অনলাইন পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সামগ্রিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাইবারস্পেসের দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনের পেশাদার, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক দিকগুলি এই পরিসরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ছে। ব্যবহারকারীরা এমন কিছু সম্প্রদায়ের সন্ধান পেয়েছেন যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলিকেও একটি বৃহত্তর দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম৷ তাদের বিশ্বাসকেই প্রতিধ্বনিত করে, এ হেন সম্প্রদায়গুলির সন্ধান বহু সংখ্যক মানুষের মতামতকে একত্র করতে পারলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে প্রান্তিক মানুষদের জন্য এই নবলব্ধ পথটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত সামাজিক অংশের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বৃহত্তর প্রবেশাধিকার এবং নাম প্রকাশ না করার স্বাধীনতা থাকার ফলে সংশ্লিষ্ট অপব্যবহার, নিপীড়ন এবং বিভিন্ন ধরনের হিংসার ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
এই গোপনীয়তা গণ অনলাইন পরিসরের তুলনায় ব্যক্তিগত অনলাইন পরিসরে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণপরিসরে প্রতীকী হিংসার লক্ষ্যবস্তু বিশেষ করে নারী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু লিঙ্গের মানুষ এখনও তাঁদের নিজস্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন এবং জি বি ভি (জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স বা লিঙ্গভিত্তিক হিংসা) সৃষ্টিকারী অপরাধীদের সমসংখ্যক নিজ সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন। অনলাইনে ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশাধিকার আসলে বিভ্রান্তিকর, যেহেতু তারা কোনও বিশেষ অঞ্চলে আবদ্ধ নয় যেভাবে তারা ভৌত জগতে উপস্থিত থাকতে সক্ষম। গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং হয়রানি প্রবেশাধিকারের ধারণা ও প্যারা-সোশ্যাল সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সহজতর হয়ে উঠেছে। এমনকি ডিজিটাল পরিসরেও জি বি ভি তার উপস্থিতি স্পষ্ট করেছে, বিশেষ করে সেই মানুষদের প্রতি, যাঁদের ভোটাধিকার নেই।
গণপরিসরে প্রতীকী হিংসার লক্ষ্যবস্তু বিশেষ করে নারী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু লিঙ্গের মানুষ এখনও তাঁদের নিজস্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন এবং জি বি ভি (জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স বা লিঙ্গভিত্তিক হিংসা) সৃষ্টিকারী অপরাধীদের সমসংখ্যক নিজ সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।
সাইবার পরিসরের ক্ষেত্রে, বিশেষত ব্যক্তিগত অনলাইন পরিসরে অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যায়কে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। যদিও জি বি ভি-র বেশ কয়েকটি রূপ রয়েছে যেগুলি ভারতীয় দণ্ডবিধি (আই পি সি) দ্বারা স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত এবং এবং অংশগ্রহণকারীদের পরিচিতি নির্বিশেষে সাধারণ ভাবে আপত্তিকর। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা এই ধরনের আক্রমণের শিকার হন। এই প্রসঙ্গে জি বি ভি অশ্লীল অযাচিত ছবি পাঠানো, হুমকিমূলক মন্তব্য করা, ছবি বিকৃত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, সম্মতি ছাড়াই সেগুলির প্রচার এবং সম্মতিহীন অন্তরঙ্গ ছবি তৈরি এবং/অথবা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নকল প্রযুক্তির ব্যবহার, সাইবার ফ্ল্যাশিং ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আই পি সি-র বিভিন্ন ধারা ই-মেল স্পুফিং (ধারা ৪৬৩), সাইবার হ্যাকিং (ধারা ৬৬), অশ্লীল বার্তা প্রেরণ (ধারা ৬৬এ), এবং পর্নোগ্রাফি-সহ (ধারা ২৯২) এই ধরনের হিংসার বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও সুরক্ষা প্রদান করে।
