Published on Jan 04, 2024 Updated 0 Hours ago
ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসে ভর্তুকি দেওয়ার সীমা

এই নিবন্ধটি কম্প্রিহেনসিভ এনার্জি মনিটর: ভারত এবং বিশ্ব সিরিজের অংশ



পটভূমি


২০২২ ও ২০২৩ সালে সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের এবং উজ্জ্বলা কর্মসূচির অধীনে ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবহারের বিষয়ে আরটিআই আইন (তথ্যের অধিকার আইন)–এর মাধ্যমে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেওয়া  হয়েছিল। আরটিআই–এর মাধ্যমে উত্থাপিত একটি প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রের এলপিজি খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া অনুসারে উজ্জ্বলা কর্মসূচির অধীনে এলপিজি সিলিন্ডারের
৯৫.৮ মিলিয়ন প্রাপকের মধ্যে ১৮.৪ মিলিয়ন এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল করার জন্য ফিরে আসেননি, এবং ১৫ মিলিয়ন ২০২২ সালে শুধু একটি রিফিল এলপিজি সিলিন্ডার নিয়েছিলেন। সংসদে উত্থাপিত একটি প্রশ্নে সরকারের প্রতিক্রিয়া অনুসারে, উজ্জ্বলা সুবিধাভোগীদের এক বছরে প্রাপ্ত  ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি রিফিলের সংখ্যা ২০১৯–২০ সালে ৩ থেকে বেড়ে ২০২০–২১ সালে ৪.৪ হয়েছিল, তবে ২০২২–২৩ সালে তা ৩.৭ –এ নেমে এসেছে। প্রাথমিক ভর্তুকি সত্ত্বেও রান্নার জন্য প্রাথমিক জ্বালানি হিসাবে এলপিজি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের সীমিত ক্ষমতা একইসঙ্গে দরিদ্র পরিবারের এলপিজি সামর্থ্য ও তার পাশাপাশি সরকারের জন্য এলপিজি ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্যের প্রশ্ন উত্থাপন করে।


এলপিজি ক্রয়ক্ষমতা: পরিবার


ভারতে এলপিজির সীমিত ব্যবহারের পিছনে সুস্পষ্ট কারণ হল ক্রয়ক্ষমতা। ভারত শক্তি পৌঁছে দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নিম্ন স্তরে। বেশিরভাগ অন্যান্য দেশে যখন শক্তির সরবরাহের (বিশেষত বিদ্যুৎ যা রান্নার জ্বালানির চাহিদা মেটায়) কর্মসূচি শুরু হয়েছিল তখন মাথাপিছু আয় অনেক বেশি ছিল।



উদাহরণস্বরূপ,
যখন ১৯৩৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রামীণ বিদ্যুদয়ন প্রশাসন স্থাপন করা হয়েছিল, তখন মাথাপিছু জিডিপি ছিল ৯৬৪৪ মার্কিন ডলার (২০১৭ সালের ডলারের মূল্যে), যা ২০২২ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি’‌র চার গুণ। এমনকি ভারত যখন তার বিদ্যুৎ সংযোগ কর্মসূচি চালু করেছে, সেই সময়ের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকাতেও মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ।

রান্নার জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় ভারত অন্যান্য দেশের মতো দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ করছে না। চিন, যে দেশটি তার উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের কিছু চ্যালেঞ্জের মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল,দেশের জ্বালানি ব্যবহার কর্মসূচিগুলিকে
শিল্পায়ন, আধুনিকীকরণ ও নগরায়ণের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিপূরণ করেছে (চার্ট ১ এবং ২ দেখুন)। এটি গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করেছে যা গ্রামীণ পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানিকে সাশ্রয়ী করে তুলেছে।

রান্নার জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় ভারত অন্যান্য দেশের মতো দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ করছে না।



পরিবারের নিম্ন আয় এবং শক্তি প্রাপ্যতার মধ্যে কার্যকারণ দুই উপায়ে চলে (দ্বিমুখী), এবং ফলস্বরূপ, এলপিজির মতো শক্তির উৎসের কম চাহিদা হল নিম্ন আয়ের কারণ ও পরিণতি উভয়ই।
এলপিজির প্রাপ্যতা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য হ্রাস (আয় বৃদ্ধি) সহজতর করতে পারে, কারণ এটি জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এবং রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ ব্যবহারে লেনদেনের খরচ (সময় ও শ্রম) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে। এটি বিশেষ করে ভারতের দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের জন্য সত্য, যাঁরা প্রাথমিক সংগ্রহকারী এবং জ্বালানি কাঠের ব্যবহারকারী। রান্নার জন্য জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং তা ব্যবহারে লেনদেনের খরচ হ্রাস, তাত্ত্বিকভাবে, শিক্ষার সুযোগ এবং মহিলাদের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করতে পারে। এর ফলে, পরিবারের আয় বাড়তে পারে যা এলপিজিকে সাশ্রয়ী করে তুলবে।

