Author : Shivam Shekhawat

Published on Dec 18, 2022 Updated 20 Days ago

সরকার ও সেনাবাহিনীর উপর ইমরানের লাগাতার আক্রমণ পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

চক্রব্যূহ: ইমরানকে নিয়ে প্রশাসনের সমস্যা
চক্রব্যূহ: ইমরানকে নিয়ে প্রশাসনের সমস্যা

নভেম্বর মাসটি পাকিস্তানের পক্ষে সমস্যাজনক হয়ে উঠেছে। তাঁর লং মার্চের সপ্তম দিনে ওয়াজিরাবাদে্র মিছিলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা দেশের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। পিটিআই-এর চেয়ারম্যান বিপন্মুক্ত হলেও এই ঘটনার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অপ্রত্যাশিত পরিণতি ভবিষ্যতের  জন্য মোটেই আশার সঞ্চার করে না। নভেম্বর মাসের শেষে বর্তমান চিফ অব আর্মি স্টাফ বা সেনা প্রধানের (সিওএএস) অবসর নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক হাইকমান্ডে আসন্ন রদবদল এবং সেনাবাহিনী ও সরকারের উপর ইমরান খানের অবিরাম আক্রমণ পাকিস্তানের গণতন্ত্রের  জন্য একটি প্রতিবন্ধকতাময় সময়ের দিকেই ইঙ্গিত দেয়। অসামরিক নেতৃত্বের পক্ষে একে অপরের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক না হলেও, বর্তমান সঙ্কটকে যা আলাদা মাত্রা দিয়েছে তা হল সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা এবং এ ধরনের সম্পৃক্ততা জটিলতা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়।

নভেম্বর মাসের শেষে বর্তমান চিফ অব আর্মি স্টাফ বা সেনা প্রধানের (সিওএএস) অবসর নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক হাইকমান্ডে আসন্ন রদবদল এবং সেনাবাহিনী ও সরকারের উপর ইমরান খানের অবিরাম আক্রমণ পাকিস্তানের গণতন্ত্রের  জন্য একটি প্রতিবন্ধকতাময় সময়ের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

এই বছরের এপ্রিল মাসে ইমরান খানকে পদ থেকে অপসারণের পর থেকে ইসলামাবাদ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কেনিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রহস্যজনক ভাবে সাংবাদিক আরশাদ শরিফের মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের স্বরকে জোরালো করেছে। দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ‘অদৃশ্য হাত’-এর কথা এখন সর্বজনবিদিত হলেও ‘সরকার’ বা ‘শাসক দল’-এর সঙ্গে সব সময়ই রহস্যময়তা জড়িয়ে থাকে। এই ভাবমূর্তি এবং প্রতিষ্ঠানের আপাত-দুর্ভেদ্যতা সম্প্রতি খানখান হয়ে পড়ে। সেনা কর্মকর্তা এবং সিওএএস-এর বিরুদ্ধে ইমরান খানের লাগামহীন আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) প্রধান এবং ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) মুখপাত্র প্রথম এক অভূতপূর্ব সাংবাদিক সম্মেলনের  আয়োজন করেছিলেন। শরিফের হত্যা সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূরীকরণের আপাত লক্ষ্য থাকলেও রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ইমরান খান এবং তাঁর চাতুর্যপূর্ণ ষড়যন্ত্রকে দুর্বল করতে এবং তার পাশাপাশি বাহিনীর মধ্যেই কথিত বিভাজনগুলিকে প্রশমিত করার জন্য সেনাবাহিনীর তরফে এই সম্মেলনকে একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মতাদর্শের যুদ্ধ

শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পিপিপি এবং পিএমএল-এন-এর ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে ইমরান খানের আক্রমণ নিরবচ্ছিন্ন ভাবে অব্যাহত থেকেছে। তিনি এই দুটি ‘দুর্নীতিতে জর্জরিত’ দলের ব্যর্থ বংশানুক্রমিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক বক্তৃতা দিয়েছেন, সুবিশাল সমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করেছেন এবং পাকিস্তানে একটি নতুন ভোরের সূচনা করার উদ্দেশ্যে পিটিআইকে সমর্থন করার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও আশা ছিল যে কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ কাজের গতি হ্রাস পাবে, উপনির্বাচনে ইমরান খানের সাম্প্রতিক জয়, যেখানে তিনি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সাতটি আসনের মধ্যে ছ’টি আসনে জয়লাভ করেছেন,  এখনও তাঁর প্রতি মানুষের সমর্থনকেই দর্শায়। শরিফ পরিবারের দুর্নীতি এবং তাদের তুচ্ছ রাজনীতি সম্পর্কে ইমরান খানের বাঁধা গতের বক্তব্য নতুন কিছু নয়, কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁর ক্রমশ গলা চড়ানো প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা এনেছে।

