Expert Speak Digital Frontiers
Published on Oct 31, 2022 Updated 9 Days ago

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের কথা মাথায় রেখে ভূস্থানিক তথ্যের প্রবিধানগুলি এমন ভাবে কাজে লাগাতে হবে যা বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য উপযোগী।

জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভূস্থানিক তথ্যের গুরুত্ব
জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভূস্থানিক তথ্যের গুরুত্ব

ভূস্থানিক ম্যাপিং এবং প্রযুক্তির জন্য নীতি নির্মাণের দীর্ঘ এবং কঠিন প্রচেষ্টার পর ভারত অবশেষে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানচিত্র-সহ ভূস্থানিক তথ্য এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য পরিষেবাগুলি অর্জন এবং উত্পাদন করার জন্য তার সর্বশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে এবং ২০২১ সালের জুলাই মাসে জাতীয় ভূস্থানিক নীতির খসড়া বা ন্যাশনাল জিওস্প্যাশিয়াল পলিসি (এন জি পি) প্রকাশ করেছে। এই দু’টি নথি এমন একটি পটভূমিতে বিদ্যমান, যা ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল ডেটা গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক পলিসি (এন ডি জি এফ পি) এবং আসন্ন তথ্য সুরক্ষা বিল (২০২১) এক বার পাস হয়ে গেলে তথ্য নিরীক্ষণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই নতুন নথিগুলি যা ভূস্থানিক প্রযুক্তি এবং তথ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে, অবস্থানগত, উপগ্রহ, রিমোট সেন্সিং এবং জরিপকৃত তথ্যের জন্য নির্দেশিকাটিকে সতর্কতা অবলম্বনে সাহায্য করে।

ভারতে ভূস্থানিক বাজার বেসরকারি এবং সরকারি উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় ভূস্থানিক অর্থনীতি ২০২১ সালের প্রায় ৩৮৯৭২ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ৭.৮৭ শতাংশের সি এ জি আর-এ ৫২৭৭০ কোটি টাকা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্যের উদারীকরণের কাজে নীতিটিকে আরও জোরদার করা গেলে তা ১২.৮ শতাংশ সি এ জি আর-এ ৬৩১০০ কোটি টাকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। কৃষি, টেলিযোগাযোগ, দুর্যোগ ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অধ্যয়ন, স্থাপত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে এর উপযোগিতার একটি প্রধান অংশ প্রয়োগ করা হয়। ভূস্থানিকের ছত্রছায়ায় তথ্য এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য সবচেয়ে বড় শীর্ষ পাঁচটি শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে একটি হল প্রতিরক্ষা। সাম্প্রতিক ভূস্থানিক নির্দেশিকা এবং এন জি পি কর্তৃপক্ষের অধীনে বিজ্ঞপ্তি হিসাবে প্রকাশিত পুরনো বাধ্যবাধকতাগুলি এবং ভূস্থানিক ক্ষেত্রের জাতীয় মানচিত্র নীতিকে (২০০৫) প্রতিস্থাপিত করেছে, যেখানে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় সংস্থাকে ভারতের সার্ভে, অর্থ মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতো একাধিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়ার জন্য যোগাযোগ স্থাপন করতে হত। বর্তমানে সমস্ত ভারতীয় সংস্থাকে প্রবেশাধিকার এবং তথ্য সঞ্চয় করার জন্য একটি পোর্টালে জমা দিতে হবে। ভারতের অভ্যন্তরে এবং তার সার্ভারগুলিতে তথ্য সংরক্ষণ করার কথা হলেও বিদেশি সংস্থাগুলিকে তা ব্যবহার করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যে সব ম্যাপিং এজেন্সির মূল কার্যালয় আন্তর্জাতিক ভাবে অবস্থিত, ভারত যদি তাদের ভূস্থানিক তথ্য ব্যবহারের উদার সুযোগ দেয় (যেহেতু বৈশ্বিক শক্তিগুলির তুলনায় ভারতে ম্যাপিং এজেন্সি এবং ভূস্থানিক প্রযুক্তি ও ডিভাইস নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান রয়েছে), তা হলে তা ভারতের শুধু মাত্র ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই নয়, স্বদেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে।

