-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন একটি সর্বাত্মক নিরাপত্তা সমন্বিতকরণ ও সমৃদ্ধি চুক্তিতে (কমপ্রিহেনসিভ সিকিউরিটি ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড প্রসপারিটি এগ্রিমেন্ট বা সি-এসআইপিএ) স্বাক্ষর করে, যা ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে কার্যকর হয়। শুরু থেকেই সি-এসআইপিএ-র নকশা করা হয়েছিল অতিরিক্ত পক্ষগুলিকে একটি বহুপাক্ষিক চুক্তিতে পরিণত করার জন্য, যেখানে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হবে। তবে সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং উপসাগরীয় দেশগুলি ইতিমধ্যেই একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি) মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অভিন্ন সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেওয়ার কারণে এটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
বাহরাইন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের চুক্তিতে যোগদানের জন্য যুক্তরাজ্যকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার কমপক্ষে দু’মাস আগে বাহরাইন এই চুক্তিতে যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্তির পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত যুক্তরাজ্যকে এমন একটি অংশীদার হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন, যার ‘সি-এসআইপিএ’র সাফল্যে প্রত্যক্ষ অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং অবদানও অনেক বেশি’।
এই দ্বিধাগুলি এখন কিছুটা হলেও কমতে পারে। কারণ ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর বাহরাইন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের চুক্তিতে যোগদানের জন্য যুক্তরাজ্যকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার কমপক্ষে দু’মাস আগে বাহরাইন এই চুক্তিতে যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্তির পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত যুক্তরাজ্যকে এমন একটি অংশীদার হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন, যার ‘সি-এসআইপিএ’র সাফল্যে প্রত্যক্ষ অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং অবদানও অনেক বেশি’। যদি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি যুক্তরাজ্যের যোগদান চূড়ান্ত হয়, তবে এটি বাহরাইনের নিরাপত্তা কূটনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে মূল প্রশ্নটি রয়েই গিয়েছে: বাহরাইন কি ‘ক্ষুদ্রপাক্ষিক’ কাঠামোর বাইরে চুক্তিটি সম্প্রসারণ করতে সফল হবে?
এই চুক্তিটি কেন মূল্যবান?
সি-এসআইপিএ-কে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) অনুচ্ছেদ ৫-এর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির ‘প্রায় কিনারা’য় পৌঁছে যাওয়া হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও এটি কোনও চুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত নয়, কারণ এতে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরেই যে অনুচ্ছেদের কথা তোলা যায়, তা হল চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ। সেখানে বলা হয়েছে যে, কোনও বহিরাগত আগ্রাসন বা হুমকির ক্ষেত্রে পক্ষগুলি ‘অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা চাহিদা নির্ধারণ ও অর্থনৈতিক, সামরিক এবং/অথবা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অন্য পক্ষগুলির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়ার বিকাশ এবং বাস্তবায়নের জন্য তাৎক্ষণিক ভাবে সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বতন স্তরে বৈঠক করবে।’ বাহরাইনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইসার হিজ হাইনেস লেফটেন্যান্ট-জেনারেল শেখ নাসের বিন হামাদ আল খলিফা চুক্তির এই অংশটিকে ‘পঞ্চম অনুচ্ছেদের সংক্ষিপ্ত অথচ (সমস্ত) গ্যারান্টি-সহ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সমর্থ হবে।
নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে উঠে এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলি বিজ্ঞান সহযোগিতা স্তম্ভের মাধ্যমেও উপকৃত হবে। উদাহরণস্বরূপ, চুক্তির ফল অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনুদান প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে। চুক্তির আর একটি ফলাফল হল মার্কিন জাতীয় ভূ-স্থানিক- গোয়েন্দা সংস্থা বাহরাইনের অংশীদারদের সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফিক, অ্যারোনটিক্যাল ও টপোগ্রাফিক ভূ-স্থানিক তথ্য তৈরি ও ভাগ করে নেওয়ার জন্য কাজ করছে, যার ফলে সামুদ্রিক বিশ্বে পথ চলার কাজটি উন্নত হবে এবং তা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে।
