Author : Amrita Narlikar

Expert Speak Raisina Debates
Published on Oct 14, 2022 Updated 8 Days ago

ফেডারেল বিদেশমন্ত্রীর পদে আনালেনা বেয়ারবককে নিযুক্ত করা হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে হইচই পড়ে যায় এই নিয়ে যে, অবশেষে জার্মানি তার প্রথম মহিলা বিদেশমন্ত্রী পেল।(১)

জার্মানির নারীবাদী বিদেশ নীতি: একটি সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিকোণ

জার্মানির নারীবাদী বিদেশ নীতি: একটি সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিকোণ

বিদেশমন্ত্রী নিরাশও করেননি। ২০২১ সালের কোয়ালিশন চুক্তিতে (জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এস পি ডি, গ্রিনস এবং ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফ ডি পি-র মধ্যে) বলা হয় যে, ‘আমরা অংশীদাররা একসঙ্গে নারীবাদী বৈদেশিক নীতির অধিকার, সম্পদ এবং বিশ্বব্যাপী নারী ও মেয়েদের প্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের প্রচার করতে চাই৷ আমরা চাই, আরও বেশি নারী আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতায় বহাল হোন এবং ইউ এন রেজোলিউশন ১৩২৫-এর বাস্তবায়নের জন্য ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠুক।’

বেয়ারবক জার্মানির জন্য একটি নারীবাদী বিদেশ নীতি (এফ এফ পি) নিরূপণের মাধ্যমে এই কাজটিকে যথাযথ অগ্রাধিকার দিয়েছেন৷ তাঁর নেতৃত্বে জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস (এফ এফ ও) থ্রি আর + ডি (নারী ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার, প্রতিনিধিত্ব এবং সম্পদের প্রচার ও বৈচিত্র্যের বৃদ্ধি) ফর্মুলা তৈরি করেছে। সর্বোপরি, মন্ত্রী বেয়ারবক এই প্রচেষ্টায় একা নন। সুইডেন, ফ্রান্স, কানাডা, মেক্সিকো এবং স্পেনও ‘নারীবাদ’-এর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অনুরূপ নীতি ঘোষণা করেছে; এফ এফ পি-র জন্য একই রকম সমর্থন ভারতেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়াও তার আসন্ন জি২০ প্রেসিডেন্সির প্রেক্ষিতে #উইমেনইনডিপ্লোমেসি এবং এই জাতীয় হ্যাশট্যাগগুলি প্রায়শই টুইটারে আলোচিত হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ জিটজেস্ট বা যুগচেতনা গড়ে তোলা এবং তাকে সমৃদ্ধতর করার জন্য বেয়ারবককে কৃতিত্ব দিতে হবে।

সুইডেন, ফ্রান্স, কানাডা, মেক্সিকো এবং স্পেনও ‘নারীবাদ’-এর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অনুরূপ নীতি ঘোষণা করেছে; এফ এফ পি-র জন্য একই রকম সমর্থন ভারতেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়াও তার আসন্ন জি২০ প্রেসিডেন্সির প্রেক্ষিতে #উইমেনইনডিপ্লোমেসি এবং এই জাতীয় হ্যাশট্যাগগুলি প্রায়শই টুইটারে আলোচিত হচ্ছে।

এ সব কথা মাথায় রেখেও এটা বলা যায় যে, গবেষকদের ভূমিকা হল বিদ্যমান ধারার সশক্তিকরণ না করা। অনেক সময়েই সহজ বিকল্প(২) হলেও তাঁদের কাজ হল ক্ষমতার অলিন্দে বসে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের কণ্ঠস্বরকেই অনুরণিত না করা। বরং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা হল প্রশ্ন তোলা, উস্কানি দেওয়া এবং কখনও কখনও অতিরিক্ত ও বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা যা অনুশীলনকারীদের জন্য উপযোগী হতে পারে। এই প্রবন্ধটি লেখা হয়েছে সেই আলোকেই।

এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পরে আমি এ ধরনের সদুদ্দেশ্য-প্রণোদিত উদ্যোগের ফাঁকফোকরগুলি আলোচনা করার চেষ্টা করব। একই সঙ্গে আমি সমস্যাগুলির কিছু সহজ সমাধানও তুলে ধরব। নিম্নলিখিত বিভাগে আমি এমন উপায়গুলির পরামর্শ দিচ্ছি যাতে বিদ্যমান সম্ভাবনাকে বৈদেশিক নীতির জন্য আরও উচ্চাভিলাষী কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করা যেতে পারে এবং তা করা উচিতও৷ এই ধরনের একটি কর্মসূচি, বিশেষ করে একটি গ্রিন পার্টির নেতৃত্বে বিকশিত হতে পারে এবং জার্মানি তথা বিশ্বের জন্য সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ফলাফল পেতে সক্ষম।

‘যদি জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ সমানাধিকারে নিজেদের মতামত প্রকাশে অক্ষম হয়… কোনও সমাজই সম্পূর্ণ রূপে তার সম্ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটাতে পারবে না,’ এমনটাই বলেছেন মন্ত্রী বেয়ারবক। এবং অবশ্যই তিনি সঠিক। তবে জনসংখ্যাগত বিশ্লেষণের আরও একাধিক উপায় রয়েছে।

জনসংখ্যার শ্রেণিবিভাগের জন্য জাতি এবং বর্ণ, শ্রেণি, যৌন অভিমুখিতা, বয়স, অক্ষমতা এবং অন্য বিভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে (যেমন আয় বণ্টন এবং শ্রেণি) জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ নীতিনির্ধারণ, ব্যবসা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উচ্চ পদ থেকে নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করে। বা এটি শুধু মাত্র জাতীয় জনসংখ্যা অংশীদারিত্বের অনুপাতের প্রশ্নই নয়। জার্মান শিক্ষাক্ষেত্রের শ্রেষ্ঠত্ব অন্বেষণের দাবি সত্ত্বেও, নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে জাতিগত বৈচিত্র্য বা আন্তর্জাতিকীকরণের বাস্তবিক অনুপস্থিতি লক্ষ করার মতো। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, লিবনিজ অ্যাসোসিয়েশনের (একটি গবেষণা সংস্থা যার মূলমন্ত্র হল থিওরিয়া কাম প্রাক্সি অর্থাৎ তত্ত্ব ও চর্চা দুটোই এবং একই ভাবে জার্মান নীতির প্রেক্ষিতেও এর প্রভাব রয়েছে) আঠারোটি সোশ্যাল সায়েন্স ইনস্টিটিউটের মধ্যে শুধু মাত্র একটি লিবনিজ ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন অশ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। এবং তিনি জাতিগত ভাবে গ্লোবাল নর্থের প্রতিনিধি নন। জার্মান থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের প্রেক্ষিতে জার্মান বৈদেশিক নীতির বিকাশ এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে সংযুক্ততার নিরিখেও এটি একই রকম: লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস করার জন্য প্রশংসনীয় উন্নতি ঘটানো হলেও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ‘শ্বেতাঙ্গ’ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।

এমনকি প্রাপকের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটা স্পষ্ট যে, নারীরাই শুধু মাত্র নীতিগত কড়াকড়ির শিকার এবং সমর্থন পাওয়ার যোগ্য, তা নয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, শুধু মাত্র উইঘুর নারীরাই জিনজিয়াংয়ে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের শিকার হন না। প্রকৃত পক্ষে অত্যাচারের বিভিন্ন ধরনের শিকার রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে পুরুষ, মহিলা, রূপান্তরকামী মানুষ, বয়স্ক, শিশু এবং প্রাণীরাও অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু বিদেশ নীতির সংজ্ঞা অনুসারে এটিকে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়, তাই এই সমস্যাগুলি সম্পর্কে শুধু মাত্র সচেতন হওয়া নয়, তাদের সম্পর্কেও সচেতনতার প্রসার গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন জাতিসত্তার নানা কণ্ঠস্বর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উদ্ভূত, বুদ্ধিবৃত্তিগত প্রশিক্ষণের নানা ধরনের প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জার্মান বিদেশ নীতি নির্ধারণের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবং শুধু মাত্র ঘটনাকে ‘বৈচিত্রময়’ করে তোলার জন্যই নয়, তা রাজনৈতিক ভাবেও এক সঠিক পন্থা। জার্মান নীতিতে কতগুলি গুরুতর অন্ধকার দিক উঠে এসেছে, কারণ আমরা নীতিটিকে বৈশ্বিক অঞ্চলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে অসমর্থ হয়েছি। আমরা চিনের প্রতিবেশীদের দৃষ্টিভঙ্গির (যাঁরা চিনের কাছ থেকে সীমান্ত আক্রমণ এবং সামুদ্রিক দুঃসাহসিকতার দীর্ঘ এবং কঠিন ইতিহাসের সাক্ষী) প্রতি আরও আগ্রহী হলে ওয়ান্ডেল ডার্চ হ্যান্ডেলের মিথকে গ্রহণ করার প্রবণতা কমতে পারে। সংশ্লিষ্ট সঙ্কট সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হলে ভারত-সহ গ্লোবাল সাউথের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশই ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিষয়ে যে গা-ছাড়া মনোভাব প্রদর্শন করেছে, তার পরিবর্তে আরও কার্যকর ভাবে মোকাবিলা করতে পারত। নেতৃত্বের পদে আরও বেশি (শ্বেতাঙ্গ) মহিলাদের নিয়োগ করলেই এবং বিভিন্ন ক্যাসকেড মডেল বাস্তবায়ন করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না।