২০১৮ সালে ইমরান খানের ক্ষমতায় আসীন হওয়াকে সেনাবাহিনীর সমর্থনের ফলাফল হিসেবেই দেখা হলেও ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর পতনে সেই একই সেনাবাহিনীর ভূমিকাটির বিরুদ্ধে ইমরান বিগত কয়েক মাস ধরে সরব হয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (ইউএস) দোষারোপ করে তিনি পরোক্ষ ভাবে সেনাবাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য এবং বিরোধীদের সমর্থন করার জন্য আক্রমণ করেছিলেন। নতুন আইএসআই চিফ নিয়োগের ক্ষেত্রে ইমরান খানের আলস্য এবং বর্তমান সিওএএসকে সরানোর প্রচেষ্টার কারণে তাঁর প্রতি সেনাবাহিনীর বিরূপ মনোভাবের বিষয়ে জল্পনা গত বছর থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে। তবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইমরানের বিরোধিতার মাত্রা এবং তীব্রতা অভূতপূর্ব। প্রাথমিক ভাবে ‘নিরপেক্ষ’ ইত্যাদি বলে বিদ্রুপ করলেও তিনি শেষ পর্যন্ত সরাসরি নাম উল্লেখ করতে শুরু করেন, দেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলার জন্য তাঁদের দায়ী করেন। ইমরান নিজেকে সেই পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীদের থেকে পৃথক বলে মনে করেন, যাঁরা ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে ইমরান সেনাবাহিনীকে তাদের নীতিগুলি পুনর্বিবেচনা করতে বলেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য তাঁর প্রতিক্রিয়াকে ‘গঠনমূলক সমালোচনা’ হিসেবে দেখার কথা বলেন।

নতুন আইএসআই চিফ নিয়োগের ক্ষেত্রে ইমরান খানের আলস্য এবং বর্তমান সিওএএসকে সরানোর প্রচেষ্টার কারণে তাঁর প্রতি সেনাবাহিনীর বিরূপ মনোভাবের বিষয়ে জল্পনা গত বছর থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে।

নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনের জন্য জোরদার দাবি চালিয়ে তিনি ২৮ অক্টোবর লাহোর থেকে ‘হাকিকি আজাদির জিহাদের’ জন্য ‘লং মার্চ’ ঘোষণা করেছিলেন। নতুন নির্বাচনের জন্য আহ্বান জানাতে এবং নিহত সাংবাদিকের জন্য ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে লড়াই করার লক্ষ্যে মিছিল ও সমাবেশগুলিকে এই জনপ্রিয় নেতা এক কল্পজগৎ নিয়ে বক্তৃতাপ্রদানের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেন এবং নয়া পাকিস্তান ও ‘সফট রেভোলিউশন’-এর স্বপ্ন বোনার কাজে লাগান। দলটি তাদের সমাবেশের জনপ্রিয়তা সম্পর্ক বাগাড়ম্বর করছে এবং সেগুলিকে বর্তমান সরকারের প্রতি নাগরিকদের অসন্তোষ এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের দায়ী করার ইঙ্গিতরূপে উপস্থাপন করছে। ইমরান খান ক্ষমতাসীন জোট এবং সেনাবাহিনীর উপর সেই দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দিতে অনেকাংশে সফল হয়েছেন এবং দেশের মানুষের জন্য ত্রাণকর্তা রূপে তিনি নিজেকেই তুলে ধরেছেন, যাঁকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় বহাল করলে তিনি দেশের জন্য একটি নতুন পথ রচনা করবেন।