যাই হোক, স্বল্পমেয়াদে, দারিদ্র্য এলপিজির চাহিদা সীমিত করতে পারে, যেমনটা উজ্জ্বলা সুবিধাভোগীদের রিফিল সংখ্যার তথ্য থেকে দেখা যায়। ২০২২–২৩ সালে ভারতে গড় ব্যক্তিপ্রতি ব্যক্তিগত চূড়ান্ত খরচ (পিএফসিই) হিসাব করা হয়েছিল ১০৪,৮১১ ভারতীয় রুপি। অর্থাৎ একটি ১৪.২ কিলোগ্রাম এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য ব্যয়, যা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে
ভারতীয় রাজ্যগুলিতে ১১০০–১৩৫০ টাকার মধ্যে ছিল, মাথাপিছু মাসিক খরচের প্রায় ১০ শতাংশ। যে পরিবারগুলিকে আধুনিক জ্বালানি পরিষেবা পেতে তাদের আয়ের ১০ শতাংশের বেশি ব্যয় করতে হয় তাদের শক্তি দরিদ্র বলে ধরা হয়। এই সংজ্ঞা অনুসারে, শুধুমাত্র এলপিজি ক্রয় (আলোর জন্য বিদ্যুৎ এবং টু হুইলারের জন্য পেট্রোলের মতো আরও অত্যাবশ্যক শক্তি পরিষেবার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়) একক আয়ের পরিবারগুলিকে শক্তি দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে।



দরিদ্র এবং ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে–থাকা গ্রামীণ পরিবারের থেকে এলপিজি’‌র কম চাহিদা শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় নিম্নমানের পরিষেবার কারণেও উদ্ভূত হয়। গ্রামীণ এলাকায় এলপিজি বিতরণের জন্য শহুরে মানের পরিকাঠামোতে বিনিয়োগকে অ–লাভজনক (অর্থনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপচয়) হিসাবে দেখা হয়, এবং তার কারণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও উৎপাদনশীলতার নিম্ন স্তর। এলপিজি’‌র কম চাহিদার ফলে সরবরাহের মান খারাপ হয় (অসংলগ্ন ও অ–অনুমানযোগ্য)। এর ফলে এলপিজি’‌র চাহিদা কমে যায়, এবং তার ফলে নিম্ন চাহিদার একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি হয়:‌ নিম্নমানের পরিষেবার ফলে চাহিদা কমে যাওয়া এবং তার ফলে পরিষেবার নিম্ন মান অব্যাহত থাকা। ‘‌
গরিবদের জন্য নিম্নমানের পরিষেবা’র এই ব্যবস্থাটি‌ জনসাধারণের পণ্যের, যেমন জ্বালানি (এলপিজি–সহ কিন্তু তাতে সীমাবদ্ধ নয়), থেকে গ্রামীণ চাহিদা বাদ দিয়ে দেয়। এটি দরিদ্রদের থেকে ধনীদের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করে (গ্রামীণ পরিবারগুলির মূল্যে ধনী শহুরে পরিষেবাগুলিতে আরও সংস্থান বিনিয়োগ করা হয়)। এই ধরনের বর্জন, প্রকৃতিগতভাবে, একটি অর্থনৈতিক বর্জন যা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত, এবং তা পরিকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো অন্যান্য সরকারি পণ্যের বিধানেও দেখা যায়। এটি গভীর মূলযুক্ত আর্থ–সামাজিক স্তরবিন্যাসের উপস্থিতি তুলে ধরে, যা দূরত্ব ও ঘনত্ব দ্বারা আরও বৃদ্ধি পায়। শহুরে সমষ্টিতে স্থানান্তর এই দুর্দশার সবচেয়ে সাধারণ প্রতিক্রিয়া, যেখানে দরিদ্ররা তাদের কাছে কবে উন্নত মানের শক্তি পরিষেবা পৌঁছবে তার অপেক্ষায় না–থেকে শহরাঞ্চলের উন্নত মানের শক্তি (এলপিজি এবং অন্যান্য শক্তি পরিষেবা যেমন বিদ্যুৎ) পরিষেবার দিকে চলে যায়।


এলপিজি ভর্তুকি সামর্থ্য: সরকার


এলপিজির জন্য ভর্তুকি
১৯৭০–এর দশকে শুরু হয়েছিল, যখন রান্নার জন্য জ্বালানি হিসাবে এলপিজি ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় শহুরে পরিবারগুলির মধ্যে এর গ্রহণ সীমিত করেছিল। ১৯৯০–এর দশকে শহুরে পরিবারগুলির দ্বারা এলপিজি ব্যাপকভাবে গ্রহণের কারণে এলপিজি ব্যবহার যে নিরাপদ তা প্রতিষ্ঠিত হয়। এলপিজি’‌র জন্য ভর্তুকি মূলত তুলনামূলকভাবে সচ্ছল শহুরে পরিবারগুলি গ্রহণ করেছিল, এবং এলপিজি ভর্তুকি হ্রাসের প্রস্তাবের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছিল৷ এটি ২০১০–এর দশকে পরিবর্তিত হয়েছিল, যখন এলপিজি ভর্তুকি পদ্ধতিগতভাবে হ্রাস করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আর্থিক ভর্তুকি বাড়ানোর জন্য বাজেটের সীমা, লক্ষ্যযুক্ত গ্রাহকদের কাছে ভর্তুকি সুবিধা সরাসরি ব্যাঙ্কে হস্তান্তরের উদ্যোগ, তেল ও এলপিজির আন্তর্জাতিক মূল্য হ্রাস–সহ নানা কারণ এলপিজি ভর্তুকির শান্তভাবে পর্যায়ক্রমিক অবসান সহজতর করেছে। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে এলপিজি’‌র আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধি এবং এলপিজি পাওয়ার জন্য ভর্তুকির সুযোগ যে প্রায়শই দরিদ্র পরিবারেরা নেয় না, এই সত্য সামনে এসেছে, এবং এর ফলে এলপিজি ক্রয়ক্ষমতার প্রশ্নে আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।