অনেক মাস পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে উপসাগরীয় দেশগুলি ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের সংঘাতে ইরানকে তাদের নিরপেক্ষতার বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলি আশঙ্কা করতে পারে যে, চুক্তিটি বহিরাগত আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর (আইআইএসএস) একটি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রে সি-এসআইপিএ থেকে উদ্ভূত চারটি প্রধান নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে: যৌথ প্রতিরোধ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, বর্ধিত সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং একটি বার্ষিক প্রতিরক্ষা কর্মী গোষ্ঠী। ফলস্বরূপ, উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান উৎস ইরান এই চুক্তিটিকে এই অঞ্চলে তার অবস্থানের জন্য ধ্বংসাত্মক বলে মনে করতে পারে। ইরানের রাষ্ট্র-অনুমোদিত গণমাধ্যম ইতিমধ্যেই সি-এসআইপিএ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে।
সি-এসআইপিএ-তে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীকে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান বা তা সহজতর করার জন্য আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারে। তবে, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে বোঝা যায় যে, এটিকে একটি উত্তেজনাকর ঝুঁকি রূপেই দেখা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছিল যে, পেন্টাগন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সংগঠিত করার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে ‘জেট ফাইটার, সশস্ত্র ড্রোন ও অন্যান্য বিমান স্থানান্তর’ করছে। কারণ সেই সময় কেউ কেউ ইরানকে ‘উত্তেজিত’ করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। অনেক মাস পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে উপসাগরীয় দেশগুলি ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের সংঘাতে ইরানকে তাদের নিরপেক্ষতার বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গিয়েছে।
অতএব, উপসাগরীয় দেশগুলি সম্ভবত এই বিষয়ে বিভ্রান্ত হবে যে, চুক্তিটি আসলেই এই অঞ্চলের প্রতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির উপর গ্যারান্টির মাধ্যমে প্রতিরোধ প্রতিষ্ঠা করবে না কি এর পরিবর্তে তারা যে সমস্যাগুলি আসলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল, সেগুলিকেই প্রকাশ্যে এনে দেবে।
চুক্তিতে আরও সমন্বিতকরণকে বাধা দেওয়ার জন্য ট্রাম্প নিজেই হয়ে উঠতে পারেন ওয়াইল্ড কার্ড
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাহরাইনের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ ফোনালাপে কমলা হ্যারিস উল্লেখ করেছিলেন যে, সি-এসআইপিএ আরও আঞ্চলিক সমন্বিতকরণের জন্য একটি মডেল হতে পারে। বাহরাইনের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের অনেক আহ্বানে সি-এসআইপিএকে এমন একটি অর্জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে এই সমন্বিতকরণ করা সম্ভব। যাই হোক, এই গতিশীলতা চুক্তির সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ এই চুক্তির কৃতিত্ব বাইডেন প্রশাসনের এবং ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন মেয়াদ শুরু হয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রে কৃতিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, এটি এখনও স্পষ্ট নয় যে, ট্রাম্প সম্পর্কে বাহরাইন যতটা আশা করেছিল, ঠিক ততটাই তিনি সি-এসআইপিএ-কে সমর্থন করছেন কি না, বিশেষ করে বাহরাইনের রাজার সঙ্গে ট্রাম্প তাঁর শেষ ফোনালাপে এই চুক্তির বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উল্লেখই করেননি।
তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের আগ্রহের খানিক হলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ সি-এসআইপিএ-র প্রাথমিক ধারাগুলিতে আব্রাহাম চুক্তির (২০২০) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই চুক্তির সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের যোগসূত্রের উপর জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্তত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ইজরায়েলের সঙ্গে উপসাগরীয় আব্রাহাম চুক্তির অন্য প্রতিষ্ঠাতা স্বাক্ষরকারী হিসেবে সি-এসআইপিএ-তে যোগদানের জন্য চাপ দিতে পারেন। তা ছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন একই ভিত্তিতে মরক্কোকেও চুক্তিতে যোগদানের জন্য অন্যতম প্রতিযোগী হিসাবে বিবেচনা করতে পারে।
এই চুক্তির সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের যোগসূত্রের উপর জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্তত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ইজরায়েলের সঙ্গে উপসাগরীয় আব্রাহাম চুক্তির অন্য প্রতিষ্ঠাতা স্বাক্ষরকারী হিসেবে সি-এসআইপিএ-তে যোগদানের জন্য চাপ দিতে পারেন।
সৌদি আরবের মতো দেশগুলি বরং দ্বিপাক্ষিকতা ও তাদের চাহিদা অনুসারে তৈরি একটি চুক্তির পক্ষে হতে পারে; এমনকি যদি তাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করার জন্য সি-এসআইপিএ সংশোধনও করা হয়, তা হলেও তা সম্ভবত সেই ধরনের চুক্তিতে পরিণত হবে না, যার জন্য বাহরাইন এত প্রচেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে সৌদি সরকার ও বাইডেন প্রশাসন সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিগুলিকে আনুষ্ঠানিক করার জন্য আলোচনা করেছিল বলে জানা গিয়েছে। এবং সেই আলোচনা এতটাই গতি পেয়েছিল যে, কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসও তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছে। সেই প্রতিবেদন অনুসারে, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে এবং মার্কিন কৌশলগত প্রতিযোগীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সহযোগিতা ত্যাগ করার জন্য সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এমনটা করা হবে বলে আশা করা হয়েছিল।
