Author : Nilanjan Ghosh

Published on Nov 18, 2021 Updated 0 Hours ago

যে সব আর্থিক পণ্যের কথা এযাবৎ ভাবা হয়েছে তা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষের কাজে লাগছে না, বিশেষ করে তাদের জীবিকা ও বাস্তুতান্ত্রিক পরিষেবার সঙ্কটপূর্ণ সংযোগস্থলে।

সবুজ অর্থসংস্থানের পথে স্থায়ী চ্যালেঞ্জ

এই নিবন্ধটি ‘‌এক কম–কার্বন ও জলবায়ু–স্থিতিস্থাপক পৃথিবীর পথে:‌‌ কপ২৬ থেকে প্রত্যাশা’‌ শীর্ষক সিরিজের অংশ।


একথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে এই গ্রহ ও তার বুকে লালিত জীবন এক বিশাল ওলটপালটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এই শক্তিগুলির মোকাবিলার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে অর্থসংস্থানের প্রশ্নটি। এই টাকাকে এই নিবন্ধে বলা হয়েছে ‘‌সবুজ টাকা’‌ বা ‘‌জলবায়ু নগদ’‌ (‌বা অন্য বিশ্লেষকরা যেমন বলেন, ‘‌সবুজ অর্থসংস্থান’‌)‌। এই ‘‌জলবায়ু নগদ’ পাওয়ার সমস্যা আরও তীব্র হয়ে দেখা দেয় যখন একথা মাথায় রাখা হয় যে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত পৃথিবীর বিরাট অংশ এখনও মৌলিক উন্নয়নের চাহিদা মেটানোর টাকা জোগাড় করতেই হিমসিম খাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রশমন  অভিযোজন কর্মসূচির টাকা আসবে বহুস্তরীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেযার মধ্যে থাকবে দেশীয়আঞ্চলিক  আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি।

প্যারিসে ২০১৫ সালে ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়র্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)‌–এর সদস্য দেশগুলির ২১তম কনফারেন্স অফ পার্টিজ (‌কপ২১)‌–এর সময় এই ক্ষেত্রে কিছু সুযোগের পথ তৈরি হয়েছিল। প্যারিস চুক্তি জলবায়ু অর্থসংস্থান ও বাজারের নতুন যুগ নিয়ে এসেছিল, আর এই প্রতিষ্ঠান ও উপায়গুলোকে (‌ইনস্ট্রুমেন্টস)‌ ধরা হয়েছিল বিশ্ব উষ্ণায়নকে শিল্পবিপ্লব–পূর্ব তাপমাত্রার থেকে ২ ডিগ্রির কম বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পথের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে। ভাবা হয়েছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রশমন ও অভিযোজন কর্মসূচির টাকা আসবে বহুস্তরীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে, যার মধ্যে থাকবে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়ের ব্যবস্থাগুলি ছাড়াও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল কম–কার্বন অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রশমন ও অভিযোজন কর্মকাণ্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি।

অর্থসংস্থানের বর্তমান উৎস  উপায়

অর্থসংস্থানের উৎসগুলিকে মোটামুটি চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:‌ (‌১)‌ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলি ও অন্যান্য একই ধরনের আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান;‌ (‌২)‌ রাষ্ট্রপুঞ্জের (‌ইউএন)‌ সংস্থাগুলি;‌ (‌৩)‌ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সরকারি তহবিল ও (‌৪)‌ বেসরকারি ক্ষেত্র (‌সাধারণ নাগরিক, কর্পোরেশন, সেবামূলক সংগঠন)‌। তবে অর্থসংস্থানের চরিত্র যে হেতু অনেক সময়েই একটার সঙ্গে অন্যটা জড়িয়ে যায়, তাই উৎস ঠিক কোনটা তা নির্ণয় করা অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। যেমন বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলি (‌এমডিবি)‌ তাদের সম্পদ বা নির্দিষ্ট ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে যেগুলি দাতারা তাদের দিয়েছেন জলবায়ুর অর্থসংস্থানের জন্য। কিন্তু তাদের সম্পদের মধ্যে তাদের নিজেদের উপার্জন, বা তাদের বোর্ডের সদস্য দেশগুলির দেওয়া টাকাও থাকতে পারে। আবার এই সংগঠনগুলির তহবিলে বেসরকারি ক্ষেত্রের অবদানও থাকতে পারে। কাজেই এটা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে এই তহবিলের উৎস হিসেবে কাকে ধরা হবে, বেসরকারি ক্ষেত্রকে না এমডিবি–গুলিকে।

