-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ভারতের অর্ধপরিবাহী শিল্পের আকার পরিবর্তন এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা অর্জনের জন্য ফলিত গবেষণা ও উৎপাদন দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত তার ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন (আইএসএম) - ২.০-এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে চলেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অর্ধপরিবাহী উৎপাদনে ৫ শতাংশ অবদান রাখা। পরিপক্ব প্রযুক্তি দিয়ে শুরু করার পর পরবর্তী ধাপে মূল্য শৃঙ্খলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ চিপগুলির বাজার-প্রস্তুতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করার পাশাপাশি তহবিল বরাদ্দ দ্বিগুণ করে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার জন্য শিল্পের অনুরোধগুলি পূরণ করা হবে। নকশা-সম্পর্কিত উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উপকরণ ও গ্যাসের সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানীয়করণের উপরও জোর দেওয়া হবে।
দেশের প্রধান বৈশ্বিক প্রদর্শনী, সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫, আইএসএম, সেমি এবং শিল্প সমিতি দ্বারা আয়োজিত, নকশা এবং উৎপাদন, পরিষেবা ক্ষমতা এবং দক্ষতা উন্নয়নে দেশীয় দক্ষতা বিকাশের জন্য ১২টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। এটি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ডিপ টেক অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে দূষণহীন জ্বালানি, কোয়ান্টাম এবং সামনের সারির মতো ক্ষেত্রগুলিতে ডাউনস্ট্রিম অ্যাপ্লিকেশনের উপরও দৃষ্টি নিবদ্ধ করে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলির একটি কনসর্টিয়াম, যার লক্ষ্য দেশে ডিপ টেক বাস্তুতন্ত্র ও তার পরিসর তৈরি করা এবং প্রাথমিক ভাবে অর্ধপরিবাহীগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এমনটা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ চিপগুলির জন্য দেশীয় এবং বিশ্বব্যাপী বাজারের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি তুলে ধরেছেন যে, এই চিপগুলি বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডের তুলনায় ১৫-৩০ শতাংশ কম খরচসাপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক।
ব্যাপক উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়া অর্ধপরিবাহী শিল্পের ইতিহাসে প্রাথমিক উদ্ভাবনগুলির মধ্যে অন্যতম, যা উদ্ভাবনের নিম্নমুখী গতিতে এগিয়ে যায়।
ভারতে বর্তমানে মূল্য শৃঙ্খলে ১০টি অনুমোদিত অর্ধপরিবাহী প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে দক্ষতা, নকশা ও প্রতিভা বিকাশের উদ্যোগও রয়েছে। ফলিত গবেষণার উপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে এই উদ্যোগগুলি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। ফ্যাবলেস সংস্থাগুলি গত কয়েক বছর ধরে বাজারের অংশীদারিত্ব অর্জন করছে। কারণ তারা পণ্য উদ্ভাবনের উপর মনোযোগ দেয়, অন্য দিকে তাদের উৎপাদন অংশীদাররা প্রক্রিয়া উদ্ভাবনের উপর মনোযোগ দেয়। একটি জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত সরবরাহ শৃঙ্খল সহ একটি মূলধন-নিবিড় শিল্প হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলি উৎপাদনের দক্ষতার উপর ততটাই নির্ভর করে, যতটা মূল্য শৃঙ্খলে মৌলিক গবেষণা এবং বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে।
ব্যাপক উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়া অর্ধপরিবাহী শিল্পের ইতিহাসে প্রাথমিক উদ্ভাবনগুলির মধ্যে অন্যতম, যা উদ্ভাবনের নিম্নমুখী গতিতে এগিয়ে যায়। উৎপাদন প্রকৌশলীরা পরিসর, মানসম্মতকরণ এবং ব্যাপক ভাবে উৎপাদনে সহায়তা করে একটি অপ্রকাশিত ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী বিপ্লবের সূচনাকারী ব্যক্তিত্ব মরিস চ্যাং টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টসে থাকাকালীন দক্ষতা এবং ফলন, অর্থাৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত কার্যকরী চিপের অংশ উন্নত করে অর্ধপরিবাহী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিপ্লব আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবনগুলি তখন রকেট থেকে রেডিও পর্যন্ত সবকিছুকে শক্তিশালী করে এমন একটি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত শিল্পে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করেছিল।
ফলিত গবেষণার ভূমিকা
অর্ধপরিবাহী শিল্পে প্রাথমিক বা মৌলিক গবেষণা সাধারণত কয়েকটি প্রধান কর্পোরেশনের মধ্যে অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত হয়, যারা মূল্য শৃঙ্খলের উপরের প্রান্তের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ অর্পণ করেছে। প্রাথমিক উদ্ভাবনের বাইরে অন্যান্য উদ্ভাবনকে মাত্রাযোগ্য উৎপাদনের আশপাশের বিষয়গুলিতে বিবেচনা করা উচিত, যেমন উৎপাদন কৌশল এবং দক্ষতা উন্নত করা। অর্ধপরিবাহী শিল্পের কিছু মৌলিক ভিত্তি ফলন উন্নত করার জন্য দক্ষ উৎপাদনের উপর নিহিত অর্থাৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার ফলে অতিরিক্ত চিপের সংখ্যা হ্রাস করা।
ওষুধ শিল্পের বিপরীতে - যেখানে মৌলিক এবং প্রয়োগিক গবেষণা একসঙ্গেই চলে - অর্ধপরিবাহী শিল্প ফলিত গবেষণার উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, বিশেষ করে বাজার প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে।
