Expert Speak Digital Frontiers
Published on Nov 10, 2022 Updated 14 Days ago

ইন্টারনেট বিকেন্দ্রীকরণ বলতে ব্যবহারকারীদের হাতে আরও বেশি করে ক্ষমতা তুলে দেওয়াকেই বোঝায়। ভারতকে অবশ্যই তার প্রবিধানগুলিকে নাগরিক-তথ্য নিয়ন্ত্রণকারী বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সঙ্গে একসূত্রে বাঁধতে হবে।

ইন্টারনেটের গণতন্ত্রীকরণ: ডিজিটাল বাজারের পটভূমি এবং তার প্রভাব

ইন্টারনেটের গণতন্ত্রীকরণ: ডিজিটাল বাজারের পটভূমি এবং তার প্রভাব

সূচনার সময় থেকেই যোগাযোগ, সংযোগ ব্যবস্থা এবং উপলব্ধতাকে সহজতর করে তোলার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে ইন্টারনেট। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ইন্টারনেট তার উৎপত্তির সময়ে বর্তমান রূপের থেকে অনেক বেশি বিকেন্দ্রীকৃত ছিল যা ওপেন প্রোটোকল, ওপেন-সোর্স কোড এবং অভিন্ন সাধারণ ফোরামের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। কিন্তু বর্তমানে দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট, বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক পছন্দসই ওয়েবসাইট এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের উত্থান বৃহৎ সংস্থাগুলি দ্বারা অনুমোদনপ্রাপ্ত এমন একটি মঞ্চ তৈরি করে, যা প্রধানত এই সমষ্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়৷

ইন্টারনেটের গণতন্ত্রীকরণের উপর মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন প্রবিধানগুলি বিশ্বব্যাপী ঘোষিত হয়েছে। এটি ইন্টারনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং লাভকেন্দ্রিক দিকগুলি থেকে এমন এক বাঁকবদলকেই চিহ্নিত করে, যা সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিসরের বিকাশের সুযোগ করে দেয়। ইন্টারনেটের বিকেন্দ্রীকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হাতে অধিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া, যা এই সকল ব্যবহারকারীকে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির ক্ষমতার তুলনায় বেশি।

ইন্টারনেটের বিকেন্দ্রীকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হাতে অধিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া, যা এই সকল ব্যবহারকারীকে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির ক্ষমতার তুলনায় বেশি।

এই নিবন্ধে আমরা বিশ্ব জুড়ে প্রস্তাবিত সেই সকল নতুন প্রবিধান নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলি কেবল তাদের সংশ্লিষ্ট পরিসরেই নয়, বরং অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে৷ জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) চালু করার মাধ্যমেও একই পথের অনুসরণ লক্ষ করা গিয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যেসব দেশে একাধিক  ইইউ-কেন্দ্রিক সংস্থা বাণিজ্য চালায়, সেখানে গোপনীয়তাকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে।

আমেরিকান ডেটা প্রাইভেসি অ্যান্ড প্রোটেকশন অ্যাক্ট

আলোচ্য প্রথম প্রবিধান হল আমেরিকান ডেটা প্রাইভেসি অ্যান্ড প্রোটেকশন অ্যাক্ট (এডিপিপিএ)। এই বিলটি প্রযুক্তি নীতির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যে কোনও গোপনীয়তা বিলের তুলনায় এগিয়ে থাকায় অনেককে উৎসাহিত করেছিল। এডিপিপিএ তার প্রাথমিক অংশগুলিতে পূর্ববর্তী বিলগুলিতে উপস্থিত সংজ্ঞার তুলনায় অনেকগুলি পদকেই পুনর্সংজ্ঞায়িত করেছে। ১৭ বছরের কমবয়সিদের শিশু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সংবেদনশীল তথ্য রাজ্যের আইনগুলি থেকে বর্ধিত করা হয়েছে যার মধ্যে আছে জাতি, জাতিগত, জেনেটিক তথ্য, শিশুদের তথ্য, সামাজিক নিরাপত্তা সংখ্যা এবং ইউনিয়ন সদস্যপদ। এগুলির জন্য বিভিন্ন ডিভাইসে লগ ইন শংসাপত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

