Expert Speak Health Express
Published on Jan 06, 2026 Updated 20 Hours ago

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী ওষুধ আবিষ্কারের প্রক্রিয়াকে বদলে দিচ্ছে। চিন যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে, তখন ভারতকে অবশ্যই তার মেধা ও তথ্য ব্যবহার করে ওষুধ সংক্রান্ত উদ্ভাবনকে চালিত করতে হবে।

ওষুধ আবিষ্কারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার: উদ্ভাবন ও নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা

বৈশ্বিক ওষুধ পরিসরটি একটি সঙ্কটজনক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। ওষুধ আবিষ্কারের প্রচলিত পদ্ধতিগুলি দীর্ঘ সময়, উচ্চ ব্যয় এবং অনিশ্চিত ফলাফলের কারণে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। অনুমান অনুযায়ী, একটি ওষুধ তৈরি করতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে এবং একটি নতুন পণ্যের গবেষণা ও উন্নয়নের (আরঅ্যান্ডডি) জন্য কমপক্ষে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হয়। ওষুধ তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার একটি উপায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ওষুধের বৈশিষ্ট্য পূর্বাভাস, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে অনুকূল করা এবং ব্যক্তিগতকৃত ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক। যেহেতু চিন এই খাতে দ্রুত অগ্রগতি করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়ই তৈরি করেছে, যাতে ভারত তার মেধা, রোগীর তথ্যভাণ্ডার এবং বায়োটেকনোলজি নীতিগুলিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক ওষুধ আবিষ্কারকে চালিত করতে পারে এবং ‘বিশ্বের ওষুধক্ষেত্র’ থেকে একটি উদ্ভাবন-ভিত্তিক ওষুধ সংক্রান্ত ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে পারে।

ওষুধ আবিষ্কারে অনুঘটক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ওষুধ আবিষ্কার অপরিহার্য। কারণ নতুন রোগ এবং তার ওষুধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বিদ্যমান চিকিৎসা পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, রোগের প্রক্রিয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান গভীর হচ্ছে এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসার  চাহিদা বাড়ছে। যে কোনও গবেষণা সংস্থার জন্য একটি সম্ভাব্য ওষুধকে প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিয়ে যাওয়া একটি বিশাল কৃতিত্ব; তবে ৯০ শতাংশ সম্ভাব্য ওষুধ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাপেই ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতাগুলির বেশিরভাগই প্রথম ধাপের ট্রায়ালে বিষাক্ততা ও কার্যকারিতার সমস্যার কারণে ঘটে, যা দর্শায় যে, আদর্শ সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্ত করার জন্য কঠোর অনুকূলীকরণ প্রয়োজন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক কৌশলগুলি বিশাল ডেটাসেটের সঠিক ও কার্যকর বিশ্লেষণ সক্ষম করে, নতুন সম্ভাব্য ওষুধের বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা অনুমান করতে পারে এবং উন্নত ট্রায়াল ডিজাইনের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কার্যকারিতা বাড়িয়ে এই ক্ষেত্রটিকে রূপান্তরিত করার ব্যাপক সম্ভাবনা রাখে।

জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝার কারণে ২০২৭ সালের মধ্যে ওষুধের ওপর বৈশ্বিক ব্যয় ১.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, ওষুধ আবিষ্কারে উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা এখন যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি। নতুন ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়াটি জটিল এবং শ্রমসাধ্য, যা প্রায়শই কয়েক দশক সময় নেয় এবং মূলত পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর নির্ভরশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক কৌশলগুলি বিশাল ডেটাসেটের সঠিক ও কার্যকর বিশ্লেষণ সক্ষম করে, নতুন সম্ভাব্য ওষুধের বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা অনুমান করতে পারে এবং উন্নত ট্রায়াল ডিজাইনের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কার্যকারিতা বাড়িয়ে এই ক্ষেত্রটিকে রূপান্তরিত করার ব্যাপক সম্ভাবনা রাখে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ঘটনাটি ঘটে যখন ২০১৮ সালে ডিপমাইন্ডের আলফাফোল্ড অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্রম থেকে প্রোটিনের কাঠামো অনুমান করে। এর পর কোভিড-১৯ অতিমারির সময় এমআরএনএ টিকা গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ২০২৩ সালে মাল্টি-ওমিক্স ডেটার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একীভূত করে ব্যক্তিগতকৃত ওষুধের বিকাশ ঘটে। এটি জীবন বিজ্ঞানের উদ্ভাবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, যেখানে ওষুধ সংস্থাগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সমাধান কাজে লাগানোর জন্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে। উদাহরণস্বরূপ, এলি লিলি এবং নোভার্টিস গুগল ডিপমাইন্ডের আলফাফোল্ড প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে আইসোমরফিক ল্যাবসের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। ইভোলিউশনারিস্কেল – একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ যা জীবন জীববিদ্যার ওপর মনোযোগ দেয় – ২০২৪ সালে ১৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং ওষুধ আবিষ্কার গবেষণার জন্য অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস ও এনভিডিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে; এবং সানোফি বেঞ্চসাইয়ের জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম – অ্যাসেন্ড – বাস্তবায়ন করবে, যা সানোফির বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রগুলিতে রোগ জীববিদ্যার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি।

