) স্টিভেল কাপসোস, আন্দ্রেয়া সিলবারম্যান এবং এভাঞ্জেলিয়া বোর্মপাউলা, ‘হোয়াই ইজ ফিমেল লেবার ফোর্স পার্টিসিপেশন ডিক্লাইনিং শার্পলি ইন ইন্ডিয়া?’ ইন্টারন্যাশনাল লেবার অফিস আইএলও রিসার্চ পেপার নম্বর ১০ (অগস্ট ২০১৪), https://www.ilo.org/wcmsp5/groups/public/---dgreports/---stat/documents/publication/wcms_631497.pdf.

৪১) স্টিভেল কাপসোস, আন্দ্রেয়া সিলবারম্যান এবং এভাঞ্জেলিয়া বোর্মপাউলা, ‘হোয়াই ইজ ফিমেল লেবার ফোর্স পার্টিসিপেশন ডিক্লাইনিং শার্পলি ইন ইন্ডিয়া?’

৪২) প্রবীণ ঝা, অবিনাশ কুমার এবং যামিনী মিশ্র, ‘লেবারিং উইমেন- ইস্যুজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন কন্টেম্পোরারি ইন্ডিয়া’, হায়দরাবাদ ওরিয়েন্ট ব্ল্যাকসোয়ান (২০২০), https://vslopac.iima.ac.in/cgi-bin/koha/opac-detail.pl?biblionumber=216408

৪৩) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

৪৪) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

৪৫) ক্লদিয়া গোল্ডিন, ‘আওয়ার্স ফ্লেক্সিবিলিটি অ্যান্ড দ্য জেন্ডার গ্যাপ ইন পে’, সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেস, এপ্রিল ১৫, ২০১৫, https://www.americanprogress.org/article/hours-flexibility-and-the-gender-gap-in-pay-2/.

৪৬) মারিয়া ই ক্যানন এবং লিমর গোলান, ‘জেন্ডার পে গ্যাপ মে বি লিঙ্কড টু ফ্লেক্সিবল অ্যান্ড ইরেগুলার আওয়ার্স’, ফেডারেল অ্যান্ড ইরেগুলার আওয়ার্স’, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব সেন্ট লুইস, জুলাই ১৪, ২০১৬, https://www.stlouisfed.org/publications/regional-economist/july-2016/gender-pay-gap-may-be-linked-to-flexible-and-irregular-hours.

৪৭) ইউএন উইমেন, ‘প্রোগ্রেস অন দ্য সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস- দ্য জেন্ডার স্ন্যাপশট ২০২১’, ইউনাইটেড নেশনস (২০২১), https://www.unwomen.org/en/digital-library/publications/2021/09/progress-on-the-sustainable-development-goals-the-gender-snapshot-2021.

৪৮) ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন, ‘প্রোগ্রেস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ক্লোজিং পে গ্যাপ অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড গ্যাপস উইদিন দ্য ২০৩০ অ্যাজেন্ডা ফর সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’, নাইনটিন্থ আমেরিকান রিজিওনাল মিটিং, অক্টোবর ২০১৮, https://www.ilo.org/global/docs/WCMS_645428/lang--en/index.htm.

৪৯) মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন, ‘রিপোর্ট অন টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’

৫০) https://www.simpliance.in/minimum-wages

৫১) পেরেজ-মন্টিয়াল, হোসে এবং কার্লস মানেরা এরবিনা, ‘ইনভেস্টমেন্ট সাস্টেনড বাই কনসাম্পশন- আ লিনিয়ার অ্যান্ড ননলিনিয়ার টাইম সিরিজ অ্যানালিসিস’, সাস্টেনেবিলিটি, ১১, নম্বর ১৬ (২০১৯): ৪৩৮১, https://doi.org/10.3390/su11164381

৫২) গ্যারি এস বেকার এবং নাইজেল টমাস, ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল অ্যান্ড দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব ফ্যামিলিজ’, জার্নাল অব লেবার ইকোনমিকস, ৪, নম্বর ৩, পার্ট ২ (১৯৮৬): এস১-এস৩৯, https://www.journals.uchicago.edu/doi/abs/10.1086/298118

৫৩) ‘ইনভেস্টিং ইন উইমেন অ্যান্ড গার্লস’, দি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, https://www.oecd.org/dac/gender-development/investinginwomenandgirls.htm

৫৪) পেরেজ-মন্টিয়াল, হোসে এবং কার্লস মানেরা এরবিনা, ‘ইনভেস্টমেন্ট সাস্টেনড বাই কনসাম্পশন- আ লিনিয়ার অ্যান্ড ননলিনিয়ার টাইম সিরিজ অ্যানালিসিস’

৫৫) ইমরান জালাল, ‘উইমেন, ওয়াটার অ্যান্ড লিডারশিপ’, এডিবি ব্রিফস নম্বর ২৪, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, ডিসেম্বর ২০১৪, https://www.adb.org/publications/women-water-and-leadership.

৫৬) ‘প্রোমোটিং উইমেন’স পার্টিসিপেশন ইন ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ইন সেন্ট্রাল এশিয়া’, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, জানুয়ারি ২০, ২০২১, https://www.worldbank.org/en/news/feature/2021/01/20/promoting-womens-participation-in-water-resource-management-in-central-asia.

৫৭) জনি সিগার, ‘সেক্স-ডিসেগ্রিগেটেড ইন্ডিকেটরস ফর ওয়াটার অ্যাসেসমেন্ট মনিটরিং অ্যান্ড রিপোর্টিং’, টেকনিক্যাল পেপার, জেন্ডার অ্যান্ড ওয়াটার সিরিজ, ডব্লিউডব্লিউএপি, ইউনেসকো, ২০১৫, https://unesdoc.unesco.org/ark:/48223/pf0000234082.locale=en.

৫৮) গভর্নমেন্ট অফ ওড়িশা, ‘ড্রিঙ্ক ফ্রম ট্যাপ মিশন- পিওর ফর শিওর’, ওয়াটার কর্পোরেশন অফ ওড়িশা, অগস্ট ২০১৯, https://urban.odisha.gov.in/sites/default/files/2023-03/Drink-From-Tap-Mission.pdf.

৫৯) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক-প্রাইভেট কোঅপারেশন উইথ সিভিল সোসাইটি’, হোয়াইট পেপার, জানুয়ারি ২০২৩, https://www3.weforum.org/docs/WEF_Strengthening_Public_Private_Cooperation_with_Civil_Society_2022.pdf.

৬০) ‘হাউ ইজ ইন্ডিয়া অ্যাড্রেসিং ইটস ওয়াটার নিডস?’ ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক ব্রিফস, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, https://www.worldbank.org/en/country/india/brief/world-water-day-2022-how-india-is-addressing-its-water-needs

 

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar

Debosmita Sarkar is a Junior Fellow with the SDGs and Inclusive Growth programme at the Centre for New Economic Diplomacy at Observer Research Foundation, India. ...

Read More +