এডিপিপিএ দ্বারা প্রণীত তথ্য গোপনীয়তা ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘প্রাইভেট রাইট টু অ্যাকশন’। এটি ব্যবহারকারীদের অসম্মত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার অনুমতি প্রদান করে৷ যদিও এটি বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কম উপার্জনকারী, ৫০,০০০-এরও কম সংখ্যক ব্যক্তির তথ্য সমন্বিত করে এবং অন্তর্ভুক্ত তথ্য স্থানান্তর থেকে তাদের অর্ধেকেরও কম রাজস্ব উপার্জন করে এ রকম ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলির ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ বজায় রেখেছে।

এর পাশাপাশি এডিপিপিএ ডেটা ক্যাপচার থেকে অ্যালগরিদমিক বায়াস পর্যন্ত তথ্য গোপনীয়তার বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেয়। বিলটিতে বৃহৎ তথ্য ধারকদের কর্মসংস্থান, ঋণের আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অ্যালগরিদমিক বায়াস-এর সুযোগ পরিমাপ করতে প্রভাবকেও মূল্যায়ন করতে হবে।

১৭ বছরের কমবয়সিদের শিশু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সংবেদনশীল তথ্য রাজ্যের আইনগুলি থেকে বর্ধিত করা হয়েছে যার মধ্যে আছে জাতি, জাতিগত, জেনেটিক তথ্য, শিশুদের তথ্য, সামাজিক নিরাপত্তা সংখ্যা এবং ইউনিয়ন সদস্যপদ। এগুলির জন্য বিভিন্ন ডিভাইসে লগ ইন শংসাপত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

বিলটি অনেক অভিনব ভূমিকা এবং সুরক্ষা প্রদান করলেও সেখানে প্রয়োগের সুযোগ, যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে অপরাধের কথা ফাঁস করে দেন তাঁদের সুরক্ষা এবং অভিযোগ দায়ের করার জন্য ব্যবহারকারীদের উপর বর্ধিত জবাবদিহিতার পরিসরে সমালোচনার অবকাশ রয়েছে। বিলটি এখনও সাইবার পরিসরে তথ্য গোপনীয়তার বিষয়ে উদ্বেগ দূর করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।

বিলটি তার বর্তমান আকারে ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই বিজ্ঞাপনের জন্য তথ্য উপস্থাপন ও তা ব্যবহার করা এবং তৃতীয় পক্ষকে বিক্রয়ের মাধ্যমে তথ্য ব্যবহারের  নগদীকরণের নিরিখে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ক্ষমতাগুলির উপরেও নজর রাখে। বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলি থেকে এই বৈশিষ্ট্যটির অপসারণ হল এক বিকেন্দ্রীকৃত, গণতান্ত্রিক ইন্টারনেটে জনসাধারণের উপরেই জোর দেওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ।

আমেরিকান ইনোভেশন এবং চয়েস অনলাইন অ্যাক্ট

‘টেক অ্যান্টি-ট্রাস্ট বিল’ বা আমেরিকান ইনোভেশন অ্যান্ড চয়েস অনলাইন অ্যাক্ট (এআইসিওএ) বাজারভিত্তিক নীতিগুলি থেকে ভোক্তা সুরক্ষায় পরিবর্তনকেই সূচিত করে। এই বিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির একটি অংশের ব্যবসায়িক পদ্ধতিগুলিকে সীমিত করলেও তা কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে না৷

এআইসিওএ:

  • প্রদত্ত পরিষেবার ধরন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যার জন্য সীমানা নির্ধারণ-সহ শুধু মাত্র ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি উপার্জনকারী সংস্থাগুলির উপর প্রযোজ্য৷
  • মঞ্চগুলিকে প্রতিযোগীদের তুলনায় তাঁদের পণ্যদ্রব্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে বিরত রাখে।
  • নীতি অমান্য করলে সংস্থাগুলির উপর তাদের বার্ষিক রাজস্বের ১৫ শতাংশের সমান জরিমানা জারি করে।