এখনকার মডেলে জলবায়ু নগদ জোগাড় করা হচ্ছে বিভিন্ন মোটের উপর ঋণ–ভিত্তিক পণ্য থেকে (‌গ্রিন বন্ড, ক্লাইমেট পলিসি পারফরমেন্স বন্ড, ডেট ফর ক্লাইমেট সোয়াপ্‌স ইত্যাদি)‌। আবার এই তহবিল দেওয়াও হয় ঋণভিত্তিক, ইকুইটি–ভিত্তিক এবং কখনও কখনও বিমাভিত্তিক উপায়ের মাধ্যমে। তা ছাড়াও থাকে অনুদান ও ঋণ। মূলধনী উপায়গুলি সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক টাকা দেয়, আর তার সঙ্গে থাকে ক)‌ সিনিয়র ডেট (‌এমন ঋণ যা খরচ কমানোর জন্য কোনও প্রকল্পে দেওয়া হয়, এবং তা দেওয়া হতে পারে বাজারের চলতি সুদের হার থেকে কম সুদে কনসেশনাল লোন হিসেবে;‌ খ)‌ সাবর্ডিনেটেড ডেট (‌যার মধ্যে থাকে সব ধরনের মেজেনাইন বা কোয়াসি–ইকুইটি ফিনান্স, যা তৈরি হয় ঋণভিত্তিক ও ইকুইটি–ভিত্তিক উপায়ের সংমিশ্রণ হিসেবে, এবং ঋণদাতাকে তা এই অধিকার দেয় যে গ্রহীতা ঋণশোধে ব্যর্থ হলে সে মালিকানার অংশ পেয়ে যাবে);‌ এবং গ)‌ ইকুইটি ফিনান্সিং (ঋণশোধের কোনও নিশ্চয়তা ব্যতিরেকে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন প্রকল্পের শেয়ার কিনে নেওয়া এবং প্রকল্পের মালিকানা নেওয়া)‌। আর্থিক উপায়গুলি এ ভাবেই বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির ক্ষিধে অনেকটা মেটায়, এবং এগুলির পরিসর ব্যাপ্ত নির্দিষ্ট আয়ের ডেট ইনস্ট্রুমেন্ট থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ইকুইটি ক্যাপিটাল অবধি। তা ছাড়া আছে বিমাভিত্তিক ঝুঁকি পরিচালন উপায়সমূহ, বা হেজিং প্রোডাক্টস, যার মধ্যে থাকে ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা। এগুলি কাজ করে ঋণশোধের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ঋণদাতার জন্য বিমা হিসেবে:‌‌ ঋণের আংশিক নিশ্চয়তা, অর্থাৎ যেখানে ঋণশোধের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ঋণের একটা অংশ বিমা করা থাকবে;‌ কর্মসম্পাদন ঝুঁকিজনিত নিশ্চয়তা;‌ আয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিজনিত নিশ্চয়তা, এবং স্ট্রাকচার্‌ড ফিনান্স, যা এমন একটা ব্যবস্থা নিয়ে আসে যেখানে সরকারের দেওয়া নিশ্চয়তার বিভিন্ন স্তর থাকে, এবং সাধারণত তা থাকে কম দরে (অর্থাৎ কনসেশনাল টার্মস–এ)‌।

অর্থসংস্থানে পক্ষপাত

সমস্যাটা অবশ্য অন্যত্র। টাকার অনেকগুলি উৎস থাকলেও টাকা দেওয়ার সময় দেখা যায় জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের কাজকর্মের দিকে পক্ষপাত (‌৮০ শতাংশের বেশি)। ‘সাসটেনেবিলিটি’‌ জারনালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক পেপারে বলা হয়েছে প্রশমনের প্রতি ব্যাপক পক্ষপাত ও অভিযোজনকে অবজ্ঞা করার মোটের উপর দুটো কারণ রয়েছে। প্রথমত, প্রশমনের জন্য যে বিনিয়োগ হচ্ছে তার ফলাফল স্বল্পমেয়াদে দেখা যায়, যেমন শক্তিক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াতে বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ করলে তার ফলাফল দেখা যাবে আর্থিক মূল্য সঞ্চয়ে, এবং আয়–ব্যয়ের সমতা অর্জনের পরিমাপযোগ্য সময়ের থেকে। কিন্তু অভিযোজনের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে বিষয়টা এরকম নয়। যেমন সাইক্লোনেও অটুট থাকে এমন নির্মাণের উপর বিনিয়োগের ফলাফল বোঝা যাবে না যদি সাইক্লোন না–আসে।