২০২৪ সালে ভারতের অরিজিন একটি এআই/মেশিন লার্নিং (এমএল)-সক্ষম ওষুধ আবিষ্কার মঞ্চ চালু করেছে, যা ওষুধ তৈরির সময়সীমা ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেবে এবং এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জেনারেটিভ এআই-এর মাধ্যমে আবিষ্কৃত ওষুধ রেন্টোসার্টিব তৈরি করেছে ইনসিলিকো মেডিসিন। এই সংস্থাটি ওষুধ প্রার্থী বাছাই করার জন্য একটি সম্পূর্ণ এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের মঞ্চ ব্যবহার করে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা বেনেভোলেন্টএআই ব্যবহার করে তাদের ওষুধ আবিষ্কারের সময়সীমা কমাতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও রশ ড্রাগের বিষাক্ততা বোঝার জন্য অর্গ্যানয়েড-অন-চিপ এবং এআই প্রয়োগ করে অ-প্রাণী মডেল-ভিত্তিক পরীক্ষার জন্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট ২.০-কে কাজে লাগিয়েছে। ২০২৪ সালে ভারতের অরিজিন একটি এআই/মেশিন লার্নিং (এমএল)-সক্ষম ওষুধ আবিষ্কার মঞ্চ চালু করেছে, যা ওষুধ তৈরির সময়সীমা ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেবে এবং এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

চ্যাটজিপিটি-র মতো বেশির ভাগ লার্জ ল্যাঙ্গোয়েজ মডেল বা বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) গবেষকদের সাহিত্য সমীক্ষা, বায়োইনফরমেটিক্স, পরিসংখ্যান এবং প্রায়শই ল্যাব সহকারী হিসেবে সহায়তা করছে। অন্য দিকে চ্যান জুকারবার্গের আরবায়ো হলো এমন একটি এলএলএম, যা ব্যবহারকারীদের জটিল চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করতে সক্ষম করে। এই এআই-ভিত্তিক সেলুলার মডেলটি কোষের আচরণের ডিজিটাল উপস্থাপনা প্রদান করে, যা ওষুধ কী ভাবে কোষীয় কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে, সে সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি দিতে পারে। সম্প্রতি গুগল-এর সি২এস-স্কেল ২৭বি ফাউন্ডেশন মডেল – যা জেম্মা-র উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় বিকশিত – ক্যানসার কোষের আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে, যা ক্যানসারের ওষুধের চিকিৎসার জন্য নতুন পথ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা: চিমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভারত

একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিন জীবনবিজ্ঞানে ক্রমবর্ধমান ভাবে একটি ‘ডিপসিক মুহূর্ত’-এর উদাহরণ স্থাপন করছে। বর্তমানে এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের পেটেন্টের ক্ষেত্রে চিন অগ্রগামী। সানোফি, ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং এলি লিলি-র মতো বৈশ্বিক ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা এবং চিনা এআই বায়োটেক সংস্থাগুলির মধ্যে বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি চিনের ওষুধ আবিষ্কারের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা জেনেরিক উৎপাদন থেকে উদ্ভাবনী ওষুধ তৈরির দিকে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। জীবনবিজ্ঞানের গবেষণা ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ, দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিবেদিত নীতি, ২০২৫ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এআই-কে অগ্রাধিকার দেওয়া, এআই প্রশিক্ষণের জন্য বিশাল সংখ্যক রোগীর তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার এবং ‘কে ভিসা’-র মতো মেধা আকর্ষণ নীতির মাধ্যমে শক্তিশালী একটি বহুবিভাগীয় প্রতিভা-ভাণ্ডার চিনের এই উত্থানকে চালিত করছে। একটি প্রাণবন্ত স্টার্ট-আপ বাস্তুতন্ত্র এবং যুগান্তকারী প্রযুক্তির জন্য একটি নিবেদিত জাতীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গাইডেন্স ফান্ড চিনকে এআই-সহায়ক ওষুধ আবিষ্কারে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বর্তমানে এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের পেটেন্টের ক্ষেত্রে চিন অগ্রগামী। সানোফি, ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং এলি লিলি-র মতো বৈশ্বিক ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা এবং চিনা এআই বায়োটেক সংস্থাগুলির মধ্যে বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি চিনের ওষুধ আবিষ্কারের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা জেনেরিক উৎপাদন থেকে উদ্ভাবনী ওষুধ তৈরির দিকে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

