-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলি প্রতিযোগিতামূলক মজুরি, আকাঙ্ক্ষিত চাকরি এবং শক্তিশালী শিল্প সংযোগে রূপান্তরিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তরুণ ভারতীয়রা আরও ভাল বেতনের বিকল্পের জন্য বৃত্তিমূলক পথকে উপেক্ষা করতে থাকবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের দক্ষতা ঘাটতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সরকার এবং নীতিনির্ধারকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের সাফল্যের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। বেশিরভাগ বিতর্কই সংখ্যার উপর ভিত্তি করে হয় — কতজন চাকরিপ্রার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং চাকরি দেওয়া হচ্ছে — কিন্তু প্রশিক্ষণ অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানমূলক সুবিধা দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয় না। শ্রমিকদের জন্য মূল প্রশ্নটি হল: এই দক্ষতা কি উন্নত মজুরি এবং কর্মসংস্থানের ভাল ফলাফলের দিকে নিয়ে যায়? বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অভাবই ইঙ্গিত দেয় যে, অনেকের জন্যই এর উত্তর হল ‘না’। যদি দক্ষতা কর্মসূচিগুলি উন্নত মজুরি এবং আকাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ তৈরি না করে, তবে সরকার যত কর্মসূচিই তৈরি করুক না কেন, তরুণ ভারতীয়রা সেগুলি বেছে নেবে না।
প্রতিদানবিহীন দক্ষতা
প্রতিষ্ঠানগুলি উৎপাদনে কর্মীদের অবদানের জন্য মজুরি প্রদান করে, কিন্তু যদি সেই মজুরি দক্ষতা অর্জনের খরচ পূরণ করতে না পারে, তবে কর্মী কাজটি ছেড়ে দেবে। এই অসামঞ্জস্যটি ভারতীয় অর্থনীতি জুড়ে দৃশ্যমান। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লায়েড ইকনমিক রিসার্চের ২০২৫ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা যায় যে, স্বয়ংচালিত এবং সবুজ শক্তি ক্ষেত্রের মতো উচ্চ-বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগে অসুবিধা হচ্ছে। এই অসুবিধাটি শিল্প খাতের সমস্যা থেকে উদ্ভূত হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিযোগিতামূলক মজুরি দিতে অক্ষম। গুরুগ্রামের একজন মোটর গাড়ির মেকানিক স্বয়ংচালিত শিল্পে প্রায় ২৫,০০০ টাকা আয় করতে পারেন, কিন্তু একজন ডেলিভারি কর্মী হিসেবে তিনি ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। একজন সোলার ফার্ম কর্মীর জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ, যিনি শহরে একজন ডেলিভারি কর্মীর তুলনায় অনেক কম সুবিধাসহ প্রায় ১৫,০০০ টাকা আয় করেন।
যদি দক্ষতা কর্মসূচিগুলি উন্নত মজুরি এবং আকাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ তৈরি না করে, তবে সরকার যত কর্মসূচিই তৈরি করুক না কেন, তরুণ ভারতীয়রা সেগুলি বেছে নেবে না।
ভারতে মজুরির উপর বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের প্রভাব নিয়ে ২০১৯ সালের একটি গবেষণার ফলাফল এই সমস্যাটিকে তুলে ধরেছে। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রাথমিক ক্ষেত্রে মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়, প্রায় ৩৭ শতাংশ, এবং মাধ্যমিক ক্ষেত্রে মাঝারিভাবে, প্রায় ১৮ শতাংশ। তবে, পরিষেবা ক্ষেত্রে এর প্রভাব নগণ্য। এই ক্ষেত্রভিত্তিক তারতম্যের অর্থ হল, প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত সুবিধা সর্বত্র সমান নয়, এবং উৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্রের মতো জায়গাগুলিতে এর প্রভাব দুর্বল, যেখানে আজকাল প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এটিও ব্যাখ্যা করে যে কেন অনেক তরুণ ভারতীয় 'গিগ ইকনমি'-র দিকে ঝুঁকছে – যা উচ্চতর বেতন প্রদান করে – যদিও এই চাকরিগুলিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নেই।
এমনকি সরকারের ভূমিকাও সীমিত হতে পারে যখন মানুষ সেইসব দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণে কোনও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা দেখতে পায় না। উদাহরণস্বরূপ, বায়ুশক্তি ক্ষেত্রের জন্য একটি দক্ষ কর্মী বাহিনী তৈরি করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা 'বায়ুমিত্র দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি'-র কথা ধরা যাক। অন্ধ্র প্রদেশে, যেখানে ৪,৩৯৮ মেগাওয়াট স্থাপিত বায়ুবিদ্যুৎ ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে এই কর্মসূচিতে কোনও অংশগ্রহণকারী ছিল না, এবং কর্ণাটকে, যেখানে ৭,৭১৫ মেগাওয়াট স্থাপিত বায়ুবিদ্যুৎ ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাত্র ৩০ জন অংশগ্রহণকারী ছিল। যদিও এই কম অংশগ্রহণের পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, এটি এও ইঙ্গিত দেয় যে দক্ষতা ঘাটতিতে ভোগা ক্ষেত্রগুলির অনেক চাকরিই তরুণ ভারতীয়দের কাছে আকর্ষণীয় নয়।
প্রশিক্ষণ বাস্তুতন্ত্রের দুর্বল সংযোগ
বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পের মধ্যে দুর্বল সংযোগ এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পাঠ্যক্রমে বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে, যেমন আধুনিক পরীক্ষাগার এবং উন্নত প্রযুক্তি ও বাস্তব পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা। এই ঘাটতি পূরণে প্রতিষ্ঠানগুলিকে হয় চাকরিরত অবস্থায় প্রশিক্ষণে সম্পদ ব্যয় করতে বাধ্য করে, যা খরচ বাড়িয়ে দেয়, অথবা দক্ষতার ঘাটতি নিয়েই কাজ করতে হয়।
