Author : Tushar Joshi

Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 20, 2026 Updated 0 Hours ago

চিনে বাজারে কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করলে তবেই ভারত গলওয়ান-পরবর্তী অর্থনৈতিক ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

 

কেন ভারত চিনের বাজারে বিশাল পরিমাণে বিক্রি করতে সক্ষম নয়?

২০২৫ সালের অক্টোবরের গোড়ার দিকে ভারতের ত্রৈমাসিক ট্রেড ওয়াচ রিপোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নীতি আয়োগের সিইও বি. ভি. আর. সুব্রহ্মণ্যম একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা বছরের পর বছর ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘যদি আপনি চিনের বাজারে অনেক কিছু বিক্রি করতে না পারেন, তা হলে তা অর্থহীন হয়ে যায়। কারণ এটি ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি।’ এই একটি বাক্যই ভারতের চিনা দ্বিধার মূল সুরটি ধরে ফেলে। সমস্যাটি এই নয় যে, ভারত চিন থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি করে; বরং সমস্যাটি হল এই যে, ভারত এখনও শিখতে পারেনি যে, কী ভাবে তার নিজস্ব শিল্প উৎপাদন চিনা বাজারে ব্যাপক মাত্রায় প্রবেশ করাতে হয়। ভারত যদি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে বিক্রি করার উপায় খুঁজে না পায়, তবে এটি অর্থনৈতিক সম্পর্কের কাঠামোগত ভাবে দুর্বল দিক হিসেবেই রয়ে যাবে, যা অনিবার্য ভাবে রাজনৈতিক আচরণকেও আকার দেয়। এটিই কৌশলগত ফাঁদ, যা গলওয়ান-পরবর্তী পর্যায়কে সংজ্ঞায়িত করে।

গলওয়ান সংঘর্ষ এই অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেনি, বরং এটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণকে আরও সশক্ত করেছে, যার মাধ্যমে ভারত ইতিমধ্যেই বিদ্যমান নির্ভরশীলতা দেখতে শুরু করেছে। সীমিত আস্থা খুব স্বাভাবিক ভাবেই হারিয়ে গিয়েছে এবং নয়াদিল্লি একাধিক নীতিগত মোড়কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে: স্থল-সীমান্তবেষ্টিত দেশগুলির জন্য সরকার কর্তৃক এফডিআই অনুমোদন (যা গলওয়ান সংঘর্ষের দু’মাস আগে চালু করা হয়েছিল), বিমান স্থগিতকরণ, ৫জি ট্রায়াল থেকে চিনা সংস্থাগুলিকে বাদ দেওয়া, ড্রোনের জন্য কঠোর আমদানি লাইসেন্সিং, অ্যাপ নিষিদ্ধকরণ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনাকে (পিএলআই) ত্বরান্বিত করা। এই পদক্ষেপগুলি চিনা অর্থনৈতিক উপস্থিতিকে হ্রাস করেছে, কিন্তু সেগুলি অন্তর্নিহিত কাঠামোগত অসামঞ্জস্যতাকে বদলাতে পারেনি।

 

গত দশকে চিনের সঙ্গে ভারতের পরিষেবা উদ্বৃত্ত বার্ষিক মাত্র ০.২-০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উপরের রেখচিত্রে দেখানো হয়েছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের সঙ্গে চিনের ৯৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য উদ্বৃত্তের তুলনায় এটি নগণ্য। সাধারণত ঘাটতি নিরপেক্ষকারী পরিষেবা ইঞ্জিন এই ব্যবধানের মাত্রা বা কাঠামোর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে চিন-সংযুক্ত আয় তৈরি করে না।

 

নিচে উল্লিখিত তথ্য থেকে দেখা যায় যে, গত দশকে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ এবং চিনের সঙ্গে ঘাটতি উভয়ই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০১৯-২০ সালে ভারত চিন থেকে প্রায় ৬৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে এবং প্রায় ১৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে এই আমদানির পরিমাণ প্রায় ১১৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছিল, যেখানে রফতানির পরিমাণ কমে ১৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি ৯৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