যেহেতু বিদেশ নীতির সংজ্ঞা অনুসারে এটিকে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়, তাই এই সমস্যাগুলি সম্পর্কে শুধু মাত্র সচেতন হওয়া নয়, তাদের সম্পর্কেও সচেতনতার প্রসার গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধরনের সমালোচনার আনুষ্ঠানিক উত্তর হল থ্রি আর + ডি সূত্র, যা জার্মান এফ এফ পি-র তরফে প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য প্রসারিত এবং বৈচিত্র্যকে উন্নত করার কথা বলে। কিন্তু একটি ‘নারীবাদী’ বৈদেশিক নীতির সমস্যা হল যে, তা নামের মাধ্যমেই অন্যান্য নামের ইতিমধ্যেই প্রান্তিক কণ্ঠস্বরকে (জার্মান শিক্ষাক্ষেত্র এবং নীতিতেও সক্রিয় কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রায়শই অদৃশ্য) প্রান্তিক করে তোলে। এবং তারা প্রকৃত পক্ষে জার্মান নীতি নির্ধারণের পরিসরকে ব্যাপক ভাবে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম। ইন্টারসেকশনালিটি বা আন্তর্বিচ্ছিন্নতাবাদ এই সুবিশাল সমস্যার একটি অংশ মাত্র। নাম গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে কাঠামোও। এর পাশাপাশি আখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ। নারীবাদে অন্তর্ভুক্তি হ্রাস করা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং পাল্টা উৎপাদনশীল সংকেত পাঠানোর জন্য অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক ভাবে উঠে আসে যদি এফ এফ ও সূত্রের ‘+ডি’ অংশ গুরুতর হয়ে ওঠে এবং তা টোকেনিজম বা প্রতীকী সীমার বাইরে বেরিয়ে যেতে চায়।

একটি প্রথম ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ হতে পারে নীতির পুনর্নামকরণ। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, সম্ভবত একটি ‘অন্তর্ভুক্ত বিদেশ নীতি’ হিসাবে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনোর জন্য সুস্পষ্ট এক সুর্নিদিষ্ট উপায়। দ্বিতীয়ত, গোষ্ঠী এবং বিভাগগুলির একটি ক্রমবর্ধমান তালিকা থাকা এবং তাদের মধ্যে বিদ্যমান মিথস্ক্রিয়ার বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিতে উন্নতি ঘটলেও তা যথার্থ উত্তর নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতার পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বর তুলে ধরার জন্য একটি প্রকৃত উন্মুক্ততা, যার মধ্যে অনেকগুলি মূলধারা এবং বার্লিন বাবলের বিপরীতে যেতে পারে, তার প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু এফ এফ পি উদ্যোগের নেপথ্যে সৎ উদ্দেশ্যগুলি থাকায় এফ এফ ও আরও বেশি এগিয়ে যেতে পারে।

জার্মানির জন্য আক্ষরিক অর্থেই অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদেশ নীতির নির্মাণ