দেশের ভিতর থেকেই এআইসিওএ নানা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। কৃত্রিম প্রতিযোগিতামূলক অনুশীলনের উপর পক্ষপাত ছোট স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক ব্যবসাগুলিকে উপকৃত করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থাগুলির জন্য সাফল্যের এই সীমিত পরিসর একাধিক সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিলের একটি বড় ত্রুটি দিক হল অ্যান্টি-ট্রাস্ট (বা যার উপরে বিশ্বাস করা যায় না) সংস্থার কাছে অর্পিত ক্ষমতার স্বচ্ছতার অভাব। এআইসিওএ ফেডারেল ট্রেড কমিটি (এফটিসি) এবং ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে) উভয়কেই এই ক্ষমতা প্রদান করে যাতে তারা সহাবস্থানের জন্য একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ না করেই কোনও ব্যবসাকে ‘কভার্ড প্ল্যাটফর্ম’ (আওতাভুক্ত পরিসর) রূপে শ্রেণিবদ্ধ করতে পারে। সংস্থাগুলি কী ভাবে এই সমন্বয়ের কাজ করবে, সে ব্যাপারে স্পষ্টতার অভাব সংস্থাগুলির জন্য আইনি অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

আইনটির প্রাথমিক লক্ষ্য বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে শাসন করা এবং ‘অভ্যন্তরীণ’ পণ্যগুলিকে (ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত যে সমস্ত পণ্য তাদের নিজস্ব) অগ্রাধিকার তালিকার বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ন্যায্য বাজার তৈরি করা, যেখানে ছোট ব্যবসাগুলির জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিসর থাকবে এবং ব্যবহারকারীর বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে।

প্রশ্নের মুখে পড়া এই বিল বাজারের ক্ষমতার অসঙ্গতিগুলির সমাধান করার উদ্দেশ্যে গৃহীত অন্য যে কোনও প্রচেষ্টার চেয়ে অনেক বেশি সাফল্যের মুখ দেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল পরিসরে উল্লিখিত নিরুৎসাহিতাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থা এবং তাদের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য গোষ্ঠীগুলিকে সংশ্লিষ্ট বিলটির আইনে পরিণত হওয়া ঠেকাতে ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে বাধ্য করেছে।

বেসরকারি পরিসরের প্রচেষ্টার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তারা কী ভাবে এই জাতীয় বিল বৃহৎ প্রযুক্তিগুলিকে সীমিত করার প্রচেষ্টাকে হ্রাস করতে পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। আইনটির প্রাথমিক লক্ষ্য বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে শাসন করা এবং ‘অভ্যন্তরীণ’ পণ্যগুলিকে (ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত যে সমস্ত পণ্য তাদের নিজস্ব) অগ্রাধিকার তালিকার বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ন্যায্য বাজার তৈরি করা, যেখানে ছোট ব্যবসাগুলির জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিসর থাকবে এবং ব্যবহারকারীর বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে। বিলটিকে ভোক্তা-বান্ধব হিসাবে উপস্থাপন করা হলেও, সীমিতকরণ প্রচেষ্টার হ্রাস, সীমিত বেসরকারি ক্ষেত্রের সমর্থন এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভ্রান্তির প্রসঙ্গে এই উদ্বেগগুলি বিলটি অনুমোদনের অনুমিত গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট-এর (ডিএমএ) লক্ষ্য হল অনলাইন মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার সুবিধাগুলির উপর নজরদারি হ্রাস করা।

ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট তার পরিপূরক ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যার প্রধান লক্ষ্য হল অবৈধ ও বেআইনি বিষয়বস্তুর উপর নজর রাখা। এই দু’টি আইন হল বাজারে প্রচলিত ব্যবস্থা সংক্রান্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রত্যুত্তর।