এই সব আইনগত বিধির অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ এবং ২০২০ সালের মধ্যে অনলাইন হয়রানির প্রতিবেদনগুলি ১১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাইবারভিত্তিক যৌন শোষণের বর্তমান হার সমস্ত সাইবার অপরাধের (২০২০) ৬.৬ শতাংশ, বিশেষ করে ব্যক্তিগত অনলাইন পরিসর প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ্লিকেশন, ডেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং এমনকি অনলাইন নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মেও উঠে এসেছে।
অনেক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ এবং ডেটিং অ্যাপ, বিশেষত বাম্বল টেক্সাস এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবিধানের জন্য সফল ভাবে ওকালতি করার চেষ্টা করেছে। এই বিলগুলি অনলাইনে পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে৷
যদিও একটি পরিসর হিসেবে লিঙ্কড ইন রূপান্তরকামী মানুষদের দৃশ্যমানতা এবং অন্তর্ভুক্তির পক্ষেই সমর্থন জানায়, তা সত্ত্বেও তাঁরা অনলাইনেও একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবেই রয়ে গিয়েছেন। সেখানে প্রায়শই তাঁদের নিছক উপস্থিতি প্রকাশ্যে পরিসরটিতে এবং ব্যক্তিগত স্তরেও অন্য মানুষদের কাছ থেকে তির্যক মন্তব্য এবং এহেন মানুষদের প্রতি ভীতি বা ট্রান্সফোবিয়ার জন্ম দেয়।
বন্দুক, হিংসাত্মক ঘটনার দৃশ্য, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অশ্লীল প্রদর্শন ইত্যাদির মতো যে কোনও রুচিহীন ছবিকে অন্যান্য ডেটিং অ্যাপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এ আই) মাধ্যমে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। এগুলি দেখতে পাওয়ার অনুমতি শুধু মাত্র স্প্যাম অ্যাকাউন্ট অথবা সেই ব্যবহারকারীরা পেয়ে থাকেন, যাঁরা এই সব মঞ্চের ব্যবহারিক নির্দেশিকা মেনে চলেন না। অ্যাকাউন্ট খোলা বা সাইন আপ করার প্রক্রিয়ার সময়ে এই অ্যাপ্লিকেশনগুলির অধিকাংশই ব্যবহারকারীকে নকল প্রোফাইল তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে ছবি যাচাই পদ্ধতিকে কাজে লাগায়।
ব্যবহারকারীর অভিযোগের পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান ছবি যাচাইকরণের অনুরূপ উপায়গুলি রূপান্তরকামী মানুষদের প্রোফাইলের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। ২০১৯ সালে টিন্ডার এ ধরনের হয়রানির মোকাবিলা করার জন্য এবং তাঁদের পৃথক করে দেওয়ার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মঞ্চটিকে সকলের জন্য সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। যদিও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অধিকাংশ নিষিদ্ধ অ্যাকাউন্টগুলিকে মদত জোগানোয়, রূপান্তরকারী মানুষজন এবং এল জি বি টি কিউ আই এ প্লাস-এর অন্য সদস্যদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা-সহ এই মঞ্চগুলি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সুস্পষ্ট প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারতে কোনও ট্রান্স-ইনক্লুসিভ যৌন হয়রানি আইন (রূপান্তরকারী মানুষ-সহ সমগোত্রীয় মানুষদের জন্য যৌন হয়রানি রোখার কোনও আইন) নেই।
জি ভি বি-র এই সংস্করণ রূপান্তরকামী মানুষদের বিরুদ্ধে লিঙ্কড ইন-এর মতো অ-ব্যক্তিগত পরিসর জুড়ে প্রতিফলিত হয়েছে। লিঙ্কড ইনের মতো একটি পেশাদার পরিসরে রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়াই কঠিন। তবু যে সব রূপান্তরকামী মানুষ এই পরিসরে সক্রিয়, তাঁদের কর্মজীবনের বাইরেও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক / সক্রিয় পরিসর বর্তমান। যদিও একটি পরিসর হিসেবে লিঙ্কড ইন রূপান্তরকামী মানুষদের দৃশ্যমানতা এবং অন্তর্ভুক্তির পক্ষেই সমর্থন জানায়, তা সত্ত্বেও তাঁরা অনলাইনেও একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবেই রয়ে গিয়েছেন। সেখানে প্রায়শই তাঁদের নিছক উপস্থিতি