অন্য দিকে জীবনবিজ্ঞানে বিশ্বনেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা এআই-ভিত্তিক ওষুধ উদ্ভাবনের সংযোগকে ব্যাহত করার হুমকি দিচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ এবং ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনে তহবিল হ্রাস, কঠোর ভিসা নিয়মকানুন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলির জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের পেটেন্ট থেকে আসন্ন রাজস্ব ক্ষতি উদ্ভাবনের গতি কমার কয়েকটি উদাহরণ মাত্র।

ভারতের এআই সুযোগ

ভারতের জন্য এই ঘটনাপ্রবাহ চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ উভয়কেই তুলে ধরে: যেহেতু চিন তার এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের সক্ষমতা জোরদার করছে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি সংস্থা ও ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে, তাই এআই-সহায়ক ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে ভারতকে অবশ্যই তার নিজস্ব মেধা ভাণ্ডার, রোগীর তথ্যভাণ্ডার এবং বায়োই৩-এর মতো জীবনবিজ্ঞান নীতিগুলিকে কৌশলগত ভাবে কাজে লাগাতে হবে।

২০২৫ সালের অগস্ট মাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে (আইআইএসসি) জিনোমিক্স ইন্ডিয়া সম্মেলনের সময় প্রথম এআই-বায়োলজি সিম্পোজিয়াম চালু করার মাধ্যমে ভারত জীবনবিজ্ঞানের সঙ্গে এআই-কে একীভূত করার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয়। অন্য দিকে তেলেঙ্গানায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জীবনবিজ্ঞান ইভেন্ট – বায়ো এশিয়া ২০২৫-এ এআই বিশেষভাবে স্থান পায়। ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োটেকনোলজি এবং বিআইআরএসি ভারতের বায়োই৩ নীতিকে আরও এগিয়ে নিতে বায়ো-এআই-এর উপর একটি কর্মশালার আয়োজন করে। ভারতের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারগুলো (জিসিসি) ওষুধ তৈরির জন্য এআই গ্রহণ করবে, যখন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং বায়োটেকনোলজি পার্কগুলি অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করবে। সর্বোপরি, কর্নাটক এবং তেলেঙ্গানা জীবন বিজ্ঞান জিসিসি-র কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত, যেখানে রাজ্য সরকারগুলি গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপনে সহায়তা করছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, হায়দ্রাবাদের নোভার্তিস বায়োম ফার্মা গবেষণা ও উন্নয়নে এআই-কে একীভূত করার উপর মনোযোগ দিয়েছে। এ ছাড়াও, ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব ওষুধ আবিষ্কারে এআই-এর জন্য একটি জিসিসি চালু করতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সম্প্রতি, গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট ভারত জুড়ে এআই উদ্ভাবনকে চালিত করার জন্য বিশাখাপত্তনমে একটি এআই হাবে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। উপরন্তু, ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেনএআই স্টার্টআপ হাব থাকায়, জীবনবিজ্ঞানে এআই-এর প্রয়োগ সম্ভবত আরও প্রসারিত হবে। ভারত যখন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই পদক্ষেপগুলি দর্শায় যে, ভারত ওষুধ আবিষ্কার-সহ এআই-এর প্রয়োগ বাড়াতে এবং তার বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সুসংহত অবস্থানে রয়েছে।

