Author : Manoj Joshi

Originally Published East Asia Forum Published on Sep 06, 2022 Commentaries 28 Days ago

২০২১ সালের আগস্টের মাঝামাঝি আফগানিস্তানে গনি সরকারের পতনের ফলে পায়ের নিচে মাটি সরে যাওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লি দ্রুত নতুন তালিবান নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানে তার উপস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

আফগানিস্তানে ভারতের সতর্ক প্রত্যাবর্তন
আফগানিস্তানে ভারতের সতর্ক প্রত্যাবর্তন

২০২২ সালের জুনের শুরুতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পাকিস্তান–আফগানিস্তান–ইরান ডেস্কের প্রধান জয়েন্ট সেক্রেটারি জে পি সিংয়ের নেতৃত্বে একটি দল কাবুল সফর করে, এবং সিনিয়র তালিবান মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে।

যদিও ভারত স্পষ্ট করে বলেছে যে এর অর্থ মোটেই তালিবান সরকারের স্বীকৃতি নয়, তালিবানরা কিন্তু এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য বড় করে তুলে ধরেছে

গনি সরকারের পতনের পর আফগানিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে নয়াদিল্লি দ্রুত এগিয়েছে। যদিও ভারত এই ধারণা দেয় যে সে কারও সহযোগিতা ছাড়াই এগোচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে ভারত যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করে চলেছে। উভয় দেশই দেশটিকে স্থিতিশীল করতে চায়, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার তৈরি করাতে চায়, এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে কোনও জায়গা দিতে চায় না। আফগানিস্তানের জন্য মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি টম ওয়েস্ট ২০২২ সালের মে মাসে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে, এবং নতুন দিল্লিতে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ভারতের অনেক কারণ রয়েছে। সিংয়ের সফরের সময়ে জারি হওয়া প্রেস রিলিজটি ভারতের ‘‌ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত সম্পর্ক’‌-এর কথা বলেছিল;‌ তবে এই নীতিটি মূলত এই ভয়ের দ্বারা চালিত হয়েছে যে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে তালিবান–শাসিত আফগানিস্তান বাড়িয়ে তুলবে।

তালিবানকে ভারতের পক্ষে সরাসরি বিপজ্জনক মনে করা না হলেও পাকিস্তান এবং লস্কর–এ–তৈবা বা জইশ–ই–মহম্মদের মতো জিহাদি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভারতের কাছে উদ্বেগজনক। মধ্য এশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সহ ভারতের মহাদেশীয় অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার জন্য আফগানিস্তান গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যগুলি বর্তমানে এই অঞ্চলে ভারতীয় প্রবেশপথে পাকিস্তানের অবরোধের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তালিবানকে ভারতের পক্ষে সরাসরি বিপজ্জনক মনে করা না হলেও পাকিস্তান এবং লস্কর–এ–তৈবা বা জইশ–ই–মহম্মদের মতো জিহাদি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভারতের কাছে উদ্বেগজনক।

এস ও এ এস ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের অ্যাকাডেমিক অবিনাশ পালিওয়ালের ভারতের আফগান নীতির অধ্যয়নের শিরোনাম হল ‘‌আমার শত্রুর শত্রু’‌। এটাই হল পুরো বিষয়টার মূল কথা। ইসলামাবাদের সঙ্গে তালিবানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকতে পারে, কিন্তু আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বিশেষ করে যখন তারা ডুরান্ড লাইন (আফগান–পাকিস্তান সীমান্ত) এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তান জুড়ে বসবাসকারী জাতিগতভাবে পশতুনদের অবস্থান নিয়ে বিরোধে লিপ্ত হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, তালিবান পাকিস্তানবিরোধী বিদ্রোহী জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক–ই–তালিবান পাকিস্তান (পাকিস্তান তালিবান)–কে আশ্রয় দিয়েছে।

পাকিস্তান–তালিবান সম্পর্ক এখনও জটিল। অন্তর্বর্তিকালীন তালিবান সরকারে একটি শক্তিশালী পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠী ছিল হাক্কানি নেটওয়ার্ক, একটি ইসলামি জঙ্গি সংগঠন যা ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখন তালিবানের একটি বিশিষ্ট অংশ হিসাবে কাজ করে। তেহরিক–ই–তালিবান পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানকে সাহায্য করার পরিবর্তে তালিবান ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তাদের ১৪ বছরের পুরনো বিদ্রোহের অবসান ঘটাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি করার জন্য কাজ করছে। এটি এমন একটি চুক্তি যার জন্য পাকিস্তানকে নানা উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হবে।