এগুলি কাজ করে ঋণশোধের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ঋণদাতার জন্য বিমা হিসেবে;‌ ঋণের আংশিক নিশ্চয়তাঅর্থাৎ যেখানে ঋণশোধের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ঋণের একটা অংশ বিমা করা থাকবে;‌ কর্মসম্পাদন ঝুঁকিজনিত নিশ্চয়তা;‌ আয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিজনিত নিশ্চয়তাএবং স্ট্রাকচার্‌ড ফিনান্সযা এমন একটা ব্যবস্থা নিয়ে আসে যেখানে সরকারের দেওয়া নিশ্চয়তার বিভিন্ন স্তর থাকেএবং সাধারণত তা থাকে কম দরে (বা কনসেশনাল টার্মস)‌

তা ছাড়াও বিপজ্জনক এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, অর্থাৎ ‘‌স্ট্র‌্যাটেজিক রিট্রিট’‌–এর মতো অভিযোজনের কাজে টাকা দেওয়ার জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর;‌ কারণ তার থেকে লাভ পেতে অপেক্ষা করতে হয় অনেক দিন, এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর তার প্রভাব কী হবে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাও কঠিন। দ্বিতীয়ত, অভিযোজনের প্রকল্পগুলি অর্থপ্রদানকারী সংস্থাগুলির কাছে আকর্ষণীয় নয়, কারণ সেগুলি চরিত্রগত ভাবে জনকল্যাণের বিষয়। বেসরকারি ক্ষেত্রের জলবায়ু ঋণের সিংহভাগ টেনে নেয় জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের বিষয়টি। বেসরকারি ক্ষেত্র জনকল্যাণের জন্য টাকা ঢালাকে কার্যকর বিনিয়োগ বলে মনে করে না। তুলনায় পরিচ্ছন্ন শক্তিপ্রযুক্তিতে বেসরকারি ক্ষেত্রের অর্থের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে, কারণ সেগুলি স্পষ্টতই বিনিয়োগ ও লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই পরিস্থিতিতে সবুজ জলবায়ু তহবিল (‌জিসিএফ)‌ হয়ে দাঁড়িয়েছে আশার ভিত্তি—প্যারিস চুক্তির পর প্রধান আর্থিক বাহন। প্রশমন প্রকল্পগুলিতে ব্যাপক হারে টাকা ঢালার সংস্কৃতির বিপরীতে জিসিএফ হল একটা ব্যতিক্রম। তা ইউএনএফসিসিসি–র নীতি ও ব্যবস্থা নির্দেশিত পথে চলে, এবং প্রশমন ও অভিযোজনে সমপরিমাণ টাকা দেওয়ার চেষ্টা করে। জিসিএফ সহায়তা দেয় অনুদান হিসেবে (‌আজ পর্যন্ত মোট দেওয়া টাকার ৪৫ শতাংশ)‌, ঋণ হিসেবে (৪২ শতাংশ)‌, ইকুইটি হিসেবে (‌নয় শতাংশ) এবং‌ গ্যারান্টি (‌দুই শতাংশ)‌ ও ফলভিত্তিক পেমেন্ট হিসেবে। তবে জিসিএফ–এর কাজেও প্রশমনের দিকে কিছুটা পক্ষপাত দেখা যায়। ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের ১৯০টি অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ৪৩ শতাংশ হল অভিযোজন সংক্রান্ত, ৩২ শতাংশ প্রশমন সংক্রান্ত, আর বাকি ২৫ শতাংশ দুইয়ের মিশ্রণ। কিন্তু যদি টাকার দিক থেকে হিসেব করা হয়, তা হলে প্রশমনের জন্য দেওয়া হয়েছে ৬২ শতাংশ। এর থেকে বোঝা যায় প্রচ্ছন্ন ভাবে প্রশমনেরই আধিপত্য রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের জন্য তৈরি প্রকল্পগুলিতে কম মাত্রায় অর্থসংস্থানের একটা কারণ হতে পারে যে এটা নতুন ধরনের ক্রিয়াকর্ম, যার জন্য আগের কোনও বাস্তব ‘‌বিশেষজ্ঞসুলভ জ্ঞান’ ‌নেই। আবার অংশত এর পেছনে আছে এই মানসিকতা যে অভিযোজন লাভদায়ক হয় মূলত স্থানীয় স্তরে। জিসিএফ–এর অভিযোজন প্রকল্পের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের সমালোচনা করেছেন অভিযোজন বিশেষজ্ঞরা, বিশেষ করে যাঁরা সবচেয়ে কম উন্নত দেশগুলির (‌এলডিসি)‌ ও ছোট দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলির (‌এসআইডি)‌ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, জিসিএফ সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন দেশগুলির সবচেয়ে অসহায় মানুষের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ, কারণ তার যে কাজটা করার কথা তা সে করতে চাইছে একটা ব্যাঙ্ক হিসেবে। সে তার বিনিয়োগের থেকে লাভ চাইছে ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে। তা ছাড়া জিসিএফ যে হেতু জোর দিচ্ছে গ্রহীতা দেশের সরকার ও রূপায়ণকারী সত্তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও তহবিল পরিচালন ক্ষমতার উপর, তাই বড় অঙ্কের টাকা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তা ছাড়া জিসিএফ অভিযোজনের ছলে উন্নয়নমূলক প্রস্তাব চাইছে না, চাইছে পুরোপুরি অভিযোজন প্রকল্প।