অর্থাৎ ইমরানের নিজেকে এক জন স্বপ্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে তুলে ধরা – যাঁর পাকিস্তানের ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষমতা ও সদিচ্ছা দুইই আছে, অথচ বারংবার বিভিন্ন ‘শক্তি’ দ্বারা তাঁর কাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে – আসলে তাঁর নির্বাচনী ভাগ্য পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশল মাত্র। এক আগাম নির্বাচন তাঁর এই বক্তৃতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেবে। ইমরান দেখাতে চাইছেন, এটিই দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান ও দেশটিকে ‘স্থিতিশীল’ করার জন্য একমাত্র উপায়। তিনি ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দিকে অসামরিক নেতৃত্ব দুর্বলতর হয়ে পড়েছে এবং দেশকে স্থিতিশীল করতে ও অসন্তোষের জোয়ার প্রশমন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবনা

ইমরান খানের লং মার্চের প্রাক্কালে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ স্বরূপ ডিজি আইএসআই নাদিম আঞ্জুম আইএসপিআর-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল বাবর ইফতিখারের সঙ্গে যৌথ ভাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সাংবাদিক আরশাদ শরিফের হত্যাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য ইমরান খানের সৃষ্ট এবং প্রচারিত ভুয়ো বক্তব্যকে খারিজ করার লক্ষ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে আয়োজিত সম্মেলনটি পাকিস্তান এবং দেশের বাইরেও তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর বর্মে ফাটল এবং সেনাবাহিনীর ঐক্য ও শক্তিকে ম্লান করার উদ্দেশ্যে ইমরান খানের নানাবিধ কুৎসা প্রচারের সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দেশকে আচ্ছন্ন করে রাখা রাজনৈতিক ডামাডোল থেকে সেনাবাহিনীকে দূরে রাখার জন্য প্রাথমিক ভাবে আয়োজিত হলেও এটির লক্ষ্য ছিল সাধারণ নাগরিক এবং সামরিক নেতৃত্বএমনকি সেনাবাহিনীও

সম্মেলনটির লক্ষ্য ছিল একাধিক। দেশকে আচ্ছন্ন করে রাখা রাজনৈতিক ডামাডোল থেকে সেনাবাহিনীকে দূরে রাখার জন্য প্রাথমিক ভাবে আয়োজিত হলেও এটির লক্ষ্য ছিল সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক নেতৃত্ব, এমনকি সেনাবাহিনীও। সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর ভূমিকা খারিজ করে আইএসআই জনগণকে আশ্বস্ত করেছে এবং রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই অফিসার নিজের সরকারকে বাঁচাতে বর্তমান সিওএএস-এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ইমরান খানকে তিরস্কার করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, সাংবিধানিক লক্ষ্মণরেখার বাইরে পা ফেলতে অস্বীকার করার কারণেই ইমরান খান সেনাবাহিনীর উপর তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

গুপ্তহত্যা এবং তার প্রতিক্রিয়া

ইতিমধ্যে জ্বলন্ত আগুনকে আরও উস্কে দিয়ে ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পায়ে গুলি লাগলেও তিনি বিপন্মুক্ত এবং আক্রমণকারীকে আটক করা হয়েছে। গুপ্তহত্যার চেষ্টার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, পিটিআই সমর্থকরা করাচি, পেশোয়ার, রাওয়ালপিন্ডির রাস্তায় জড়ো হয়ে টায়ার জ্বালান এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পিটিআই-এর আনুষ্ঠানিক টুইটার চ্যানেল পেশোয়ারের কোর কমান্ডার হাউসের বাইরে বিক্ষোভের ফুটেজ পোস্ট করে দেখায় যে, কীভাবে ‘অ-রাজনৈতিক’ লোকেদের প্রেস কনফারেন্স এবং তাঁদের চেয়ারম্যানের উপর হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসন্তোষের কারণ হতে পারে। সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক ভাঙচুর এবং অফিসারদের বাড়ির দিকে মিছিল করার ছবিগুলি জনসাধারণের মনে সেনাবাহিনী সংক্রান্ত ধারণার এক আমূল পরিবর্তন দেখায়।