ডুরান্ড লাইনের উভয় দিকে একটি স্থিতিশীল উপজাতীয় অঞ্চল উভয় দেশে হিংসা হ্রাস করবে, এবং ইসলামিক স্টেট অফ খোরাসান স্টেট (আই এস আই এস‌–কে)‌ বা আল কায়েদার মতো গোষ্ঠীর পুনরুত্থানে বাধা দেবে। তবে এটি আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি জিহাদি গোষ্ঠীর প্রবেশের বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ হ্রাস করবে না। তা অর্জনের জন্য ভারতকে তালিবানের উপর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হবে, অন্যদিকে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক কাবুলের জমানাকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার একটি উপায় সরবরাহ করবে।

২০২১ সালের নভেম্বরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল নয়াদিল্লিতে আফগানিস্তানের উপর তৃতীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপের আয়োজন করেছিলেন। ভারত স্পষ্ট করে বলেছে যে তার লক্ষ্য তালিবানকে উৎখাত করার জন্য কোনও জোটের পুনরুত্থাপন নয়, বরং আই এস আই এস–কে এবং আল কায়েদার মতো সংগঠনের পুনরুজ্জীবন রোধ করা। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না–করার এই প্রসঙ্গটি ২০২২ সালের জুনের আলোচনায় পুনরাবৃত্তি করা হয়েছিল।

ভারত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করেছিল যে তারা মানবিক ত্রাণের জন্য আফগানিস্তানে ৫০,০০০ টন গম সরবরাহ করবে, এবং একটি অস্বাভাবিক ছাড় দিয়ে পাকিস্তান এই চালানগুলিকে তার ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহায়তা প্রদানকারী ভারত  স্কুল, রাস্তা, বাঁধ ও হাসপাতালে বিস্তৃত পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিতে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা সবই তালিবানের উপর তার পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়।

তালিবান ২.০–র বিবর্তনের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। ১৯৯৪ সালে আফগানিস্তানের প্রথম ইসলামি আমিরশাহির প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের মতো একজন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে নতুন তালিবান উপজাতীয়, আঞ্চলিক ও ব্যক্তিগত বিভাজনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহায়তা প্রদানকারী ভারত  স্কুল, রাস্তা, বাঁধ ও হাসপাতালে বিস্তৃত পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিতে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা সবই তালিবানের উপর তার পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়।

নয়াদিল্লি একটি সমন্বিত উপায়ে কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসারিত করতে তার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছে:‌ এটি আফগানিস্তানের জাতীয় ক্যারিয়ারকে ভারতে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার অনুমতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে এবং আফগানদের কনস্যুলার পরিষেবা প্রদানের জন্য কাবুলে তার দূতাবাসে একটি ‘‌প্রযুক্তিগত দল’‌ বসিয়েছে। আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতি তার নিরাপত্তার জন্য বিপদ বলে পাকিস্তানিদের আশঙ্কা প্রশমিত করা অবশ্যই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইসলামাবাদ অতীতে কাবুলে প্রক্সি-মাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাস সহ বিভিন্ন ভারতীয় স্থাপনাকে আক্রমণ করেছে।

১৮ জুন ২০২২ কাবুলের একটি শিখ গুরুদ্বারে বোমা হামলা, যার দায় আই এস আই এস–কে দাবি করেছিল, নতুন দিল্লিতে সতর্কতার ঘণ্টা বাজিয়েছে। ভারত আগে, ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত, নিরাপত্তার জন্য আফগানিস্তানে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ কাবুল সরকার ও মার্কিন নিরাপত্তা উপস্থিতির উপর নির্ভর করত। এখন ‌তাকে বাস্তবতার স্তরটি সাবধানে মূল্যায়ন করতে হবে।

তা করার সর্বোত্তম উপায় হবে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে কথা বলা। কিন্তু যেহেতু তা বর্তমানে অনেক দূরের একটি বিষয়, তাই বিকল্পটি হল অন্য অংশীদারদের সঙ্গে সংযুক্তভাবে এগিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে।


এই ভাষ্যটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘ইস্ট এশিয়া ফোরাম’–এ।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.