রান্নার জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় ভারত অন্যান্য দেশের মতো দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ করছে না।



২০১৩ সালের প্রথম দিকে এলপিজির আন্তর্জাতিক মূল্য ৮০০ মার্কিন ডলার/এমটি (মেট্রিক টন) থেকে অর্ধেকে নেমে ২০১৬–র মাঝামাঝি প্রায় ৪০০ মার্কিন ডলার/এমটি হয়ে যায়। এটি কোভিড–১৯–এর শেষ অবধি প্রায় ৪০০ মার্কিন  ডলার/এমটি থেকে গিয়েছিল, এবং তারপর ২০২২ সালের প্রথম দিকে ১০০০ মার্কিন ডলার/এমটি–র শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩–এর মাঝামাঝি সময়ে এটি আবার তার অর্ধেকে নেমে প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার/এমটি হয়েছে। ভারতে এলপিজি’‌র খুচরা মূল্য অবশ্য, দিল্লিতে, ৪১৪ ভারতীয় রুপি/সিলিন্ডার থেকে জুলাই ২০২৩–এ প্রায় ১৬৬ শতাংশ বেড়ে ১১০৩ ভারতীয় রুপি/সিলিন্ডারে পৌঁছেছে (চার্ট ৩)৷ আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির পরিবর্তে ভর্তুকি হ্রাসকেই বেশিরভাগ বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হয়েছে (এলপিজি চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়)। ডায়রেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) পেমেন্ট নভেম্বর ২০১৮–এ ৪৩৫ ভারতীয় রুপি/সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ ছুঁয়েছিল, তারপরে জুলাই ২০১৯–এ তা প্রায় ১৪০ ভারতীয় রুপি/সিলিন্ডারে নেমে আসে। ডিবিটি পেমেন্ট ২০১৫–১৬ সালের প্রায় ২৬০ বিলিয়ন ভারতীয় রুপি থেকে বেড়ে ২০১৮–১৯ সালে ৩১৫ বিলিয়ন ভারতীয় রুপি হয়, কিন্তু তারপর ২০২২–২৩ সালে তা প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ভারতীয় রুপিতে নেমে এসেছে। স্পষ্টতই, ভারতের কোষাগারে ভর্তুকির বোঝা কমানোর জন্য একটি চাপ রয়েছে।


এলপিজি টেকসই ব্যবহার


এলপিজি ভর্তুকি নিয়ে সংশয় দুটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সমাধান করা হয়েছে, যেখানে দরিদ্র পরিবারের এলপিজি ব্যবহার টিকিয়ে রাখার জন্য বাহ্যিক সহায়তার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জি২০ থেকে আসা প্রথম রিপোর্টটি ভারতে এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে, যেখানে জ্বালানি কাঠ/বায়োমাস হল রান্নার জন্য প্রভাবশালী জ্বালানি, সেখানে কঠিন জ্বালানি থেকে দূরে সরে যাওয়া উৎসাহিত করার জন্য এলপিজি কার্বন ক্রেডিট  প্রস্তাব করেছিল। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এনার্জি ট্রানজিশন অ্যাডভাইজরি কমিটির অন্য রিপোর্টে প্রতি বছর আটটি এলপিজি রিফিল করার জন্য ভর্তুকি অব্যাহত রাখার, এবং সেই সঙ্গে যে সব পরিবারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের জন্য এলপিজি ভর্তুকির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে এলপিজি ব্যবহার টিকিয়ে রাখার জন্য এনার্জি ট্রানজিশন অ্যাডভাইজরি কমিটি
র প্রস্তাব অনুযায়ী সরকার সম্ভাব্যভাবে এলপিজি ভর্তুকি চালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি ব্যবহার বজায় রাখতে জি২০ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এলপিজি কার্বন ক্রেডিটের জন্য চাপ দিতে পারে।


The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar Tomar

Vinod Kumar, Assistant Manager, Energy and Climate Change Content Development of the Energy News Monitor Energy and Climate Change. Member of the Energy News Monitor production ...

Read More +
Lydia Powell

Lydia Powell

Ms Powell has been with the ORF Centre for Resources Management for over eight years working on policy issues in Energy and Climate Change. Her ...

Read More +
Akhilesh Sati

Akhilesh Sati

Akhilesh Sati is a Programme Manager working under ORFs Energy Initiative for more than fifteen years. With Statistics as academic background his core area of ...

Read More +