প্রকাশ্যে পরিসরটিতে এবং ব্যক্তিগত স্তরেও অন্য মানুষদের কাছ থেকে তির্যক মন্তব্য এবং এহেন মানুষদের প্রতি ভীতি বা ট্রান্সফোবিয়ার জন্ম দেয়। পেশাদার সংযোগ এবং আদানপ্রদানের পরিসর লিঙ্কড ইনেও ক্রমবর্ধমান হেনস্থা এবং অশালীন মন্তব্যের ঘটনা দেখা দিয়েছে। এটির প্রতিকার করতে পরিসরটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই এবং মেশিন লার্নিং টুলস কাজে লাগিয়ে মঞ্চটি ব্যবহারকারীদের আচরণকে চিহ্নিত করেছে এবং হেনস্থাকে উৎসেই নির্মূল করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন করার প্রক্রিয়ার দায় প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের উপরেই বর্তায়, যাতে অশ্লীল বার্তা প্রেরণকারীদের চিহ্নিতকরণ, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়।
আরও এক ধাপ এগিয়ে এই পদক্ষেপটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং হেনস্থা চিহ্নিতকরণের জন্য প্রভাবিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব বৃদ্ধি করে। এটি প্রাথমিক ভাবে দু’টি সমস্যার উদ্রেক করে: সংশ্লিষ্ট মঞ্চের বাইরে ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং মানুষের বিধিবদ্ধ ধারণা ও আন্তঃসামাজিক সম্পর্ক প্রতিবেদনের পদ্ধতিকে বাধা দান করতে পারে।
ব্যবহারকারীদের জি বি ভি-কে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা না থাকার একটি উদাহরণ, তাঁরা ডিপ ফেক প্রযুক্তির শিকার হতে পারেন। প্রায়শই নকল পর্নোগ্রাফিক (অশ্লীল) বিষয়বস্তু তৈরি করার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা হলে এর তাৎক্ষণিক সামাজিক ফল মারাত্মক হতে পারে যদি তা প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এখনও পর্যন্ত ভারত এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ডিপ ফেক ব্যবহারের পরিসরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে যখন তা যৌন হয়রানির চেহারা নেয়। আই পি সি বর্তমানে অযৌক্তিক অশ্লীল ছবি এবং ভিডিয়ো প্রেরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা জোগালেও, বাকস্বাধীনতা থেকে শুরু করে কপিরাইট আইনের দোহাই দেখিয়ে অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রস্তুতকারী ও প্রচারকারীরা সহজেই ছাড় পেয়ে যান। তাই এই সমস্যার সমাধান হবে অসম্মতিমূলক ভিডিওগ্রাফি এবং অশ্লীল পর্নোগ্রাফির সৃষ্টি ও প্রচারের উপর নজরদারির জন্য একটি ব্যাপক সর্বাত্মক প্রবিধানের প্রচলন করা।
ব্যক্তিগত পরিসরে জি বি ভি প্রায়শই আন্তঃসামাজিক সম্পর্কের ফলে তৈরি হয়। এই সম্পর্কের উপলব্ধি শুধু মাত্র অপরাধীকেই নয়, ক্ষতিগ্রস্তদেরও প্রভাবিত করে। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ এই ‘সংযোগ’ রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে নিজেদের দোষী বলে মনে করেন এবং কেউ কেউ পূর্ববর্তী বা অন্তর্নিহিত সম্পর্কের দরুন এই ধরনের হয়রানিকে আপত্তিকর বলেই মনে করেন না। প্রতিবেদন করার প্রক্রিয়ার দায় প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের উপরেই বর্তায়, যাতে অশ্লীল বার্তা প্রেরণকারীদের চিহ্নিতকরণ, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এই নজরদারি অনেককে, বিশেষ করে পেশাদার ক্ষেত্রে কর্মরত মানুষদের এমন ঘটনা রিপোর্ট করা থেকে বিরত রাখে, যেগুলি তাঁরা তুচ্ছ হয়রানি বলে মনে করেন।
প্রায়শই যৌন হয়রানির অভিযোগের জন্য ভুক্তভোগীদেরকেই দোষারোপ করা হয়। এই ভীতি অ-ভৌতিক মঞ্চগুলিতে হেনস্থার ঘটনাকে প্রতিবেদিত হতে সীমাবদ্ধ করে। বর্তমান যৌন হয়রানি আইন প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের অনলাইন কর্মক্ষেত্রে হয়রানি থেকে সুরক্ষা জোগায় না এবং আগামী দিনে এই বিষয়টিকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পেশাদার মঞ্চগুলিতে অনলাইন হয়রানি এখন কর্মক্ষেত্রে হয়রানির জন্য একটি ফারাক তৈরি করেছে যা নিয়োগকর্তাদের দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত এবং নিরীক্ষিত হয় না।