নিয়ন্ত্রক নথিগুলি মুদ্রণ এবং ডিজিটাল প্রদর্শনের জন্য রাজনৈতিক মানচিত্রের লভ্যতাকেও গণ্য করে এবং সংবেদনশীল বৈশিষ্ট্যগুলির নেতিবাচক তালিকাকে অস্বীকার করে অর্থাৎ ‘কোনও ব্যক্তি বা আইনি সত্তা একটি নিষিদ্ধ বৈশিষ্ট্য মানচিত্রে কোনও অবস্থানের সঙ্গে চিহ্নিত করতে বা সংযুক্ত করতে পারবে না।’ ভূস্থানিক নির্দেশিকাগুলি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ দ্বারা নির্ধারিত নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলির একটি তালিকা তৈরি করবে, যাতে তা ন্যূনতম হয় এবং কাজ করার সহজতাকে প্রভাবিত না করে। বৈশিষ্ট্যের বর্তমান অস্থায়ী তালিকায় বেশির ভাগই পারমাণবিক ক্ষেত্র, এয়ারলাইনস, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের এলাকা, নিয়ন্ত্রণ রেখা ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্রবিধানের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নিয়মের লঙ্ঘন করা হলে তা দ্য ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট (অ্যামেন্ডিং) অ্যাক্ট ১৯৯০, সিভিল অ্যাভিয়েশন রিকোয়ারমেন্ট, কোম্পানিজ অ্যাক্ট ২০১৩, আই টি অ্যাক্ট এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি-সহ প্রযোজ্য উপযুক্ত আইনের আলোকে মোকাবিলা করা হবে।

ভূস্থানিক তথ্যের উদারীকরণ কি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত?

উদারীকৃত ভূস্থানিক তথ্যের জন্য এই পদক্ষেপ বেসরকারি খাতে প্রশংসিত হয় কারণ তা উদ্ভাবন এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উত্সাহিত করে, যদিও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রটি এ প্রসঙ্গে কম আশাবাদী। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ভূস্থানিক তথ্য (যা ভারতীয় স্যাটেলাইট এবং রিমোট সেন্সিং সিস্টেম ব্যবহার করে জরিপ করা হয়েছে) আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন গুগল, অ্যাপল এবং অন্য সরবরাহ প্রদানকারী পরিষেবাগুলির সঙ্গে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম নিখুঁত ভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে না এবং অনুমতি ছাড়া বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই জাতীয় তথ্য ট্র্যাক করার অনুমতি দেওয়া হয় না। যদিও এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (এম ও ডি) ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে ভূস্থানিক ম্যাপিং এবং উপকূলরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিনামূল্যে জলের নিচে ম্যাপিংয়ের অনুমতি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে। এম ও ডি-র প্রস্তাব সত্ত্বেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতো প্রতিরক্ষা বাহিনী এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মত পোষণ করেছে। অনুমতি প্রক্রিয়া তুলে দিয়ে এই বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বিত নীতি আয়োগ কমিটি আপত্তি জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান সদর দফতর আছে, এমন আন্তর্জাতিক ম্যাপিং এবং স্যাটেলাইট সংস্থা যেমন গুগল, অ্যাপল, স্পেসএক্স, লকহিড মার্টিন ইত্যাদিকে (যারা ফাইভ আইজ অ্যালায়েন্স(১)এর পাশাপাশি নাইন আইজ এবং ফোর্টিন আইজ অ্যালায়েন্সের অধীনে) ম্যাপিং তথ্য প্রদান উদারীকরণের ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনা যথার্থ ভাবেই দ্বিধাগ্রস্ত ভাব দেখিয়েছে। সমুদ্রে নজরদারি, একেলন এবং ভূস্থানিক ম্যাপিংয়ের ব্যবহার সর্বদাই জাতীয় গোয়েন্দাবিভাগের একটি অংশ। এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড মঞ্চগুলিতে ব্যাকডোর অ্যাক্সেসকে সমর্থন করার জন্য ভারত ২০২০ সালে ফাইভ আইজ অ্যালায়েন্সে যোগদান করলেও, জোটের মূল উদ্দেশ্য হল যে কোনও সদস্যের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ করে নেওয়া।