ভারতে দক্ষতা বিষয়ক গবেষণাগুলো খণ্ডিত, সরবরাহ-নির্ভর এবং বিভিন্ন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে, যা একটি জাতীয় চিত্র তৈরি করা বা প্রকৃত শ্রম চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা কঠিন করে তোলে।
বর্তমানে, ভারতে এমন একটি গতিশীল কাঠামোর অভাব রয়েছে যা বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং রাজ্য জুড়ে দক্ষতার চাহিদার অবিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পর্যায়ক্রমিক পূর্বাভাস পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। ভারতে দক্ষতা বিষয়ক গবেষণাগুলি খণ্ডিত, সরবরাহ-নির্ভর এবং বিভিন্ন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে, যা একটি জাতীয় চিত্র তৈরি করা বা প্রকৃত শ্রম চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা কঠিন করে তোলে।
এছাড়াও, অনেক বৃত্তিমূলক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদেরকে তারা যে চাকরিগুলোর জন্য যোগ্য হবে সেগুলির একটি বাস্তবসম্মত ধারণা না দিয়েই প্রশিক্ষণ দেয়। এটি শিক্ষার্থী এবং শিল্পের মধ্যে প্রত্যাশার একটি অমিল তৈরি করে। চাকরির ভূমিকা, কাজের স্থান এবং বেতন-ভাতা সম্পর্কিত তথ্যমূলক সেশনের আয়োজন করলে প্রশিক্ষণপ্রার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ক্ষেত্র বেছে নিতে পারবে, যার ফলে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীরা শিল্পের চাহিদার সঙ্গে আরও ভালভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এবং তাদের কর্মসংস্থানে বহাল থাকার সম্ভাবনাও বেশি থাকবে।
ভারতের দক্ষতা অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবনা
দক্ষতা অর্জনের পর যদি মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে না। ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন নীতিকে অবশ্যই বিকশিত হতে হবে, যাতে প্রশিক্ষণের প্রচেষ্টাগুলি ক্ষেত্রভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং কর্মীদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তিনটি পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১। দক্ষতা প্রশিক্ষণকে চাহিদা-ভিত্তিক করা: যেমনটি পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, ভারতের এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন যা শ্রমবাজারের চাহিদাগুলোকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করবে এবং সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। এর জন্য প্রয়োজন রিয়েল-টাইম শ্রমবাজার তথ্য ব্যবস্থা, শিল্প এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উন্নত সমন্বয় এবং চাকরির সম্ভাবনার বিষয়ে স্বচ্ছ যোগাযোগ। এটি বাজারের চাহিদাকৃত দক্ষতা এবং উৎপাদিত দক্ষতার মধ্যে অমিল কমানোর জন্য এবং কর্মীদের তাদের বিকল্পগুলি সম্পর্কে একটি বাস্তবসম্মত ধারণা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২। যেসব সীমাবদ্ধতা মজুরিকে দমিয়ে রাখে, সেগুলোর সমাধান করা: ভারতীয় সংস্থাগুলি অর্থায়ন ও জমির সহজলভ্যতা, ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও অনুমতি প্রাপ্তি, দুর্নীতি এবং বাণিজ্য বিধিবিধানকে ব্যবসায়িক পরিবেশের গুরুতর সীমাবদ্ধতা হিসেবে গণ্য করে, এবং অপ্রতুল শিক্ষিত কর্মশক্তির চেয়ে এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলাকে বেশি জরুরি বলে মনে করে। যতক্ষণ না এই বোঝাগুলি লাঘব করা হচ্ছে, অনেক সংস্থা প্রতিযোগিতামূলক মজুরি দিতে বা প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করতে অক্ষম থাকবে। দক্ষতা উন্নয়ন নীতিকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রক ও শিল্প সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যা প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩। কর্মসংস্থানকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন প্রশিক্ষণ মডেলগুলিকে প্রসারিত করা: বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ তখনই উন্নত কর্মসংস্থান এবং মজুরির ফলাফল দিতে পারে, যখন এটি কঠোর প্রশিক্ষণপ্রার্থী নির্বাচন, মানসম্মত নির্দেশনা, এবং চাকরি প্রাপ্তিতে সহায়তাকে একত্রিত করে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থবহ ও টেকসই কর্মসংস্থান প্রদানে সক্ষমতা প্রদর্শনকারী প্রশিক্ষণ মডেলগুলোকে চিহ্নিত করা এবং সেগুলোকে প্রসারিত করা প্রয়োজন।
তরুণ ভারতীয়দের জন্য নতুন যুগের চাকরিগুলি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে এবং সেগুলিকে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য স্পষ্ট পথ তৈরি করতে হবে। তবেই ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা সংখ্যার উপর মনোযোগ থেকে সরে এসে প্রকৃত প্রভাব ফেলতে পারবে।
আনিকা চিল্লার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর ইকোনমি অ্যান্ড গ্রোথের গবেষণা সহকারী।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Anika Chhillar is a Research Assistant at the Centre for Economy and Growth, ORF New Delhi. Her work focuses on international trade and industrial policy ...
Read More +