এ ধরনের অধিকাংশ মঞ্চই ব্যক্তিগত সম্প্রদায়গুলির মধ্যে ভাব আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হওয়ার দরুন হয়রানি্র শিকার হওয়া অধিকাংশ মানুষই প্রাথমিক স্তরে পরিচিতির ছদ্মবেশে ঘটা সূক্ষ্ম হিংসার ঘটনার কথা রিপোর্ট করা থেকে বিরত থাকেন। কারণ তাঁরা মনে করেন, এমনটা করলে তাঁরা বৃহত্তর সম্প্রদায়ের ক্ষোভের সম্মুখীন হবেন এবং পেশাগত ও সামাজিক ভাবে একঘরে হয়ে যাবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীদের সঠিক ভাবে চিহ্নিত না করার দরুন এই ভীতিগুলি জাঁকিয়ে বসে। যেমন আই পি সি ৬৭এ ধারার অধীনে বলা হয়েছে, অশ্লীল চিত্র নির্মাণকারীর পাশাপাশি সেই চিত্র যিনি দেখছেন, তাঁকেও জবাবদিহি করতে হবে।
নিরাপত্তা ও উদ্বেগের ছদ্মবেশটি পর্যবেক্ষণ এবং সীমাবদ্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এবং একই সঙ্গে একাধিক মঞ্চে নারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রেম নিবেদনের কাজেও ব্যবহার করা হয়।
অনলাইন জি বি ভি এবং শারীরিক জি বি ভি-র একত্রীকরণ প্রযুক্তির সঙ্গেই বৃদ্ধি পায়। ব্যক্তিগত হিংসার এই ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে নজরদারি এবং বিপণনের অনলাইন মঞ্চগুলি, যা শহুরে উচ্চবিত্ত শ্রেণির উদ্দেশ্যেই তৈরি এবং নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষদের গৃহশ্রমের উপর নজরদারি চালায়। যেমন নাগরিক সমাজে ক্যামেরা, প্রবেশ এবং প্রস্থানের উপরে নজরদারি চালানোর জন্য গেটওয়ে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার ইত্যাদি। নিরাপত্তা ও উদ্বেগের ছদ্মবেশটি পর্যবেক্ষণ এবং সীমাবদ্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এবং একই সঙ্গে একাধিক মঞ্চে নারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রেম নিবেদনের কাজেও ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তি শুধুমাত্র অপমান করার জন্যই নয়, অনলাইনে প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করতেও ব্যবহার করা হয়েছে। নজরদারির অধীনে থাকা আবাসন কেন্দ্র, যে সমস্ত কর্মপরিসরে লিঙ্কড ইন এবং জুম ব্যবহার করা হয় সেগুলি এবং যে সমস্ত ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন ডেটিং উপভোগ করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের মতো ভৌত বিশ্বে এটি জি বি ভি-র দ্বিতীয় প্রবাহের সূচনা করেছে।
বর্তমানে ক্রমবর্ধমান পরিসর জুড়ে ব্যবহারকারীর সুরক্ষা বাধ্যতামূলক করে এমন কোনও জাতীয় বা বিশ্বব্যাপী সর্বাত্মক আইন বা প্রবিধান নেই। এই সংক্রান্ত প্রচেষ্টা চালানো হলেও সেগুলি যথেষ্ট দক্ষ নয় এবং নতুন উদ্ভাবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম নয়।
মঞ্চ-নির্দিষ্ট নির্দেশিকা এবং অকেজো হয়ে যাওয়া প্রবিধানগুলি সমসাময়িক সমস্যাগুলির সমাধানে যথেষ্ট নয়। এই প্রবিধানগুলির বিকল্প প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রবিধানগুলিকেই অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, শুধু মাত্র তাদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নয়। একই রকম ভাবে কোনও তথ্য প্রযুক্তি বা কল্পিত নীতির পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহারের জন্য ড্রোন নীতিগুলি যে ভাবে প্রকাশ্যে এসেছে, তারই অনুরূপ। প্রশাসন, মঞ্চ, এবং শিল্প/প্রযুক্তি এই তিনটির মধ্যে যে কোনও একটির প্রবিধানের বাস্তবায়ন ত্রুটি বহাল রাখার এবং জি বি ভি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে। সমন্বিত প্রবিধানের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সামগ্রিক সুরক্ষাকেই সুনিশ্চিত করতে হবে।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Shravishtha Ajaykumar is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy, and Technology. Her research areas include Chemical, Biological, Radiological, and Nuclear (CBRN) strategy ...
Read More +