এই আইনটি জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) দ্বারা প্রদত্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তিকে উন্নত করে বিজ্ঞাপনকে লক্ষ্য করে ডেটা ক্যাপচারের জন্য ব্যবহারকারীর সম্মতিকেই জোরদার করে৷ ডিএমএ স্ব-অগ্রাধিকারমূলক পণ্যগুলিকেও অপসারণ করে এবং ফলাফলভিত্তিক প্রদর্শনের জন্য বৈষম্যহীন অনুশীলনগুলির প্রয়োগ করে৷ বিলটি ব্যবহারকারীদের প্রি-ইন্সটল করা এবং ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়, বিভিন্ন পরিষেবার মধ্যে স্যুইচ ও সাবস্ক্রাইব করতে এবং কোনও বাধা ছাড়াই তাদের তথ্য উপলব্ধ এবং পোর্ট বা স্থানান্তর করার অনুমতি দেয়।

বিলটি ব্যবহারকারীদের প্রি-ইন্সটল করা এবং ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তনের জন্য সুযোগ করে দেয়, বিভিন্ন পরিষেবার মধ্যে স্যুইচ ও সাবস্ক্রাইব করতে এবং কোনও বাধা ছাড়াই তাদের তথ্য উপলব্ধ এবং পোর্ট বা স্থানান্তর করার অনুমতি দেয়।

এআইসিওএ ব্যবসার উপর কড়া সীমাবদ্ধতা প্রয়োগের জন্য সমালোচিত হলেও সংস্থাগুলির জন্য অনুরূপ বাধ্যবাধকতাগুলি উপস্থাপন করা সত্ত্বেও ডিএমএ প্রশংসিত হয়েছে, যা সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার কথা মাথায় রেখে এই নিয়মগুলির সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করে। সাইবার পরিসরে সমতা বজায় রাখতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে আরও অনুকূল সম্পর্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে ‘গেট কিপার’দের উপর নির্ধারিত অন্যান্য বাধ্যবাধকতার মধ্যে এটিকেও বাস্তবায়িত করা হয়েছে। এই সমতার লক্ষ্য হল বর্ধিত লাভের মাত্রা এবং বিজ্ঞাপন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পরিসরের বদলে ভোক্তাকেন্দ্রিক ও ভোক্তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিসর গড়ে তোলা।

ভারতের উপর প্রভাব

ভারত এখনও পর্যন্ত তার তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০ (আইটি অ্যাক্ট) (নতুন সংশোধনী আসন্ন) এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) সংমিশ্রণে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলির মোকাবিলা করেছে। ভারতীয় সংস্থাগুলি কম্পিটিশন অ্যাক্ট, ২০০২-এর অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়।

উল্লিখিত প্রবিধানগুলির ঘোষণা বিভিন্ন ডিজিটাল মঞ্চ এবং তাদের পরিচালক সংস্থাগুলিকে সমাজ ও অর্থনীতিতে তাদের প্রভাবের জন্য দায়বদ্ধ করার জন্য এক বিশ্বব্যাপী চাহিদাকেই নির্দেশ করে৷ শুধু মাত্র ভারতেই গুগল, হোয়াটসঅ্যাপ, অ্যাপল ইত্যাদির  মতো ডিজিটাল মঞ্চগুলির কার্যকলাপের বিষয়টি কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার (সিসিআই) তদন্ত দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।

ভারতে ব্যবসায় অংশগ্রহণকারী বহু সংস্থা জিডিপিআর মেনে চলে। কারণ এটি বর্তমানে তথ্য সুরক্ষার সর্বোচ্চ মানদণ্ড যা ভোক্তা এবং ব্যবসার সংশ্লিষ্ট একটি বৃহৎ জনসংখ্যাকে পরিষেবা প্রদান করে।

উপরোক্ত বিলগুলির প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির বাজার এমন প্রবিধানের সম্মুখীন হচ্ছে, যা স্থানীয় বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলবে। বৃহৎ প্রযুক্তি শক্তি নিয়ন্ত্রণকারী বিলগুলি তাদের স্থানীয় এক্তিয়ারে এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপের পরিসর জুড়ে ছোট ব্যবসার জন্য ন্যায়সঙ্গত মঞ্চ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ভারত প্রযুক্তি মঞ্চগুলির বৃহত্তম ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি হওয়ার দরুন এই নিয়মগুলির সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে চলবে।