যেহেতু চিন তার এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের সক্ষমতা জোরদার করছে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি সংস্থা ও ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে, তাই এআই-সহায়ক ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে ভারতকে অবশ্যই তার নিজস্ব মেধা ভাণ্ডার, রোগীর তথ্যভাণ্ডার এবং বায়োই৩-এর মতো জীবন বিজ্ঞান নীতিগুলিকে কৌশলগত ভাবে কাজে লাগাতে হবে।

চ্যালেঞ্জ এবং শাসনের অপরিহার্য দিকসমূহ

ওষুধ আবিষ্কারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ এবং সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ও পরীক্ষামূলক ফলাফলের নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে উচ্চ মানের এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যের প্রয়োজন। ডেটাসেটের পক্ষপাতিত্ব স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যদি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার গোষ্ঠীগুলি এতে কম প্রতিনিধিত্ব করে, যা সম্ভাব্য ভাবে এই গোষ্ঠীগুলিতে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস বা নিরাপত্তার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিচ্ছিন্ন ডেটা আদান-প্রদান এবং সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ডেটা থেকে ‘বিভ্রম’ বা বিভ্রান্তিকর ফলাফল দেখা দিতে পারে। মেশিন লার্নিংয়ের ‘ব্ল্যাকবক্স সমস্যা’ – অর্থাৎ ডিপ লার্নিং কী ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তা বোঝার অক্ষমতা – এআই-চালিত সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এ ছাড়াও, প্রতিপক্ষীয় আক্রমণের ঝুঁকি – যেখানে এআই মডেলগুলিকে প্রভাবিত করার জন্য প্রশিক্ষণ সেটে প্রতারণামূলক তথ্য প্রবেশ করানো হয় – স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি সৃষ্টি করে। পরিশেষে, স্বাস্থ্যসেবায় এআই-এর সংমিশ্রণ অনন্য নৈতিক, আইনি এবং সামাজিক বিবেচনার জন্ম দেয়। সম্মিলিত ভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলি প্রমাণ করে যে, এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের জন্য নিয়ন্ত্রক ও জবাবদিহিতার কাঠামো প্রয়োজন, যাতে এর প্রয়োগ ব্যাপক, শক্তিশালী হয় এবং একটি নিরাপদ, নৈতিক ও দক্ষ উপায়ে রোগীর ফলাফলের উন্নতির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

ভারতের নিয়ন্ত্রক ব্যবধান

বিশ্বব্যাপী এআই-এর জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা হলেও এআই ও জীবনবিজ্ঞানের সংমিশ্রণের জন্য ব্যাপক কাঠামোর অভাব রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানে এআই-এর বিকাশ ও স্থাপন সংক্রান্ত আইন থাকলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এআই-চালিত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধসহ জৈবিক পণ্যের জন্য এআই ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।

সম্মিলিত ভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলি প্রমাণ করে যে, এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের জন্য নিয়ন্ত্রক ও জবাবদিহিতার কাঠামো প্রয়োজন, যাতে এর প্রয়োগ ব্যাপক, শক্তিশালী হয় এবং একটি নিরাপদ, নৈতিক ও দক্ষ উপায়ে রোগীর ফলাফলের উন্নতির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর এআই ফর অল’, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৩ এবং আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের মাধ্যমে ভারত অগ্রগতি সাধন করেছে। তবুও এআই এবং জীবন বিজ্ঞানের সমন্বয়ের জন্য কাঠামো প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে ভারতকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে এবং এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের উদ্যোগগুলি যাতে প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী এবং নৈতিক ভাবে শক্তিশালী থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই কাঠামো স্থাপন করা অপরিহার্য।

উপসংহার

এআই এবং ওষুধ আবিষ্কারের সমন্বয় ভারতের সামনে তার ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। যেখানে চিন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সুনির্দিষ্ট নীতির মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করছে, সেখানে ভারতের শক্তি নিহিত রয়েছে তার ক্রমবর্ধমান মেধাবী কর্মীবাহিনী, বায়োটেক নীতি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মধ্যে। এআই-এর স্বচ্ছ, নিরাপদ ও ন্যায্য প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য ভারতকে অবশ্যই ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে  সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো স্থাপন করতে হবে। উদ্ভাবনের সঙ্গে সুশাসনকে একত্রিত করার মাধ্যমে ভারত ওষুধ আবিষ্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে, ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা সমাধানকে উৎসাহিত করতে পারে এবং বৈশ্বিক জীবনবিজ্ঞান পরিসরে একটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুরক্ষিত করতে পারে।


লক্ষ্মী রামকৃষ্ণন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.