পিটিআই শীঘ্রই দ্রুত নির্বাচনের দাবিকে জোরদার করার জন্য এই ঘটনাকে ‘পাকিস্তান’-এর উপর আক্রমণ হিসেবে চিত্রিত করেছে। পাকিস্তান ইলেক্ট্রনিক এবং মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি যখন সংবাদ চ্যানেলগুলিকে পিটিআই নেতা আসাদ উমরের ভিডিয়ো সম্প্রচার করা থেকে বিরত রাখে – যেখানে তিনি ইমরান যাদের এই আক্রমণের নেপথ্যে থাকা ‘তিন সন্দেহভাজন’ বলে উল্লেখ করেছেন তাদের নাম প্রকাশ করবেন বলে মনে করা হয়েছিল – তখন রাজনৈতিক নাটক আরও জোরদার হয়। এই ভিডিয়ো শান্তি বিঘ্নিত করবে ও তদন্তের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে মনে করে সংস্থাটি এটিকে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উপর অপবাদ’ বলে চিহ্নিত করে এবং ভিডিয়োটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।

উপসংহার

ইমরান খানের কার্যকাল পাকিস্তানে এক ধরনের জোড়াতালি শাসনকাল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা সেনাবাহিনীকে নেপথ্যে থেকে সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতা দেয় কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে তাদের কোনও দায়িত্ব থাকে না। এর পাশাপাশি পিটিআই চেয়ারম্যান এবং তাঁর বিশাল সমর্থকদের তরফে করা চ্যালেঞ্জটি না উঠলে সব কিছু পরিকল্পনামাফিকই এগোচ্ছিল। পরিস্থিতির সুরাহা করতে অসামরিক প্রশাসনের অক্ষমতা এবং সিওএএসের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইমরানের প্রস্তাব ও গুপ্ত ষড়যন্ত্রের জন্য সেনাবাহিনীর তরফে ইমরানকে তিরস্কার করার ঘটনা অনাস্থা প্রস্তাব সম্পর্কে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রেক্ষিতে পিটিআই-এর সমর্থকদের আবেগকে জোরালো করে তুলেছে। গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ সেনাবাহিনীকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করলেও তা কোনও ভাবেই রাজনীতি থেকে তাদের পশ্চাদপসরণের সূচনা করে না, তা জনমত যা-ই হোক না কেন। মিশ্র প্রশাসনের অকার্যকারিতা এবং এক সামরিক কর্মকর্তা ও এক রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য বজায় থাকবেই, যা নেতৃত্ব গ্রহণের সময়ে পরবর্তী সিওএএসকে সামাল দিতে হবে।

পাকিস্তান ইলেক্ট্রনিক এবং মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি যখন সংবাদ চ্যানেলগুলিকে পিটিআই নেতা আসাদ উমরের ভিডিয়ো সম্প্রচার করা থেকে বিরত রাখে – যেখানে তিনি ইমরান যাদের এই আক্রমণের নেপথ্যে থাকা ‘তিন সন্দেহভাজন’ বলে উল্লেখ করেছেন তাদের নাম প্রকাশ করবেন বলে মনে করা হয়েছিল – তখন রাজনৈতিক নাটক আরও জোরদার হয়।

৪ নভেম্বর লং মার্চটির ইসলামাবাদে পৌঁছনোর কথা থাকলেও নানা জায়গায় বিলম্ব এবং এই হত্যার চেষ্টা তা স্থগিত করে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কোনও মিছিলের অনুমতি প্রদানে অস্বীকার করেছেন। অধিকার, ন্যায়বিচার এবং আক্ষরিক ভাবেই স্বাধীনতার মোড়কে তাঁর বক্তব্য পেশ করা হলেও ইমরান খান নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে ও তাঁর সমর্থনে জনমত ধরে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশের শাসনব্যবস্থায় একটি বিপ্লব এবং সম্পূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য সংস্কার আনার প্রকৃত ইচ্ছা থেকে উদ্ভূত নয়। তাঁর পূর্বসূরিদের মতো তিনিও পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসা এবং নিজের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু পরবর্তী সিওএএস কে হবেন বা নির্বাচনের প্রশ্নে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনাকে সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁর প্রকাশ্য ক্ষোভের কারণে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলিকে খোরাক জোগানোর দোষে দুষ্ট করেছে।

আগামী দিনে দেশটিকে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। ইমরান খানের পরবর্তী পদক্ষেপ আগে থেকে ঠাহর করা কঠিন কাজ হলেও নতুন সিওএএস নিয়োগের ঘটনার তীব্র রাজনীতিকরণ ঘটবে এবং তাড়াতাড়ি নির্বাচনের দাবি আরও জোরালো হবে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য দশ মাসেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে ক্ষীণ।

মতামত লেখকের নিজস্ব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.