Why India Remains Unable To Sell At Scale In China

সূত্র: বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার

অর্থনীতিবিদরা প্রায়শই উল্লেখ করেন যে, বাণিজ্য ঘাটতি সহজাত ভাবে ক্ষতিকারক নয়। বড় ঘাটতি টিকিয়ে রাখা যায় যখন কোনও দেশের শক্তিশালী পরিষেবা রফতানি, স্থির মূলধন প্রবাহ অথবা উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, এমন আমদানি থাকে। পরিস্থিতি এই আখ্যানের সঙ্গে কিছু অংশে হলেও খাপ খায়। ২০২৩-২৪ সালে এর পরিষেবা উদ্বৃত্ত ১৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল, যা আইটি, ব্যবসায়িক পরিষেবা এবং অর্থায়নের কারণে পরিচালিত হয়েছিল এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এফডিআই প্রবাহ গড়ে ৭০-৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। তবে এই সুবিধাগুলি ভারতের চিন-নির্দিষ্ট ভারসাম্যহীনতা পূরণ করতে পারে না। গত দশকে চিনের সঙ্গে ভারতের পরিষেবা উদ্বৃত্ত বার্ষিক মাত্র ০.২-০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উপরের রেখচিত্রে দেখানো হয়েছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের সঙ্গে চিনের ৯৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য উদ্বৃত্তের তুলনায় এটি নগণ্য। সাধারণত ঘাটতি নিরপেক্ষকারী পরিষেবা ইঞ্জিন এই ব্যবধানের মাত্রা বা কাঠামোর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে চিন-সংযুক্ত আয় তৈরি করে না।

সমস্ত আমদানির পরিমাণও সমান নয়। অনেক চিনা আমদানি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকারী উপাদানও বটে, যা ভারতের নিজস্ব রফতানি ইঞ্জিনগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিন থেকে ভারতের ইলেকট্রনিক্স আমদানির প্রায় অর্ধেকের মধ্যে স্মার্টফোন এবং আইটি হার্ডওয়্যার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মধ্যবর্তী উপাদান রয়েছে।

 

চিনা বাজারের প্রবেশাধিকার প্রতিসম নয়। ভারতের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রগুলি - জেনেরিক ফার্মা, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, বিশেষ রাসায়নিক, খাদ্য এবং কৃষি-মূল্যের পণ্য - চিনে অবাধ প্রবেশাধিকার পায় না। ভারতীয় জেনেরিক ফার্মা অ-স্বচ্ছ পরীক্ষার অনুমোদনের সম্মুখীন হয়।

 

তবুও সমস্যাটি ঘাটতির অস্তিত্ব নয় বরং এর প্রকৃতি। নির্ভরতা মূলত ওষুধ নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং জ্বালানি পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলিতে কেন্দ্রীভূত। ভারতের সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) ইনপুটের প্রায় ৭০ শতাংশ, ইলেকট্রনিক্স উপাদানের ৪০ শতাংশেরও বেশি এবং সৌর মডিউল উপাদানের অর্ধেকেরও বেশি চিন থেকে আসে। বৈচিত্র্যকরণের কাজ চলছে, কিন্তু চিনা সরবরাহকারীরা ভারতের সরবরাহ শৃঙ্খলে গভীর ভাবে জড়িত।

তা হলে কেন ভারত চিনের বাজারে বিক্রি করতে লড়াই করছে? এ ক্ষেত্রে তিনটি কাঠামোগত সমস্যা স্পষ্ট।

প্রথমত, চিনা বাজারের প্রবেশাধিকার প্রতিসম নয়। ভারতের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রগুলি - জেনেরিক ফার্মা, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, বিশেষ রাসায়নিক, খাদ্য এবং কৃষি-মূল্যের পণ্য – চিনে অবাধ প্রবেশাধিকার পায় না। ভারতীয় জেনেরিক ফার্মা অ-স্বচ্ছ পরীক্ষার অনুমোদনের সম্মুখীন হয়। কৃষি পণ্যের জন্য চিন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পূর্ব শংসাপত্রের পরেও নিজস্ব কাস্টমস দ্বারা ভারতীয় আম ও আঙুর রফতানিকারকদের বার্ষিক পুনঃনিবন্ধন আরোপ করে। এর ফলে বিলম্ব ও উচ্চ লেনদেনের খরচ হয়। এ ছাড়া ভাষাগত বাধাও রয়েছে। চিন অনেক বাণিজ্য-সম্পর্কিত নোটিস শুধুমাত্র চিনা ভাষায় জারি করে, যদিও ডব্লিউটিও-র নিয়মাবলিতে স্পষ্টতার জন্য ইংরেজি, ফরাসি বা স্প্যানিশ ভাষার প্রয়োজন। এই সমস্ত ছোট ছোট বাধা জমা হয়, যা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে। এ দিকে চিন ভারতে সহজেই মধ্যবর্তী পণ্য বিক্রি করে।