ডিজিটাল মঞ্চে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে ভারতে আইন থাকলেও সিসিআই দ্বারা তদন্ত করা গুগল এবং মাইক্রোসফ্টের মতো ঘটনাগুলি এ কথাই উঠে এসেছে যে, বর্তমান আইন বাজারের বৈষম্য সৃষ্টিকারীকে বাধা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

ভারতও ২০২২ সালের ৩ আগস্ট তার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিল বা পারসোনাল ডেটা প্রোটেকশন বিল প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷ সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তির পরিসরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চারটি সর্বাঙ্গীন আইন প্রবর্তন করতে চায়৷ এগুলি টেলিকম ক্ষেত্র, তথ্য ও প্রযুক্তি, ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দায়বদ্ধতাকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

ডিজিটাল মঞ্চে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে ভারতে আইন থাকলেও সিসিআই দ্বারা তদন্ত করা গুগল এবং মাইক্রোসফ্টের মতো ঘটনাগুলি থেকে এ কথাই উঠে এসেছে যে, বর্তমান আইন বাজারে বৈষম্য সৃষ্টিকারীকে বাধা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। সুতরাং ভারতকে বাজারের বৈষম্য মোকাবিলা করার জন্য এমন আইন তৈরি করতে হবে, যা এই বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পক্ষাবলম্বন করবে না। এই আসন্ন সংশোধনী বিলগুলি পাশ না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় সংস্থাগুলি এবং ভারতে ব্যবসা অনুশীলনকারী সংস্থাগুলি সম্ভবত ইইউ এবং ইউএস দ্বারা নির্ধারিত নীতিগুলিই মেনে চলবে৷ জিডিপিআর বাস্তবায়নের সময় অনুরূপ ফলাফলই দেখা গিয়েছে। এর পাশাপাশি, ক্ল্যারিফাইং লফুল ওভারসিজ ইউজ অফ ডেটা অ্যাক্ট (ক্লাউড অ্যাক্ট)-সহ, এই আইনের আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বে থাকা সংস্থাগুলিকে বর্তমান আইনি কর্তৃপক্ষের অধীনে অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসাবে সীমিত তথ্য ভাগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক আইনি সহায়তার এই প্রতিশ্রুতি ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আরও উৎসাহিত করে তুলবে, যাতে স্থানীয় প্রবিধানের অনুপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রবিধানগুলির সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে চলা সম্ভব হয়।

ভারত আগামী মাসগুলিতে তার তথ্য সুরক্ষা বিল এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া অ্যাক্টের জন্য ডেটা গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক পুনরায় চালু করলেও ডিএমএ এবং এডিপিপিএ-র মতো প্রযুক্তি সংস্থাগুলি নিয়ন্ত্রণের উপর নজর দেওয়ার কাজটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইন্টারনেট ক্রমান্বয়ে বিকেন্দ্রীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর জন্য একটি সুরক্ষিত এবং উপযোগী অনলাইন পরিসর তৈরি করতে ব্যবসা এবং সরকারগুলির মধ্যে সহযোগিতা প্রাথমিক পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি, ভারত যাতে ব্যবসার অনুকূল পরিসর অর্জনের লক্ষ্যে এগোতে পারে, সে কথা সুনিশ্চিত করার জন্য দেশের প্রবিধানগুলিকে অবশ্যই নাগরিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং এই তথ্য উপস্থাপন, বাণিজ্য এবং ব্যবহারকারী বৃহৎ সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণকারী বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে চলতে হবে।

মতামত লেখকের নিজস্ব।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Shravishtha Ajaykumar

Shravishtha Ajaykumar

Shravishtha Ajaykumar is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy, and Technology. Her research areas include Chemical, Biological, Radiological, and Nuclear (CBRN) strategy ...

Read More +