যে সব ম্যাপিং এজেন্সির মূল কার্যালয় আন্তর্জাতিক ভাবে অবস্থিত, ভারত যদি তাদের ভূস্থানিক তথ্য ব্যবহারের উদার সুযোগ দেয় (যেহেতু বৈশ্বিক শক্তিগুলির তুলনায় ভারতে ম্যাপিং এজেন্সি এবং ভূস্থানিক প্রযুক্তি ও ডিভাইস নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান রয়েছে), তা হলে তা ভারতের শুধু মাত্র ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই নয়, স্বদেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে। এটি শুধু মাত্র বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দ্বারা সম্ভাব্য অভূতপূর্ব তথ্য অপব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা অস্ত্র বা কার্গো চলাচলের উপর সম্ভাব্য স্যাটেলাইট নজরদারি, সামুদ্রিক ম্যাপিং এবং এমনকি সীমান্ত অঞ্চলে গতিবিধিকেও বিপদের মুখে ফেলবে।

নথিটিকে ভূস্থানিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্ত অংশের জন্য স্বদেশি সংস্থা গড়ে তুলতে উত্সাহিত করতে হবে। তা এ কথাই সুনিশ্চিত করবে যে, তথ্য সঞ্চয় এবং তথ্য বণ্টনের প্রেক্ষিতে এই সংস্থাগুলি নাগরিক তথ্যের উপর নজর রাখে এমন অথবা আন্তর্জাতিক প্রবিধান সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য নীতি দ্বারা সীমিত নয় এবং এগুলি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাস্তুতন্ত্র-বহির্ভূত গোয়েন্দা জোটগুলি দ্বারা ব্যবহৃত তথ্য পেতে সক্ষম হবে না।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলিতে জরিপকৃত তথ্য সংরক্ষণ এবং ভারতীয় সার্ভারগুলিতে সেই তথ্য হোস্ট করার বর্তমান ব্যবস্থার জন্য ভারতে ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির বিশেষ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সুবিধা রয়েছে। তথ্য উদারীকরণের যুক্তিটি তথ্য সুরক্ষা বিলের মতো অন্যান্য প্রবিধানের জন্য যুক্তিযুক্ত না-ও হতে পারে। তথ্য সুরক্ষা বিল সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার জন্য তথ্য স্থানীয়করণের লক্ষ্যে তার পুরনো উপস্থাপনা থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হলেও বর্তমান ভূস্থানিক নির্দেশিকাগুলিতে সেটি প্রতিফলিত হয়নি। ভূস্থানিক তথ্যের জন্য আরও সুরক্ষার প্রয়োজন। কারণ তা উপকূলীয় এবং স্থল সীমানা, স্যাটেলাইট ব্যবহার, রেল চলাচল এবং নানা গতিবিধিকে জরিপ করতে সক্ষম। বর্তমানে রিয়েল টাইম ম্যাপিং সুরক্ষিত করার জন্য ভারতে জি পি এস-এর (গুগল ম্যাপস) মাধ্যমে রাস্তার দৃশ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ভারত একটি জি পি এস সাহায্যপ্রাপ্ত ভারতীয় স্যাটেলাইট কনস্টিলেশনকে (গগন) রিয়েল টাইম রেল চলাচল ট্র্যাক করার অনুমতি দিয়েছে এবং এটিও শুধু মাত্র যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্যই সংরক্ষিত ও সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস (সি আর আই এস) দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেহেতু এন জি পি-তে কতটা অনুপুঙ্খতা পর্যন্ত তথ্য ভাগ করে নেওয়া যাবে সে সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়েছে, তাই এটি বর্তমানে কেস বাই কেস বিবেচনার আওতায় রয়েছে (অন্য সমান্তরালগুলির সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে, যেমন স্টার্ট আপ, পি পি পি ইত্যাদি)। এই তথ্যের গুরুত্বের উপর নজর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নীতির অধীনে নির্মিত জিওস্প্যাশিয়াল ডেটা প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটির (জি ডি পি ডি সি) সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেরও এক জন সদস্য থাকবেন। কোন ঘটনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেই সংক্রান্ত ধোঁয়াশা একটি উদ্বেগের বিষয় যা ভূস্থানিক তথ্য ভাগ করে নেওয়া এবং ভূস্থানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি প্রতিরক্ষা-নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরে।