এফ এফ পি নিজেই এবং পূর্ববর্তী বিভাগে উঠে আসা সমালোচনা ও পরামর্শ উভয় ক্ষেত্রেই মানুষকে একটি সম্পর্ক স্থাপনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু বিশেষ করে গ্রিন পার্টির এক জন নেতার দায়িত্বে যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, এফ এফ ও তার চেয়ে আরও ভাল ফল করতে পারে অর্থাৎ আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদেশ নীতি পেতে পারি যা কম মানবকেন্দ্রিক এবং আরও বেশি জলবায়ুবান্ধব।

আন্তঃপ্রজাতির ন্যায়বিচারের প্রতি মনোযোগী হওয়া শুধু মাত্র কণ্ঠহীন প্রজাতিগুলিকে তাদের অত্যাচারিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের বিকল্প খুঁজতেই নয়, একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলি সমাধান করতেও সাহায্য করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে পশ্চিমী দেশগুলির ব্যাখ্যা সাধারণত ‘আমাদের সন্তান এবং সন্ততিদের’ জন্য পৃথিবীকেসুরক্ষা প্রদানের শর্তে তৈরি করা হয়। কিন্তু পৃথিবী কেবল আমাদের বা মানুষের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নয়; তার উপর সেই সমস্ত সংবেদনশীল প্রাণীদের অধিকারও আছে, যারা পৃথিবীকে নিজেদের বাসস্থান বলে মনে করে। যেমন কোনও বিদেশ নীতির ন্যায্যতা শুধু মাত্র লিঙ্গ সমতার উপরে নির্ভরশীল নয়, তেমনই জলবায়ু নীতিও শুধু মাত্র আন্তঃপ্রজন্মের ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে না। আন্তঃপ্রজাতির ন্যায়বিচারের প্রতি মনোযোগী হওয়া শুধু মাত্র কণ্ঠহীন প্রজাতিগুলিকে তাদের অত্যাচারিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের বিকল্প খুঁজতেই নয়, একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলি সমাধান করতেও সাহায্য করবে।

প্রাণী এবং অরণ্যের অধিকারের উপরে আলোকপাত করে, এ হেন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি নীতিগত কারণে অনুসরণ করা উচিত। নরওয়েজিয়ান কর্তৃপক্ষের দ্বারা #ফ্রেয়াদ্যওয়ালরাস-এর মর্মান্তিক হত্যা এমন একটি সাম্প্রতিক ঘটনা, যা তার সহবাসী প্রাণীদের প্রতি মানুষের অস্বাভাবিক অত্যাচারের চিত্রই তুলে ধরে। একই সঙ্গে পশুখামার, পশুবাজার এবং পশুশিকারের মাধ্যমে অনুল্লেখ এবং প্রায়শই অনুচ্চারিত দুর্ভোগগুলিও আমাদের সমান মনোযোগের দাবি রাখে। ব্যক্তি পর্যায়ে এই ধরনের অত্যাচার বন্ধ করার জন্য নৈতিক বিবেচনার পাশাপাশি (এবং প্রাণীটিকে যে অপরিসীম যন্ত্রণা ও অত্যাচার সহ্য করতে হয়) সচেতন সরকারগুলির তরফে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। পশুখামার এবং জ্যান্ত পশুদের বাজারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রামিত জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট অতিমারির ঝুঁকি কমাতে কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রকৃতপক্ষে অন্তর্ভুক্তিমূলক (নারীবাদকেন্দ্রিক না হয়ে) বিদেশ নীতি যা প্রাণী এবং পরিবেশগত কল্যাণকে বিবেচনা করে এই গ্রহের মানব এবং অ-মানব উভয়ের জন্য এবং প্রকৃতপক্ষে এই গ্রহেরই কল্যাণের জন্য অনুসরণ করা মূল্যবান।