দ্বিতীয়ত, ভারত এখনও খরচ বা মাত্রার ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে তুলনা করতে পারে  না। এমনকি যখন সংস্থাগুলি একই ধরনের যন্ত্রপাতি কেনে, তখনও ছোট ব্যাচের আকার ইউনিট খরচ বৃদ্ধি করে। এমএসএমইগুলি চিনা ইনপুটগুলির উপর নির্ভর করে। কারণ সেগুলি কর্ম-মূলধনের চাপ কমায়: অর্থাৎ একটি ছাঁচনির্মাণ ডাই বা একটি ইলেকট্রনিক সাবকম্পোনেন্ট আমদানি প্রায়শই মূলধন ব্যয় হ্রাস করে এবং ইনভেন্টরি চক্রকে সংক্ষিপ্ত করে। যাই হোক, চিনের কম খরচের রফতানি ভারতের দেশীয় শিল্পগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক-যন্ত্রপাতি খাত একটি বিশিষ্ট উদাহরণ, যা ভারতকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে প্ররোচিত করেছে। দেশীয় নীতি এই অসুবিধেটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত জুতো তৈরিতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক এবং ভালকানাইজড রাবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইনপুটগুলিতে প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যখন ভিয়েতনাম তুলনামূলক শুল্ক শূন্যের কাছাকাছি রেখেছে। এই একক পার্থক্যটি ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলকতা উল্লেখযোগ্য ভাবে দুর্বল করে। এই ধরনটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি হয়। পিএলআই-এর অধীনেও, পরিমাণ সীমিত রয়ে গিয়েছে: অর্থাৎ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ২.১৩ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৫.২৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু পিএলআই-সংযুক্ত উৎপাদন সামগ্রিক সম্প্রসারণের একটি অংশ মাত্র।



ভারত এখনও খরচ বা মাত্রার ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে তুলনা করতে পারে না। এমনকি যখন সংস্থাগুলি একই ধরনের যন্ত্রপাতি কেনে, তখনও ছোট ব্যাচের আকার ইউনিট খরচ বৃদ্ধি করে। এমএসএমইগুলি চিনা ইনপুটগুলির উপর নির্ভর করে।

 

তৃতীয়ত, চিনে ভারতের কোনও দৃঢ়-স্তর ও প্রাদেশিক অবস্থান নেই। বড় মাত্রায় বিক্রির জন্য ম্যান্ডারিন-ভাষা বিতরণ শৃঙ্খল, বিক্রয়োত্তর সহায়তা, স্থানীয় অংশীদার এবং গুয়াংদং, ঝেজিয়াং ও চংকিংয়ের মতো প্রদেশে লক্ষ্যনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কৌশল প্রয়োজন। এই বাস্তুতন্ত্র ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পণ্যগুলি সুযোগগুলিকে স্থায়ী বাজার ভাগে রূপান্তর করতে লড়াই করে।

এই সমস্ত কিছুর পাশাপাশি রয়েছে গলওয়ানের পর থেকে নয়াদিল্লির ঝুঁকি সমীকরণের একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি একত্রিত হয়েছে। যে কোনও গভীর চিনা উপস্থিতি এখন ঝুঁকির বোঝা হিসাবে দেখা হয়, এমনকি যদি সস্তা ইনপুট স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রস্তাব দেয়, তা হলেও এমনটা মনে করা হয়। উচ্চ খরচ সত্ত্বেও বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ মাত্রা ছাড়া বৈচিত্র্য লাভজনক হওয়ার পরিবর্তে ব্যয়বহুলই রয়ে যাবে।

ভারতের অভিজ্ঞতা অনন্য নয়। চিনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে, যা ২০২৪ সালে মোট ২৯৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির মতো প্রধান ইউরোপীয় অর্থনীতিগুলিও চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন, যা ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট ৩০৫.৮ বিলিয়ন ইউরোর ঘাটতিতে অবদান রাখে। ফিলিপিন্স, তাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার মতো আসিয়ান দেশগুলি ইলেকট্রনিক্স উপাদান, যন্ত্রপাতি এবং রাসায়নিকের ক্ষেত্রে একই রকম নির্ভরতার সম্মুখীন।

এই দেশগুলির মধ্যে অনেকই ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া এবং মেক্সিকোতে সরবরাহ শৃঙ্খলকে বৈচিত্র্যময় করে সাড়া দিচ্ছে; সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী, ব্যাটারি এবং চিকিৎসা সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিকে রিশোরিং বা ‘ফ্রেন্ডলি-শোরিং’ করে এবং সংবেদনশীল ইনপুটগুলির জন্য নিরীক্ষণ কঠোর করছে। বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা একই কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

 

চিনে ভারতের কোনও দৃঢ়-স্তর ও প্রাদেশিক অবস্থান নেই। বড় মাত্রায় বিক্রির জন্য ম্যান্ডারিন-ভাষা বিতরণ শৃঙ্খল, বিক্রয়োত্তর সহায়তা, স্থানীয় অংশীদার এবং গুয়াংদং, ঝেজিয়াং ও চংকিংয়ের মতো প্রদেশে লক্ষ্যনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কৌশল প্রয়োজন। এই বাস্তুতন্ত্র ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পণ্যগুলি সুযোগগুলিকে স্থায়ী বাজার ভাগে রূপান্তর করতে লড়াই করে।

 