ডিফেন্স জি আই এস-কে নাগরিক তথ্য থেকে পৃথক রাখার জন্য প্রামাণ্য রূপ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয়তা, এমনকি আক্রমণের সংবেদনশীলতা ছাড়াও, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সমস্যাগুলি এড়ানোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, সে কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিরক্ষার জন্য ভূস্থানিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা বেশি এবং সেই কারণে নাগরিক সংস্থাগুলির প্রয়োজনীয়তার তুলনায় সর্বক্ষণের নজরদারি, ভূখণ্ড বিশ্লেষণ এবং উচ্চতর রেজোলিউশন ও উন্নত সেন্সর, ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশনের ব্যবহার বেশি করতে হবে। ভারতে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সি আই ডি এস এস (কমান্ড ইনফরমেশন ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম) এবং আই এ এফ-এর ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আই এ সি সি এস) নামক দু’টি ভূ-স্থানিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের নতুন মহাকাশ নীতি ভারতীয় মহাকাশ ক্ষেত্রটিকে অন্তরীক্ষের সীমানার বাইরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং সেটিকে স্পেসএক্স-এর সমতুল্য করে তুলবে, যা ভারতে প্রক্ষেপণ এবং উত্পাদনের নিরিখে মহাকাশ ক্ষেত্রটির বেসরকারিকরণে সহায়তা করবে। তবে এমনটা এখনও বাস্তবে হতে দেখা যায়নি। মহাকাশ শিল্পে বেসরকারি ক্ষেত্রের শক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকরণের দিকটিও এন জি পি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত, যাতে নতুন মহাকাশ নীতি কৌশলগত ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ভূস্থানিক ক্ষেত্রের জন্য প্রবিধানে অবশ্যই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে আলাদা ভাবে বিবেচনা করতে হবে। প্রতিরক্ষা তথ্য এবং নাগরিক তথ্যের জন্য একটি সর্বাঙ্গীন প্রবিধান বেসরকারি ক্ষেত্রগুলির বৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল ক্রমবর্ধমান পরিবেশ তৈরি করলেও তা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকারক হবে। এর পরিবর্তে নথিটিকে ভূস্থানিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্ত অংশের জন্য স্বদেশি সংস্থা গড়ে তুলতে উত্সাহিত করতে হবে। তা এ কথাই সুনিশ্চিত করবে যে, তথ্য সঞ্চয় এবং তথ্য বণ্টনের প্রেক্ষিতে এই সংস্থাগুলি নাগরিক তথ্যের উপর নজর রাখে এমন অথবা আন্তর্জাতিক প্রবিধান সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য নীতি দ্বারা সীমিত নয় এবং এগুলি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাস্তুতন্ত্র-বহির্ভূত গোয়েন্দা জোটগুলি দ্বারা ব্যবহৃত তথ্য পেতে সক্ষম হবে না।


[1] ফাইভ আইজ অ্যালায়েন্স হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি গোয়েন্দা জোট।

মতামত লেখকের নিজস্ব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.