ওষুধ শিল্পের বিপরীতে - যেখানে মৌলিক এবং প্রয়োগিক গবেষণা একসঙ্গেই চলে - অর্ধপরিবাহী শিল্প ফলিত গবেষণার উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, বিশেষ করে বাজার প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে। অর্ধপরিবাহী শিল্পের প্রেক্ষাপটে মৌলিক গবেষণা সর্বদা মাত্রাযোগ্য উৎপাদনের জন্য উদ্ভাবনে রূপান্তরিত হয় না। অত্যন্ত জটিল অর্ধপরিবাহী উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিযোগিতামূলক চিপ তৈরির জন্য একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
শিল্প ইতিহাস থেকে শিক্ষা
তাইওয়ানে সরকারি ভাবে অর্থায়িত শিল্প প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইটিআরআই) কেন্দ্রীভূত ফলিত গবেষণা এবং উদ্ভাবনী সহায়তা প্রদান করে, যা দেশের অর্ধপরিবাহী বাস্তুতন্ত্র স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ উৎপাদনকারী সংস্থা টিএসএমসি হল আইটিআরআই-এর একটি শাখা উদ্যোগ। আইটিআরআই নতুন শিল্পে প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি এবং জ্ঞান স্থানান্তর করে শিল্প উদ্ভাবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ফলিত উদ্ভাবনে অব্যাহত বিনিয়োগ তাইওয়ানকে ধারাবাহিক ভাবে উৎপাদন খরচ কমাতে এবং খরচ ও উৎপাদনশীলতা উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পের মধ্যে একটি নেতৃত্বের অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম করেছে।
ফলিত উদ্ভাবনে অব্যাহত বিনিয়োগ তাইওয়ানকে ধারাবাহিক ভাবে উৎপাদন খরচ কমাতে এবং খরচ ও উৎপাদনশীলতা উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পের মধ্যে একটি নেতৃত্বের অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম করেছে।
জাপানের অর্ধপরিবাহী শিল্পের গতিপথ তাইওয়ানের থেকে ভিন্ন হলেও প্রাথমিক অগ্রগতির জন্য ফলিত গবেষণাকেও দায়ী করা যেতে পারে। জাপানের অর্ধপরিবাহী শিল্পের প্রাথমিক বছরগুলিতে, অর্থাৎ ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে, গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। অর্থ প্রবাহিত হয় যৌথ সরকারি-বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়নে, যেমন ফুজিৎসু, হিতাচি, এনইসি, মিতসুবিশি ইলেকট্রিক, এনটিটি এবং তোশিবার মতো বেসরকারি শক্তির একটি কনসর্টিয়ামের মাধ্যমে, যারা একটি যৌথ গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনা করত। বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং ফলিত গবেষণা সর্বদা শিল্পের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং তাদের স্নাতকদের গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামগুলিকে অর্থায়ন করেছে।
ভারতের জন্য এগিয়ে যাওয়ার পথ
এই অর্থনীতিগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির শিল্প উৎপাদনের মাধ্যমে এবং তাদের ভিত্তি শেখা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের আত্তীকরণের মাধ্যমে ততটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত যখন তার অর্ধপরিবাহী যাত্রা শুরু করছে, তখন এই দেশগুলির শিল্প ইতিহাস থেকে অর্ধপরিবাহী আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধিতে ফলিত গবেষণা এবং উন্নয়নের ভূমিকা সম্পর্কে শেখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতামূলকতার ক্ষেত্রে ফলিত গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা ভারতকে ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
প্রতিযোগিতামূলকতার ক্ষেত্রে ফলিত গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা ভারতকে ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ভারত সরকার প্রতিভা বিকাশ এবং ফলিত গবেষণার উপর কাজ করার জন্য নিউ এজ মেকার্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এনএএমটিইসিএইচ) সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। তবে উপরের শিক্ষাগুলি যেমন দেখায়, পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পে স্থানান্তরিত হতে পারে এমন ফলিত গবেষণার জন্য পরামর্শদাতা এবং ইনকিউবেটর হিসাবে কাজ করার জন্য একটি অনুপ্রাণিত এবং কর্মঠ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া উপকারী। জাপানের অর্ধপরিবাহী শিল্পের পতনের অন্যতম কারণ ছিল তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণাত্মক উত্থানের সঙ্গে এর অভিন্ন সাধারণ মনোভাব এবং শিল্প পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যর্থতা।
মৌলিক গবেষণা গ্রহণ এবং তা উৎপাদনে আনার জন্য একটি পৃথক সংস্থার ক্ষমতা তার ব্যক্তিগত গবেষণা, উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। সংস্থাগুলি এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োগিত গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীভূত সহায়তা আইএসএম-এর অধীনে ইতিমধ্যে চলমান পরিকল্পনাগুলির সঙ্গে প্রয়োগিত গবেষণা উদ্যোগগুলিকে সারিবদ্ধ করে দেশের অর্ধপরিবাহী বাস্তুতন্ত্রকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
অনুলেখা নন্দী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Anulekha Nandi was a Fellow - Centre for Security, Strategy and Technology at ORF. Her primary area of research includes digital innovation management and ...
Read More +