ভারত শুল্ক ও শিল্প নীতির মিশ্রণের মাধ্যমে চিনা আমদানির উপর নির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্পটি এই কৌশলের মূলে রয়েছে। ১৪টি খাতে ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের দরুন এটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রায় ১.৬১ লক্ষ কোটি টাকা অনুমোদিত বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে এবং প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা উৎপাদন করেছে। উপরন্তু, পিএলআই-এর বাইরেও বৈচিত্র্য কার্যকর হচ্ছে। অ্যাপল ও ফক্সকন আরও উপাদান স্থানীয়করণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ফক্সকনের ইউজান টেকনোলজি তামিলনাড়ুতে একটি ডিসপ্লে (ক্যামেরা মডিউল-সহ) অ্যাসেম্বলি ইউনিট তৈরির জন্য ১৩,১৮০ কোটি টাকা সুরক্ষিত করেছে। সর্বোপরি, সৌরশক্তিতে ভারত ধীরে ধীরে মডিউল অ্যাসেম্বলি থেকে সেল উৎপাদন ও আপস্ট্রিম ইন্টিগ্রেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, টাটা পাওয়ারের সমন্বিত তিরুনেলভেলি প্ল্যান্ট ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ৪,০৪৯ মেগাওয়াট মডিউল এবং ১,৪৪১ মেগাওয়াট সেল উৎপাদন করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিগুলিও বিকল্প সোর্সিং করিডোর তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিস্ট্রিক্ট এক্সপোর্ট হাব এবং এমএসএমই-দের জন্য ই-কমার্স রফতানি সুবিধা স্থানীয় বাধাগুলি সমাধান করছে এবং রফতানি অংশগ্রহণ প্রসারিত করছে।

এই পদক্ষেপগুলি সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিতে কিছুটা হলেও উন্মুক্ততাকে হ্রাস করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পদক্ষেপ, তবে এগুলি মৌলিক ভারসাম্যহীনতা পরিবর্তন করে না: অর্থাৎ ভারত এখনও চিনের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিক্রি করতে সক্ষম নয়।

তাই ভারতের চিন সমস্যার সমাধান কেবল আমদানি সঙ্কুচিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। একটি কাঠামোগত পরিবর্তন তখনই সম্ভব হবে, যখন ভারত একটি প্রতিযোগিতামূলক বিক্রেতা হয়ে উঠবে। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের একটি বাস্তব নীতি প্যাকেজ প্রয়োজন: রফতানি-প্রধান ক্লাস্টারগুলিতে ইনপুট শুল্ক যুক্তিসঙ্গত করা জরুরি, যাতে সংস্থাগুলি প্রতিযোগিতামূলক ইউনিট খরচে পৌঁছতে পারে; পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ভারতীয় ফার্মার জন্য দ্রুত নিয়ন্ত্রক পথ স্থাপন করা দরকার, কৃষির জন্য পূর্বাভাসযোগ্য স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সরবরাহ করা প্রয়োজন; এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে শুধুমাত্র অ-সংবেদনশীল খাতে চিনা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া জরুরি।

 

সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের একটি বাস্তব নীতি প্যাকেজ প্রয়োজন: রফতানি-প্রধান ক্লাস্টারগুলিতে ইনপুট শুল্ক যুক্তিসঙ্গত করা জরুরি, যাতে সংস্থাগুলি প্রতিযোগিতামূলক ইউনিট খরচে পৌঁছাতে পারে; পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ভারতীয় ফার্মার জন্য দ্রুত নিয়ন্ত্রক পথ স্থাপন করা দরকার, কৃষির জন্য পূর্বাভাসযোগ্য স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সরবরাহ করা প্রয়োজন; এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে শুধুমাত্র অ-সংবেদনশীল খাতে চিনা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া জরুরি।

 

এপিআই, ইলেকট্রনিক্স এবং সৌরশক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ইনপুটগুলির জন্য ভারতকে ‘চায়না-প্লাস-টু বিকল্প’ নিয়ম কার্যকর করতে হবে এবং চিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলির মধ্যে বণ্টন, ভাষা সহায়তা এবং বিক্রয়োত্তর শৃঙ্খল-সহ ফার্ম স্তরের ক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলি কেবল ভারতের অভ্যন্তরে চিনের উপস্থিতি সীমাবদ্ধ করার পরিবর্তে চিনের অভ্যন্তরে ভারতের অর্থনৈতিক উপস্থিতি প্রসারিত করবে। অবশেষে বলা যায়, ভারত তার অর্থনৈতিক দিগন্ত সঙ্কুচিত করে নয়, বরং চিনে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে বিক্রি করার জন্য মাত্রা, প্রবেশাধিকার এবং দৃঢ় ক্ষমতা তৈরি করে গলওয়ান-পরবর্তী বাণিজ্য ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসবে, ঠিক যেমনটা অন্য অনেক অর্থনীতিই এখন করার চেষ্টা করছে।

 


তুষার জোশি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভিজিটিং ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.