সুনির্দিষ্ট ভাবে একটি অমানবকেন্দ্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদেশ নীতির অন্তর্ভুক্ত হবে: আন্তর্জাতিক আইনকে কঠোর করতে গ্লোবাল নর্থ এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে গতিশীলতা বৃদ্ধি করা এবং জোট গড়ে তোলা। উদাহরণ স্বরূপ বন্যপ্রাণী এবং সামুদ্রিক সুরক্ষার কথা উল্লেখ করা যায়। এটিকে কার্যকর করার জন্য বাণিজ্য আইনগুলিকে কঠোরতর করতে হবে যা শুধু মাত্র মানবাধিকার এবং পরিবেশগত মানগুলিকেই নয়, প্রাণী নৈতিকতার দিকটিকেও সুরক্ষিত করবে। অন্যান্য প্রাসঙ্গিক মন্ত্রককে (যেমন কৃষি এবং পুষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং জলবায়ু কর্মসূচি) অন্তর্ভুক্ত করে এফ এফ ও এ হেন একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে পারে, যেমনটা এটি বহুপাক্ষিকতার উপর ফেডারেল সরকারের হোয়াইট পেপারে বা শ্বেতপত্রে সফল ভাবে করা হয়েছে।(৩)

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থা অবলম্বন করার জন্য মূল্যবোধ নিয়ে আরও সুস্পষ্ট আলোচনার প্রয়োজন হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জার্মান বিদেশ নীতি বিতর্কে ক্রমবর্ধমান ভাবে মূল্যবোধের কথা উঠে এলেও এখনও পদ্ধতিগত ভাবে তা যথেষ্ট নয়। এই ধরনের আলোচনা জোট শক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তুষ থেকে গম আলাদা করার কাজ সহজ করবে। এটি রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনীয় চেষ্টা, সংস্থান, পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল এবং ‘মানবিক’ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার কাজে শক্তিশালী জোট গড়ে তোলা যেতে পারে।

পশুখামার এবং জ্যান্ত পশুদের বাজারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রামিত জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট অতিমারির ঝুঁকি কমাতে কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই আলোচনাটি সঠিক ভাবে করলে একটি বৃহৎ কৌশল পরিস্ফুট হতে পারে, যা জলবায়ু কর্মসূচি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো অস্তিত্বগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। পৃথিবী রক্ষার্থে এবং জার্মান জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা… উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই এ হেন কৌশলের জন্য তীব্র প্রয়োজন আছে। বাস্তবেই জেইটেনওয়েন্ড বা সন্ধিক্ষণের মুহূর্তটি আসন্ন। মন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক কি সুযোগটিকে কাজে লাগাতে এবং নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত?


(১) আমি জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা একটি নারীবাদী বিদেশ নীতি প্রণয়ন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার মতামত জানানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে৷ এই প্রবন্ধটি সেই সকল ধারণার ভিত্তিতে লেখা হয়েছে, যা আমি সেখানকার সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। আমি থর্স্টেন বেনারের কাছেও কৃতজ্ঞ, যিনি ২০২০ সালে এই সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিকোণটি ব্যবহার করে জি পি পি আই-এর জন্য একটি নিবন্ধ লেখার জন্য প্রথম আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আরও বলতে চাই যে, এই আমন্ত্রণ আমার দ্বৈত পরিচয়ের কারণে কিছুটা হলেও অস্বাভাবিক। জার্মানিতে আমি এক জন ঘরের মানুষ (কারণ জার্মানিতে আমি একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণা সংস্থার প্রধান এবং প্রায়শই জার্মান নীতি নির্ধারক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম এবং আগ্রহী জনসাধারণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মেলামেশা করি) এবং একই সঙ্গে এক জন বহিরাগতও (কারণ আমি মূলত ভারত থেকে এসেছি, যেখানে আমি আমার গঠনমূলক শিক্ষা অর্জন করেছি এবং পরবর্তী কালে এক জন গবেষক এবং শিক্ষাবিদ হিসেবে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি)।

(২) ড্যানিয়েল ড্রেজনার এবং অমৃতা নারলিকর (অতিথি, সম্পাদিত), ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস: দ্য ‘হাউ নট টু’ গাইড’, শতবর্ষ বিশেষ সংখ্যা, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, ৯৮ : ৫, সেপ্টেম্বর ২০২২।

(৩) এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমার দল এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

মতামত লেখকের নিজস্ব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Amrita Narlikar

Amrita Narlikar

Dr. Amrita Narlikar’s research expertise lies in the areas of international negotiation, World Trade Organization, multilateralism, and India’s foreign policy & strategic thought. Amrita is Distinguished ...

Read More +