এই বিষয়টির আলোকেই এই উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে পারে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইজরায়েলকে সি-এসআইপিএ-তে আমন্ত্রণ জানাতে তাড়াহুড়ো করতে পারেন। যদি আরও আঞ্চলিক অংশীদার সি-এসআইপিএ-তে যোগদানের আগে বা ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে এই ধরনের আমন্ত্রণ জানানো হয়, তা হলে এটি স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি ক্ষেত্রে তাদের সি-এসআইপিএ থেকে সম্পূর্ণ রূপে বিরত রাখতে পারে। সর্বোপরি, এটিও লক্ষ করাও গুরুত্বপূর্ণ যে, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা আসলে ইজরায়েলের সি-এসআইপিএ প্রবেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সমীকরণ, যার জন্য সম্ভবত স্বাভাবিকীকরণকারী আরব রাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে: সম্ভাব্য অংশীদারদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা
আঞ্চলিক দেশগুলিকে সমন্বিত করার চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে, বহুপাক্ষিকতার জন্য চাপ স্থবির হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডস-এর তরফে আন্তর্জাতিক চুক্তি কমিটিতে জমা দেওয়া মৌখিক প্রমাণ অনুসারে, সি-এসআইপিএ-তে যুক্তরাজ্যের যোগদান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ পদ্ধতির ‘প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’। অন্য উপসাগরীয় দেশগুলির কাছ থেকে আকর্ষণ অর্জনের জন্য এটি যথেষ্ট না-ও হতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু জনসাধারণের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বাহরাইন ও যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই ২০১২ সাল থেকে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং সম্ভবত এই ধরনের চুক্তি অন্য উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গেও হতে পারে।
তা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য যোগদানের পাশাপাশি অঞ্চলের বাইরের দেশগুলি এটিকে আকর্ষণীয় মনে করতে পারে। এটি সি-এসআইপিএ-র বর্তমান স্বাক্ষরকারীদের দ্বারা আঞ্চলিক শক্তিদের যোগদানে প্ররোচিত করার জন্য একটি প্রচারমূলক কৌশলও হতে পারে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলিকে সম্ভাব্য যোগদানকারী হিসাবে বলে মনে করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও পরবর্তী কালে কোন কোন দেশ এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে, তা অনুমানসাপেক্ষ।
যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডস-এর তরফে আন্তর্জাতিক চুক্তি কমিটিতে জমা দেওয়া মৌখিক প্রমাণ অনুসারে, সি-এসআইপিএ-তে যুক্তরাজ্যের যোগদান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ পদ্ধতির ‘প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’।
সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে বাহরাইনে অবস্থিত একটি বহুজাতিক নৌ অংশীদারিত্ব অর্থাৎ সম্মিলিত সমুদ্র বাহিনীর (কম্বাইন্ড মেরিটাইম ফোর্সেস বা সিএমএফ) পক্ষগুলি। এতে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির মতো দেশগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে, ফ্রান্স একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে: ফ্রান্সের চার্লস দ্য গল বিমানবাহী রণতরী এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানের অংশ হিসাবে সেই সব রণতরী বাহরাইনে নোঙর করেছে।
উপসংহার
যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশিত যোগদানের ফলে সি-এসআইপিএ-কে একটি বৃহত্তর বহুপাক্ষিক চুক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য বাহরাইনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্ভবত আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলির জন্য এতে যোগদান চ্যালেঞ্জ হয়েই থেকেছে এবং তাদের সমর্থন এখনও পর্যন্ত অনিশ্চিত। প্রথমত, হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসাবে এর মূল্য বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে না-ও হতে পারে এবং এটি ইতিমধ্যে বিদ্যমান অপ্রকাশিত চুক্তি থেকে কী রকম আলাদা, তা স্পষ্ট নয়। অবশেষে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সি-এসআইপিএ-কে আদৌ বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন কি না এবং যদি আদৌ তিনি চুক্তিটিকে বিশ্বাস করেন, তা হলে এটি সম্প্রসারণের জন্য তাঁর কৌশল ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ওআরএফ মিডল ইস্ট-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Mahdi Ghuloom is a Junior Fellow at the Observer Research Foundation (ORF) – Middle East. He focuses on the Gulf States, with an eye on ...
Read More +