বাজারভিত্তিক উপায়গুলি কি অভিযোজনে একটা ভূমিকা নিতে পারে?‌

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা আর্থিক উপায় তৈরি হয়েছে যেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। এগুলি এসেছে ওয়েদার ডেরিভেটিভ্‌স, ওয়েদার ইনসিওরেন্স, ওয়াটার ফিউচার্‌স, ও অন্যান্য জলবায়ু–সম্পর্কিত আর্থিক পণ্য হিসেবে, যেগুলি জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতার কারণে হওয়া ক্ষতি আর্থিক ভাবে পূরণ করে। এই উপায়গুলি যদিও অভিযোজন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে, এগুলি কিন্তু অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলির থেকে উন্নত বিশ্বে বেশি জনপ্রিয়, কারণ অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলি জানে না একটি বিশেষ প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই ধরনের পণ্যগুলিকে কী ভাবে বদলে নিতে হয়, কী ভাবে তার নকশা তৈরি করতে হয় বা সেগুলিকে কৌশলগত ভাবে বাজারজাত করতে হয়।

জিসিএফ যে হেতু জোর দিচ্ছে গ্রহীতা দেশের সরকার  রূপায়ণকারী সত্তার বিশ্বাসযোগ্যতা  তহবিল পরিচালন ক্ষমতার উপরতাই বড় অঙ্কের টাকা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

যে কথাটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় তা হল যে সব আর্থিক পণ্যের কথা এখনও অবধি ভাবা হয়েছে সেগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আক্রান্ত গরিব মানুষের কাজে লাগছে না, বিশেষ করে তাঁদের জীবিকা ও বাস্তুতান্ত্রিক পরিষেবার (‌যে পরিষেবা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র নিখরচায় দেয় মানুষকে)‌ সঙ্কটপূর্ণ সংযোগস্থলে। তাঁর ২০০৯ সালে ‘‌নেচার’‌ পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে পবন সুখদেব এই বাস্তুতান্ত্রিক পরিষেবার আর্থিক মূল্য ব্যাখ্যা করেছিলেন ‘গরিবের জিডিপি’‌ হিসেবে, যেখানে ভারতে তাঁদের আয়ের ৫৭ শতাংশের উৎস হল প্রকৃতি।

বাস্তুতান্ত্রিক পরিষেবার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ঙ্কর প্রভাবের কথা এখনও অবধি আলোচনার টেবিলেও সে ভাবে স্বীকৃত হয়নি, আর সরকারের অর্থসংস্থান কর্মসূচিতেও সে ভাবে উঠে আসেনি। কাজেই, বাজারভিত্তিক উপায়গুলির প্রত্যাশিত ব্যর্থতার কারণে কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানই গরিবদের প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করার চেষ্টা করেনি, তা সে প্রত্যক্ষ ভাবে হোক বা পরোক্ষ ভাবে, আর তার কারণ তারা এই ধরনের বাজারে অংশ নেবে তা আশাই করা হয়নি। এটাই হল জলবায়ু সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে গুরুতর ধারণাগত ত্রুটি। এমনকি যখন এই ধরনের পণ্যের কথা ভাবা হচ্ছে, তখনও এগ্রিগেটর হিসেবে কাজ করার জন্য এবং জনগোষ্ঠীগুলি যাতে তার সুবিধা নিতে পারে তার জন্য নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হবে। যে প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজতে হবে তা হল:‌ সবুজ অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে সরকারগুলি আর বেসরকারি ক্ষেত্র কি এক সঙ্গে আসতে পারে?‌

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Nilanjan Ghosh

Nilanjan Ghosh

Dr Nilanjan Ghosh is a Director at the Observer Research Foundation (ORF) in India, where he leads the Centre for New Economic Diplomacy (CNED) and ...

Read More +